তার আগমন এবং প্রস্থান

কিছুক্ষণ ঘরে ব’সে থাকার পরেই জাঁহাবাজ অন্ধকার
আমাকে গ্রেপ্তার করে ওয়ারেন্ট ছাড়াই, বেজায়
ধমকাতে থাকে, আমি ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে চেয়ারের
হাতল আঁকড়ে ধরি। এ রকম বিদঘুটে আঁধার কখনো
নজরে পড়েনি বাস্তবিক। অকস্মাৎ কিয়দ্দূরে
অপরূপ আলোচক্র সৃষ্টি হয়। তিমির কাঁপতে থাকে খুব।

আলোচক্র থেকে ধীর পদক্ষেপে বেরিয়ে আসেন
নিঃশব্দে মহিমময় সুদীর্ঘ পুরুষ আর আমি
ইন্দ্রজাল-সম্মোহিত মানুষের মত
নিমেষে চেয়ার ছেড়ে সটান দাঁড়াই। দীর্ঘদেহী
পুরুষের, লক্ষ করি, পাঞ্জবি, বুকের
এলাকা ভীষণ রক্তময়, চোখ দুটি সমুজ্জ্বল ইতিহাসে।
একটিও শব্দ তিনি করেন না উচ্চারণ, শুধু
সুদৃঢ় তর্জনী তার উত্তোলিত আসমানে, যার
বুকে ফুটে আছে সংখ্যাহীন
জ্বলজ্বলে তারার মিছিল। সত্তা তার
মহান কবির মত একান্তে করছে উচ্চারণ
অনুপম পদাবলী সমুজ্জ্বল ভবিষ্যৎ আর প্রগতির।

ব্যাকুল জিজ্ঞাসু আমি কিছু জবাব পাওয়ার জন্যে
খানিক এগিয়ে যাই, কিন্তু তিনি আচানক উজ্জ্বলতা থেকে
ধোঁয়াটে কোথায় তার রক্তাক্ত চওড়া বুক আর মিনারের
মত উঁচু সাহসী শরীর নিয়ে চলে যান কোন্‌ অজানায়!
১৩-৮-২০০৩