কুমারী আরাত্রিকা তর্কালঙ্কার
চাপে আছি দাদা, সত্যি কথা বলতে কী, খুবই চাপে আছি। রীতিমতো টেনশনে গা’টা থেকে-থেকে ছমছম করে উঠছে। চিত্তে বিলকুল সুখ নাই, রাতে ঘুম হচ্ছে না, থেকে-থেকে ঢোঁয়া ঢেকুর উঠে একটা বিচ্ছিরি ভাব, অগ্নিমান্দ্যই হল না লিম্ফোসারকোমা আইনস্টাইন কিছুই বুঝে উঠতে পারছি না।
অথচ আজ দিনটা যখন চমৎকার নরম মোলায়েমভাবে শুরু হয়েছিল তখন এসবের বিন্দুমাত্র পূর্বাভাস ছিল না।
ঘটনাটা খুলেই বলি তাহলে।
মধ্য ফেব্রুয়ারির মুম্বাইতে শীত বলে কিছু টের পাওয়া আর সাহারা মরুভূমিতে মেরুভল্লুক খুঁজে পাওয়া প্রায় একই ব্যাপার। এমনিতেই সমুদ্রের ধারের শহর, ফলে শীতের প্রকোপ দিল্লি তো দূর অস্ত, রাঁচির-পাঁচির করে কলকাতার লেভেল অবধি পৌঁছয় না। এমনকি একত্রিশে ডিসেম্বর রাত বারোটার সময় টি শার্ট গায়ে আপনি স্বচ্ছন্দে আইসক্রিম খেতে খেতে মেরিন ড্রাইভে বায়ুসেবন করতে পারেন, ওর থেকে বেশি শীত কলকাতাতে কালীপূজোর সময় পড়ে।
এখন এখানে গরম বাড়তে শুরু করেছে, মধ্য ফেব্রুয়ারিতেই প্রায় মধ্য এপ্রিলের তেজ। অফিস থেকে ফিরে হা হা করে হাঁপিয়ে জল-টল খেয়ে, মাথায় চাপড়ে এলিয়ে পড়ে আছি, এমন সময়ে তিনি এসে অতি নিরীহভাবে আমার কোলটি ঘেঁষে বসলেন। আমার তখনই বোঝা উচিত ছিল ব্যাপারটা, ‘পর্বতো বহ্নিমান ধূমাৎ’ বলে একটা সতর্কবাণী মুনিঋষিরা অনেক আগেই লিখে রেখে গেছেন। অমন শান্ত নিরীহ হাবভাব মানে… লক্ষণ তো সুবিধের নয়ই, নিরাপদও ঠেকছে না!
“কী রে, সারাদিন স্কুলে কী করলি?”
—যা করে থাকি, দুষ্টুমি।
চমৎকৃত হই। এমন সত্যভাষণ শেষ বোধহয় শোনা গেছিল সেই রামচন্দ্রের কালে। তারপর ত্রেতা দ্বাপর পেরিয়ে হুড়মুড়িয়ে সত্যদা হঠাৎ এ পাড়ায়? তারপরেই চকিতে মনে পড়ে গেল, ও হরি… আজকে মেয়ের পরীক্ষার রেজাল্ট বেরিয়েছে না?
—কী রে আজ তোদের মার্কস দেখাবার কথা ছিল না?
—হি হি হি… বলো তো ইংলিশ আর জিওগ্রাফিতে কত পেয়েছি?
—আগে ম্যাথসের নাম্বারটা বল।
—শোনো না, ইংলিশে ফর্টি এইট আউট অফ ফিফটি, আর জিও…
—আগে ম্যাথস…
—জিওগ্রাফিতে ফর্টি ফাইভ আউট অফ…
—ম্যাথস?
—আর শোনো না, আর্ট অ্যান্ড ক্রাফটে না আমি জোহরার থেকে…
—ম্যাথস… নিজের ব্যাঘ্রগর্জনে নিজেই খানিকটা চমকে যাই। যমুনার ওপারের কুঞ্জবনের থেকে শ্যামের বাঁশির মতো ক্ষীণ আওয়াজ ভেসে আসে,
—থার্টি ফোর।
স্তম্ভিত হয়ে চেয়ে থাকি। থার্টি ফোর? থার্টি ফোর? কোন আক্কেলে, হ্যাঁ রে, তুই কোন আক্কেলে থার্টি ফোর অবধি পেয়ে গেলি শুনি? বলি এই যে বংশগৌরব একটু টেনেটুনে ওপরে তুলবি ভেবেছিলুম, তাতে এইভাবে গ্যামাক্সিন ঢালতেই হল তোকে? বলি জানিস কত সুপ্রাচীন আমাদের ফ্যামিলির ঐতিহ্য? তোর ছোটপিসি দুই বার ম্যাথসে ফেল করেছিল, তোর দাদু ইংরেজি পরীক্ষার দিন ফুটবল খেলে ঠ্যাং ভেঙেছিল যে রে! তোর পিঙ্কিপিসি তো মাধ্যমিক দিয়ে বলেই দিয়েছিল, “আমি আর পড়ব না, আমার বিয়ে দিয়ে দাও!” তোর ছোটকাকা তো ক্লাস এইটের গণ্ডীই টপকাতে পারল না! আর তোর বাবা যে একবার ঘুমিয়ে পড়ে ইলেকট্রিক্যাল সার্কিটের এক্সাম মিস করেছিল, আর ডিজিটাল ইলেকট্রনিকসে ফেল করেছিল, আর ক্লাস সিক্সের অ্যানুয়ালে তোর বাবা যে অঙ্কে একশোয় পঞ্চান্ন পেয়েছিল, বলি কোন আক্কেলে সেই কথাটা ভুলে গেলি তুই? কী ভেবে, বলি কী ভেবে তুই ম্যাথসে একেবারে চৌত্রিশ অবধি মার্কস তুলে ফেললি?
যাই হোক, মেয়েকে তো আর বলা যায় না নিজেদের পারিবারিক গৌরবগাথা, গলাটা অত্যন্ত গম্ভীর করে বললাম, “এত কম হল কী করে মা?”
তিনি স্রেফ গাছ বাইবার মতো করে আমার ঘাড়ে উঠে এলেন, “ম্যামটা কী দুষ্টু জানো, একটা সামেশন… উঁ উঁ উঁ সব ঠিক করেছি, জাস্ট ফাইভ প্লাস ফাইভ করে হাতে রাখা ওয়ানটা প্লাস করতে ভুলে গেছি… পুরো জিরো দিয়ে দিয়েছে জানো? তারপর মাল্টিপ্লিকেশনের ম্যাথসটা এত ঘুরিয়ে পেঁচিয়ে, এত ঘুরিয়ে পেঁচিয়ে লিখেছে, আমি তো বুঝতেই পারলাম না! ডিভিশন করে এলাম… আমার কী দোষ বলো? তারপর থাউজ্যাণ্ড আর হ্যান্ড্রেড প্লেসের অঙ্কটায় শুধু উল্টো করে হ্যান্ড্রেডের জায়গায় থাউজ্যাণ্ডরটা লিখে দিয়ে এসেছিলাম… বাকিটা তো ঠিকই ছিল! বলো… হুঁ হুঁ হুঁ… এই মিসটা ভালো না, অ্যাঁ অ্যাঁ অ্যাঁ…”
ঠিকই তো, সব দোষ সম্রাট শাহজাহানের, আওরঙ্গজেব তো নিমিত্তমাত্র! দ্রুত একমত হতেই হয়। তারপর মহোত্তমাকে কোল থেকে নামিয়ে কিঞ্চিৎ চিত্তপ্রফুল্লকরণে প্রবৃত্ত হলাম, “আচ্ছা আচ্ছা ফ্রেঞ্চে কত পেলি?”
তুই হেসে উঠলেই সূর্য লজ্জা পায়… তিনি তৎক্ষণাৎ ঝলমল করে উঠলেন, “ফিফটি আউট অফ ফিফটি। জানো বাবা, ফ্রেঞ্চে কী করে হ্যালো বলে?”
—কী করে মা? (*চকাম)
—বঁ জু মঁসিয়ে। আর থ্যাঙ্ক ইউকে কী বলে বলো তো?
—কী, মা? (*চকাম চাকুম)
—মের্সি।
এরপরও যে বাবা চমৎকৃত না হয়ে থাকতে পারে, তার ইম্মিডিয়েট বাবার পোস্ট থেকে রিজাইন করা উচিত। আমি তো চিন্তাই শুরু করে দিলাম, পরের চাকরিটা কি প্যারিসেই নেব নাকি?
এরপর বাপে মেয়েতে অনেক খুনসুটি হল, সেসব বিস্তারিত শুনে আপনাদের কাজ নেই। দু-একটা উমদা নমুনা পেশ না করলে নেহাত আপনারা মনঃক্ষুণ্ণ হবেন বলে…
—আচ্ছা মা, ফ্রেঞ্চে তোর নাম কী হবে জানিস?
—হি হি। না তুমি বলো দেখি…
—আরাত্রিকুঁইস সরকারুশ।
—হি হি হি…. আচ্ছা তোমার নাম তাহলে ফ্রেঞ্চে কী হবে বলো তো?
—তুই বল দেখি বুদ্ধি খাটিয়ে!
—অভীকুঁয়েত্রোস হুশভুইশ সরকারুশ।
—ওয়া ওয়া, কেয়া বাত হ্যায়। আর তোর মায়ের নাম?
—সংযুক্তমিত্রুজ…
এরপর একটা তীক্ষ্ণ শাসানির আওয়াজ ভেসে আসতে অবশ্য আমরা ট্র্যাক চেঞ্জ করতে বাধ্য হই। কীসের আওয়াজ সে আমি কিছুতেই বলব না, উঁ হুঁ, কিছুতেই না। আমার বউ এমনিতে ভারী ভালোমানুষ।
তারপর? তারপরেই তো শুরু হল কেসটা, ওই অন্য ট্র্যাকেই। শুরুটা অবশ্য খুবই সুন্দর হয়েছিল, আমার তিনি আমার সাধারণ জ্ঞানের পরীক্ষা নিচ্ছিলেন। যথা,
—আচ্ছা, বলো তো বাব্বা, কোন গেটের গেট নেই?
—উমম, ইয্যায়্যায্যা… পেয়েছি। লজিক গেট?
—ধুৎ, কোলগেট। আচ্ছা বলো তো, কোন ড্রেসের ড্রেস নেই?
—উমম, কোন ড্রেসের ড্রেস… উম ইয়ে, মানে, তুই বোধহয় নাম শুনিনি… উরসুলা অ্যান্ড্রেস?
—ধুর ধুর ধুর। কিচ্ছু জানো না তুমি। অ্যাড্রেস। আচ্ছা এবার বলো, ডিকশনারির মধ্যে ইনকারেক্ট ওয়ার্ড কোনটা?
বারে বারে ঘুঘু তুমি খাইয়া যাও আমারই ধান? “ইনকারেক্ট।”
—ওয়াও, বাবা হ্যাজ বিকাম স্মার্ট। এবার বলো তো, এমন একটা খাবার যা লাঞ্চ বা ডিনারে খাওয়া যায় না।
ওই, ঘুঘু। বারেবারে। ধান। “হুঁ হুঁ, এর উত্তর ব্রেকফাস্ট…”
—উফফ, বাবা, ইউ আর অ’সাম। আচ্ছা, এবার বলো তো, লোকে খাওয়ার জন্যে কেনে, কিন্তু খায় না।
—উমম, উঁ উঁ উঁ, প্লেট?
এরপর আমাকে জড়িয়ে ধরে যে প্রবল চাকুম-চুকুম চুমু খাওয়ার শব্দের উদ্রেক হল, তার উল্লেখ করে আমি আপামর জনতার ঈর্ষা উৎপাদন করতে চাই না।
মুশকিল হল এরপরেই।
—আচ্ছা বাব্বাআআআআ, ডু ইউ বিলিভ ইন গড?
এই রে! হঠাৎ ঈশ্বরচিন্তা? বেশ তো জামাই ঠকানো ইয়ে চলছিল যে!
—উমমম, বলতে পারব না মা। শুধুমাত্র এইটুকু বলতে পারি যে, ভগবান যে আছেন তার কোনো প্রমাণ নেই।
—তার মানে ভগবান নেই?
—তা তো বলিনি মা, যে ভগবান নেই। শুধু বলেছি যে, ভগবান আছেন বলে কোনো প্রমাণ নেই।
—তার মানে ভগবান আছে, কিন্তু তার প্রমাণ নেই!
চট করে ‘ঈশ্বরসিদ্ধে প্রমাণাভাবাৎ’-এর কথাাটা মনে পড়ে গেল। কিন্তু এই সাংখ্যদার্শনিকটি হঠাৎ আমার বাড়িতে?
—মানে বলছো প্রুফ নেই? মানে ধরো, আমার ওয়াটার বটল অর্পিতা লুকিয়ে রেখেছে, আর বলছে, ওটা যে আমার ওয়াটারবটল তার প্রুফ কী? প্রুফ মানে হারিয়ে যে গেছে তার প্রমাণ কী, তাই তো?
এই রে, এবার আমারই সব কিছু গুলিয়ে গেল। ফলে খুবই সন্তর্পণে অন্য রাস্তায় নিয়ে যেতে হয় ব্যাপারটা।
—তা নয় মা। তুমি ভালো কিছু করলেই জানবে গড ইজ উইথ ইউ। যেখানে ভালো কাজ হয়, সেখানেই গড থাকেন। তুমি ভালো ভালো কাজ করলেই জানবে, গড ইজ ওয়াচিং ইউ…
—মানে আমি ভালো করলেই ভগবান আছে? খারাপ করলে গড নেই? মানে নেক্সট একজামে ম্যাথসে ফিফটিতে ফিফটি না পেলে কি ভগবান আছে? মানে ভগবান থাকলেই আমি ফিফটিতে ফিফটি পাব? আর না পেলে গড নেই?
সবিস্ময়ে তাকিয়ে থাকি, এই চার্বাকখুকি কি আমারই মেয়ে? কিন্তু বিস্ময়ের আরও বাকি ছিল, পরের প্রশ্নটা স্রেফ যেন সাবাইনা পার্কের ক্রিজে জোয়েল গার্নারের উঠে আসা বাউন্সার,
“আর যখন খারাপ কিছু করি তখন কে থাকে? নেগেটিভ গড?” স্ত্রীবুদ্ধি ছাড়া বাঙালি পুরুষ নিতান্তই অসহায়, একথা সর্ববাঙালিবিদিত। এবারেও শঙ্কাহরণ শ্রীমধুসূদন হয়ে দেখা দিলেন আমার অর্ধাঙ্গিনী। তিনি এসে রোষকষায়িত লোচনে বললেন “মেয়ের সঙ্গে এইসব আড্ডাবাজি না করে ম্যাথসটা করাও। এই করে করেই মেয়েটা উচ্ছন্নে যাচ্ছে। আমি শিবের মাথায় জলটা ঢেলে আসছি। এসে যদি দেখেছি দু’জনকে হা হা হি হি করতে…” বাকিটা আর শেষ করার দরকার ছিল না, আমরা দু’জনেই দ্রুত ঘাড় ঘুরিয়ে বশ্যতা জ্ঞাপন করি।
যাই হোক, তিনি তো ম্যাথসের বই খুলে জ্ঞানসমুদ্রে ঝাঁপ দিলেন।
আমিও ভাবছি ব্যোমকেশ সমগ্রটা আরেকবার রিভাইজ দেব নাকি একটু গড়িয়ে নেব! এমন সময় ফের, “বাব্বাআআআ…”
—হু।
—তুমি কি এখন ঘুমুবে?
—সেইরকমই তো ইচ্ছা।
—মানে ফের তুমি বিচ্ছিরিভাবে নাক ডাকাবে? ফের নয়েজ পল্যুশন? হি হি হি…
—ফচকেমি হচ্ছে? দাঁড়া মা আসুক, বলছি। এই অল্প বয়সে…
—মা কোথায় গেছে বললে না যে?
—শুনলি না, মা পুজো দিতে গেছে?
—কীসের পুজো, বাড়িতে দিল না কেন?
—আরে শিবপুজো তো, আজ শিবরাত্রি না!
—অ। শিবপুজো বাড়িতে করে না?
—করে। অনেকে করে। আমরা করি না।
—তাহলে আজ করছি কেন?
—উফফ, জ্বালালে মাইরি। আজ শিবরাত্রি। শিবঠাকুরের পুজোর স্পেশাল দিন।
—কেন? স্পেশাল দিন কেন? আজ কি শিবঠাকুরের জন্মদিন? হ্যাঁ বাবা? শিবরাত্রি কি জন্মদিন? মা কি জন্মদিনের কেক কাটতে গেছে? হ্যাপি বার্থ ডে টু ইউ, হ্যাপি বার্থ ডে টু ইউ, হ্যাপি বার্থ ডে টু ইউ ডিয়ার মিস্টার শিব…
—বাপরে বাপ। শান্তিতে কি একটুও ঘুমোতে দিবি না? ওরে জন্মদিন নয়। আজ শিব ঠাকুরের ম্যারেজ অ্যানিভার্সারি।
—হুম। শিবঠাকুরের বউ কে বাবা? বউ কে?
—দুর্গাঠাকুর। এবার হাত জোড়ো করে বলছি, প্লিজ প্লিজ প্লিজ ঘুমোতে দে…
এই বলে একটা পাশবালিশ পাকড়াও করে লম্বা হই। এবং দ্বিধাহীনভাবে কিছুক্ষণ পরে,
“আচ্ছা বাবা…”
—ফের? কী হয়েছেটা কী?
—তোমার তো বিয়ে হয়েছে, তাই না?
সত্য যে কঠিন, সে কখনও করে না বঞ্চনা, “হুঁ, কেন?”
—মাকেই তো বিয়ে করেছ তাই না?
এত বড় সত্য অস্বীকার করাটা খুবই রিস্কি হয়ে যাবে না কি? ভাবতে ভাবতেই বলি, “হ্যাঁ, তো?”
—মানে যেদিন তোমার বিয়ে হয় সেইদিনই তো মায়েরও বিয়ে হয়, তাই না বাবা?
আহা, এই আশ্চর্য সমাপতনটার কথা তো খেয়ালই ছিল না একদম! “সে তো বটেই…”
—তাহলে যেদিন শিবঠাকুরের বিয়ে হয়েছিল, সেইদিনই তো দুর্গাঠাকুরেরও বিয়ে হয়েছিল, তাই না?
মনে হল ওয়াশিং মেশিনের মধ্যে নিজেকে ঢুকিয়ে চালিয়ে দিই, যা থাকে কপালে!
—কী বক্তব্য একবারে বল, বারবার বিরক্ত করবি না।
এইবার তিনি খাপ খুললেন, “তাহলে শুধু শিবরাত্রি বলে কেন? শিব-দুর্গারাত্রি বলে না কেন? দুর্গাঠাকুরের নাম নেই কেন?”
উঠে বসে খানিকক্ষণ হুতুমথুমো হয়ে থাকতেই হয়। আচার্য রঘুনাথ শিরোমণিই কি কন্যারূপে… নাকি মহর্ষি বুনো রামনাথ স্বয়ং জেন্ডার চেঞ্জান্তে… অথবা মৃত্যুঞ্জয় তর্কালঙ্কার অবশেষে দয়াধর্ম করে…
ইয়ে, এঁদের ক্লাস টেস্টের রেজাল্টের কপি-টপি আছে কিছু? মানে ম্যাথসে এঁয়ারা কত পেতেন জানলে…
ঝাড়াপাড়া দিয়ে উঠতেই হয়, “ম্যাথসের বইটা আন দেখি। সায়েন্সের ওয়ার্কবুকটাও আনবি। আর চল্লিশটা ওয়ার্ড সামনে বসে লিখবি। তারপর দু’পাতা হ্যান্ড রাইটিং দেব। তারপর হিস্ট্রির বই থেকে…”
সমস্ত নবদ্বীপ আর ভাটপাড়া আমার মাথায় ভেঙে পড়ার আগেই আমাকে আমার ঘর গুছিয়ে রাখতে হবে। এখনই!
