হার্ট অ্যাটাক – অভীক সরকার

হার্ট অ্যাটাক

প্রবল ও প্রখর মধ্যএপ্রিল। ভদ্রলোক প্রচণ্ড দুশ্চিন্তা মাথায় নিয়ে অফিসে বসে আলমারি ঘেঁটে ঘ, এসি থাকা সত্ত্বেও ঘামতে ঘামতে ক্রমশই আইসক্রিমের মতো গলে গলে যাচ্ছেন। অল্প যে’কটি চুল মাথায় ছিল, তাদের বোধহয় ‘শেষের সেদিন ভয়ঙ্কর’ এসে উপস্থিত।

অডিট প্রকাশ যে গত বছরের বাজেট ইউটিলাইজেশনের প্রায় এগারো কোটি টাকার ঘাপলার হিসেব ইন দ্য ভোগ অফ মা! টাকাটা কোন বারো ভূতের মোচ্ছবে গেছে খোদায় মালুম, তখন তিনি এই কোম্পানিতেই ছিলেন না, কিন্তু এ যুক্তি কর্পোরেটে চলে না। জবাবদিহির দায় না থাকলেও কাজটা তাঁরই। কিন্তু মুশকিল এই যে, এই কেসে জবাবের জবা, জুঁই, গোলাপ-এর কিচ্ছুটির খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না; বরং তার বদলে সর্ষেফুলটাই বার বার চোখে ভেসে ভেসে উঠছে। ফলে ভদ্রলোকের কানের মধ্যে হাজারটা চিয়ারলিডার টাইপের উচ্চিংড়ে ট্যাঙ্গো ট্যাঙ্গো জিঙ্গো জিঙ্গো নেচেই চলেছে, বুকের ভিতরে সাইবেরিয়ার হিমেল হয়ে বয়ে ভারততাত্ত্বিক ভারত মহাসাগর, মন পুরো বিবাগী মরুতীর্থ হিংলাজ। এমন সময়ে বিকেল ঠিক চারটে তিপ্পান্নয় অফিসের স্কাইলাইটের ফাঁক দিয়ে শেষ বিকেলের আলোটা রোদ্দুরের মতো ভদ্রলোকের রিমলেস চশমার কাঁচে ঠিকরে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে ডেস্কের ওপর পড়ে থাকা মোবাইলটা বেজে উঠল, স্ক্রিনে লেখা “হোম মিনিস্টার কলিং।”

তিনি প্রথমে ভাবলেন, ফোন তুলেই দুটো বাছা-বাছা গুছিয়ে দেবেন। এই সব বাওয়ালের মধ্যে বেকার ফালতু “আসার সময় ভালো দেখে সিম আর আড়াইশো পোস্ত এনো” শুনলে ইচ্ছে করে মোবাইলের ভেতর হাত ঢুকিয়ে ঠাসিয়ে দুটো থাপ্পড় মারেন। ফলে দাঁত কিড়মিড় করে নিয়ে ফোনটা তুলে যথাসাধ্য মিষ্টি গলায় ‘হ্যালো’ বলতেই ওপার থেকে রিনরিনে গলায় ভেসে এল,

“হ্যালোওও বাবা, তুমি কীইইই করছ??”

“কাজ করছি মা।”

—তুমি সারাদিন অফিসে কী কাজ করো বাবা?

দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে এল ভদ্রলোকের বুক ঠেলে। এ প্রশ্ন তো ওঁর বসও রোজই জিজ্ঞেস করেন। তাই বলে মেয়েও? যতসব।

—কেন মা? তুমি কী করছ এখন?

—আমি এখন রেডি হচ্ছি তো, রতিশাদের বাড়ি খেলতে যাব বলে। তার আগে ঘুমিয়েছি, আর তার আগে খেয়েছি। আজকে মা কী করেছিল জানো? চিকেন… হি হি হি। তুমি জানতে আজ চিকেন হবে? হ্যাঁ বাবা, তুমি জানতে? বলওও না বাব্বা, জানতে? তারপর ঘুমিয়ে দুটো স্বপ্ন দেখলাম, বুঝলে, একটা ক্রিস্টফার (লাজুক হাসি) আর একটা এলসা আর অ্যানার। আচ্ছা বাব্বা, তুমি যখন অফিস থেকে আসবে আমার জন্য একটা ফ্রোজেন ডল আনতে পারবে কি? হ্যাঁ বাবা, আনবে? ওলাফ আনবে না কিন্তু। ওলাফ খুব ফানি। স্বেন আনতে পারো, এলসা আর অ্যানা কিন্তু মাস্ট, মনে থাকবে তো? ও বাবা, ভুলে যাবে না তো, হ্যাঁ বাবা? ভুলে যাবে না তো? পাক্কা? প্রমিস? তারপর রতিশাদের বাড়ি খেলতে যাব এখন। ওর একটা বড় বার্বি ডল আছে জানো? আমাকে খেলতে দেয়, কি কিউট না? আচ্ছা বাব্বা, রতিশা কি গুড গার্ল? হ্যাঁ বাবা, গুড গার্ল কি রতিশা?

মা বলেছে, কালকের মধ্যে টেন-এর টেবল মুখস্থ করলে আমাকে গুড গার্ল বলবে। যদি না পারি তবে কি আমি ব্যাড গার্ল হব? হ্যাঁ বাব্বা? তখন কি আমাকে তুমি…

এই অবিরাম অনর্গল বাক্যস্রোত বেগবতী নদী হবার আগেই উনি ফারাক্কা ব্যারেজ হতে বাধ্য হলেন। কালকের মধ্যেই গরমিলের হিসেব চাই, ওঁর কাছে এখন আক্ষরিক অর্থেই টাইম ইজ মানি! অতএব গলাটা খুবই সরু এবং মিঠে করে বললেন, “ঠিক আছে মা, টাইম পেলে ফ্রোজেন ডল কিনে নিয়ে যাব, কেমন? এখন তুমি খেলতে যাও, ঠিক আছে!”

কিন্তু নাহ্, ভবী ভুললেও ভুলতে পারে, ইনি ভবীরও অনেক ওপরের চিজ। মিঠেতর আদুরে গলায় জানালেন, “শোনো না বাব্বা, মা না আজকে বকেছে আমাকে হুউউউউ, আমার কিন্তু খুব দুঃখ হয়েছে, হুউউউউ…”

উনি বিশেষ পাত্তা দিলেন না, এসব মোটামুটি গা-সওয়া। বাচ্চারা দরকার পড়লে যা ডেঞ্জারাস টাইপের ইমোশনাল ব্ল্যাকমেইল করতে পারে, সে এই কদিনে তিনি বেশ জেনে ফেলেছেন। চার্লস শোভরাজআদি ব্ল্যাকমেলকুলপতিরা নাক-কান মলে এদের যে কারো কাছে নাড়া বাঁধতে পারে।

ফলতঃ উনি খুবই উদাস গলায় জিজ্ঞেস করলেন— কেন? মা তো এমনি এমনি বকবে না, নিশ্চয়ই কিছু দুষ্টু করেছিস, ঠিক করে বল!

—মা না, কিছু দুষ্টু করিইই নিইইই… ভ্যাঁআআআ…

কিন্তু ভদ্রলোক জানেন যে, একই ঘুঘু বারে বারে ধান খেয়ে যাবে সেটা হয় না, হতে দেওয়া ঠিকও নয়, এতে ঘুঘুর অভ্যেস খারাপ হবার যথেষ্ট চান্স থেকেই যায়। ফলে গলাটা কঠোর করে জিজ্ঞাসা করলেন— ঠিক করে বল। নইলে কিন্তু নো ফ্রোজেন ডল।

—উঁউউউ… সকালে অনেকক্ষণ ডোরেমন দেখছিলাম, তারপর মা বলল স্নান করতে যেতে, আমি তার পরেও আইপ্যাডে শপকিনস দেখছিলাম, তাই মা বকছিল, আর আমি তখন শপকিনসের মতন ও ইয়েহ আঁ হা, ও ইয়েহ আঁ হা করছিলাম বলে মা… ভ্যাঁআআআ…

বোঝা গেল। নামিয়া এসেছে ন্যায়ের দণ্ড রুদ্রদীপ্ত মূর্তিমান। কিন্তু তাই বলে তো এভাবে এই আইপ্যাডাসক্ত শিবরাত্রির সলতেটিকে বখে যেতে দেওয়া যায় না! আফটার অল ওঁর বাবা হিসেবে তো একটা কর্তব্য তো আছেই। তাই বলতে বাধ্য হলেন, “এটা তুমি ঠিক করোনি মা। রাতদিন টিভি আর আইপ্যাড দেখাটা ঠিক নয়। মাঝে মাঝে খেলতে যাওয়াও তো দরকার। আর ডোরেমনটা একদম ভালো না মা, বিচ্ছিরি। শপকিনসটাও খুব বাজে…”

—তোমার মা তোমাকে বকত? হ্যাঁ বাবা, বকত?

মায়ের ঠ্যাঙানির কথা মনে পড়লে এখনও ভদ্রলোকের হৃৎকম্প উপস্থিত হয়। উনি বাঁ হাতে বুকের ওপর চাপ দিয়ে অত্যন্ত গম্ভীর স্বরে বললেন, “উঁহু, আমি খুব ভালো ছিলাম কিনা, তোর ঠাম্মি আমাকে একটুও বকত না। আর আমি এসব দেখতামই না, উঁহু একদম না…”

কথা শেষ হবার আগেই সেই ক্ষুদ্র চ্যাটারবালিকাটি ঝাঁপ দিয়ে পড়ল প্রায়— তোমরা কী দেখতে বাবা? তোমাদের সময় ডোরেমন হত? তোমরা খেলতে যেতে? তোমাদের ফ্রোজেন ডল ছিল, হ্যাঁ বাব্বা, ছিল ফ্রোজেন ডল? ছিল?

—উম্ম, আমাদের সময় ডোরেমন ছিল না মা, কিন্তু হি ম্যান ছিল, স্কেলেটন ছিল, মোওগলি ছিল, জনি সোকো অ্যান্ড হিজ ফ্লাইং রোবট ছিল, তারপর রোববার রোববার রামায়ণ হত, তারপর মহাভারত, চিত্রহার…

বলেই যেতে লাগলেন তিনি, সেই শুক্তিপ্রত্যাগত মুগ্ধ হাল্লাসেন্যাটির মতন, ‘ক্ষেতে ফসল ছিল, গাছভরা ফল ছিল, দেশে শান্তি ছিল’ মোডে… “মালগুডি ডেজ ছিল, পরমবীরচক্র দেখতুম…”

ভদ্রলোক পুরো ভেসে গেলেন, একটু আগে বলা নিখাদ মিঠে মিথ্যেটির কথা আর মনেই রইল না।

—আর কী কী খেলতে বাব্বা? তোমরা কি আউটডোর গেমসও খেলতে বাবা? কী কী খেলতে হ্যাঁ?

—উম্ম আমরা ফুটবল খেলতে যেতুম, ক্রিকেট খেলতুম, পিকনিক করতুম, সরস্বতী পুজো করতুম সবাই মিলে, ডিবেট হত, ক্যুইজ হত খুব, আবৃত্তি প্রতিযোগিতা হত, ফি বছর পাড়ায় নাটক হত…

বলতে বলতে উনি ফীল করতে লাগলেন যে, বডিটা হালকা লাগছে। বেশ উড়ছেন মনে হচ্ছে, সেই সিপিয়ারঙিন অমলিন শৈশব আর কৈশোর— ফুরফুরে সময়, ভারহীন স্মৃতি। ভাব এসে গেছিল কিনা, তাই বেশ গলা কাঁপিয়ে বলতে লাগলেন— চাঁদের পাহাড় পড়তুম, আনন্দমেলা কিনতুম সারা বছর মাটির ভাঁড়ে টাকা জমিয়ে, পাগলা সাহেবের কবর, ইতি তোমার মা, সবুজ দ্বীপের রাজা, সোনাঝরা গল্পের ইনকা। তারপর ধর দুর্গাপূজোয় ক্যাপ বন্দুক ছিল, নতুন জামা-জুতো পরে ভাই-বোন সব্বাই মিলে ঠাকুর দেখতে যাওয়া তো ছিলই। বাড়িতে টানা বারান্দায় সব ভাই-বোনেরা মিলে হইহই করে সরু আতপচালের ভাত, ঘি আর ডিমসেদ্ধ দিয়ে কাড়াকাড়ি করে খাওয়া…

ভদ্রলোক খুব সম্ভবত আবেগের হাওয়াতে উড়েই যেতেন, কন্যরত্নটি টেনে নামিয়ে আনলেন, “তোমরা এসব কবে করতে বাব্বা? আমাকে তো ডাকতে না একটুও! হ্যাঁ বাব্বা, আমাকে তো একবারও ডাকোনি? কেন বাব্বা? আমাকে ডাকতে না কেন? হুঁ উঁ উঁ উঁ…”

“উফফ, তখন কি তুই হয়েছিলিস যে ডাকব? সে অনেক আগের কথা।”

“কত আগের কথা বাব্বা? হ্যাঁ বাব্বা, কত আগের? ফিফটি ইয়ার্স আগের? হান্ড্রেড ইয়ার্স আগের? টেন হান্ড্রেড ইয়ার্স আগের? হ্যাঁ বাব্বা? এত আগের?”

দীর্ঘশ্বাস ফেললেন উনি। সেসব দিন এখন যদিও টেন হান্ড্রেড ইয়ার্স আগের বহুযুগের ওপার হয়ে আসা কোনো ভুলে যাওয়া সিনেমা বলেই মনে হয় এখন। গলাটা বোধহয় ধরে এসেছিল, খাঁকরে নিয়ে বললেন— না মা, ধরো, উম্ম… টুয়েন্টি ফাইভ থার্টি ইয়ার্স আগের!

—উম্ম… তখন তোমাদের হার্ট অ্যাটাক হত বাবা, হ্যাঁ? হত তোমাদের হার্ট অ্যাটাক?

ভদ্রলোক একটু ঘেঁটে গেলেন। অদ্যাবধি নিজ কন্যরত্নটির সঙ্গে জগৎ ও জীবন সম্পর্কে অনেক দুরূহ আলোচনা তিনি সম্পন্ন করেছেন, কিন্তু হার্ট অ্যাটাক?

চকিতে সতর্ক হলেন উনি, কন্যাটির মাতৃদেবী ওঁর ড্রিঙ্ক করা নিয়ে কিছু বলেছেন নাকি মেয়েকে? এইভাবে ঘুরপথে ইমোশনাল ব্ল্যাকমেইল করবার একটা ঘৃণ্য চক্রান্ত পাকিয়ে উঠছে না তো কোথাও?

“ইয়ে বলছি কী মা, হার্ট অ্যাটাক হল এক ধরনের রোগ। এতে বুকের খুব ব্যথা হয়, আর (আলমারির পেছনে লুকোনো ব্রেভার্সের বোতলটা ওর মা দেখতে পায়নি তো?) এতে মানুষ মরেও যেতে পারে। কিন্তু কেন জিজ্ঞেস করছ মা?”

—ধুর তুমি কিছু জানো না।

পিতৃদেব চমৎকৃত হলেন। ওনার কন্যারিত্নটির নিত্যনূতন জ্ঞানভাণ্ডারের কিঞ্চিৎ পরিচয় পেয়ে উনি প্রভূত উদ্বিগ্ন আছেন লাস্ট বছরখানেক। কিন্তু নতুন কোন জ্ঞানাঞ্জনশলাকা দিয়ে এ অজানা কোন জ্ঞানচক্ষুরুন্মীলন?

—আচ্ছা? তাহলে তুমিই বলো!

—শোনো, হার্ট হচ্ছে চোখে থাকে। বুঝেছ?

—অ্যাঁ? ইয়ে, হ্যাঁ মা, বুঝেছি। তারপর?

—যখন কোনো সুন্দর ছেলে চোখে পড়ে, খুব ভালো লাগে, তখনই হার্ট অ্যাটাক হয়।

পিতৃদেব সহসা উৎকর্ণ হলেন। ঘাড়ের সমস্ত রোঁয়া দাঁড়িয়ে গেল। মেয়ে বলে কী?

—হুমম, আচ্ছা, তাই নাকি?

—আর জানো বাবা, সিজুকার হার্ট অ্যাটাক হলেই নোবিতার কাছে দৌড়ে যায়, কি কিউট না?

পিতাশ্রী ঠিক অতটা উল্লসিত হতে পারলেন না। প্রথমত এই কুমারী সিজুকা এবং শ্রীমান নোবিতার সঙ্গে ওঁর বিশেষ কোনো আলাপ নেই। আর এই বয়সে কিউটনেসের ডেফিনিশনটা ঠিক কী হওয়া উচিত এ নিয়ে উনি অত্যন্ত সন্দিহান।

—আচ্ছা? তাই নাকি?

—তবে কি না জানো বাবা, সবচেয়ে কাকে বেশি দেখলে আমার হার্ট অ্যাটাক হয়?

গরম লাগছে খুব। এসির টেম্পারেচার আরও দু’ডিগ্রী কমিয়ে দেবেন নাকি? ডানদিকের কানের লতি থেকে এক ফোঁটা ঘাম ল্যাপটপের কীবোর্ডে পড়ল মনে হচ্ছে?

—রতিশা বলে ডেকিসুগি সবচেয়ে হ্যান্ডসাম। কিন্তু বাবা সত্যি বলতে কী…

একটু লাজুক রিনরিনে হাসি প্রায় মহাসিন্ধুর ওপার থেকেই ভেসে এল, “আমার সবছে’ কাকে দেখলে বেশি হার্ট অ্যাটাক হয় জানো?”

—(অত্যন্ত কঠিন গলায়) বলো।

—ওর নাম হচ্ছে ‘অরকো’ মুখার্জি। কী কিউট বাবা, কী কিউট… তোমায় কী বলব। আমার তো ওকে দেখলেই ইচ্ছে করে সিজুকার মতন গলা জড়িয়ে হামি খেতে।

গলায় কিছু আটকে গেল নাকি? বুকের বাঁদিকটা জ্বলছে বলে মনে হচ্ছে না? শালার অ্যাসিডিটি!

—বাবা তুমি কখন বাড়ি আসবে?

— (ল্যাপটপ দ্রুত বন্ধ করতে করতে) আমি এক্ষুনি আসছি। ম্যাথসের খাতাটা বার করে রাখ। আজকে পঞ্চাশটা সামেশন আর সাবস্ট্রাকশন করতে হবে। তারপর ইংলিশ স্টোরি বুকের পুরো সেকেন্ড চ্যাপ্টারটা, আর…

—কিন্তু বাবা আ আ আ…

—আর যদি একটা ম্যাথসও ভুল হয় হতচ্ছাড়ি মেয়ে, আজ টিভির রিমোট তোমার পিঠে ভাঙব।

—কিইইইইইইউইউইউ বাবাআআআআ তুমি যে বললে ফ্রোজেন ডল…

—বললাম তো, এক্ষুনি বই খাতা বার করে রাখ। নইলে আজ (ট্যাক্সি, ট্যাক্সিইইইইই, শুনতে পাও না কানে হতচ্ছাড়া! ইধার, হ্যাঁ রে পাঁঠা ইধারই) তোর’ই একদিন কী আমার’ই একদিন। আর শোন, কাল থেকে তোর টিভি দেখা বন্ধ। আর যদি ফের দেখেছি রতিশাদের বাড়ি যেতে…

মেয়ের বয়েস পাঁচ। নাম? আলাপ হলে বলব না হয়। আর হিংসেয় জর্জর, ঈর্ষায় সবুজ হয়ে যাওয়া যে ভদ্রলোকটি বাড়ির দিকে ঘর্মাক্ত-কলেবরে রওনা দিলেন, তার নাম আমি কিছুতেই, কিছুতেই, কিছুতেই বলতে পারব না।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *