কবিতাসমগ্র ৪ – শামসুর রাহমান

তোমোকেই ডেকে ডেকে রক্তচক্ষু কোকিল হয়েছি
কবিতার আসা না-আসা
কবিতা লিখতে না পারা
একটি মাছের স্মৃতি
কাক কাহিনী
দেখা হওয়া না-হওয়া
বালুচরে
তোমাকেই ডেকে ডেকে
এখানেই বেইলি রোডে
আমার হারিয়ে-যাওয়া ডায়েরি
দেহতত্ত্ব
মধ্যরাতে ঘুম থেকে
বাগান দেখালে তুমি
প্রণয়ের সংজ্ঞা
একটি পুরনো ফটোগ্রাফ দেখে
মহুয়ার মন
প্রগতির পথে প্রতিক্ষণে
সেই চিঠি
কাঁদতে পারি না
আমার ব্রত
কী করে বোঝাবো?
কেবলি তলিয়ে যাচ্ছি
একটি ভ্রূণের উক্তি
কিছু ঘুড়ি
নিঠুরা যমজ ভগ্নী
এইতো দু’দিন পরে
ম্লান হয়ে যাই
বলো তো তোমাকে ছেড়ে
অশনি সঙ্কেত
তোমার গোলাপগুলি
আন্ধারে হারিয়ে পথ
সময় ফুরায় যত
কারো দণ্ডে
জিন্দা লাশ
আজ কার কাছে
সরোবর
শান্তিনিকেতনে গৌরী
খুঁজি ক্ষুব্ধ অনুরাগে
প্রতীক্ষায়
কলঙ্ক
বর্ণমালা দিয়ে
স্বাগত জানাবে
গদ্য সনেট: ১
গদ্য সনেট: ২
গদ্য সনেট: ৩
গদ্য সনেট: ৪
গদ্য সনেট: ৫
গদ্য সনেট: ৬
গদ্য সনেট: ৭
গদ্য সনেট: ৮
গদ্য সনেটঃ: ৯
1 of 3
হেমন্ত সন্ধ্যায় কিছুকাল
বেঁচে থাকতে চাই
বিনিময়
নিজেকে নতুন করে
জনৈক মানসিক রোগীর খাতার কয়েকটি পাতা
পর্যটন
তিরাশি বছর
ক্লিনিক থেকে ফেরার পথে
পথের আহ্বান
লানতের পঙ্‌ক্তিমালা
ছুটতে থাকি
কবি সম্পর্কিত মেডিক্‌ল্‌ বুলেটিন
তোমাদের মুখ
অকাল বসন্ত
আশেক লেনের বাড়ি
শুরুতেই বাগানটা
দাঁড়িয়ে আছেন এক দেবমূর্তি
যাঁরা মাথায় ইতিহাসের জ্যোতি-বলয়
আদিবার জন্মদিনে
দুপুর এবং তোমার নিঃসঙ্গতা
কী সুদীর্ঘ অমাবস্যা ছিল
সমস্বরে বলছে
হেমন্ত সন্ধ্যায়
লোকটা ভাবে
ময়ূরপঙ্খী নায়ের গাথা
মাঝে মাঝে স্বপ্নের ভেতরে
দু’দিক থেকে
তোমাকে মনে পড়া না-পড়া
আমাকে বলে দেবে
অনুবাদক
তুষার-কবরে
একটি দোয়েলের জন্যে
কবির অনুগামী
জীবনানন্দকে নিয়ে
একটি আলোকচিত্র প্রদর্শনী দেখে
কোকিল কাহিনী
যখন কবিতা হরতাল করে
অশ্রুকণাগুলো
ফজুল টিকিট
বেকার
যে আমাকে লেখায়
কাজী নজরুল ইসলামকে নিবেদিত
কে আমাকে অমন ডাকে
এই আমার সাধনা
সৈয়দ হকের উদ্দেশে
অমাবস্যাময়ী এক নারী
ছায়াগণের সঙ্গে কিছুক্ষণ
নিজেকে ভেঙে ভেঙে
যখন কবিতা পড়ি
অনঙ্গ বাউল
ফতোয়া
আমার চোখের জ্যোতি
ডাক
প্রবাসে এক কবি
তার আগে
সে কোনো লাইনে ছিল না
শনাক্তকরণের প্রক্রিয়া
এ আমার কী হয়েছে
কেন যে এলাম
আজকাল
একটি পরিবার
প্রেমের দেবতা আমাকে
তোমাকে যেতেই হলো
পূর্বাপর
আমার আকাঙ্ক্ষাগুলি
আমাকে এখন থেকে
নীল কুয়াশায়
যখন তুমি শোকের বাড়ি থেকে ফিরে এলে
এই যে ক’দিন থেকে
শহুরে সংলাপ
অস্বীকৃত তোমার মৃত্যু
কৃষিকাজ
বেজে ওঠে আলোর ঝংকার
আগুন রঙের বাঘ
নির্জনতার জন্যে প্রার্থনা
অনন্য উৎসব
সেলিনা পারভীন স্বরণে
বদলাতে থাকে
একজন বুজুর্গের কাছে
ঢাকা কলেজকে নিবেদিত পঙ্‌ক্তিমালা
কলমের কালির স্রোত
নিঃসঙ্গ যাত্রা
অসাধারণ
একাকী সত্যের কাছে
ছায়াগণের সঙ্গে কিছুক্ষণ
আরো কিছুকাল
প্রেরণার প্রতীক্ষায়’
একটি শোকগাথার জন্যে
ভ্রমণ
অভয়াশ্রমের দিকে
টুকরো টুকরো স্বপ্ন
পূর্ণতার প্রতীক্ষায়
বেঁচে থাকতে চাই
আমরা দুজন হাঁটি একসঙ্গে
কবির ভাবনা
মেঘলোকে মনোজ নিবাস
ভিন্ন ভুবনে
এভাবে কতক্ষণ বসে থাকব
আমাদের ভালোবাসায় সন্তান
ভোরবেলা চোখ মেলতেই
দুপুর, তুমি এবং পাখি
অলৌকিক আসর
মধ্যমার প্রতি
ক্ষণকাল
ছায়ার ত্রিভুজ
তোমার নালিশের পরে
ফ্ল্যাশব্যাক এবং …
রাত আড়াইটার পঙ্‌ক্তিমালা
দুই যাত্রী
কবি
কী করে করবো বসবাস
ধুলোমাখা জলরঙ
স্বপ্ন জাগরণের সীমানায়
সারা জীবনই গোধূলির-আকাশ
ইতিহাসের মোড়ে দাঁড়িয়ে ডাকছি
কুচকাওয়াজ, কুচকাওয়াজ
স্বপ্নের স্বায়ত্তশাসন
অ্যাকোরিয়াম, কয়েকটি মুখ
ডাকহরকরা বিলি করলেও
পাস্তারনাকের কাব্যগ্রন্থের নিচে
যদি বদলে দেয়া যেতো
ব্যক্তিগত হরতাল
মাঝে মাঝে মাটিতে
আমার অসমাপ্ত কবিতা
কী কী করতে হয় আমাকে
ডাহুক
দীর্ঘ পথ হাঁটার পর
দিব্যোন্মদ
স্বেচ্ছানির্বাসিত
রূপের প্রবালে দগ্ধ সন্ধ্যারাতে
তবুও মনে প্রানে
নির্বাসনের বিরুদ্ধে
নিঝুম কাফেতে
ফোটাও কালো হুল
ঘরে-বাইরে
কবিতাকে
দুঃস্বপ্নের ঘোর থেকে জেগে
হন্তারক
জনৈক স্বেচ্ছাবন্দির স্বগতোক্তি
গেলাম একটি বাগানে
পারত যদি
নির্বাসনের পরে
আপন ভুবনে
হঠাৎ লেখার খাতা থেকে
কোকিলের ডাক
ওরা দু’জন
ক্ষমার মুদ্রায়
মনোজ অঞ্জলিতে
মোহিনী জলাশয়ে
বন্ধু, ফিরে এসো
মুখের ওপর মাকড়সার জাল
রূপালি মুকুট
তোমার একটি স্বপ্ন
রবীন্দ্রনাথের কাছে
দৌহিত্র প্রিয়-র জন্মদিনে
লক্ষ্মীবাজারের রৌদ্রময় অন্ধকারে
ছায়া
স্বপ্নপুরাণ
অন্তহীন ঘন কুয়াশায়
বেদে
বিষাদ আমার পাশে নেই
একটি তারিখের অন্তরালে
সন্ধ্যারাত যখন দাতা
বর্ষার কবিতা
তাতে কী
যখন বৃষ্টি পড়ে
কবি ভাবছেন
বুকে টেনে ঘ্রাণ নিই
সাধ
পাখি ও মানুষ
আদিবাসী মেয়েটি
ধ্রুবপদ
তোমার আসা, না-আসার উদ্দেশে
অযৌক্তিক
পুরস্কার
তোরঙ্গ
জনৈক লেখকের কথা
চেতনায় ধ্বনি প্রতিধ্বনি
অনুপম সৌধ
গন্তব্যের গান
1 of 2
টুকরো কিছু সংলাপের সাঁকো
অন্তরালে
অখ্যাত কবরে
নয়না এবং আমি
একটি গাছ
এক শুয়ে আছে
আমার শরীর থেকে মন
নিঝুম ভেতরে
ঘোড়সওয়ারের স্বপ্ন
যান্ত্রিক মিছিলে
মানসিক খরা হেতু
দু’টি ছবি
আঁধার ছড়ায় ওরা
একজন বৃদ্ধের কথা
আমি কি তাহ’লে
আমরা ক’জন
কতকাল এভাবে থাকব
আনতেই হবে শান্তি
শুভ চেতনার সূর্যালোকে যাও
আত্মশুদ্ধি
ডাঃ জেকিল অ্যান্ড মিঃ হাইড
খুব দ্রুত যাচ্ছি চলে
নিরন্তর ব্রতী
কষ্ট আছে, কাঁটা আছে
নিঃসঙ্গতা
সকালে ঘুম ভাঙার পর
বিস্মিত দেবদূত
নিশ্চিত বলা যাবে না কিছু
তার কথা
বহুদিন পর পাড়াতলীতে আবার
বিজ্ঞান সম্মেলনের পরে
বাজান গো
শব্দের প্রতিমা
প্রকাশিত হয় নানা স্তরে
সংবাদপত্রে প্রকাশিত একটি খবর পড়ে
শওকত ওসমান যখন হাসপাতালে
বৈশাখ সুস্পষ্ট লেখে
কবি বলেন
একজন শিল্পীর প্রোফাইল
অনন্তের গোধূলি রঙিন পথে
ছিন্নভিন্ন হতে থাকি কাস্তের আঘাতে
হাতের দোতারায় নানান গৎ
আমার বাবার ঘর
কী যেন ভয় দেখায়
হৃদয়ে হাহাকার
ডাকি ভগ্নস্বরে
সায়াহ্নে মুখোমুখি
স্বপ্নে ও দুঃস্বপ্নে বেঁচে আছি
পারবে কি রুখে দিতে
নিজেকে খুঁড়ছি
এ কেমন লুকোচুরি খেলা
লোকটার ঘুমের ভেতর
কবি
কুয়াশায়
আমার সাতদিনের অনুপস্থিতি
জীবনের মতোই
লিখতে বসব
আজীবন অক্লান্ত সাধনা ছিল তাঁর
একজন কবি
খাতা আর কলমের বিবাদ
আমার ডান হাত
ওরে নির্বোধ
প্রকৃতির রূপ
জ্যোৎস্নাভেজা রাতে
অভিন্ন মানুষ
অরূপ রতন
বিনীত মুদ্রায়
আনন্দ
শহরে আছেন একজন
দুই পক্ষ
পরিত্যক্ত পঙ্‌ক্তির কথা
বিনিময়
শাদা কাগজ নিয়ে
অনন্তের কোনও ছলাকলা
শূন্যতার উদ্দেশে
নিরালা শহীদ
চাদর
অন্ধকারাচ্ছন্ন খেলা
নরেন বিশ্বাসকে মনে রেখে
???
প্রতিরোধ করবার পালা
কাঁটার মুকুট
একটি উদ্যানের ইতিকথা
লোকটার সুরসাধনা
ছয়তলা বাড়ি
কে একজন
মায়ামৃগ
ফের উড়ে যা
অচিন মানুষ
ভোরবেলার জন্যে
নাও, টেনে নাও
দ্বিপ্রাহরিক অভিজ্ঞতা
কাল রাতে
দীপা হকের স্মরণে
কোনও ইন্দ্রজাল নয়
শুভবাদী দিগন্তের দিকে
ডাগর দুপুরে
কবিতার বদান্যতা থেকে
1 of 2
নক্ষত্র বাজাতে বাজাতে
তিমিরবিনাশী একজন
যখন অগাধ অন্ধকারে
আমাকে থাকতে হবে
জন্মন্ধ পাতালে
তুমি যে বড়ই একা
ভুলতে পারিনি তাই
কাগজে প্রজাপতি
নিজেকেই প্রশ্ন
নিজের জীবন নিয়ে
অস্তর্গত রোদ
যাত্রার আগে
সৃষ্টির মুহূর্ত
বৈশাখ বিষয়ক কয়েকটি পঙ্‌ক্তি
আমার কেন যে শুধু
দূরত্ব
পথের পাশে কিছুক্ষণ
আমার স্বপ্নগুলো
বৃষ্টির অধিক বৃষ্টি
সিকান্‌দার আবু জাফর স্মরণে
সাম্প্রতিক ভাবনা
এত অন্ধকারময়
তোমার কাছ থেকে
এ কোথায়
একজন নদীর উদ্দেশে
চলেই যেতাম
তবে কি বাতিল, পরিত্যক্ত?
অভিশাপ যতই জ্বলন্ত হোক
নিষ্ঠুর প্রতারণা
কবির খাঁ খাঁ ঘর শুধু অশ্রুপাত করে
শ্রদ্ধেয়া সুফিয়া কামালের জন্যে পঙ্‌ক্তিমালা
জংলী ঘাস থেকে ইট কুড়িয়ে
ত্রঁদো ডোবা থেকে সামুদ্রিক মোহনায় যিনি
তোমার চোখে স্বর্গ কাঁপে
চাঁদের বিকল্পের জন্যে প্রস্তাব
একটি হারিয়ে যাওয়া কবিতার জন্যে
সগীর বাউল এবং একটি পোড়ো জমির কথা
নক্ষত্র বাজাতে বাজাতে পথ হাঁটি
স্বপ্ন গাঁথি
দূর থেকে
কেবলি হারিয়ে যাচ্ছে
একটি কলমের পথযাত্রা
বন্ধ্যা মাটিতেও মুক্ত মন
এখনও জানি না
কুরসিনামা
ডাইনোসর উঠে এলেও
একটি প্রাচীন গ্রস্থ
দাঁড়ালে টলতে থাকি
নাকি শুধু হিমযুগ
শুনি হৃদয়ের ধ্বনি
এরকম ওপরে ওপরে নয়
রঙধনু থেকে যাত্রা শুরু করে
প্রণতি জানাই
ওয়াহিদুল হকের জন্যে
এ তুমি আমাকে কোন্‌ হাটে
হরিণ এবং শজারু
গাছ, কফিন এবং নৌকা
প্রতিদ্বন্দ্বী
শিরোপা
একটি অপমৃত্যু
কখনও আগুনে পোড়ে
পথ জাগে
ডাইনোসর উঠে এলেও
একটি প্রাচীন গ্রন্থ
দাঁড়ালেই টলতে থাকি
নাকি শুধু হিমযুগ
অর্ফিয়ুস হওয়ার জন্যে
কবি লিখে যান জয়গাথা
কোনও এক মধ্যরাতে
ধন্য ধন্য রবে মুখরিত
ভাষাশহীদের রক্তধারায় পুষ্পবৃষ্টি
ধোঁয়াশার ভেতর যেতে যেতে
অথচ আনন্দগীতি
জনৈক মাঝি
সহমর্মিতা
ছুঁচো আর ইঁদুরের কথা
দয়া করে একটু শুনুন
যখন আমি
আমার পূর্বপুরুষগণ
তখন তাকে
জনৈক বন্ধুর প্রতি
দোয়েলমাতার জন্যে বন্দনাগীতি
বেদনার্ত কবি
প্রতারিত পথচারী
প্রশ্ন
ধুধু মন
নিশীথের দয়াল প্রহরী
ক্ষণিকের দেখা
ভয়ঙ্কর সৌন্দর্য নিয়ে
জানবে না কেউ
নববর্ষের শুভেচ্ছা
দীক্ষা
বিনিদ্র রাত
দ্বিধারা
পথের পাঁচালি
বাগবানের গান
সপ্তর্ষিমন্ডল
শব্দেশ্বরীর গঞ্জনা
ঘাটের কথা
নিজস্ব চাষাবাদ সম্পর্কিত
1 of 2
হৃদপদ্মে জ্যোৎস্না দোলে
প্রকৃতির দীপ্র স্নিগ্ধ উৎসব
কিছু বাতিল কাগজ
তসলিমার জন্যে পঙ্‌ক্তিমালা
টাইটান
একটি হাট-করা দরজা
আরোগ্যনিকেতনে একা
মেটামরফসিস
মহার্ঘ খোরাক
একটি বিস্মৃত নাম
নিদ্রার কুয়াশায়
গোধূলিতে প্রত্যাশা
এবং উঠোনে মুমূর্ষু কবুতর
আমার ভেতরে অন্য কেউ
একটি ধূসর বক
কত অগ্নিবলয় পেরিয়ে
জীবন হোক হাসি-ঝলসিত শারদ আকাশ
রঙধনুর সাঁকো পেরিয়ে
কোকিলের কঙ্কাল কুড়াই
বনসাই নই
ওরা দু’জন
ফিরে এসো বন্ধু
শেষ রাতে
অতিথি
তার খেদোক্তি
কখনও ঝরাবে অশ্রু, কখনও আগুন
স্বপ্ন থেকে জেগে উঠে
একজন প্রৌঢ়, তিনটি পুস্তক
হে পক্ষী, হে বৃক্ষ
সৃজনের ধ্যান
ঊনত্রিশ বছর পরেও
আমি তো ডুবুরি নই
আমি থাকি আমারই ধরনে
মধ্যরাতে রেস্তোরাঁয়
দুটো চোখ
কল্যাণের বাঁশি
তবুও ভোরবেলা
এ কেমন অনুভূতি
পাড়াতলী গাঁয়ে যাই
অবচেতনের জমি
মনের বাঘের মুখে
ক্ষ্যাপা হয়ে
দূরত্ব
আমার পড়ার ঘর থেকে
বিরহ
ডাক
পাউরুটিগণ
বাড়ি
মেঘখণ্ড কান্নাময়
ফেরার উপায় নেই
ধিক্কারের ঝড়
1 of 2
ভস্মস্তূপে গোলাপের হাসি
সভ্যতার কাছে এই সওয়াল আমার
কোকিল মূক হয়ে থাকে
গাঁও গেরামের লোক
দিগন্তের অন্তরালে
দুই প্রান্ত
এ এক আজব খেলা
রোগশয্যা থেকে
শহীদবাগ
খুঁজছি সেই যুবাকে
হাই মিস্টার রাহমান
কিংবদন্তির কথা বলে যাবে
জনৈক পথচারী
ঘাসের সবুজ ঘ্রাণ
নেহারের জন্যে
আর কতদিন থাকব
অন্য দৃষ্টি
ঘরবাড়ি
রবীন্দ্রনাথ সমীপে খোলা চিঠি
প্রাত্যহিক
চর তাকে ডেকে আনে
নিত্য বেশি টানে
তবুও বাঁচতে চাই
মৎসসমাজের কথা
দূর্মর আকাঙ্ক্ষা
ঘরে-ফেরানো গানের জন্যে
চেন্নাইয়ের এক প্রত্যূষে
ধীমান কিষান
কবির রক্ত
তেজি পতাকা
ঘুরতে ঘুরতে
একজন শ্যামলের উক্তি
নীরব অতিথি
জন্মদিনে ভেজা চোখ
নিঃসঙ্গ খনন
বিপন্ন বিশ্বে নতুন সভ্যতার জন্যে
অমাবস্যা ছিঁড়ে জাগে
তোমরা পালিয়ে যাবে?
এ কেমন কাল এল
ডুবে যেতে যেতে
জ্যোৎস্নাময়ী
যতদূর যেতে হয় যাব
কবন্ধ তাণ্ডব
অন্তরের গহন পাতালে
কেন যে উন্মাদ হয়ে যাইনি
এই আর্ত বর্তমান
শাহরিয়ার কবিরের জন্যে পঙ্‌ক্তিমালা
মেরীর পুত্র
কোথায় চলেছি
শুষে নেয় পোড়া মাটি
ভাটিয়ালি সুর হয়ে বেজে ওঠে
1 of 2
ভাঙাচোরা চাঁদ মুখ কালো করে ধুঁকছে
জীবন তো প্রকৃত খেলার মাঠ
ঢের ঢের দিনরাত
কে যেন তরঙ্গ তুলে কুয়াশায়
আচমকা কুয়াশা-কাফন
একটি সামান্য সংলাপ
একটি কুটিরের কাহিনী
প্রত্যাশা জেগে নয়
মহেঞ্জোদড়োর কণ্ঠস্বর
বড় দীর্ঘ সময়
রোদ আর জ্যোৎস্নাধারা কাঁদে
প্রণয়কৌতুকী তুই
কাঙ্ক্ষিত অর্কেস্ট্রার প্রতীক্ষায়
পরস্পর হাতে হাত রেখে
এই ডামাডোল, এই হট্রগোল
ভরদুপুরেই অমাবস্যা
তট ভাঙার জেদ
জুয়েলের জাদু
সেই কখন থেকে খুঁজছি
মহাকাশে ধ্বনিত বাংলার জয়গান
জীবন কেটেই গেল প্রায়
এ কেমন কৃষ্ণপক্ষ
কলমের চুম্বন
জয়ঢাক বাজাতে আগ্রহী আজও
নির্জন তরণী
কখনও কোথাও
ইচ্ছেটাও মৃত
প্রত্যাশার প্রহর
দর্পণে প্রতিফলিত
সন্ত্রাসে বড় জর্জরিত
চিকিৎসকের চেম্বারে
এমন কুটিল অন্ধকারে
কোথায় চলেছি?
সুদূরের অনন্য প্রবাসী
জংধরা খাঁচার ভেতর
এতদিন যে-কবিতা আমার লেখা হয়নি
স্বপ্নে আমার মনে হলো
ইতিহাস মিথ্যার কুহক ছিঁড়ে
আবুল হোসেন শ্রদ্ধাস্পদেষু
পূর্ণিমার জাগরণে
সত্যি, কোথাও যাওয়ার নেই
কৃষ্ণপক্ষে অসহায় পঙ্‌ক্তিমালা মহিমাবিহীন যীশু
হায়, এ কেমন জায়গায়
প্রত্যাশার বাইরেই ছিল
ধ্বংসকেই দ্রুত ডেকে আনে
শহীদ মিনারকে ওরা গ্রেপ্তার করেছে
দীর্ঘ আয়নায় নিজের ছায়া
জীবিতের পাথুরে স্তব্ধতা
এ কি আমাদেরই দেশ?
ওরা তিনজন
মরুর বালি
1 of 2
গন্তব্য নাই বা থাকুক
যখন আমি একলা থাকি
সোনালি টেবিল আর রুপালি চেয়ার
আমার কলমটিকে বেশ কিছুদিন
জনহীন অনন্য আশ্রমে
তার আগমন এবং প্রস্থান
জ্যোৎস্নাস্নাত রাত্তিরে
সাতটি কবরে নুয়ে চুমো খায়
ধ্বংসকেই দ্রুত ডেকে আনে
আসমানে শারদীয় চাঁদ
অরূপ নক্ষত্রলোকে
এই যে বিশ্বের নানা এলাকায়
ঘুমোবার আগে
অপরূপ গালিভার
অসহায় পঙ্‌ক্তিমালা
শকুন, নেউল আর কঙ্কালের সহবতে
কবিতার একটি পঙ্‌ক্তির সন্ধানে
কে একজন ঘরের এক কোণে
কোন্‌ কালবেলায়
গন্তব্য নাই বা থাকুক
কে এক পাখি আমার খুব কাছে এসে
এত পথ পেরুনোর পর
খুব বেশি দূরে নয়
নিদ্রাহীন, স্বপ্নহীন
রেস্তোরাঁর ওরা ক’জন
ছড়ায় না ঘ্রাণ আন্দোলিত যূথি
বৃষ্টি ধারায় দৃষ্টি মেলে
কখন থেকে এলোমেলো
তিরস্করণী হাতের শুশ্রূষায়
ঋতুবদলের সামান্য পদ্য
নিজেকে নিয়ে পঙ্‌ক্তিমালা
চলার পথে হেঁটে হেঁটে
পরনে সফেদ শাড়ি, মুখে চন্দ্রাভা
জ্যোৎস্নামাখা মধ্যরাতে
সাগরতুল্য সবার দিকে
অসম্পূর্ণ বাগানের কথা
সত্যি কি গিয়েছিলাম
যাচ্ছিলাম তো ঠিকানাবিহীন
কোন্‌ দিকে আজ
অপরূপ এক আস্তানার দিকে
ভাসমান মেঘে যাচ্ছি
ছাড়বো নাকো মধ্যপথে
ঋজু দাঁড়িয়ে থাকতে চাই
বলো কোন আস্তানায় যাবো?
নিজের সঙ্গে তুমুল ঝগড়া করি
নক্ষত্রের মানব কলোনি
আসমানে উড়বে পায়রা
সৃজনের আভা জেগে থাকে
যেন খুব অনিচ্ছা সত্ত্বেও
কোন দুঃস্বপ্ন তাকে
একটি বাগান, তিনটি কোকিল
1 of 2
কৃষ্ণপক্ষে পূর্ণিমার দিকে
ইতিহাসের পাতা থেকে
এরা চেনা কেউ নয়?
লালনের টানে
ধীরেসুস্থে হেঁটে যেতে যেতে
একবার নিশীথের প্রথম প্রহরে
অক্ষরবৃত্তের টানে
বিষাদের ছায়া
ক্যালেন্ডার পালটে গেলে
ধূসর দিন, অমাবস্যা-রাত
মরণ-বিরোধী পঙ্‌ক্তিমালা
প্রকৃত কতটা পথ
রাতের তৃতীয় প্রহরে
বসরার গোলাপেরা হাসুক আবার
একটি উপকথার খসড়া
হেঁটে যেতে যেতে
কখনো কখনো
চলে তো যেতেই হয়
এখানেই রয়ে গেছে
কতিপয় কঙ্কালের মুখোমুখি
দুর্ভাবনার রাত
খেদমতগারের নির্দেশনামা
মরমী কবি এবং পথচারী
ঠিকানা
জন্মন্ধ গুহায়
কোনওমতে টিকে আছি
বন্ধু, চলেছো কোথায়?
অপরাধ জানা নেই
একটি এপিটাফের খসড়া
কণিকা বন্দ্যোপাধ্যায়
মিশে যাচ্ছে গাধার বিষ্ঠায়
চেনা অচেনার কুয়াশায়
একজন ঈগলের কথা
এই রীতি রয়ে যাবে
বাগানটি আখেরে
সেই কাঙ্ক্ষিত সংবাদ
রৌদ্র ছায়াময় পৃথিবীতে
কৃষ্ণপক্ষে পূর্ণিমার পথ
বিড়াল-শূন্য বারান্দা
সহস্র ক্ষুধার্ত চোখ-মুখ
ক্রিসমাস ট্রি যার স্মৃতির প্রতীক
কণ্ঠস্বর অন্ধকারে বটায় প্রেম
অন্ধকার কাঁটা হয়ে বিঁধে
কবরের পাশে
একটি পুরানো ঘরে
বিরানায় হঠাৎ
ইচ্ছে হয় চাঁদটিকে ছিঁড়ে আনি
সানন্দে সাঁতার কাটে কয়েকটি হাঁস
শীতের পাতার মতো
গোরস্থানে কোকিলের করুন আহ্বান
সবাই সবার জন্য
কবির আভায় প্রজ্বলিত
দৃশ্য থেকে দৃশ্যান্তর
এই পরিণতি জেনেও এখনও
যখন নিঃসঙ্গ থাকি
বুড়ো ঈগলের মতো?
সবাই বোঝে না, কেউ কেউ বোঝে
জনৈক বিপ্লবীর কথামালা
কবিতাকে পূর্ণতা দেয়ার বাসনায়
হয়তো ভালোবাসা
চলবেই শিল্পীর তুলি, কবির কলম
মাটির ঘ্রাণের ছোঁয়া
অন্ধকারের কেল্লা হবে বিলীন
অপরূপ হাত
ফোটে বুনো ফুল
একটি প্রাচীন সংলাপ
যখন ঘুমিয়ে ছিলাম
নিজের অজ্ঞাতেই
ব্যর্থ অভিশাপ
মগের মুল্লুক না কি?
দুই বন্ধুর কথা
বেলাশেষে কখনও হয় কি সাধ
বেশ কিছুদূর এসে
দুলবে তারার মালা, হবে জয়ধ্বনি
তিনজন ঘোড়সওয়ার
সাম্প্রতিক এক নৈশ অভিজ্ঞতা
শুধু চাই স্পর্শ সাধনার
আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী, তোমাকে
দিগন্তের বুক চিরে
শকুন ও কোকিলের কাহিনী
তিনজন যুবকের গর্জে ওঠা
হাঁটছি হাঁটছি
গলে-যাওয়া দীর্ঘকায় লোক
আকাশে অনেক মুখ
হেঁটে হেঁটে বেশ কিছুদূর এসে
2 of 2
অন্ধকার থেকে আলোয়
জ্যোৎস্নামাখা মধ্যরাতে
সেই ভয়ঙ্কর মূর্তি
নিজেকে বুঝে নিতে চাই
আখেরে আঁধারে
মুছে যায় অপরূপ মেলা
অপরূপ চিরন্তন ঘ্রাণ
আমার অন্তর জুড়ে শহুরে-গ্রামীণ সুরধারা
ঢের পথ ঘুরে এক হ্রদের কিনারে
কেমন আলাদা, স্বর্গফেরা
কদাকার মূর্তির ভিতর থেকে
হীরা কি স্বর্ণ নেই
যুবক ও যুবতীর নিজস্ব ঋতু
বহুদিন আগে একজন বৃদ্ধ
একটি অনন্য মালা
শারদ বিকেলে, রাত্তিরে
এতকাল বৈঠা বেয়ে
কখনও কখনও মানুষেরই হাত
যেতে-যেতে বড় ক্লান্ত
মধ্যরাতে করুণ সুর
হাসে ক্রূর হাসি
অজানা পথের ধুলোবালি
প্রকৃত বোদ্ধা যদি
অন্ধকার থেকে আলোয়
এই তো দাঁড়িয়ে আছি
আকাশ এমন দ্রুত কেন কালো
মানব-মানবী
কখনও-সখনও
অথচ বেলা-অবেলায়
বাতাসে ভাসবে ঠিক
কীভাবে আমার উদ্ধার হবে?
কে তুমি আমাকে
শেষ চেয়ারের গদি ছেড়ে
দুলছে হাওয়ায় তাজ
প’ড়ে আছি রুক্ষ দ্বীপে
দিগন্তের বুক চিরে
খেলাচ্ছলে ভুল ক’রে
গুণী বন্ধু আনিসুজ্জামানের উদ্দেশে
সত্তা তাঁর সুর হয়ে যাচ্ছে ভেসে
আমার শহর, প্রিয়তম শহর
মেঘ থেকে মেঘান্তরে
ভোরবেলা ঘুম ভাঙতেই
যদি সে-পাখি বলে যেত
দেখছি এখন এই
কদাকার মূর্তির ভিতর থেকে
কবির কল্পনার মায়াবিনী
শাহ এম এস কিবরিয়ার মৃত্যু নেই
না বাস্তব না দুঃস্বপ্ন
বাড়িটা
সাক্ষাৎকার, মধ্যরাতে
অথচ নিজেই আমি
মঞ্চের মাঝখানে
বন্ধু তুমি অকম্পিত হাতে
তিনটি স্তবক
গুন খুন
কখনো কখনো
হৃদয় তোমার অপরাধ
ঘরের মাঝখানে
কারো একলার নয়
ছিলেন এক কবি
পথে যেতে যেতে
বুকের অসুখ
এখনো নিজেকে
গাঁও গেরামের কথা
একটি কাব্যগ্রন্থের প্রকাশনা উৎসব
শুচি হয়
চলেও আসতে পারে
কোমল গান্ধার
যার যার কাজ
দেখব কুড়ানো
কিংবদন্তি হয়ে
কতকাল পরে
বেশি বাকি নেই
এভারগ্রিন বাংলা লোগো
Previous Topic
Next Topic

না বাস্তব না দুঃস্বপ্ন

কবিতাসমগ্র ৪ – শামসুর রাহমান না বাস্তব না দুঃস্বপ্ন
Lesson Content
0% Complete 0/25 Steps
বাড়িটা
সাক্ষাৎকার, মধ্যরাতে
অথচ নিজেই আমি
মঞ্চের মাঝখানে
বন্ধু তুমি অকম্পিত হাতে
তিনটি স্তবক
গুন খুন
কখনো কখনো
হৃদয় তোমার অপরাধ
ঘরের মাঝখানে
কারো একলার নয়
ছিলেন এক কবি
পথে যেতে যেতে
বুকের অসুখ
এখনো নিজেকে
গাঁও গেরামের কথা
একটি কাব্যগ্রন্থের প্রকাশনা উৎসব
শুচি হয়
চলেও আসতে পারে
কোমল গান্ধার
যার যার কাজ
দেখব কুড়ানো
কিংবদন্তি হয়ে
কতকাল পরে
বেশি বাকি নেই
Previous Topic
Back to Book
Next Topic

Leave a Comment Cancel reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Login
Accessing this book requires a login. Please enter your credentials below!

Continue with Google
Lost Your Password?
এভারগ্রিন বাংলা লোগো
Register
Don't have an account? Register one!
Register an Account

Continue with Google

Registration confirmation will be emailed to you.