আছে দুঃখ আছে মৃত্যু
ঐশানী জলের তলায় হাবুডুবু খাচ্ছে। কোনদিকে সাঁতরালে জলতল পাওয়া যাবে আর কোনদিকে সাঁতরালে আরও গভীরে তলিয়ে যাবে, এই বোধটাই নেই। আঁকুপাঁকু করে জল সরায় সে… শ্যাওলা, ঝাঁঝি আর আদিম লতাগুল্ম পা জড়িয়ে ধরে… চিৎকার করতে যায় ঐশানী। নাকে মুখে জল ঢুকে দম আরও আটকে আসে!
ঐশানীকে ঝাঁকাতে ঝাঁকাতে সিস্টার নমিতা বলল, “ দুঃস্বপ্ন দেখছ?”
ঘুম ভেঙে কিছুই চিনতে পারছে না ঐশানী। সে কোথায়, কার বিছানায়? এখন দিন না রাত? হাজার প্রশ্ন মাথায় ধাক্কা মারছে। অকস্মাৎ সব মনে পড়ে যায়। সিস্টার নমিতা তাকে ঘুমের ইনজেকশন দিয়েছিল। সে এখন সেন্টিনেলের আইসিইউ-এর রিকভারি রুমে শুয়ে রয়েছে। তার পাশের খাটে শুয়ে ঝিমলি। তার মোবাইলে তরুণের ফোন ঢুকছে।
ফোন কেটে দিয়ে মোবাইলে সময় দেখল ঐশানী। রাত তিনটে বাজে। সে প্রায় ঘণ্টাচারেক ঘুমিয়েছে। খাট থেকে নেমে সে জানালার পাশে দাঁড়াল। বাইরে গাঢ় অন্ধকার। তার মনে পড়ে গেল জ্ঞান ফিরে আসা আর সিস্টার নমিতার ইনজেকশন দেওয়ার মাঝখানের আধঘণ্টার কথা।
ঐশানীকে মেঝেতে পড়ে যেতে দেখে প্রতাপ আর অদ্রীশ জাপটে ধরেছিল। আইসিইউ-এর বাইরে যে বেঞ্চ পাতা আছে, সেখানে মিনিটদশেক শুয়ে থাকার পরে ঐশানীর জ্ঞান ফেরে। পাগলের মতো কাঁদতে-কাঁদতে, হেঁচকি তুলতে তুলতে, হাত পা ছুড়ে চিৎকার করে সে অদ্রীশকে বলেছিল, “কাকু, এ আমার কী হল? ও কাকু… বলো না!”
অদ্রীশ শূন্য চোখে ঐশানীর দিকে তাকিয়েছিল। বলেছিল, “সুধা অনেক আগে মারা গিয়েছে। বেগমও মারা গেল। একমাত্র ছেলেটাও ফিরবে কিনা ঠিক নেই! আমার কী হল তুই বলতে পারিস? আমি কেন বেঁচে থাকব?”
বাজ পড়ে ঝলসে যাওয়া বটগাছের মতো দেখাচ্ছিল অদ্রীশকে। পারুল তার হাত ধরে বলল, “দাদা, নীচে চলুন। গাড়িতে গিয়ে বসুন। এখানে দাঁড়িয়ে থেকে কোনও লাভ নেই।”
লম্বা করিডর ধরে পা ঘষে ঘষে হেঁটে যাচ্ছিল মোহনপুরের দুদে উকিল অদ্রীশ ঘোষ। কোথায় যাচ্ছিল, কেন যাচ্ছিল, কেউ জানে না!
ঐশানী দৃশ্যটা জাস্ট নিতে পারেনি। প্রতাপের বুকে ঝাঁপিয়ে পড়ে বলেছিল, “বাবা, সীমান্ত ভাল হবে না? ও বাবা, সীমান্ত ভাল হবে না?”
মালিনী পাশ থেকে ঐশানীকে জড়িয়ে ধরে বলেছিল, “তুই একটু শান্ত হ। একটু বিশ্রাম নে। সীমান্তর ভালমন্দ আর আমাদের হাতে নেই। ডক্টর চট্টোপাধ্যায়ের হাতে।”
ঐশানী বলেছিল, “শয়তানটা কোথায়? এখান থেকে পালায়নি তো?”
“শয়তান কেন বলছিস?” ঐশানীর মাথায় হাত বুলোচ্ছে মালিনী, “উনি আর সার্জন মঞ্জুলা মিলে সীমান্তর সিটি স্ক্যান করাতে চারতলায় গেলেন। এক্ষুনি আসবেন।” ঐশানী কিছু বলার আগে পুলিশ অফিসার বললেন, “ডক্টর চ্যাটার্জি কোথাও যাবেন না। আপনি চিন্তা করবেন না ম্যাডাম। আমরা ওঁকে নিয়েই এখান থেকে বেরব।”
“আপনি তো সীমান্তর সঙ্গে এসেছেন!” অবাক হয়ে বলেছিল ঐশানী। অফিসার বলেন, “আপনার বস ক্যালকাটা সিটিজেনের তরুণবাবু আমাকে যা বলার বলে গিয়েছেন। ওঁর ল্যাপটপে স্পাইক্যামে আপনার তোলা কিছু ক্লিপিংসও দেখেছি। উৎপল বসুমল্লিকের আনন্যাচারাল ডেথ নিয়ে আমিই থানায় এফআইআর করব। বড়ির পোস্টমর্টেম হবে।”
“তরুণদা কি চলে গিয়েছে?”
“হ্যাঁ,” লিফটের দিকে এগিয়ে যান পুলিশ অফিসার। ট্রলিবয় সীমান্তর ট্রলি ঠেলে আনছে। সঙ্গে আসছেন কৃতান্ত। প্রতাপ ব্যাকুল হয়ে জিজ্ঞাসা করল, “স্ক্যানে কী আছে ডাক্তারবাবু?”
“কিছু নেই,” গম্ভীর মুখে বলেছিলেন কৃতান্ত।
“সেটা ভাল খবর না খারাপ?”
“মাথায় হেমারেজ থাকলে আনকনশাসনেসের ডেফিনিট কারণ পাওয়া যেত। ইমার্জেন্সি সার্জারি করে ব্লাড ক্লট বার করা যেত। কীভাবে আপনাদের বোঝাই!” আঙুল দিয়ে চুলে ব্যাকব্রাশ করেন কৃতান্ত, “মানে… মাথায় চোটের ফলে সার্কিট ঘেঁটে গেছে। কোথায় ঘেঁটেছে, কতটা ঘেঁটেছে, বোঝা যাচ্ছে না। আমাদের ওয়েট করতে হবে।”
“মিথ্যে কথা! ইউ আর আ লায়ার!” মালিনীর কোলে মাথা রেখে হাউহাউ করে কাঁদছে ঐশানী, “আপনি আমার উপরে প্রতিশোধ নিচ্ছেন।”
কৃতান্ত ঐশানীকে বলেছিলেন, “তুমি আমার লেডি লাক। তোমার জন্য আমি ঝিমলিকে ফিরে পেয়েছি। আমি তোমার উপরে প্রতিশোধ নিতে পারি? সিস্টার ঐশানীকে একটা ঘুমের ইনজেকশন দিন। শি নিড্স রেস্ট।”
সিস্টার নমিতা ঐশানীকে ঘুমের ইনজেকশন দিয়েছিল। সিস্টারের কাঁধে মাথা রেখে রিকভারি রুমের দিকে যেতে যেতে ঐশানী দেখেছিল প্রতাপ আর মালিনী করিডরের বেঞ্চিতে একে অপরকে আঁকড়ে ধরে বসে রয়েছে। মালিনী নীরবে অশ্রুপাত করছে। প্রতাপ চোখের জল মুছিয়ে দিচ্ছে।
*
আবার তরুণ ফোন করছে। সবুজ বোতাম টিপে ঐশানী বলল, “বলো।”
“শোন, তোকে খুব গুরুত্বপূর্ণ তিনটে কথা বলার আছে। তোর পার্সোনাল ক্রাইসিস কত বড়, আই কেয়ার টু হুট্স। দিস ইজ ইমার্জেন্সি।”
ইনজেকশনের প্রভাবে স্নায়ু শিথিল। শোক বা দুঃখ, আনন্দ বা উত্তেজনা, কিছুই হচ্ছে না। হাই তুলে ঐশানী বলল, “বলো।”
“লিমা কপি লিখেছে। বাইলাইন যাচ্ছে তোর নামে। ঠিক আছে?”
“ঠিক আছে।”
“দু’ নম্বর ঘটনা। তোর চাকরিটা থাকছে।”
“আচ্ছা,” ঐশানী প্রতিক্রিয়াশূন্য।
“ডোন্ট রেসপন্ড লাইক আ জম্বি! তিন নম্বর ঘটনাটা মন দিয়ে শোন। তোর ভিডিয়ো ক্লিপিং কেনার জন্য নিউজ চ্যানেল থেকে অফার আছে। অ্যান্ড দে ওয়ান্ট টু পে হ্যান্ডসামলি। আমি বলেছি আমাদের লিগ্যাল সেলের সঙ্গে কথা বলতে। তবে তার আগে ওরা তোকে ফোন করবে।”
“আমাকে ফোন করতে বারণ করো তরুণদা। তুমি ওদের সরাসরি লিগ্যাল সেলের সঙ্গে কথা বলতে বলো।”
তরুণ নরম গলায় বলল, “সীমান্ত কেমন আছে?”
উত্তর না দিয়ে ফোন কাটে ঐশানী। সীমান্ত কোথায়? কেমন আছে সীমান্ত? সে কথা কে বলতে পারবে? সিস্টার নমিতা? কৃতান্ত? ঈশ্বর?
ঐশানী দেখল কৃতান্ত রিকভারি রুমে ঢুকছেন। ঝিমলির হাত নিজের হাতে নিয়ে ঐশানীকে বললেন, “যে-লোকটা পাঁঠাবলি দেয় অথবা বঁটিতে কুচ করে মুরগি কাটে, তার যেমন পাপবোধ থাকে না, আমারও তেমন পাপবোধ ছিল না। মেয়েটা হঠাৎ ‘বাবা’ বলে ডেকে সব গুলিয়ে দিল।”
ঐশানী চুপ। সে তো এইটাই চেয়েছিল। তবে তার আনন্দ হচ্ছে না কেন? আর এক ধাপ এগিয়ে বলা যায়, এই খবর শুনে তার মন খারাপ হচ্ছে কেন? হত্যাকারী এই চিকিৎসকের হাতে এখন সীমান্তর বাঁচামরা নির্ভর করছে বলে? কে জানে!
“আমি আত্মহত্যা করতে পারি, জানো ঐশানী,” ক্যাজুয়ালি বলছেন কৃতান্ত, “এই আইসিইউ-এর মধ্যে এমন অনেক ওষুধ, এমন অনেক সরঞ্জাম রয়েছে, যা দিয়ে নিজেকে কষ্টহীন মেরে ফেলা যায়। ইনফ্যাক্ট আমার এত আত্মগ্লানি হচ্ছে যে, মরে যেতে ইচ্ছে করছে। কিন্তু পারছি না।”
“সায়ক কোথায়?” জানতে চাইছে ঝিমলি।
কৃতান্ত বললেন, “তুই উঠে বসতে পারবি?”
“উঠে? বসতে?” নতুন দুটো শব্দ যত্ন নিয়ে উচ্চারণ করে ঝিমলি।
কৃতান্ত ধীরে-ধীরে লিভার ঘুরিয়ে খাটের উপরের দিক ৯০ ডিগ্রি কোণে অ্যাডজাস্ট করেন। অনেক বছর বাদে উঠে বসেছে ঝিমলি। খিলখিল করে হেসে হাততালি দিচ্ছে। মুখ দিয়ে বঁধু আওয়াজ করছে। ঝিমলির ঠোঁটের কোণ দিয়ে লালা গড়িয়ে পোশাক ভিজিয়ে দিচ্ছে।
কৃতান্ত মেয়ের খাটের ধাতব রেলিংয়ে ঠনঠন করে মাথা ঠুকতে- ঠুকতে বললেন, “আমার এখন বেঁচে থেকেও শান্তি নেই। মরে গিয়েও শান্তি নেই। আমি না থাকলে ঝিমলিকে কে দেখবে?”
কৃতান্তর কপাল ফেটে রক্ত বেরচ্ছে। কালো কোট ধূসর। টাই-এর রং ফ্যাকাশে লাল। আত্মবিশ্বাসী, উদ্ধত, অহঙ্কারী কৃতান্তকে পরাজিত সম্রাটের মতো লাগছে। কপালের রক্ত হাতের উলটো পিঠ দিয়ে মুছে বললেন, “মানুষ কখনও ঈশ্বর হতে পারে না। তার সেই অধিকার নেই।”
ঐশানী হঠাৎ ঝিমলির জায়গায় সীমান্তকে দেখতে পেল। সীমান্ত আস্তে আস্তে রোগা হয়ে যাচ্ছে। সীমান্তর পেশি শুকিয়ে যাচ্ছে, চামড়া খসখসে হয়ে যাচ্ছে, হাড় দুর্বল হয়ে পড়ছে, চোখের কোণে নেত্ৰমল জমছে, ক্যাথিটারের জন্য ইনফেকশন হচ্ছে…
কৃতান্তর দিকে তাকিয়ে ঐশানী বলে, “আপনার সঙ্গে একমত হতে পারলাম না ডক্টর চট্টোপাধ্যায়। মানুষকে কখনও-কখনও ঈশ্বরের জায়গা নিতে হয়। মৃতপ্রায় মানুষকে জোর করে বাঁচিয়ে রেখে কষ্ট বাড়ানোর কোনও মানে হয় না।”
ঝিমলি কাঠিকাঠি হাত দিয়ে কৃতান্তর কপালের রক্ত মুছে বলল, “সায়ক কোথায়?”
কৃতান্ত পকেট থেকে রুমাল বের করে কপালে চেপে ধরে বললেন, “তুমি কি আমায় কিছু বলতে চাইছ?”
“হ্যাঁ,” সাফ উত্তর ঐশানীর। “আপনি প্যাসিভ ইউথ্যানেসিয়ার আইনি পদ্ধতি বলুন। আমাকে কি কোর্টে আবেদন করতে হবে?”
“তুমি করলে হবে না। সীমান্তর বাবাকে আবেদন করতে হবে।”
“আপনি সীমান্তর লাইফ সাপোর্ট সিস্টেম খুলে দিন। অন্য কিছু করতে হবে না,” ঢোঁক গিলে বলে ঐশানী।
ঝিমলিকে পা ঝুলিয়ে বসিয়েছেন কৃতান্ত। একমুখ হাসি নিয়ে ঝিমলি পা দোলাচ্ছে। বলছে, “সায়ক কোথায়?”
“আমি পারব না ঐশানী। আমাকে মাফ করে দাও,” হাত জোড় করেন কৃতান্ত। “আর একটু পরেই পুলিশ আমাকে থানায় নিয়ে যাবে। শুনছি, মোহনপুরে অলরেডি জনাদেশ পার্টি আর নতুন দলের মধ্যে মারামারি শুরু হয়ে গিয়েছে। এইসব অশান্তির মধ্যে আমাকে আর জড়িয়ো না। প্লিজ…”
“শেষবার, ডক্টর চট্টোপাধ্যায়! এর জন্যে আপনার অতিরিক্ত কোনও শাস্তি হবে না। কিন্তু আপনার ছাত্রর যন্ত্রণা লাঘব হবে।”
“আমি আর মানুষ মারব না ঐশানী!”
“শেষবার, প্লিজ!”
দু’জনের কথার মধ্যে সিস্টার নমিতা আইসিইউ-এর দরজা খুলে বলল, “স্যার, ডক্টর ঘোষের জ্ঞান ফিরেছে!”
“কী?” চিৎকার করে ওঠে ঐশানী। রিকভারি রুমের দু’সারি খাটের মধ্যে দিয়ে হরিণীর দ্রুততায় ছুটে যায় আইসিইউর দরজার দিকে। সিস্টার নমিতাকে এক ধাক্কায় সরিয়ে দেওয়ার সময় তার শরীরে সিংহীর শক্তি। আইসিইউ-এর বেডের পাশে পৌঁছে, খাটের রেলিং ধরে সে বাজপাখির তীক্ষ্মতায় সীমান্তর দিকে তাকায়। মাথাময় ব্যান্ডেজ, সেলাইয়ের ক্ষত, চোখের নীচে জমে থাকা রক্ত, এইসবের মধ্য দিয়ে সীমান্ত স্থিরদৃষ্টিতে ঐশানীকে দেখছে। দৃষ্টিতে কোনও অনুভূতি নেই।
“বলো পুচুসোনা, কিছু বলো,” সীমান্তর হাত ধরে ঐশানী।
সীমান্ত কিছু বলতে গিয়ে চুপ করে যায়। অসহায়ভাবে ঘাড় নাড়ে। যেন, কথা কী ভাবে বলতে হয়, সে ভুলে গিয়েছে। তার দু’চোখের প্রান্তে দু’টি ফোঁটা তৈরি হচ্ছে। একটু বাদে ওরা অশ্রু হয়ে ঝরে পড়বে।
“প্লিজ কিছু বলো পুচুসোনা,” সীমান্তর হাত ধরে ভিক্ষা চাইছে ঐশানী, “আমার নামটা অন্তত বলো।”
“আমি। বেঁচে। আছি।” ধীরে-ধীরে তিনটে শব্দ উচ্চারণ করে সীমান্ত। পক্ষীমাতার মতো দু’ডানা বাড়িয়ে সীমান্তকে জড়িয়ে ধরে ঐশানী বলে, “হ্যাঁ পুচুসোনা। তুমি বেঁচে আছ। তোমার কিছু হয়নি।”
ঐশানী চুমুতে চুমুতে ভরিয়ে দিচ্ছে সীমান্তর বুক। ওরা দেখতেও পাচ্ছে না যে, আইসিইউ-এর দরজা খুলে যাচ্ছে। দু’জন ট্রলিবয় এসে উৎপল বসুমল্লিকের মৃতদেহ নিয়ে যাচ্ছে। পুলিশ অফিসার এসে কৃতান্তকে বলছেন, “আপনাকে একবার আমার সঙ্গে আসতে হবে।”
ঝিমলিকে সিস্টার নমিতার হাতে সঁপে দিয়ে কৃতান্ত আইসিইউ থেকে বেরিয়ে যাচ্ছেন। সেন্টিনেলের সাততলায়, ক্যাফের বাইরে প্রিন্ট এবং ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা দল বেঁধে দাঁড়িয়ে। ফ্ল্যাশবাবের ঝলমলে আলোয় ভোরের আগের এই কয়েকটা মুহূর্তকে দিন বলে মনে হচ্ছে। অজস্র প্রশ্ন করছে সাংবাদিকরা। কৃতান্ত কোনও কথা বলছেন না। আইসিইউ-এর দরজা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।
নিজের থেকেই উঠে বসল সীমান্ত। নিজেই নিজের বাঁ হাত থেকে আইভি লাইন খুলল। ঐশানীকে ধরে রিকভারি রুমের জানালার কাছে এল। এখান থেকে সেন্টিনেলের সামনেটা দেখতে পাওয়া যায়।
ঝিমলির কট ঠেলে-ঠেলে সিস্টার নমিতাও তাদের পাশে। জানালা দিয়ে বাইরের দৃশ্য দেখতে পেয়ে ঝিমলি খুব খুশি। সিস্টার নমিতাকে বলল, “বাবা কোথায়?”
সিস্টার নমিতা কাঁদছে। ঝিমলি আর সীমান্তকে ঐশানীর জিম্মায় রেখে সে আইসিইউতে ঢুকে গেল। অন্য পেশেন্টদের দেখাশোনা করতে হবে।
জানালা দিয়ে নীচে তাকিয়ে ঝিমলি বলল, “ওরা বাবাকে নিয়ে যাচ্ছে।”
ঐশানী বলল, “নীচের দিকে দেখো না। উপর দিকে দেখো।”
ঝিমলি আকাশের দিকে তাকিয়ে বলল, “ওখানে অন্ধকার।”
সীমান্তর কাঁধে মাথা রেখে ম্লান হাসে ঐশানী। প্রাক-ঊষা হোক বা গোধূলি, এই সময়টা সবার গুলিয়ে যায়। অন্ধকারের দিকে তাকিয়ে বোঝা যায় না, এরপর ভোর আসবে, না রাত নামবে। অপেক্ষা করা ছাড়া কোনও উপায় নেই। আলো আর কালো নিজেরাই নিজেদের মধ্যে লড়াই করবে।
সীমান্ত বলল, “সন্ধে নামছে।”
ঐশানী সীমান্তর দিকে তাকিয়ে বলল, “ভ্যাট! সকাল হচ্ছে।”
সীমান্ত বলল, “যা হোক পুঁটুরানি, বিয়েটা চটপট সেরে ফেলতে হবে।”
সীমান্তর কথা শুনে ঝিমলি দুলে-দুলে হাসছে।
***
