১০
স্থান : নানকিং
নানকিং-এর প্রাচীরের ওপরে মুখ রেখে ওরা তাকিয়ে আছে সামনের সরোবরের দিকে৷ এই সরোবরের ধার দিয়ে গড়ে উঠেছে এক আধুনিক শহর৷ কত উঁচু ইমারত, প্রাসাদ, সুন্দর সুন্দর বাগান, কী নেই এই শহরে? এই আধুনিক শহরের আত্মার সাথে একাত্ম হওয়ার চেষ্টা করছেন তারা, কিন্তু কিছুতেই সংযোগ স্থাপন করতে পারছেন না৷ মিসেস চ্যাং একটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বললেন, এই শহরকে আমি ঠিক চিনতে পারছি না, যাকে ফেলে গেছিলাম, তার সাথে কোনো মিলই তো খুঁজে পাচ্ছি না৷ সুচেতনা, এ তুমি তোথায় নিয়ে এলে?
মিস জুয়াং বললেন, মিসেস চ্যাং, আপনি কী করে খুঁজে পাবেন তাকে, তার মৃত্যু তো বহু আগে হয়ে গেছে, সেই মৃত শরীরের জীবাশ্মের ওপর গড়ে উঠেছে এই আধুনিক শহর৷ এখানে আমাদের মতো মানুষেরা অনাকাঙ্ক্ষিত৷
সুচেতনা জুয়াং-এর দিকে তাকিয়ে বলল, জুয়াং আপনার তো মন নিয়ে কারবার, আপনি যদি ভেঙে পড়েন, তাহলে আমরা কীভাবে ভালো থাকব?
মিস জুয়াং বললেন, সুচেতনা, আমি সবার আগে একজন মানুষ৷ একজন মানুষের আবেগ-অনুভূতিকে সবসময় কৃত্রিম প্রলেপ দিয়ে ঢেকে রাখা সম্ভব না৷ সেই মনেরও মাঝে মাঝে সত্যি কথা বলতে ভালো লাগে, নিজের অনুভূতিগুলোর নির্ভেজাল অভিব্যক্তি সে-ও করতে চায়৷ আজ ভোরে বিমানবন্দর থেকে হোটেলে আসার পথে আশেপাশের প্রকৃতি দেখতে দেখতে আমি অনেক ভেবেছি, এই শহরকে অত্যন্ত স্বার্থপর বলে মনে হয়েছে আমার৷
মিসেস চ্যাং বললেন, সুচেতনা, তুমি এই সরোবরের দিকে খুব ভালো করে তাকিয়ে দেখো৷ এখন এর জল নীল দেখছ তো; ১৯৩৭ সালের অগাস্ট মাসে এর রং গাঢ় লাল বর্ণ ধারণ করেছিল৷ হ্রদের চারপাশ থেকে আগুন জ্বলছিল৷ ওরা তিনজন একসাথে একাত্ম হয়ে যেন দেখতে পাচ্ছিল ১৯৩৭ সালের নানকিং-এর সেই দহন৷ মানুষের আর্তনাদ আর গোলাবারুদের শব্দে ওরা একসাথে কানে হাত দিল৷ মিস জুয়াং বললেন, জাপানের নানকিং বিজয় সম্পন্ন হলে ইয়াংজিং নদীপথে এই বিশাল ঝিলের ধারে এক জাহাজ এসে হাজির হয়৷ সেদিন এই জাহাজে করে জাপানের বিখ্যাত মানুষেরা এসেছিলেন এই শহরে৷ রাস্তার ধারে স্থানীয় মানুষদের দাঁড় করিয়ে ওদের অভ্যর্থনা জানানো হয়েছিল৷ বিদেশিরা তাদের বিজিত শহরটিকে দেখে আপ্লুত হয়ে যান, এত সুন্দর একটি শহর তারা লাভ করেছেন এবং বিজিতরা প্রত্যেকে তাদের অভ্যর্থনা জানাচ্ছেন, এ এক অসাধারণ দৃশ্য! এই সব প্রতিনিধিদের দেখানোর জন্য শহরের বিভিন্ন হাসপাতালে স্থানীয়দের চিকিৎসা করা হতে থাকে, ক্ষুধার্ত মানুষের মুখে তারা খাদ্য তুলে দিতে থাকেন৷ কিন্তু এসব কিছুই ছিল জাপানের প্রতিনিধিদের দেখানোর জন্য৷ কিন্তু এই আলোর ভেতরে ছিল গভীর অন্ধকার, যেখানে ভয়ংকর কীটেরা এই শহরকে খুবলে খাচ্ছিল৷
এমন সময় মিয়াংকি এসে হাজির হয়৷ মিয়াংকি মানে মিসেস চ্যাং-এর বাড়িতে যে জাপানি মেয়েটি থাকে৷ মিসেস চ্যাং ওকেও সঙ্গে করে নিয়ে এসেছেন৷ মিয়াংকি একা গিয়ে প্রাচীরের শেষ প্রান্ত পর্যন্ত দেখে এসেছে৷ সুচেতনা এই প্রথম মেয়েটির মধ্যে এত উচ্ছ্বাস দেখতে পেল৷ মেয়েটি নানকিং-এ এসে যেন নতুন এক জীবন পেয়েছে৷ সুচেতনা বলল, আমি আজ আপনাদের নিয়ে একজনের বাড়ি যাব৷ আপনারা যে নানকিং খুঁজছেন, এবার হয়তো সেই নানকিংকে আপনাদের সামনে তুলে ধরতে পারব৷
ঝাঁ-চকচকে শহর পার করে নদীর ধার দিয়ে একটি রাস্তা চলে গেছে, সেই পথ দিয়ে অনেকটা গেলে ছোটো ছোটো দোতলা বাড়ি৷ সামনে সবুজ ঘাসের ওপর বাচ্চারা খেলা করছে, সুচেতনা ছুটে গিয়ে একজন মহিলাকে কী যেন জিজ্ঞাসা করলে, মহিলা ওকে সামনের বাড়িটার দোতলার ঘরটা দেখিয়ে দেয়৷
কলিংবেল বাজানোর প্রায় সঙ্গে সঙ্গে এক বৃদ্ধা এসে দরজা খুললেন৷ বৃদ্ধার মুখ দেখে মিসেস চ্যাং, জুয়াং আর মিয়াংকি ভয় পেয়ে চমকে উঠল৷ কিন্তু সুচেতনা বৃদ্ধাকে আলিঙ্গন করে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকল৷ এই আলিঙ্গনের মধ্য দিয়ে দুটি সময় একে অপরের সাথে মিলিত হচ্ছিল৷ আর এই মেলবদ্ধ সময়ের দুইদিকে স্তব্ধ হয়ে আছে সময়ের দুটি চলমান স্রোত৷ আজ সুচেতনা আর এই বৃদ্ধার শরীর যেন একটি ক্যানভাসে পরিণত হয়েছে৷ আর এই ক্যানভাসের মধ্যে দিয়ে কুয়াশা ভেসে আসছে৷ ওরা দেখতে পাচ্ছে এক যুবতি মহিলার সারা শরীরের মধ্যে বেয়োনেট দিয়ে খোঁচাচ্ছে একদল হলুদ পোশাকধারী সেনা৷ যুবতির রক্তে রক্তাক্ত হয়ে উঠল সাদা ক্যানভাস৷ ওদের মনে হল ওরা যেন সিনেমা দেখছে৷ এই চিত্র পরিবর্তিত হয়ে আর একটি চিত্র দখল করল ক্যানভাস৷ সেখানে ওরা দেখছে যুবতির দেহ কবরস্থ করা হচ্ছে৷ কিন্তু যারা কবর দিতে গেছেন, তারা থমকে দাঁড়ালেন৷ খুব ভালো করে দেখলে বোঝা যায়, যুবতির দেহের মধ্যে যেন স্পন্দন ফিরে এসেছে৷ কিছুক্ষণের মধ্যে সুচেতনা বৃদ্ধার সাথে ফ্ল্যাটের ভেতরে প্রবেশ করলে ওরা তিনজনও যেন বাস্তবে ফিরে আসে৷
সুচেতনা ওদের সাথে মিসেস হুনানের পরিচয় করিয়ে দেয়৷ ওরাও মিসেস হুনানকে দেখে হারিয়ে ফেলা নানকিংকে যেন ফিরে পায়৷ মিসেস চ্যাং বলেন, আমি এই নানকিং-এর সাথে আগের নানকিংকে কিছুতেই মেলাতে পারছি না৷ এ কোথায় এসে পৌঁছোলাম আমরা?
হুনান বললেন, আগের স্মৃতি সব কিছু ধুয়ে মুছে ফেলা হয়েছে৷ কেউ আর সেই সব স্মৃতি মনে করতে চান না৷ শত্রু দেশের সাথে তারা বন্ধুত্ব করে নিয়েছে৷ এই নানকিং শহরেই কয়েক শত জাপানি সংস্থা এখন ব্যবসা করছে৷ বর্তমান সরকার আরও জাপানি সংস্থাকে আমন্ত্রণ জানাচ্ছে৷
ওঁরা যখন নিজেদের মধ্যে কথা বলছিলেন, মিস জুয়াং বললেন, তোমরা নিজেদের মধ্যে কথা বলো, আমি একটু ঘুরে আসি৷ সবার সম্মতি নিয়ে তিনি চললেন নদীর ধারে৷
এই অঞ্চলের সাথে তাঁর আত্মার সম্পর্ক৷ আর কিছুটা গেলেই ডানদিকে একটা স্কুল পড়বে, সেই স্কুলের পাশেই জুং-এর বাড়ি৷ এই স্কুলে সে আর জুং একসাথে পড়াশোনা করেছে, এই নদীর ধারেই তো তাদের প্রেম পরিণত হয়ে উঠেছিল৷ একদিন নদীর ধার দিয়ে সারিবদ্ধ হলুদ ফুলের গাছ ছিল৷ সেই হলুদ ফুল বিছিয়ে থাকত সবুজ ঘাসের ওপর দিয়ে৷ এই সব গাছের গায়ে হেলান দিয়ে বসে ওরা নদীর দিকে তাকিয়ে থাকত৷ এত ঘন গাছপালা ছিল, প্রত্যেক গাছে ছিল পাখির বাসা৷ পাখিরা গাছের ডালে বসে গান গাইত, আর সেই সব গান শুনতে শুনতে জুং জুয়াং-এর জন্য কবিতা লিখত৷ এরকম কত হাজার কবিতা সে লিখেছে যার হিসেব জুয়াং জানে না৷ তবে খুব রাগ ছিল ওর৷ কথায় কথায় রেগে যেত সে৷ একদিন জুয়াং-এর ওপর রাগ করে সব কবিতা সে ভাসিয়ে দিয়েছিল এই নদীর জলে৷ এই নদীর জলের স্রোতে ভেসে যাচ্ছিল সেই সব কবিতা লেখা পাতাগুলো, যার ওপর ডুবন্ত সূর্যের লাল রং এসে পড়েছিল৷ দেখতে দেখতে জুং তাঁর বাড়ির ধারের স্কুলে চাকরি পেয়ে গেল আর জুয়াং গিনলিং কলেজে মনোবিজ্ঞান পড়ত৷ দুই পরিবার মিলিত হয়ে তাদের শৈশবের এই প্রেমকে সামাজিক বন্ধনে আবদ্ধ করার দিনও ঠিক করে ফেললেন৷ কিন্তু তারপরেই এলো সেই বিপর্যয়ের দিন৷ চারপাশ থেকে গুলির আওয়াজ ভেসে আসছে৷ জুয়াং জোরে জোরে পথ চলতে থাকল৷
স্কুলের সামনে যখন ও পৌঁছোল, তখন সন্ধ্যে হয়ে গেছে৷ স্কুল চত্বরের সেই হলুদ পাতার গাছটা তখনও ছিল৷ এই হলুদ পাতায় জুং জুয়াং-এর নাম লিখে খাতার মধ্যে রেখে দিত৷ সেদিনও চারিদিকে হলুদ পাতা বিছিয়ে ছিল, তার ওপরে হলুদ আলো পড়ে এক মায়াবী পরিবেশ তৈরি করেছিল৷ নিজের বয়স অনুভব করতে পারছিল না সে, নিজের মধ্যে সেই যুবতি জুয়াংকে অনুভব করছিল সে৷ কত বছর পর তার দেখা হবে জুং-এর সাথে৷ কত বৃদ্ধ হয়ে গেছে সে৷ কীভাবে তাকে গ্রহণ করবে জুং এবং তার পরিবার!
জুং-এর বাড়িটা প্রায় একই থেকে গেছে, শুধু রংটা বদলে গেছে৷ বাইরের গেট খুলতেই একটা কীরকম যেন আওয়াজ হল৷ বাড়ির চত্বরে বেশ কয়েকটি হলুদ পাতার গাছ৷ যার পাতাগুলো কার্পেটের মতো বিছিয়ে আছে৷ বাড়ির সামনে যে হলুদ আলোগুলো জ্বলছে তা এসে পড়ছে পাতাগুলোর ওপর৷ জুয়াং ধীরে ধীরে এগিয়ে চলল সামনের কাঠের সিঁড়িটার দিকে৷ ওর বুকের ভেতরে সমুদ্রের উচ্ছ্বাস অনুভব করল৷ কাঠের সিঁড়িতে প্রথম পা-টা রাখতেই ক্যাঁচ করে একটা শব্দ হল৷ এই শব্দে বুকের ভেতরের উচ্ছ্বাসটা আরও দ্বিগুণ করে দিল৷ ধীরে ধীরে জুয়াং সিঁড়ি দিয়ে ওপরে উঠে গিয়ে দরজার সামনে দাঁড়াল৷ জুয়াং দরজায় কয়েকবার আঘাত করতেই দরজাটা খুলে গেল৷ এক বৃদ্ধ দরজাটা খুললেন৷ বৃদ্ধের মুখটা খুব ভালো করে দেখল সে, না এ জুং না৷ তবুও নিজের সন্দেহ দূর করার জন্য সে বলল, তুমি কি জুং?
বৃদ্ধ মাথা নাড়িয়ে জানালেন, না, সে জুং না৷ বৃদ্ধ এও জানালেন জুং আর নেই৷
জুয়াং মনের দিক থেকে কোথাও যেন প্রস্তুত ছিল যে সে জুংকে আর জীবিত দেখতে পাবে না৷ তার ধারণাই ঠিক ছিল৷ তবে জুং-এর শেষ পরিণতি যে স্বাভাবিক ছিল না তা সে বুঝতে পেরে গেছে৷ তাই বৃদ্ধকে বলল, আমি কি ভেতরে আসতে পারি?
বৃদ্ধ জুয়াংকে ঘরের ভেতরে স্বাগত জানালেন৷
বাইরের গাছ থেকে একটা পাখি ডেকে উঠল৷ পাখিটার ডাকের মধ্যে এক গভীর যন্ত্রণা লুকিয়ে ছিল৷
ঘরের ভেতরে একটা সাদা আলো জ্বলছে৷ ঘরটা আর আগের মতো নেই, এই ঘরের আসবাবপত্র সব কিছু পালটে গেছে৷ চারপাশ দেখে মনে হচ্ছে বৃদ্ধ একাই এই বাড়িতে থাকেন৷ তিনি জুয়াংকে সোফাতে বসতে বললেন৷
বৃদ্ধ বললেন, আপনি জুং-এর খোঁজ নিতে এসেছেন জেনে অবাক হলাম৷ জুং-এর পরিবারের কোনো সদস্য আর জীবিত নেই৷
জুয়াং বলল, আমি জানতে চাই কী হয়েছিল তাঁর পরিবারের সাথে?
বৃদ্ধ বললেন, এই শহর জাপান দখল করে নিলে এই অঞ্চলের সব পরিবারকে তারা নিজেদের বিশেষ পরীক্ষাগারে নিয়ে যায়, সেখানে তাদের ওপর নানারকম জীবাণু এবং ওষুধের প্রয়োগ করে পরীক্ষা করা হচ্ছিল৷ আমি নিজেও জুং-এর সাথে ছিলাম সেখানে৷ কিন্তু কপালের জোরে বেঁচে গেছিলাম৷ জুং-এর নাক দিয়ে রাসায়নিক ঢালা হয়েছিল৷ জুং নিশ্বাস নিতে পারছিল না৷ দমবন্ধ হয়ে ওর মৃত্যু হয়েছিল৷ আমি পরে এই বাড়িটা সরকারের কাছ থেকে কিনে নিয়েছিলাম৷ স্ত্রী গত দশ বছর মারা গেছে৷ দুই ছেলে আমেরিকায় থাকে৷ আমি এখন একা৷
জুয়াং আর বৃদ্ধ যখন নিজেদের মধ্যে আলোচনায় ব্যস্ত, তখন মিসেস হুনান সুচেতনাকে জানাচ্ছিলেন এই শহরের আর এক অজানা কথা৷ তিনি বললেন, এই শহরের সেই সব অন্ধকার দিনগুলোকে মুছে ফেলার সব রকমের চেষ্টা সরকার করেছেন৷ অত্যাচারিত মানুষেরা সেই অর্থে কোনো ক্ষতিপূরণও পায়নি৷ আমার মামাতো দাদা সেই ভয়ংকর সময়ের কিছু ছবি তুলছিলেন৷ সেই সব ছবির তিন ভাগে কপি করে বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে রাখা হয়েছিল৷ এর একটি একজন আমেরিকান মিশনারি আমেরিকায় নিয়ে যান, একজন জার্মান আর একটি কপি নিয়ে যান জার্মানিতে৷ কিন্তু আর একটি কপির খোঁজ এখনও আমরা চালাচ্ছি৷ মায়াংকি কফি খেতে গিয়ে বিষম খেল৷ ঘড়ির কাঁটা তখনও এগিয়ে চলেছে, সবাই মিস জুয়াং-এর আসার অপেক্ষা করছেন৷
মিস জুয়াং বৃদ্ধকে বললেন, আমি একবার এই পুরো বাড়িটা ঘুরে দেখতে চাই৷ এই বাড়ির প্রতিটা কোণের সাথে আমার এক গভীর সম্পর্ক জড়িয়ে আছে৷
বৃদ্ধের সাথে জুয়াং চলল, প্রতিটি দেওয়াল, দরজা, জানালায় হাত বোলাতে বোলাতে ও চলল৷ জুং-এর শোয়ার ঘরের বিছানাটা এখনও একই আছে৷ জুয়াং-এর শরীরটা কীরকম যেন খারাপ লাগছিল, চারিদিক কীরকম যেন অন্ধকার হয়ে আসছে৷ বিছানার মধ্যে কোনোক্রমে শুয়ে পড়ল সে, খুব শ্বাসকষ্ট হচ্ছে তার৷ জুয়াং অনুভব করছিল ছাদের থেকে জুং-এর মুখটা নেমে আসছে ওর দিকে৷ জুং যেন এই মুহূর্তের অপেক্ষায় ছিল৷ জুয়াং-এর মনে হল জুং তার পাশে এসে বসল, চারিদিক অন্ধকার হয়ে আসছে৷ আর কিছু দেখতে পাচ্ছে না সে৷ নিমেষের মধ্যে সব শেষ৷
