চন্দন রঙের রোদ
মেয়েটার একটা নাম দিয়েছি, দোয়েল। হ্যাঁ, দোয়েল পাখির মতোই ছটফটে, ছোট্টখাট্টো গড়ন, গায়ের রঙ মেঘলা। সব সময় ছুটে ছুটে ঘরের কাজ করছে। আবার নটার মধ্যে সব সেরে ফ্ল্যাট বন্ধ করে অফিসের পথে ভোঁ দৌড়। স্বামী স্ত্রী দুটোই কম বয়সী, মেরে কেটে ত্রিশ। দেখতে বেশ লাগে একসঙ্গে যায় যখন দুজনে। আরও ভাল লাগে ওদের মিষ্টি ঝগড়া। সারাদিন কাই কিচ কিচ। যদিও আমি আমার দোয়েলপাখির দোষ দেখি না। সারাদিন ঘরে বাইরে খাটছে, একটু মেজাজ হারানো স্বাভাবিক। স্বামী যদি অমন বাবুটি হয়ে বসে থাকে, কে না মেজাজ হারাবে?
তবে ওর চোখে মুখে কেমন আহ্লাদি আহ্লাদি ঢেউ। বরের সঙ্গে কোনও লড়াইয়ে এঁটে উঠতে না পারলেই ভ্যাক ভ্যাক কান্না। ওর বরটি আবার ফর্সা, হ্যান্ডসাম, চকোলেট বয় মার্কা। আসলে দুষ্টু টাইপ ছেলে। সুযোগ পেলেই কচি বউকে লেগ পুল করে। তাই ওকে ডাকি নটি বয়।
আমাদের দুই বাড়ির জানলা প্রায় মাথা ঠোকাঠুকি করে। ফলে ও বাড়ির কথা এ বাড়িতে নির্দ্বিধায় প্রবেশ করে। আমি রসিয়ে রসিয়ে শুনি। না, আমার কোনও ইয়ের দোষ টোষ নেই। আসলে ওদের কথার লড়াই শুনতে বেশ লাগে, তাই কান পাতি। সকালে উঠেই দুজনের রণং দেহী মূর্তি।
এই তো কিছু দিন আগের ঘটনা। সকাল সাতটা। এফ এমে প্রতিমা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গান, “আঁধার আমার ভাল লাগে”। হঠাৎ কাট। দোয়েল বাথরুম থেকে চেঁচাচ্ছে, “রেডিয়ো বন্ধ করলি কেন?” নটি বয়ও খেঁকিয়ে বলল, “বেশ করেছি। সকাল সকাল ওসব স্লো গান, স্পিরিট লো হয়ে যায়”। বলেই সে গমগমে ভল্যুমে টি ভি চালিয়ে দেয়।
-অ্যাই, আবার নিউজ চালালি? একই খবর কতবার শুনবি?- বাথরুমে ঝপাং ঝপাং জল ফেলার শব্দ।
-কোন চ্যানেল কোন খবরটাকে কীভাবে প্রজেক্ট করছে বুঝতে হবে না? খবরের কাগজে কাজ করিস আর এইটুকু ফলো করবি না? মাথা মোটা কোথাকার।
এবার বাথরুমে জল পড়ার আওয়াজ বন্ধ। দোয়েল ঝাঁঝিয়ে উঠল, “কী বললি? আবার বল”।
নটি বয় সামান্য ঘাবড়ে গেছে বোধহয়। বলে, “পরে বলব। তাড়াতাড়ি বেরো এখন। জোর পেয়ে গেছে। তুই এভাবে টয়লেট আটকে রাখিস বলেই কনস্টিপেশন ধরে গেল আমার।
-কেন, আর একটা টয়লেট তো আছে। সব সময় আমার পেছনে ঘুর ঘুর। মাথায় এখন জল ঢালছি, সময় লাগবে।
-কিসসু, লাভ নেই। জল ঢেলেও ঠান্ডা হবে না মাথা। ওটা আগ্নেয়গিরি।
আমি পর্দার আড়াল থেকে খুকখুক হাসি। ভেবেছিলাম সেদিনের মতো নাটকের শেষ অঙ্ক হয়ে গেল। কিন্তু কিছুক্ষণ পর আবার নটি বয়ের গর্জন, “এ বাবা, কী পরেছিস এটা? দেখেছ কান্ড”।
আমি ভয় ভয়ে পর্দা তুলে ফেলেছি। দোয়েল না জানি কী অন্যায় করল। কিন্তু জানলা দিয়ে তাকিয়ে দেখি, ওর পরনে একটা চেক হাফপ্যান্ট আর টি শার্ট। নটি বয় যতই হম্বিতম্বি করছে ও ততই নীরব। নিঃশব্দে একটা তোয়ালে দিয়ে চুল ঝাড়ছে।
-তুই আমার বারমুডা পরেছিস কেন? স্নান করে আমি কী পরব?”
-হাতের কাছে যা পেয়েছি পরে ফেলেছি।
-এবার আমি?
-আলনায় আমার নাইটি ঝুলছে। গলিয়ে নে। হি হি হি। এরপর একটা সেলফি তুলে ফেসবুকে পোস্ট করব।
হাসতে হাসতে আমিও পর্দা নামিয়ে জানলা থেকে সরে এলাম।
পঞ্চান্নতেই কোম্পানি আমায় বাই বাই জানিয়েছে। অতএব এখন আমি বেকার। তবে পয়সার টানাটানি নেই। একসময় সেলসে ছিলাম। যা জমিয়েছি চালিয়ে নেব। এই এক কামরা ফ্ল্যাট কিনে সদ্য এ পাড়ায় এসেছি। প্রতিবেশী বলতে দোয়েলদেরই চিনি, যদিও মৌখিক আলাপ নেই। ওদের ঘরের বাইরে খোলা ছাদে এক চিলতে সুন্দর একটা বাগান আছে। মেয়েটিই দেখভাল করে। রুচি আছে বেশ। নানা রঙের পিটুনিয়া ফুলে টব উপছে পড়ছে। বেগুনির ওপর সাদা ছিটছিট, তারপাশে ম্যাজেন্টা, সাদা, লালের ভ্যারাইটি। একটু তফাতে হলুদ সূর্যমুখী, মাঝে বেঁটে ঝাউ।
কিন্তু কিছুদিন ধরেই ওদের ঘর একেবারে শুনশান, শান্ত। যেন নিশুত রাত। নটি বয়কে চোখে পড়ছে না। সাংবাদিক মানুষ, কাজের সুবাদে কোথাও বেরিয়েছে বোধহয়। দোয়েল একাই অফিসে যায়। আজকাল এফ এম চালায় না। বরং টি ভি তে খবর পড়ার শব্দ ভেসে আসে।
দুদিন ধরেই ঝিরঝিরে বৃষ্টি চলছে। এবার আষাঢ়ের প্রথম সপ্তাহ থেকেই বর্ষা। দুটো বেনেবউ জুটেছে পাড়ায়, সামনের পার্কের কোথাও বাসা বেঁধেছে বোধহয়। সকালে উঠেই শুরু হয় হুটোপাটি, আর কী কলকল কথা। এখন বৃষ্টির জল পেয়ে আরও আহ্লাদে আটখানা। এ ওর গা খুবলে দিচ্ছে, ও তার পেছনে উড়ছে। বৃষ্টির জল মেখে ভিজে চেহারাগুলোও হয়েছে খাসা। হলদে চকচকে গা। আর লেজের দিকে কালোর কারুকাজ। ওহ্, লাভলি। যেন তুলিতে আঁকা ছবি।
একদিন লক্ষ করলাম দোয়েল বৃষ্টিতে ভিজছে আর আতুরচোখে ওদের সোহাগ দেখছে। নিশ্চয়ই বরের কথা মনে পড়ছে। কিন্তু হলটা কী ছেলের? একটা অন্য ধরনের আশংকা মনে আঁচড় কাটছে। ব্রেক আপের গল্প নেই তো কোনও? আজকাল তো গড়ার আগেই ভাঙন। আচ্ছা, ওরা সত্যিকারের স্বামী স্ত্রী তো? নাকি লিভ ইন! দূর, দূর, কেন ভাবছি এসব?
বেনেবউ দুটোর ভালবাসা বাসি দেখতে দেখতে আমারও আজকাল কেমন নেশা ধরে গেছে। আজ বুঝি, একা থাকার সিদ্ধান্ত যারপরনাই ভুল ছিল। বিয়ে করলে অন্তত একজন সঙ্গিনী তো থাকত। এই যে সকাল, সন্ধ্যে, রাত, বিকেল, এত বৃষ্টি, এত বৃষ্টির গান, পাশে কাউকে পাই না শোনাবার জন্য।
দিন সাতেক পার হল। দোয়েল একাই থাকে, বেশ মনমরা। হঠাৎ এক ভর দুপুরে কাঁচা ঘুমটা ভেঙে গেল। প্রতিবেশিনীর ঘর থেকে গাঁক গাঁক টিভিতে খবর পড়ার শব্দ। তাহলে কি … হ্যাঁ, আন্দাজ ঠিক। পর্দার আড়াল থেকে দেখি, কোমরে তোয়ালে জড়িয়ে বাক্স প্যাটরা খুলছে নটি বয়। মুখ থমথমে। গাল ভর্তি দাড়ি। হঠাৎ কোমরে হাত দিয়ে বউকে শাসাতে লাগল, “তুই অমিতাভদার সঙ্গে এ কদিন রোজ গাড়িতে ফিরতিস কেন? জানিস না ওটা একটা লুম্পেন?”
-না। অমিতাভদা যথেষ্ট জেন্টিলম্যান। অনেকগুলো কাজ পেন্ডিং পড়ে গিয়েছিল, সারতে সারতে বিশাল দেরি হয়ে যেত। তাই অমিতাভদা লিফট দিতেন। অত রাতে ট্রান্সপোর্ট কোথায়?
-ন্যাকা! ক্যাব বুক করতে পারতিস না?
-অত রাতে, একা ক্যাবে ?
-উঁ, আমার ন্যাকা পুষু রে। তোর কি কিডন্যাপ হবার ভয় করত? শোন রে, এই আমিই যা মুর্গা হয়েছি তোকে ঘাড়ে নিয়ে, আর কেউ ও পথে হাঁটবে না।
ইচ্ছে করছিল নটি বয়ের কানে দু চারটে পাক দিয়ে আসি। কীভাবে বউকে হ্যাটা করছে দেখ!
-শুনছি, তোকে একটা খতরনাক এরিয়ায় ইলেকশন নিউজ কভার করতে পাঠানো হচ্ছে অফিস থেকে? –নটি বয়ের থমথমে গলা। -আর তুই নাচতে নাচতে তাতে সায় দিয়েছিস? তোর যোগ্যতা আছে ওসব অ্যাসাইমেন্ট সামলানোর?
-আছে বলেই তো দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে। – দোয়েলের শান্ত কন্ঠস্বর।
-শাট আপ। মুখে মুখে কথা বলবি না খবরদার।
-প্রয়োজন পড়লে বলতে হবে।-দোয়েলের গলা কঠিন।
বুক মুচড়ে ওঠে। কেন যেন মনে হচ্ছে একটা বিশাল ফাটল তৈরি হচ্ছে এক ছাদের নীচে। ফাটলটা জোর লাগানো কি সম্ভব? কে করবে সে কাজ? আমিই যদি পারতাম বড় দাদার মতো … কিন্তু আত্মবিশ্বাসের ঘাটতি চিরকালই আমার মধ্যে, তাই ভেবেই গেলাম, এগোতে পারলাম না।
পরদিনই দেখলাম পোঁটলাপুঁটলি বাধা ছাদায় ব্যস্ত মেয়েটা। চলে যাবে নাকি? দুজনেরই তো মাথা ফোর ফরট্টি ভোল্ট। দুমদাম সিদ্ধান্ত নেয়। নটি বয়ও আজকাল ভীষণ তেরিয়া। কালই তো একটা কথা কানে এসেছিল, “তোর সামনে দুটো অপশন, হয় চাকরি, নয়তো আমি। চয়েজ ইজ ইওরস’।
ওদের দাম্পত্য জীবনে কেন যে এমন টাইফুন উঠল? বেশ তো চলছিল, হাল্কা ঝড়ঝাপটা, তারপর ঝমঝম বৃষ্টি।
:: ::
এবার একটা রক্তক্ষয়ী নির্বাচন হল। হতাহতের সংখ্যা অগুনতি। ফলপ্রকাশও হয়ে গেছে। কিন্তু দোয়েল ঘরে ফিরল না তো? কোনও দুর্ঘটনা ঘটে নি তো?
সেদিন খুব সকালে ঘুম ভাঙল। সূর্য তখনও আকাশে আবির ছড়ায় নি, সামান্য কয়েকটা গোলাপি আঁচড় পড়েছে মাত্র। একটা পাখি থেমে থেমে ডাকছে। চোখ খুলতেই দেখি, সেই বেনেবউ! তবে জুটি ভাঙা, ওর পার্টনার গেল কোথায়? ওর ডাকের মধ্যেও কেমন বিষাদ সুর। সমস্ত দিন মন খারাপ হয়ে রইল।
যত দিন যাচ্ছে, একটা কু চিন্তা মনে জায়গা করছে। ছেলেমেয়ে দুটোর নিশ্চয় ভাল মন্দ কিছু ঘটে গেছে। কিন্তু আমার সংশয়কে দূর ঠেলে একদিন আবার বন্ধ জানলাগুলো খুলে গেল। ওই তো দোয়েল। নটি বয়ও পাশে পাশে ঘুরছে। কিন্তু স্বামী স্ত্রীর মধ্যে বাক্যালাপ বন্ধ। দোয়েলের মধ্যেও আগের সেই দোয়েলকে খুঁজে পাচ্ছি না। ওর হয়ে প্রক্সি দিচ্ছে যেন অন্য কেউ।
সেদিন রথ। ভোর থেকেই ঝিরিঝিরি বৃষ্টি। সন্ধ্যে হবে হবে সময় দেখি কয়েকটা নতুন গাছ টবে পুঁতছে মেয়েটা। পিঠময় খোলা চুল, বৃষ্টির ফোঁটা চুলে লেগে, যেন আঁধার আকাশে তারাদের ঝাঁক। মুগ্ধ হয়ে দেখছি তো দেখছি।
আরে, ওর পেছনে নটি বয় দাঁড়িয়ে না! ওফ্, আবার শুরু করবে নাকি অশান্তি। ঠিক ধরেছি। একটু পরেই ছেলের গলা পেলাম।
-অ্যাই, এটা কী গাছ রে?
নো কমেন্টসের ভাব দেখিয়ে দোয়েল টবের মাটি উসকে চলেছে।
-কী রে, কথা বলছিস না যে? গাছের নাম জানিস না বুঝি? সত্যি তুই একটা …
-মাথা মোটা, তাই তো? – দোয়েল ঘাড় ঘুরিয়ে তাকায়। ওর গালে মাটির দাগ, আহা কী সুন্দর!
নটি বয় খিঁচিয়ে উঠল, “গাছে যখন ফুল ধরবে আর লোকে নাম জানতে চাইবে, তখন তো মমি হয়ে যাবি”।
-নাম জানি। ওটা ক্রিসানথিমাম।
-কী মাম! হা হা হা। – নটি বয় হেসেই বাঁচে না। -কোথ থেকে নামটা পেলি? গুগুল ঘেঁটে? -ছেলে তার পুরনো ফর্মে ফিরে গেছে। রাগে আমার সর্বাংগ জ্বলছে। -শোন, ওটা কোনও ক্রিসানথিমাম টাম নয়। ওই ফুল হয় পাহাড়ি অঞ্চলে। এখানকার মাটিতে নয়।
-হু! সবজান্তা বাবা এসেছে। – দোয়েলের মুখ গম্ভীর। – এই মাটিতেই হবে।
-হবে না। বাজি লড়ে দেখ। হেরে যাবি। – নটি বয়ের গলায় প্রত্যয়। – আর হেরে গেলে আমি যা বলব শুনতে হবে।
দোয়েল বুড়ো আঙুল দেখায়, “আমি হারলে তো শুনব। আমিই জিতব। দেখে নিস”।
আহ্, কতদিন বাদে যেন টাটকা বাতাসের ছোঁয়া পাচ্ছি। সেই পুরনো খুনসুটি। ভাগ্যিস …
****
আষাঢ়ের বৃষ্টি হঠাৎ স্তব্ধ, কী হাঁসফাঁস গরম পড়েছে কদিন ধরে। বর্ষার মাসে যেন ভাদ্রের হল্কা। তবে আজ দুপুরের পর থেকে আকাশ স্লেট রঙা হয়ে আসছে। আমি হাত জোর করে আকাশের কাছে আকুতি করি, ঝড় এনো না, বৃষ্টি নামাও।
আকাশ কথা রেখেছে। দুপুর থেকে তুমুল বৃষ্টি। চারদিক জলছবি। দোয়েল আজ বাড়িতেই আছে। রথের মেলা থেকে আনা ওই নতুন গাছটার পেছনেই পড়ে রয়েছে সারাদিন। সন্তানের মতো আদর করছে। দৃশ্যটায় মন খারাপের গন্ধ। বিকেল বিকেলই নটি বয় ফিরল। দোয়েল ঘাড় ফিরিয়ে ডাকল, ‘আমি তোর ফেরার জন্যই অপেক্ষা করছিলাম। আজ চলে যাচ্ছি’।
নটি বয় সামান্য থমকালো। তারপর শিস দিতে দিতে অন্য ঘরে চলে গেল। একটু পরে ফিরেও এল ওর সামনে। -হ্যাঁ বল, কী বলছিস?
-আলমারির চাবিটা হুকে টাঙানো রইল। – দোয়েল বলে। – ড্রয়ারে কয়েক হাজার টাকা আছে। শেষ হলে অ্যাকাউন্ট থেকে তুলে নিবি। আমি চেক সই করে গেলাম। আর এ সপ্তাহে বাজার করতে হবে না। ফ্রিজ ভর্তি রান্না আছে।
-বাজিটা হেরে গেলি বলে পালাতে চাইছিস তো?
-কোন বাজি? – দোয়েলের গলায় অবাক ভাব।
-মনে নেই? বেশ, বেশ। বাজি হেরে গেলে সবাই অমন ভুলে মেরে দেয় বিষয়টা। তোর ওই গাছটা ক্রিসানথিমাম ছিল না মোটেই, ওটা ডালিয়া বা ওই জাতীয় কিছু হবে।
-অসম্ভব। ওটা ক্রিসানথিমাম।
-হোয়ার ইজ দা প্রুফ? প্রমাণ কোথায়?
-ফুল ফুটতে দে। এখনও তো মাটির সঙ্গে মিশে আছে।
– তাহলে আগে ফুল ফুটুক, দেখা যাক বাজিতে কে জেতে, কে হারে, তারপর সিদ্ধান্ত হবে।
-কীসের সিদ্ধান্ত?
-তোর যাওয়া হবে কি হবে না।
-মানেটা কী? – দোয়েল চেঁচিয়ে উঠেছে।
-ভেরি সিম্পল। ফুল না ফোটা পর্যন্ত হার জিতের সিদ্ধান্ত পেন্ডিং অ্যান্ড টিল দেন, তোর যাওয়াও বন্ধ।
-অসম্ভব। আমি মানব না।
আবার চলল লড়াই। ঝগড়াঝাঁটি, তর্কাতর্কি, ভ্যা ভ্যা কান্না। শেষে ভালবাসা বাসি। হঠাৎ দেখি সেই জোড়া বেনে বউ সামনের একটা গাছের ডালে বসে দুলে দুলে ডাকছে। এই ডাকটা আমার চেনা। ওদের প্রেম পেলেই অমন করে একে অপরকে ডাকে। আলতো হাতে আমি জানলার পাল্লা দুটো বন্ধ করে দিতে দিতে ভাবি, দোয়েলের বাগান ফুলে ফলে ভরে উঠুক, শুধু ওই নতুন চারা, যেটা নিয়ে ওদের হার জিতের খেলা, আজীবন যেন থেকে যায় শিশু গাছ হয়ে।
বৃষ্টি কখন থেমে গেছে খেয়াল নেই। রোদ উঠেছে মেঘের ফোঁকর গলে। বিকেলের রোদে এমন চন্দন রঙ বহুদিন দেখিনি।
