জীবনপঞ্জী
—১৯২০ সালের ১৬ জুন বেনারসে মামারবাড়িতে জন্ম।
—বাবা কালিদাস মুখোপাধ্যায়। মা কিরণবালা দেবী।
—১৯২৮ সালে বর্তমান দক্ষিণ ২৪ পরগণার বহড়ু গ্রাম থেকে কলকাতায় এসে ভবানীপুরের রূপনারায়ণ নন্দন লেনের বাড়িতে এসে বসবাস শুরু।
—১৯২৯ সালে নাসিরুদ্দিন মেমোরিয়াল ইস্কুলে প্রাথমিক স্তরে ভর্তি হয়ে, ১৯৩৪ সালে ভবানীপুর মিত্র ইনস্টিটিউশনে সপ্তম শ্রেণীতে ভর্তি।
—১৯৩৫ সালে প্রথম বেতারে গান পরিবেশন।
—সাহিত্যে নেশাগ্রস্ত হয়ে ১৯৩৬ সালে সাহিত্যিক বন্ধু সুভাষ মুখোপাধ্যায়, সন্তাোষকুমার ঘোষ, রমাকৃষ্ণ মৈত্র প্রমুখের সঙ্গে একযোগে হেমন্ত মুখোপাধ্যায়রা প্রতিষ্ঠা করলেন ‘কল্যাণ সাহিত্যসভা’। এই সময়েই নিয়মিতভাবে গল্প লেখার শুরু।
—১৯৩৭ সালে প্রথম বিভাগে ম্যাট্রিকুলেশন পরীক্ষা পাশ করেন। যাদবপুর ইঞ্জিনীয়ারিং কলেজে ‘মেকানিক্যাল’ বিভাগে ভর্তি। এই বছরই ‘কলম্বিয়া রেকর্ডস’ থেকে প্রথম বাংলা আধুনিক গানের রেকর্ড করলেন। এই বছরই ‘দেশ’ পত্রিকায় ‘একটি দিন’ নামে গল্প প্রকাশিত হয়।
—১৯৩৮—এর শেষদিকে ইঞ্জিনীয়ারিং পড়া ছেড়ে, শর্টহ্যান্ড ও টাইপরাইটিং শেখার এবং গানের ট্যুইশনিরও শুরু।
—১৯৪০ সালে প্রথম প্লে—ব্যাক ‘নিমাই সন্ন্যাস’ ছবিতে। এই বছরই কমল দাশগুপ্ত—র সুরে প্রথম হিন্দি গীতের রেকর্ড করলেন। এই বছরই প্রথম বেতারে ‘মহিষাসুরমর্দিনী’—তে গানে অংশগ্রহণ।
—প্রথম হিন্দি ছবি ‘মীনাক্ষী’তে প্লেব্যাক করলেন ১৯৪২ সালে।
—১৯৪৩ সালে প্রথম নিজের সুরে বাংলা আধুনিক গান রেকর্ড করলেন।
—১৯৪৪ সালে পঙ্কজ মল্লিকের অনুপস্থিতিতে বাণীকুমারের অনুরোধে বেতারে ‘মহিষাসুরমর্দিনী’ গীতিআলেখ্যতে সঙ্গীত পরিচালনার দায়িত্ব পালন। এই বছরই প্রথম রবীন্দ্রসঙ্গীতের রেকর্ড করলেন।
—১৯৪৫ সালে বেলা মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে বিয়ে। এই বছরই প্রথম সুযোগ এলো ‘পূর্বরাগ’ ও ‘অভিযাত্রী’ ছবি দুটিতে সঙ্গীত পরিচালনা করার।
—১৯৪৭ সালে পুত্র জয়ন্ত মুখোপাধ্যায়ের জন্ম।
—১৯৪৯ সালে ভি.শান্তারামের ডাকে ‘শিবশক্তি’ ছবির সঙ্গীত পরিচালনার জন্য মুম্বই গমন। কিন্তু, এটি বাস্তবায়িত হয়নি। এই বছরই ‘গাঁয়ের বধূ’ গানের রেকর্ড প্রকাশ এবং অচিরেই অসম্ভব জনপ্রিয়তা লাভ।
—১৯৫১ সালে চিত্রপরিচালক হেমেন গুপ্ত—র আহ্বানে মুম্বই গিয়ে তাঁরই পরিচালিত ‘ফিল্মিস্তান’ প্রযোজিত ‘আনন্দমঠ’ ছবির সঙ্গীত পরিচালনা এবং একই সঙ্গে মাইনে করা সঙ্গীত পরিচালক হিসেবে ‘ফিল্মিস্তান’—এ যোগদান।
—১৯৫২ সালে মুম্বইতে পাকাপাকিভাবে স্থায়ী আস্তানা গ্রহণ এবং শচীন দেববর্মনের সুরে ‘জাল’ ছবিতে প্লেব্যাক। যা জনপ্রিয় হয়।
—লতা মঙ্গেশকরকে দিয়ে প্রথম রবীন্দ্রসঙ্গীত গাওয়ালেন ১৯৫৩ সালে।
—১৯৫৪ সালে ‘ফিল্মিস্তান’—এর ‘নাগিন’ ছবির সঙ্গীত পরিচালক হিসেবে ভারতজোড়া খ্যাতিলাভ। এ বছরই কন্যা রাণু মুখোপাধ্যায়ের জন্ম।
—১৯৫৫ সালে ‘শাপমোচন’ বাংলা ছবির সুরকার হিসেবে অসম্ভব জনপ্রিয়তা অর্জন।
—১৯৫৮ সালে প্রযোজনা করলেন ‘নীল আকাশের নীচে’। পরিচালক—মূণাল সেন।
—প্রথম বিদেশ যাত্রা (রোম, লন্ডন ও পূর্ব আফ্রিকা) ১৯৫৯ সালে।
—১৯৬০ সালে মা কিরণবালা দেবীর মৃত্যু এবং এই বছরই হিন্দি ছবি হিসেবে ‘গীতাঞ্জলি পিকচার্স’—এর ব্যানারে প্রথম প্রযোজনা করলেন—’বিশ সাল বাদ’।
—১৯৬২ সালে চীন—ভারত যুদ্ধের কারণে, ভারতীয় সেনাবাহিনীর সাহায্যে ইডেন উদ্যানে শিল্পীদের ক্রিকেট ম্যাচের আয়োজন।
—১৯৬৪ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও সুরিনামে সফর ও বিপুল সংবর্ধনা লাভ।
—১৯৬৭ সালে ‘বি.এফ.জে.এ’ পুরস্কার লাভ।
—১৯৭০ সালে বাংলা ছবি ‘অনিন্দিতা’ প্রযোজনার পাশাপাশি পরিচালনাও করেন এবং কনরাড রুকস—এর ইংরেজি ছবি ‘সিদ্ধার্থ’—র সঙ্গীত পরিচালনা।
—১৯৭১ সালে তুষারকান্তি ঘোষ প্রমুখ বিশিষ্টবর্গের সঙ্গে লন্ডনে ‘বঙ্গীয় সাহিত্য সম্মেলন’—এ যোগদান।
—১৯৭২ সালে সদ্য স্বাধীন হওয়া ‘বাংলাদেশ’ সফর এবং ‘বঙ্গবন্ধু’ শেখ মুজিবর রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ।
—১৯৭৫ সালে আত্মজীবনী ‘আনন্দধারা’—র প্রথম প্রকাশ।
—১৯৮০ সালে ‘বৈতানিক’—এর তরফে ‘রবীন্দ্রসঙ্গীতচার্য’ উপাধি প্রদান করেন শ্রদ্ধেয় শৈলজারঞ্জন মজুমদার। এই বছরই নিজ উদ্যোগে কলকাতার ‘রবীন্দ্র সদন’—এ প্রবাদপ্রতিম রবীন্দ্রসঙ্গীতশিল্পী দেবব্রত বিশ্বাসকে সংবর্ধনা জ্ঞাপন।
—১৯৮৫ সালে সঙ্গীত জীবনের সুবর্ণ—জয়ন্তী উপলক্ষে নেতাজী ইন্ডোর স্টেডিয়ামে লতা মঙ্গেশকরের উপস্থিতিতে বিরাট সংবর্ধনা। এই বছরই রবীন্দ্র—ভারতী বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক ডি.লিট প্রদান।
—১৯৮৭ সালে ‘সঙ্গীত নাটক অ্যাকাডেমি’ পুরস্কার লাভ। ‘লালন ফকির’ ছবির গায়ক হিসেবে ‘জাতীয় পুরস্কার’ পেলেন।
—১৯৮৮ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় ডি.লিট দিলেন হেমন্ত মুখোপাধ্যায়কে।
—১৯৮৯ সালে বাংলাদেশ সফরে অসাধারণ সংবর্ধনা। এই বছরই ২৬ সেপ্টেম্বর বেলভিউ নার্সিং হোমে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ।
পুরস্কার
‘নাগিন’ ছবির সুরকার হিসেবে ‘ফিল্ম ফেয়ার’ পুরস্কার (১৯৫৪)
১৯৫৫ সালে সম্মানীয় ‘ক্লেয়ার অ্যাওয়ার্ড’।
১৯৫৬ সালে ‘শাপমোচন’ ছবির সুরকার হিসেবে ‘সিনে অ্যাডভান্স পত্রিকা’ পুরস্কার।
১৯৬৭ সালে শ্রেষ্ঠ সঙ্গীত পরিচালক হিসেবে ‘বি.এফ.জে.এ’ পুরস্কার লাভ।
১৯৭১ সালে বাল্টিমোর শহরের সাম্মানিক নাগরিকত্ব লাভ।
‘প্রসাদ’ পত্রিকা পুরস্কার (১৯৭৫)
‘ঋত্বিক ঘটক স্মৃতি’ পুরস্কার (১৯৭৭)
১৯৮১ সালে পশ্চিমবঙ্গ ‘রাজ্য সঙ্গীত অ্যাকাডেমি’ পুরস্কার।
১৯৮৩ সালে বৈতানিক কর্তৃক ‘রবীন্দ্রসঙ্গীতাচার্য’ উপাধি প্রদান।
রবীন্দ্র ভারতী বিশ্ববিদ্যালয় ১৯৮৫ সালে ডি.লিট দিলেন।
১৯৮৬ সালে পশ্চিমবঙ্গ সরকার কর্তৃক ‘আলাউদ্দিন পুরস্কার’ প্রদান।
১৯৮৭ সালে ‘সঙ্গীত নাটক অ্যাকাডেমি’ পুরস্কার, ‘লালন ফকির’ ছবির জন্য শ্রেষ্ঠ গায়ক হিসেবে রাষ্ট্রপতি কর্তৃক ‘জাতীয় পুরস্কার’ প্রদান। এ বছরই ‘উত্তমকুমার স্মৃতি’ পুরস্কার পান।
১৯৮৮ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক ডি.লিট প্রদান। এই বছরই ‘পদ্মশ্রী’ সম্মান প্রত্যাখ্যান।
১৯৮৯ সালে প্রতিবেশী রাষ্ট্র বাংলাদেশের সর্বোচ্চচ সম্মান ‘মাইকেল মধুসূদন পুরস্কার’ লাভ।
এছাড়া, বেশ কয়েকবার ‘বি.এফ.জে.এ’ পুরস্কার, ‘এশিয়ান পেন্টস শিরোমণি’ পুরস্কার ও ললিতকলা অ্যাকাডেমি ফেলোশিপ ইত্যাদি পুরস্কারও পেয়েছেন হেমন্ত মুখোপাধ্যায়।
