ছোট্ট মা
খুব খাটনি গেছিল আজ। সকালে চেম্বুরে মার্কেট ভিজিট, তারপর অফিসে সারা দুপুর বিকেল জুড়ে মিটিং, উত্তেজিত কথা কাটাকাটি, হাঙ্গামা-হুজ্জোত সামলে বাড়ি পৌঁছেছি সন্ধে ছ’টা নাগাদ। এসে দেখি বাড়ি খালি, কন্যারত্নটি গেছেন সাঁতার শিখতে, তেনার মা গেছেন সবজি বাজারে। আমি সুযোগ বুঝে একটি শর্টস পরিধানান্তে, এসি চালিয়ে, পাশবালিশ আঁকড়ে এক্কেবারে উবুত কইর্যা শয়ন।
ঘণ্টাখানেকও হয়নি, সানি লিওনিকে নিয়ে একটি অত্যন্ত শিক্ষামূলক স্বপ্ন দেখছিলাম। কাঁধে টোকা পেয়ে খুবই বিরক্তি সহকারে জেগে উঠে চোখ কচলে দেখি, স্বয়ং আমার কন্যারত্ন।
“কী চাই অ্যাঁ? ডিস্টার্ব করছিস কেন? দেখছিস না ঘুমোচ্ছি?”
“তুমি আবার খালি গায়ে হাফ প্যান্ট পরে ঘুমোচ্ছ?”
—তো?
—তুমি জানো, লাস্ট সানডে তুমি দুপুরে খালি গায়ে ঘুমোচ্ছিলে, রতিশা, ইরা আর সৃষ্টি খেলতে এসেছিল, আর তোমাকে খালি গায়ে ঘুমোতে দেখে খিকখিক করে হাসছিল। খুব বিচ্ছিরি ভাবে। জানো তুমি?
—না। তো? কী হয়েছে তাতে?
—ইরা, সৃষ্টি আর রতিশা এখন খেলতে আসছে। এই টি শার্টটা দিয়ে গেলাম, পরে নিও, ওকে?
এই পর্যন্ত বলে আমার হাতে একটা টি শার্ট গুঁজে দিয়ে ভদ্রমহোদয়া ঘর ছেড়ে বান্ধবীদের সঙ্গে খেলতে চলে যাচ্ছিলেন। কী মনে হতে আবার ফিরে এলেন, “আই ডোন্ট লাইক সামবডি লাফিং অ্যাট ইউ, ওকে? ওকে?” এই বলে দৌড়ে চলে গেলেন।
ইয়ে মনুসংহিতাতে কি একটা ‘ন স্ত্রী স্বতন্ত্রমর্হতি’ বলে শ্লোক আছে না?
মা গেল, বউ গেল, বাকি জীবনটা মনে হচ্ছে এর আন্ডারেই…
