আসল-নকল – ১০

দশ

কিশোর আর অন্যরা যখন পাওয়ার রূম অ্যানেক্সে পৌছল তখন তিনটে রশির দুটো ছিঁড়ে গেছে। ধীরে-ধীরে পাক খাচ্ছে, প্ৰকাণ্ড পাথরটা শেষ রশিতে ঝুলছে। টানটান হয়ে আছে ওটা, ছিঁড়ে যাবে যে কোন মুহূর্তে। মশাল নিয়ে সন্ন্যাসীটি এগিয়ে গেল আগুন দিতে…

মৃত্যুটা অন্তত দ্রুত ঘটবে, ভাবল হিরু চাচা। যেরকম টানটান হয়ে আছে, আগুনের স্পর্শ পেলেই ছিঁড়ে যাবে।

সন্ন্যাসী মশাল তুলল…

‘থামুন!’

গ্রেবা এবং বাদবাকি ডিয়নরা ঘুরে দাঁড়াল, দেখতে পেল ইসাস দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে, দু’পাশে কিশোর আর ক্যারি। ‘উৎসর্গ বন্ধ করুন!’

‘হোরাস!’ তীক্ষ্ণ কণ্ঠে চেঁচিয়ে উঠলেন গ্রেবা। ‘ধরো ওঁকে।’

‘আপনারা ভুল মানুষকে শাস্তি দিচ্ছেন!’ চিৎকার করে বলল কিশোর। হিরু চাচার শরীরের উপর একটিমাত্র রশিতে ঝুলন্ত মস্ত পাথরটার দিকে দৃষ্টিনিবদ্ধ ওর।

‘ঠিক,’ নিশ্চিত করল ক্যারি। ‘দু’জন ডক্টর এখানে এসেছে, অন্যজন একটু আগে সিটি গেট দিয়ে পালিয়ে গেছে। আমি তাকে দেখেছি।

গ্রেবা কান দিলেন না।

‘যাও! তোমরা সবাই। তোমরা এখানে নিষিদ্ধ।

‘আমি ওদের কথা বিশ্বাস করি, গ্রেবা,’ বললেন ইসাস। ‘সত্যিই দু’জন ডক্টরকে দেখা গেছে।’

‘মিথ্যে কথা! ডাহা মিথ্যে!’

গেটে যে ডিয়ন গার্ডরা লড়াই করেছে তাদের একজন এসময় পাওয়ার রূমে দৌড়ে এল।

‘গ্যাটাকরা সরে গেছে,’ সগর্বে ঘোষণা করল সে। ‘বেশিরভাগ গেট ছেড়ে পালিয়েছে, আর অন্যরা মারা পড়েছে…’ থেমে গেল ও, অবাক চোখে চেয়ে রয়েছে হিরু চাচার দিকে।

‘তারমানে যে লোকটাকে তুমি খুঁজছিলে সে ওদের সাথে চলে গেছে,’ বললেন হ্যান্সি।

গার্ডের মুখের অভিব্যক্তি লক্ষ করল ক্যারি

‘এটা সত্যি, ঠিক না?’ প্রশ্ন করল ও। ‘ঠিক এরকম দেখতে একজন লোক গ্যাটাকদের সাথে পালিয়েছে? তুমি ছিলে ওখানে, নিজের চোখে দেখেছ?’

‘এটা কি সত্যি?’ গ্রেবার প্রশ্ন। ‘তুমি কি আরেকজন ডক্টরকে দেখেছ?’

গার্ডের চোয়াল ঝুলে পড়েছে, স্থির দৃষ্টিতে চেয়ে রয়েছে হিরু চাচার দিকে।

পাথরটাকে ধরে রাখা দড়িটা ভীতিকর ক্যাঁচকোঁচ শব্দ করে উঠল।

‘দয়া করে সত্যি কথাটা বলো,’ হিরু চাচা শান্ত গলায় বলল। ধীরে-ধীরে মাথা ঝাঁকাল গার্ড।

‘হ্যাঁ…এটা সত্যি। আমি লোকটাকে নিজের চোখে দেখেছি। পলাতক গ্যাটাকদের সাথে চলে গেছে সে…’

কিশোর ইতোমধ্যে হিরু চাচার বাঁধন খুলতে লেগে গেছে।

.

গ্যাটাকদের স্পেসশিপ রওনা দিয়েছে আলফা-তুরার উদ্দেশে। গ্যাগারিন কন্ট্রোলে, পটোম্যাক আর ডিলাক তার পিছনে আসনে বসা। তাদের পিছনে বেঁচে যাওয়া গ্যাটাকরা ক্ষতস্থানের পরিচর্যা করছে, অস্ত্র পরীক্ষা করছে আর লুটের মাল নিয়ে চড়া গলায় নিজেদের মধ্যে ঝগড়া করছে। মৃত গার্ড আর মৃত সঙ্গী-সাথীদের পকেট থেকে যা পেয়েছে লুট করে এনেছে তারা।

গ্যাগারিনের মেজাজ খারাপ।

‘আমি এডেনে বেশিরভাগ লোক হারিয়েছি, ডিলাক।’ কাঁধের উপর দিয়ে বলল সে। ‘ক’জন টিকেছে দেখতেই পাচ্ছেন।’

‘সাফল্যের দাম তো চুকাতেই হবে, জেনারেল,’ দায়সারা কণ্ঠে বলল ডিলাক।

‘দাম আমরা গ্যাটাকরা চুকিয়েছি, ডিলাক। আমরা না থাকলে আপনি কখনওই পালাতে পারতেন না।’

‘আপনারা সবাই এর উপযুক্ত পুরস্কার পাবেন। ছায়াপথের শাসক, কল্পনা করুন কী পরিমাণ ক্ষমতা আর ঐশ্বর্য।’

পটোম্যাক সাদামাঠা মনের মানুষ। চোখের সামনে দেখা এবং স্পর্শ করা যায় এমন জিনিস চুরির ব্যাপারে বেশি আগ্রহ তার। ডিলাকের পরনের কোটটার দিকে লোভী দৃষ্টিতে চেয়ে রয়েছে সে।

গ্যাগারিন উঠে দাঁড়িয়ে আড়মোড়া ভাঙল।

‘এবার তোমার পালা, পটোম্যাক।’

পটোম্যাক কন্ট্রোল নিল এবং গ্যাগারিন ডিলাকের পাশের আসনে ধপ করে বসে পড়ল।

‘আমি কোন একদিন আর্মি নিয়ে এডেনে যাব,’ বলল।

ডিলাক খুদে ডোডেকাহেড্রনটা বের করল। স্পেসশিপের ম্লান আলোয় উজ্জ্বল সোনালি আভা ছড়াচ্ছে ওটা।

‘আর্মির প্রয়োজন নেই-এটা থাকলে। এর মধ্যে এমন পাওয়ার আছে, এটা অন্য সব গ্রহকে বাধ্য করবে আমাদের মেনে চলতে। এখন পর্যন্ত এর ক্ষমতার সামান্যই ব্যবহার করা হয়েছে।’

‘আলফা-তুরা এসে গেছে,’ সাবধান করল পটোম্যাক।

ধূর্ত চোখে ডিলাকের দিকে চাইল গ্যাগারিন।

‘পুরো ক্ষমতা আসছে, তাই না? আমরা আলফা-তুরায় পৌঁছলে, আপনি ওই জিনিসটার পাওয়ার কাজে লাগাবেন, ঠিক না?’

‘ঠিক,’ বলল ডিলাক। ওর চোখজোড়া স্থিরদৃষ্টিতে চেয়ে রয়েছে ডোডেকাহেড্রনের দীপ্তিমান গভীরে। ‘একদম ঠিক।’

.

ক্যারি হিরু চাচাকে ডিলাকের সঙ্গে সাক্ষাতের কাহিনি শোনাচ্ছে।

‘আমি দেখেছি, ডক্টর,’ আবারও বলল সে। ‘ওর হাতে ধরা ছিল ডোডেকাহেড্রন।’

‘রি-ডাইমেনশনাল এঞ্জিনীয়ারিঙের খুব সাধারণ ব্যাপার। ও কি বলেছিল জিনিসটা দিয়ে কী করবে?’

‘বলছিল ওটা আলফা-তুরায় ফিরিয়ে নিয়ে যাবে। ও-ই নাকি বেঁচে-থাকা শেষ আলফা-তুরান।’

‘আলফা-তুরায়?’ হিরু চাচা কবজির দড়ির দাগ ডলল। ‘এখন প্রশ্ন হচ্ছে কেন?’

‘ইতিহাস বই বলছে, আলফা-তুরায় বালি ছাড়া আর কিছু নেই, ‘ বলল কিশোর, ‘আর আছে কতগুলো পর্দা। ‘

‘পর্দা? কীসের পর্দা?’

‘আলফা-তুরার পর্দা।’

‘কয়টা আছে ওরকম?’

‘পাঁচটা, মনে হয়। তাতে কি কিছু যায় আসে?’

‘হয়তো। পাঁচটা পর্দা আর পাঁচকোনা ডোডেকাহেড্রন।’ চিবুক ঘষল হিরু চাচা। ‘আলফা-তুরার পর্দা। আমাদের এখুনি ওখানে যাওয়া দরকার!’

ওরা যখন পৌঁছল, আলফা-তুরায় তখন রাত নামছে। আগের সেই জায়গাতেই ল্যাণ্ড করল গ্যাযটাকদের মহাকাশযান। গ্যাগারিন আর পটোম্যাক দাঁড়িয়ে থেকে দেখছে, ডিলাক পর্দাগুলোর মাঝখানের বালুময় প্রান্তরে পায়চারী করছে।

পটোম্যাক যথারীতি ডিলাকের কার্যকলাপে মুগ্ধ।

‘কী করছে ও?’

ওরা লক্ষ করল, ডিলাক পর্দাগুলোর মাঝখানের ফাঁকা জায়গায় হাঁটাহাঁটি করছে, মাপ-জোখ আর যন্ত্রাংশ চেক, রিচেক করছে। অবশেষে থেমে দাঁড়াল ও, এবং ডোডেকাহেড্রনটা ঠেলে ঢুকিয়ে দিল বালির বুকে।

‘ওটা পুঁতে ফেলল,’ হতাশ কণ্ঠে বলল পটোম্যাক। ‘মতলবটা কী ওর?’

‘হুম,’ বোদ্ধার মত বলল গ্যাগারিন। দেখতে থাকো!’ আসলে ওর এব্যাপারে বিন্দুমাত্র ধারণা নেই।

পটোম্যাক নার্ভাস দৃষ্টিতে ডিলাকের দিকে চেয়ে ফিসফিস করে গ্যাগারিনকে বলল, ‘ও আমাকে ওটা দেবে মনে করেন?’

‘কী?’ এবার উপলব্ধি করল গ্যাগারিন। ‘ওহ্, কোটটার কথা বলছ? কেন, কী দরকার? তোমার কি ঠাণ্ডা লাগছে নাকি?’

‘কোটটা এত সুন্দর,’ বলল পটোম্যাক। ‘দারুণ কোট। ও যেহেতু আর ডক্টরের অভিনয় করছে না, কোটটারও আর দরকার নেই।’

ডিলাক গটগট করে ওদের দিকে এগিয়ে এলে চুপ করে গেল ও।

‘আমরা কি রেডি?’

‘এখন কী করতে চান?’ জবাব চাইল গ্যাগারিন।

‘অ্যাকটিভেশন!’

এল-আকৃতির রি-ডাইমেনশনারটা পকেট থেকে বের করল ডিলাক এবং কন্ট্রোলগুলো অ্যাডজাস্ট করল। রি-ডাইমেনশনারটায় শক্তির গুঞ্জন উঠল।

প্রিয় জাদুকরের জাদু দেখছে বাচ্চা ছেলে, এভাবে চেয়ে রইল পটোম্যাক।

জাদু হিসেবে এটাকে চমৎকার বলতেই হবে। বালির বুক ফুঁড়ে আবারও উদয় হলো ডিলাকের ল্যাবোরেটরি, কিন্তু এবার দীপ্তিমান ডোডেকাহেড্রনটা শোভা পাচ্ছে ওটার মাথায়। ল্যাবোরেটরিটা উঠতে শুরু করতেই, ডোডেকাহেড্রন বৃদ্ধি পেয়ে, অবিশ্বাস্য দ্রুত গতিতে ওটার পরিপূর্ণ আকার ফিরে পেল। ল্যাবোরেটরিটা পুরোপুরি মাথা তুলতেই, মাথার ছোট্ট মিনারটার মুকুট হিসেবে জ্বলজ্বল করতে দেখা গেল ডোডেকাহেড্রনটাকে। নিজের জন্য বানানো জায়গা দখল করেছে ওটা। বিশাল এক লাইটহাউসের মত রাতের আকাশ আলোকিত করে তুলেছে জিনিসটা।

ডিলাক রি-ডাইমেনশনারে আরও কিছু অ্যাডজাস্টমেন্ট করল। শীঘ্রি ডোডেকাহেড্রন আলাদা পাঁচটি দিকে, পাঁচটি পর্দার উদ্দেশে তীব্র আলোর রশ্মি পাঠাতে লাগল।

রশ্মির সোনালি আলোয় মুখের চেহারা স্নান হয়ে যাচ্ছে, গ্যাগারিন আর পটোম্যাক অবাক বিস্ময়ে উপরের দিকে চেয়ে রয়েছে।

‘আসুন,’ ডাকল ডিলাক।

অতিকষ্টে অসাধারণ দৃশ্যটা থেকে দৃষ্টি সরাল গ্যাগারিন।

‘এখন কী?’

‘এখন দেখব এটা কাজ করে কিনা,’ বলল ডিলাক। ওদেরকে পিছনে নিয়ে ল্যাবোরেটরির উদ্দেশে পা বাড়াল।

.

বিধ্বস্ত সিটি এক্সিটের বাইরে ধ্বংস আর বিপর্যয়ের চিহ্ন। ইতস্তত ছড়িয়ে পড়ে রয়েছে ডিয়ন আর সাভাণ্ট গার্ডদের মৃতদেহ। শহর রক্ষা করতে গিয়ে একসঙ্গে জীবন উৎসর্গ করেছে তারা। আরও পড়ে রয়েছে গ্যাটাক যোদ্ধাদের মৃতদেহ, নেতাদের পালানোর সুযোগ করে দিতে যারা প্রাণ দিয়েছে।

ইসাস আর গ্রেবা হিরু চাচা আর কিশোরকে বিদায় জানাতে এসেছেন।

ভগ্নস্তূপের চারধারে ব্যথিত দৃষ্টি বোলাল হিরু চাচা।

‘আয়, কিশোর, জলদি যেতে হবে।’

ইসাস হিরু চাচার হাত ঝাঁকিয়ে দিলেন পরম আন্তরিকতায়।

‘দোয়া করি আলফা-তুরায় সৌভাগ্য আপনাদের পক্ষে থাকুক।’

এবং গ্রেবা বললেন, ‘প্লিজ, ডক্টর, সম্ভব হলে ডোডেকাহেন নিয়ে ফিরে আসুন।’

‘আমি চেষ্টা করব-তবে পারব কিনা জানি না। আপনারা বরং ওটা ছাড়া কীভাবে চলতে পারেন সে ব্যাপারে চিন্তা-ভাবনা করুন। মাটির ওপরটা খুব একটা খারাপ নয়, জানেনই তো।’

‘বেল প্ল্যান্টগুলোকে যদি এড়াতে পারেন,’ বলল কিশোর, হঠাৎই মনে পড়ল ওর। ‘আমি রোকুকে গেটের পাশে রেখে এসেছি। যাই ওকে নিয়ে আসি। টাইম মেশিনে ওকে রি-চার্জ করা যাবে।’

কিশোর সিটি গেটের দিকে দৌড়ে যাচ্ছে, এক ভূপতিত গ্যাটাকের চোখে নড়াচড়া ধরা পড়ল। লোকটা আহত, কিন্তু মুমূর্ষু নয়। জ্ঞান ফিরতেই আবিষ্কার করল বিজয়ী এডেনবাসীরা ওকে ঘিরে রেখেছে, মরার ভান করে পড়ে রইল, আঁধারে গা ঢাকা দেয়ার সুযোগ খুঁজছে। কিশোরকে দেখে ঘৃণায় জ্বলে উঠল তার চোখজোড়া। সেই ছেলেটা! যে ওদেরকে কৌশলে জঙ্গলের ভিতরে নিয়ে গিয়েছিল। এই ছেলেটা না থাকলে ওরা কখনওই সিটি গেট আক্রমণ করত না। এক কনুইয়ে ভর দিয়ে উঠে, কিশোরের পিঠ লক্ষ্য করে ব্লাস্টার তাক করল ও।

ব্যাপারটা শুধু গ্রেবার চোখে পড়ল।

‘কিশোর!’ চেঁচিয়ে উঠলেন। ‘সাবধান!’ গ্যাটাকটা গুলি করতেই দৌড়ে তার সামনে চলে গেলেন তিনি। সরাসরি বুকে লাগল ব্লাস্টার- ফায়ার, সঙ্গে-সঙ্গে দড়াম করে মাটিতে আছড়ে পড়লেন গ্রেবা।

নিমেষে হ্যান্সি মাটিতে ঝাঁপিয়ে পড়লেন, মৃত এক গার্ডের অস্ত্র ছোঁ মেরে তুলে নিয়ে, এক গড়ান দিয়ে, গ্যাযটাকটা আবার গুলি করতে পারার আগেই ব্লাস্ট করলেন।

ইসাস গ্রেবার পাশে হাঁটু গেড়ে বসলেন।

‘মারা গেছে,’ অবিশ্বাসের সুরে বললেন।

কিশোর দৌড়ে ফিরে এল ওঁদের কাছে। গ্রেবার দেহ দেখে থমকে দাঁড়াল। বিস্মিত, আতঙ্কিত।

‘উনি আমার জীবন বাঁচিয়েছেন,’ বলল।

‘হ্যাঁ,’ মৃদু কণ্ঠে বলল হিরু চাচা। ‘কিন্তু আমাদের অনেক কাজ বাকি, কিশোর, এবং অনেকের জীবন বাঁচাতে হবে। যা, রোকুকে নিয়ে আয়, আমাদের রওনা হতে হবে।’

‘আমি আপনাদের সাথে যাব,’ হঠাৎই বলে উঠলেন হ্যান্সি।

‘আমিও,’ বলল ক্যারি।

হিরু চাচা তাদের দিকে কঠোর দৃষ্টিতে চাইল।

‘আপনাদের সাহায্য পেলে ভাল হত। কিন্তু কাজটা বিপজ্জনক, ভয়ানক বিপজ্জনক।’

‘আপনারা আমাদের জন্যে বিপদের মুখোমুখি হচ্ছেন, ডক্টর,’ বলল ক্যারি। ‘আমরা অন্তত বিপদটা আপনাদের সাথে ভাগাভাগি তো করতে পারি।’

কিশোর রোকুকে বয়ে নিয়ে এল। হিরু চাচাকে দেখে দুর্বলভাবে লেজ নাড়ল ও।

রোকুর মাথায় হাত বুলিয়ে দিল হিরু চাচা।

‘শীঘ্রি তোকে রি-চার্জ করে ফিট করে দেব, ভাবিস না। আসুন সবাই।’

ছোট্ট দলটা শশব্যস্তে জঙ্গলে প্রবেশ করল। হাঁটু গেড়ে বসে- থাকা ইসাসকে রেখে গেল তাঁর প্রধানতম প্রতিদ্বন্দ্বী এবং সবচাইতে পুরানো বন্ধুর পাশে।

যখন তিনি চোখ তুলে চাইলেন, হিরু চাচা এবং তার বন্ধুরা চলে গেছে-আলফা-তুরার পথে, ডিলাকের সঙ্গে শেষ যুদ্ধটা লড়তে।