কার্যকারণ

‘দেখ, দেখ লোকটা কেমন কায়ক্লেশে
হেঁটে যাচ্ছে, রাস্তা পার হচ্ছে আস্তে সুস্থে রুক্ষ বেশে,
ভয়ানক নড়বড়ে, জোরে, হাওয়া বইলেই প’ড়ে খাবি খাবে
ধুলোয় নির্ঘাৎ’, কতিপয় তরুণ তরুণী অতিশয় মজা পাবে
আমার উদ্দেশে এই সব কথা ব’লে। সাদা চুল,
অবিন্যস্ত, নুয়ে পড়া অস্তিত্বের ক্লান্তির গাঢ় ছাপ, কী ব্যাকুল
বাঁচবার সাধ আজও; আমার নিজের লেখা কয়েকটি বই
থেকে যাবে কিছুকাল, মরণের পরে শুধু শূন্যতা অথই।

আমার মৃত্যুর পরে কোনওদিন তুমি র্যাপক
থেকে খুব আলগোছে নেবে তুলে
আমার পুরানো কোনও বই, অনেকেই যাবে ভুলে।
কোনও, পংক্তি, চিত্রকল্প অথবা উপমা
চকিতে তোমার হৃদয়কে ছুঁয়ে যাবে, প্রিয়তমা,
তোমার স্মৃতিকে দেবে ভিজিয়ে ক্ষণিক বৃষ্টিধারা; বুঝি তাই
বার্ধক্যের কালো বারান্দায় উবু হ’য়ে চুপিসাড়ে লিখে যাই
আজও কিছু পংক্তি, ফাটে সময়ের বিচিত্র বুদ্বুদ্‌
ক্রমাগত; অতৃপ্তির কারাগারে নিদ্রাহীন নিই ঘুমের ওষুধ।
২২।৪।৯১