আলোর রাত্রি – শাশ্বতী নন্দী

আলোর রাত্রি

 -খবর শুনেছিস দাদা? মা, মিসিং। এইমাত্র বাবা ফোন করেছিল সেই গোয়া থেকে। কী হবে এখন? আমার তো পাগল পাগল লাগছে। – আধ ঘন্টা আগে মেসেজটা পাঠিয়েছে অপি। পড়ে শুভ্র থ। কিন্তু ওর স্ত্রী, পলি, সকাল থেকেই কী নিয়ে যেন অশান্তি শুরু করেছে, ভয়ে তাই শুভ্র ফোনে খুটখাট করে কিছু লেখার সাহস পাচ্ছে না।

 মিনিট পাঁচেকের মধ্যে আবার মেসেজ, ‘কী রে দাদা? চুপ করে আছিস যে! মা হারিয়ে গেছে, আর তুই রিঅ্যাকশন শূন্য! বাবার কী অবস্থা কল্পনা কর। এই বয়সে বৌ হারিয়ে গেছে।

 শুভ্র এবার ফোন হাতে বারান্দার দিকে গেল। কিন্তু পলি সেখানেও হানা দিল।

অপি আর শুভ্র, ভাই বোন দুজনেই এখন বাংলার বাইরে, শুভ্র পুনে, অপি পাঞ্জাব। বাবা মা, প্রণবেশ আর কনিকা, এখন গোয়ায়। সমুদ্রের কোল ঘেঁষা এক ঝা চকচকে হোটেলের সাত তলায়। শুভ্রই ব্যবস্থা করে দিয়েছে। বলে, ‘পুজো পালির দিন, আহা, বুড়ো বুড়ি দুটো একা একা কলকাতায় কাটাবে? যাক একটু সমুদ্রের কাছে ঘুরে আসুক’।

পলি যদিও শুনে মুখ বাঁকিয়েছে, ‘বাড়াবাড়ি’।

 তা সেই গোয়ায় গিয়েই কান্ডখানা ঘটল, প্রণবেশ স্ত্রীকে হারিয়ে ফেললেন, খবরটা দিলেন শুধু মেয়েকে, ছেলে বাদ। কারণ বাপ ছেলের ইগো ক্ল্যাশ। ছেলের সঙ্গে বেশি বনাবুনি নেই, সুতরাং কথা কম।

ঘড়িতে সাড়ে দশ, অপির পায়চারী ক্রমেই বাড়ছে। হঠাত ফোন। নিশ্চয়ই দাদা। ও লাফিয়ে ওঠে।

এমা, না তো। ওপাশে তো মা! –‘মা গো, তুমি কোথায়? বাবা তো পাগলের মতো খুঁজছে’ -অপি হাউমাউ করে কেঁদে উঠল।

হু, হু, হু। – কনিকাও কাঁদছেন, নাকি হাসছেন বোঝা গেল না। একটু পরেই ফ্যাসফ্যাসে গলা, ‘তোমার বাবা খুঁজছেন আমাকে! কেন? মেরে ফেলার চক্রান্তটা ভেস্তে গেল, তাই!

-মানে! – অপি হতভম্ব। – কী বলছ যা তা।

-কিচ্ছু যা তা নয়। আমার ওপর একটা সুপরিকল্পিত খুনের ছক কষছেন তোমার বাবা’।

-ছিঃ, মা! রাগলে তোমার জ্ঞান থাকে না।

-চুপ, চিরকাল তুমি বাবাকে সাপোর্ট করেছ, আমার শুভ্রই ঠিক চিনেছে মানুষটাকে। জানো, আজ যদি পালিয়ে না আসতাম হোটেল থেকে, এতক্ষণে ডেড বডি হয়ে যেতাম।

অপির মাথা ঘুরছে। ওপাশে সত্যি সত্যি মা তো! এর মধ্যে তার পাঁচ বছরের মেয়েটা শুরু করল ঘ্যানঘ্যান, ‘বাবি কোথায় মা? আমার ঘুম আসছে না’।

স্পিকারে হাত চেপে ও চোখ পাকায়, ‘বাবির নাইট শিফট। তুমি শুয়ে পড়, আমি পরে আসছি। গল্প শোনাব’।

-ধুত, তুমি পারো না। বাবি ভাল গল্প বলে।

রাগে দাঁত কিড়িমিড় করে অপি। ন্যাকা!

-হ্যালো, অপি। আছো লাইনে? শুনবে আজ কী হয়েছে? – গলাটা একটু ঝেড়ে নেন কনিকা। – তবে শোন। আজ খাওয়া দাওয়ার পর শুতে গেছি, এই আটটা, সাড়ে আটটা তখন। জানোই তো আমাদের আগে খাওয়া, আগে শোওয়ার অভ্যেস। তা, চোখটা জাস্ট লেগেছে, দেখি তোমার বাবা একগাদা তার দিয়ে আমায় বাঁধছেন, খুব আলতো হাত, যাতে টের না পাই। চমকে উঠলেও না বোঝার ভান করে নিঃশ্বাস চেপে রাখলাম। হঠাত দেখি বুকের ওপর একটা অদ্ভুত যন্ত্র ফিট করছেন। ব্যাটারি দেওয়া, আলো জ্বলছে, নিভছে। ঠিক যেমন সিনেমায় দেখায়, টাইম বোম মার্কা।

-অ্যাঁ! সে কী! টাইম বোম তোমার বুকে, কেন? হ্যালো মা, হ্যালো।

ওপাশে আর কিছু শোনা গেল না, লাইন কেটে গেছে। অপি দৌড়ে বাথরুমে ঢোকে। ঘাড়ে, মাথায় জল ছেটায়। এসব কি শুনল ! নাহ্‌, দাদাকে এখুনি জানানো দরকার। কেসটা ক্রমশ হাতের বাইরে চলে যাচ্ছে। চশমার ফাঁক দিয়ে টুক করে দু ফোঁটা জল গড়িয়ে পড়ল ওর। মা গো, শেষ বয়সে এ-ই ছিল তোমার কপালে?

(২)

-কী রে বনু, বার বার ফোন করছিস, এনি প্রবলেম? – শুভ্র হাই তুলতে তুলতে কথা বলছে।

গা জ্বলে গেল অপির। কী ক্যাজুয়াল দেখো। ও ঝাঁঝিয়ে বলে, ‘মা হারিয়ে গেছে, মেসেজ পাস নি? যদিও একটু আগে মা-ই ফোন করেছিল। সাংঘাতিক একটা খবর দিল। শুনে তো আমার মাথা ঘুরছে।

-আরে দূর, তোর চিরকালই মাথা ঘোরার রোগ। স্পন্ডোলাইসিস। তা মা কোথ থেকে কথা বলছিল কিছু জানিয়েছে?

 -না, ভাঙল না। তবে সাংঘাতিক একটা কথা শোনাল। বাবা নাকি একটা টাইম বোম মায়ের বুকে …

-হোয়াট! টাইম বোম! ইয়ে মানে দাঁড়া, কথাগুলো পরিষ্কার আসছে না, একটু রাস্তায় বেরোই।

যা বোঝার বুঝে গেল অপি। দাদার কাছাকাছি আর একটা টাইম বোম রাখা এখন। বৌদিকে যমের মতো ভয় পায় ও।

ঠিক দু মিনিট পর শুভ্রর ফোন, ‘বনু, বাবাকে ফোনে ধর তো। আমিই করতাম, কিন্তু এখন কথা বন্ধ আমাদের। যাক শোন, বাবাকে কল করার পর হোল্ডে রেখে আমাকে আর মা-কেও কনফারেন্সে নিবি।

-কিন্তু মায়ের লাইন নট রিচেবল বলছে যে এখন!

-সর্বনাশ! আচ্ছা বনু, মা কিছু করে বসবে না তো? ধর যদি, সমুদ্রে নেমে পড়ে ইচ্ছে করে নিজেকে ডুবিয়ে দেয়। ওফ, আর ভাবতে পারছি না। আজই বাবার সঙ্গে একটা বোঝাপড়া চাই।

(৩)

অনেক বারের চেষ্টায় কনিকাকে ফোনে ধরা গেল। নিষ্পৃহ গলা, ‘আমাকে বার বার বিরক্ত করছ কেন? আমি এখন শান্তির এক আশ্রয় খুঁজে পেয়েছি’।

শুনেই অপির ভ্যা ভ্যা কান্না, ‘মা, তুমি কি সমুদ্রের আশেপাশে আছো এখন? প্লিজ ফিরে এসো, ও মা’।

কনিকা হাসছেন, ‘ফেরা সম্ভব নয়’।

-কেন নয়? শোন মা, আমি কনফারেন্স কল করেছি, দাদা, বাবা, সবাই লাইনে আছে। আলোচনার মাধ্যমে যদি …

-এ সমস্যা কনফারেন্স করে মেটার নয়। বরং আমি যে আশ্রয়ের সন্ধান পেয়েছি …

-চুপ করবে তুমি? – হঠাত ছেলের গলা পেয়ে কনিকা হকচকিয়ে যান।

-কে রে, আমার শুভ্র নাকি? ওমা, কথা বলছিলাম তো অপির সঙ্গে। তা শোন, আমি আর সংসারে ফিরব না। আমায় মাফ কর।

-আমি সব শুনেছি মা। বাবা, তুমি জবাব দাও, কেন মা ঘরের বাইরে এখন? চুপ করে থাকলে চলবে না। আমরা জবাব চাই। তোমাদের গোয়া পাঠালাম, কোথায় তোমরা সমুদ্রের অমন হু হু হাওয়ায় টইটম্বুর অক্সিজেন বুক ভরে …

-চুপ, গাধা কোথাকার। – প্রণবেশের গমগমে গলা বেজে উঠল। – ইচ্ছে করছে ছুটে গিয়ে তোর কান দুটো মুলি আসি। এই তোকে সাইন্স পড়িয়েছি অফিস থেকে হাঁপিয়ে ঝাঁপিয়ে এসে! সমুদ্রের লবণাক্ত জলে অক্সিজেন টইটম্বুর থাকে? না রে, পাঁঠা, লবণাক্ত জলের তুলনায় মিষ্টি জলে অক্সিজেন বেশি পাওয়া যায়।

-আচ্ছা, সরি। ভুল হয়েছে। তবে তুমি আমাকে এভাবে গাধা গরু ডেকে না। যথেষ্ট বড় হয়েছি, ছেলের বয়স দুই।

-আবার বলছি, গাধা। যা করার করে নে।

-বাবা! আমি কিন্তু ভীষণ রাগী। তোমারই তো ছেলে।

-হুঃ আমার ছেলে! আমার মতো মেরুদন্ড পেয়েছিস? বউয়ের ভয়ে তো সব সময় আধমরা। কেন? বউকে ভালবাসলে কি শাসন করা যায় না?

হঠাত অপি রেফারির মতো আওয়াজ করে উঠল, ‘থামো, থামো সবাই। আমার কিছু বলার আছে। আচ্ছা বাবা, আমরা জানতে চাই তুমি আজ কেন মায়ের বুকে ব্যাটারি বেঁধেছিলে?’

ওপাশে কনিকার ফোঁপানো কান্নার শব্দ। শুভ্র আবার গর্জে ওঠে, ‘ছিঃ ন্যক্কারজনক ঘটনা’।

-অ্যাই ব্যাটা, ন্যক্কারজনক শব্দের বানান বলতে পারবি? আর শোন, যা করেছি, বেশ করেছি। আমার বউ, আমি যা ইচ্ছে …

-না, না, এটা অন্যায়। – অপি কলকল করে ওঠে। – এতদিন আমি তোমার সাপোর্টে ছিলাম। আজ থেকে সাপোর্ট তুলে নিলাম।

-দেখলি তো বনু। আগেই বলেছিলাম, আমাদের মায়ের বড় কষ্ট। – শুভ্রর নাকে একটা ফোঁস শব্দ হয়।

কনিকা হঠাত হেঁকে ওঠেন, ‘শুভ্র, তোর ওই অসুখটা এখনও সারানোর ব্যবস্থা করলি না। নাকে খালি ফোঁসফোঁস শব্দ পাচ্ছি’।

-ছেলের নাকে তো ফোঁসফোঁস, আর তোমার নাকে? ওখান দিয়ে তো সারাক্ষণ যুদ্ধের প্লেন টেক অফ করছে। রাতে চোখটা লাগল কী লাগল না, অমনি তোমার প্লেন চলতে শুরু করল। উঠছে, নামছে, উঠছে …। যাক, ওতে আমি এখন অভ্যস্ত। তবে কণা, ভারি দুঃখ পেলাম। শেষে তুমি আমায় ভুল বুঝলে। আরে শোন, তোমার ছেলেমেয়েদের দরদ ওই ফোনাফুনিটুকুই,, তারপর দায়িত্ব শেষ। ওদের মুখগুলোই তো ভুলতে বসেছিলাম, ভাগ্যিস মোবাইলে আজকাল ভিডিয়ো কল টল হয়। যাক, তুমি ফিরে এসো কণা। তোমায় ছাড়া এই বুড়োটা খুব একা। আর হ্যাঁ শোন, কালই আমরা ফ্লাইটের টিকিট কেটে কলকাতায় ফিরছি।

কনিকা ফিচফিচ করে কাঁদলেন খানিকক্ষণ, তারপর মিনমিন করে বললেন, ‘আসছি, কাছাকাছিই আছি। কিন্তু অমন করে আর কখনো ভয় টয় দেখিয়ো না যেন।

কর্তা গিন্নী দুজনেই লাইন কেটে দিলেন এরপর। কিন্তু ওপাশে মোবাইল ধরে থম মেরে আছে শুভ্র আর অপি। কেসটা কী হল? শুভ্র রেগে বোম, ‘দেখলি, কণা টনা বলে কীভাবে মা-কে ম্যানেজ করল বাবা? আমার কিন্তু অন্যরকম ডাউট হচ্ছে, কলকাতায় নিয়ে গিয়ে কোনও দুর্ঘটনা ঘটিয়ে দেবে না তো?

-ছিঃ, এসব কী বলছিস দাদা! তবে হ্যাঁ, বয়সটা ভাল নয়, একাকিত্বটা দুজনের মধ্যেই চেপে বসেছে। এই তো সেদিন কাগজে পড়লাম। এক বৃদ্ধ দম্পতির আত্মহত্যা। আগে স্ত্রীকে বিষ খাইয়ে, পরে নিজে সিলিং থেকে …

-স্টপ ইট, বনু। শোন, কালই আমি অফিসে ছুটির দরখাস্ত করছি। পরশুর ফ্লাইটে দুজনে একসঙ্গে যাই, চল। বাবার কোনও কু মতলব থাকলে একেবারে রেড হ্যান্ডেড ধরে ফেলব। খুব রাগ হয় মাঝে মাঝে জানিস বনু।

-রাগ ভাল নয় দাদা, কনট্রোল কর। তা হ্যাঁ রে, কার ওপর রাগ ?

 একটা দীর্ঘশ্বাস। তারপর খুব হতাশ গলা শোনা গেল শুভ্রর, ‘বাবা মায়ের ওপর। খুব, খুব রাগ। এই যে ছোট থেকে কতগুলো স্বপ্ন বুকে পুঁতে দিয়েছে, আমাদের বড় হতে হবে, অর্থে, যশে, খ্যাতিতে, একেবারে আকাশের কাছাকাছি পৌছতে হবে, আজ দেখ, আমরা তাই কোথাও স্থির হতে পারি নি। শুধু দৌড় আর দৌড়। কিন্তু এখন তাঁরাই আমাদের ধরে রাখতে চায়, কাছে থাকি না বলে দোষারোপ করে।

-রাগ করিস না দাদা। সব বাবা মা-ই চায়, সন্তান থাক দুধে ভাতে।

(৪)

পলির থেকে লুকোনো গেল না কোনও কথাই। সব শুনে শুভ্রকে বলে, ‘চল, আমিও যাই। ওই রাফ অ্যান্ড টাফ বুড়োকে তোমরা হ্যান্ডেল করতে পারবে না নইলে’।

রাত তখন নটা, দরজায় কলিং বেল বেজে ওঠে। প্রণবেশই খুললেন, ফুল ব্যাটালিয়ন দেখে একেবারে ঘাবড়ানো মুখ।

বাড়িটা শুনশান। একটু বেশিই যেন নীরব। সবাই কী একটা আশংকা করে হঠাৎ দুদ্দাড় ছুটল দোতলায়। আরে, একী! মায়ের শরীরে যে সত্যি একটা ব্যাটারি, জ্বলছে, নিভছে। আর অনেক তার কানের লতির পাশ দিয়ে, মায়ের মাথার ওপর দিয়ে, … এসব কী?

শুভ্র কঠিন চোখে তাকায়, ‘এসব কী বাবা?’

প্রণবেশের মুখে আবার সেই ডোন্ট কেয়ার ভাব। -‘অত শত জেনে তোমাদের লাভ নেই’।

-মানে? – শুভ্র আর অপি দুজনেই একসঙ্গে চেঁচিয়ে ওঠে, ‘আমরা এখন চলে এসেছি, মায়ের ওপর আর কোন রকম উলটো পালটা কাজ করতে দেব না।

-তাই বুঝি। – প্রণবেশ বেশ কিছুক্ষণ হে হে করে হেসে নিলেন। তারপর বলেন, ‘শোন, তোমরা হলে পরিযায়ী পাখি, এই আছো, এই নেই। কিন্তু এই বুড়ো বুড়ি, দুজন দুজনের লাঠি। একজন হাত বাড়ালেই অন্যজন নিজের শীর্ণ হাতখানা এগিয়ে ধরেন। – দম নিলেন প্রণবেশ।

– ওই যে বিকট নাসিকা গর্জন তোমার মায়ের হয়, খবর নিয়ে দেখি, জিনিসটা কখনও কখনও বিপজ্জনকও। ডাক্তার পরামর্শ দিলেন, একটা স্লিপ টেস্ট যার মেডিক্যাল টার্ম, পলিসমনোগ্রাফি, সেটা করিয়ে নিন। কিন্তু করাব কাকে? পরীক্ষা নিরীক্ষার নামেই তাঁর ভয়। তাই গোয়ায় গিয়ে ভেবেছিলাম চুপিসারে … কিন্তু হিতে বিপরীত হল। পরে ভাবলাম, না, এভাবে নয়। কণাকে জানিয়েই সব করব। আরে, এটা তো ছোট্ট একখানা ঘরের ভেতর বসে বসে পরীক্ষা। ও এবার রাজি হয়েছে। ভয় ভেঙেছে। ওই দেখো, কেমন লক্ষ্মী মেয়ের মতো শুয়ে শুয়ে হাসছে’।

‘যাচ্চলে, পুরোটাই ফলস খেয়ে গেলাম তাহলে ’। – পলির বিমর্ষ মুখ। প্রণবেশ আবার ব্যাটারির কানেকশনে মন দিয়েছেন। একবার ছেলের দিকেও কটমট চাইলেন, তারপর ফিক করে একটা হাসি, ‘শোন, অনেকদিন স্ট্রাইক চলল। কিন্তু তুমি তো শোধরাবার নও। তাই আমি নিজেই স্ট্রাইক তুলে নিচ্ছি। এসো কোলাকুলি করি’।

কনিকা সব দেখেন আর হাসেন। হাসতে হাসতেই কাঁদেন। কিন্তু ওই কান্না জল কেউ দেখতে পায় না। শুধু প্রণবেশ কাছে গিয়ে ফিসফিস করেন, ‘দেখো, ছেলেমেয়েগুলো আসতেই আমাদের ছায়া ছায়া ঘরগুলো কেমন সব আলোয় আলো হয়ে গেছে, যেন দীপাবলির রাত। চোখ মোছ, আজ কখনও কাঁদতে আছে!’।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *