আবেগ, আয়না, বেডসোর

আবেগ, আয়না, বেডসোর

ইংরেজিতে নিজের নাম লেখার সময় তনুশ্রী এখন একটা অতিরিক্ত ‘ই’ লাগায়। একজন জ্যোতিষী-কাম-সংখ্যাতত্ত্ববিদ ওকে বলেছেন ওই অতিরিক্ত ‘ই’ ওর শ্রী ফেরাবে। কিন্তু তার কোনও চিহ্ন আপাতত তনুশ্রী দেখতে পাচ্ছে না। চারপাশ বড় রুক্ষ, রূঢ়, বিশ্রী হয়ে আছে।

এই এখন যেমন ‘বনশল অ্যাসোসিয়েটস’-এর বাইরের সোফায় ও একা বসে আছে। এমডি-র ঘরের বাইরের লাল আলো জ্বলছে তো জ্বলছেই। কীসের এত মিটিং হচ্ছে কে জানে! একজন বেয়ারা সামনে দিয়ে হন্তদন্ত হয়ে বেরিয়ে যাচ্ছিল, তনুশ্রী তাকে অঙ্গভঙ্গি দিয়ে কাছে ডাকতে না পেরে মুখভঙ্গি করে কাছে ডাকল। লোকটা হাতের ইশারায় বুঝিয়ে গেল সাহেবকে কার্ড দেওয়া আছে, যখন ডাকার ঠিক ডেকে নেবে।

তনুশ্রী জানে, এই লাইনে কেউ ডাকে না, ডাক পাড়িয়ে নিতে হয়, তার জন্য নিত্যনতুন কলা শিখতে হয়। আপাতত সেটাই শিখছে তনুশ্রী, যতদিন পর্যন্ত না মোটামুটি ভাল একটা চাকরি জোটে।

তুমি ছেড়ে দেবে চাকরিটা? এই বাজারে এর চেয়ে ভাল অপশন তোমার হাতে আছে? অনিরুদ্ধ জিজ্ঞেস করেছিল সেদিন।

অপশন থাক বা না থাক আমি ছাড়বই। খেটে খেটে মরব আমরা, আর মাইনে পাবে অন্য লোক! অনেক হয়েছে বস, আর না, তনুশ্রী উত্তেজিত গলায় উত্তর দিয়েছিল।

দ্যাখো, মাইনে আমিও পাচ্ছি না। কিন্তু পাব এই আশাটা আছে। আর যখন পাব তখন এখন যা পাওয়ার কথা তার চেয়ে বেশিই পাব। তাই তোমাকে বলছি… অনিরুদ্ধ কথা শেষ করল না।

তুমি পাচ্ছ না, আমি পাচ্ছি না, কিন্তু মৈনাক পালরা তো পাচ্ছে।

বুলবুলি, সিক্তারাও তো পাচ্ছে তনুশ্রী? অনিরুদ্ধ চোখ ছোট করে বলল।

হ্যাঁ, কেন পাচ্ছে ওরা?

কেন পাচ্ছে সেটা তুমিও জানো, আমিও জানি। কিন্তু একটা কথা গোপনে তোমাকে বলি, ওরাও পুরোটা পাচ্ছে না। আর সামনের মাসে আমরা যখন এক থেকে অনেকটা টাকা পাব তখন ওরা দাঁড়িয়ে আঙুল চুষবে। হ্যাঁ, মৈনাক পালের কথা আলাদা। ও বড় জায়গা থেকে এখানে এসে জয়েন করেছে।

কিন্তু আমার তো টাকার দরকার অনিরুদ্ধদা। বাড়িতে দুটো আয়া রাখতে হচ্ছিল, এ মাস থেকে তাও একটা করে দিয়েছি। রাতে মা একটুও ঘুমোতে পারে না। এরকমভাবে কতদিন চলবে বলো তো?

তোমার বাবা এখনও…

একই রকম। মুখটা বেঁকে গেছে ডানদিকে আর শরীরটা একটা পেনসিলের মতো পড়ে থাকে বিছানায়। বেডসোর হতে শুরু করেছিল। তবে সেটা গুচ্ছের পাউডার ঢেলে মলম মাখিয়ে বন্ধ করা গেছে।

আমি তোমার অবস্থা বুঝতে পারছি তনুশ্রী। কিন্তু তবু তোমাকে একটা কথা বলব?

কী কথা?

অনিরুদ্ধ একটু চুপ করে থেকে বলল, সবরকম বেডসোরেই অল্প করে পাউডার ঢালতে শেখো তনুশ্রী।

মানে?

মৈনাক পালদের বিরুদ্ধে অত বেশি মুখ খুলো না৷

খুলব না, মানে? আমাকে নাইট শিফট দেবে কেন প্রতিদিন? আমার বাবা বিছানায় পড়ে আছে, রাতের আয়া রাখা সম্ভব নয়। মা একা পারে?

তোমার দাদা ছিল না?

এখনও আছে। কিন্তু সে বিয়ে করে বউ নিয়ে ভেগে গেছে।

কী করেন তোমার দাদা?

কী আবার করবে? পঞ্চপ্রদীপ নিয়ে বউদিকে আরতি করে রাতদিন। বউদি দু’বছর অন্তর প্রেগন্যান্ট হয়ে যায়।

অনিরুদ্ধ হেসে ফেলল, এত ভাল কথা বলো তুমি, কেন যে তোমায় টক-শোগুলো হোস্ট করতে দেয় না!

টক-শো’র কথা বাদ দাও, আমাকে রাত সাতটা থেকে ন’টার ভিতর খবর পড়তে দিয়েছে একদিনও?

কেন তোমাকে দেবে তনুশ্রী? আমি সেদিন একটা নাইট ক্লাবে গিয়েছিলাম একটা এগজিবিশনের খবর করতে, তো দেখলাম কোনার দিকে মৈনাক পাল ডিভানে গা এলিয়ে বসে আছে আর বুলবুলি অলমোস্ট ওর কোলের ওপরে বসে ওকে চামচে করে স্যুপ-ফুপ কিছু খাইয়ে দিচ্ছে।

বুলবুলি খাইয়ে দিচ্ছে কেন? মৈনাক পালের হাত নেই?

হাত কী করে থাকবে তনুশ্রী? হাতটা তো তখন বুলবুলির টপের ভিতর ঢুকে ইকির-মিকির চামচিকির খেলছে।

ছবি তুলে নিলে না কেন? মোবাইলে?

নিয়ে কী করতাম? কোথায় দিতাম? সেই তো ওদের আন্ডারেই কাজ করতে হত।

তুমি আর গলা শুকিয়ো না। তুমি প্রমিত ব্যানার্জির ঘনিষ্ঠ, সবাই জানে। তোমার আবার মৈনাক-ফৈনাককে ভয় কী?

প্রমিত ব্যানার্জি যখন অফিস থেকে বেরোয় তখন আমি অফিসে থাকলে ওর অ্যাটাচিটা হাতে নিয়ে পিছন পিছন দৌড়োই। এটাকে ঘনিষ্ঠ হওয়া বলে না তনুশ্রী, অনিরুদ্ধ গম্ভীর গলায় বলল।

যাই হোক, খাস চাকর তো বটে। মৈনাক পাল অন্তত তোমার মাথার চুল ছুঁতে পারবে না।

মনে হয়, ওর ইচ্ছে হবে না। কারণ ও অনেক ভাল জিনিস ছুঁতে পায়, কিন্তু ইচ্ছে করলে ওকে আটকাবে কে? প্রমিত ব্যানার্জির নীচে চাকরি করতে পারে, কিন্তু এই অফিসে মৈনাক পালের ক্ষমতা কারও চেয়ে এক পয়সা কম নয়।

সেটা কীভাবে সম্ভব অনিরুদ্ধদা? আমার বসের যা পাওয়ার আমারও তাই?

বোঝাতে গেলে তোমাকে অনেক কথা বলতে হবে। দাঁড়াও আগে একটু গলা ভিজিয়ে নিই, বলেই অনিরুদ্ধ প্যান্টের পকেট থেকে একটা ছোট্ট বোতল বের করে কুড়ি-পঁচিশ ফোটার মতো মদ মুখে ঢেলে নিল। তারপর অসম্ভব দ্রুততায় টেবিলের ওপর প্লাস্টিক চাপা দেওয়া জলের গ্লাসটার ঢাকনা সরিয়ে আধগ্লাস জল ঢেলে দিল মুখে। সামান্য কুলকুচি করে পুরোটাই গিলে নিল। তারপর একমুখ হাসল তনুশ্রীর দিকে তাকিয়ে।

দারুণ তো অনিরুদ্ধদা! তনুশ্রী সরল বিস্ময়ে বলে উঠল।

আজ মন চেয়েছে আমি হারিয়ে যাব, হারিয়ে যাব আমি তোমার সাথে… সুরে-বেসুরে গেয়ে উঠল অনিরুদ্ধ। মুহূর্তেই থেমে গিয়ে বলল, তোমার মহাবিশ্বে কভু হারায় না তো কিছু! এই অফিসেও কিছু হারায় না। কে কী কাজ করছে না করছে, সব হিসেব রাখে মৈনাক পাল। কাজেই ওর অপছন্দের লোক যদি ভাল কাজ করে, কীভাবে তার হাত থেকে কাজ কেড়ে নিয়ে তাকে ঠুঁটো করে দেওয়া যায় সেটাও খুব ভাল জানে।

প্রমিত ব্যানার্জিও ওকে টাইট দিতে পারে না?

না, পারে না। কারণ এই অফিসের সেটআপ অনুযায়ী একজন পার্টনারের অ্যাপয়েন্ট করা লোকের ওপরে অন্য পার্টনারের লোক ছড়ি ঘোরাতে পারবে না।

কার লোক মৈনাক পাল? ধ্রুব সেন?

না, তা হলে তো প্রবলেম ছিল না। মৈনাক পাল বিশাল শ্রীবাস্তবের লোক। ও তো সরাসরি রিপোর্ট করে শ্রীবাস্তবের কাছে। ধ্রুব সেনকেই পাত্তা দেয় না, প্রমিত ব্যানার্জি কোন ছার!

তার মানে ও যা খুশি তাই করবে? কোনও প্রতিকার নেই?

ডেফিনিটলি আছে। সেটা চাই বলেই বলছি তুমি সরাসরি ওর কাছে গিয়ে বলো, ও কেন তোমাকে সন্ধে সাতটা থেকে ন’টার ভিতরে খবর পড়তে দিচ্ছে না?

ও বলবে যে ওর ইচ্ছে।

তুমি জিজ্ঞেস করবে, ওর ইচ্ছেটার হেতু কী? তুমি তো আর অযোগ্য নও।

কিন্তু আমি যতই এফিশিয়েন্ট হই, কারণটা তো ও আমাকে বলতে বাধ্য নয়।

তা হলে মৈনাক পালকে জিজ্ঞেস করো, কী হলে ওর ইচ্ছে পালটাবে?

তখনই তো শুতে চাইবে, তনুশ্রী সোজাসুজি বলল।

অনিরুদ্ধ তনশ্রীর হাঁটুতে একটা চাপড় মেরে বলল, তখনই ওর বিরুদ্ধে সেক্সুয়াল হ্যারাসমেন্টের অভিযোগ আনবে।

প্রমাণ করব কীভাবে?

কেন, মোবাইল নেই? যে-মোবাইলে ছবি তোলা যায়, আবার ভয়েস রেকর্ডও করা যায়। সেই মোবাইল আমি নয়, তুমি ইউজ করবে।

ওরে বাবা! তুমি তো একদম পাকা প্ল্যান করে এসেছ অনিরুদ্ধদা।

হ্যাঁ, কিন্তু আমি কিলিয়ে কাঁঠাল পাকাতে চাই না, তনুশ্রী। তুমি যাও, গিয়ে কথা বলো পালের সঙ্গে। লোকটা যদি ভাল কথায় তোমার দাবি মেনে নেয়, ঠিকঠাক কাজ করার চান্স দেয়, নো প্রবলেম। বেগরবাই করলে আমাদেরও করতে হবে। অবশ্য তুমি যদি চাও, তা হলেই। ও, আর একটা কথা, তুমি যদিও মৈনাক পালের সুপারভিশনে আছ, তবু আমি প্রমিতদাকে নুন-মশলা মাখিয়ে, অল্প আঁচে রোস্ট করে নরম করেছি। তোমার বাবার ব্যাপারটা মাথায় রেখে চ্যানেল তোমাকে পঁচিশ হাজার টাকা অগ্রিম দিচ্ছে। তুমি কালই অ্যাকাউন্ট্যান্ট রোজারিওর সঙ্গে দেখা করে চেকটা তুলে নেবে। তবে নাইট ডিউটি কিংবা প্রাইমটাইমে খবর পড়ানোর ব্যাপারে আমি কিছু করতে পারব না। ওটা তোমার মৈনাক পাল দেখে।

রাত প্রায় ভোর হয়ে আসছিল। চ্যানেলে এই সময় সারাদিনের খবর কিংবা অনুষ্ঠানগুলোই রিপিট করা হয় বলে ওদের দু’জনের হাতেই বিশেষ কাজ ছিল না। স্মোকার্স কর্নার, যেটা অগ্রাহ্য করে সবাই যে যার জায়গাতেই সিগারেট খায়, লাগোয়া একচিলতে বারান্দায় বসে তনুশ্রী দেখতে পেল, বাইরের আকাশটা লাল হয়ে উঠেছে। ওর চোখদুটোও লাল হয়ে উঠল নিজের অজান্তে। টসটস করে দু’-চার ফেঁটা জল গড়িয়ে পড়ল চোখ বেয়ে। তনুশ্রী অনেক কষ্টে ভিতরের কান্না চেপে প্রায় অস্ফুট গলায় জিজ্ঞেস করল, সবাই তোমার মতো হয় না কেন অনিরুদ্ধদা?

কারণ আমি সবার মতো হব বলে, অনিরুদ্ধ হাসল। তারপর গলা নামিয়ে বলল, আমিও আসলে ভিতরে ভিতরে বদ তনুশ্রী। তুমি আমার সঙ্গে একদিন ডায়মন্ডহারবার যাবে?

তনুশ্রী অনিরুদ্ধর মাথার চুল খিমচে ধরে বলল, তুমি এই লাইনে থেকেও এই ব্যাপারটায় একদম জড়াও না কীভাবে অনিরুদ্ধদা?

মানে আমার আলুর দোষ নেই কেন জানতে চাইছ?

তনুশ্রী জোরে টান দিল অনিরুদ্ধর ঝাকড়া চুলে, সবসময় অসভ্য কথা, তাই না?

পুরুষমাত্রেই হয় অসভ্য নয় চাকর। সফল পুরুষ হচ্ছে এই দুটোর কম্বিনেশন। কিন্তু তনু তোমাকে একটা কথা বলি, তোমার চাকর হয়ে থাকবে এরকম কাউকে বিয়ে কোরো। নইলে অসভ্যরা তোমায় টিকতে দেবে না। অবশ্য তাদের খুব একটা দোষ নেই। আমারই বলে তোমার পাশে অনেকক্ষণ বসে থাকলে কীরকম একটা অস্থির-অস্থির করে, অনিরুদ্ধ হেসে ফেলল।

তনুশ্রী ওর চুল ছেড়ে দিয়ে কপট রাগে বলল, যাও, ওরকম বাঁ হাতের কমপ্লিমেন্ট আমি নিই না।

এবারের মতো নিয়ে নাও মনসা, চাঁদ সওদাগর তোমাকে এই মুহূর্তে এর বেশি আর দিতে পারছে না। তবে মৈনাক পাল তোমাকে ডান হাতে কমপ্লিমেন্ট দেওয়ার জন্য মুখিয়ে রয়েছে। যাও না, সামনে গেলেই টের পাবে।

তনুশ্রী বলল, যাবই তো, গিয়ে ওকে পটিয়ে ফেলব। তারপর প্রাইমটাইমে খবর পড়ব। তুমি হাঁ করে দেখবে। অবশ্য বউদি যদি অ্যালাও করে।

কে অন্তরা? আমি তোমাকে নিয়ে একটা ঘরে দরজা বন্ধ করে দু’ঘণ্টা থাকলেও ও নিশ্চিন্তে পাশের ঘরে বসে টিভি দেখবে বা বই পড়বে। একবারের জন্যও দরজা ধাক্কাবে না।

এত বিশ্বাস? তনুশ্রী অনিরুদ্ধর হাতটা ধরে থাকল কিছুক্ষণ। তারপর বলল, অন্তরাদি কী লাকি, অনিরুদ্ধদা! তোমার মতো একজন হ্যাজব্যান্ড পেয়েছে। আমি চাই আমিও যেন আমার বরকে এতটাই বিশ্বাস করতে পারি।

বিশ্বাস চেষ্টা করে হয় না তনুশ্রী। বিশ্বাস ভালবাসা থেকে আসে। কাউকে যদি সেভাবে ভালবাসো তো দেখবে…

তনুশ্রী মাঝপথে অনিরুদ্ধকে থামিয়ে দিয়ে বলল, ভালবাসতেই চেয়েছিলাম জানো তো! কিন্তু দেখতে ভাল হয়ে প্রবলেম হয়ে গেল। অল্পবয়স থেকেই এমন সব খেঁকি কুকুর কামড়াবে বলে ছুটে ছুটে আসতে লাগল যে গুটিয়ে গেলাম। কিন্তু আমার মন বলে, আমায় সত্যি ভালবাসবে আর আমিও সত্যিই ভালবাসব, এমন কেউ আমার জীবনে আসবে। সে আমায় নেবে, কিন্তু শুধু শরীরই নেবে না। চিন্তা, চেতনা, আবেগ, সবকিছুই নেবে। কারণ তা নইলে শরীর তো শেষ অবধি কয়েকটা বেডসোর, তাই না?

এবার অনিরুদ্ধ কিছু বলল না। শুধু হাত বাড়িয়ে তনুশ্রীর হাতটা ছুঁল। বাইরের আকাশে সূর্য উঠল, যেমন প্রতিদিন ওঠে।

ডিভান থেকে উঠতে গিয়ে মাথাটা একটু টাল খেয়ে গেল তনুশ্রীর। ও আবার বসে পড়ল। ভালবাসা, শরীর, মন, অনুভূতি, আবেগ সব শব্দগুলো ওর বাবার শরীরের মতো সংকুচিত হতে হতে একটা শব্দে এসে দাঁড়িয়েছে, টাকা। টাকা ওকে রোজগার করতেই হবে। সাধ্যমতো সৎপথে…

দাদার আবার মেয়ে হয়েছে। দাদা গম্ভীর। বারবার সিজার করাতে গিয়ে কত টাকা খরচ হয়েছে সেই গল্প দিচ্ছে। তনুশ্রী বুঝতে পারছে, বাবার চিকিৎসার জন্য মাস গেলে যে-টাকা ক’টা দাদা দেয়, এবার সেই বাজেটেও টান পড়তে চলেছে। পড়ুক। কোনও না কোনওভাবে ঠিক জোগাড় হয়ে যাবে।

কোম্পানির এমডি-র ঘরের বাইরের লাল আলো দুম করে নিভে গেল। আর সঙ্গে সঙ্গে বেয়ারা ছেলেটা, ছুটে এসে ওর কাছে দাঁড়াল।

যান, আপনি ভিতরে যান। উঠে দাঁড়িয়ে তনুশ্রী টের পেল, তখন মাথাটা টাল খাওয়ায় বসে পড়াটা ভুল হয়েছিল, একবার যাওয়া দরকার। ও ছেলেটার দিকে তাকিয়ে বলল, আমি একটু বাথরুম থেকে ঘুরে আসতে পারি?

ছেলেটা ভীষণ জোরে দু’দিকে মাথা নাড়িয়ে বলল, স্যার খুব রাগ করবেন, আবার ব্যস্ত হয়ে যাবেন। এসব ঠিক নয়…

তনুশ্রী ওর কথা চলাকালীনই ওর হাতের পাতায় আঙুল দিয়ে সুড়সুড়ি দিতে শুরু করল। দিতে দিতে বুঝল, ছেলেটার মুখে কালোর ওপরে লালের আভা এসে পড়েছে। তনুশ্রী গলাটাকে ন্যাকা-ন্যাকা করে বলল, তুমি একটু এক মিনিট ম্যানেজ করে নাও না সোনা!

Post a comment

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *