স্বপ্ন টিলা – শাশ্বতী নন্দী

স্বপ্ন টিলা

-আমার চাকরিটা কনফার্ম তো স্যার? – বলব না বলব না করেও বলেই ফেলল কৃষ্ণপদ।

 -উঁ, ইট ডিপেন্ডস। তোমার পারফর্মেন্স সেটা বলবে।

 চৌধুরী সাহেবের ঠোঁটে বোধহয় চুরুট, মোবাইলে কথাগুলো কেমন জড়ানো শোনাচ্ছে। সামনা সামনি বাক্যালাপ হয় নি একবারও মানুষটার সঙ্গে, ওই দূরাভাষে যেটুকু, তাতেই একটা চেহারা এঁকে ফেলেছে কৃষ্ণপদ।

-শোন, আমি কিন্ত ফোর্সের লোক, পুলিশের চাকরি করছি আজ বছর তিরিশ, ছোট বয়সে ঢুকেছিলাম, যোগ্যতা দেখিয়ে আজ এখানে। এনিওয়ে, যা বলছিলাম, আমার চোখের দৃষ্টি, স্মৃতিশক্তি আর ঘ্রাণ শক্তি, তিনটেই প্রখর। এই যে তোমার সঙ্গে কথা চলছে ওভার দা টেলিফোন, একটা স্মেল নাকে এসে ঢুকছে। ব্যাপারটা বোঝাতে পারলাম ?

-ইয়েস স্যার।

কৃষ্ণপদ পকেট হাতড়ে রুমালে কপালের ঘাম মুছতে যায়, তখনই একটা বোটকা গন্ধ নাকে ঝাপটা মারল। এহ্‌, কতদিনের না কাচা রুমাল! আজ বাড়ি ফেরার পথে একটা ছোট সাবান কিনে নিতে হবে। সেদিন কৌটোর তলানি সাবানটুকু পর্যন্ত লেগে গেল সাদা শার্টখানা কাচতে। স্টকে ওই একটাই ভাল শার্ট।

-হ্যালো লাইনে আছো ?

-আজ্ঞে, স্যার।

-তোমার নামটা যেন কী?

-কৃষ্ণপদ স্যার। – বিগলিত একটা হাসির সঙ্গে নিজের নামটা উচ্চারণ করল সে।

চু চু চু। – জিব দিয়ে একটা শব্দ করল মিস্টার চৌধুরি। -এখানেই তো স্কোর বোর্ড ধাঁ করে নেমে গেল। আমার মেয়ে তো এই সব নামের কারোকে ওর কাছাকাছি অ্যালাউই করবে না।

-তাহলে কী হবে? চাকরি ক্যানসেল? – কৃষ্ণপদর গলায় আতঙ্ক। – নামটা না হয় বদলে দেবেন। – বলেই খুব জোরে জোরে হাসল কৃষ্ণ।

-সে না হয় দিলাম। তুমি কিন্তু বাপু বড্ড বাচালও আছো। আমার মেয়ে বাচালতা পছন্দ করে না।

যাচ্চলে। উচ্ছাসের বশে কী না কী বলে ফেলেছে। ভুল শোধরাতেই তাড়াতাড়ি বলে ওঠে, ‘বিশ্বাস করুন স্যার, আমি বাচাল নই। আমার কলেজে খবর নিয়ে দেখুন, আমি কথা কিনতাম বেশি, বেচতাম কম।

হা হা হা। – গলা ছেড়ে হেসে ওঠেন মিস্টার চৌধুরী। হাসি শুনলেই বোঝা যায়, ভেতরটা পরিস্কার। তবে বাইরেটা বুলেট প্রুফ। কিন্তু কলেজের কথাটা কি তোলা ঠিক হল? চাকরির বিজ্ঞাপনে লেখা ছিল, শিক্ষাগত যোগ্যতা – ওনলি এইচ এস।

-তুমি কোন কলেজে পড়েছিলে ইয়ে, মানে কৃষ্ণ ? নামটা সত্যিই তোমার কেমন কেমন। যদি আদিত্য ডাকি, এনি প্রবলেম?

-নো স্যার। আদিত্য চমৎকার নাম। চাকরিটা তাহলে পাকা তো স্যার?’

মিস্টার চৌধুরী চুপ। সময় নিচ্ছেন। কৃষ্ণর গলার কাছে ঘাম জমছে, রুমাল বার করতে যাচ্ছিল, হাত সরিয়ে নিল। বোটকা গন্ধটা … ওয়াক থু। কেমন টক টক। চাকরিটা পেলে একটা ডিয়ো কিনে নেবে। কিন্তু কেয়ারটেকারের চাকরি। অত ডিয়ো টিয়োর দরকার কী? তবুও, রিস্ক নিয়ে লাভ নেই। এরা খুব টিপটপ মানুষ মনে হচ্ছে।

মায়ের খুব আশা ছিল তাকে নিয়ে। মস্ত বড় কিছু একটা নাকি হবে তাঁর ছেলে। ধুস! হা ঘরের ছেলের আবার বড় কিছু হওয়া। ওই সব স্বপ্ন কেন যে দেখে মা বাবারা? আহা, সাধ তো হয়। যেদিন ভরপেট খাওয়া জোটে, খাওয়ার পর ছেঁড়া মাদুর বিছিয়ে ঢালা বিছানা হয়, বাইরে জ্যোৎস্না আলো, উঠোনের এক পাশে হাসনুহানার গন্ধ, মাতাল মাতাল বাতাস।

সাইকোলজি অনার্স নিয়ে বি এ পাশ করেছিল কৃষ্ণ। সিক্সটি টু পারসেন্ট, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়। সার্টিফিকেটটা যত্ন করে ল্যামিনেশন করানো। এরপর উপার্জনের মাঠে নেমে পড়া। কিন্তু সর্বত্র নো ভ্যাকেন্সি। একের পর এক ইন্টারভিউ। সবাই মুখ বাঁকিয়ে বলে, ‘এমন একটা সাবজেক্ট, বিশেষ ওপেনিং নেই’।

হঠাতই রোববারের কাগজে বিজ্ঞাপনটা চোখ টানল, ‘কেয়ারটেকার পদের জন্য প্রার্থী আবশ্যিক। খাওয়া থাকা ফ্রি। মাসে একদিন ছুটি, মাইনে আকর্ষণীয়।

-শোন ইয়ে, মানে আদিত্য, অ্যাডে যদিও কেয়ারটেকার কথাটা আছে, কিন্তু এ চাকরির দায়িত্ব অনেক। আসলে, কেয়ারটেকিংটা আমার মেয়ের প্রতি। বড্ড একা ও, অত বড় বাড়ি, আমি কাছে থাকি না, চাকর বাকর গাদাগুচ্ছের। কিন্তু মনের মতো কেউ, যার সঙ্গে দিল খুলে কথার আদান প্রদান চলে, কেউ নেই। আমি কি ঠিক বোঝাতে পারছি?’

-পুরোপুরি স্যার। আপনি বলতে চাইছেন ম্যাডামের মনের সঙ্গে মিলবে আর একটি মন, এমন কাউকে …

-অ্যাবসলিউটলি রাইট। তোমার কথাবার্তায় একটা গভীরতা আছে, দেখা যাক আমার মিতা তোমাকে পছন্দ করে কিনা।

দুশ্চিন্তার মেঘটা উধাও হতে হতেও ফিরে এসে জমাট বাঁধল মাথায়। ইরি বাবা, বলে কী! চৌধুরী সাহেবের কাছে পাশ করেও ফাইনাল রাউন্ড বাকি।

-আসলে মেয়ের খুশিই আমার খুশি। তোমার পড়াশুনো কী নিয়ে?

-সাইকোলজি, স্যার।

-ওয়াহ ! –অনেক কিলো মিটার ভেদ করে চৌধুরী সাহেবের উচ্ছ্বাস কানে পৌঁছল। – তার মানে তো তুমি মনের কারিগর।

গদগদ হয়ে ওঠে কৃষ্ণ, ‘কারিগর কিনা বলতে পারব না, তবে মানুষের অন্দরের ভাবনাগুলোকে বুঝতে পারি, একটু আধটু মেরামতি করে তার দাওয়াইও দিতে জানি’।

-শোন, – চৌধুরী সাহেব হঠাৎ একটু আমতা আমতা করলেন, -ভেবেছিলাম একটু রয়ে সয়ে বলব। ব্যাপারটা মিতা সংক্রান্ত।

ততক্ষণে ভাবনার ছোট ছোট নুড়ি পাথর গড়িয়ে চলে কৃষ্ণর মনে। কী কথা? মেয়েটি কি অসুস্থ? মানসিক বিকারগ্রস্থ? খিটখিটে, বদমেজাজি। তা যা হয় হোক, চাকরিটা চাই-ই চাই। গত মাস থেকেই বাবা বসে গেছে। ফ্যাকট্রি বন্ধ। এদিকে হার্টের সমস্যা, পেসমেকার প্রয়োজন। তার মানে লাখের গল্প।

বাজারেও বিস্তর ধার দেনা। মা বাতের ব্যথায় বিছানায়। একটা কাজের লোক না রাখলেই নয়। একজন ভাল ডাক্তারও দেখানো দরকার। ঝাড়ফুঁকের তেল আর ঠেকিয়ে রাখতে পারছে না।

-আমার মেয়েটা খুব মুডি জানো। ওর ভাল নাম ওপারমিতা, মেয়ের মায়ের দেওয়া। উনি একটু কবিতা টবিতা লিখতেন। অবস্থা বুঝতে পারছ? আমরা দুজন কেমন নর্থ পোল, সাউথ পোল। তা বলে কিন্তু অপিকে ভালবাসা কম দিই নি। তবু মন পেলাম না। ওর ছোট ছোট চাহিদা মেটাতে পারতাম না যে। পূর্ণিমার রাতে ছাদে গিয়ে মাদুর পেতে গল্প করি নি কখনও, নাইট শোতে সিনেমা দেখে হেঁটে হেঁটে রাতের শহর দেখতে দেখতে বাড়ি ফেরা হয় নি।

চৌধুরী সাহেব একনাগাড়ে বলে যাচ্ছেন। কথা শেষে একটা দীর্ঘশ্বাসের শব্দ পেল কৃষ্ণ। -তিন বছর আগে অপা চলে গেছে, জাস্ট একদিনের জ্বরে। আমি তখন কাশ্মীর। – একটু থামলেন চৌধুরি সাহেব। – এখন খুব আপসোস হয়। ওর সামান্য চাহিদাগুলোকে কেন পূরণ করে দিলাম না? আমরা কেউ জানি না, কার কখন সময় ফুরোবে। আশাগুলোকে বাতাসে ভাসিয়ে চলে যেতে হবে বহু দূরে।

(২)

আধ ভেজানো দরজার সরু ফাঁক গলে সকালের রোদ্দুর ঢুকে পড়েছে ঠেলে ঠুলে। সেই রোদ্দুর রেখা অনুসরণ করে কৃষ্ণর চোখও তীক্ষ্ণ। আটটা বেজে গেছে, তবু মেয়ের ঘুম ভাঙে নি আজ। চৌধুরি সাহেব টেনশন করে বার দশেক ফোন লাগিয়ে ফেলেছেন ইতিমধ্যে। মেয়ে নিয়ে তাঁর বিস্তর দুশ্চিন্তা।

‘আদিত্য, একবার নক করে দরজাটা খোলাও না। দেখো, কী ব্যাপার হল? মেয়ে তো এতক্ষণ বিছানায় থাকে না!’

-স্যার, আজকালকার ছেলেমেয়ে, রাতভর পড়াশোনা করে। ঘুম ভাঙতে হয়তো তাই দেরি, শুধু শুধু টেনশন করবেন না!

-শাট আপ! আমার মেয়ে, আমি টেনশন করব না তো কি তুমি করবে? দরজা ভাঙো। বাড়িতে শাবল, কোদাল, যা আছে তাই দিয়েই, কুইক। স্টার্ট দা অপারেশন।

ধমক খেয়ে ঘাবড়ে গেছে কৃষ্ণ। এই চাকরি টিকলে হয়। মেয়েটাও যন্তর। মুড ভাল থাকলে মাটির মানুষ। কথা শুরু করলে সুপার এক্সপ্রেস। আর যেদিন মুড অফ, একেবারে মা চন্ডী। এটা ছুঁড়ছে, ওটা ভাঙছে। চৌধুরী সাহেবও ঠকঠক ভয়ে কাঁপেন। ফোনের মধ্যে তোতলাতে থাকেন।

-কী হল, ফোন এখনও ধরে আছো? বললাম যে এখুনি অপারেশন স্টার্ট করতে?

-তার প্রয়োজন নেই স্যার, দরজা তো খোলাই, আধভেজানো।

-ইজ ইট! স্টুপিড কোথাকার। এতক্ষণ সেই কথাটা বলা হয়নি কেন? ওকে ডেকেই বা তুলছ না কেন?

-আমি ডাকব! যদি কাঁচা ঘুমে থাকেন, আমার মা বলে, কাঁচা ঘুমে কাউকে ডাকলে মাথা ধরে।

-তুমি আজারে গল্প বন্ধ করবে? যাও ঘরে ঢুকে মিতাকে ডেকে তোলো। আমি অর্ডার করছি। শোন, ওই আমার বাঁচার সলতে। আমার ধারণা ওই স্কাউন্ড্রেলটার সঙ্গে কোনও ঝগড়াঝাঁটি হয়েছে। তাই অভিমান করে শুয়ে আছে।

হাল্কা একটা হিন্ট সেদিনও দিয়েছিলেন চৌধুরি সাহেব। ওপারমিতার সঙ্গে অর্ক নামের এক ছেলের নাকি প্রেম চলছে। কলেজের বন্ধু, দু বছরের সিনিয়র। চৌধুরী সাহেব ব্যাপারটা মানতে পারছেন না। কিন্তু মিতা বেপরোয়া। তাই ওর ওপর পাহারাদারির জন্যই কৃষ্ণকে চাকরিতে বহাল রাখা।

শোনার পরই কৃষ্ণ বলে উঠেছিল, ‘মেয়ের প্রতি আপনি এত দুর্বল, অথচ ওর ভালবাসাকে একটু জায়গা দেবেন না। এটা কি ঠিক হল সাহেব?’

বলেই বুঝেছিল একটা ডাহা ভুল বল খেলে ফেলেছে। চাকরিতে এবার সত্যিই কাঁচি পড়বে। কিন্তু চৌধুরি সাহেব চুপচাপ হজম করলেন কথাগুলো। বেশ খানিকক্ষণ পর বলেন, ‘একটা কথা শুনেছ? রক্ত কথা বলে। আমি ওই ছোকরার নাড়ি নক্ষত্রের খোঁজ নিয়েছি। ওর পরিবার ভর্তি ক্রিমিনাল রেকর্ড, বাপটা পাড় মাতাল। জ্যাঠা কাকা একেকটা মাফিয়া। আরও আছে। সব বলার রুচি নেই তোমার কাছে। এরপরেও ওই পরিবারের সঙ্গে আমার মেয়েকে গাঁটছড়া বাঁধতে দেব বলে তুমি মনে কর?’

-অতদূর ভাবছেন কেন স্যার? আপনার মেয়ে একজন মনের সঙ্গী খুঁজছে। জাস্ট আ মেন্টাল সাপোর্ট।

-শোন হে, তুমি সাইকোলজির ছাত্র, কিন্তু আমরাও মানুষ চড়াই। অর্কর সমস্ত শিরায় শিরায় দূষিত রক্ত। ও আমার মেয়ের সঙ্গী হলে মেয়েটাও দূষিত হয়ে উঠবে। তাই তোমার ডিউটি অর্কর ভূতটা ওর মাথা থেকে নামাও।

(৩)

ওপারমিতার ঘরের পর্দা হাওয়ায় দুলছে। ওর হাতে একটা কাগজ, কী যেন পড়ছে শুয়ে শুয়ে।

গলা খাঁকারি দিয়ে কৃষ্ণ ডেকে ওঠে, ‘আসব ম্যাডাম? আমায় ডেকেছিলেন?’

-কে? আদিত্যদা? হ্যাঁ এসো। ওকি! দরজার পাশে স্ট্যাচু হয়ে আছো যে।

না, মানে পর্দা টাঙানো।

পর্দা সরিয়ে ঢোকো। এত ফর্মাল হওয়ার দরকার নেই। – মিতা হেসে হেসে কথা বলছে।

হাসলে ভারি সুন্দর দেখায় ওকে, এমনিতেও বড়ই সুন্দরী মেয়েটা। ঈশ্বর তাকে গড়ার সময় সব রূপ, রঙ, ঢেলে সৃষ্টি করেছিলেন।

-শোনো – মিতার গলা এবার ফিসফিসে – একটা কাজ করতে হবে। টপ সিক্রেট, যদিও জানি তুমি আমার বাবাকে যমের মতো ভয় পাও। স্বাভাবিক, তোমার বস। তবে এ কাজটা করতেই হবে। -মিতার মুখে অনুনয়ের ভঙ্গি। দৃষ্টিতে টলটলে সারল্য।

-‘অর্ককে একটা চিঠি লিখছি, এখনও শেষ হয় নি। হবার পর কলেজে গিয়ে ওকে চিঠিটা পৌঁছে দিতে হবে। এস এম এস, হোয়াটস অ্যাপ, ফোন, ইমেল, কোনও কিছু দিয়েই অর্কর সঙ্গে যোগাযোগ সম্ভব নয়। বাবা সোর্স খাটিয়ে আমার সব কটা সিমের ওপর মনিটরিং চালায়। এখন পোস্ট অফিস ভরসা।

কৃষ্ণ ঢোক গেলে। চৌধুরী সাহেব ধুরন্ধর মানুষ, যদি চিঠির কথাটা কানে পৌঁছে যায়? বলে, ‘আচ্ছা ম্যাডাম, আপনি অর্ক স্যারের প্রতি এতখানি দুর্বল, অথচ দেখুন তার মধ্যে আপনার মতো এত আঁকুপাঁকু ভাব নেই।

চোখ সরু করে তাকায় মিতা, ‘হয়তো সেটা বাবার ভয়ে’।

 -ভয়! হাসালেন ম্যাডাম। ভালবাসার কাছে ডর ভয় টেঁকে? তবে আমার অনুমান অর্ক স্যার আজকাল আপনাকে ভয় পায়। হয়তো ও বুঝতে শিখেছে, ও আপনার যোগ্য নয়।

মিতা একদৃষ্টে তাকিয়ে আছে। ‘তুমি কি জানো, ও কলেজের একজন টপার। সব কিছুতে সেরা’।

চুপসে যায় কৃষ্ণ। তবু ড্যামেজ কনট্রোলের জন্য বলে, ‘হোক না, তাতে কী? আপনি সেরার সেরা। আগাছার জঙ্গলে আপনার স্থান নয়’।

 বলেই কৃষ্ণ ধাঁ। অনেক আনসান বলে ফেলেছে প্রেমিক সম্বন্ধে। এরপর যদি মিতা বিস্ফোরণ ঘটায়।

তবে যেতে যেতে পেছন ফিরে সে বলে এসেছিল, ‘চিঠিটা লিখে ফেলুন ম্যাডাম, আমি পোস্ট করে আসব’।

 তবে নিজের ঘরে এসে সে একপ্রকার মানসিক প্রস্তুতি নিতে থাকে, যে কোনও দিন মিস্টার চৌধুরির তরফ থেকে প্রস্তাব আসবে, বাপি বাড়ি যা।

 (৪)

ম্যাডাম, আমায় ডেকেছিলেন?

মিতা আধবোজা চোখে অনেকক্ষণ তাকিয়ে রইল, যেন চিনতেই পারছে না। তারপর ধড়মড় করে উঠে বসে বিছানায়, ‘এ বাবা, ঘুমিয়ে পড়েছিলাম?’

-হ্যাঁ। স্বপ্ন দেখছিলেন বোধহয়। ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে হাসছিলেন।

-ওমা, তাই! মিতা হেসে ফেলে। -হ্যাঁ, সুন্দর একটা স্বপ্ন। প্রায়ই দেখি। আচ্ছা শোন, আমার চিঠি লেখা কমপ্লিট। তুমি পোস্ট করে এসো। অনেক ভেবে দেখলাম, এই স্বপ্নের কথা অর্ককে বলতে না পারলে পাগল হয়ে যাব। ও ছাড়া তো কোনও বন্ধু নেই’।

কৃষ্ণ হাত বাড়ায়, ‘দিন চিঠিটা। কেউ স্বপ্ন দেখছে শুনলে ভারি লোভ হয় আমার। আমিও আগে স্বপ্ন দেখতাম। এখন স্বপ্নগুলো ছেড়ে চলে গেছে। আপনার ওই মিষ্টি স্বপ্নের ভাগীদার করবেন আমায়?’

সরল ভাবেই বলেছিল কথাগুলো, তারপরই অস্বস্তি এল। নাটুকে শোনাল কি? মিতা অবাক চোখে তার দিকে তাকিয়ে। ফিসফিস করে বলে, ‘ওগুলো শুধু অর্ককেই বলা যায় যে, আদিত্যকে নয়’।

-অর্ক আর আদিত্য, দুই-ই কিন্তু সূর্যের অপর নাম, ম্যাডাম। – মাঝে মাঝে খুব সিরিয়াস হলে কৃষ্ণ মিতাকে ম্যাডাম বলে ডেকে ফেলে।

– দিন, আপনার চিঠিখানা, পোস্ট করে আসি। – পা চালিয়ে বেরিয়ে আসে সে।

নিজের ঘরে ঢোকার আগেই চৌধুরী সাহেবের ফোন বেজে উঠল, ‘তাহলে পোস্টম্যানের চাকরিটা তুমি শুরু করে দিলে?’

-বুঝলাম না, স্যার।

-আমরা পুলিশের লোক। সবাইকে অত সহজে বিশ্বাস করতে পারি না। তাই বাড়িতে সি সি ক্যামেরার কানেকশন করালাম কিছুদিন আগে। এখানে বসেই সেটাকে মনিটর করতে পারি। এটাই ডাউট করেছিলাম, মিতা এবার চিঠিতে যোগাযোগ শুরু করবে। যাই হোক …

তাঁর কথা শেষ করার আগেই কৃষ্ণ বলে ওঠে, ‘একটা কথা বলতে চাই, স্যার। যদি স্পর্ধা মনে হয়, তাই আগেই মার্জনা চাইছি’।

-অত সাধু সেজো না, তুমি হলে সেই শ্রেণীর মানুষ, যারা গাছেরও খাবে, তলারও কুড়বে।

-আমি কিন্তু চিঠিটা এখনও পোস্ট করিনি স্যার, হয়তো করতাম বা করতাম না। কিন্তু এসব বললেও আপনি আমায় বিশ্বাস করবেন না এখন। আসলে আপনি কারোকে বিশ্বাস করতেই জানেন না, অথবা চান না। তাই কেউ আপনার বিশ্বস্ত হয়ে উঠতেও পারে না।

-শাট আপ। – রীতিমত হুঙ্কার ওপাশ থেকে। -আমার চরিত্রের বিশ্লেষণ তোমার মুখ থেকে শুনতে চাই না।

-তার জন্যই তো মার্জনা চেয়ে নিয়েছি। আর একটুখানি বলতে দিন, স্যার।

আপনার মেয়েটি অত্যন্ত ভাল মনের এবং ভাল চরিত্রের একজন মানুষ। ওকে সম্পূর্ণ বিশ্বাস করে ওর মতোই যদি চলতে দিতে পারতেন, হলফ করে বলছি, ও আপনার কোনও কথা অমান্য করত না। যাই হোক, এবার শেষ কথাটা বলি। এই মুহূর্ত থেকে এই চাকরিটা আমি ছেড়ে দিলাম। আগে যে কদিন ছিলাম, তার মাইনেও চাই না। কারণ আপনার কথা অনুসারে আমি চাকরির শর্ত মানতে পারি নি।

লাইন ছাড়তে গিয়েছিল, তার আগেই আর একটা হুঙ্কার কান ভেদ করল। ‘এসব ভাষণ আর ফারদার আমাকে দেওয়ার চেষ্টা করবে না। একটা কথা কান খুলে শুনে রাখো, তোমায় এই চাকরিটা দিয়েছি আমি, যদি ছাড়াতে হয়, সে কম্মটিও করব আমিই। সুতরাং মন দিয়ে আবার নিজের কাজ শুরু কর’।

(৫)

-আজ আপনাকে কলেজ ফেস্টে যাওয়ার জন্য স্যার পার্মিশন দিয়েছেন, মিতা। চটপট রেডি হয়ে নিন। তাড়াতাড়ি গিয়ে, তাড়াতাড়ি ফিরতে হবে। ওটাই একমাত্র শর্ত।

মিতার চোখে চিকচিকে আনন্দে। ‘ওহ্‌, আজ সকালেই দু শালিখ দেখে ঘুম ভেঙেছে। এই দেখো, অর্কও একটা মেসেজ পাঠিয়েছে, অবশ্য অন্য নামে। বাবার চোখ বাঁচাতে হবে তো। ও আমার সঙ্গে দেখা করতে চায়। আজ তাহলে কলেজেই দেখা হবে, বল। ওফ্‌, কতদিন পর!

-খুব গল্প করবেন না, আজ?

-হ্যাঁ, অনেক। – মিতা চোখ বুজে ফেলে। – কত কথা সাজিয়ে রেখেছি।

-কোন স্বপ্নের কথাগুলো আগে বলবেন?

মিতার চোখ এখনও বন্ধ, ‘ওই পাহাড় চূড়ায় ঘর বাঁধার স্বপ্নটা। আমাদের ঘিরে থাকবে আরও কত পাহাড়।

মিতা বলেই চলে। কৃষ্ণ ধীরে ধীরে বেরিয়ে আসে ঘর থেকে। অর্ককে বড্ড ভালবেসে ফেলেছে মেয়েটা। মেয়েরা ভালবাসলে কি এভাবেই সবটা দিয়ে ভালবাসে? কিন্তু অর্ক যদি ওই ভালবাসার যোগ্য না হয়?

তড়িঘড়ি আবার সে ঘরে ঢোকে। না, না। ওপারমিতাকে সাবধান করা দরকার। বড্ড সরল মেয়ে। ওর ভালবাসা পবিত্র, অপাত্রে সেই ভালবাসা ঢাললে … ওর স্বপ্নগুলোও মহার্ঘ, কিছুতেই সেগুলোকে নষ্ট করতে দেওয়া যাবে না।

 কিন্তু কিছুই বলতে পারে না কৃষ্ণ। কারণ ওপারমিতা তখনও স্বপ্নের ঘরে বুঁদ হয়ে বসে আছে। চারিদিকের পাহাড়গুলো ওকে আচ্ছান্ন করে রেখেছে।

(৬)

কলেজে পৌঁছে খুঁজে খুঁজে হয়রান মিতা। কোথাও অর্ক নেই। দূরে বিশাল স্টেজ, গানের জলসা চলছে, নামি দামী ব্যান্ড। কিন্তু দেখা করবে বলে কোথায় হারিয়ে গেল অর্ক ? হঠাৎ পেছনে একটা ডাক, ‘কখন এলি ?’

ঘাড় না ফিরিয়েও চিনতে পারে ও। অভিমান ডেলা পাকাল গলায়, ‘অনেকক্ষণ। অপেক্ষা করানোর অভ্যেসটা এখনও যায় নি তোমার, না? ছিলে কোথায়?’

কেন তোর খুব কাছে।

মানে ? দেখতে পেলাম না তো।

সেটা তোর ফল্ট।

মিতা বেশ অবাক, ‘মানেটা কী?’

বোকা মেয়ে, তোর বুকের মধ্যেই তো গুটিসুটি মেরে পড়ে আছি সব সময়। টের পাস না কেন?

মিতার পা দুটো থরথর কেঁপে ওঠে। অর্ক তো এভাবে কথা বলতে জানে না। তাহলে কি ব্যাক স্টেজ থেকে অন্য কেউ বলছে আর অর্ক ঠোঁট নাড়াচ্ছে। ধুস! এই তো এত কাছে দাঁড়িয়ে ওর অর্ক।

-আমি তোকে খুব মিস করি রে। – বলতে বলতে অর্ক আর একটু কাছে সরে এল। তারপর দু হাত দিয়ে ওর মুখটা তুলে ধরে। ‘কী রে কিছু বল? আমায় দেখে তোর ভাল লাগছে না ? – একটা আঙুল দিয়ে অর্ক ওর গালে কারিকুরি আঁকতে থাকে।

মিতা চোখ বুজে ফেলে। আজ অর্ককে এত অন্যরকম লাগছে কেন?

অর্ক এবার ওকে টেনে নিয়ে যেতে চায় একটু আলো আঁধারি কোণে। গালের সঙ্গে গাল ঘষতে ঘষতে বলে, ‘আই লাভ ইউ । আই লাভ ইউ ভেরি ভেরি মাচ’।

এই কথাটা শোনার জন্য কতদিন ব্যাকুল হয়েছিল মিতা। কিন্তু আজ তেমন তো কোনও রোমাঞ্চ জাগছে না ?

অর্ককে আলতো ঠেলে বলে, ‘একটু সরে দাঁড়াও, ওদিকে কত ছেলেমেয়ের ভিড়’।

হু কেয়ার্স। তুই কিন্তু আরও সুন্দর হয়েছিস রে। একটা কিস করতে দে। – অর্ক নিজের ঠোঁটটা ওর ঠোঁটে রাখার চেষ্টা করছে।

না, অর্ক না। – একপ্রকার ধাক্কা দিয়েই সরিয়ে দিল ওকে মিতা।

অর্ক হাসে, ও-কে ডিউ রইল কিন্তু। চল ওদিকটায় চল।

না, আমাকে তাড়াতাড়ি বাড়ি ফিরতে হবে।

আচ্ছা শোন, আংকেল কি এখন কলকাতায় ?

না, কেন ?

অর্ক আবার ওর একটা হাত নিজের হাতের মধ্যে টেনে নেয়। চেটোর ওপর আঁকিবুঁকি কাটতে কাটতে বলে, ‘আমার একটু দরকার ছিল। একটু দেখা করা যাবে ?’

ইমপসিবল।

প্লিজ। তুই একটু কনভিন্স কর। আঙ্কেল তোর কোন কথা ফেলতে পারে না।

মিতা শক্ত হয়, ‘দরকারটা কী?’

তুই তো কলেজে মাসখানেক ধরে আসছিস না। কত ঘটনা ঘটে গেল। কী হয়েছে জানিস, রোজই কলেজের পর আমরা একটু মস্তি করতে বেরোতাম। ওই মানে একটু ধোঁয়া টোয়া নেওয়া। তা সেদিন পুলিশের হাতে দলটা ধরা পড়ল। আমি কোনক্রমে পালাতে পেরেছি যদিও, কিন্তু যারা ধরা পড়ল, এত গদ্দার, আমার নামটা ফাঁস করে দিল। আর ওই ড্রাগগুলো যারা সাপ্লাই করত, সবাই আমার চেনা। এবার বুঝতে পারছিস জানটা কেমন ঝুলে রয়েছে। একদিকে পুলিশের তাড়া, অন্যদিকে ওই পেডলারদের নেটওয়ার্কটা। দুদিক থেকেই চমকানি।

মিতা অনেকক্ষণ খুঁটিয়ে দেখল অর্ককে। ভালবাসার সেই ছেলেটাকে কোথাও খুঁজে পাচ্ছে না কেন ও? সেই পাহাড় বাড়ির স্বপ্নটাও আসছে না। ধীরে ধীরে নিজের হাতটা ছাড়িয়ে নিয়ে হাঁটা দিল ও গেটের দিকে। অর্ক পিছু পিছু এল খানিকটা, একসময় দাঁড়িয়ে অনুনয় করে, ‘আমায় প্লিজ বাঁচা মিতা’।

(৭)

ছুটতে ছুটতে কলেজ ক্যাম্পাস থেকে বেরিয়ে আসছে এখন ওপারমিতা। বাড়ি ফেরার বড্ড তাড়া ওর। মাঝ রাস্তায় পথ আটকায় কৃষ্ণ, ‘কী হল, আপনাকে এমন দেখাচ্ছে কেন? শরীর খারাপ লাগছে নাকি ? নিন, গাড়িতে উঠুন’।

মিতা চুপ, একটা প্রশ্নেরও জবাব দিল না। গাড়িতে উঠে মাথাটা এলিয়ে দিল সিটের পেছনে। চোখ বন্ধ।

ওর ভেতরে একটা ঝড় উঠেছে টের পেল কৃষ্ণপদ। একটু সময় দিল ঘূর্নিপাকটা সামান্য শান্ত হতে। তারপর আস্তে ডেকে ওঠে, ‘ওপারমিতা’।

চোখ বন্ধ করেই সাড়া দেয় ও, হুঁ।

স্বপ্ন দেখছেন ?

চোখের পাতা দুটো অল্প কেঁপে ওঠে। দু ফোঁটা জল গড়িয়ে পড়ে কোণ ঘেঁষে। কৃষ্ণ অবাক। কেন যেন মনে হয়, মিতার চোখের দীঘিতে এখন জল টইটম্বুর।

তখনই শুনল স্বগতোক্তির মতো ও বলে চলেছে, ‘ভুল, ভীষণ বড় ভুল হয়ে যাচ্ছিল আদিত্য। একজন ভয়ঙ্কর মানুষকে নিয়ে স্বপ্ন বুনছিলাম। ভাগ্যিস শেষ মুহূর্তে চিনতে পেরেছি। অর্ক একটা ফ্রড। বাবা ঠিকই বলেছিল … – বলতে বলতে যেন ও কান্না আটকাতে চাইল। -আর একটু দেরি হলেই আমার স্বপ্নগুলো ছিঁড়ে একাকার হয়ে যেত’।

কৃষ্ণ হতভম্ব, তাকিয়ে রইল খানিকক্ষণ। তারপর আপন মনে হেসে ওঠে।

-আচ্ছা আদিত্য, তুমি বলেছিলে না তোমার স্বপ্নরা সব হারিয়ে গেছে। একদিন ভাগ চেয়েছিলে না আমার কিছু স্বপ্নের।

কৃষ্ণর হতভম্ব, ‘বলেছিলাম বুঝি? মনে পড়ছে না। আর বললেই বা কী? ওগুলো কথার কথা’। -একটা আলগা হাসি তার ঠোঁটময় ছড়িয়ে পড়তে থাকে।

 -হাসছ কেন আদিত্য?

 -না ভাবছি, ভাগ্যিস অর্ককে আপনি সময় থাকতে থাকতে চিনে উঠতে পারলেন।

-কিন্তু আমার যে অনেক স্বপ্ন কথা জমে আছে। সেই পাহাড় টিলায় বাড়ি, ঘিরে থাকা আর অনেক পাহাড়, সেখানে থাকবে একটা ঘর আর সেই ঘরে … – বিড়বিড় করতে করতে মিতা ওর দিকে তাকায়, -আমার কোনও বন্ধু নেই জানো। তুমি পারবে একটা ভাল সৎ বন্ধু হতে?

-বন্ধু, আপনার? – কৃষনপদ রীতিমত বিচলিত, তুতলে বলে, -আমি তো খুব সাধারণ। আমার গায়ে এখনও গ্রামের শ্যাওলা শ্যাওলা গন্ধ। আর আপনি হলেন … আচ্ছা ওপারমিতা, আপনি কি গাড়ি নিয়ে বাড়ি চলে যেতে পারবেন? তাহলে আমি একটা জরুরি কাজ সেরেই …

-তাড়াতাড়ি ফিরবে তো?

-হুম।

গাড়ি থেকে নেমে পড়ে কৃষ্ণ। যতক্ষণ পর্যন্ত গাড়ির কাচে ওপারমিতার মুখটা সেঁটে ছিল, সে হাত নেড়ে চলে। একসময় পথের বাঁকে তা হারিয়ে যায়।

খানিক এলোমেলো হেঁটে কৃষ্ণ এবার মোবাইলে চৌধুরী সাহেবের নম্বর টিপল।

-স্যার, আদিত্য হিয়ার। আমি আজ লাস্ট ট্রেনে বাড়ি ফিরে যাচ্ছি। না স্যার, চাকরিটা আর করা হবে না। মা, বাবা, দুজনেই অসুস্থ, ওঁদের পাশে থাকা দরকার। তাছাড়া আমার কাজও শেষ। মিতা ম্যাডাম আজ অর্কর আসল পরিচয়টা পেয়ে গেছে। ও এই সম্পর্ক থেকে সরে আসবে।

আর হ্যাঁ, আপনি বরং হিসেব মতো আমার মাইনেটা মিটিয়ে দেবেন প্লিজ। আর একটা কথা স্যার, আমরা সেই সব শ্রেনীর মানুষ, যারা কারো বিশ্বাস নিয়ে, ভালবাসা নিয়ে সওদা করি না। যাক ঠিক আছে, ভাল থাকবেন। ওপারমিতাকে ভাল রাখবেন। ওর স্বপ্নগুলো ওর মতোই শান্ত, লাজুক। একটু আগলে না রাখলে হয়তো ওর স্বপ্নের বাড়িটা হারিয়ে যাবে’।

কথার মধ্যেই দেখে মোবাইলে একটা নাম বার বার জ্বলছে নিভছে, ‘অপারমিতা’। কৃষ্ণর কষ্ট হচ্ছে। কী করবে এখন ও?

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *