কল্যাণের বাঁশি

মাইল মাইল পথ পেরিয়ে এসেছি ক্লান্তি নিয়ে
ঘর্মাক্ত শরীরে এই বৃক্ষতলে। জনশূন্যতায়
জায়াগাটা থমথমে খুব, দাঁড়াবো কি
আবার এগিয়ে যাবো সামনের দিকে স্থির সিদ্ধান্তে পৌঁছুনো
বেজায় কঠিন হলো। শঙ্কা বৃশ্চিকের মতো করছে দংশন
ক্রমাগত আমাকে, ধোঁয়াটে মনে হয় সবকিছু।

আমাকে ডাকছে ধুধু পথ, কাছে টানছে সবুজ ঘাস আর
পাখি বলে, ‘যেও না পথিক কোনওখানে,
এখানেই বিশ্রামের স্থান বেছে নাও, পরে রাঙা সূর্যোদয়
তোমাকে দেখাবে পথ। পাখির গানের মতো কথা
আশার কুসুম স্নিগ্ধ সুরভি ছড়ায় মনে। বসি বৃক্ষতলে।

এখানেই এই বিয়াবানে অন্ধকারাচ্ছন্ন নিশীথের কাছে
কী পাবো প্রার্থনা করে? নিদ্রা লুট হয়ে যাবে বিচিত্র আওয়াজে,
অমূলক নয় দুর্ভাবনা, দূর নদীতীর থেকে
কোনও গূঢ় বার্তা আসবে না জানি, তবু
অমাবস্যা-রাতে চেয়ে থাকি, যদি শোনা যায় কিছু, যদি
কারও পদধ্বনি বেজে ওঠে রুক্ষ পথে।

অকস্মাৎ আমার হৃদয়ে জাগে অন্ধকার হননের গান
আর এই বিরানায় নিমেষেই চন্দ্রোদয় হয়
রাজসিক ভঙ্গিমায়। অশুভের ডঙ্কা যত জোরেই বাজুক,
কল্যাণের বাঁশি আমি বাজাবো নিশ্চিত সুন্দরের তালে তালে।
১৩.১২.২০০০