যোগাযোগ – রজতশুভ্র মজুমদার

যোগাযোগ

‘পঃ বঃ, কায়স্থ, দেবগণ, ২৮/৫’ ১০”, বি পজিটিভ, এম.টেক, পিএইচ.ডি. করছে, কলিতে বাড়ি, দাবিহীন, একমাত্র ছেলে, ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট ও তথ্যপ্রযুক্তি ক্ষেত্রের অনেক বড়ো কর্পোরেট কাজের অভিজ্ঞতাসমৃদ্ধ, বর্তমানে দিল্লির MNC-তে কর্মরত। ফরসা, সুন্দরী, শিক্ষিতা পাত্রী কাম্য; জাতি বিবেচ্য নয়।’ এরপর একটা মোবাইল নাম্বার ও ইমেল আইডি দেওয়া। এরকম একটা ‘পাত্রী চাই’ বিজ্ঞাপনে মেয়ের বাবারা যে হামলে পড়বেন, আজকাল অবশ্য পাত্রপাত্রী নিজেরাও হামলে পড়ে, এ আর আশ্চর্য কী? ঋত তাই একটুও অবাক হয়নি শ-পাঁচেক ফোন আর প্রায় সমসংখ্যক মেল পেয়ে। মাসখানেকের ছুটি নিয়ে সে এসেছে কলকাতার বাড়িতে। বাড়ি না বলে ফ্ল্যাট বলা উচিত। শতভিষা অ্যাপার্টমেন্ট, বি ব্লক, সাততলা, দুশো বাইশ। ছোট্ট সাজানো-গোছানো ফ্ল্যাট। ঋতব্রত আর মনামি, পিঠোপিঠি ভাইবোন। মনামি ঋতর থেকে এক বছরের বড়ো, দেখলে অবশ্য বছর দুয়েকের ছোটো বলেই মনে হয়। মনামির বরও একটা কর্পোরেট সংস্থায় কর্মরত। হায়দরাবাদে। ছুটি পায়নি। তাই মনামি একাই এসেছে ভাইয়ের একটা গতি করতে। বাবা-মা ছুটি নিয়ে চলে গিয়েছেন কবে! বড়োদিদি হিসেবে তার তো একটা দায়িত্ব আছে! সেই দায়িত্বপালনেই দিদির এই কলকাতা আগমন।

 দিদি-ভাই ঝাড়াইবাছাই করে শেষ অবধি সিলেক্ট করেছে পায়েলকে। পায়েল সেনগুপ্ত। সুন্দরী, স্মার্ট, বয়স চব্বিশ প্লাস। পাঁচ-তিন হাইট। গ্র্যাজুয়েট। গান জানে। নাচ জানে। একমাত্র মেয়ে। বাবা ডাক্তার। ভীষণ ভদ্র মানুষ। খুব সুন্দর কথা বলেন। মনামিরা যেদিন পায়েলদের বাড়ি গিয়ে পাকা কথা বলে এসেছে, সেদিনই ডা. সেনগুপ্তর ফ্যান হয়ে গিয়েছে ওরা দু-ভাইবোনে। এরপর অবশ্য ডাক্তারবাবু স্ত্রী-কে নিয়ে মনামিদের এখানেও এসেছিলেন একদিন। সব দেখেশুনে গিয়েছেন। মনামি বলেছে, ‘মেসোমশাই, আপনারা কিন্তু পায়েলকে কিছু দিতে পারবেন না, আমরাই ওকে সাজাব।’

 ‘না না, তা-ই হয় নাকি? আমরা তো ওর জন্য সবই বানিয়ে রেখেছি। ও আমাদের একমাত্র মেয়ে।’

 ‘কিন্তু আমাদের ফ্যামিলির নিয়ম হল, আমরাই বউকে সাজিয়ে ঘরে নিয়ে আসি। ট্র্যাডিশনালি চলে আসছে এটাই। অন গড।’ ডা. সেনগুপ্ত শেষমেশ এটাই মেনে নিয়েছেন। সেই সঙ্গে অবশ্য জানিয়ে দিয়েছেন, ‘ঠিক আছে, তাহলে অষ্টমঙ্গলায় আমরা কিন্তু মেয়েকে সাজাব।’

মনামি বলেছে, ‘ট্র্যাডিশন?’ হো হো করে হেসে উঠেছেন ডাক্তারবাবু।

সত্যি, কাগজে বিজ্ঞাপন দিয়ে কত তাড়াতাড়ি আজকাল সম্পর্কের ভিত তৈরি করে ফেলা যায়! এই ভিতের উপরেই তো দাঁড়িয়ে থাকে বড়ো বড়ো ইমারত, যুগ যুগ ধরে। এই যে পায়েল-ঋতব্রতর চার হাত এক হয়ে যাবে ক-দিন পর, এ কি সম্ভব হত সামান্য চার-পাঁচ লাইনের একটা বিজ্ঞাপন ছাড়া? ওই যে বালিগঞ্জ সার্কুলার রোডের সাগর ভিলার এফ ব্লকের পাঁচতলার ডা. সেনগুপ্ত—নিপাট ভালোমানুষ, সদালাপী, হাসিখুশি; আর তাঁর অর্ধাঙ্গিনী—মিতভাষী, শান্ত, উদারচেতা; এঁরা কি ঋতব্রতর মতো একটা উচ্চ চাকুরে, সুদর্শন, দাবিদাওয়াহীন পাত্র বিজ্ঞাপন ছাড়া জোগাড় করতে পারতেন? কিংবা বাপ-মা-মরা দিল্লিবাসী ছেলেটার একমাত্র অভিভাবিকা মনামিদেবীই বা কোথায় পেতেন পায়েলের মতো অমন দুষ্টু-মিষ্টি একটা নায়িকা, যদি না বহুলপ্রচারিত দৈনিকের রবিবারের পাতায় হালকা নীল রঙের বক্সে প্রিয় ভাইটির কিঞ্চিৎ গুণকীর্তন করতেন?

 ঋত-পায়েলের বিয়ের ডেট হয়েছে সামনের বছর জানুয়ারিতে। বিয়ের দু-দিন আগে কলকাতা আসবে ঋত। অর্থাৎ এই যে এক মাসের ছুটি নিয়ে এখন এই মিড-সেপ্টেম্বরে এখানে আছে সে, এটাই বিয়ের আগে ঋতব্রতর শেষ কলকাতায় থাকা। ‘ব্যাচেলর ঋতব্রতর শেষ কলকাতাযাপন…’ বেশ মজা করেই বলেছে ঋত। পায়েল ন্যাকা-ন্যাকা চোখে তাকিয়েছে ওর দিকে, গলা মিহি করে বলেছে, ‘এতদিন আমার বুঝি একা থাকতে ভালো লাগবে?’ বালিগঞ্জের একটা অভিজাত রেস্তরাঁয় এখন কোল্ড ড্রিঙ্ক খাচ্ছে ওরা। সঙ্গে চিকেন পকোড়া। চিকেন পকোড়া ঋতর বরাবরের প্রিয়। পায়েলেরও চলে যায়। ওরা আবিষ্কার করছে, অনেক ক্ষেত্রেই ওদের মিল রয়েছে বিস্তর। এই যেমন দুজনেই লং ড্রাইভ ভালোবাসে, বকবক করতে ভালোবাসে, গল্পের বই ভালোবাসে, মিথ্যে কথা টলারেট করতে পারে না। আরও আছে— পায়েল মা-কে খুব ভালোবাসে। জীবনের সমস্ত কথা সে মায়ের সঙ্গে শেয়ার করে, সব বিষয়ে মায়ের পরামর্শ নেয়। বিপদে-আপদে মায়ের সঠিক পরামর্শ ওকে আজও যারপরনাই সাহায্য করে। ঋতও ভীষণ মা-কে মিস করে। দুরারোগ্য ক্যান্সার মা-কে ছিনিয়ে নিলেও, আজও প্রতিমুহূর্তে মা-কে ফিল করে সে। মনে মনে মা-র সঙ্গে কথা বলে, মা-র কাছে পরামর্শ চায় বিভিন্ন বিষয়ে। এই যেমন, ঘুমের মধ্যে মা এসে একদিন ঋতকে বলেছিলেন, ‘তুই পায়েলকেই অ্যাকসেপ্ট কর।’ বিজ্ঞাপনে অজস্র মেয়ের যোগাযোগ পেয়ে সঠিক পাত্রী নির্বাচনে ঋত যখন কিছুটা বা বিভ্রান্তপ্রায়, তখন স্বপ্নে পাওয়া এই মাতৃ আদেশ তাকে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করেছিল।

 মায়ের কথা বলতে বলতে চোখে জল এসে যায় ঋতর। সুগন্ধি রুমাল তার চোখে চেপে ধরে পায়েল। বাড়ির বাইরে এটাই ঋত-পায়েলের প্রথম সাক্ষাৎ। এর আগে পায়েলের সাগর ভিলার ফ্ল্যাটে ঋত দেখেছে ওকে। যদিও পায়েল কখনো ঋতর নিউ আলিপুরের ফ্ল্যাটে আসেনি। ওর মা-বাবাই শুধু এসেছিলেন। ‘কবে যাবে আমাদের বাড়ি?’ পায়েলের সি-গ্রিন নেলপলিশ-পরা তীক্ষ্ন নখগুলো আলতো স্পর্শ করল ঋত। কোনো উত্তর না দিয়ে আঙুলে আঙুল জড়িয়ে নিল পায়েল। অনেকক্ষণ কেউ কাউকে কথা বলল না। পায়েলের দিকে হাঁ করে তাকিয়ে আছে ঋত। একটা সি-গ্রিন রঙের চুড়িদার আর হাই হিলে দারুণ দেখাচ্ছে তাকে। হালকা বাদামি চুল কাঁধ অবধি ঝোলা। হাতে ম্যাচিং ঘড়ি, কপালে ম্যাচ করা টিপ। হালকা আইলাইনার লাগিয়েছে চোখে, চোখের পাতাও নরম সি-গ্রিন। ‘আজ কতদিন পর সমুদ্রের ধারে বসেছি…’ ঋত নীরবতা ভাঙল। ‘স্নান করবে না?’ পায়েল মিটিমিটি হাসছে। তার জ্যোৎস্নার মতো হাসি ঋতর চোখে সমুদ্রে চাঁদডুবির মতো দেখাচ্ছে। পায়েলের বাঁ হাতটা কোলের কাছে টেনে নিয়ে তালুতে চুমু খেল ঋত।

 ঋত গান শুনতে ভালোবাসে। দিল্লিতে কাজের ফাঁকে কানে এয়ারফোন লাগিয়ে গান শোনে। পায়েলের গান শোনার জন্য সে উন্মুখ হয়ে আছে। কিন্তু তার জন্য তো পরিবেশ চাই! এই রেস্তরাঁয় বসে গান গাইলে লোকজন ছুটে আসবে তো! রাস্তা থেকে দু-চারটে অন্য প্রাণীও উঠে আসতে পারে, পায়েল মজা করল। ছোটো থেকেই শাস্ত্রীয় সংগীতে তালিম নিয়েছে পায়েল, পরে আধুনিক। ডা. সেনগুপ্তরা তো কলকাতায় সেভাবে থাকতেন না, ওই পুজো কিংবা উৎসবে পনেরো দিন-এক মাসের জন্য আসা। পায়েলের শৈশব পুরোটাই কেটেছে মুম্বইয়ে। ওখানেই গান শিখত ওস্তাদের কাছে। শৈশব কেন, পনেরো-ষোলো বছর বয়স অবধি মুম্বইতেই ছিল সে। তারপর ডাক্তারবাবুরা চলে এলেন বেঙ্গালুরু। সেখানেই এখনও। বেঙ্গালুরু এত সাজানো শহর হলেও পায়েল মুম্বইকে ভুলতে পারে না। আসলে মানুষ যেখানে জন্মায়, বড়ো হয়ে ওঠে, সে জায়গাটাই বোধহয় পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ জায়গা বলে মনে হয় তার। না হলে অমন খ্যাতিমান কবি কখনো এই পোড়া বাংলায়, এই চুলোচুলির বাংলায়, ফের জন্মাতে চান! তা আবার মানুষ না হলে, চিল-শালিখ হয়ে জন্মাতেও আপত্তি নেই তাঁর! সে যাক গে, পায়েলের মুম্বইz-ই সব সময়ে ফেভারিট, যেমন ওর মা-বাবার কলকাতা।

 বেঙ্গালুরু আসার পর পায়েলের আধুনিকে হাতেখড়ি। এখন আর শাস্ত্রীয় সংগীত সেভাবে গায় না। কিন্তু আধুনিক নিয়মিতই চর্চা করে। গানের সঙ্গে সঙ্গে নাচেও যথেষ্ট পারদর্শী সে। এ কথাটা পায়েল নিজে বলেনি, মনামি জেনেছে শ্রীমতী সেনগুপ্তর কাছে। অনেকবার প্রতিযোগিতায় প্রথম পুরস্কার পেয়েছে বলেই নয়, ওর নাচের যে ছবিগুলো শ্রীমতী সেনগুপ্ত দিয়েছেন মনামিকে, সেগুলো দেখলে যে-কেউই বুঝবে, মেয়েটার বিভঙ্গগুলো, মুদ্রাগুলো বেশ উৎকর্ষের পরিচয় রাখে। অবশ্য যে মেয়ে গান শোনাতেই রাজি হচ্ছে না বাড়ির বাইরে, তাকে এই রেস্তরাঁয় নাচ দেখাতে বলবার মতো বোকামি আর যে-ই করুক, ঋত অন্তত করল না। করলে, পাগল তকমা পেয়ে তার বিয়ে ক্যানসেলের সম্ভাবনাও যে প্রকট হয়ে উঠতে পারে, ঋত বিলক্ষণ সেটা বোঝে। পায়েলের বাঁ হাতটা এখনও ধরে আছে ঋত। ঘামে ভিজে গিয়েছে দুজনের হাতের চেটো। পায়েলের কানের কাছে মুখ রেখে ঋত ফিসফিস করে বলল, ‘আই লাভ ইউ।’ পায়েল স্মার্টলি উত্তর দিল, ‘আই টু।’ ঋতর গালের দামি আফটারশেভের গন্ধে চোখ বুজে নিশ্বাস নিল পায়েল।

দুই

নেহা একটা ট্রান্সপারেন্ট রাতপোশাকে ঢুকেছে বেডরুমে। কিঞ্জল তার শরীরের দিকে তাকিয়ে আছে একদৃষ্টে। অমন চকচকে নরম মাখনের মতো গা, পেটের ভাঁজ, ঊরু… দু-চোখ দিয়ে গিলছে কিঞ্জল। বুকের খয়েরি নিপলগুলো পর্যন্ত স্পষ্ট ফুটে উঠেছে রাতপোশাকের গায়ে। শতভিষা অ্যাপার্টমেন্টের বি ব্লকের সাততলার ২২২ নং ফ্ল্যাটে একটা ক্ষীণ নীল আলো জ্বলছে। কিঞ্জল নেহার হাত দুটো ধরে ঠোঁটে আলতো করে চুমু খেল, তারপর নীচের ঠোঁটটা মুখের মধ্যে পুরে অনেকক্ষণ ধরে চুষতে লাগল। ফোরপ্লের প্রথম ধাপ শেষ হতেই নেহা খলখলিয়ে হেসে উঠল, ‘চল ভাই ঋত, এবার বেডে যাই।’

 ‘প্লিজ নেহা, এখন তো তুমি মনামি নও। এসব বোলো না, ভাল্লাগে না আমার…’

 ‘আর আমার বুঝি ভালো লাগে?’ রাতপোশাকের ফিতেটা নিজেই খুলে ফেলল নেহা। কিঞ্জল ওর নগ্ন শরীরের উপর উবু হয়ে শুয়ে আদর বিলোচ্ছে। নেহা মাঝে মাঝে বলছে, ‘জোরে, আরও জোরে।’ কিঞ্জল ভাবছে, তবে কি আদর পছন্দ হচ্ছে না নেহার? কিঞ্জলেরও তো বেশ একঘেয়ে লাগে নেহাকে আজকাল। সে নেহার বুকের উপর শুয়ে পায়েলকে ভাবছে—কী মিষ্টি মুখ, মায়াবী চোখ, না-জানি কত মধু জমে আছে শরীরে! সে নেহার শরীরের ক্লিশে রাস্তায় পায়েলের অজানা শরীরের অলিগলি আবিষ্কারের নেশায় বুঁদ হয়ে আছে এখন।

 ঠিক এ সময়ে মোবাইলটা বেজে উঠল নেহার। কিঞ্জল মুখ তুলে দেখল, চেন্নাই থেকে প্রকাশজির ফোন। প্রকাশ ঝুনঝুনওয়ালা। সদ্য ফিরেছেন বিদেশ থেকে, তাই ফোন ধরাটা খুব জরুরি। কিঞ্জল নেহাকে ফোনটা এগিয়ে দিল। প্রকাশজি বলছেন, ‘বেটি, সব ঠিক হ্যায় না?’

 ‘ফিকর মত কিজিয়ে প্রকাশজি। এভরিথিং ও.কে.।’

 ‘ডা. মিত্তল কলকাতা পঁহোচ গয়ে হ্যায়। হি ইজ রেডি।’

 ‘জাস্ট ফাস্ট মিটিং আউটসাইড হোম ইজ সাকসেসফুল। কিঞ্জল নে থার্ড মিটিং কো টার্গেট কিয়া হ্যায় স্যার।’

 ‘ও.কে., ও.কে.। প্রসিড অন। গুড নাইট।’

 ‘গুড নাইট, স্যার।’

 নেহা ফোনটা রাখতেই কিঞ্জল জানতে চাইল, সদানন্দ ভট্টাচার্যর লেটেস্ট মোবাইল নম্বরটা তার ফোনে সেভড আছে কি না! কারণ প্রকাশ ঝুনঝুনওয়ালা সর্বাধিনায়ক হলেও, তারা কেউ তো স্যারকে চোখে দেখেনি, তাদের যাবতীয় যোগাযোগ ভট্টাচার্যি মশাইয়ের সঙ্গেই। সদানন্দবাবুই ঝুনঝুনওয়ালার সঙ্গে কিঞ্জল-নেহার যোগাযোগের সেতু। তাই অপারেশনের পরেই হোক বা আগে, প্রয়োজনে-অপ্রয়োজনে, তারা তো সদানন্দবাবুকেই রিং করবে। ঝুনঝুনওয়ালার সঙ্গে তো সব সময়ে যোগাযোগ করা সম্ভব নয়, বা করে লাভও নেই, কারণ তিনি এখন চেন্নাইয়ে তো কাল দিল্লিতে, পরশু আবার বিদেশে। কিঞ্জলের বুকের লোমে বিলি কাটতে কাটতে নেহা বলল, ‘চিন্তা কোরো না একদম। সব ঠিক হয়ে যাবে। মাঝে তো আরও একটা সিটিং আছে।’

 ‘তা তো আছে, কিন্তু…’

 ‘আবার কিন্তু কেন?’

 ‘মাগিটা মহাঢ্যামনা। যদি টার্গেট ফেল করি?’

 ‘তোমার মুখে এমন কথা মানায় না কিঞ্জল। সাকসেসফুল অপারেশন তুমি করেছ এর আগেও…’ নেহা আত্মবিশ্বাস জোগানোর চেষ্টা করে। তারপর তাকে বোঝাতে থাকে, ‘স্কোয়াশ কিংবা জুসটা নিয়েই পায়েলের গ্লাসে, ঠিক যেভাবে সদানন্দবাবু বুঝিয়ে দিয়েছেন, নখের ফাঁকে লুকিয়ে-রাখা রাসায়নিকটা টুপ করে ঝেড়ে দেবে। ব্যাস। সঙ্গে সঙ্গে কাজ। পাক্কা ছ-ঘণ্টা। একটু বেশিও হতে পারে। তারপর আমি তো কাছাকাছিই থাকছি। তুমি জাস্ট আমাকে একটা মিসড কল মারবে। আর কিচ্ছু করতে হবে না তোমায়।’

 ‘কিচ্ছু না?’

 ‘ডা. মিত্তল আর সদানন্দবাবুকে কল করার দায়িত্ব আমার! ওঁরাও রেডি থাকবেন নির্দিষ্ট জায়গায়। ওঁরা যে ট্যাক্সিটা পাঠাবেন আমাদের জন্য, সেটা অন্যান্য ভাড়ার ট্যাক্সির সঙ্গে মিশে থাকবে ভিড়ের মধ্যে। ওটা খুঁজে নেওয়াও আমার দায়িত্ব।’

 ‘তোমার তো অনেক দায়িত্ব দেখছি।’

 ‘সাধে কি আর সিক্সটি পারসেন্ট আমার, ভাই ঋত?’

 নেহা বয়সেই শুধু কিঞ্জলের থেকে কিঞ্চিৎ বড়ো নয়, বুদ্ধিতেও সে অনেক তুখোড় বলেই তার পেমেন্ট কিঞ্জলের থেকে ঢের বেশি। স্বাভাবিকভাবেই দায়িত্বও অনেক বেশি। এই যেমন, পায়েল অসুস্থ হলেই তাকে ভাড়ার ট্যাক্সিতে তুলে ঠিক কোন জায়গায় নিয়ে যাওয়া হবে, কিঞ্জল এখনও সে খবর জানে না। সে কৌতূহলী হয়ে জানতে চায়, ‘ডেরাটা কোথায়?’ নেহা এড়িয়ে যায় সুকৌশলে। বিগত দু-বছর ধরে সে কিঞ্জলের বিজনেস পার্টনার কাম লিভ-ইন পার্টনার হলেও, প্রফেশনাল বিষয়ের সব কথা সে শেয়ার করে না কিঞ্জলের সঙ্গে। কিঞ্জল বলে, ‘মনামিদিদি, আমাকেও ট্যাক্সি চড়ে যেতে হবে নাকি?’

 ‘বোকার মতো কথা বলিস না তো ভাই! তোর হবু বউ অসুস্থ হয়ে পড়বে আর তুই কি রাস্তায় দাঁড়িয়ে ডুগডুগি বাজাবি?’

 ‘ওরে বাবা! তবে ছুটি কখন পাব?’

 নেহা খুব ভালো করেই জানে, ট্যাক্সিটা ছুটবে সোজা রাজারহাটের দিকে। ওখানে বাঁদিকে একটা নোংরা ফেলার মাঠ পেরিয়ে, একটু ডানদিকে ঘুরেই সোজা ঢুকে যাবে একটা নির্জন প্রায়ান্ধকার পরিত্যক্ত বাড়িতে। সে বাড়ির ভিতর অনেকটা এগোলে সিঁড়ি—নীচে নামার। কয়েক ধাপ নামলেই একটা সুন্দর সাজানো-গোছানো ঘর। ঘরে সবরকমের মেডিকেটেড ব্যবস্থা—স্যালাইন, ওষুধপত্তর, অক্সিজেন, ছুরি-কাঁচি, আরও যা যা প্রয়োজন। ওখানেই অপেক্ষা করে থাকবেন রাজধানী থেকে আসা সার্জন মিত্তল আর ষাট বছরের যুবক সদানন্দ। পায়েলকে ওখানে পৌঁছে দিয়েই নেহা কিঞ্জলকে নিয়ে নেপালের দিকে চলে যাওয়ার আয়োজন করবে। সবকিছু সাজানো থাকবে নিপুণ, শুধু ছক অনুযায়ী ঠিকঠাক চলতে পারলেই হল। ওই সময়ে দুজনের সেলফোনের সিম কার্ড দুটো বের করে নষ্ট করে দিতে ভুললেও চলবে না। নেহা খুব ভালো করে জানে, ছোট্ট একটা ভুল কিংবা অসতর্কতা বড়ো বিপদ ডেকে আনতে পারে। নেহার তীক্ষ্ন উপস্থিতবুদ্ধি আর সময়-সচেতনতার জন্য সদানন্দবাবু এতটা পছন্দ করেন তাকে। প্রকাশজির সঙ্গে ফোনে আলাপ করিয়ে দেওয়ার সময়েও নেহাকে অত্যন্ত চতুর ও সুযোগসন্ধানী বাজপাখির সঙ্গে তুলনা করেছিলেন তিনি। তুলনায় পার্টনার কিঞ্জল অনেক বোকাসোকা, ছেলেমানুষি বেশি তার। তাকে সদানন্দবাবুও চাক্ষুষ চেনেন না, শুধু ফোনেই কথা হয়েছে, নেহার সুপারিশেই তার কাজটা পাওয়া। অবশ্য কিঞ্জল অত্যন্ত হ্যান্ডসাম, স্মার্ট, ইম্প্রেসিভ, কথা বলতে পারে সুন্দর। তাই এ ধরনের কাজে সে যথেষ্টই দক্ষ এবং প্রেমের ফাঁদে ফেলে সুন্দরী যুবতিদের ঘোল খাওয়ানোয় তার জুড়ি মেলা ভার। ইতিপূর্বে সে একাধিকবার সাফল্যের সঙ্গে এ ধরনের ম্যাচ উতরে দিয়েছে। তাই এই অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ বড়ো কাজটাও নেহা কিঞ্জলকে দিয়েই হাসিল করতে চাইছে।

তিন

ঋত আর পায়েলের সেকেন্ড সিটিং। স্থান, গড়িয়াহাটের মোড়ে একটা রেস্টুরেন্টের দোতলা। বেশ কয়েকজোড়া প্রেমিক-প্রেমিকা বসে আছে গায়ে গা ঘেঁষে। পায়েল এসেছে একটা হালকা নীল জিনস আর বাদামি শার্টে। উঁচু বুকে গোলগাল পকেট সেট করা আছে। নেলপলিশ নখ রঙের, চোখে কাজল নেই, চুল পিছনদিকে টাইট করে বাঁধা। খুব ন্যাচারাল দেখাচ্ছে তাকে। প্রায় সাজেনি বললেই চলে। অথচ ন্যাচারাল লুকে কী ভীষণ সেক্সি দেখাচ্ছে! বুকের বোতাম অনেকখানি নীচে, এতটাই যে ঋত আড়চোখে দেখে নিল আঁকাবাঁকা ক্লিভেজ খরস্রোতা ঝোরার মতো নেমে যাচ্ছে সাবলীল ছন্দে। গায়ে মিষ্টি পারফিউমের গন্ধ। ঋত নিশ্চিন্তে গন্ধ নিচ্ছে আর ভাবছে, ইস, এর সঙ্গে যদি একবার শোয়া যেত! মনামিকে ভীষণ একঘেয়ে লাগে তার।

ঋত পায়েলের হাতটা সন্তর্পণে টেনে নিয়ে ঘষতে লাগল নিজের গালে। কিন্তু সে জানে, বেশি দূর এগোনো কখনোই উচিত হবে না। এতে পায়েলের মনে ঋতর সম্পর্কে বিরূপ ধারণা তৈরি হতে পারে। সেক্ষেত্রে পুরো ব্যাপারটাই বানচাল হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা। সে মিষ্টি করে বলল, ‘আমাকে তোমার কেমন লাগে, পায়েল?’ ও মা, পায়েল ওর তাজা ঠোঁট দুটো ঋতর গালে লাগিয়ে চকাস করে চুমু খেয়ে নিল। ঋত অবাক হয়ে গেল মেয়েটার স্মার্টনেস দেখে। সে এর আগেও অনেক সুন্দরীর সঙ্গে প্রেমের অভিনয় করেছে, কিন্তু প্রকাশ্যে এত সাবলীল, এত নিখুঁত চুমু খেতে কাউকে দেখেনি। ততক্ষণে বেয়ারা এসে মিক্সড চাউ আর ফলের রস দিয়ে গিয়েছে। পায়েল ফিসফিস করে বলল, ‘সব কথার কি উত্তর হয়, ঋত?’

ঋত জানে, আজ রিল্যাক্সড থাকার দিন। কোনোরকম টেনশন নিতে প্রস্তুত নয় সে এখন। তাই থার্ড সিটিংয়ের চিন্তা মাথা থেকে সরিয়ে, চাউমিনে মনোনিবেশ করতে লাগল সে। পায়েলের দিকে তাকাতেই সে দেখল, এক চামচ চাউ পায়েল তাকে খাইয়ে দিতে চাইছে। ঋত হাঁ করে সাদরে গ্রহণ করল সে প্রসাদ। ‘আমায় দেবে না?’ পায়েলের সম্মোহনী চাউনিতে মুগ্ধ ঋত চামচ সরিয়ে রেখে, হাতে করেই একটুখানি চাউ তার মুখে পুরে দিল। পায়েল সংগোপনে ঋতর আঙুল চুষে দেয়। এরপরেই ফলের রসে চুমুক দেয় ঋত। অনেকটা খেয়ে নেয় একবারে। পায়েলও খাচ্ছে। ও মা, হঠাৎই পায়েল দেখল, ঋতর ঝকঝকে তাজা শরীরটা কেমন নিস্তেজ হয়ে যাচ্ছে, চোখ দুটো বুজে এল আর অমনি টেবিলে মাথা ঠুকে পড়ে গেল সে।

প্রথমটায় বেশ হকচকিয়ে যায় পায়েল। কী হল? কেন হল? তারপর ঋতর চোখে-মুখে জল দেয়। নাঃ, কোনো সাড়া নেই। এদিক-সেদিক থেকে দু-চারজন লোক ছুটে আসে। পায়েল ততক্ষণে ফোন করে দিয়েছে ওর মা-বাবাকে। মিনিটকয়েকের মধ্যেই সেনগুপ্ত-দম্পতি এসে হাজির। পায়েলের মা রেস্টুরেন্টের বাইরে গিয়েছেন ট্যাক্সি ডাকতে। একজন খুব তর্ক করছে রেস্তরাঁর ম্যানেজারের সঙ্গে, ‘আপনাদের খাবার থেকেই হয়েছে। পুলিশে খবর দেব।’ মোটাসোটা ম্যানেজারবাবু তো থ, ‘তাহলে কি দাদা, একজন অসুস্থ হতেন? আরও তো একশো লোক খাচ্ছেন এখানে!’ কেউ আবার বলছে, ‘সুইসাইড কেস নয় তো?’ কেউ মোবাইলে ডাক্তার ডাকছে, কেউ পুলিশ। সেই বিশৃঙ্খলার ভিতরেই ঋতকে টেনেহিঁচড়ে বের করে ট্যাক্সিতে চাপানোর চেষ্টা চলছে জোরকদমে। চেষ্টার পুরোভাগে পায়েল, ওর মা-বাবা, আরও দুজন অপরিচিত লোক। এরা কোথা থেকে এল? কেউ জানে না। পায়েলও জানে না বোধহয়। তার মুখে-চোখে চিন্তার ছাপ। একটু আগেও যে ছেলেটা এত কথা বলছিল, খাচ্ছিল… হঠাৎ তার কী হতে পারে? বিষক্রিয়া? তাহলে তো পায়েলেরও হত। ‘ঋতর বাড়ির কাউকে খবর দেওয়া হয়েছে?’ ভিড়ের ভিতর এরকম প্রশ্ন উত্তরের প্রত্যাশা করে না। তবু পায়েল যেন কিছুটা বা শান্ত হয়েই উত্তর দিল, ‘ওর দিদিকে ফোনে পাচ্ছি না; আর কেউ নেই ওর।’ পায়েলের প্রতি সহানুভূতি হয় প্রশ্নকর্তার, ‘কিছু চিন্তা করবেন না, সব ঠিক হয়ে যাবে। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব হসপিটালে নিয়ে যান।’ লোকটা কাছাকাছি স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ঠিকানা বোঝাতে লাগল পায়েলকে। কোনোরকমে ভাড়ার ট্যাক্সিতে তোলা হল ঋতকে; সঙ্গে গাদাগাদি করে পায়েল, সেনগুপ্ত-দম্পতি আর সেই অপরিচিত লোক দুটো। হু হু গাড়ি ছুটল সামনের দিকে; পিছনে পড়ে রইল কলরব, কৌতূহল, সন্দেহ…

চার

সকাল থেকে একটা মিষ্টি ফুরফুরে হাওয়া বইছে। কাঁপছে গাছের পাতা, দুলছে ডালগুলো। হসপিটাল গেটের বাঁদিকের বড়ো শিউলি গাছটা সারা শরীরে ফুল নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। মাটিতেও ছড়িয়ে দিয়েছে অজস্র শিউলি। কী সুন্দর কমলা ডাঁটি আর সাদা ফরসা পাপড়ি! ওখানেই পুলিশের গাড়িটা এসে দাঁড়াল। তারপর জনা তিনেক পুলিশ ঢুকে গেল হসপিটালের ভিতরে। কিছুক্ষণের মধ্যেই সুপারের ঘর থেকে বেরিয়ে তারা ঢুকল গ্রাউন্ড ফ্লোরের ডানদিকের তিন নম্বর কেবিনে। বিছানায় আধশোয়া হয়ে বসে কিঞ্জল সেন, ওরফে ঋতব্রত দত্ত। কাল রাতে পুলিশ উদ্ধার করে তাকে এখানেই ভরতি করে দিয়ে গিয়েছে। চোখের নীচে কালি, সর্বাঙ্গে ক্লান্তির ছাপ, তবুও মনে যেন যুদ্ধজয়ের স্বস্তি। সারারাত স্যালাইন চলেছে, এই একটু আগে নার্স এসে খুলে দিয়ে গিয়েছেন। এখন সে বিপন্মুক্ত।

 ‘কেমন আছেন ঋতব্রতবাবু?’ দক্ষিণ-পূর্ব ডিভিশনের ডেপুটি কমিশনার অব পুলিশের প্রশ্নে কিছুটা ঘাবড়ে যায় কিঞ্জল, ‘আমি তো কিছু জানি না, স্যার।’

 ‘কিছুই জানেন না?’

 ‘না মানে, কোথা থেকে যে কী হয়ে গেল… কিছুই লোকেট করতে পারছি না।’

 ‘মে আই হেল্প ইউ?’

 ‘ইয়েস স্যার। খুব ভালো হয়।’

 ‘গতকাল সন্ধেয় আপনি পায়েলের সঙ্গে গড়িয়াহাটের রেস্তরাঁয়… মনে পড়ছে?’

 ‘হ্যাঁ হ্যাঁ, আমরা খেতে গিয়েছিলাম তো!’

 ‘আপনি ডা. সেনগুপ্ত ও তাঁর স্ত্রী-কে চেনেন?’

 ‘আমার হবু শ্বশুরমশাই ডা. সেনগুপ্ত…’

 ‘উনি ডাক্তার নন। ওঁর আসল নাম শিবপ্রসাদ চৌধুরী।’

 ‘মানে?’

 ‘শিবপ্রসাদ চৌধুরী ও তার স্ত্রী অনীতা চৌধুরী, যাদের আপনি আসলে সেনগুপ্ত-দম্পতি বলে চেনেন, ওরা একটি আন্তর্জাতিক কিডনি পাচারচক্রের সঙ্গে যুক্ত। ওই চক্রের স্থানীয় পান্ডা সদানন্দ ভট্টাচার্যর নির্দেশে চৌধুরী-দম্পতি পিয়ালি দাশ নামের এক অত্যন্ত চৌকস, স্মার্ট মেয়েকে ভাড়া করে আপনাকে কবজা করে। তারপর গড়িয়াহাটের রেস্টুরেন্টে ফ্রুট জুসে ভয়ংকর রাসায়নিক মিশিয়ে আপনাকে বেহুঁশ করে নিয়ে যায় রাজারহাটের দিকে। ওখানে একটা গোপন ডেরায় আপনার কিডনি তুলে নেওয়ার প্রস্তুতি চলছিল। ওই গোপন ডেরা থেকেই আপনাকে উদ্ধার করে এই হাসপাতালে এনেছে পুলিশ। আর সদানন্দ ভট্টাচার্য ও ডা. মিত্তল গ্রেপ্তার হয়েছে।’

 ‘মাই গড..’ কিঞ্জল অনেকক্ষণ চুপ করে থেকে প্রশ্ন করল, ‘ওই পিয়ালি দাশই তবে পায়েল? সে কোথায়?’

 ‘সে চৌধুরী-দম্পতির সঙ্গে পালিয়ে যাচ্ছিল বাইরে। দমদম বিমানবন্দর থেকে ওদের অ্যারেস্ট করা হয়েছে।’

 ‘আমি তো বিশ্বাসই করতে পারছি না, স্যার। কী রোমাঞ্চকর, গা-ছমছমে! আমার জীবন বাঁচানোর জন্য কী বলে যে আপনাকে ধন্যবাদ জানাব…’

 ‘দাঁড়ান দাঁড়ান, আর-একটা ছোট্ট কাজ এখনও বাকি আছে যে ঋতব্রতবাবু!’

 ‘বলুন স্যার।’

 ‘ইউ আর আন্ডার অ্যারেস্ট, মি. কিঞ্জল সেন।’

 মুখটা পাংশু হয়ে গেল কিঞ্জলের। ডেপুটি কমিশনার নিজস্ব ভঙ্গিমায় বলে চলেছেন, ‘আসলে কী হয়েছে বলুন তো, সদানন্দ ভট্টাচার্যর দুই এজেন্ট শিবপ্রসাদ চৌধুরী আর নেহা শর্মা কেউ কাউকে চেনে না। আর এখানেই যত বিপত্তি। নেহা শর্মা খবরের কাগজে বিজ্ঞাপন দিয়ে যে জাল ফেলেছে, সেই জালেই মাছ নয়, অজান্তে এসে পড়েছে চৌধুরী মশাইয়ের কুমির। নেহা শর্মা থার্ড সিটিংয়ের জন্য বসে থাকলে কী হবে, শিবপ্রসাদের লোক সেকেন্ড সিটিংয়েই কাজ হাসিল করে বেরিয়ে যেতে চেয়েছে। আর বেচারা সদানন্দ শেষ হয়ে গিয়েছে এই আত্মঘাতী খেলায়। আপনার লিভ-ইন পার্টনার নেহাদেবীও এখন আমাদের হেপাজতে। তবে প্রকাশ ঝুনঝুনওয়ালাকে পুলিশ খুঁজছে। এখনও তার হদিশ মেলেনি।’

 কান্নায় ভেঙে পড়েছে কিঞ্জল সেন। তাকে হাতকড়া পরিয়ে গাড়িতে তুলছে পুলিশ। হসপিটাল গেটের বাঁদিকের নিঃস্ব শিউলি গাছটা ততক্ষণে সব ফুল বিলিয়ে দিয়েছে নীচে…

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *