সকলই ফুরাল স্বপনপ্রায়
সপ্তাহখানেক আগে ডায়েরিয়া হয়েছিল। দিনে ১০ থেকে ১২বার পটি। তাও ডাক্তার দেখায়নি নন্দিনী। নিজেই ট্যাবলেট খেয়ে নিয়েছিল। ডায়েরিয়া আর নেই, তবে শরীর এখনও দুর্বল। আজকের পার্টিতে যাওয়ার একদম ইচ্ছে নেই।
টালিগঞ্জের এক নম্বর অভিনেত্রী হওয়ার সুবাদে নন্দিনী সরকার প্রতিদিন পাঁচ থেকে সাতটা ‘পেজ থ্রি পার্টি’-র আমন্ত্রণ পায়, তবে যায় না। স্টারদের ওভার এক্সপোজড হতে নেই।
নন্দিনীর গল্ফ ক্লাব রোডের বাড়ির উলটোদিকেই ‘পশ কিটেন’ বিউটি পার্লার। পশ কিটেনের মালকিন রিলার সঙ্গে নন্দিনীর ১০ বছরের সম্পর্ক। নন্দিনীর প্রথম ছবি ‘অহর্নিশ’। তখন থেকেই ওর মেকআপ আর চুলের দায়িত্বে রয়েছে রিলা।
নন্দিনী ফোন করে রিলাকে ডেকে নিল। ইংরেজি খবরের কাগজ ‘সিটিজ়েন’ এই পার্টি থ্রো করেছে। কাগজের মূল এডিশন বেরোয় দিল্লি থেকে। কলকাতা এডিশনের নাম ‘ক্যালকাটা সিটিজেন’, সংক্ষেপে ‘সিসি’। পার্টির থিম, ‘দিলওয়ালে দুলহানিয়া লে জায়েঙ্গে’ বা ‘ডিডিএলজে’-র ২০ বছর পূর্তি। এই পার্টিতে না গেলে সিসি-র এডিটর পুষ্কর ভৌমিক খচে যাবে। নন্দিনী মিডিয়াকে চটাতে চায় না। ওরাই তাকে টালিগঞ্জের এক নম্বর অভিনেত্রীর খেতাব দিয়েছে।
খেতাবের মধ্যে অবশ্য বড়সড় একটা চিমটিও আছে। নন্দিনী এক নম্বর অভিনেত্রী হতে পারে, কিন্তু টালিগঞ্জের এক নম্বর হিরোইন হল দোলনচাঁপা। নন্দিনী আর দোলনচাঁপা একসঙ্গে কেরিয়ার শুরু করেছিল। ১০ বছর পার করে দোলনচাঁপা আজও জিন্স, মিনিস্কার্ট বা গাছকোমর করে বাঁধা শাড়ি পরে ভানুপ্রতাপ, সায়নদেব বা কুমার উদয়নের সঙ্গে নাচছে। কখনও রায়চকে, কখনও ডুয়ার্সে, কখনও রাজস্থানে, কখনও বা গ্রিসে। ‘ওস্তাদ’, ‘বাটপার’, ‘যুদ্ধ’, ‘মৃত্যুহীন প্রেম’…এইসব হিরোকেন্দ্রিক ছবিতে দুটো লভ সং, একটা স্যাড সং ক্লাইম্যাক্সে হিরো-ভিলেনের ঝাড়পিটের সময় ক্লোজ আপে ভয়ের এক্সপ্রেশন দেওয়া আর শেষ সিনে হিরোর কাঁধে মাথা রেখে দাঁত কেলিয়ে হেসে আজ দোলনচাঁপা এক নম্বর হিরোইন! আর আর্ট ফিল্ম, প্যারালাল ফিল্ম বা মিডল অব দ্য রোড ফিল্ম, ইন্ডিপেনডেন্ট মুভিতে অভিনয় করে চারটে ন্যাশনাল অ্যাওয়ার্ড আর একগাদা ইন্টারন্যাশনাল অ্যাওয়ার্ড পেয়ে নন্দিনী এক নম্বর অভিনেত্রী! কোলাব্যাঙের মতো প্রোডিউসরগুলো প্রথম মিটিংয়েই বলে, “একদম অন্যরকম একটা ছবি করছি। ভীষণ ইন্টারেস্টিং সাবজেক্ট!” নন্দিনী পরের লাইনগুলো জানে। “প্রধান চরিত্রে আপনি। তবে খুব বেশি টাকা দিতে পারব না। বাজেট কম!”
‘অন্যরকম’! ইন্টারেস্টিং’! শব্দদুটো শুনলেই হাড়পিত্তি জ্বালা করে নন্দিনীর। কেন রে শালা? ব্লকবাস্টার কিংবা ফাটাফাটি মুভি বানানোর সময় নন্দিনী সরকারের কথা মনে পড়ে না?
নন্দিনীর কেরিয়ার শুরু ২২ বছর বয়সে। ‘কাটাকুটি খেলা’ মেগা সিরিয়ালে অভিনয় করে লাইমলাইটে আসা। ২৩ বছর বয়সে ওই মেগার ডিরেক্টর অমল সরকারের সঙ্গে বিয়ে। ২৫ বছর বয়সে প্রথম ছবি ‘অহর্নিশ’। বিজ্ঞাপন ছবি নির্মাতা অনির্বাণ দত্ত প্রথম ছবিতেই চারটে ন্যাশনাল অ্যাওয়ার্ড বাগিয়েছিল। আর সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কার পেয়েছিল নন্দিনী সরকার। ওই ন্যাশনাল অ্যাওয়ার্ডই কাল হল। নন্দিনীর গায়ে আর্ট ফিল্মের অভিনেত্রীর ছাপ্পা পড়ে গেল। পরের দু’বছর হাতে একটাও ছবি না থাকায় ফ্রাস্ট্রেটেড হয়ে নন্দিনী মদ ধরল। অমল সরকার মেগা সিরিয়ালের ডিরেক্টর হলেও ছা-পোষা টাইপ। মাসছয়েক নন্দিনীর ট্যানট্রাম্স সহ্য করল। তারপর গল্ফ ক্লাব রোডের বাড়ি ছেড়ে প্রিন্স আনোয়ার শাহ রোডের ফ্ল্যাটে চলে গেল। অমল আর নন্দিনী এখনও অফিশিয়ালি বিবাহিত, ডিভোর্সের ঝামেলায় কেউ যেতে চায়নি।
গল্ফ ক্লাব রোডের বাড়িতে একা হয়ে গিয়ে নন্দিনী আশনাই শুরু করল টালিগঞ্জের এক নম্বর হিরো সায়নদেবের সঙ্গে। ভেবেছিল, প্রেমের অভিনয় আর ইমোশনাল ব্ল্যাকমেল দিয়ে হিরোইনের রোল পাবে। সায়নদেব ঘাগু মাল! মাসছয়েক খেলাধুলো করে বউয়ের কাছে ফেরত গেল।
রাগের চোটে নন্দিনী পাকড়াও করল প্যারালাল ফিল্মের হিরো তীর্থঙ্করকে। ৪৬ বছরের লোকটাকে ঠিকঠাক ব্যবহার করে গোটাতিনেক ছবি বাগিয়ে আর বারপাঁচেক বিদেশ ভ্রমণ করে তীর্থঙ্করকেও ডাম্প করল, তারপর এল বাচ্চা হিরো ভানুপ্রতাপ। ভানুপ্রতাপের সঙ্গে শোওয়ার সুবাদে মাঝারি বাজেটের কমার্শিয়াল মুভিতে হিরোইনের রোল পাচ্ছিল নন্দিনী। ছবিগুলো মফস্সল আর গ্রামবাংলায় ঠিকঠাক চলছিলও। কিন্তু মুশকিল হল, ভানুপ্রতাপ নন্দিনীর প্রেমে পড়ে গেল। নন্দিনী আবার ‘প্রেম’ ব্যাপারটা সহ্য করতে পারে না। “উই আর গুড ফ্রেন্ডস”, “আমার সঙ্গে তোর মেলামেশাটা মিডিয়া ভালভাবে নিচ্ছে না’, “রোজ রাত্তিরে তোর এখানে থাকা নিয়ে অমল খুব ডিস্টার্বড। আমি বরং তোর বাড়িতে গিয়ে থাকব। তুই কাকিমার সঙ্গে কথা বল, এইসব ভুজুং দিয়ে ভানুপ্রতাপকে বাড়ি পাঠাল নন্দিনী। তার এক সপ্তাহের মধ্যে কুমার উদয়নের সঙ্গে রংরলিয়া শুরু হয়! গ্রুপ থিয়েটার থেকে উঠে আসা ছোকরা খুব শিগগির টালিগঞ্জের এক নম্বর হিরোর জায়গা নেবে। সায়নদেবের আসন টলল বলে।
[page 17 missing]
ব্যাকগ্রাউন্ডে ডিডিএলজে-র গান বাজছে। ব্যাঙ্কোয়েট হল সাজানো হয়েছে পঞ্জাবি বিয়ের মণ্ডপের মতো। নন্দিনী প্রথমে সায়নদেবের সঙ্গে নাচল। একটু জিরিয়ে নিয়ে, একটা ফ্লেভারড ভদকা মেরে তীর্থঙ্করকে নাচাল। আর্ট ফিল্মের অ্যাক্টর তো ফিল্মি ডান্স পারে না। নেকু! আরও এক পেগ খেল নন্দিনী। ভানুপ্রতাপের সঙ্গে নাচ তারপর কুমার উদ্যানের সঙ্গে। খবরের কাগজের পাটিতে এর বেশি ড্রিঙ্ক নেওয়া ঠিক না। কবে কী ছবি ছেপে দেবে। যাই হোক, ক্যালকাটা সিটিজেনের এডিটর পুষ্কর ভৌমিকের গালে চুমু খেয়ে রাত দেড়টার সময় নন্দিনী গাড়িতে উঠল।
*
নন্দিনীর ঘুম ভাঙল অদ্ভুত একটা অনুভূতি নিয়ে। তার পায়ের তলা জ্বালা করছে, সেই সঙ্গে ঝিনঝিনে ভাব। কী ব্যাপার? চোখ কচলে মোবাইলে সময় দেখল নন্দিনী। সকাল ১০টা। দু’পেগ ভদকা খেয়ে হ্যাংওভার হওয়ার কথা নয়। আর হ্যাংওভারে মাথাব্যাথা হয়। আজ কি পায়ে হ্যাংওভার হল? নিজের রসিকতায় নিজেরই হাসি পেল নন্দিনীর। বিছানা থেকে উঠতে গেল…
নন্দিনী বিছানা থেকে উঠতে পারছে না, পা নাড়াতে পারছে না! আঁতকে উঠে গায়ের চাদর সরাল। পা দুটো আছে তো? পা বহাল তবিয়তে দৃশ্যমান। তবে তাদের উপরে নন্দিনীর কোনও নিয়ন্ত্রণ নেই। একটু আগে বার্নিং সেনসেশন হচ্ছিল। এখন সেটা আর নেই। থাইয়ে একটা চিমটি কাটল নন্দিনী। কোনও অনুভূতি হল না। প্যারালিসিস হল নাকি?
ভ্যাট। হেসে ফেলে নন্দিনী। গন্ডগোল কিছু একটা হয়েছে। সেটা নিয়ে দুশ্চিন্তা না করে কুমার উদয়নকে ফোন করল। বর্তমান বয়ফ্রেন্ড এখন কোথায়? কুমার উদয়নের ফোন বেজে গেল। নির্ঘাৎ ঘুমোচ্ছে। এবার কাকে ফোন করা যেতে পারে? আবার পা তোলার চেষ্টা করল নন্দিনী। হচ্ছে না। শরীরের নীচের দিক তার কথা শুনছে না। প্রচণ্ড ভয় পেয়ে এবার তীর্থঙ্করকে ফোন করল। তীর্থঙ্কর লাইন কেটে দিল। এবার ভানুপ্রতাপ, তার ফোন সুইচড অফ। এবার সায়নদেব। সে ফিসফিস করে বলল, “মিটিংয়ে আছি। উইল টক লেটার,” লাইন কেটে দিল।
বর্তমান ও প্রাক্তন বয়ফ্রেন্ডরা বিপদের সময় ফোন ধরছে না। বাধ্য হয়ে অমলকে ফোন করল নন্দিনী। একবার রিং হওয়ার পরেই অমলের সুভদ্র কণ্ঠস্বর শোনা গেল, “হ্যাঁ, বলো।’
“তোমাকে একবার আসতে হবে অমল!” হাউহাউ করে কাঁদছে নন্দিনী, “ঘুম থেকে উঠে দেখছি আমার পায়ে প্যারালিসিস হয়েছে।” নন্দিনীকে থামিয়ে অমল বলল, “কাল রাতে ক’ পেগ টেনেছিলে?”
“ওসব নয় অমল!” হাঁফাচ্ছে নন্দিনী, “দিস ইজ় সামথিং এল্স। আমার কোনও খারাপ অসুখ হয়েছে। প্লিজ় এসো।”
“আসছি,” দীর্ঘশ্বাস ফেলে ফোন কাটল অমল।
*
গল্ফ ক্লাব রোডে ট্যাক্সি থেকে নেমে অমল দেখল বাড়ির সামনে, কলকাতার নামকরা নার্সিংহোম সেন্টিনেল মেডিক্যাল রিসার্চ ইনস্টিটিউট-এর অ্যাম্বুল্যান্স দাঁড়িয়ে রয়েছে। ট্যাক্সি ভাড়া মিটিয়ে অমল বাড়িতে ঢুকল। নন্দিনীর সত্যিই সিরিয়াস কিছু হল নাকি?
একতলায় রিলা মুখ চুন করে দাঁড়িয়ে। অমলকে দেখে দৌড়ে এসে বলল, “আপনাকে ফোন করার পরে নন্দিনী আমাকে ফোন করেছিল। আমি এসে ওর অবস্থা দেখে সেন্টিনেলের হেলপলাইনে ফোন করি।”
“ওর হয়েছেটা কী? আমাকে তো ফোনে বলল…” নন্দিনীর সঙ্গে ফোনালাপের কথা রিলাকে বলল অমল।
রিলা বলল, “আপনাকে ফোনে যা বলেছিল, তার সঙ্গে নতুন সিমটম যোগ হয়েছে। নন্দিনীর পায়ের পাতা থেকে নাভি পর্যন্ত সাড় চলে গিয়েছে ওই তো! ডাক্তার সীমান্ত ঘোষ আসছেন। আপনি জেনে নিন।”
লম্বাচওড়া, ফরসা, ক্লিন শেভ্ন এবং সুপুরুষ, বছর তিরিশের সীমান্তকে অমল বলল, “নমস্কার। আমার নাম অমল সরকার। নন্দিনীর হাজব্যান্ড। আমি এখানে থাকি না। ফোন পেয়ে দৌড়ে এলাম।”
সীমান্ত বলল, “আপনাকে আমাদের সঙ্গে যেতে হবে।”
অমল এখনও নন্দিনীর কাছে যায়নি। সে রিলাকে বলল, “নন্দিনী নার্সিংহোমে ভর্তি হলে বাড়ির কী হবে?”
রিলা বলল, “নন্দিনী বেরলে বাড়ির চাবি আমাকে দিয়ে যেত। পার্লার আছে, তাই আমার কোথাও যাওয়ার উপায় নেই। আপনি অ্যাম্বুল্যান্সে উঠে পড়ুন। আমিও যাব। বাড়ি ঠিকঠাক রাখার দায়িত্ব আমার কর্তার।”
ট্রলিতে করে নন্দিনীকে আনা হচ্ছে। তাকে অ্যাম্বুল্যান্সে তোলার পরে রিলা, সীমান্ত আর সিস্টার উঠল। সীমান্ত বলল, “অমলবাবু, উঠে আসুন।”
অমল অ্যাম্বুল্যান্সে ওঠার পরে সীমান্ত দরজা বন্ধ করল। অ্যাম্বুল্যান্স চলতে শুরু করেছে। অ্যাম্বুল্যান্সের এসির তাপমাত্রা কত ডিগ্রিতে সেট করা আছে, কে জানে! অমলের বেশ শীত করছে।
রিমোট টিপে এসির তাপমাত্রা বাড়িয়ে সীমান্ত বলল, “অমলবাবু, আপনার স্ত্রীর যে রোগটা হয়েছে, তাকে বলা হয় অ্যাসেন্ডিং প্যারালিসিস। এতে স্পাইনাল কর্ডের একদম নিচতলা সবার আগে হরতাল করে। সেই হরতাল আস্তে-আস্তে উপর দিকে ওঠে।”
“এটা কেন হয়?” জানতে চায় রিলা। সে নন্দিনীর মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছে। অমল এতক্ষণে সাহস করে নন্দিনীর দিকে তাকাল।
নন্দিনীর দৃষ্টিতে শূন্যতা, চোখে জল। সে প্রবল বেগে হাঁফাচ্ছে। সীমান্ত বলছে, “অনেক কারণে অ্যাসেন্ডিং প্যারালিসিস হতে পারে। অন্যতম প্রধান কারণ ভাইরাল ইনফেকশন। সে ক্ষেত্রে রোগটার নাম গুল্যা বারি সিনড্রোম বা জিবিএস। সাধারণত এই রোগের ক্ষেত্রে সপ্তাহখানেক আগে ভাইরাল ইনফেকশনের হিস্ট্রি থাকে।”
রিলা বলল, “একসপ্তাহ আগে নন্দিনীর ডায়েরিয়া হয়েছিল।”
“হিসেব মিলে যাচ্ছে,” মৃদু হাসে সীমান্ত, “ফাইনাল ডায়গনোসিসের জন্য ওর স্পাইনাল ফ্লুইড ট্যাপ করতে হবে…”
ইংরেজি সাহিত্যের ছাত্র অমল জিবিএস বলতে বোঝে জর্জ বার্নার্ড শ। ওই নামে যে একটা কঠিন রোগ থাকতে পারে, সেই ধারণা ছিল না। মাথা নিচু করে সে বলল, “এই রোগের চিকিৎসা কী?”
“গুল্যা বারি সিনড্রোমের পেশেন্টরা অধিকাংশ ক্ষেত্রে নিজের থেকেই সুস্থ হয়ে যায়। এখন নানারকম ওষুধ বেরিয়েছে। তবে খুব কম পার্সেন্টেজের ক্ষেত্রে স্নায়ুর হরতাল ক্রমশ উপর দিকে ওঠে। ফুসফুসের পেশি কাজ করা বন্ধ করে দিলে শ্বাসপ্রশ্বাস নেওয়া বন্ধ হয়ে যায়। তখন…” চুপ করে সীমান্ত।
“তখন কী?” সীমান্তর হাঁটু খামচে জানতে চায় অমল।
নন্দিনীর মুখে অক্সিজেন মাস্ক পরিয়ে সীমান্ত বলল, “রেসপিরেটরি প্যারালিসিস হয়ে পেশেন্ট মারা যায়। তবে নন্দিনীর ক্ষেত্রে সেটা হবে না। আমরা সেন্টিনেলে পৌঁছে ওঁকে আইসিইউতে রাখব। ডক্টর চ্যাটার্জি আছেন। উনি আপনাকে সব বুঝিয়ে বলবেন।”
“আপনি আইসিইউতে থাকবেন না?”
“না, আমি মেডিসিন ডিপার্টমেন্টে আছি। এই রকম ইমার্জেন্সিতে অ্যাম্বুল্যান্সের সঙ্গে আসতে হয়। আপনি এসব নিয়ে চিন্তা করবেন না। আপনার স্ত্রীকে ভেন্টিলেটরে রাখা অবধি আমি সঙ্গে থাকব।”
“নন্দিনীকে ভেন্টিলেটরে রাখতে হবে!” বিড়বিড় করে অমল, “কতদিন?”
সীমান্ত জবাব দেয়, “যতদিন না রিকভারি হয়!”
