সর্ষেক্ষেতে ফুল হয়ে তাই জাগল
ঝিমলি আর একটু পরেই ধর্ষিতা হবে।
আপাতত সে মেট্রো সিনেমা হল থেকে হাসতে হাসতে বেরচ্ছে, সঙ্গে বয়ফ্রেন্ড সায়ক।
রাস্তা টপকে মেট্রো স্টেশনের ফুটপাথে উঠে সিনেমা হলের দিকে তাকাল ঝিমলি। বিশাল পোস্টারে দেখা যাচ্ছে, হলুদ সর্ষেখেতের একদিক থেকে কাজল অন্যদিকে দাঁড়িয়ে থাকা শাহরুখ খানের দিকে দৌড়ে যাচ্ছে। শাহরুখের হাতে ম্যান্ডোলিন। কাজলের ওড়না হাওয়ায় উড়ছে। “আমার কিন্তু সিনেমাটা হেব্বি লেগেছে,” বলল ঝিমলি, “আচ্ছা, এর পরিচালক আদিত্য চোপড়া কি যশ চোপড়ার ছেলে?”
“জানি না,” কার্জন পার্কের দিকে হাঁটছে সায়ক, “যশ চোপড়া প্রোডাকশনের ছবি যখন, হতেও পারে। বাপ ছেলেকে প্রোমোট করছে।”
“ওভাবে বলিস না…” আপত্তি করে ঝিমলি, “সিনেমা হিট করে গিয়েছে। অমরীশ পুরী যখন বলল, ‘যা সিমরন যা! জী লে অপনি জিন্দগি!’ তখন ব্যাপক হাততালি পড়েছে। গানগুলোও দুর্দান্ত।” ট্রামলাইনে দাঁড়িয়ে হাত-পা ছোড়ে ঝিমলি, “মেরে খোয়াবো মেঁ জো আয়ে…
“রাস্তায় নাচিস না, লোকে দেখছে,” ঝিমলির হাত ধরে থামায় সায়ক।
সায়ক ঠিকই বলেছে। কার্জন পার্কের গাছতলায় বসে কোল্ড ড্রিংকের বোতলে জল মেশানো স্কট খেতে থাকা মান্তা আর হাফবান্টি তখনই ঝিমলিকে টার্গেট করেছে।
“ধুস! তুই এত আনরোম্যান্টিক না!” ঠোঁট ফোলায় ঝিমলি।
২২ বছরের ঝিমলির চেহারা ছোটখাট হলেও ফিগার দুর্দান্ত। ছোটবেলা থেকেই পুরুষ এবং নারী, উভয় সম্প্রদায়ের গোপন চাহনিতে সে অভ্যস্ত। ছেলেদের দৃষ্টিতে কাম থাকে, মেয়েদের ঈর্ষা। তবে ঝিমলি গায়ে মাখে না সেসব। বাবার বকুনির ভয়ে সালোয়ার কামিজ পরে কলেজে যায়। অবশ্য জিন্স-টপেও সে সমান স্বচ্ছন্দ।
সায়কটা হাঁদা গঙ্গারাম! প্রেসিডেন্সি কলেজে একই ক্লাসে একই সাবজেক্ট নিয়ে ঝিমলির সঙ্গে পড়ে। অথচ ঝিমলির দিকে তাকিয়েও দেখে না। এরকম অসহ্য পুরুষমানুষ জীবনে দেখেনি ঝিমলি। ছোকরার উপর খানিকটা রেগে গিয়েই ওকে তুলেছিল। ভেবেছিল, কয়েকদিন খেলিয়ে ছেড়ে দেবে। কিন্তু সায়ক খুব জটিল জিনিস। ছ’মাস হয়ে গেল, এখনও ঝিমলির বুকের দিকে তাকাল না। ঝিমলিই উলটে সায়কের প্রেমে পড়ছে!
‘দিলওয়ালে দুলহানিয়া লে জায়েঙ্গে’ দেখার প্রস্তাবটা ঝিমলিই দিয়েছিল। আজ ১৯ অক্টোবর, শুক্রবার। সিনেমাটা আজই রিলিজ করেছে। অতীতে কাজলের একটাই সিনেমা দেখেছে ঝিমলি, ‘বেখুদি’। কমল সাদানা নামের সুন্দর একটা হিরো আছে। শ্যামবর্ণ, মোটাসোটা চেহারার, ‘চশমিশ’ কাজলকে দেখলে হাড়পিত্তি জ্বালা করে। নেহাত তনুজার মেয়ের প্রথম ছবি, তাই দেখতে গিয়েছিল। জঘন্য সিনেমা! কাজল যে কোনওদিন হিরোইন হতে পারবে না, এটা ঝিমলি বুঝে গিয়েছিল। তবে এই সিনেমাটা দেখে মনে হচ্ছে মেয়েটা লম্বা রেসের ঘোড়া।
সায়ক ঘড়ি দেখছে। বিরক্ত হয়ে ঝিমলি বলল, “বোকার মতো ঘড়ি দেখছিস কেন? তোর এখন একটাই কাজ। আমার সঙ্গে ঘোরা।”
লাজুক হেসে সায়ক বলল, “আমাকে একবার মৌলালি যেতে হবে। পিসি নোটস দেবে বলেছে।”
কার্জন পার্ক থেকে বেরিয়ে একটা ট্রাম হেলেদুলে খিদিরপুরের দিকে যাচ্ছে। হাত দেখিয়ে ট্রাম থামাল ঝিমলি। সায়কের হাত ধরে টেনে প্রথম কামরায় তুলে বলল, “পিসি মানে ইংলিশের প্রবোধ চক্রবর্তী?”
“হ্যাঁ,” চলন্ত কামরা থেকে নামার চেষ্টা করছে সায়ক।
“নো ওয়ে,” সায়কের কলার ধরে কাঠের আসনে বসায় ঝিমলি, “কোনও পিসি বা মাসির বাড়ি যাওয়া যাবে না। আমরা এখন ফ্যান্সি মার্কেট থেকে কয়েকটা স্কার্ফ কিনব।”
“স্কার্ফ কেনার জন্য ফ্যান্সি মার্কেট? ধর্মতলায় পাওয়া যেত না?” পিছনের কামরার দিকে তাকায় সায়ক।
“বিদেশি স্কার্ফ ওখানেই পাওয়া যায়। ভাল কোয়ালিটির মাল কবে যে কলকাতার সব জায়গায় পাওয়া যাবে!” দীর্ঘশ্বাস ফেলে ঝিমলি।
সায়ক পিছনের কামরায় যাদের দেখল, তারা মান্তা আর হাফবান্টি। এদের ভাল নাম আছে। তবে ‘জনাদেশ’ পার্টিতে এদের পরিচয় ওই নামেই।
জনাদেশ পার্টি ক্ষমতায় আছে গত ১৫ বছর। ‘৮০ সালের বিধানসভা নির্বাচনে জিতে ক্ষমতায় এসেছিল। এই ‘৯৫ সালে তারাই রাজ্যের এক থেকে ১০ নম্বর সংগঠন। রাজ্যের অধিকাংশ মানুষ জনাদেশ পার্টির সিমপ্যাথাইজ়ার, সমর্থক অথবা পার্টি সদস্য।
তবে মান্তা আর হাফবান্টি ওইসব ক্যাটেগরিতে পড়ে না। তারা অ্যাকশন স্কোয়াডের সঙ্গে যুক্ত। কলকাতা জেলা কমিটির তরুণ নেতা উৎপল বসুমল্লিক আর মনোময় দাশের ঘনিষ্ঠ হওয়ার সুবাদে জনাদেশ পার্টির মাস্ল পাওয়ার দেখানোর দায়িত্ব এখন এই যুগলের।
অতীতে আখড়ায় মুগুর ভাঁজত মান্তা। মধ্য তিরিশে ভুঁড়ি হয়ে গেলেও রাবণের মতো চেহারা। হাফবান্টির নাম আগে বান্টি ছিল। বোম বাঁধতে গিয়ে বাঁ হাত উড়ে যাওয়ার পরে ‘হাফ’ জুড়ে গিয়েছে। দু’জনেই কলাবাগান বস্তিতে থাকে, বিবাহিত। দু’জনেরই একটা করে মেয়ে আছে। বাইরে মস্তানি করলেও বাড়িতে বউয়ের ভয়ে জুজু হয়ে থাকতে হয়। মাল খাওয়া নিয়ে এত অশান্তি করে যে, বলার নয়। বউয়ের ভয়ে সন্ধেবেলা মাল টানা বন্ধ করেছে দু’জনেই। দিনে মেরে দিলে সন্ধের মধ্যে গন্ধ-ফন্দ ফিনিশ।
মাল খাওয়া নিয়ে বউগুলো হুড়ো দিলে মেয়েগুলো পিছনে লাগে বিড়ি-সিগারেট খাওয়া নিয়ে। জামার পকেটে সিগারেটের প্যাকেট দেখলেই জানালা দিয়ে বাইরে ফেলে দেয়। কমরেডদের গিফ্ট করা বিলিতি কোম্পানির সিগারেট সব! কিনতে না হলেও, গায়ে তো লাগে।
মান্তা আর হাফবান্টির হাতে হঠাৎ প্রচুর টাকা আসতে শুরু করেছে। কেন, বোঝা যাচ্ছে না। ফলে দু’জনেরই মাথা ঘুরে গিয়েছে। আর শুধু ক্যাশ হলেও না হয় কথা ছিল। সঙ্গে ‘কাইভ’ও আছে। বিলিতি সিগারেট লাইটার, মালের বোতল, ভিসিআর, টেলিভিশন, কী নয়।
আজই যেমন হল। ওয়েলিংটনের বস্তির ফেডারেশনের অফিস থেকে দু’জন সবে বেরিয়েছে, পেল্লায় একটা চারচাকা ঘ্যাঁচ করে পায়ের কাছে এসে ব্রেক কষল। বান্টি খিস্তি করার আগেই দেখল, গাড়ি থেকে নামছেন কমরেড অশোক লুনিয়া। হাফবান্টির হাতে একটা বিশাল বোতল ধরিয়ে, মুষ্টিবদ্ধ হাত উপরে তুলে আবার গাড়িতে উঠলেন।
কমরেড লুনিয়ার উপহার দেওয়া মালের নাম বাপের জন্মে শোনেনি মান্তা আর হাফবান্টি। ‘গ্লেন’ দিয়ে শুরু, বাকিটা পড়তে পারেনি। এটা যে ‘স্কচ’, সেটাও লেখা আছে।
কাচের বোতলের লাফড়া অনেক। কোল্ড ড্রিঙ্কের প্লাস্টিকের বোতলে মাল ঢেলে নিয়েছিল মাস্তা। স্কচ জিনিসটা হুইস্কি না রাম, নাকি অন্য কিছু, তা নিয়ে শেষ দুপুর থেকে গভীর আলোচনা শুরু হয়েছে। এখন সন্ধে। বোতলের অর্ধেক শেষ। একফোঁটা নেশা হয়নি।
শুধু হালকা ঝিম ধরেছে। এর মধ্যে ওরা ঝিমলিকে দেখতে পেল। ঝিমলিকে দেখে ওদের মনে হল, ভর সন্ধেবেলা যে-মেয়ে প্যান্টুল পরে নাং-এর হাত ধরে নাচে, সে বাজে মেয়ে। বাজে মেয়েদের পাখি দেওয়া ছেলেদের সামাজিক দায়িত্ব।
ট্রামে উঠে আবার বোতলে চুমুক। ফোর্ট উইলিয়ামের সাউথ গেট আসার আগেই মাল শেষ। ট্রামের জানালা দিয়ে প্লাস্টিকের বোতল বাইরে ফেলে দেয় হাফবান্টি। দু’জনে দ্বিতীয় কামরা থেকে প্রথম কামরায় চলে আসে, ট্রাম চালু হয়। একদিকে ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডের জমাট বাঁধা অন্ধকার। অন্যদিকে ফোর্ট উইলিয়ামের প্রাচীর। মাঝখান দিয়ে নাগরিক কেন্নো একেবেঁকে চলেছে। মান্তা সিগারেট ধরিয়ে হাফবান্টির মুখে গুঁজে দিল। নিজের জন্য আর একটা সিগারেট ধরাল।
এই কামরায় ওঠার পর থেকেই ওদের দেখছিল ঝিমলি। এবার কঠিন গলায় বলল, “ট্রামে ধুমপান করা দণ্ডনীয় অপরাধ।”
মান্তা ঘোলাটে চোখে ঝিমলির দিকে তাকাল। তার চোখেমুখে গনগনে রাগ। পাতলা হেসে তর্জনী, মধ্যমা আর বুড়ো আঙুলের মধ্যে জ্বলন্ত সিগারেটের ফিলটার ধরে ঝিমলির দিয়ে এগিয়ে বলল, “দণ্ড…নিও।”
“সিগারেট ফেলুন!” রাগে ফুঁসছে ঝিমলি।
সায়ক তার হাত ধরে টেনে বলল, “আহ! তুই চুপ কর না! তোর সঙ্গে বেরনোই অন্যায় হয়েছে।”
“হয়েছে তো,” জড়ানো গলায় বলল হাফবান্টি, “খুব অন্যায় হয়েছে। এবার যে অন্যায়ের শাস্তি পেতে হবে মামণি!”
“মুখ সামলে!” চিৎকার করে ঝিমলি। মাস্তার হাত থেকে জ্বলন্ত সিগারেট কেড়ে নিয়ে ট্রামের জানালা দিয়ে বাইরে ফেলে দিল। কন্ডাক্টর ঘণ্টি মেরে রেসকোর্সের পাশে ট্রাম দাঁড় করিয়ে মাতালযুগলকে বলল, “এই ভাই! আপনারা নেমে যান। ট্রামে মাতলামো করবেন না।”
মান্তা খুনে দৃষ্টিতে কন্ডাক্টরের দিকে তাকাল। তাকাল অন্ধকার রেসকোর্সের দিকে। ধূর্ত হাসি ফুটে উঠল তার মুখে। বলল, “নামছি দাদা। পিলিজ রাগ করবেন না।”
তারপর কেউ কিছু বুঝে ওঠার আগেই ঝিমলির হাত ধরে এক হ্যাঁচকায় ট্রাম থেকে নামিয়ে নিল। পুরো ব্যাপারটা এত দ্রুত ঘটল যে, ঝিমলি চিৎকার করারও সময় পেল না।
কন্ডাক্টর আবার ঘণ্টি মেরেছে। স্থিতি থেকে গতিতে ফেরার অনুমোদন পেয়ে ট্রামের ড্রাইভার খুশি। ধাতব পাতের ওপর দিয়ে নড়বড় করে খিদিরপুরের দিকে চলে যাচ্ছে নাগরিক কেন্নো।
সায়ক আর হাফবান্টিও চলন্ত ট্রাম থেকে লাফ মারল। দু’জনেই আলুর বস্তার মতো ঘাসের ওপরে গড়াগড়ি খেল। প্রথমে উঠে দাঁড়াল হাফবান্টি। এই সব ন্যাকা কলেজ ছোকরাকে শায়েস্তা করার জন্যে এক হাতই যথেষ্ট। সায়কের পেটে লাথি মেরে হাফবান্টি বলল, “মাগিবাজি হচ্ছে?”
লাথি খেয়ে চোখমুখে অন্ধকার দেখছে সায়ক। কোনওরকমে উঠে দাঁড়িয়ে চিৎকার করল, “ঝিমলি।”
এবার প্রফেশনাল স্ট্রিট ফাইটারের কায়দায় ঘুসি চালাল হাফবান্টি। ডান গাল, বাঁ গাল, চিবুক, তলপেট। আবার মাঠে আছড়ে পড়ল সায়ক। চুলের মুঠি ধরে তুলে পেটে, বুকে আর পায়ে আরও গোটাদশেক লাথি। শেষ লাথিতে ডান পায়ের শিন বোন ভেঙে গেল।
প্রবল যন্ত্রণায় সায়ক গোঙাচ্ছে। চেতনাহীন হওয়ার আগে আবার চেঁচাল “ঝিমলি-ই-ই!”
বিরক্ত হাফবান্টি সায়কের চুলের মুঠি ধরে রেসকোর্সের রেলিংয়ে বারদশেক ঠুকে দিল। সায়কের গাল দিয়ে, ঠোঁট দিয়ে, মাড়ি দিয়ে ঝরঝর করে রক্ত বেরচ্ছে। নীচের পাটির দুটো দাঁত ভেঙে গিয়েছে। কাঁধের হাড় সরে গিয়েছে। মাথা ফেটে রক্তক্ষরণ হচ্ছে, সায়ক অজ্ঞান হয়ে যাচ্ছে। তার মধ্যেই বিড়বিড় করছে, “ঝিমলি …”
ময়দান থানার মেজবাবু রাত সাড়ে আটটার সময় ট্রামলাইনের পাশে সায়কের রক্তাক্ত, বেহুঁশ দেহ দেখতে পান। পিজি হাসপাতালের ইমার্জেন্সিতে জুনিয়র ডাক্তার যখন সায়কের গালে স্টিচ করছে, তখন তার জ্ঞান ফেরে। এক ধাক্কায় জুনিয়র ডাক্তারকে সরিয়ে সায়ক চিৎকার করে, “ঝিমলি?”
জুনিয়র ডাক্তার বলল, “ঝিমলি আবার কে?”
ডাক্তারের হাত ধরে হাউহাউ করে কাঁদতে-কাঁদতে সায়ক পুরো ঘটনার বিবরণ দিল। স্টিচ করা বন্ধ রেখে ডাক্তারটি ময়দান থানার মেজবাবুর কাছে দৌড়ল। তিনি এখনও হাসপাতালে আছেন। সায়কের বয়ান রেকর্ড করে থানায় ফিরবেন।
মেজবাবুর সেই রাতে থানায় ফেরা হয়নি। রক্তাক্ত অবস্থায় ঝিমলিকে পাওয়া যায় রেসকোর্সের ভিতরে, ঝোপঝাড়ের মধ্যে। তার পোশাক-আশাক আশেপাশে ছড়িয়ে রয়েছে, শরীরময় কালশিটে। মাথায় বেশ বড় আঘাতের চিহ্ন। মাথা এবং যোনি থেকে প্রচুর রক্তক্ষরণের ফলে সে অজ্ঞান।
মেজবাবু ঝিমলিকে পিজি হাসপাতালে ভর্তি করলেন রাত একটায়। দু’ বোতল রক্ত দেওয়ার পরেও ঝিমলির জ্ঞান ফিরল না।
রাত তিনটের সময় মেজবাবু সায়ককে বললেন, “নাম বলুন।”
“আমার নাম সায়ক হালদার। বাবার নাম পূর্ণেন্দু হালদার।”
“আপনার নয়,” সায়ককে থামালেন মেজবাবু, “ভিক্টিমের নাম।”
“ভিক্টিম! ঝিমলিকে ভিক্টিম বলছেন কেন? তা হলে আমিও তো ভিক্টিম!”
“ওফ! প্রশ্ন আপনি করবেন, না আমি করব? যে মেয়েটা রেপ হয়েছে, তার নাম বলুন।”
“ঝিমলির কী হয়েছে?” শিউরে ওঠে সায়ক।
“ধুর শালা! মেয়েটার নাম বল না বে! আমার কাজ নেই নাকি?”
সায়ককে এক ধমক দিলেন মেজবাবু। পেনকিলার আর ঘুমের ইঞ্জেকশনের ডাল ডোজে ঝিমিয়ে থাকা সায়ক বিড়বিড় করে বলল, “ভিক্টিমের নাম ঝিমলি চট্টোপাধ্যায়। ভিক্টিমের বাবার নাম…”
