ত্রঁদো ডোবা থেকে সামুদ্রিক মোহনায় যিনি

মহীয়সী সুফিয়া কামাল স্মরণে

আপনি প্রথম চোখ খুলে
পাড়াগাঁর আঁধার আঁতুড়্ঘরে দেখলেন না-জানা সামান্য
বস্তু কিছু। আপনার রাঙা
ক্ষুদে অস্তিত্বের নম্র রূপ নিমেষেই
কেড়েছিল মন সকলের। আপনার জন্মলগ্নে
কানের ভেতরে কোরানের সুরধরা যে মুরুব্বি তার
বিশ্বাসের দৃঢ়তায় বইয়ে দিয়েছিলেন, সেই সুর জেগেছিল
আপনার শেষ
চেতনাস্পন্দিত প্রহরেও, মনে হয়। ছিল না কি?

পাড়াগাঁর শ্যামনিমা, মধুর গোধূলি, জ্যোৎস্নারাত,
নদীর চঞ্চল ঢেউ, ঝোপঝাড় আপনার প্রিয় ছিল খুব।
যৌবনের ঊষালগ্নে সৌন্দর্যসন্ধানী দু’টি চোখ ঢাকা পড়ে
বোরখার আড়ালে, অথচ ব্যর্থ হয়
আপনার অন্তর্দৃষ্টি মুছে দিতে বোরখার কৃষ্ণ স্বৈরাচার। বাঙালির
ঘরে স্মিত ভূমিষ্ঠ হয়েও বহুদিন
মাতৃভাষা বনবাসে গেছে, উর্দুচর্চা
ছিল বটে আবশ্যিক! আপনি লুকিয়ে মাতৃভাষা
জপেছেন ক্ষণে ক্ষণে, গোপনে ফুটিয়েছেন রূপ
তার কিছু খাতার পাতায়। সেই থেকে
সাঁঝের মায়ার বীজ ক্রীড়াপরায়ণ
কিশোরীর ধরনে দিয়েছে উঁকিঝুঁকি।

নিজ গাঁয়ে প্রকৃতির বরিশালী রূপে অতিশয় মুগ্ধ হয়ে
কেটেছে জীবন কিছুকাল, বরং পশ্চাৎপদ পাড়াগাঁর
ছমছমে অন্ধকার মাথা কুটে মরেছে, পারেনি
কিছুতে দখল করতে আপনাকে কোনও ছলেবলে। ফুঁসে উঠে
এঁদো ডোবা আপনার যাত্রার উদ্যোগে ক্রুদ্ধ হয়ে
চেতনার দৃপ্ত ভেলা ভাসিয়েছিলেন ঝড়ক্ষুব্ধ
নদীতে, ভীরুতা আর সংকোচের বাধাগুলি গেছে উড়ে দূরে
দুরন্ত হাওয়ায় আর ভেলা ভিড়ে গেছে প্রগতির সামুদ্রিক
মোহনায়।
২২.১১.৯৯