বাব্বা – অভীক সরকার

বাব্বা

“বাব্বাআআআআ…”

—কী মা?

—তুমি দাদু-দাদা, ঠাম্মি-দিদা, মাসিমণি-পিসিমণি সব্বাইকে ফোন করলে কেন?

—শুভ বিজয়া জানাতে, মা।

—শুভ বিজয়া কী বাবা? হ্যাঁ বাবা, শুভ বিজয়া কী!

—ইয়ে সব্বাইকে বলা যে দুর্গা ঠাকুর চলে যাচ্ছে, তোমরা সব্বাই ভালো থেকো।

—সব দুর্গা ঠাকুর চলে গেছে বাবা? হ্যাঁ বাবা, সব্বাই সেই হিমালয়ে চলে গেছে? পাওয়াইয়ের দুর্গা ঠাকুর দুটোও? এই বছর আর ডুগিয়া হবে না? হ্যাঁ বাবা, আর ডুগিয়া হবে না এই বছর?

—না মা, দুর্গা ঠাকুর এখন রওনা দিয়েছেন…

—কোন রাস্তা দিয়ে বাব্বা? এয়ারপোর্টের রাস্তা দিয়ে? হ্যাঁ বাব্বা? এয়ারপোর্টের রাস্তা দিয়ে? যে রাস্তা দিয়ে আমরা এয়ারপোর্ট যাই আর সেখান থেকে হুঁউউউঁশ করে দাদু-দিদার বাড়ি যাই, সেই রাস্তা ধরে? হ্যাঁ বাব্বা, সেই রাস্তা ধরে?

—উম্মম, প্রায় কাছাকাছি, একটু নর্থ সাইড ধরে, বুঝলি কি না, সেই রাস্তা ধরে আরেকটু এগোলেই হিমালয়াজ… বুঝলি, বিশাআআআআল সব পাহাড়, দারুণ সিনারি, বুঝলি, আর খুব ঠান্ডা, বুঝলি…

—হুমম, বুঝলাম আব্বা, তা তুমি দাদা-দাদু, ঠাম্মি-দিদাকে কী বললে?

—বললুম, তোমরা সবাই ভালো থেকো, তোমরা আমার প্রণাম নিও, ঠাকুর তোমাদের রক্ষা করুন…

—দুর্গা ঠাকুর কি ফুঁই করতে করতেও রক্ষা করতে পারে বাবা? দুর্গা ঠাকুরের প্লেটে কি রক্ষা করা ওয়াই ফাই কাজ করে বাবা? হ্যাঁ বাবা, কাজ করে?

—ইয়ে, মানে ঠাকুর-দেবতাদের ওয়াই ফাই সব সময়ে কাজ করে না… তাঁরা ঠাকুর কি না…

—আমার জন্য কিছু বললে না? হ্যাঁ বাবা, কিছু বললে না?

—বললুম তো। বললুম যে, হে দুর্গা ঠাকুর, পুঞ্জুকলিকে বুদ্ধি দাও, শক্তি দাও, সব সময়ে রক্ষা করো…

—শুধু দুর্গা ঠাকুরই দেবে? তুমি তো আমার বাবা, তুমি আমাকে বুদ্ধি দেবে না? হ্যাঁ বাবা, দেবে না? শক্তি দেবে না? গায়ে হুঁ হুঁ হুঁ করে জোর দেবে না? হ্যাঁ বাবা, দেবে না? তুমি আমাকে সবসময় রক্ষা করবে না, হ্যাঁ? করবে না?

ওরে, কে কোথায় আছিস, আমার বুকের বাঁদিকটা কেটে একটা কোটর করে দিয়ে যা দিকিন। কাউকে ওখানে রাখতে হচ্ছে, আমার সবকিছু দিয়ে রাখতে হচ্ছে, বুঝতে পারছিস না?

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *