পাথর-শাসানো পথ হেঁটে

তবে কি এখনো এত কাঁটাময়, পাথর-শাসানো
পথ হেঁটে আসার পরেও
আমাকে এমন চোখ-রাঙানি এবং রকমারি
শাস্তি ভোগ ক’রে যেতে হবে ক্রমাগত?
একদা আমার ঠোঁটে সহজে আসতো
নেমে নানা সুগন্ধি ফুলের ওষ্ঠ আর
কোকিল উঠতো ডেকে সকল ঋতুতে
আমার অনেক কাছে, এখন নীরব ওরা বহুকাল থেকে!

এখন আমার ঠোঁট বড়ই বিশুষ্ক, ফেটে গেছে
খরার তাণ্ডবে আর পা দুটো ক্ষতের দংশনে
বস্তুত অচল প্রায়। তবুও আমাকে
কাঁটাময়, পাথর-শাসানো পথ আর কত পাড়ি
দিতে হবে, জানা নেই। আমি তো ভীষণ
ক্লান্ত আজ, কত সঙ্গী ইতিমধ্যে হন্তারক ছোবলে নিশ্চিহ্ন!

আমি আর কতকাল রক্ত ঝরাতে ঝরাতে, খুব
খোঁড়াতে খোঁড়াতে এই বহুরূপী শক্রর মিছিল
দেখে যাবো? আর কতবার এই তুমুল আসরে
তুখোড় কপট সখাদের থিয়েটারি রঙবাজি দেখে যাবো?

হঠাৎ দুপুরবেলা অদূরে একটি হ্রদ চোখে
পড়ে যায়। হ্রদের কিনারে
পৌঁছে জলে নিজের মুখের ছায়া দেখে
ভীষণ চমকে উঠি। এ কোন্‌ অচেনা লোক যাকে
কখনো দেখিনি আগে? আমি কি আমার
গতায়ু সত্তাকে এই জলাশয়ে দেখছি? আমি কি মৃত তবে?

হ্রদের শীতল জলে মুখ ধুয়ে গাছের ছায়ায়
শান্তির আস্বাদ কিছু পেতে চাই। জানি
এ প্রয়াস বস্তুত ব্যর্থতা ছাড়া অন্য কোনো কিছু
হতেই পারে না। সূর্য তাপ অনেকটা কমানোর
পরে ফের পথ ধরি, পঙ্গুর ধরনে হেঁটে হেঁটে
এগোই অজানা গন্তব্যের দিকে, পরিণাম যা হোক তা হোক।
৪-৮-২০০৩