৪৫
‘শুভম, পেনড্রাইভটা কতদূর?’ অর্জুন জিজ্ঞাসা করল।
শুভম কলকাতা পুলিশের সাইবার সেলের অফিসার। বয়স সবে তেইশ পেরিয়েছে। কৈশোর এখনও বুঝি তাকে ছেড়ে যায়নি পুরোপুরি। মুখখানা যেন সারল্যে মাখামাখি, শুধু চোখের দিকে তাকালে বোঝা যায়, এ ছেলে সাধারণ নয়। এই বয়সেই সে কলকাতা পুলিশের অ্যাসেট, একজন প্রতিভাবান এথিক্যাল হ্যাকার।
শুভম ল্যাপটপে মুখ গুঁজে ছিল। অর্জুনের ডাকে মুখ তুলে তাকাল একবার। তারপর আবার ল্যাপটপে দৃষ্টি ডোবাল। কালো স্ক্রিনে ঝড়ের বেগে কোড লিখে চলেছে তার হাত। আরও প্রায় দুই মিনিট পরে লেখা শেষ করে এন্টার কী টিপে চেয়ারে হেলান দিয়ে বসল। এ ছেলে সিনিয়ার জুনিয়ার বড়ো ছোটো একেবারেই মানে না। মাঝে মাঝে ভুলে যায়, সে কলেজে নেই, লালবাজারের লাল বিল্ডিং-এ বসে আছে। অর্জুনের দিকে তাকিয়ে বলল, ‘এ অর্জুনদা, ধুর, কী মাল গছিয়েছ মাইরি!’
অর্জুন এদিক-ওদিক তাকিয়ে চাপা গলায় বলল, ‘স্যার… অর্জুনদা নয় অফিসে।’
‘ধ্যাত্তেরিকি! জানো তো আমার ওসব আসে না। মনেও থাকে না। যাই হোক, তোমার ওই পেনড্রাইভ হেবিব ফালতু চিজ আছে অর্জুনদা। কে জানে কী অ্যাটম বোমার নকশা ভরে রেখেছে, পাসওয়ার্ডের পর পাসওয়ার্ড মেরে গেছে। তবে মানতে হবে, যে কাজটা করেছে, পাবলিক কাজ জানে ভালো। দারুণ কোড সেট করেছে,’ সপ্রশংস গলায় বলল শুভম।
‘শুভম, শুভম বাবা, কাজটা করে দাও তাড়াতাড়ি। সময় নেই। খুব আর্জেন্ট,’ কাতর কণ্ঠে বলল অর্জুন।
‘তোমরা তো সকলে আর্জেন্ট বলেই খালাস। এদিকে ইন্ডিয়ান কমার্শিয়াল ব্যাঙ্কে কাস্টমারদের অ্যাকাউন্ট থেকে বন্যার জলের মতো টাকা বেরিয়ে যাচ্ছে। সেই নিয়ে ওদিক থেকে দিনে বিশবার করে হুড়কো আসছে। কত দিক দেখি বলো তো?’ বলল শুভম।
অর্জুন জানে, এই মুহূর্তে শুভমকে হাতে রাখা ছাড়া গতি নেই। এই পেনড্রাইভের ব্যাপারটা পাঁচকান হোক, সেটাও চায় না অর্জুন। শুভম মুখে যাই বলুক, অর্জুন জানে শুভমের দায়িত্ববোধ দারুণ। আর ওর মতো এফিশিয়েন্ট হ্যাকার এই ডিপার্টমেন্টে কমই আছে। তাই বলল, ‘কেসটা হাত থেকে বেরিয়ে যাচ্ছে শুভম। কোনো ব্রেক থ্রু না পেয়ে কেস ক্লোজ করে দেওয়া হচ্ছে। এই পেনড্রাইভটা খোলা ভীষণ জরুরি। এর বেশি আর কী বলব? এবার সব তোমার হাতে। জানি তোমার উপরেও চাপ কম নয়। কিন্তু এটার গুরুত্ব যে কতটা আমি এই মুহূর্তে তোমায় বলতে পারছি না। তবে এটুকু বলতে পারি, এটার ভিতর যাই থাকুক, তার উপর অনেক কিছু নির্ভর করছে। অনেক কিছু, লিটারেলি।’
শুভমের বয়স কম হলেও সে বোকা নয়। এই ডিপার্টমেন্টে কাজ করতে গিয়ে পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝতে সে শিখেছে। মাথা নেড়ে বলল, ‘দেখছি। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব করার চেষ্টা করছি।’
অর্জুন বেরিয়ে এল অফিস থেকে। গন্তব্য রাজারহাট। ধনঞ্জয় মণ্ডলের ইতিহাস টাপুর খুঁড়ে বার করেছে। কিন্তু তার শেষ দিকের জীবন সম্পর্কে কোনো তথ্য জানা যায়নি এখনও। একাই থাকত। শেষের দিকে নাকি প্রায় সারাদিনই নেশায় ডুবে থাকত। পার্টি অফিসে যেত, টুকটাক কাজও করত। কিন্তু চোখ তার লালই থাকত। অর্জুন খবর নিয়ে জেনেছে এই অঞ্চলের দেশি মদের ঠেকগুলোই ছিল ধনঞ্জয় মণ্ডলের আস্তানা। অর্জুনের নিজস্ব সোর্স এসব অঞ্চলে অনেক আছে। এদের মধ্যে থেকেই দুজনকে লাগিয়েছিল ধনঞ্জয় মণ্ডলের ঠিকুজিকুষ্ঠি বার করার জন্য। আজ সকালেই তাদের মধ্যে একজন ফোন করেছিল। সেইজন্যই আজ এখানে আসা। হাল ছেড়ে দেওয়ার আগে একবার শেষ লড়াইটা লড়ে দেখতে চায় অর্জুন।
নিউটাউন অ্যাকশন এরিয়া ছাড়িয়ে রাজারহাটে ভিতরের দিকে প্রচুর দেশি মদের ঠেক। নির্বিচারে লাইসেন্স ছাড়াই চোলাই তৈরি হয়। পুলিশ অনেকবার ভাঁটি গুঁড়িয়ে দিয়েছে, লোক ধরে ধরে হাজতে পুরেছে। লাভ কিছু হয় না। ক’দিন সব শান্ত থাকে। তারপর আবার গজিয়ে ওঠে শুঁড়িখানা। এই অঞ্চলে নিম্নমধ্যবিত্ত লোকেদের বসবাস বেশি। খোঁজ নিলে এদের মধ্যে প্রায় সব পরিবারেই গড়ে অন্তত একজন করে মাতাল বেরোবেই বেরোবে। এলাকার মহিলারা মিলে বেশ কয়েকবার লোকাল এমএল-এর কাছে দরবার করেছে, নিজেরাই দলবেঁধে ঠেক ভেঙেছে। কিন্তু সকলেই জানে এই ঠেকগুলো গজিয়ে ওঠার পেছনে নেতা বিধায়কদের প্রচ্ছন্ন স্নেহচ্ছায়া থাকে। যে দলই ক্ষমতায় আসুক, এদের সংসারের পরিচিত চিত্র বদলায় না। এগুলো ছাড়াও লাইসেন্সপ্রাপ্ত শুঁড়িখানাও কম নেই এই অঞ্চলে। আবগারি শুল্ক থেকে সরকারের উপার্জনের একটা বড়ো অংশ আসে। সেই পথটা বন্ধ করার উপায় নেই। দিনের শেষে গলা অবধি মদ গিলে বাড়ি ফিরে বউ পেটানো এদের সংসারের চেনা ছবি। পুলিশ সবই জানে। কিন্তু কিছু করার নেই। এদের ডোমেস্টিক ভায়োলেন্সের কেসে থানায় তুলে নিয়ে গেলে মার খাওয়া বউ এসেই আদর করে ছাড়িয়ে নিয়ে যাবে।
নারায়ণপুর বাজার পেরিয়ে কিছুটা এগিয়ে গলির বাইরে গাড়ি দাঁড় করাল অর্জুন। এই সরু গলিতে গাড়ি ঢুকবে না। গাড়ি রেখে পায়ে হেঁটে গলির ভিতরে ঢুকল অর্জুন। দুটো বাড়ির পর একটা বড়ো পুকুর, সেটা পেরোলেই একটা ইটের ঘর। ঘরের গায়ে প্লাস্টার পড়েনি, মাথায় টালির ছাদ। দরজার সামনে একটা বাচ্চা মাটিতে ধুলোয় বসে খেলছিল। অর্জুনকে দেখে ছুটে ঘরের ভিতরে ঢুকে গেল। অর্জুন দরজায় টোকা দিল বারদুয়েক। খালি গায়ে লুঙ্গি পড়ে একজন লোক বেরিয়ে এল। অর্জুনকে দেখেই ‘ও স্যার, আপনি? এক মিনিট’ বলে আবার ভিতরে ঢুকে গেল। গায়ে একটা গেঞ্জি চড়িয়ে, তারপর গামছা দিয়ে মুখটা প্রায় ঢেকে বেরিয়ে এল প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই। একে অর্জুন চেনে। এর নাম মতিউর রহমান, পেশায় ড্রাইভার। ‘ছোট হাতি’ চালায়। ছোটো সাইজের ট্রাককে আদর করে এরা ছোটো হাতি বলে থাকে। বিভিন্ন কারখানা থেকে বিভিন্ন জায়গায় মাল সাপ্লাই করে। যখন বাড়িতে থাকে, গলা অবধি মদ গিলে পড়ে থাকে। মতিউরের আরেকটা গোপন পরিচয় আছে। সে পুলিশের খোঁচড়। বিভিন্ন সময়ে মাল সরবরাহের সূত্রে অনেক গোপন খবরও রাখতে হয় তাকে। ছোটো হাতির পেটের ভিতর সব মাল যে আইনত বৈধ হয় সবসময়, তেমন নয়। মতিউরের মতো অনেকেই গোপনে পুলিশের সোর্স হিসেবে কাজ করে। কাজটা বিপজ্জনক, ধরা পড়লে বেঁচে না ফেরার সম্ভাবনাই বেশি। তাই পুলিশও এদের পেছনে টাকা খরচ করে। সারা কলকাতা জুড়ে এ-রকম কয়েক হাজার খোঁচড় আছে। এরা কলকাতা পুলিশের একটা বড়ো শক্তি। এদের মধ্যে অনেকেই অসাধারণ প্রতিভাবান, জেমস বন্ডের বাবা। এরা সাধারণের মধ্যে মিশে থাকে, সময়ে-অসময়ে গোপন খবর দিয়ে পুলিশকে সাহায্য করে।
‘চলেন, স্যার,’ বলল মতিউর, ‘চলতে চলতে কথা কই।’
অর্জুন জানে মতিউর বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে পুলিশের সঙ্গে কথা বলতে চাইছে না। যদিও অর্জুন আজ সাদা পোশাকেই এসেছে, কিন্তু অর্জুনের মতো চেহারার লোক এ অঞ্চলে সচরাচর চোখে পড়ে না। ইতিমধ্যেই আশপাশ থেকে দু’-চারজন কৌতূহলী দৃষ্টিতে তাকাচ্ছে।
হাঁটতে হাটতে অর্জুন জিজ্ঞাসা করল, ‘লোকটা কে, মতিউর?’
‘ধনঞ্জয় সাহেবের খাস দোস্ত, স্যার। নাম আনিসুর ইসলাম। গেলাসের ইয়ার। বড়ো ট্রাক চালায়। সারা দেশে মাল সাপ্লাই করে। যখন এখানে থাকে, দুই জনে একসঙ্গে ঠেকেই পড়ে থাকত সারাদিন। গলায় গলায় ইয়ারি,’ চাপা গলায় বলল মতিউর।
কথা বলতে বলতে তারা গলির মুখে ফিরে এসেছে।
‘পাব কোথায়?’ সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন অর্জুনের।
লুঙ্গির খুঁট থেকে একটা চিরকুট বার করে দিল মতিউর। অর্জুন সেটা পকেটে চালান করে নিল। অন্য পকেট থেকে বেরিয়ে এল কয়েকটা গোলাপি নোট, সেটাও নিঃশব্দে চালান হয়ে গেল মতিউরের লুঙ্গির খুঁটের ভিতর। পুরো ব্যাপারটাই ঘটে গেল অত্যন্ত গোপনে, নীরবে। একটাও বাড়তি কথা না বলে অর্জুন গাড়িতে গিয়ে উঠল।
গাড়ির ড্রাইভার রতন ছেলেটার বয়স বেশি নয়। নতুন পুলিশে জয়েন করেছে কনস্টেবল ড্রাইভার হিসেবে। একটু বেশি ছটফটে, তবে বুদ্ধিমান। অর্জুন গাড়িতে উঠতেই জিজ্ঞাসা করল, ‘এখন কোথায় স্যার?’
‘সামনে এগিয়ে চলো। এদিকে আগে এসেছ কখনো?’ জিজ্ঞাসা করল অর্জুন।
‘হ্যাঁ স্যার, আমার বাড়ি তো এখানেই?’ হেসে বলল রতন।
‘এখানে? বাহ, তাহলে তো এদিকটা ভালোই চেনো নিশ্চয়ই।’
‘ঠিক এখানেই নয় স্যার, আরও সামনে, লাউহাটিতে আমার বাড়ি। তবে এদিকটা চিনি স্যার,’ বলল রতন।
অর্জুন পকেট থেকে বের করে চিরকুটটা দিল রতনের হাতে। দেখো তো, অ্যাড্রেসটা ঠিক কোথায়।
হাত বাড়িয়ে কাগজটা নিয়ে চোখ বুলিয়ে ফেরত দিল রতন। বলল, ‘এখানে যাবেন এখন?’
‘হ্যাঁ,’ বলল অর্জুন, ‘চেনো জায়গাটা?’
‘চিনি স্যার। চলুন।’
৪৬
ঘরেই ছিল আনিসুর। গতকাল রাতেই মাল খালি করে ট্রাক নিয়ে ফিরেছে বিহার থেকে। মালিকের শেলটারে ট্রাক জমা দিয়ে বাকি রাতটা মদ গিলে ভোরের বেলা ফিরে এসে হাত-পা ছড়িয়ে উঠোনে খাটিয়ায় শুয়ে ঘুমোচ্ছে। গালে অন্তত সাতদিনের না-কামানো কাঁচা-পাকা দাড়ি। হাঁ করা মুখের পাশ দিয়ে লালা গড়িয়ে শুকিয়ে সাদা খড়খড়ে হয়ে আছে। মাছি উড়ছে গোটা কয়েক। পরনের লুঙ্গি হাঁটু ছাড়িয়ে ঊরুর উপর বিপজ্জনকভাবে ঝুলছে। পাঁজরার হাড় ক’টা নিশ্বাসের তালে তালে ওঠা-নামা করছে।
একটি অল্পবয়সি মহিলা উঠোনের একপাশে এক কাঁড়ি বাসন মাজছিল। অর্জুনকে দেখে মাথার ঘোমটা টেনে জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে তাকাল। মহিলা সম্ভবত আনিসুরের মেয়ে হবে। অর্জুন বলল, ‘আপনার বাবাকে ডাকুন। কথা বলতে হবে।’
মেয়েটা উঠে দাঁড়াল। বয়স আন্দাজ আঠারো-উনিশ হবে। একবার অর্জুনের মুখের দিকে, একবার ঘুমন্ত আনিসুরের দিকে তাকাল। তারপর ফিক করে হেসে মৃদু গলায় বলল, ‘আমার মিঞা।’
অর্জুন অপ্রস্তুত। একবার আড়চোখে তাকাল আনিসুরের দিকে। লোকটার বয়স পঞ্চাশের কম কিছুতেই হবে না। এই বিবি ওর কত নম্বর পক্ষ কে জানে! এদিক-ওদিক তাকিয়ে গলা খাঁকরে বলল, ‘ডাকুন আপনার মিঞাকে।’
‘ডাকলে মারবে,’ আনিসুরের বিবির শঙ্কিত উত্তর।
‘মারবে না। আমি পুলিশ। ডাকুন,’ কড়া গলায় ধমক দিল অর্জুন।
আনিসুরের বিবির দৃষ্টিতে স্পষ্ট আতঙ্ক। এরা বরের মারকে যতটা না ভয় পায়, তার চেয়েও পুলিশের নামে ডরায়। তাড়াতাড়ি হাত ধুয়ে শাড়ির আঁচলে হাত মুছে উঠে দাঁড়াল বউটি। আনিসুরের পাশে গিয়ে মৃদু গলায় ডাকল, ‘শুনতাছেন? ওঠেন। পুলিশ আসছে। আপনার সঙ্গে কথা কইতে চায়। শুনেন মিঞা, ওঠেন।’
বেশ খানিকক্ষণ ডাকাডাকির পর বাধ্য হয়ে অর্জুনকেই আসরে নামতে হল। এঁটো বাসনগুলো ছড়ানো ছিল উঠোনের প্রান্তে। তারই একটাতে কল থেকে জল ভরে এনে আনিসুরের মুখের উপর উপুড় করে দিল। আনিসুরের বিবি আঁতকে উঠে এক লাফে তিন পা পিছিয়ে গেল। আর আনিসুর নিজে গাঁক গাঁক করে চেঁচিয়ে উঠে বসল।
‘কে? কে অ্যাঁ? কে?’
‘পুলিশ,’ গম্ভীর স্বরে বলল অর্জুন।
‘পুলিশ? ক্যান?’ ভুরু কুঁচকে জিজ্ঞাসা করল আনিসুর।
‘ধনঞ্জয় মণ্ডলকে চিনিস?’ জিজ্ঞাসা করল অর্জুন।
‘কে ধনঞ্জয় মণ্ডল? আমি চিনি না,’ ঘোঁৎঘোঁৎ করে বলল আনিসুর।
‘ভেবে দেখ চিনিস কি না। এখানে মনে পড়লে ভালো, নইলে থানায় তুলে নিয়ে যাব। কী করে মনে পড়াতে হয় খুব ভালো করে জানা আছে আমার। শালা, সারা বাংলা এখন চেনে ধনঞ্জয় মণ্ডলকে, আর তুই চিনিস না?’
‘চিনি না, বললাম তো!’ আবার ঘোঁৎঘোঁৎ।
‘চল তাহলে লালবাজারে। সেখানে মুরলি যাদব আছে, সিনিয়ার কনস্টেবল। যারা চেনা লোককে চিনতে পারে না, তাদের স্মরণশক্তি ফেরানোর স্পেশালাইজেশন আছে মুরলির। বেশি টাইম নেয় না ও,’ চিবিয়ে চিবিয়ে বলল অর্জুন।
‘কী জানেন কয়া দ্যান না,’ পাশ থেকে শঙ্কিত কণ্ঠে মিনমিন করে বলল আনিসুরের বিবি।
‘চোপ শালি, ‘চেঁচিয়ে উঠল আনিসুর, ‘যা ঘরের ভিতর যা। শুধু মদ্দমানুষ দ্যাখলেই সামনে আইস্যা দাঁড়ানো? তরে বলছি না পরদা করবি বাইরের লোকের সামনে?’
বউটি ব্যাজার মুখে ঘরের ভিতর ঢুকে গেল। অর্জুন সেদিকে একবার তাকিয়ে হাত বাড়িয়ে আনিসুরের গাল টিপে ধরল গায়ের জোরে। আনিসুরের মুখ খুলে গেল। অ অ করে জান্তব শব্দ করে উঠল। অর্জুন বলল, ‘বাড়ির মেয়েদের উপর পুরুষত্ব ফলাচ্ছিস শালা? চল থানায়, ওখানে তোকে শেখাব পুরুষ হওয়া কাকে বলে।’
আনিসুর বাঁকা চোখে একবার তাকাল অর্জুনের দিকে। তেমন ভয় পেয়েছে বলে বোধ হল না। বলল, ‘ছাড়েন কত্তা। একটা বিড়ি খাব।’
অর্জুন আনিসুরকে ছেড়ে দাঁড়াল। লোকটার সাহস আছে, পুলিশ দেখেও টলছে না। বিড়ি ধরিয়ে আনিসুর গলা চড়িয়ে আওয়াজ দিল ওর বিবিকে, ‘এ ছলমা, বাবুর জন্য মোড়া দ্যে যা।’
বউটির নাম সলমা। একমুখ ঘোমটা টেনে একটা বেতের মোড়া নিয়ে বেরিয়ে এল সে। উঠোনের উপর সেটা বসিয়ে রেখে আবার ফিরে গেল।
‘বসেন কত্তা,’ বিড়িতে টান মেরে বলল আনিসুর।
অর্জুন মোড়াটা টেনে বসল। পুরোনো মোড়া মড়মড় শব্দ করে তীব্র আপত্তি জানাল।
‘মণ্ডল দাদা ভালোমানুষ ছেল। আফনেরা তো তারে খুনি বানায়ে দিলেন,’ বলে বিষণ্ণ মুখে বিড়িতে টান দিল আনিসুর।
‘খুন করলে তো খুনিই বলে আনিসুর,’ বলল অর্জুন।
আনিসুর এবার চোখ তুলে জ্বলন্ত দৃষ্টিতে তাকাল অর্জুনের দিকে। বলল, ‘তাইলে তো কত্তা হ>লডিই খুনি। যারা যারা মণ্ডল দাদার ছেলেডারে খুন করল, তাদেরকে জেলে ঢোকান। পারবেন?’ মাথা নাড়ল আনিসুর। বলল, ‘জানি, পারবেন না। আফনেও জানেন আফনে পারবেন না। তারা তো বড়োলোক। কত ট্যাকা, ক্ষমতা। তারা দিনকে রাত, রাতকে দিন করতে পারে। মণ্ডলদাদার তো ট্যাকাও ছেল না, ক্ষমতাও না। আসলে কী জানেন কত্তা, আমরা হ>লেই মণ্ডলদাদার মতো। আমাদের কিছু নাই, কেউ নাই। আমাদের ছেলেপিলে জন্মায়। বরাত জোর থাকলে বাঁচে, নাইলে কুত্তা বিলাইয়ের মতো মরে। কেউ দেখতেও আসে না। আইজকে আফনে আসচেন কত্তা, যেইদিন ছেলেডারে বাঁচানোর জন্য হ>লের কাছে ট্যাকার জন্য ঘুরতেছেল মণ্ডলদাদা, আফনে, আফনারা কোথায় ছেলেন, কন দেখি। পারবেন কইতে? পারবেন না কত্তা। যাউক গিয়া, কী জানতে চান, জিগান। যতটুক জানি, কব।’
‘ধনঞ্জয়কে ছেলের চিকিৎসার জন্য টাকা কে দিয়েছিল?’ অর্জুন জিজ্ঞাসা করল।
‘আমি জানি না। জিজ্ঞাসা করছিলাম আমি মণ্ডলদাদাকে। বলে নাই নাম। কইল, ছেলেডাই যখন বাঁচল না, তখন আর নাম দিয়া কী অইব। শোকা তাপা মানুষ। ছেলের জন্য কান্না করত, আর মদ গিলত। কইত, হ>লডিরে দেইখ্যা নিবে। কইত, খুনিদের খুন করলে পাপ লাগে না। এই আমি আফনেরে কইতেসি কত্তা, উপরে গিয়ে দেখবেন, মণ্ডলদাদার জন্নত নসিব হইছে ঠিক। আর আফনের ওই অমিয় চক্কোত্তি জাহান্নমে পচব গিয়া।’
‘বাজে কথা বন্ধ করো,’ বলল অর্জুন, ‘ধনঞ্জয়ের সঙ্গে কেউ দেখা করতে আসত? পার্টির মধ্যে কারও সঙ্গে বেশি ভাব ছিল?’
আনিসুর একটু ভাবল। তারপর বলল, ‘কার সঙ্গে ভাব ছেল না ছেল আমি জানি না। কিন্তু যেইদিন অমিয় চক্কোত্তি মারা গেল, তার কয়দিন আগ থেইক্যে মণ্ডলদাদা চুপচাপ থাকত। আমি জিগাইলে কইত, সময় আইছে রে আনিসুর। সব হিসাব নিব। হিসাব তো নিতেই লাগত, শুধু ঠিক সময়ের অপিক্ষা।’
‘ঠিক সময়ের অপেক্ষা?’ কীসের ঠিক সময়? ভুরু কুঁচকে জিজ্ঞাসা করল অর্জুন।
‘তা জানি না। তবে একদিন মদের নেশায় কারে একটা ফোন করছিল মণ্ডলদাদা, আমার সামনেই করছিল। কারে জিগাইতেছিল, আর কতদিন দেরি? দাদার আমার রোগ অইসিল, মরণ রোগ। প্যাটে ক্যানছার। সব হিসাব কিতাব না মিটাইলে মণ্ডলদাদা মইরাও শান্তি পাবে না বলতেছেল ফোনে। অমিয় চক্কোত্তির মরার আগের দিন ঠেক থেইক্যা বেরায়তেছি, একটা ফোন আসল মণ্ডলদাদার। দাদা আমারে কইল, তুই বাড়ি যা আনিসুর। আমি তখন দূরে রাস্তায় পেচ্ছাপ করতে গেলাম। দূর থেইক্যাই দেখলাম একটা গাড়ির সামনে দাঁড়ায়ে আছে মণ্ডলদাদা। হাতে একটা লম্বামতো কীসের য্যানে বাক্স। গাড়িটা চইলা গেল। আমি আগায়ে গিয়া মণ্ডলদাদার পাশে গেলাম। জিগাইলাম, এইডা কী গো দাদা? মণ্ডলদাদা বাক্সটা লুকায়ে নিল জামার তলায়। এক ঝলক দেখলাম, বাক্সের উপর ফেলাসের ফোটোক।’
‘ফেলাস? সেটা কী?’ জিজ্ঞাসা করল অর্জুন।
‘ফেলাস। ফেলাস জানেন না? ওই যাইতে কইরা গরম চা, গরম জল রাখলে গরম থাকে। ওই ফেলাস।’
‘ফ্লাস্ক?’ অর্জুনের বিস্মিত প্রশ্ন।
‘হ্যাঁ, ওই… ফেলাস।’
অর্জুন রীতিমতো উত্তেজিত। ঘন ঘন নিশ্বাস পড়ছে ওর। জিজ্ঞাসা করল, ‘গাড়ির ভিতর কাউকে দেখেছিলে? কেমন গাড়ি? নম্বর মনে আছে?’
‘নাঃ, দেখি নাই কাউরে। আন্ধার ছেল। তয় গাড়িখান মনে আসে, কালো বড়োü গাড়ি। এসইউভি। নম্বর মনে নাই কত্তা।’
অর্জুন উঠে দাঁড়াল। পকেট থেকে কিছু টাকা বার করে আনিসুরের দিকে এগিয়ে দিল। আনিসুর সেই দিকে তাকিয়ে বলল, ‘টাকা নিব না কত্তা। আল্লাহর কসম, যা কইলাম মণ্ডলদাদার জন্য কইলাম। নাইলে, মাইরা ধইরাও আফনেরা এই আনিসুর মিঞার প্যাট থেইক্যা কথা বাইর কত্তে পারতেন না।’
আনিসুরের বাড়ি থেকে বেরিয়ে অর্জুনের গাড়ি বড়ো রাস্তায় এল। তার সন্দেহই ঠিক। ধনঞ্জয় মণ্ডল হয়তো অমিয় চক্রবর্তীকে খুনটা করেছে, কিন্তু এর পেছনে মাস্টারমাইন্ড ছিল অন্য কেউ, যে বিষমাখা ফ্লাস্ক আগের দিনই ধনঞ্জয়ের হাতে তুলে দিয়েছিল গোপনে? কে সে?
গভীর চিন্তায় ডুবে গেল অর্জুন। খেয়াল করল না একটা বাইকে কালো হেলমেট পরা একজন লোক গোপনে তার গাড়ি থেকে কিছুটা দূরত্ব বজায় রেখে তার পিছু নিয়েছে।
৪৭
‘আমরা এখন কোথায় যাচ্ছি টাপুরদি?’ জিজ্ঞাসা করলাম আমি।
‘রিদ্ধিমার সঙ্গে দেখা করতে। ওকে বাইপাসে একটা ক্যাফেটেরিয়াতে আসতে বলেছি,’ গাড়ি ড্রাইভ করতে করতেই উত্তর দিল টাপুরদি।
‘রিদ্ধিমা? কেন? সেই সবুজ ডায়েরি?’ জানতে চাইলাম আমি।
‘আমার কেন জানি না মনে হচ্ছে, রিদ্ধিমাকে আমরা ঠিকমতো এক্সপ্লোর করিনি।’
‘আমি ঠিক বুঝতে পারছি না তুমি কী বলছ? রিদ্ধিমা তোমার কাছে এসেছিল তন্ময়ের জন্য। এ ছাড়া রিদ্ধিমার সঙ্গে এই কেসের যোগ কোথায়?’
উলটোডাঙা ফ্লাইওভারের উপর দিয়ে চলছে আমাদের গাড়ি। টাপুরদি বলল, ‘যোগ আছে রে মিতুল। নিশ্চয়ই যোগ আছে। আর আমরা সেটাই মিস করে গেছি। কাল সারারাত আমি অনেক ভেবেছি। সব থ্রেড এসে রিদ্ধিমাতেই থামছে।’
‘আমি কিন্তু সত্যি কিচ্ছু বুঝতে পারছি না টাপুরদি। এনিওয়ে এখান থেকে আমাকে একটু অফিস যেতে হবে আজ। রিদ্ধিমার সঙ্গে কথা বলেই যাব না হয়,’ বললাম আমি।
‘আচ্ছা বেশ। যাস।’
‘রিদ্ধিমার ব্যাপারটা বুঝিয়ে বলো প্লিজ,’ বললাম আমি।
‘বলছি। সবুজ ডায়েরির ছবিগুলো না দেখলে ব্যাপারটা আমার মাথাতেও আসত না। সবুজ ডায়েরিটা তন্ময় পেয়েছিল রিদ্ধিমার বাড়ি শিফট করার সময় জিনিসপত্রের মধ্যে। তাই তো?’
‘হ্যাঁ,’ মাথা নাড়লাম আমি।
‘আর সেই ডায়েরিটা ছিল রিদ্ধিমার মায়ের, মানে মল্লিকা দাশগুপ্তর। মল্লিকা দাশগুপ্ত অমিয়বাবুর দলের বিরুদ্ধে লিখতেন। সুতরাং আমরা ধরে নিতে পারি ওই ডায়েরিতে এমন কিছু ছিল, যা অমিয় চক্রবর্তীর পলিটিক্যাল কেরিয়ারের ক্ষতি করতে পারত। কোনো অপরাধ, বা কোনো কুকীর্তির কথা যেটা সামনে এলে দলের ভাবমূর্তিতে কালি লাগতে পারে।’
‘আবার দেখ, তন্ময় ইউনিকর্নে যে প্রজেক্টে কাজ করছিল, সেটার উদ্দেশ্যও ছিল অমিয় চক্রবর্তীর অতীত হাতড়ে এ-রকমই কিছু তথ্য খুঁজে বার করা। রিদ্ধিমার বাড়ি শিফটিং-এর সময় ডায়েরিটা পড়ল তন্ময়ের হাতে। সেদিন তন্ময়ের বাড়ি থেকে আমরা সবুজ প্লাস্টিকের টুকরো পেয়েছিলাম মনে আছে? সেটা সম্ভবত এই ডায়েরিরই কভারের টুকরো। তন্ময় ডায়েরিটা পায় রিদ্ধিমার বাড়ি থেকে। উলটেপালটে সেটাকে দেখে বুঝল, সেটা সোনার খনি। ওই একটা ডায়েরি দিয়েই সে কেরিয়ারে উন্নতির শিখরে পৌঁছোতে পারে। উৎসাহের বশে সেই ডায়েরির কথা, এবং ডায়েরির তথ্য সম্পর্কে সে সুবিনয় মুখার্জিকে জানিয়ে দিল। আর ডায়েরিটা স্ক্যান করে সফট কপি বানিয়ে অফিসের ডেস্কটপে সেভ করে রাখল সে।’
‘কিন্তু তারপর তন্ময়ের মনে হল, সেই তথ্যগুলি সে সুবিনয় মুখার্জিকে দেবে না। সেই কারণে রাতের অন্ধকারে এজেন্সিতে ঢুকে তন্ময় সিস্টেম থেকে ফাইলটা ডিলিট করে দিল। নিজের কাছে একটা কপি রাখল পেনড্রাইভে।
‘এবার প্রশ্ন হল, তন্ময় কেন হঠাৎ মত বদলাল?’ প্রশ্ন করল টাপুরদি।
‘কেন?’ আমি জিজ্ঞাসা করলাম।
‘আমি তোর কাছে জানতে চাইছি, আর তুই উলটো আমাকেই জিজ্ঞাসা করছিস? মাথাটা খাটা। নিজে ভাব।’
বুঝলাম টাপুরদি এখন আর কিছু বলবে না। গাড়ির জানালা দিয়ে বাইরের দিকে তাকিয়ে ভাবতে লাগলাম, কেন তন্ময় ফাইলটা সরিয়ে নিল? যদি সত্যিই সেরকম গুরুত্বপূর্ণ কোনো তথ্য থেকে থাকে ওই ফাইলে, তাহলে ওর চাকরিতে উন্নতি, ইনক্রিমেন্ট বাঁধা ছিল। তবে কেন?
হঠাৎ একটা চিন্তা বিদ্যুৎচমকের মতো মাথায় খেলে গেল। বললাম, ‘আচ্ছা টাপুরদি, তন্ময় নিজেই অমিয়বাবুকে ব্ল্যাকমেল করতে চায়নি তো? মনে করো, এমনও তো হতে পারে যে ও নিজেই অমিয়বাবুকে ব্ল্যাকমেল করতে গেছিল। এমন সময় অমিয়বাবু খুন হয়ে গেলেন। এদিকে সুবিনয় মুখার্জিও ওকে খুঁজছে। বাধ্য হয়েই তন্ময় গা-ঢাকা দিল।’
টাপুরদি একটুক্ষণ চুপ করে রইল। তারপর বলল, ‘এই তো তোর মাথা খুলছে। আপাতত এই সম্ভাবনাটার কথাই গত ক’দিন ধরে আমারও মাথায় ঘুরছে রে। রিদ্ধিমা যত সহজভাবে কথাটা আমাদের কাছে বলেছে, সেটা নাও হতে পারে। এখন মনে হচ্ছে সেটা না হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। তুই ঠিক বলেছিস। অমিয়বাবুর মৃত্যুর পর হয়তো ওরা ভয় পেয়ে গেছিল। তাই রিদ্ধিমা আমার কাছে এসেছিল।’
‘এত শিয়োর হচ্ছ কীভাবে তুমি?’
‘শিয়োর হচ্ছি না ঠিক। তবে তুই খেয়াল করে দেখলে দেখবি, তন্ময়ের অনুসন্ধানের ব্যাপারে শুরুতে রিদ্ধিমার যত আগ্রহ ছিল, ততটা এখন আর নেই। এর দুটো কারণ হতে পারে। এক, তন্ময়ের প্রতি রিদ্ধিমার প্রেমে চিড় ধরেছে। আউট অব সাইট, আউট অব মাইন্ড আর কী! দুই, রিদ্ধিমা জানে তন্ময় কোথায় আছে। কিন্তু সেই কথাটা সরাসরি আমায় জানিয়ে আমায় আর এগোতে মানা করতে পারছে না যেহেতু পুলিশের সঙ্গে আমার যোগাযোগ আছে।’
রিদ্ধিমা আমাদের আগেই ক্যাফেটেরিয়াতে উপস্থিত হয়েছে দেখলাম। আমাদের দেখে উঠে দাঁড়াল। মুখ শুকনো হলেও আগের দিনের মতো বিধ্বস্ত বলে মনে হল না। টাপুরদিকে দেখে ফিকে হাসল। বলল, ‘কোনো খবর পেলেন?’
টাপুরদি রিদ্ধিমার কথার জবাব না দিয়ে প্রশ্ন করল, ‘সবুজ ডায়েরিটাতে কী ছিল রিদ্ধিমা?’
রিদ্ধিমাকে ভগ্নাংশ মুহূর্তের জন্য যেন কিছুটা অপ্রস্তুত লাগল। তারপর বলল, ‘আমি জানি না। মায়ের জার্নালিজমের ব্যাপারে আমার কোনো আগ্রহ ছিল না কোনোদিনই।’
‘হতে পারে। কিন্তু তন্ময় ডায়েরিটা পড়ে নিশ্চয়ই আপনাকে জানিয়েছিল কিছু?’ রিদ্ধিমার চোখে চোখ রেখে জিজ্ঞাসা করল টাপুরদি।
‘না, আমায় ও কিছু জানায়নি। কেন বলুন তো? ওই ডায়েরির ব্যাপারে কেন জিজ্ঞাসা করছেন? ডায়েরির সঙ্গে তন্ময়ের অন্তর্ধানের কী সম্পর্ক?’ জিজ্ঞাসা করল রিদ্ধিমা।
‘রিদ্ধিমা, আপনি সত্যিই কিছু জানেন না, এটা ঠিক বিশ্বাসযোগ্য নয়’, টাপুরদি বলল।
রিদ্ধিমা টাপুরদির মুখের দিকে চেয়ে রইল কিছুক্ষণ। তারপর বলল, ‘আপনার কী ধারণা মিস ব্যানার্জি? আমি সব জেনেশুনে তন্ময়ের জন্য আপনার কাছে গেছিলাম? হ্যাঁ এটা ঠিক যে ওই ডায়েরিটা তন্ময় পড়ছিল সেদিন, কিন্তু সেটা যে সত্যিই ততটা গুরুত্বপূর্ণ কিছু তা আমায় বলেনি। আর সত্যি বলতে কী, আমার নিজের এখনও মনে হয় না ওটা নিয়ে বেশি ভাবার কিছু আছে। আপনি কেন ডায়েরিটাকে এত গুরুত্ব দিচ্ছেন বুঝতে পারছি না।’
টাপুরদি একদৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে রিদ্ধিমার মুখের দিকে, যেন ওর মনের ভিতরটা পড়ে নিতে চাইছে। তারপর বলল, ‘রিদ্ধিমা, একটা কথা বলি আপনাকে। তন্ময়ই যেখানেই থাকুক, ও কিন্তু সুরক্ষিত নয়। সুতরাং যদি ওর ভালো চান, দয়া করে কিছু লুকোবেন না আমার থেকে।’
৪৮
‘যতক্ষণ রিদ্ধিমা আমাদের সঙ্গে কথা বলছিল, রাস্তার উলটোদিকে একটা কালো এসইউভি দাঁড়িয়ে ছিল, খেয়াল করেছিস?’ জিজ্ঞাসা করল টাপুরদি।
‘হ্যাঁ, আমি প্রথমে খেয়াল করিনি। পরে দেখলাম, রিদ্ধিমা বার বার আড়চোখে ক্যাফের কাচের দেওয়াল দিয়ে বাইরের দিকে তাকাচ্ছে। চোখে-মুখে অস্বস্তি। তখনই দেখলাম। রিদ্ধিমা বেরিয়ে ক্যাব ধরতেই গাড়িটাও ওকে ফলো করল,’ চিন্তিত মুখে বলল টাপুরদি।
‘মাই গড। ব্যাপারটা যথেষ্ট সিরিয়াস তাহলে। কেউ রিদ্ধিমাকে কন্সট্যান্ট ফলো করছে, এবং রিদ্ধিমা সেটা জানে। বাই দ্য ওয়ে, গাড়ির নম্বরটা দেখেছিলে তুমি?’ জিজ্ঞাসা করলাম আমি।
টাপুরদি বিমর্ষমুখে বলল, ‘সেটাই তো দেখতে পেলাম না।’
আমরা ক্যাফেতেই বসে বসে কথা বলছিলাম। রিদ্ধিমা উঠে গেছে মিনিট পাঁচেক আগে। লক্ষ করছিলাম, খুব যেন ব্যস্ত ও। কথা বলাতেও অনীহা। যেন উঠতে পারলে বেঁচে যায়। টাপুরদি কথা বাড়ায়নি আর। বিল মিটিয়ে উঠে পড়লাম।
‘বললাম এই কালো গাড়ির খবর কোত্থেকে পাওয়া যাবে এখন?’ জিজ্ঞাসা করলাম আমি।
‘দেখি। অর্জুনকে মেসেজ করলাম। আমাদের সন্দেহভাজনদের তালিকায় কারও কালো এসইউভি আছে কি না দেখতে হবে।
আমি বললাম, ‘দেখলে তো, অর্জুনদা কত সাহায্য করে তোমায়। আর তুমি খালি ঝগড়া করো অর্জুনদার সঙ্গে।’
‘তবে রে? আমি ঝগড়া করি? আর ও কিছু করে না?’ ছদ্ম রাগ দেখিয়ে বলল টাপুরদি।
‘যাক, আর কথা নাই বা বাড়ালাম,’ বলে হাসলাম আমি, ‘এবার বলো, নেক্সট কোথায়?’
ফোন বাজছে টাপুরদির। অর্জুনদার ফোন। ফোন কানে নিয়ে বলল, ‘হ্যাঁ বলো।’
বার কয়েক হুঁ-হাঁ করে বলল, ‘এখানেই ছিল। সম্ভবত রিদ্ধিমাকে ফলো করছে।’
এর পরে আবার হুঁ-হাঁ।
‘ঠিক আছে। আর হ্যাঁ শোনো, আরেকটা কাজ করতে হবে তোমায়। অনিমেষবাবু, মানে অম্লানবাবুর শ্বশুরের ব্যাঙ্ক ডিটেলসের খোঁজ নাও প্লিজ। ধনঞ্জয়ের ছেলে যখন মারা যায়, সেই সময় দিয়ে কোনো বড়ো অ্যামাউন্ট ট্রান্সফার বা উইথড্র হয়েছে কি না একটু দেখো,’ বলে ফোন রাখল টাপুরদি।
‘কী হল?’ আমি জিজ্ঞাসা করলাম।
‘অর্জুন বলল, অমিয় চক্রবর্তীর মৃত্যুর আগের রাতে কেউ একজন ধনঞ্জয় মণ্ডলকে একটা ফ্লাস্ক দিয়েছিল। সে কালো এসইউভি করে এসেছিল। প্রত্যক্ষদর্শী আছে, যদিও সে গাড়ির ভিতরের লোকটিকে দেখেনি।’
ক্যাফের বাইরে আবার এগোতে যাব, টাপুরদির ফোনটা আবার বেজে উঠল। স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে টাপুরদির ঠোঁটের কোণে স্মিতহাসি ফুটে উঠল। মিনিটখানেক ফোনে কথা বলে ফোন রেখে আমার দিকে তাকিয়ে বলল, ‘তুই তো অফিস যাবি!’
‘হ্যাঁ গো, আজ যেতেই হবে। জরুরি মিটিং আছে। না গেলেই নয়। ফিরতে রাত হবে আমার। অর্জুনদা আর কিছু বলল?’
‘হুম। বলছে, অমিয়বাবুর মৃত্যুর দিন সন্ধে নাগাদ বিনয় বোসের গাড়ি আবার ফিরে এসেছিল পার্টি অফিসের সামনে। বিনয়বাবু গাড়ি থেকে নেমে ভিতরে যান। পাঁচ মিনিট পরে বেরিয়ে আবার গাড়িতে উঠে চলে যান,’ বলল টাপুরদি।
‘সে কী? এটা কীভাবে জানা গেল?’ জিজ্ঞাসা করলাম আমি।
‘পার্টি অফিস থেকে কিছু দূরে একটা সুপারস্টোর আছে। তার গেটের সিসিটিভি ফুটেজ থেকে দেখা গেছে বলল অর্জুন।’
‘মাই গড! তাহলে কি বিনয় বোসই…?’
‘জানি না রে। কী করে বলি। আজ অর্জুন এখন দেখা করতে যাচ্ছে বিনয় বোসের সঙ্গে। ওর কথা হলে জানতে পারব,’ একটু চিন্তিত মুখে বলল টাপুরদি।
‘তুমি যাবে?’ জানতে চাইলাম আমি।
‘নাহ, আমি অন্য এক জায়গায় যাব এখন,’ টাপুরদি বলল।
‘কোথায় যাবে?’
‘মৃণালবাবুর বাড়ি,’ বলল টাপুরদি, ‘ফোন করেছিলেন তিনি। দেখা করতে চান।’
‘কেন? কিছু বললেন?’
‘না। বললেন, আমরা সেদিন আসার পর থেকে তিনি পুরোনো দিনগুলির কথা ভাবছিলেন। কিছু কথা মনে হয়েছে আমাদের জানানো দরকার। তাই ডাকলেন,’ বলল টাপুরদি।
‘ইশ, আমি থাকতে পারব না। রাতে এসে সব শুনব,’ মন খারাপ করে আমি বললাম।
‘আমি তোকে অফিসে ড্রপ করে তারপর যাচ্ছি,’ টাপুরদি বলল।
‘না না, আমি ক্যাব নিয়ে চলে যাব। তুমি দেরি কোরো না, তাড়াতাড়ি যাও,’ আমি বললাম।
সারাদিন অফিসে কাজে মন বসল না। বিকেল নাগাদ টাপুরদিকে ফোন করলাম দু’বার। টাপুরদি ফোন ধরল না। সন্ধে সাড়ে সাতটা নাগাদ টাপুরদির ফোন এল।
‘হ্যাঁ, বলো। কী ব্যাপার? কী বললেন মৃণালবাবু?’ জিজ্ঞাসা করলাম আমি।
‘সেসব পরে হবে। তুই কখন ফিরবি?’
‘কেন বলো তো? একটু দেরি হতে পারে,’ বললাম আমি।
‘সুনয়না চক্রবর্তী দেখা করতে ডেকেছেন,’ ফোনের ওপার থেকে বলল টাপুরদি।
‘বলো কী? সুনয়না চক্রবর্তী? কেন? সকালে মৃণাল দত্ত, রাতে সুনয়না চক্রবর্তী, সকলে ডাকাডাকি করছে কেন?’ আমি প্রশ্ন করলাম।
‘বললেন, সেদিন ভালো করে আলাপ হয়নি আমাদের সঙ্গে। আমাদের সঙ্গে আলাপ করতে চাইছেন,’ বলে হাসল টাপুরদি।
‘অ্যাঁ, সে আবার কী?’
‘আরেকটা খবর দিই তোকে। তিনটে কালো এসইউভির খবর পাওয়া গেছে। একটা সুবিনয় মুখার্জির নিজস্ব গাড়ি। দ্বিতীয়টা অমিয়বাবুর পার্টি অফিসের। গাড়িটা যার নামে রেজিস্টারড সেই শ্যামল ঘোষ অমিয়বাবুর পার্টির লোক ছিলেন। এখন আর রাজনীতি করেন না। গাড়ির রেজিস্ট্রেশন তাঁর নামে থাকলেও গাড়িটা পার্টির টাকায় কেনা, পার্টির কাজেই ব্যবহার হয়। এ-রকম আরও কয়েকটা গাড়ি আছে যেগুলি পার্টি অফিসের নিজস্ব গাড়ি। আর আরেকটা কালো এসইউভির খবর পাওয়া গেছে, সেটা বিনয় বোসের স্ত্রীর নামে রেজিস্টারড। এ ছাড়াও সনাতন বিশ্বাসের বিশ্বস্ত অনুগামী বিধায়ক দিনেশ হাজরার একটা কালো এসইউভি আছে।’
‘রহস্য সমাধানের তো কোনো লক্ষণই দেখছি না। বরং যতদিন যাচ্ছে, আরও যেন জটিল হয়ে যাচ্ছে ব্যাপারটা,’ বললাম আমি।
‘হুম,’ টাপুরদি বলল, ‘আমি ন’টা নাগাদ বেরোব। তুই তার আগে বাড়ি আসতে পারবি?’
‘চেষ্টা করছি,’ বললাম আমি।
৪৯
‘অমিয় চক্রবর্তী যেদিন মারা যান, সেদিন আপনি গিয়েছিলেন তাঁর সঙ্গে দেখা করতে?’ কলকাতা পুলিশের ডিসিডিডি সৌরভ সান্যাল জিজ্ঞাসা করলেন বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী বিনয় বোসকে। বিনয় বোসের মতো নেতা ও প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদ করার দায়িত্বটা ডিসিডিডি নিজেই নিয়েছেন। অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিয়ে আজ তিনি এসেছেন বিনয় বোসের বাসভবনে। সঙ্গে আছেন অফিসার অর্জুন রায়।
‘হ্যাঁ, গিয়েছিলাম। সে তো আমি আগেই জানিয়েছি,’ বললেন বিনয় বোস, ‘তা অমিয়র খুনের কেসটা তো মিটে গেছে বলে শুনেছি। আবার কী হল?’
‘সেরকম কিছু নয়,’ বললেন সৌরভ সান্যাল, ‘কেস ক্লোজ করার আগে একটু নিশ্চিত হয়ে নেওয়া, এই যা।’
‘অ, তা কী জানতে চান বলুন,’ জিজ্ঞাসা করলেন বিনয় বোস।
‘আপনি সেদিন ক’টা নাগাদ গেছিলেন অমিয়বাবুর সঙ্গে দেখা করতে?’
‘ওই সাড়ে চারটে-পাঁচটা হবে,’ বললেন বিনয় বোস।
‘কী কথা হয়েছিল অমিয়বাবুর সঙ্গে?’
‘সেটার সঙ্গে আপনার কেসের কী সম্বন্ধ?’ ভুরু কুঁচকে জিজ্ঞাসা করলেন বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী বিনয় বোস।
‘উত্তর দিতে অসুবিধে থাকলে দেবেন না। কিন্তু এটা আসলে একটা খুনের কেস কি না, বুঝতেই তো পারছেন, উত্তরটা ঠিকঠাক না দিলে কেস আরও জটিল হয়ে যাবে। কে যে কীভাবে কোথায় জড়িয়ে পড়ে, তখন না আপনাকে নিয়েও টানাটানি পড়ে যায়,’ নির্লিপ্ত মুখে বললেন সৌরভবাবু।
‘আপনি কি আমাকে থ্রেট করছেন? মনে রাখবেন, গদিতে নেই বলে যে আমার হাতে একটুও ক্ষমতা নেই, তা কিন্তু নয়। এখনও আমি আমাদের পার্টির নেতা। একটা আওয়াজ দিলে লাখে লাখে অনুগামীরা আপনাকে ওই লাল বাড়ি থেকে টেনে বের করে ইউনিফর্ম ছিঁড়বে, সেটা মনে রাখবেন,’ বিনয় বোসের দৃষ্টিতে ক্রুরতা ঝিলিক দিয়ে উঠল।
সৌরভ সান্যাল ঠান্ডা মাথার লোক। সৎ অফিসার বলে ডিপার্টমেন্টে তার যথেষ্ট সুনাম। কিন্তু এই মুহূর্তে তার চোখে অবিমিশ্র ক্রোধ দেখতে পেল অর্জুন। সৌরভ সান্যাল চিবিয়ে চিবিয়ে বললেন, ‘সেসবই ঠিক আছে বিনয়বাবু। সে আপনি করতেই পারেন। এর আগেও করেছেন। এর আগেও আপনার লোকেরা অমিয় চক্রবর্তী, অম্লান চক্রবর্তীর উপর হামলার চেষ্টা করেছে। হলদিয়ার মিটিং-এ যাওয়ার পথে অমিয় চক্রবর্তীর গাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে। আপনার সেইসব সো-কল্ড অনুগামীরা কিন্তু পুলিশের ডান্ডা খেয়ে স্বীকার করেছে যে সেসব তারা আপনার আদেশেই করেছে। এখন যখন বিরোধী দল ক্ষমতায়, তখন সেইসব ফাইল আবার খোলা হতেই পারে।’
বিনয় বোসের চোখে ভয়ের ছায়া দেখা গেল না বিন্দুমাত্র। হেসে বললেন, ‘আরে অফিসার, এর নাম রাজনীতি। আমার এখন বয়স তিয়াত্তর। পঞ্চাশ বছরের বেশি সময় ধরে রাজনীতি করছি। বিনয় বোস আপনার এসব ধমকিতে ভয় পায় না। আপনি এর থেকে যত দূরে থাকবেন, ভালো থাকবেন। যাই হোক, কী জানতে এসেছিলেন বলুন।’
‘হুম, সোজাসুজি কাজের কথায় যাওয়াই ভালো,’ বললেন সৌরভ সান্যাল, ‘অমিয় চক্রবর্তী যেদিন খুন হন, সেদিন আপনি পাঁচটা নাগাদ তাঁর অফিসে গেছিলেন। তার সাক্ষী অনেক আছে। কিন্তু সেদিন আপনি একবার নয়, দুইবার গেছিলেন ওই অফিসে। দ্বিতীয়বার গেছিলেন ছ’টা বেজে পঞ্চাশ মিনিটে। তখন অফিসে অমিয়বাবু ছাড়া আর কেউ ছিল না।’
বিনয় বোস একদৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলেন সৌরভবাবুর দিকে। তারপর বললেন, ‘হ্যাঁ গিয়েছিলাম। তাতে কী প্রমাণ হল?’
‘এখনও কিছু প্রমাণ হয়নি। কিন্তু হতে কতক্ষণ? জানেন বোধ হয়, পোস্ট মর্টেম রিপোর্ট অনুসারে অমিয় চক্রবর্তীর মৃত্যুর সময় সন্ধে সাড়ে ছ’টা থেকে রাত সাড়ে ন’টার মধ্যে?’
বিনয় বোস একটু চুপ করে থেকে বললেন, ‘জানি।’
‘এর আগে আপনাকে যতবার ইন্টারোগেট করা হয়েছে, আপনি একবারও বলেননি দ্বিতীয়বার যাওয়ার ব্যাপারটা। কেন বিনয়বাবু?’
‘আমি আমার সিগারের বাক্সটা ফেলে এসেছিলাম অমিয়র অফিসে। সেটাই ফেরত নিতে গেছিলাম পরে,’ বললেন বিনয়বাবু।
নড়েচড়ে বসলেন সৌরভ সান্যাল। জিজ্ঞাসা করলেন, ‘তা দেখা হয়েছিল অমিয়বাবুর সঙ্গে?’
দুই পাশে মাথা নাড়লেন বিনয় বোস। বললেন, ‘সেদিন দ্বিতীয়বার অফিসে পৌঁছে দেখি, অফিস কেমন খাঁ-খাঁ করছে। সরকারি সিকিউরিটি টিমের কাউকে দেখলাম না। কাউকে দিয়ে যে ভিতরে খবর পাঠাব, সেরকম কেউ ছিল না। আমি নিজেই ভিতরে ঢুকি। অমিয়র কেবিনের দরজা ভিতর থেকে বন্ধ ছিল। অনেকক্ষণ ধাক্কাধাক্কি করেও কারও সাড়া পাওয়া যায়নি। বাধ্য হয়ে ফিরে আসি আমি।’
‘এই কথাগুলো আপনার পুলিশকে জানানো উচিত ছিল আগেই,’ বললেন সৌরভ সান্যাল।
‘শুধুমুধু ঝামেলায় জড়াতে চাইনি আমি,’ বললেন বিনয় বোস।
‘ঝামেলায় তো আপনি ইচ্ছেয় হোক বা অনিচ্ছেয় হোক, জড়িয়েই গেছেন। আপনি যে সেদিন দ্বিতীয়বার অমিয়বাবুর অফিসে গেছিলেন, তার প্রমাণ পুলিশের কাছে আছে। শহর ছেড়ে কোথাও যাবেন না। আর হ্যাঁ, আপনার দলের লোকেদের বলবেন, পুলিশের ইউনিফর্মে হাত পড়লে তাদের গায়ের চামড়া টেনে ছিঁড়তে পুলিশ বিন্দুমাত্র দয়ামায়া দেখাবে না।’
