গল্প
উপন্যাস
পরিশিষ্ট

২৬. পুনর্মিলন

ষড়বিংশ পরিচ্ছেদ – পুনর্মিলন

পরদিন প্রাতঃকালে যাত্রারম্ভ করিতে কিছু বিলম্ব হইল। শীলভদ্রের সঙ্গে সমতট হইতে দুইটি চৈন ভিক্ষু আসিয়াছিলেন, তাঁহারাও নালন্দা যাইবেন। সর্বসুদ্ধ দশ বারোজন যাত্রিক। মণিপদ্ম বজ্রকে চৈনিক বেশ পরাইয়া দিয়াছিল, যাহাতে তাহাকে সহজে কেহ চিনিতে না পারে; অঙ্গে চীনাংশুকের কষায়বর্ণ অঙ্গাবরণ জানু পর্যন্ত লম্বিত, মাথায় শুঁড়তোলা কানঢাকা শিরস্ত্রাণ।

যাত্রারম্ভ হইল। অগ্রে অশীতিপর শীলভদ্র দুইজন চৈন ভিক্ষুকে দুই পাশে লইয়া পদব্রজে চলিয়াছেন, তাঁহাদের পিছনে এক সারি ভিক্ষু। মাঝে চারিটি অশ্বতর দীর্ঘ পথের পাথেয় বহন করিয়া চলিয়াছে। চৈনিক শ্রমণদ্বয় বহু তালপত্রের পুঁথি সংগ্রহ করিয়া লইয়া যাইতেছেন; সেগুলি দুইটি গর্দভের পৃষ্ঠে বাহিত হইতেছে। জন্তুগুলির পশ্চাতে মণিপদ্ম ও বজ্র তাহাদের তাড়না করিয়া লইয়া যাইতেছে। সর্বশেষে দুই সারি ভিক্ষু।

যাত্রিদল রাজপথ ধরিয়া উত্তর দিকে চলিল।

পথে সৈন্যদলের চলাচল আরম্ভ হইয়া গিয়াছে। অধিকাংশ পদাতিক সৈন্য, মাঝে মাঝে যূথবদ্ধ হস্তী অশ্ব বা রথ যাইতেছে। সকলের গতি কর্ণসুবর্ণের দিকে। কদাচিৎ বার্তাবাহী একক অশ্বারোহী ঘোড়া ছুটাইয়া উত্তর মুখে যাইতেছে। তাহারা সকলে আপন আপন কর্মে ব্যগ্রনিবিষ্ট, পীতবাসধারী ভিক্ষুদের কেহ বিরক্ত করিল না।

মণিপদ্ম হ্রস্বকণ্ঠে বজ্রের সহিত নানা কথা বলিতে বলিতে চলিয়াছে। তাহার মুখে চোখে আনন্দ ক্ষরিত হইতেছে; সে যেন তাহার জীবনের চূড়ান্ত অভীপ্সা লাভ করিয়াছে, আর কিছু তাহার কাম্য নাই।

বজ্র চলিতে চলিতে নতমুখে শুনিতেছে, কিন্তু সব কথা শুনিতে পাইতেছে না। তাহার মন অতীত ও ভবিষ্যতের মাঝখানে দোল খাইতেছে। একদিকে বিম্বাধর বটেশ্বর কুহু শিখরিণী কোদণ্ড মিশ্র, অন্যদিকে মা গুঞ্জা চাতক ঠাকুর। এই দুইয়ের মাঝখানে যেন যুগান্তরের ব্যবধান। কতদিন হইল সে গ্রাম ছাড়িয়া আসিয়াছে। এক মাস? এক বৎসর? দশ বৎসর? মাস বৎসর দিয়া এই সময়ের পরিমাপ হয় না। যখন আসিয়াছিল তখন তাহার মন ছিল শিশুর মত, আর এখন—?

সন্ধ্যার পূর্বে তাহারা বনের কিনারায় পৌঁছিল। পথের পশ্চিমে বন; এই বনের ভিতর দিয়া রত্তি ও মিত্তি তাহাকে পথ পর্যন্ত পৌঁছাইয়া দিয়াছিল। শীলভদ্র স্থির করিলেন এই স্থানেই রাত্রি যাপন করিবেন।

বন দেখিয়া বজ্রের মন অস্থির হইয়াছিল, সে শীলভদ্রের কাছে গিয়া বলিল— ‘এই বন পার হয়ে আমি এসেছিলাম, আমার গ্রাম বনের পরপারে। যদি অনুমতি করেন এখনি যাত্রা করি।’

শীলভদ্র জিজ্ঞাসা করিলেন— ‘বন কত বড়?’

বজ্র হিসাব করিয়া বলিল— ‘এক দিনের পথ।’

শীলভদ্র বলিলেন— ‘তবে আজ রাত্রিটা আমাদের সঙ্গে থাকো। কাল সকালে যেও।’

ভাগীরথীর তীরে একটি বৃক্ষতলে রাত্রিবাসের ব্যবস্থা হইল। ক্রমে সূর্য অস্ত গেল; আকাশে কৃশাঙ্গী চন্দ্রকলা দেখা দিয়াই অস্তমিত হইল। পথে সৈন্যদলের যাতায়াত থামিয়া গিয়াছে। বজ্র অশান্ত মন লইয়া রাজপথের এক প্রান্তে বসিয়া বনের পানে চাহিয়া রহিল।

রাত্রির অন্ধকার গাঢ় হইলে বজ্র লক্ষ্য করিল, বনের গভীর অন্তর্দেশে বহু ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র আলোকবিন্দু দেখা যাইতেছে। সম্ভবত আলোক নয়, আগুন; অসংখ্য বৃক্ষকাণ্ডের অন্তরাল হইতে আলোকবিন্দু বলিয়া মনে হইতেছে। তারপর নিস্তব্ধ বাতাসে যেন অশ্বের হ্রেষাধবনি ভাসিয়া আসিল। বজ্র অবহিত হইয়া শুনিল, আবার অশ্বের হ্রেষা শুনা গেল।

বজ্র গিয়া শীলভদ্রকে বলিল। শীলভদ্র বৃক্ষতলে বদ্ধাসন প্রস্তরমূর্তির ন্যায় উপবিষ্ট ছিলেন। অদূরে ভিক্ষুগণ চুল্লী জ্বালিয়া রাত্রির জন্য রন্ধন করিতেছিলেন, চুল্লীর চঞ্চল প্রভা তাঁহার অস্থিসার মুখের উপর সঞ্চরণ করিতেছিল। তিনি বজ্রের পানে চাহিয়া ধীরে ধীরে বলিলেন— ‘বোধহয় একদল সৈন্য ওখানে লুকিয়ে আছে। কোন্ দলের সৈন্য বলা যায় না; জয়নাগের দলও হতে পারে, অপরপক্ষও হতে পারে। তা সে যে পক্ষই হোক, কাল তোমার বনের মধ্যে দিয়ে যাওয়া হবে না। তুমি আমাদের সঙ্গে যাবে। আরও উত্তরে বন শেষ হয়ে মাঠ আরম্ভ হয়েছে। সেই মাঠ বোধহয় পশ্চিমে মৌরী নদীর তীরে গিয়ে শেষ হয়েছে। তুমি মাঠ ধরে পশ্চিমে গেলে গ্রামে পৌঁছতে পারবে।’

রাত্রে বজ্র ভাগীরথীর সৈকতে শয়ন করিয়া জ্যোতিঃচর্চিত আকাশের পানে চাহিয়া রহিল। তাহার মনে বিস্ময়াবিষ্ট চিন্তার ক্রিয়া চলিতে লাগিল— আজ আমি মুক্ত আকাশের তলে শুইয়া আছি। কাল রাত্রে ছিলাম রক্তমৃত্তিকার সংঘারামে। তার আগের রাত্রে কোথায় ছিলাম? সংঘের ঘাটে কুহুর সঙ্গে। তার আগের রাত্রে? কোদণ্ড মিশ্রের কুটিরে। তার আগে? রাজপুরীতে—! কি বিচিত্র সঙ্গতিহীন মানুষের জীবন!

প্রাতে আবার যাত্রা আরম্ভ হইল।

তীব্র সূর্যকরোজ্জ্বল প্রভাত। পথ যতই উত্তরে যাইতেছে ততই জনবিরল হইতেছে। বজ্র আসিবার সময় যেমন দেখিয়াছিল তেমনি দেখিতে দেখিতে চলিল, ভাগীরথীর বুকে ছোট ছোট ডিঙা ও ভরা ভাসিতেছে, দুই একটা বহিত্র পালের ভরে চলিয়াছে; নদীর উচ্চ পাড়ে গাঙ-শালিকের ঝাঁক কোটরের চারিপাশে কিচিমিচি করিতেছে; একটা সারস পাখি জলের কিনারায় নিঃসঙ্গ দাঁড়াইয়া আছে। বজ্র ভাবিল, এই কি সেই পাখিটা, যাইবার সময় যাহাকে দেখিয়াছিলাম? পাখিটা কি সেই অবধি স্থির হইয়া দাঁড়াইয়া আছে!

বেলা দ্বিপ্রহরে যাত্রিদল বনের উত্তর প্রান্তে পৌঁছিলেন। বনের কোল হইতে মাঠ আরম্ভ হইয়াছে— সীমাহীন শ্যামলতা— কালবৈশাখীর অকালবর্ষণ তৃণগুলিকে সঞ্জীবিত করিয়া রাখিয়াছে। বজ্র এই তৃণের বর্ণ দেখিয়া যেন চিনিতে পারিল ইহা তাহার গ্রামের গোচারণ মাঠের তৃণ! এই প্রান্তরের পরপারে তাহার একান্ত আপনার বেতসগ্রাম।

এই স্থানে সকলে মধ্যাহ্নের আহার সম্পন্ন করিলেন। তারপর বজ্র চৈনিক ছদ্মবেশ খুলিয়া নিজ বেশ পরিধান করিল; মণিপদ্মকে দৃঢ় আলিঙ্গন করিল; শীলভদ্রের পদস্পর্শ করিয়া প্রণাম করিল। শীলভদ্র তাহার স্কন্ধে হাত রাখিয়া স্নেহগম্ভীর স্বরে বলিলেন— ‘বৎস, সংসারে ফিরে যাও, এখনও তোমার অনেক কাজ বাকি আছে। সংসারকে ভয় কোরো না, তাকে জয় কোরো। আর মহাকারুণিকের করুণার জন্য হৃদয়ের দ্বার সর্বদা খুলে রেখো। কখন তাঁর কৃপা আসবে কেউ জানে না; দেখো যেন এসে ফিরে না যায়।’

সূর্য পশ্চিমে ঢলিয়াছে। বজ্রের ক্লান্তি নাই, জনহীন প্রান্তর দিয়া যতই সে অগ্রসর হইয়া চলিয়াছে ততই তাহার অধীরতা বাড়িতেছে। ঐ বুঝি মাঠের সীমান্তে তাহার গ্রাম দেখা যায়! না— গ্রাম নয়, কয়েকটি বর্বুর বৃক্ষ সারি দিয়া দিগন্তরেখার ঊর্ধ্বে মাথা তুলিয়াছে।

সূর্যের প্রখর শুভ্রতা ক্রমে পীতাভ হইয়া আসিতেছে, কিন্তু তাপের কিছুমাত্র হ্রাস নাই। বজ্রের সর্বাঙ্গে ঘাম ঝরিতেছে। বর্বুরশ্রেণীর বিরল ছায়াতলে ক্ষণেক বিশ্রাম করিলে অঙ্গের ঘাম শুকাইত, কিন্তু বজ্র থামিতে পারিল না। গৃহের এত কাছে আসিয়া থামা যায় না।

আরও ক্রোশেক পথ চলিবার পর বজ্র থমকিয়া দাঁড়াইল। সম্মুখে দৃষ্টি পড়িল, দিগন্তের কাছে সোনার সূতার মত কি যেন ঝিক্‌মিক্‌ করিতেছে! বজ্র নিস্পন্দ হইয়া চাহিয়া রহিল। ঐ আমার মৌরী নদী! এতক্ষণে দেখা দিয়াছে।

বজ্র দৌড়িতে আরম্ভ করিল। কিছুক্ষণ দৌড়িয়া থামিল, চক্ষু হইতে ঘর্ম কলুষ মুছিয়া আবার দেখিল। হাঁ, মৌরী নদীই বটে। কিন্তু গ্রাম কোথায়? বজ্র নদীর রেখা অনুসরণ করিয়া উত্তর দিকে চক্ষু সঞ্চালন করিল। — একস্থানে উচ্চভূমি নদীর সুবর্ণসূত্রকে অন্তরাল করিয়া রাখিয়াছে। ঐ বেতসগ্রাম! কিন্তু গ্রামের মাথার উপর আকাশে যেন একটা কালো মেঘ স্থির হইয়া আছে। মেঘ? না ধূম?

বজ্র আবার ছুটিয়া চলিল।

মৌরী নদীর তীরে বেতসগ্রাম। কিন্তু গ্রাম আর চেনা যায় না। কুটিরগুলি একটিও নাই, তাহাদের স্থানে এক স্তূপ করিয়া ভস্ম পড়িয়া আছে। ভস্মস্তূপ হইতে এখনও মৃদু ধূম উত্থিত হইতেছে। জীবন্ত মানুষ নাই, এখানে ওখানে কয়েকটা মৃতদেহ পড়িয়া আছে।

কাল প্রাতে হঠাৎ একদল সৈন্য আসিয়াছিল, সংখ্যায় প্রায় এক হাজার। পূর্বে ইহারা অগ্নিবর্মার সৈন্য ছিল, এখন যূথভ্রষ্ট নায়কহীনভাবে লুঠপাট করিয়া বেড়াইতেছে। গ্রামের লোক তাহাদের আসিতে দেখিয়া অধিকাংশই পলায়ন করিয়াছিল। সৈন্যগণ প্রায় নির্বিবাদে গ্রামের সঞ্চিত শস্যাদি লুঠ করিতে আরম্ভ করিয়াছিল, তারপর কুটিরগুলিতে আগুন দিয়া চলিয়া গিয়াছিল।

আজ অপরাহ্ণে ভস্মীভূত গ্রামের প্রান্তে দাঁড়াইয়া বজ্র ক্ষণকালের জন্য পাষাণে পরিণত হইয়া গিয়াছিল। এ কি! এই তাহার বেতসগ্রাম! কেমন করিয়া এমন হইল! গ্রামের লোক সব কোথায়? মা কোথায়? গুঞ্জা কোথায়?

উন্মাদের মত বজ্র ভস্মচক্রের মধ্যে ছুটিয়া বেড়াইল আর ‘মা’ ‘মা’ বলিয়া চিৎকার করিল, কিন্তু কেহ উত্তর দিল না। মৃতদেহগুলা সব পুরুষের। বজ্র একে একে তাহাদের চিনিল। গ্রামের মহত্তর। আরও দুইজন বৃদ্ধ, যাহারা পলাইতে পারে নাই। গ্রামের কর্মকার রাজীব, কুম্ভকার শ্রীদাম। একটি মৃতদেহ এমনভাবে পড়িয়া আছে যে তাহার মুখ দেখা যাইতেছে না; বজ্র ছুটিয়া গিয়া তাহাকে উল্টাইয়া দেখিল— মধু! যে-মধুর সহিত গুঞ্জার জন্য তাহার লড়াই হইয়াছিল, সেই মধু। মধু গ্রাম রক্ষার জন্য প্রাণ দিয়াছে। বজ্র মধু’র দুই বলিষ্ঠ বাহু ধরিয়া সবলে নাড়া দিতে দিতে বলিল— ‘মধু! মধু! মা কোথায়? গুঞ্জা কোথায়?’

মধু’র নিকট হইতে উত্তর আসিল না। বজ্র কিছুক্ষণ মধু’র মৃত মুখের পানে পাগলের মত চাহিয়া রহিল, তারপর তাহাকে ছাড়িয়া দিয়া উঠিয়া দাঁড়াইল। কেহ কি জীবিত নাই? চাতক ঠাকুর! তিনি কোথায়? তিনি তো পলাইবার লোক নয়—

বজ্র দেবস্থানের অভিমুখে ছুটিল।

দেবস্থানে চাতক ঠাকুরের একচালা অক্ষত আছে। বজ্র প্রবেশ করিয়া দেখিল ঠাকুরের শুষ্ক শীর্ণ দেহ এক কোণে পড়িয়া রহিয়াছে; তাঁহার মাথায় ও দেহে রক্ত শুকাইয়া আছে। বজ্র তাঁহার মুখের উপর ঝুঁকিয়া আর্তস্বরে ডাকিল— ‘ঠাকুর! ঠাকুর!’

ঠাকুরের দেহে তখনও প্রাণ ছিল, তিনি কোটরগত চক্ষু মেলিয়া চাহিলেন। বজ্রকে দেখিয়া তাঁহার ওষ্ঠ একটু নড়িল— ‘বজ্র এসেছিস! ওরা বেঁচে আছে— পলাশবনের মধ্যে—!’

এইটুকু বলিবার জন্যই তিনি বাঁচিয়া ছিলেন। তাঁহার মাথা বামদিকে হেলিয়া পড়িল, ক্ষীণ বক্ষস্পন্দন থামিয়া গেল।

সূর্য তখন পাটে বসিয়াছে। দিগন্তে শোণিতোৎসব চলিতেছে। রাক্ষসী বেলা।

বজ্র বনের দিকে ছুটিল। বনের আগে বাথান। বজ্র দেখিল, বাথানের আগড় খোলা; পূর্বে যেখানে শতাধিক গরু থাকিত সেখানে মাত্র গুটিকয় রহিয়াছে। অন্য গরুগুলি মাঠে চরিতে গিয়া আর ফিরিয়া আসে নাই, রাখালের অভাবে বনে জঙ্গলে চলিয়া গিয়াছে।

পলাশবনে প্রবেশ করিয়া বজ্র কোন দিকে যাইবে ভাবিয়া পাইল না। রাত্রি আসন্ন, অল্পক্ষণ পরেই অন্ধকার হইয়া যাইবে। কিন্তু চাতক ঠাকুর বলিয়াছেন, উহারা বাঁচিয়া আছে। বজ্র চিৎকার করিয়া ডাকিতে ডাকিতে বনের একদিকে ছুটিল— ‘মা! মা! গুঞ্জা! গুঞ্জা!’

অবশেষে বহুদূর বনের মধ্যে গিয়া বজ্র ঘন ঘন নিশ্বাস ফেলিতে ফেলিতে দাঁড়াইয়া পড়িল। দেহে আর শক্তি নাই, চিৎকার করিয়া ডাকিবার শক্তি নাই। এদিকে বন ছায়াচ্ছন্ন হইয়া গিয়াছে, দূরে ভাল দেখা যায় না। বজ্রের অজ্ঞাতসারে চক্ষু দিয়া জল গড়াইয়া পড়িল। কী করবে সে এখন? কোথায় তাহাদের খুঁজিয়া পাইবে? তাহারা কি আছে?

ও কী! বজ্র উচ্চকিত হইয়া চাহিল। দূর হইতে কে যেন তাহার নাম ধরিয়া ডাকিল— ‘মধুমথন!’…অস্পষ্ট ছায়া-কুহেলির মধ্য দিয়া কে ঐ ছুটিয়া আসিতেছে— মুক্তবেণী প্রেতিনীর ন্যায় ছুটিয়া আসিতেছে। তাহার পা দু’টি যেন মৃত্তিকা স্পর্শ করিতেছে না। — গুঞ্জা!

বজ্রও পাগলের মত ছুটিল— ‘কুঁচবরণ কন্যা।’

‘মধুমথন।’

দুইটা জ্বলন্ত উল্কা যেন পরস্পর সংঘৃষ্ট হইয়া এক হইয়া গেল।