রঙধনুর সাঁকো পেরিয়ে

অনেকটা পথ হেঁটে চলার পর
কেন জানি মনে হলো, আমার এই পথপরিক্রমা
আদৌ ঠিক হয়নি। আমি কি তবে
এতকাল ভুল পথে হেঁটেছি? বৃথা এই আয়ুক্ষয়?

পথে এত কাঁটা, চোখা পাথর ছড়ানো,
এত গর্ত মস্ত হা করে আছে গিলে খাওয়ার জন্যে,
এমন গিজগিজে সরীসৃপ, এমন সব বাঁধা
পেরিয়ে পথ চলবো কী করে?
আমি কি তবে এতটা পথ পেরিয়ে আসার পর
ফিরে যাবো নতুন কোনও পথ ধরতে?
সময় তো বেশি নেই। ফিরে গিয়ে
নতুন পথ ধরা সম্ভব নয় আর।

যত কাদার ঢিলই নিক্ষিপ্ত হোক আমার দিকে,
এই পথের শেষ অব্দি হাঁটতে হবে,
যত হিংস্রতাই দাঁতমুখ খিঁচিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ুক
আমার ওপর এই গোধূলিতে, চলতে আমাকে হবেই।

চারদিকে সন্ধ্যা নামছে জন্তুর মতো হামাগুড়ি দিয়ে,
ওর মিশমিশে দাঁত ছিন্ন ভিন্ন করছে আমার ধৈর্যকে। হঠাৎ
এক ঝাঁক নক্ষত্র আমাকে ঘিরে জুড়ে দেয় নাচ, ওদের
আলো-ঝরনায় ধুয়ে যায় সব ক্লেদ, ক্লান্তি।

খুব সহজে আলোকিত পথে হাঁটতে থাকি,
আমার কাঁধে কোত্থেকে এক অচিন পাখি এসে বসে
গাইতে থাকে সম্মোহনী সুরে আর হাওয়ার ভেসে ভেসে
এক অপরূপ মালা হয়ে যায় আমার কণ্ঠহার!

জেনে গেছি, এখন থেকে বাস্তবের সব ধুমধাড়াক্কা, খেয়োখেয়ি
থেকে বারবার চলে যেতে হবে সেখানে, যেখানে রাখালের বাঁশির সুর
প্রেমিকের হৃদয়ের ধ্বনি, যেখানে রঙধনুর সাঁকো পেরিয়ে
যাওয়া চলে হাজার হাজার প্রজাপতির বিভায়।
১৫.৯.২০০০