১৯৩৭ নানকিং – ৭

স্থান : টোকিয়ো

আকারা আর তাঁর সাংবাদিক বন্ধু এইচো একটা অন্ধকার ঘরের মধ্যে বসে আছেন৷ ঘরটাকে পুরো অন্ধকার বলা যাবে না, কম্পিউটারের হালকা আলোয় উজ্জ্বল ওদের মুখ৷ এই অন্ধকার ঘরের আলো-আঁধারির মধ্য দিয়ে অতীতের ঘটে যাওয়া ইতিহাসের এক অন্ধকার অধ্যায় ছড়িয়ে পড়ছে গোটা বিশ্বের জনগণের কাছে৷ আর এক শতাংশ বাকি আছে৷ এটা হয়ে গেলেই তাদের কাজ শেষ৷ আকারা এইচোকে কনুই দিয়ে ধাক্কা দিয়ে বলল, ভিডিয়োটা ঠিকঠাক আপলোড করেছ তো?

এইচো খুব মনোযোগ দিয়ে কম্পিউটারের দিকে তাকিয়ে আছে, সে আকারার কথা শুনে একটু বিরক্ত হয়ে বলল, আরে হ্যাঁ, আমি রোজই বহু ইন্টারভিউ ইউটিউবে আপলোড করি, আমার অভ্যাস আছে৷ তা ছাড়া আগের ভিডিয়োটাও তো আমি নিজেই আপলোড করেছি, এই তো হয়ে গেছে৷

আকারা উৎসাহী হয়ে বললেন, তাড়াতাড়ি দেখাও, দেখি সব কিছু ঠিকঠাক হয়েছে না কি৷

গত কয়েকদিন ধরে ওরা দুই বন্ধু ভিডিয়ো করে নিজেদের জবানবন্দি রেকর্ড করেছেন৷ তারপর আরও দীর্ঘ সময় ধরে তা আকারা আর এইচোর যৌথভাবে তৈরি একটি ইউটিউব অ্যাকাউন্টে আপলোড করেছেন৷ ওদের আগের ভিডিয়োটা অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়েছে, প্রায় তিন হাজারের বেশি লাইক আর কয়েক হাজার শেয়ার হয়েছে৷ প্রথম ভিডিয়োর সাফল্যের পর ওরা ওদের দ্বিতীয় ভিডিয়োটি আপলোড করেছেন৷ এখন দু-জনে অত্যন্ত বিস্ময়ের সাথে সেই ভিডিয়োর দিকে তাকিয়ে আছেন৷

ভিডিয়োটা শুরু হয়েছে আকারার কথা দিয়ে৷ আকারা বলছে, প্রথমেই আপনাদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই, আপনাদের সহযোগিতা পেয়ে আমরা মনের জোর ফিরে পেয়েছি৷ জীবনের শেষ পর্যায়ে এসে আজ আমি অনুতপ্ত৷ অতীতের পাপের প্রায়শ্চিত্ত করার জন্য আমি আমার ভিডিয়োর মাধ্যমে নানকিংবাসীর কাছে ক্ষমা চাইছি৷ আজ আমি বিশেষ একটি দিনের কথা তুলে ধরতে চাই৷ আমরা যেদিন নানকিং শহরের প্রবেশদ্বারে গিয়ে পৌঁছোলাম, আমাদের পৌঁছানোর অনেক আগেই এই শহরের ধনী ব্যক্তিরা শহর ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন৷ এতে শহরের জনসংখ্যা অনেক কমে গেলেও আশেপাশের গ্রামগঞ্জ থেকে বহু মানুষ এসে শহরে আশ্রয় নিতে থাকেন৷

আকারার বর্ণনা শুনে কয়েক হাজার মানুষ যেন সেই দিনটিকে প্রত্যক্ষ করতে পারছিল৷ সারা শহরের রাস্তার দুই ধারে সারিবদ্ধ মানুষের হাতে জাপানের পতাকা৷ পতাকায় সারা শহর আবৃত৷ তবে আকাশে এক কালো ঘন মেঘের আবির্ভাব হল, যা ধীরে ধীরে গোটা শহরকে প্রায় আবৃত করে দিল৷ জাপানের পতাকার সূর্যের উপস্থিতিতে এই শহর যেন আরও অন্ধকারে ঢেকে যেতে লাগল৷ কয়েক হাজার সেনা কালো পিঁপড়ের মতো গোটা শহরে বিভিন্ন ভাগে বিভক্ত হয়ে ছড়িয়ে পড়ল৷ শহরের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মেশিন গানের শব্দ ভেসে আসতে লাগল৷ যেখানে যাকে পেল তারা গুলি করে হত্যা করতে লাগল৷ শহরের রাস্তাঘাট রক্তাক্ত, গোটা নানকিং লাল আর কালো বর্ণ ধারণ করল, যে বর্ণ এক ভয়ংকর হিংসার প্রতীক হয়ে প্রকাশ পেল৷

সে কিছুক্ষণ থেমে থেকে বলল, আমরা সঙ্গে সঙ্গে সবাইকে হত্যা করলাম না, কারণ আমরা চাইছিলাম মৃত্যুটা যেন আরও অনেক বেশি ভয়ংকর হয়৷

আকারার চোখেমুখে এক ভয়ংকর নিস্তব্ধতা৷ দর্শকরা আকারার দু-চোখের গভীর অন্ধকারের ভেতরে ডুবে যেতে লাগল, কয়েক হাজার যুদ্ধবিমান ছুটে আসছে সেই দুটি চোখের ভেতর থেকে, ভয়ংকর গভীর এবং তীক্ষ্ণ তার শব্দ৷ সারা আকাশ যুদ্ধবিমানে ঢেকে গেছে আর এলোপাতাড়ি বোম ফেলার শব্দ চারিদিক থেকে ভেসে আসছে৷ এ দৃশ্য যেন আকাশপথ থেকে দেখা যাচ্ছে৷ কয়েক হাজার হলুদ পোশাক পরা জাপানি সেনা সারা শহরে হিংসার লীলা চালাচ্ছে৷ ওপর থেকে এদের হলুদ পোশাক দেখে মনে হচ্ছে যেন সারা শহরে আগুন ধরে গেছে৷ চারিদিক একটা সাদা কুয়াশায় যেন আচ্ছন্ন হয়ে আছে৷ শহরের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আবর্জনার মতো কালো সাদা রং এক জায়াগায় একত্রিত করা হল৷ আকারা বলল, এরা সাধারণ জনগণ৷ আমরা এদের খাবার আর কাজের প্রতিশ্রুতি দিয়ে এক জায়গায় জড়ো করেছিলাম৷ তিনদিন তাদের কোনো কিছু খেতে দেওয়া হল না, না খাইয়ে তাদের আবর্জনার মতো এক জায়গায় রেখে দেওয়া হল৷ ওই যে আবর্জনার স্তূপটাকে ভালো করে দেখো, দিন দিন কীরকম ধূসর বর্ণ ধারণ করল৷ এরপর তিন দিনের মাথায় এদের নিয়ে যাওয়া হল এক নির্জন স্থানে৷ দর্শকরা আকারার চোখের ভেতর এই সব অভুক্ত, অসহায় মানুষদের মুখগুলো দেখতে পাচ্ছে৷ আকারার গলার স্বরও তারা শুনতে পাচ্ছে৷ আকারা বলল, ওরা ভেবেছিল আমরা ওদের খাবার দেওয়ার জন্য নিয়ে গেছিলাম৷ কিন্তু আমাদের উদ্দেশ্য অন্য ছিল৷ দর্শক দেখতে পাচ্ছে আকারার অন্ধকার চোখের মাঝখানটা আরও অন্ধকার, যে অন্ধকার অসহায়, নিরন্ন মানুষের প্রতীক৷ আর এই অন্ধকারকে ঘিরে ধরছে হলুদ আগুনের এক বলয়৷ এই আগুনের বলয়টি জাপানি সেনাবাহিনীর প্রতীক৷ চোখের পলকে এই আগুনের বলয়টি ঝাঁপিয়ে পড়ল মাঝখানের অন্ধকার অঙ্গনটিতে৷ তারপর সেই অন্ধকার রক্তাক্ত হয়ে গেল৷ এখন আকারার চোখের রং যেন গাঢ় লাল, ওর চোখ থেকে দুই গাল দিয়ে রক্ত ঝরতে লাগল৷

চোখের লাল বর্ণের মাঝে একটি হলুদ রঙের আগুনের ফুলকি হাতে মাইক নিয়ে সারা বিশ্বকে জবাবদিহি করল যে, এই বন্দিরা বিদ্রোহ করার চেষ্টা করেছিল, তাই তাদের হত্যা করা হল৷

আকারা বলল, কিন্তু এই সব নিরীহ এবং নিরস্ত্র মানুষেরা যুদ্ধ করার মতো পরিস্থিতিতে সেই সময় ছিল না৷ আমরা সেদিন মিথ্যে বলেছিলাম৷ এই ঘৃণ্য মিথ্যের জন্য আমি ক্ষমাপ্রার্থী৷ আমার দেশ জাপান বিনা কারণে, শুধুমাত্র মানসিক তৃপ্তির জন্য কয়েক লক্ষ মানুষকে সেদিন হত্যা করেছিল৷

আকারা নিজের কথা শেষ করে চুপ করল, কিছুক্ষণ ঘরের মধ্যে এক অদ্ভুত নীরবতা, অন্ধকারে আকারার মুখটা যেন মিলিয়ে গেল! কিছুক্ষণ নিস্তব্ধ থাকার পর সাংবাদিক এইচো কথা বললেন৷ এখন এইচো-র মুখটা উজ্জ্বল৷ এইচো-র উজ্জ্বল মুখটা যেন চলমান এক ক্যানভাস৷ এই ক্যানভাসে ফুটে উঠছে অতীতের এক রক্তিম শহরের ইতিবৃত্ত৷ সারা শহর তখন দাউদাউ করে জ্বলছে, আকাশ থেকে বোম এসে পড়ছে শহরের বিভিন্ন প্রান্তে৷ এইচো আর তাঁর সাংবাদিক বন্ধু ধোঁয়া ওঠা রাস্তা দিয়ে দৌড়াচ্ছেন৷ কোথায় আশ্রয় নেবেন ঠিক করতে পারছেন না তারা৷ এমন সময় রাস্তার বাঁকে একটি মনেস্ট্রি চোখে পড়ল৷ ওরা ছুটে গিয়ে মনেস্ট্রির দরজায় আঘাত করতে থাকল৷ দেখতে দেখতে দরজাটাও খুলে গেল৷ এইচো আর তাঁর বন্ধুরা অন্ধকার মনেস্ট্রির ভেতরে আশ্রয় নিল৷ এখানে কারুর মুখ দেখা যায় না, শুধু গলার আওয়াজ শোনা যায়৷ একটি নামই বার বার করে শোনা যাচ্ছিল, আর তা হল ট্যাং৷ এইচো বলল, আমি চিনা ভাষা জানি, এই বিশেষ দক্ষতার জন্য আমাকে নানকিং-এ পাঠানো হয়েছিল৷ আমি ওদের কথা শুনে বুঝলাম ট্যাং নামে একজন চিনা সেনা এই মনেস্ট্রিতে আশ্রয় নিয়েছেন, যিনি গোপনে অসহায় মানুষদের সাহায্য করতে চান, কিন্তু সন্ন্যাসীরা তাঁকে এই সময় বাইরে যেতে দিতে চাইছেন না৷ কিন্তু ট্যাং তাদের কোনো কথাই শুনছেন না, তিনি একটা কথাই বলছেন, হাজার হাজার দেশবাসী বিপদের মাঝখানে আছে, সেখানে সে কী করে স্বার্থপরের মতো এখানে লুকিয়ে থাকতে পারে! একজন সেনাকে এরকম স্বার্থপর হলে চলবে না৷

আমি নিজেকে আর আটকে রাখতে পারলাম না, নিজে থেকে গিয়ে ট্যাং-এর সাথে আলাপ করলাম৷ আমি ওনাকে বোঝালাম যে তিনি যেন আমাকে শুধুই একজন সাংবাদিক হিসেবে দেখেন৷ আমি নিজে জাপানি হলেও জাপানের অত্যাচারের এই চিত্র বিশ্ব দরবারে তুলে ধরতে চাই৷ তারপর মনেস্ট্রির সন্ন্যাসীদের আমরা অনুরোধ জানালাম যে তাঁরা দরজাটা খুলে দিক৷ আমাদের এই ভাবে লুকিয়ে থাকলে চলবে না, তা ছাড়া তখন বোম পড়া বন্ধ হয়ে গিয়েছিল৷

একজন সন্ন্যাসী আমাদের আবেদনে সাড়া দিয়ে দরজাটা খুলে দিলেন৷ আমরা দুই সাংবাদিক আর ট্যাং বাইরে এসে দেখি রাস্তার দুই ধারে নিরীহ মানুষের দেহ পড়ে আছে৷ নারী, পুরুষ এবং ছোটো ছোটো শিশুদের ক্ষতবিক্ষত দেহ সারা রাস্তায় পড়ে ছিল৷ রাস্তার কালো পিচের ওপর দিয়ে রক্তের ধারা বয়ে যাচ্ছিল৷ আমরা চলতে চলতে দেখলাম কয়েকজন লোক রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে কথা বলছেন৷ আমরা সাংবাদিক মানুষ, আমাদের ক্ষতি কেউ করবে না, তাই আমি আর আমার বন্ধু দাঁড়িয়ে ওদের দেখছিলাম, কিন্তু ট্যাং রাস্তার ধারে নোংরা ফেলার জায়গায় ঢুকে গা ঢাকা দেয়৷ কিন্তু ট্যাং-কে লোকগুলো দেখে ফেলেন, তারা নোংরা ফেলার জায়গাটার সামনে গিয়ে দাঁড়িয়ে বলে ‘গান ছু লাই’ বাইরে এসো৷ না হলে আমরা তোমাকে হত্যা করব৷

ওদের ভাষা শুনে ট্যাং বুঝতে পারে যে ওরা স্থানীয় অধিবাসী৷ সে বাইরে এসে ওদের কাছে নিজের পরিচয় দেয়৷ ট্যাং-এর পরিচয় পেয়ে ওরা ট্যাং-কে জানান যে ওরা কয়েকজন মিলে বিদেশি শাসকদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করার চেষ্টা করছেন৷ ট্যাং বলেছিলেন যে, তিনি সবরকমভাবে ওদের পাশে আছেন৷

ওরা নিজেদের মধ্যে যখন কথা বলছিল, আমাদের চোখে এক ভয়ংকর হিংস্রতা জেগে উঠল৷

ওরা আমাদের দু-জনকে সাংবাদিক বলে বিশ্বাস করেছিল৷

সেদিন বিকেলে যখন অস্তগামী সূর্যের লাল আলোয় আবৃত হয়েছিল গোটা শহর, আমরা দুই বহুরূপী নিজেদের খোলস ত্যাগ করে ছুটে গেলাম জাপান সেনাবাহিনীর কাছে৷ হিংসা আর লালসার এক তুফান জেগে উঠল ইয়াংজিং নদীর জলে, যার জল প্লাবনের আকারে ফুলে ফেঁপে উঠে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল ট্যাং সহ কয়েক হাজার মানুষের ওপরে৷ এই ভয়ংকর ঢেউ ওদের নিয়ে আসে এক বিপজ্জনক স্থানে৷ যেখানে মৃত্যুর মেঘ আচ্ছন্ন করে রেখেছে প্রকৃতিকে৷

সামনে বিশাল বড়ো একটা কাদা ভর্তি ঝিল ছিল৷ ঝিলের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হয় বন্দিদের, আমাদের সেনারা ওদের সেই কাদা ভর্তি ঝিলে ঝাঁপ দিতে বলে৷ কিন্তু প্রাণের ভয়ে ওরা ঝাঁপ দিতে চাইছিল না, আবার সেই হলুদ আগুনের বলয় রচিত হয়, চারদিক থেকে ছুটে আসে হিংস্র কুকুরের গর্জন৷ কুকুরগুলো ক্ষুধার্ত ছিল৷ হলুদ আগুনের ফুলকি আর কুকুরের গর্জন মিলিতভাবে ঝাঁপিয়ে পড়ে জীবন্ত খাদ্যের ওপর৷ এ যেন একটা প্রতিযোগিতা চলতে থাকে৷ কতজন সেনা কত অল্প সময়ে কত বেশি মানুষকে হত্যা করতে পারে, এই প্রতিযোগিতা চলতে থাকে৷ আমরা ভেবেছিলাম প্রতিবাদের ভাষা বোধ হয় হারিয়ে গেছে৷ কিন্তু এক গর্ভবতী মহিলা ছুটে গিয়ে তীব্র প্রতিবাদ জানালে চারিদিক থেকে হিংস্র সেনারা তাঁর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে৷ দীর্ঘক্ষণ মেয়েটির ওপর গণধর্ষণ চলার পর, তাঁর পেট কেটে ভ্রূণটা বার করে রাস্তায় ছুড়ে ফেলা হয়৷

পরের দিন ভোরে আমি মনেস্ট্রির সন্ন্যাসীদের সাথে ট্যাং-এর দেহের সন্ধানে যখন ঝিলের ধারে পৌঁছাই, তখনও ট্যাং-এর শরীরে প্রাণ ছিল, কয়েক হাজার মানুষের মধ্যে ট্যাং কীভাবে বেঁচে গেছিলেন, আমি বলতে পারব না৷ ওকে মনেস্ট্রিতে নিয়ে এসে প্রাকৃতিক উপায়ে চিকিৎসা শুরু হয়৷ আমি আমার কৃতকর্মের জন্য পাপবোধে ভুগছিলাম, তাই এবার আর সেনাবাহিনীর কানে ট্যাং-এর কোনো খবর পৌঁছায়নি৷

ঘরের ভেতরে আবার এক গভীর নিস্তব্ধতা, শুধু দীর্ঘ এবং গভীর শ্বাসপ্রশ্বাসের শব্দ শোনা যাচ্ছিল৷

আকারা আর এইচো দু-জনে বসে নিজেদের ভিডিয়ো দেখছেন, এর মধ্যেই প্রায় সাত হাজার মানুষ এই ভিডিয়োটি দেখছেন৷ এইচো আকারাকে দেখাচ্ছেন, দেখো কতগুলো ভিউ হল৷ আরও লাখ লাখ মানুষের কাছে আমাদের কথা পৌঁছে যাবে৷

এমন সময় কলিং বেলটা বেজে উঠল৷ অন্ধকার ঘরে দুই বৃদ্ধ একে অপরের দিকে তাকিয়ে আছেন, তাদের মুখে কম্পিউটারের আলো এসে পড়ছে৷ দরজা খুলতে দেরি হচ্ছে, এবার খুব জোরে দরজা ধাক্কানোর শব্দ৷ দুই বৃদ্ধের হৃৎস্পন্দন বৃদ্ধি পেল, তারা একে অপরের দিকে অসহায়ভাবে তাকিয়ে থাকলেন৷

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *