১৯৩৭ নানকিং – ৩

স্থান : টোকিয়ো, কোইশিকাওয়া কোরাকুয়েন

নীল আকাশে হলুদ রঙের ঘুড়ি উড়ছে৷ আকারা আর তাঁর সাংবাদিক বন্ধু এইচো বসে আছে একটি নীল জলাশয়ের ধারে৷ চারিদিকে চেরিব্লসম ফুলের গোলাপি আভায় প্রকৃতি আজ গোলাপি রং ধারণ করেছে৷ বছরের এই সময় গোলাপি চেরিব্লসমে সেজে ওঠে টোকিয়ো শহরের এই বাগানটি৷ দূর দেশ থেকে পর্যটকরা চেরিব্লসম উৎসবে সামিল হতে ছুটে আসে টোকিয়োতে৷ আকারা ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখল বিকেল তিনটে বাজে৷ এই সময় বাগানে লোকজন একটু কম থাকে৷ এইচো হলুদ রঙের ঘুড়ির দিকে তাকিয়ে বলল, জীবনটা কত সুন্দরভাবে শুরু হয়, ঠিক ওই হলুদ ঘুড়িটার মতো, কিন্তু তার পরিণতি সবটাই নির্ভর করে তার চালকের ওপর৷ জীবনকে তুমি যেভাবে চালনা করবে, জীবন তোমাকে সেই রূপে ধরা দেবে৷ কথাটা শেষ না হতেই ঘুড়িটা ছিঁড়ে গেল৷ আকারা চোখ বন্ধ করে বলল, আমি আজও সেই স্মৃতি ভুলতে পারি না৷ রাতের পর রাত নিদ্রাহীনভাবে কাটাতে কাটাতে আজ আমি ক্লান্ত৷ খুব খারাপভাবে এই জীবনটা সাঙ্গ হবার পথে৷

এইচো বলল, ভাবা যায় এত সুন্দর একটা দেশ, চারিদিকের প্রকৃতি কত মনোরম, কিন্তু একসময় এই দেশ এরকম ভয়ংকর হিংস্র রূপ ধারণ করেছিল৷ তাছাড়া আমাদের জীবনের এই ভয়ংকর পরিণতির জন্য একমাত্র দায়ী রাষ্ট্র৷

আকারা মাথা ঝাঁকিয়ে সম্মতি জানাল৷ আকাশে নানারঙের ঘুড়ি উড়ছে, ওরা তাকিয়ে আছে ঘুড়ির দিকে৷ দূর থেকে একটা মৃদু সুর ভেসে আসছে৷ মনে হয় কোনো প্রেমিকা তাঁর প্রেমিকের অপেক্ষায় গান ধরেছে৷ এই গানের মধ্যে গভীর এক বিষাদ রয়েছে, যা মনকে ভারাক্রান্ত করে তোলে৷

এইচো বলল, আমার ছোটোবেলা থেকেই শখ ছিল বড়ো হয়ে একজন নামি সাংবাদিক হব, পড়াশোনা শেষ করার প্রায় সঙ্গে সঙ্গে ‘দ্য জাপান টাইম’ পত্রিকায় ইন্টারভিউ দিই, অদ্ভুতভাবে চাকরিটাও পেয়ে যাই৷ জীবনের প্রথম পর্যায়ে এত নামি একটি পত্রিকা থেকে চাকরির সুযোগ পেয়ে নিজেকে ভাগ্যবান মনে হচ্ছিল সেদিন৷ আকারা, তুমি তো সব জানো, প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর আমাদের কারুরই পারিবারিক অবস্থা ভালো ছিল না৷ বাবার কারখানা দীর্ঘদিন বন্ধ, কোনোক্রমে আমরা বেঁচে ছিলাম৷ এই অবস্থায় আমার মনে হচ্ছিল, আমি হাতে স্বর্গ পেলাম৷ এমন সময় জাপান নানকিং আক্রমণ করল, আর আমি দ্য জাপান টাইমের প্রতিনিধি হয়ে সেনাবাহিনীর সঙ্গে নানকিং গেলাম৷

হলুদ ঘুড়িটা দুলতে দুলতে নীল জলাশয়ের ওপর এসে পড়ল৷ ওরা তাকিয়ে আছে ঘুড়িটার দিকে৷ যার সারা শরীর জলে ভিজে নরম হয়ে যাচ্ছে৷ চরম পরিণতির অপেক্ষায় ওরা৷ এমন সময় একটা বাচ্চা ছেলে গাছের ছোট্ট একটা ডাল ছুড়ে ফেলতেই ঘুড়িটা জলোচ্ছ্বাসে ডুবে গেল৷ একটি সুন্দর উচ্ছল জীবন শেষ হয়ে গেল ওদের চোখের সামনে৷

আকারা স্থিরভাবে তাকিয়ে আছে জলাশয়ে মাঝে৷ সে সেদিকে তাকিয়ে বলল, আমাদের ওপর যুদ্ধবন্দিদের শেষ করে দেওয়ার নির্দেশ ছিল৷ কারণ হাজার হাজার যুদ্ধবন্দিদের খাওয়ানোর আর্থিক ক্ষমতা সরকারের ছিল না৷ ৭ই ডিসেম্বর জেনারেল মাতসুই সুচোতে অত্যন্ত অসুস্থ হয়ে গেলেন৷ সেনা ডাক্তারেরা পরীক্ষা করে জানিয়েছিলেন যে তিনি টিবি রোগে আক্রান্ত হয়েছেন৷ এই অসুস্থ শরীর নিয়ে কাজ করা তাঁর পক্ষে অসম্ভব হয়ে উঠেছিল৷ তাই তাঁর দায়িত্বভার দেওয়া হয় লেফটেন্যান্ট জেনারেল আসাকাকে৷ এই আসাকা ছিল আরও হিংস্র এক ব্যক্তি৷ তার এই হিংস্রতার জন্য তাকে এই বিশেষ পদভার দেওয়া হয়েছিল৷

সরোবরের জলের ভেতরে যেন অন্য এক জগৎ৷ দিগন্তবিস্তৃত ধান খেতের ওপর দিয়ে একটি প্লেন এসে নামল এক গ্রামে৷ চারিদিক কেমন যেন আবছা লাগছে আকারার, সে এখন অন্য এক দৃশ্য দেখতে পেল, খেতের মাঝখান দিয়ে একটি রাস্তা চলে গেছে, যার ওপর দিয়ে সেনাবাহিনীর গাড়ি ছুটে চলেছে, আকাশে উড়ন্ত চিল আর শকুনেরা ঘুরপাক খাচ্ছে৷ রাস্তার দুই ধারে পরিত্যক্ত গ্রাম৷ জনমানবহীন এসব গ্রামের থেকে কুকুরের ডাক ভেসে আসছে৷ জেনারেল আসাকা চলন্ত প্রকৃতির দিকে তাকিয়ে একটা দীর্ঘশ্বাস ছাড়ল, তিনি যাচ্ছিল নির্জন এক ভিলায়৷ সেই নির্জন ভিলায় জেনারেল নাকাজিমার সঙ্গে তার এক গোপন বৈঠক ছিল৷ এই গোপন বৈঠকের ওপরই কয়েক লক্ষ মানুষের জীবন নির্ভর করছিল৷

এইচোর কপালে কতগুলো ভাঁজ দেখা দিল৷ সে অত্যন্ত চিন্তিতভাবে বলল, তুমি এই গোপন বৈঠকের ব্যাপারে জানলে কীভাবে?

আকারা বলল, সেদিন আসাকার সঙ্গে যে তিনজন সেনা অফিসার ছিলেন, আমি তাদের মধ্যে একজন ছিলাম৷ জেনারেল নাকাজিমার শরীরের অবস্থাও ভালো ছিল না৷ কারণ, তার ডানদিকের কোমরের কিছুটা মাংস উঠে গেছিল৷

আকারা অতীতে ঘটে যাওয়া সেই সব চিত্র যেন সরোবরের জলের মধ্যে দেখতে পাচ্ছিল৷ সরোবরের জলটা কেমন যেন অন্ধকার হয়ে উঠল, মনে হচ্ছে বহু পুরোনো দিনের কোনো দুর্গের ঘর, ঘরের দুই প্রান্ত থেকে মৃদু আলো ভেসে আসছে, ঘরের মাঝে একটা সোফায় হেলান দিয়ে বসে আছেন জেনারেল নাকাজিমা৷ তার সামনে বসে জেনারেল আসাকা৷ আর ঘরের দুই প্রান্তের চেয়ারে হাতে গোনা কয়েকজন সেনা অফিসার৷ আলো-আঁধারির মধ্যে তাদের মুখ বোঝা যায় না৷ তবে কথাগুলো শোনা যাচ্ছে৷ সবার কথার স্বরে চিন্তার ছাপ৷

জেনারেল নাকাজিমা বলল, অত্যন্ত সংকটজনক অবস্থা, প্রায় ৫ লক্ষ মানুষ আত্মসমর্পণ করেছে৷ কিন্তু সরকারের থেকে হুকুম আছে এই বিপুল সংখ্যক মানুষকে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব শেষ করে দিতে হবে৷

আকারা ভাবের ঘোরে কথা বলে চলেছিল, সে বলল, কিন্তু জেনারেল আসাকার মতো হিংস্র মানুযও প্রথমে রাজি হয়নি৷ কোথাও যেন একটা দ্বিধা তার মধ্যে কাজ করছিল৷ কিন্তু সরকারের আদেশ অমান্য করার ফল যে কী ভয়ংকর হতে পারে, তা আমরা সবাই জানতাম৷ আমরা যেদিন নানকিং পৌঁছোলাম, সেদিন রাতে কয়েক হাজার জাপানি সেনাকেও আকাশপথে নানকিং পাঠিয়ে দেওয়া হয়৷ কারণ সরকার আর কোনোরকমভাবেই অপেক্ষা করার পক্ষে ছিল না৷ আমরা রাত দুটোর সময় নানকিং-এ প্রবেশ করি৷ তখন রাস্তাঘাট সব ফাঁকা, শুধু দু-একটা জীবিত কুকুরকে চোখে পড়েছিল৷

সরোবরের জলে গাছের শুকনো ডাল এসে পড়তেই জলটার মধ্যে অনেকগুলো রেখা তৈরি হল৷ এই সব রেখাগুলো যেন এক-একটা চিন্তার ভাঁজ, যা সেদিন প্রকৃতির কপালে এসে পড়েছিল৷

এইচো আজও আমি সেই শহরকে চোখ বন্ধ করে দেখতে পাই, রাস্তার দুই ধারে বিশাল বড়ো বড়ো সব প্রাসাদ, সুন্দর সুন্দর বাড়িঘর, মূর্তি দিয়ে সাজানো সেই শহর৷ নিস্তব্ধ রাজপথের চারদিকে সেনাবাহিনীর বুটের শব্দ প্রতিফলিত হচ্ছিল৷ এই শব্দ এক রণহুংকারের মতো ছড়িয়ে পড়ে গোটা শহরে৷

তারপর রাত সাড়ে তিনটে নাগাদ যুদ্ধবন্দিদের কয়েকটি ভাগে ভাগ করা হয়৷ কারণ এই বিপুল সংখ্যক যুদ্ধবন্দিকে একসাথে হত্যা করা আমাদের পক্ষে সম্ভব ছিল না৷ নানকিং-এর রাস্তাঘাট সেদিন অদ্ভুতরকম শান্ত ছিল৷ কয়েক লক্ষ যুদ্ধবন্দি রাস্তার মাঝখান দিয়ে সারিবদ্ধভাবে এগিয়ে চলেছিল নিশ্চিত মৃত্যুর দিকে৷ তাদের দীর্ঘ ছায়া মৃত্যুর মতো দীর্ঘ হতে হতে পুরো শহরকে যেন আচ্ছন্ন করে ফেলছিল৷ সেদিন সারা শহরের ওপর যেন মৃত্যুর ছায়া এসে পড়েছিল৷ ঝোড়ো হাওয়ায় দূরের মনেস্ট্রির ঘণ্টা বেজে চলেছিল৷ প্রকৃতিও যেন আঁচল বিছিয়ে অপেক্ষায় ছিল তার সন্তানদের জন্য৷ সমুদ্রের জলোচ্ছ্বাস আর ঝোড়ো হাওয়ায় এক গভীর বিষাদের প্রকাশ জানান দিচ্ছিল৷ কঠোর নিরাপত্তার মাঝে সেই রাতে হ্যাংচাও সমুদ্রসৈকতে সেই সব যুদ্ধবন্দিদের নিরস্ত্র অবস্থায় হত্যা করা হয়৷ কিন্তু তারা কোনোরকম প্রতিরোধ করেননি, অত্যন্ত অসহায়ভাবে সমর্পণ করেছিল নিজেদের৷ তবে আমি এর মধ্যেও তাদের বীরত্বকে অনুভব করেছিলাম৷ কারণ এই ভাবে বীরের মতো মৃত্যুকে আলিঙ্গন করতেই বা কতজন পারে? গুলি চালানোর পর, বন্দিদের মৃত্যু নিশ্চিত করার জন্য বেয়োনেট দিয়ে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে দেহগুলো ক্ষতবিক্ষত করে দেওয়া হয়৷ পরের দিন সূর্যাস্তের প্রথম আলো যখন সমুদ্রে এসে পড়ে, সমুদ্রের রং রক্তিম ছিল৷ যার প্রতিফলনে দূর-দূরান্ত পর্যন্ত নগর, শহর, বন্দরগুলি লাল রং ধারণ করেছিল৷ সকাল সাড়ে সাতটার মধ্যে সব কিছু শেষ৷ এই সব মৃত যুদ্ধবন্দিদের আর কোনো চিহ্ন অবশিষ্ট ছিল না৷ শুধু মাংস আর নাড়িভুঁড়ি, রক্ত এসব সমুদ্রের সৈকতজুড়ে মাংসাশী প্রাণীদের খাদ্য হিসেবে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ছিল৷

প্রকৃতি কীরকম যেন নিস্তব্ধ হয়ে আসছে৷ বিকেলের নিস্তব্ধতা দুই বৃদ্ধকে আরও বিষাদময় করে তোলে৷ জীবনের এমন এক পর্যায়ে তাঁরা দু-জন পৌঁছেছে, যেখানে রাত্রি আসন্ন৷

এইচো বলল, শেষ সময় আসন্নপ্রায়, এখনই তো নিজেদের পাপকর্মকে প্রকৃতির মাঝে মুক্তি দিয়ে প্রস্থানের সময়৷ দিন ও রাতের এই সন্ধিক্ষণে নিজেকে মুক্ত করো আকারা৷ যা বলার আছে বলো৷

আকারারও যেন মনে হল এই ধাবমান সময় যা ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে চলেছে, তা তার কথা শোনার জন্য কিছুক্ষণ থমকে গিয়ে জলাশয়ের জলের মধ্যে অপেক্ষা করছে৷ এখন জলাশয়ের জলটাও কেমন যেন স্থির হয়ে তাকিয়ে আছে আকারার দিকে৷ আকারা আবার বলা শুরু করল৷

সেদিন আমরা পায়ে হেঁটে দূর-দূরান্ত পর্যন্ত চিরুনি তল্লাশি করেছি৷ অবশেষে মুফুন পর্বতের পাদদেশে আমরা যখন পৌঁছাই তখন রাত হয়ে গেছে৷ চারিদিকে অন্ধকার অরণ্য আর সেই অরণ্যের এক ধার দিয়ে ইয়াংজিং নদী বয়ে যাচ্ছে৷ আমরা দেখলাম নদীর ধারের ঝোপের ভেতর থেকে হালকা আওয়াজ ভেসে আসছে৷ ঝোপগুলোর ওপর আলো ফেলতেই দেখলাম কয়েক হাজার সেনা গভীর অরণ্যে আশ্রয় নিয়েছে৷ আমরা আলো ফেলতেই তারা সাদা রঙের কাপড় দেখিয়ে আত্মসমর্পণ করতে চাইল৷ আমরা তাদের আদেশ দিলাম, যারা আত্মসমর্পণ করতে চাও, তাঁরা মুফুন পর্বতের নীচে নদীর ধারে গিয়ে দাঁড়াও৷ আমাদের সেনারা ততক্ষণে অরণ্যের ভেতর প্রবেশ করে চারপাশ থেকে তাদের ঘিরে ধরে৷ তারপর তাদের কয়েকটি ভাগে ভাগ করে নদীর ধারে নিয়ে গিয়ে গুলি করে হত্যা করা হয়৷ আমার আজও মনে আছে, আত্মসমর্পণকারী সেনারা আমাদের কাছে জল আর খাদ্য চাইছিল৷ আমরা যে আলো তাদের ওপর ফেলেছিলাম, সেই আলোয় অসহায় মুখগুলো কীরকম যেন ধূসর বর্ণের লাগছিল৷ আমার একবারও ওদের শত্রু বলে মনে হয়নি৷ শত্রুদের মুখ এত অসহায় হয়, তা কোনোদিন ভাবতে পারিনি৷ কথাগুলো বলতে বলতে আকারা কেঁদে ফেলল৷ ও দু-হাতে মুখ চেপে ধরে কাঁদছে৷ তারপর হাত দুটো মুখ থেকে নামিয়ে তার দিকে তাকিয়ে বলল, এইচো, এই দু-হাতে আজও রক্ত লেগে আছে, যে রক্ত কয়েক হাজার জন্মেও মোছার না৷ আমি নিজে কয়েক হাজার মানুষকে হত্যা করেছি৷ শুধু হত্যা? ছিঃ, আমি ১২ থেকে ৮০ বছর বয়সি মহিলাদের ধর্ষণ করে হত্যা করেছি৷ ওরা আমার কাছে প্রাণভিক্ষা চেয়েছে, আমি কারুর কথা শুনিনি৷ তখন আমি নিজে এক দৈত্যে পরিণত হয়েছিলাম৷

এইচো-র দু-চোখ দিয়ে জল ঝরছে৷ বসন্তের ঝরা পাতার ওপর দিয়ে বিষাদময় হাওয়া বয়ে যাচ্ছে, শুকনো পাতার খঞ্জনি এক করুণ সুরের মূর্ছনায় বেজে চলেছে৷

লক্ষ লক্ষ শবদেহ ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ছিল চারিদিকে, মুফুন পর্বতমালার ধার দিয়ে ইয়াংজিং নদীর তীর ধরে আমরা যত এগিয়েছি, স্তূপ স্তূপ মৃতদেহের ওপর গ্যাসোলিন ছড়িয়ে তা জ্বালিয়েছি৷ দূর থেকে মনে হত বিস্তৃত অঞ্চলজুড়ে যেন দাবানল লেগেছে৷ আজও সেই দাবানল এই বুকের মাঝে জ্বলছে, যা ধীরে ধীরে আমার সমগ্র অস্তিত্বকে গ্রাস করে চলেছে৷

বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা নামছে বাগানে৷ এখন আকারা আর এইচো বাদে আর কেউ নেই৷ বাগানের অন্যদিকে দু-একজন থাকলেও থাকতে পারে, কিন্তু এই জলাশয়য়ের ধারে তাঁরা দুই বন্ধু আর কিছু পাখি আছে৷ পাখিরা ঘরে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছে, কিন্তু এই দুই বৃদ্ধের মধ্যে কোনো তাড়া নেই৷

পশ্চিমের আকাশে সূর্যাস্ত হচ্ছে, যার ছায়া জলাশয়ের মধ্যে প্রতিফলিত হয়ে ওদের মুখে এসে পড়ছে৷ দুই বৃদ্ধের মুখ রক্তিম বর্ণ ধারণ করেছে৷

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *