প্রতিদ্বন্দ্বী
-তোমার সঙ্গে দু দন্ড কথা বলতে চাই, মিমি। সময় হবে? – মোবাইলের ওপারে বন্দনা। তার মা।
একটা মহাভারত সাইজের ফাইলে ডুবে ছিল মিমি। চোখ মনিটরে, আঙুল ল্যাপটপের কি বোর্ডে। অভ্যাসবশত স্পিকার অন করল। মায়ের ফোন মানেই দীর্ঘ সেশন। কিন্তু এমন গাক গাক বাজল মায়ের গলা, বাধ্য হয়ে ও কানে তুলল মোবাইল। -হ্যাঁ, বলো মা’।
– কখন ফিরছ? তুমি ঢুকলে, আমি বেরোব। – বন্দনার থমথমে গলা।
মিমি আশঙ্কিত, তার মানে কোনও ঘণ্ট পাকিয়েছে সংসারে। তবু গলা মিহি করে বলে, ‘কোথায় যাবে মা?’
-বাড়ি ফিরব। তোমার মাদার ইন ল’র সঙ্গে আমার পোষাবে না।
ব্যস, আর বুঝতে অসুবিধা হল না। দুই বেয়ানে আবার লেগেছে, হয়তো আজ একেবারে জমজমাট টি টোয়েন্টি খেলে দিয়েছে। মিমির গলা অসহায় শোনায়l, ‘তাহলে কুট্টুসের কী হবে?’
-কেন, ওর ঠাম্মা আছেন। আর দুই দাদু তো আছেনই। মিলেমিশে নাতিকে বড় করবেন। আমি শুধু আমার দায়িত্বটা তোমার কাছে হ্যান্ডওভার করে বিদেয় নেব।
বাধ্য হয়ে কাজে দাঁড়ি টানতে হল। স্ক্রিনে তখন এক্সেলে একটা জরুরি রিপোর্ট চলছিল, কর্মচারিদের ইনক্রিমেন্ট সংক্রান্ত। আপাতত ভোগে।
হারা ম্যাচটাকে যদি বাঁচানো যায়, এই আশায় মিমি শেষ চেষ্টা করে, -‘কুট্টুস যে তোমাকে ছাড়া দুপুরে কারও কাছে ঘুমোতে চায় না, তার কী হবে?’
-কিচ্ছু হবে না। ওর ঠাকুমা কদিন ধরে ওকে বুকে চেপে ভজন শোনাতে শোনাতে ঘুম পাড়াচ্ছেন, আমাকে ধারে কাছে ঘেঁষতে দেন না।
ব্যস, ক্লিয়ারকাট সূত্র বেরিয়ে গেল।
বিয়ের পর থেকেই দুই বেয়ানের ঠান্ডা লড়াই। বন্দনার ইচ্ছে ছিল না সেন পরিবারে মেয়ে দেওয়ার। কারণ ওই পরিবারে কেউ খেলাধুলোর ধার মাড়ায় নি। ওদিকে বন্দনার আলমারি ভর্তি ম্যাচ জেতার শিল্ড। এক কালের সে একজন নামী অ্যাথলেট। কিন্তু কর্তার জেদে ওই বাড়িতেই মিমির বিয়ে হল।
হবু জামাই বাড়িতে গিয়ে তিনি দেখেছেন রাশিকৃত বই। ব্যস, গলে নদী। নিজে ইতিহাসের অধ্যাপক কিনা।
মিমিকেও নিজের স্বপ্নের ভাগীদার করতে চেয়েছিল বন্দনা। স্কুল থেকে ফিরলেই ঢাউস ব্যাগ কাঁধে ফেলে কোচিং ক্যাম্পে ছুট ছুট … মেয়ের পেছন পেছন মা। কিন্তু উঁচু ক্লাসে উঠতেই কর্তার নির্দেশে সব বন্ধ।
-মা, মন দিয়ে একটা কথা শোন, – মিমি গলাটা আর একটু কেশে পরিস্কার করে নেয়, – আমার শাশুড়ির সঙ্গে তোমার অ্যাডজাস্টমেন্টে অসুবিধা হচ্ছে, বুঝতে পাচ্ছি। কিন্তু তুমি চলে গেলে যে নাতিটা কেঁদে কেঁদে অসুস্থ হবে, এটা তুমি চাও?
ইচ্ছে করেই বেশ জবজবে সেন্টু মেশাল। শেষের দিকে গলাটা ধরা ধরা।
কিন্তু কাজ হল উলটো। বন্দনা শুনেই তেড়ে ওঠে, ‘কী বললে? অ্যাডজাস্টমেন্ট ওই মিসেস সেনের সঙ্গে? অসম্ভব। উনি মুখেই ঠাকুর ঠাকুর করেন, পেটে পেটে দুর্বুদ্ধি। জানো, কুট্টুসের মনটাকে কীভাবে পয়েজন করছেন!
পয়েজন! কুট্টুসকে! গুলগুল করে একটা হাসি এসেছিল, গিলে নিল মিমি। ওই এক রত্তির বাচ্চার মনকে পয়জন! দু বছর সবে পূর্ণ হল ।
-বিশ্বাস হল না তো! তবে শোন, আজকাল আমার কাছে এলেই কুট্টুস কেমন খুনখুন করে কান্না জোড়ে। ওকে ভোলানো যায় না। শুধু তাই, ও আমার হাতে খাবে না, ঘুমোবে না। সারাদিন শুধু ভেউ ভেউ কান্না। তাও আবার ঠাম্মার দিকে তাকিয়ে তাকিয়ে। আর যেই না তিনি হাত বাড়াবেন, একেবারে ঝাঁপিয়ে কোলে। এগুলো কিন্তু আগে হত না।
-বোঝার কোনও ভুল হচ্ছে না তো মা?
-একদম না। তবে ঘটনাটা খুলেই বলি। আজ কুট্টুসের খাওয়া দাওয়ার পর আমি ওর হাত পা গুলো টেনেটুনে দিচ্ছিলাম, রোজই দিই। দু চারটে হাল্কা ব্যায়াম জাতীয় কসরতও শেখাই, এতে বাচ্চার শারীরিক গঠন মজবুত হয়।
মিমির সে সব জানা। এ কারণে মা-কে আড়ালে ডাকা হয়, যোগা নানি। নামটা বাবার দেওয়া।
-আজ হল কী, – বন্দনা আবার বলা শুরু করে। – দুপুরে সবে মাত্র চোখটা লেগেছে, হঠাত দড়াম। জোড়া পায়ে লাথি।
-সে কী! কে মারল?
বন্দনা অল্প হাসল, ‘আবার কে? কুট্টুস। বাপ রে, কী জোর ওই ছোট ছোট পায়ের।
-হবে না কেন বলো? তুমি তো রোজ ওই লাল তেল মালিশ করে করে দাও। তারপর কী হল মা?
-আচমকা লাথি তো, আমি হকচকিয়ে গেছি। পাশেই ছিল তোমার বাবা। ব্যস, শুরু হল তার হাসি, বলে, যোগা নানি বোল্ড আউট। সেই শুনে ঘুমের চোখে টলতে টলতে উঠে এসেছেন মিসেস সেন। তারপর দুজনে মিলে কোরাসে হাসি। ভাবো, কতবড় ইনসাল্ট।
মিমি ঢোঁক গেলে, ‘হুম, বাবার অমন একটু স্বভাব আছে, ঠিকই ।
-তাহলে স্বীকার করছ, তোমার বাবা এক নম্বরের ঘরের শত্রু বিভীষণ টাইপ? কিন্তু দেখো তোমার শ্বশুর, তিনি সব সময় তাঁর বউকে তোয়াজ করে করে চলছেন’।
সময় চলে যাচ্ছে। বস একবার তাড়া দিয়ে গেছে, এক্সেল শিটটা তাড়াতাড়ি ওঁর টেবিলে ফেলতে।
মিমি এবার শিশু ভোলানোর মতো বলে, ‘মা,তুমি মাথা ঠাণ্ডা করে একটু থাক। আমি যত তাড়াতাড়ি পারি আসছি। জানোই তো প্রাইভেট কোম্পানির চাকরি, হুট বলতে বেরোতে পারি না।
ওপাশে দীর্ঘশ্বাসের শব্দ। বন্দনার গলায় আক্ষেপ। – ‘তোমার রক্তে খেলা ছিল, একজন নামী খেলোয়ার হতে পারতে, কিন্তু তোমার বাবা হতে দিল না! যাক, সবই কপাল। ভেবেছিলাম অন্তত কুট্টুসকে দিয়ে যদি স্বপ্নগুলো ডানা মেলে। – আবার দীর্ঘশ্বাস। সেটাও হবে না। ওর ঠাকুমা, ওকে কীর্তনীয়া বানিয়েই ছাড়বে। আজকাল ওই কীর্তন গান না শুনলে ছেলে তোমার ঘুমোতেই চাইছে না’।
জোরে হাসতে গিয়েও গিলে ফেলে সেই হো হো হাসিটা। বন্দনা আরও কিছু অনুযোগ ওগরাতে চাইছিল, মিমি অনুনয় করে বলে, ‘মা, এখন আমি বড় ব্যস্ত। বাড়ি গিয়ে না হয় বাকিটা শুনব। প্লিজ কোথাও যেও না, আমার ফেরা অবধি অপেক্ষা কর’।
-না, একটু মার্কেটে যেতে হবে। চলেই তো যাব, তাই টুকটাক কিছু কিনে দিয়ে যাই কুটটুসকে।
ফোন ছাড়ার পরও কথাগুলো মনের মধ্যে ঘুরপাক খেতে থাকে। কী যে করা যায়? দুই বেয়ানের এই ইগো ক্ল্যাশ সামলাবে কীভাবে? দুজনেই হম কিসিসে কম নেহি।
কিন্তু বাবাদের নিয়ে দুশ্চিন্তা নেই। সৌজন্যের অন্তরালে নিজের নিজের খেলা তাঁরা ভালই খেলছে।
(২)
হাজার চেষ্টা করেও মিমি আগে ফিরতে পারল না অফিস থেকে। অন্যদিনের চাইতে বরং বেশি দেরি আজ। ভয় ছিল, ঘরের আবহাওয়া কেমন হবে। যদিও মায়ের রাগ অল্পক্ষণের । এই ক্ষেপল, এই বৃষ্টি ঝরাল।
তবু পা টিপে টিপে ঘরে ঢোকে ও। রাস্তার দিকের ঘরটাই মায়েদের, আর শ্বশুর শাশুড়ি দক্ষিণে, বাগান মুখো। ভোররাত থেকেই শাশুড়িমা জেগে বসে ফুল পাহারা দেন।
এ ঘর ও ঘর হন্যে হয়ে খুঁজতে খুঁজতে বাবার দেখা মিলল ছাদের সিঁড়ির কাছে। মেয়েকে দেখেই ফিসফিস করলেন, ‘তোর মায়ের ব্যাগ অ্যান্ড ব্যাগেজেস রেডি। আর আটকানো যাবে না মনে হচ্ছে’।
-এতো অশান্তির কারণ কী বলো তো ?
মিস্টার গুপ্ত খুক খুক হাসলেন, ‘কুট্টুসের ঘরে যা, কারণটা নিজেই বুঝবে’।
-সত্যিই তো, কুট্টুস কোথায়? দেখছি না যে।
-ঠাম্মা আর দাদানের সঙ্গে ইভিনিং ওয়াকে। ফেরার সময় নাকি একটু শপিং মল হয়ে আসবে।
মিমি তড়িঘড়ি ছেলের ঘরের দিকে ছোটে, তারপরেই হতবাক। এ কী! দেয়ালে যে ফুটখানেক জায়গাও খালি নেই। বড় বড় খেলোয়ারের পোস্টারে পুরো দেয়াল ঢাকা।
বাবা যে কখন পেছনে এসে দাঁড়িয়েছেন! খুকখুক হাসছেন আর বলছেন – ‘তোর শাশুড়ি মা, দু চারটে ঠাকুর দেবতার ফটো নাতির ঘরে ঝুলিয়েছিলেন, সেই দেখে তোর মা-ও পাল্টা শোধ নিল। মারাদোনা, মেসি, সচিন তেন্ডুলকার, সৌরভ গাঙ্গুলিতে ভরে দিল দেয়াল। বল, কোনও মানে আছে? তারপর থেকে বেয়ানও গোমরা। তক্কে তক্কে ছিলেন, ঝালটা কীভাবে মেটাবেন। একদিন সুযোগ এল খাবার টেবিলে।
এরপর বাবা যা শোনালেন, মিমি রীতিমত বাকরুদ্ধ। নাতিকে নিজের কাছে ধরে রাখার এ কি প্রতিযোগীতা দুজনের মধ্যে!
-আরও একটা কান্ড হয়েছে।
-ওফ্, এখানেই শেষ নয় তাহলে?
-না। শোন। সেদিন তোর মা শুক্তো রেঁধেছে। কিন্তু মুখে দিয়েই ফুট কাটলেন মিসেস সেন। শুক্তোতে লঙ্কা ফোরণ দেয়, শুনি নি তো কখনও? আপনি না বাঙালের মেয়ে, রান্নায় পাকা। বন্দনার মুখ কাঁচুমাচু, রান্নার হাত কোনদিনই তার পাকা নয়, জানিসই তো। ঘর গেরস্থলিতেও কমা, রাতদিন খেলার দুনিয়াতেই তো মজে থাকে। টিভিতে সারাক্ষণ শুধু স্পোর্টস চ্যানেল। বেয়ানের কথার জবাবে ঢোঁক গিলে বলে, আমার মিমি ঝাল ঝাল না হলে কিছু খেতে পারে না। .
-তাই বলে শুক্তোতে ঝাল! বাপের জন্মে শুনি নি বাপু। ব্যস, আর যাবে কোথায়? বন্দনাও ফোঁস করে ওঠে, ঝাড়া আধ ঘন্টা ধরে চলল কাই কিচমিচ।
(৩)
অনেক সাধ্য সাধনা করে মিমি তার মা-কে ছাদ থেকে তো নামিয়ে এনেছে। কিন্তু বন্দনার এক গোঁ, আজ দুপুরে যা ঘটে গেছে, এরপর একই বাড়িতে বেয়ানের সঙ্গে থাকা অসম্ভব।
-তাহলে তুমি কী চাও? শাম্বর মা বাবাকে আমি চলে যেতে বলি।
-বালাই ষাট, ওরা ছেলের মা বাবা। ওদের দাম অনেক বেশি।
নাটকটা হয়তো আরও দূর গড়াত, হঠাৎ মিমি ভ্যা। কাঁদতে কাঁদতেই বলে, ‘এখন দেখছি কুট্টুসই সব অশান্তির মূলে। এ জন্যই আমরা সন্তান নিতে চাই নি। তোমরাই কিন্তু তখন ভরসা দিয়েছিলে, পাশে আছি, এই তোমাদের পাশে থাকা?
বন্দনার মুখ কাঁচুমাচু। এই মোক্ষম সময় কুট্টুসের এনট্রি। দাদাভাইয়ের কোলে চেপে পাড়া বেরিয়ে এল। পেছন পেছন তার ঠাম্মা। হঠাৎ বন্দনা সকলকে অবাক করে নাতিকে টেনে হিঁচড়ে বেয়াইয়ের কোল থেকে নিজের কোলে নিল।
সঙ্গে সঙ্গে শাশুড়ি মায়ের ক্রুর চোখ। -‘এভাবে শিশুকে কাড়াকাড়ি করে নিচ্ছেন কেন ? এবার থেকে তো আপনার কাছেই ও থাকবে। আমরা কাল ভোরেই রওনা দেব।
-হা হা হা। – বন্দনা হাসছে। – আপনি কাল ভোরে, আর আমি এখুনি।
এর মধ্যে দিম্মার কোল থেকে নেমে পড়ে কুট্টুস। বন্দনা তাকিয়ে অভিমান দেখাল, ‘ওই তো নাতিও আমার কাছে থাকতে চায় না। তাহলে কীসের জন্য এখানে থাকা?’ – বলতে বলতেই সে নিজের ঘরের দিকে চলে যায়। একটু পরেই ফিরে এল, কাঁধে বড় ঝোলা।
-‘আসি তাহলে, সকলে ভাল থাকুন, শান্তিতে থাকুন’। – বলতে বলতে সে দরজার ল্যাচ ঘোরায়। হঠাৎ একটা বল এসে দরজায় মারল, ধাই। বন্দনা অবাক হয়ে পেছন ঘুরতেই দেখে কুট্টুস টলমল পায়ে ছুটে আসছে লাল টুকটুকে একটা বলে লাথি মারতে মারতে।
মিমি ধমকে ওঠে, ‘এই বল আবার কে আমদানি করল? এবার তো সব কিছু ভাঙচুর করবে?’
-করুক। মনে রেখো তুমি জুনিয়র মারাদোনার মা। ঘরে যদি দু চারটে জিনিস ভাঙে তো ভাঙুক, মেনে নিতে হবে।
কে বলল কথাটা? সবাই একসঙ্গে পেছন ফিরে তাকায়। এ তো মিসেস সেনের গলা। হ্যাঁ তিনিই। শাম্বর মা, বন্দনার বেয়ান।
দরজা আগলে দাঁড়িয়ে আছেন। – ‘এই যে শুনুন মিসেস গুপ্ত, কাঁধের ঝোলাটা নামিয়ে রাখুন। আমি আপনার চাইতে কয়েক মাসের বড়। সেই অধিকারেই বলছি। আর হ্যাঁ, অ্যাথেলেটিক্সে আমার নাতির ট্রেনিংটা যেন ভাল হয়। ওকে দ্বিতীয় মারাদোনা করে তুলতেই হবে। বাড়ির বাগানটাই আপাতত প্র্যাকটিস মাঠ।
সকলেই কেমন ভ্যাবলা বনে তাকিয়ে আছে তাঁর দিকে।
-আর আপনাদের ম্যাচ প্র্যাকটিসে আমি হব রেফারি, কোনও ফাউল টাউল হলে জানান দেব। – মিসেস সেনের সিরিয়াস গলা।
বন্দনার হতভম্ব ভাবটা সময় নিল কাটতে, তারপর গম্ভীর ভাবে ঝোলাটা মেঝেতে নামিয়ে গমগমে স্বরে বলে, ‘আপনি কি খোল করতাল বাজিয়ে রেফারিগিরি করবেন নাকি?’
-না, বাঁশি কিনে এনেছি। – বলেই ব্যাগ থেকে একটা সাদা দড়ি বাঁধা বাঁশি পি পি করে একনাগাড়ে বাজাতে শুরু করলেন। এর মধ্যেই কুট্টুস আবার একটা শট দিয়ে ফেলেছে লাল বলে।
দুই দাদু একসঙ্গে বলে উঠলেন, ‘গোল’।
বন্দনা বিরক্তির চোখে তাকাল সবার দিকে, ‘ইস, কী হেঁড়ে গলা, মা গো। – তারপরেই মিসেস সেনের দিকে ঘুরে তাকায় সে, – শুনুন দিদি, আপনি বল কিনে, বাঁশি কিনে, নাতিকে মারাদোনা বানাবার পরামর্শ দিয়ে ভাবছেন বুঝি খুব ক্রেডিট নিয়ে ফেলবেন। উহু, অত সোজা নয়। আমিও অ্যাথলেট। সহজে হার মানি না। কুটটুসের ঘরে গিয়ে দেখুন একটা খেলনা অর্গান কেনা আছে। ওটাতে ও এখন থেকে ছোট ছোট আঙুল চালাবে, যাতে সুরটা ধীরে ধীরে কানে বসে। বড় হয়ে, আমি চাই, ও গান বাজনা ভালবাসুক।
-অ্যাঁ!
ঘর শুদ্ধ সবাই অবাক। এ ওকে দেখছে, সে তাকে। এর মধ্যেই কুটটুসের ঘর থেকে একটা প্যাঁ পোঁ শব্দ ভেসে এল। মিমি ছুটে ঘরে ঢুকে দেখে ও মুখ ছুঁচলো করে অর্গানের রিডে আঙুল চালিয়ে চলেছে। মাথাটা ওপর দিকে তোলা, চোখ বন্ধ। মিমি হেসেই বাঁচে না। ভাবা যায়, তার ছেলে কুটটুস একাধারে মারাদোনা আবার ভি বালসারা।
যাক, বাইরের গেটে এবার বড় তালা ঝোলানো হয়েছে। বলা যায় না, বুড়ো বুড়িগুলো কখন আবার ঝগড়া বাঁধিয়ে প্যাক আপ করে ফেলবে। নিজের মনেই হাসতে হাসতে মিমি ভাবে, আহা, এই তো সংসার। তবে ভাগ্যিস …
