আনন্দধারা – হেমন্ত মুখোপাধ্যায়
আনন্দধারা – হেমন্ত মুখোপাধ্যায়
সম্পাদনা : অভীক চট্টোপাধ্যায়
প্রকাশ ফেব্রুয়ারি ২০১৩
.
উৎসর্গ
বাবা ও মা—কে
.
দ্বিতীয় সংস্করণের ভূমিকা
‘আনন্দধারা’র দ্বিতীয় সংস্করণ প্রকাশ পেল। বাঙালির মন আর হেমন্তর গান—এ এমন এক বন্ধন, তার প্রতি অল্প ধারণা থাকলেই দ্বিতীয় সংস্করণের এত শীঘ্র প্রয়োজনীয়তার বিষয়ে কোনও সন্দেহ জাগে না।
বইটি প্রথম সংস্করণের মতোই প্রায় একই আছে। শুধু কিছু ত্রুটি সংশোধন ও তথ্য সংযোজন করা হয়েছে। এ বিষয়ে সম্পাদক হিসেবে আমার তত পরিশ্রম হয়নি। হেমন্ত মুখোপাধ্যায় সংক্রান্ত যে—কোনও কিছু যাঁর হৃদয়ের স্পন্দন সেই হেমন্ত—সংগ্রাহক জয়দীপ চক্রবর্তী, সিংহভাগ দায়িত্ব এই ব্যাপারে সামলেছেন। স্বতঃপ্রবৃত্ত হয়ে অনেক বিষয়ে অবহিত করে বইটিকে সর্বাঙ্গসুন্দরের লক্ষ্যে পৌঁছতে আমাদের আন্তরিকভাবে সাহায্য করেছেন কলকাতা বেতারের সঙ্গে এক সময় যুক্ত এবং বাংলা গান ও চলচ্চিচত্র সম্পর্কে অনেক অভিজ্ঞতা ও জ্ঞান সম্পন্ন মানুষ শ্রদ্ধেয় মিহিরকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়। এছাড়া এই দ্বিতীয় সংস্করণের ক্ষেত্রে হিন্দি গানের তালিকাটির ত্রুটি সংশোধন ও পরিমার্জনের বিষয়ে সক্রিয়ভাবে সাহায্য করেছেন হিন্দি গানের সংগ্রাহক সঞ্জয় সেনগুপ্ত।
এইভাবেই এই সব মানুষদের ঐকান্তিক সাহায্যে ও পাঠকবর্গের আন্তরিক চাহিদার মিলিত ফলাফলেই এই অপরূপ কণ্ঠশিল্পীর আত্মকথা আবারও প্রকাশ করা গেল। এঁদের প্রত্যেকের কাছে সম্পাদক কৃতজ্ঞ থাকছেন। এর সঙ্গে অবশ্যই কৃতজ্ঞ থাকতে হবে সপ্তর্ষি প্রকাশনের কাছে। বইটির দ্বিতীয় সংস্করণ প্রকাশের এই সঙ্গত সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য।
সব শেষে বলি, এর পরেও বইটিতে যা অনিচ্ছাকৃত খামতি রয়ে গেল, তার জন্য আগাম মার্জনা চেয়ে রাখলাম এবং একই সঙ্গে আবেদন জানিয়ে রাখলাম সুপরামর্শের।
.
প্রথম সংস্করণের ভূমিকা
তখন আমার দশ বছর বয়স। ক্লাস সিক্স—এ পড়ি। সেদিনটা ছিল ১৯৭৫ সালের ২১ নভেম্বর। স্কুল থেকে বাড়ি ফিরে বিকেলে খেলতে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছি। বাবা তার কর্মস্থল থেকে ফিরে আমার চোখের সামনে একটা বই খুলে একজনের ছবি দেখালেন। দেখলাম হাত গুটিয়ে গম্ভীরমুখে দাঁড়িয়ে আছেন ‘হেমন্ত মুখোপাধ্যায়’। ঐ বয়সেই হেমন্ত ও তাঁর গান এবং আরো অন্যান্য শিল্পীদের গান সম্বন্ধে আমার যথেষ্ট ধারণা ছিল। অসম্ভব গানপাগল হয়ে গিয়েছিলাম, সেই বয়সেই। এর কারণ আমাদের বাড়ির পরিবেশ। মফস্বল শহর চন্দননগরের একেবারে উত্তরপ্রান্তে বুড়োশিবতলা নামে একটা ছোট্ট নির্জন পাড়ায় ছিল আমাদের বিশাল বাড়িটা। সেই বাড়ির বাইরের অংশের নিচের তলার একটি ঘরে আমার এক কাকা (শ্যামল চট্টোপাধ্যায়) থাকতেন, যিনি অসাধারণ গান গাইতে পারতেন। হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের গান। জ্ঞান হওয়া থেকে তাঁর হারমোনিয়ামবাদনরত অবস্থায় গান গেয়ে চলার সামনে শ্রোতা হিসেবে ঠায় বসে থাকতাম। বাবা (অসীম চট্টোপাধ্যায়) গান না জানলেও, পুরোনো সিনেমা ও গানের কথা গড়গড় করে বলে যেতে পারতেন— এখনও পারেন এবং অসম্ভব হেমন্ত—ভক্ত। যাই হোক, এই পরিবেশ ছোটো থেকে পাওয়ার কারণে সেদিন ঐ ছবির লোকটিকে আমার চিনতে অসুবিধা হয়নি। একই সঙ্গে কানে যে গান প্রথম ঢুকতে শুরু করেছিল, তাও ঐ ব্যক্তিটিরই। ছোঁ মেরে বাবার হাত থেকে বইটি নিয়ে দেখি বইটির নাম — ‘আনন্দধারা’। লেখক হেমন্ত মুখোপাধ্যায়। শুরুতেই সেদিনের তারিখটাও এতদিন পরে লিখে ফেলার কারণ বাবা ঐদিনই বইটির ভেতরে আমার নাম লিখে তলায় সাল তারিখ উল্লেখ করে দিয়েছিলেন। বেশ মনে পড়ে সেদিনের বিকেলের খেলা শিকেয় তুলে, তখনই বইটা পড়তে বসে গিয়েছিলাম। যখন পুরো বইটা শেষ হল তখন বিকেল হয়ে সন্ধ্যে হয়ে নিত্য পড়াশোনার অনেকটা সময় খেয়ে নিয়েছে। আজ যখন এই বইটিই নবকলেবরে আমারই সম্পাদনায় ‘সপ্তর্ষি প্রকাশন’ থেকে প্রকাশিত হচ্ছে, তখন একে যেন আবহমানতার সঙ্গে একধরনের যোগ বলে মনে হচ্ছে। এই সৌভাগ্য আমাকে যে অসম্ভব রোমাঞ্চিত করবে, তাতে আর আশ্চর্য কি!
বইটি হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের নিজে হাতে লেখা আত্মকথন। এই গ্রন্থেও আছে এবং অনেকেই জানেন, এই সঙ্গীতশিল্পী প্রথম জীবনে হতে চেয়েছিলেন সাহিত্যিক এবং ‘একটি দিন’ নামে তাঁর একটি গল্প ‘দেশ’ পত্রিকায় পর্যন্ত বেরিয়েছিল। ফলে অনেকদিন পরে লেখা হলেও এই বইটিতেও তিনি প্রাঞ্জল গদ্য উপহার দিয়েছেন। এক নিঃশ্বাসে পড়ে ফেলা যায়। এরকম একজন শিল্পীর গড়ে ওঠা ও বহু অজানা তথ্য মিলিয়ে একটি প্রয়োজনীয় ও একই সঙ্গে রসসিক্ত গ্রন্থ হল ‘আনন্দধারা’। বইটি ১৩৮২ (১৯৭৫) সালের ভাদ্র মাসে প্রথম প্রকাশিত হয় ‘নিউ বেঙ্গল প্রেস’ থেকে এবং পঞ্চম সংস্করণটি একই প্রকাশন সংস্থা প্রকাশ করে ১৩৯৫ (১৯৮৮) সালের জ্যৈষ্ঠ মাসে। সম্ভবত এটিই বইটির শেষ সংস্করণ। ফলে দীর্ঘদিন এটি বাজারে ছিল না। সপ্তর্ষি প্রকাশনের কর্ণধার সৌরভ একদিন কথায় কথায় জানতে পারে বইটি আমার কাছে আছে। ব্যস, ওর উদ্যোগ শুরু হয়ে গেল। সাতদিনের মধ্যে ফোন নম্বর যোগাড় করে হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের পুত্রবধূ প্রখ্যাত চিত্রাভিনেত্রী মৌসুমী চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করে সাক্ষাৎকারের দিনক্ষণ ঠিক করে ফেলল। আমরা দুজন নির্দিষ্ট দিনে ও ক্ষণে হাজির হয়ে গেলাম এবং গিয়েই অভিভূত। দীর্ঘদিন বাংলা ও হিন্দি ফিল্মি দুনিয়ায় রাজত্ব করে চলা একজন অভিনেত্রীর কাছ থেকে যে এই পরিমাণ আন্তরিক ব্যবহার পাওয়া যায় তা সত্যিই অকল্পনীয়। নিজের ভাইয়ের মতো ব্যবহার করলেন প্রথম দিন। মাসখানেকের মধ্যেই দ্বিতীয়বার মুম্বই থেকে কলকাতায় এসে লিখিত অনুমতি দিয়ে দিলেন। মৌসুমীদিকে কৃতজ্ঞতা জানাবার ভাষা আমাদের জানা নেই।
আগে প্রকাশিতকোনো সংস্করণের ‘আনন্দধারা’তেই হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের কর্মপঞ্জি দেওয়া ছিল না। তাই বইটি প্রকাশের সিদ্ধান্ত পাকাপাকি হওয়ার পরে সম্পাদক হিসেবে এই তালিকা দেওয়ার কথা আমার মাথায় আসে এবং তৎসহ প্রয়োজনীয় টীকাকরণ। ধীরে ধীরে নানাজনের সঙ্গে যোগাযোগ হতে লাগল। এগিয়ে এলেন হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের সারাজীবনের কর্মকাণ্ডের শতকরা প্রায় একশো ভাগ যাঁর সংগ্রহে সেই জয়দীপ চক্রবর্তী। যে আন্তরিকতার সঙ্গে এবং যতখানি সময় দিয়ে তিনি পাশে থেকে তথ্য সরবরাহ করে, তাঁর সংগ্রহে থাকা বিভিন্ন ছবি ও অন্যান্য কাগজপত্র দিয়ে তিনি সাহায্য করেছেন তার জন্য তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতার শেষ নেই। এই বইটির সঙ্গে হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের দুষ্প্রাপ্য কিছু পরিবেশনের সংকলন সংবলিত একটি সিডি অ্যালবাম দেওয়া হচ্ছে। এই সিডিটি সম্পূর্ণ তাঁর নিজের সংগ্রহ থেকে পরিকল্পনা করে তৈরি করেছেন জয়দীপবাবু। এই সিডিটি নির্মাণে এগিয়ে এসেছেন প্রখ্যাত গীতিকার প্রণব রায়ের পুত্র প্রদীপ্ত রায়। তাঁর নিজস্ব প্রতিষ্ঠান ‘পেরেনিয়াল রেকর্ডস’ সিডিটি প্রকাশ করেছেন। সুতরাং প্রদীপ্তদা ও তাঁর প্রতিষ্ঠানের কাছেও আমরা কৃতজ্ঞ। এছাড়া আরো যাঁদের কৃতজ্ঞতা জানাতে হবে তাঁরা হলেন বিশিষ্ট সঙ্গীতশিল্পী দীপঙ্কর চট্টোপাধ্যায়, রেকর্ড সংগ্রাহক সুশান্তকুমার চট্টোপাধ্যায়, রেকর্ড সংগ্রাহক অশোক ভট্টাচার্য, সমাজতাত্ত্বিক গবেষক সঙ্গীতপ্রেমী সন্দীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, চলচ্চিচত্র গবেষক দেবীপ্রসাদ ঘোষ, আমার বাবা অসীমকুমার চট্টোপাধ্যায়, রবীন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য, ডাঃ সুবীর মজুমদার প্রমুখ। যে বইটি এই কর্মতালিকা প্রস্তুতিতে সর্বাধিক সাহায্য করেছে সেটি হল ধীরাজ সাহা সম্পাদিত ‘জীবনপুরের পথিক হেমন্ত’। ধীরাজবাবুর অফিসে গিয়ে তাঁর বইটি নিয়ে এসেছিলাম। যে নিষ্ঠার সঙ্গে একক প্রচেষ্টায় বিশাল গবেষণাধর্মী বইটি ধীরাজবাবু নির্মাণ করেছেন তার জন্য কোনো প্রশংসাই যথেষ্ট নয়। ধীরাজ সাহা ও তাঁর এই বইটির প্রতিও আমরা কৃতজ্ঞ।
কেন হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের লেখা এই বইটি এতদিন পরে নতুন করে প্রকাশ করার দরকার হয়ে পড়লো, সেই ব্যাপারে কিছু ব্যক্তিগত ভাবনার কথা বলি। হেমন্ত মুখোপাধ্যায় যুগে যুগে প্রাসঙ্গিক। শুধু তাঁর অসামান্য কালজয়ী গান বা সুরারোপের জন্যই নয়, আমার মনে হয় তিনি ছিলেন এক অসম্ভব ব্যতিক্রমী প্রতিভাবান শিল্পী। যখন হেমন্ত মুখোপাধ্যায় পাদপ্রদীপের আলোয় এলেন সেই ৪০—এর দশকে (১৯৩৭—এ প্রথম রেকর্ড) বাংলা আধুনিক ও ছায়াছবির গানের রমরমিয়ে চলা শুরু হয়ে গেছে। মেলোডিপ্রধান ও ভাবধর্মী গায়নভঙ্গীর প্রকাশ ক্রমশ প্রকট হয়ে উঠছে শিল্পীদের সঙ্গীত পরিবেশনায়। বিংশ শতাব্দীর গোড়া থেকে ৩০—এর দশকের মধ্যভাগ পর্যন্ত যে সমস্ত শিল্পীকুল বাংলা গান গাইতেন তাতে থাকত অসম্ভব কালোয়াতি প্রদর্শনের একধরনের প্রবনতা। তাঁদের উচ্চচাঙ্গসঙ্গীত শিক্ষার সরাসরি প্রতিফলন যেন ঘটে যেত সঙ্গীত পরিবেশনায়, যাতে বলা যায় কিছুটা ব্যাহত হত গানের ভাবধর্মীতা। বাংলা গানে ভাবধর্মীতার বিষয়ে প্রথম আলোকপাত করেছিলেন স্বয়ং রবীন্দ্রনাথ এবং তাঁর সঙ্গে পরপর আবির্ভূত হওয়া দ্বিজেন্দ্রলাল—রজনীকান্ত—অতুলপ্রসাদ—নজরুল। কিন্তু দেখা যায় আদিযুগের শিল্পীরা এঁদের গানও গাইছেন একইরকম কালোয়াতি ঢঙে। একমাত্র শান্তিনিকেতনের অভ্যন্তরে যথার্থ ভাবপ্রদানসহ রবীন্দ্রসঙ্গীত চর্চার চল ছিল, কিন্তু বাইরে তার কোনো প্রভাব ছিল না। এ ব্যাপারে পঙ্কজ মল্লিক প্রথম উদ্যোগ নিয়েছিলেন। সে ভিন্ন প্রসঙ্গ। ৩০—এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে পঙ্কজ মল্লিক—রাইচাঁদ বড়াল—সুরসাগর হিমাংশু দত্ত—কমল দাশগুপ্তদের মতো অবিস্মরণীয় সঙ্গীত পরিচালকদের হাত ধরে পুরোনো গানভঙ্গীর ধরনে পরিবর্ত্তন আসতে শুরু করল। প্রতিষ্ঠিত হল মেলোডিপ্রধান রোম্যান্টিক বাংলা আধুনিক গানের ধারা যা ‘আধুনিক বাংলা গান’ হয়ে অচিরেই বাঙালী—হৃদয়ে স্থান করে নিল এবং রাজত্ব করে চলল কয়েক দশক জুড়ে এই ধারারই এক অন্যতম প্রধান ধারক হিসেবে হেমন্ত মুখোপাধ্যায় নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করলেন। তাহলে তিনি ব্যতিক্রমী হলেন কোন জায়গায়? সেই সময়ের সাঙ্গীতিক পরিমণ্ডলের দিকে যদি তাকানো যায় তবে একথা স্পষ্ট হয়, তখন সঙ্গীতের সঙ্গে যুক্ত সমস্ত বিভাগের প্রায় সব শিল্পীই উচ্চচাঙ্গসঙ্গীতে শিক্ষিত ছিলেন। রীতিমতো তালিম সহযোগে দীর্ঘদিন নেওয়া প্রথাগত সঙ্গীত শিক্ষায় শিক্ষিত। শুধু বিখ্যাতরাই নন, তখনকার সময়ে ঘরেদোরে যারাই গান করতেন তাদের শুরুই হত উচ্চচাঙ্গসঙ্গীত তালিমের মাধ্যমে। এহেন পরিবেশে তাবড় তাবড় সঙ্গীতব্যক্তিত্বদের মধ্যে প্রায় কোনোরকম প্রথাগত সঙ্গীত শিক্ষা ছাড়াই হেমন্ত মুখোপাধ্যায় নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করলেন এবং কিছুদিনের মধ্যেই এক নতুন কণ্ঠ প্রক্ষেপণের ধারা প্রবর্তনের ক্ষেত্রে অন্যতম মুখ্যভূমিকা নিলেন বলা যায়। হেমন্ত—র কণ্ঠকে বলা হয় ‘স্বর্ণকণ্ঠ’। একেবারেই একশোভাগ খাঁটি কথা। প্রকৃতিদত্ত অসম্ভব সাঙ্গীতিক প্রতিভা এবং সোনার কন্ঠটি তিনি জন্মগতভাবেই পেয়েছিলেন। কথা এখানে শেষ করে দিলে হবে না। ব্যক্তিগতভাবে মনে হয় হেমন্ত মুখোপাধ্যায় নিজের সাঙ্গীতিক প্রতিভাটিকে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে চিনতেন এবং তাকে সবসময় মাথায় নিয়ে চলতেন। সর্বক্ষণ ভেবে যেতেন কীভাবে নিজেকে সকলের থেকে আলাদাভাবে চেনানো যায়। সেই সময়ের পুরুষ শিল্পীদের গান রেকর্ডে শুনলে সকলেই মানবেন তখন এঁদের গান পরিবেশনের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত নাকিসুরের ব্যবহার থাকত তাঁদের কন্ঠপ্রক্ষেপণে। হেমন্তর ১৯৩৭ সালের প্রথম রেকর্ডেও একই জিনিস শোনা গেছে। কিন্তু কয়েক বছরের মধ্যে তিনি নাকিসুরের পরিমিত ব্যবহার সহযোগে একটি স্বাভাবিক কন্ঠপ্রক্ষেপণের ধরন নিয়ে এলেন। তার সঙ্গে গানের বাণীর দাবী অনুযায়ী পরিবেশনের মধ্যে একধরনের নাটকের প্রয়োগ করে সঙ্গীতের চিত্রকল্পটিকে এক অসামান্যতা দিলেন। এই ধরনটির সঙ্গে সেই অর্থে তাঁর পাশাপাশি থাকা সঙ্গীতশিল্পীদের গান পরিবেশনের ধরনে কিছুটা তফাৎ হয়ে গেল। হেমন্তর অব্যবহিত পরেই যে সমস্ত পুরুষ কন্ঠশিল্পীরা উঠে এলেন তাঁদের সঙ্গীতপরিবেশনে স্বাভাবিক কণ্ঠপ্রক্ষেপণের প্রবণতা দেখা গেল—অতিরিক্ত নাকিসুর প্রাধান্য পেল না। সুতরাং এ ধারার প্রচলনের ক্ষেত্রে অন্যতম প্রধান অবদান ছিল হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের, একথা কি বলা যায় না? এমন একজন এই ধারার পরিবর্তনের ক্ষেত্রে মুখ্যভূমিকা নিলেন যাঁর কোনো প্রথাগত সঙ্গীতশিক্ষাই নেই! এরপরও কি তাঁকে ব্যতিক্রমী বলা যাবে না? হেমন্ত মুখোপাধ্যায় সারাজীবন যে অসাধারণ সাঙ্গীতিকবোধ সহকারে তাঁর কন্ঠটিকে ব্যবহার করেছেন তা থেকে বোঝা যায় একই সঙ্গে নিজের কন্ঠের উজ্জ্বলতা ও সীমাবদ্ধতা সম্পর্কে তিনি কতখানি ওয়াকিবহাল ছিলেন। পঞ্চাশ—ষাট দশকের হেমন্ত—কন্ঠ তো ছিল পেলবতা, মিষ্টত্ব, মেলোডি এবং জোয়াড়িতে পরিপূর্ণ। সত্তর দশক থেকেই কন্ঠের সাবলীল গমন বয়সজনিত কারণে ধীরে ধীরে যেন বাধাপ্রাপ্ত হতে লাগল। কন্ঠে একটি মোটা আওয়াজের প্রাধান্য এসে যেতে শুরু করল। তা সত্ত্বেও তিনি এই সময়েও কন্ঠকে এমন অদ্ভুতভাবে ব্যবহার করলেন যা শুনে শ্রোতাকুলের মন ভরে গেল। আসলে হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের গলার প্রাথমিক (Basic) আওয়াজটাই এত শ্রুতিমধুর ছিল যে বয়স হওয়া সত্ত্বেও তা একধরনের মাদকতায় ভরপুর থাকত। আশির দশক থেকে কন্ঠের মান একেবারেই প্রায় আয়ত্ত্বের বাইরে চলে গেল বলা যায়। তার মধ্যেই এমন আবেদন মাঝেমাঝে ফুটিয়েছেন যা ভোলা যায় না (যেমন — ‘ভালোবাসা ভালোবাসা’ ছবির ‘তোমার কাছে এ বর মাগি…’)। আসলে হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের গলায় উচ্চচাঙ্গ সঙ্গীতের ছোঁয়া কতটা আছে তা কখনোই বিচার্য হয়নি। এসবের ঊর্ধ্বে রাখা হয়েছে এই শিল্পীর গানকে এবং এভাবেই জনপ্রিয়তার শিখর ছুঁয়েছেন তিনি। তা না হলে উস্তাদ আমীর খাঁ, উস্তাদ মেহেদী হাসান প্রমুখ উচ্চচাঙ্গসঙ্গীতের দিকপালেরা হেমন্তর গানের অনুরাগী হন কীভাবে? নৌসাদের মতো ভারতীয় ঘরাণায় প্রভাবিত সঙ্গীত পরিচালক থেকে সলিল চৌধুরীর মতো পাশ্চাত্য ঘারাণায় প্রভাবিত প্রথিতযশা সঙ্গীত পরিচালকেরা কেউই হেমন্ত—কন্ঠকে এড়িয়ে যেতে পারেন নি। শেষ বয়সেও তিনি তাঁর সঙ্গীতসত্তার প্রতি কতখানি সচেতন ছিলেন সে ব্যাপারে একটি ঘটনা উল্লেখের লোভ সামলাতে পারছি না। ৮০—র দশকের মাঝামাঝি সময়ে কলকাতা ময়দানে বঙ্গসংস্কৃতি সম্মেলন হয়েছিল। একদিনের সন্ধ্যাটি ছিল দুই বন্ধু কবি সুভাষ মুখোপাধ্যায় ও গায়ক হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের মধ্যে আড্ডা। গল্প—গান—কবিতায় মাতিয়ে দিয়েছিলেন এই দুই দিকপাল। দুজনে যেন ফিরে গিয়েছিলেন তাঁদের ইস্কুল জীবনে। সুভাষ মুখোপাধ্যায় হেমন্তর চুলের ব্যাপারে প্রশ্ন করেছিলেন তা কৃত্রিম রঙে আবৃত (কলপ করা) কেন? শ্রোতাদের মধ্যে হাততালি ও হাসি। হেমন্তর সপ্রতিভ উত্তর ছিল যে সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের কবির ইমেজের সঙ্গে তাঁর পাকাচুল ভর্তি মাথার রূপটি খাপ খেয়ে যায়, কিন্তু তিনি (হেমন্ত) যদি একমাথা পাকাচুল নিয়ে প্রেমের গান করেন তাহলে শ্রোতারা শুনবে না। এরপর হাততালি আর থামতে চায়নি এবং কবিবন্ধু সুভাষও হেমন্তর পিঠ চাপড়ে দিয়েছিলেন। শেষ বয়সে পৌঁছেও নিজের সঙ্গীতসত্তার প্রতি হেমন্ত মুখোপাধ্যায় কতখানি সচেতন ছিলেন এই উত্তর থেকে তারও প্রমাণ মেলে। সেদিন সেই ১৯৩৫ সালে বেতারে গাওয়া সুভাষের লেখা গানটি অনেক কষ্টে মনে করে প্রথম দুটি লাইন শুনিয়েছিলেন হেমন্ত। যা সেদিনের শ্রোতাদের কাছে এক অভিনব প্রাপ্তি ছিল। সেই ভাগ্যবানদের মধ্যে আমিও ছিলাম অন্যতম শ্রোতা।
গায়ক হেমন্ত কিন্তু অনেকটাই চাপা দিয়ে দেন সুরকার হেমন্তকে। শুধুমাত্র সঙ্গীতপরিচালক হেমন্ত মুখোপাধ্যায়কে নিয়েই একটি আলাদা গবেষণাধর্মী বই নির্মিত হতে পারে। এ প্রসঙ্গে কয়েকটি উদাহরণ দেওয়া যায়। প্রকৃতিদত্ত অগাধ সাঙ্গীতিক প্রতিভার অধিকারী হেমন্তর সুর করার প্রবণতা শুরু থেকেই। এই বই থেকেই তার প্রমাণ মিলবে। ১৯৪৩ সালে ‘কথা কোয়োনাকো…’ গানটিতে যেভাবে প্রথম লাইনের ‘শুধু শোনো…’ অংশটিতে সুরারোপ করলেন, শুনলেই বোঝা যায় কীভাবে সমসাময়িক চলমান সুরধরনের থেকে নিজেকে পৃথক করতে চাইছেন হেমন্ত। ১৯৪৪ সালে মহালয়ার ভোরে বেতারে সম্প্রচারিত ‘মহিষাসুরমর্দিনী’তে সঙ্গীতপরিচালক পঙ্কজ মল্লিক অনুপস্থিত ছিলেন। বেতার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে পঙ্কজবাবুর কোনো কারণে মতান্তর হয়েছিল। সেবার অসামান্য শিল্পীসংবলিত এই বিখ্যাত গীতিআলেখ্যটির সঙ্গীত পরিচালনার দায়িত্ব সফলতার সঙ্গে সামলেছিলেন হেমন্ত মুখোপাধ্যায়। তখন তাঁর মাত্র ২৪ বছর বয়স এবং সেভাবে প্রতিষ্ঠাও পাননি। বাণীকুমারের অনুরোধে কাজটি করেছিলেন হেমন্ত। বাণীকুমার ‘জহুরী’ ছিলেন ঠিকই, কিন্তু অত প্রতিষ্ঠিত শিল্পীকুলের মধ্যে এরকম একজন উঠতি যুবকশিল্পীকে যে যথার্থ ‘জহর’ হিসেবে চিনেছিলেন তা থেকেই পরিষ্কার হয় হেমন্ত—প্রতিভার পরিমাণ। ১৯৫১ সালে মুম্বই গিয়ে প্রথম হিন্দি ছবি ‘আনন্দমঠ’—এ ‘দেশ’ রাগের উপর ভিত্তি করে যেভাবে হামিং—হারমোনাইজেশন ইত্যাদির অসমান্য প্রয়োগসহ পাশ্চাত্য ঢঙে সংস্কৃত স্তোত্রসংবলিত ‘বন্দেমাতরম’ গানটি কম্পোজ করলেন তা বিস্ময় না জাগিয়ে পারে? অনুমান করা যেতে পারে এর কয়েকবছর আগে ভারতীয় গণনাট্য সংঘের (আই পি টি এ) সঙ্গে হেমন্ত যুক্ত থাকা তাঁকে হয়তো অনুপ্রেরণা যুগিয়েছিল এইধরনের পাশ্চাত্য রীতির কম্পোজিশন করার ক্ষেত্রে। ‘পলাতক’ ছবিতে সফলতার সঙ্গে লোকসঙ্গীতের প্রয়োগ করলেন। বিশেষ করে রুমা গুহঠাকুরতার গাওয়া ‘চিনিতে পারিনি বঁধু…’ গানে দুবার ‘দেরি হল যে…’ অংশের সুরপ্রয়োগ শুনলে যেন মনে হয় বছরের পর বছর হাটেমাঠে ঘুরে লোকসঙ্গীতের সঙ্গে পরিচিত হয়েছেন হেমন্ত। ১৯৬৯ সালে ‘খামোশী’ ছবিতে কিশোরকুমারকে দিয়ে সুরকার হেমন্ত গাওয়ালেন ‘উও সাম কুছ আজীব থী…’। এই গানটি শুনলে আদৌ মনে হয় হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের সুর? আসলে সেসময়ে মুম্বই ফিল্মি জগতে সুরকারেরা যেভাবে সুর করছেন তার সঙ্গে অনায়াসে খাপ খাইয়ে নিয়েছেন হেমন্ত। আবারও বলছি পারিপার্শ্বিক সাঙ্গীতিক পরিমণ্ডল এবং নিজের সাঙ্গীতিক সীমানা এই দুটি সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা নিয়ে সারাজীবন এগিয়ে গেছেন হেমন্ত মুখোপাধ্যায়। তিনি নিজে গাইতে এবং সুর করতে মূলত পছন্দ করতেন সহজ—সরল মেলোডিপ্রধান গান। বাঙালীর সাঙ্গীতিক অন্তরটি তাঁর মতো এত পরিষ্কারভাবে খুব কম সুরকার ও গায়কই অনুভব করতে পারতেন বলেই আমার ধারণা। তাই জন্য বাঙালীর জাতিগত বৈশিষ্ট্যের অন্যতম অঙ্গ হয়ে উঠেছে হাত গোটানো বাংলা শার্ট ও ধুতি পরিহিত হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের চিরপরিচিত অবয়ব ও তাঁর স্বর্ণকণ্ঠ নিঃসৃত গান। হেমন্তর গান বাঙালীর শ্রবণের তৃপ্তি, ‘প্রাণের আরাম, আত্মার শান্তি’। প্রণাম জানাই এই অবিশ্বাস্য প্রতিভাবান শিল্পীকে।
আশাকরি এই কিংবদন্তী শিল্পীর আত্মকথা ‘আনন্দধারা’ থেকে তাঁর জীবনের নানা ওঠাপড়া ও অনুভূতির সঙ্গে পরিচয় হবে পাঠকের। সেখানেই সার্থক হবে এই গ্রন্থের নবপ্রকাশ। সবশেষে কৃতজ্ঞতা জানাই প্রকাশক সপ্তর্ষি প্রকাশন ও তার কর্ণধার সৌরভ মুখোপাধ্যায়কে এরকম একটি বইয়ের প্রকাশের সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং আমাকে সম্পাদনার দায়িত্ব দেওয়ার জন্য। এর ফলে আমার মতো একটি নগণ্য মানুষ অন্তত যারপরনাই গৌরবান্বিত হওয়ার সুযোগ তো পেল। সম্পাদনার কাজে হয়তো অনেক অনিচ্ছাকৃত ভুলভ্রান্তি ঘটেছে তার জন্য আগাম মার্জনা চেয়ে রাখলাম।
অভীক চট্টোপাধ্যায়
২/২/২০১৩
লেখকের কথা
এটা আমার আত্মচরিত নয়। আত্মপ্রচারের জন্যেও কলম ধরিনি। তবে এককালে লেখার অভ্যাস ছিল তাই আমার শিল্পজীবনের নানা অভিজ্ঞতার কথা লিপিবদ্ধ করবার চেষ্টা করেছি। তাও করতে হয়েছে অনেকের অনুরোধে। আমার সেজভাই তারাজ্যোতির ইচ্ছেটাই কাজ করেছে বেশি। ও বললে, এককালে তো লিখতে, দেখই না চেষ্টা করে। সাঁতার আর সাহিত্য কেউ ভুলে যায় না। তাই পুরোনো স্মৃতি ঝালিয়ে তুলতে তারাজ্যোতি আমাকে অনেক সাহায্য করেছে।
আমার এ—লেখার উদ্দেশ্য সম্বন্ধে যদি কেউ জিজ্ঞাসা করেন তো বলব, শিল্পের পথ কণ্টকাকীর্ণ, কুসুমাস্তীর্ণ নয়। সেই হিসেবে ভবিষ্যতের শিল্পীদের কাছে আমার অভিজ্ঞতার মূল্য হয়তো কিছুটা আছে। যদি এইসব অভিজ্ঞতার কথা পড়ে আপনাদের ভালো লাগে, তবেই বুঝব আমার উদ্দেশ্য সফল হয়েছে।
বইটা প্রকাশ করে আমার অন্তরঙ্গ বন্ধু মধূসূদন মজুমদার আমাকে আরও ভালোবাসার জালে জড়িয়ে ফেলেছেন।
.
সহায়ক গ্রন্থ ও পত্রপত্রিকা
প্রধান সহায়ক গ্রন্থ :—
১। ‘আনন্দধারা’/হেমন্ত মুখোপাধ্যায় (‘নিউ বেঙ্গল প্রেস প্রাঃ লিঃ’, ৬৮, কলেজ স্ট্রীট, কলিকাতা। প্রথম সংস্করণ — ভাদ্র’ ১৩৮২)
২। ‘জীবনপুরের পথিক হেমন্ত’/ সংকলন ও সম্পাদনা — ধীরাজ সাহা। (‘ওপেন মাইন্ড’, ২২০/৩ মেন রোড ইস্ট, নবব্যারাকপুর কলকাতা—৭০০১৩১। প্রথম প্রকাশ — ৪ সেপ্টেম্বর ২০০৯)
অন্যান্য গ্রন্থ :—
১। ‘সংসদ চরিতাভিধান’ (সাহিত্য সংসদ’, জুলাই’ ২০১০)
২। ‘প্রসাদ’ পত্রিকা (‘সংগীত’ সংখ্যা, আষাঢ় ১৩৭৭)
৩। ‘প্রসাদ’ পত্রিকা (‘অভিনেতা’ সংখ্যা, জুন’ ১৯৭৩)
৪। ‘প্রসাদ’ পত্রিকা (‘অভিনেত্রী’ সংখ্যা, অগস্ট’ ১৯৭৩)
৫। ‘বাংলার নটনটী’/ দেবনারায়ণ গুপ্ত (তৃতীয় খণ্ড ‘নিউ বেঙ্গল প্রেস, সেপ্টেম্বর’ ১৯৯২)
৬। ‘বাংলার নটনটী’/ দেবনারায়ণ গুপ্ত (চতুর্থ খণ্ড ‘পশ্চিমবঙ্গ নাট্য অ্যাকাডেমি’, ৩ সেপ্টেম্বর’ ১৯৯৬)
৭। ‘আমার সঙ্গীত ও আনুষঙ্গিক জীবন’/সন্তাোষ সেনগুপ্ত (এ মুখার্জী এন্ড কোম্পানি প্রাঃ লিঃ, প্রথম প্রকাশ — মাঘ’ ১৩৯২)
৮। ‘স্মৃতির অতলে’/ অমিয়নাথ সান্যাল (‘জিজ্ঞাসা’, চতুর্থ সংস্করণ —১৪০৫)
৯। ‘শিল্পীমহল’/সম্পাদনা — শ্রীনিত্যানন্দ সাহা, (১৬, ম্যাঙ্গো লেন, কলকাতা—৭০০০০১ প্রথম প্রকাশ—ফেব্রুয়ারি’ ১৯৬১)
১০। ‘চারদশকের বাংলা গান’/ অরুণ সেন ও গোপালকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত (‘প্রকাশ ভারতী’, প্রথম প্রকাশ — মে’ ১৯৭৪)
১১। ‘সাতরঙ’/রবি বসু (প্রথম ও দ্বিতীয় খণ্ড, দেজ পাবলিশিং, জানুয়ারি ১৯৯৮)
১২। ‘তোমার গীতি জাগালো স্মৃতি’/জয়তী গঙ্গোপাধ্যায় (প্রথম খণ্ড, ‘প্রতিভাস’, জানুয়ারি’ ২০০৪)
১৩। ‘তোমার গীতি জাগালো স্মৃতি’/জয়তী গঙ্গোপাধ্যায় (দ্বিতীয় খণ্ড, ‘প্রতিভাস’, জানুয়ারি’ ২০০৯)
১৪। ‘চিরনবীন নায়ক দুর্গাদাস’/সম্পাদনা—অভীক চট্টোপাধ্যায় (‘প্রতিভাস’, জুন’ ২০১২)
১৫। ‘কমেডিয়ানদের কথা’/ ডঃ গৌরী দে (‘দেব সাহিত্য কুটীর’, জানুয়ারি’ ২০০৫)
১৬। ‘প্লেব্যাক’/অতনু চক্রবর্তী (‘প্রতিভাস’, জানুয়ারি’ ২০১১)
১৭। ‘বৈশাখী’ পত্রিকা (‘তরুণ মজুমদার’ বিশেষ সংখ্যা’, ২০০৬)
১৮। ‘সোনার দাগ’/গৌরাঙ্গপ্রসাদ ঘোষ (‘যোগমায়া প্রকাশনী’, ডিসেম্বর’ ১৯৮২)
১৯। ‘মনে পড়ে’/বিকাশ রায় (‘করুণা প্রকাশনী’, ভাদ্র’ ১৩৮৭)
২০। ‘বাংলা নাট্যকোষ’/সন্ধ্যা দে (‘প্রতিভাস’, প্রথম প্রকাশ ১৫ এপ্রিল ২০১০)
এছাড়া, গ্রামোফোন কোম্পানি প্রকাশিত ‘শারদ অর্ঘ্য’ (গানের বই), ‘উল্টোরথ’, ‘আনন্দলোক’, ‘প্রসাদ’, ‘বেতার জগৎ’ ইত্যাদি পত্রিকার বিভিন্ন সংখ্যা।
বইটি নির্মাণে যাঁদের কাছে কৃতজ্ঞ
বিশেষ কৃতজ্ঞতা :—
১। মৌসুমী চট্টোপাধ্যায়।
২। জয়দীপ চক্রবর্তী।
অন্যান্য বিশিষ্টজন :—
সুশান্তকুমার চট্টোপাধ্যায়, অসীমকুমার চট্টোপাধ্যায়, অশোক ভট্টাচার্য, দীপঙ্কর চট্টোপাধ্যায়, সন্দীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, দেবীপ্রসাদ ঘোষ, রবীন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য, ডাঃ সুবীর মজুমদার, স্বপন চক্রবর্তী, সব্যসাচী মজুমদার, প্রদীপ্ত রায় ও তাঁর প্রতিষ্ঠান ‘পেরেনিয়াল রেকর্ডস’, মিহিরকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়, সঞ্জয় সেনগুপ্ত (দ্বিতীয় সংস্করণের ক্ষেত্রে)।






Leave a Reply