একটি প্রাচীন গ্রন্থ

একটি প্রাচীন গ্রন্থ কী নিঝুম শুয়ে আছে একা
নিশীথে টেবিলে, যেন তার
দু’চোখে ছিল না ঘুম বহুকাল। পুরনো নিদ্রার ঘ্রাণ
বুঝি বা ছড়ানো সারা ঘরে; সে কি ক্ষণিক তুলেছে
হাই কিংবা আড়মোড়া ভাঙলো খানিক
না কি কিছুক্ষণ
আছাড়িপিছাড়ি করে ঢলে পড়ে ঘুমে। অকস্মাৎ
প্রাচীন গ্রন্থটি যেন কারও মুখ হয়ে তীক্ষ্ণ
তাকায় আমার দিকে জ্বলজ্বলে চোখে। পুস্তকের
পাতাগুলি কোথায় গায়েব হলো চোখের পলক
পড়তে না পড়তেই? বই থেকে জেগে-ওঠা মুখমণ্ডলের
জ্যোতি বিচ্ছুরিত হতে থাকে চতুর্দিকে।

টেবিল টেবিল নয় আর, যেন কোনও সাধকের
ধ্যানমগ্ন উদার আসন, যাতে ঠাঁই পেয়ে যাবে
সারা বিশ্বাব্রহ্মাণ্ড এবং
যদি স্বর্গ সত্য হয়, তা-ও। জ্যোতির্ময় সেই মুখ
রেখেছে আয়ত দৃষ্টি তার বিস্মিত আমার দিকে, ধীরে
আওড়ায় কিছু পদ উদাত্ত নিবিড় কণ্ঠস্বরে
আর কোনও নির্দেশ ছাড়াই
আমার নিজের উচ্চারণ তার উচ্চারিত শ্লোক
হয়, হয় প্রতিধ্বনি। ক্ষণকাল পরে
টেবিলের দিকে যাই, যা এখন সাধকের বিমূর্ত আসন!

প্রাচীন গ্রন্থটি খুঁজি তন্ন তন্ন করে। ক্লান্ত চোখে দেখি
হঠাৎ কোত্থেকে সেই পুশিদা পুস্তক
আমার কম্পিত হাতে এসে যায়, পাতা উল্টে-পাল্টে
পড়তে ভীষণ ব্যর্থ হই, বর্ণমালা, ভাষা, সবকিছু
অচেনা, রহস্যময় আগাগোড়া, অনন্তর কেতাব উধাও,
শুধু এক অপরূপ সুর গুঞ্জরিত হতে থাকে ঘরময় মধ্যরাতে।
৩০.১২.৯৯

শেয়ার বা বুকমার্ক করে রাখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *