বাঘ
ঢাউস পার্সেল বক্সটা ডেলিভারি বয় মিমির হাতে তুলে দিতেই বাড়িসুদ্ধ লোক বিস্ময়ে চিৎকার করে উঠলেন, ‘এটা কী রে? কে পাঠিয়েছে?’ ডেট আর টাইম সমেত সাইন করে মিমির মা কাগজটা কুরিয়ারের ছেলেটাকে ফেরত দিয়েই আমাদের দিকে হাসিমুখে তাকালেন, ‘লেখা আছে ”ফ্রম বুবুন”, মানে আমাদের রিখিয়ার ছেলে। রিখিয়া ঘোষ… মানে রিখিয়াআন্টি… তোর মনে পড়ে, মিমু? আমরা যখন বর্ধমানে থাকতাম… খুব ভালোবাসত মিমুকে…’
‘সারপ্রাইজ গিফট?’
‘একদম।’
‘কী আছে রে?’ আরেকজন বললেন।
ড্রয়িং কাম ডাইনিংয়ের এককোণে নিয়ে গিয়ে তখন থেকে বাক্সটা খোলার আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে মিমি। তার সাহায্যে এগিয়ে গিয়েছেন ন্যাতপেতে পিসিমণি। তিনিও বিশেষ সুবিধে করতে পারছেন না দেখে পাশের বাংলোর সুদক্ষিণাআন্টি, মিমির মা, আমি এবং বাড়ির পরিচারিকা সেদিকে এগোতে উদ্যত হব, এমন সময়ে ঝোলা থেকে উঁকি দিতে শুরু করল বিড়াল। ‘এ মা, বিড়াল কোথায়? এ তো বাঘ মনে হচ্ছে।’ মিমির মা অস্ফুটে উচ্চারণ করতেই বিশাল বাঘটা বেরিয়ে পড়ল বাক্স থেকে। আর দেখামাত্র আমার বুকে ‘ধক’ করে একটা অপ্রত্যাশিত ধাক্কা! মাথাটাও ঘুরে গেল চকিতে। কপালে বিন্দু বিন্দু ঘাম। উঁহু, লক্ষণ তো ভালো ঠেকছে না। ধীরে ধীরে বসে পড়লাম সোফায়। মনটা বিষণ্ণ হয়ে গেল। মাইল্ড স্ট্রোক নাকি ? নিজেই নিজের নাড়ি দেখতে শুরু করলাম। ততক্ষণে ছুটে এসেছেন বুকু, ‘কী হল, কী হল?’
‘না, কিছু না…’ লুকোবার ব্যর্থ চেষ্টা করলাম।
‘কিছু না মানে?’
‘মাথাটা একটু ঘুরে গেল মনে হল…’
‘সে কী, কেন? শরীর খারাপ লাগছে?’
‘না, এখন ঠিক আছি।’
‘জল খাও জিজু।’ ছিপিটা খুলতে খুলতে জলের বোতল নিয়ে এগিয়ে এলেন মিমির মা। সবাই মিলে আমাকে জোর করে শুইয়ে দিলেন সোফায়।
শুতে শুতেই আগের রাতের ভয়ংকর স্বপ্নটার কথা মনে পড়ে গেল। এই বাঘটাই তো যত নষ্টের গোড়া! স্বপ্নটা তো এই বাঘটাকে নিয়েই। এই বাঘটা না হোক, ঠিক এরই মতন অন্য একটা বাঘ। বিকেলবেলায় মল থেকে ঠিক এরকমই একটা বাঘ কিনে এনেছিলাম মিমিটার জন্য। বুকু মানা করেছিলেন, ‘আর বাঘ আনতে হবে না, তুমি বরং ওখানে গিয়ে ওর পছন্দমতো একটা খেলনা কিনে দিয়ো কাল।’
‘ওখানে গিয়ে যদি সময়-সুযোগ না পাই? তখন মেয়েটা রাগ করবে!’ আমি বিড়বিড় করে বললাম।
‘ওর অনেক খেলনা আছে।’
‘তা থাক। একটা মেয়ের পাঁচ বছরের জন্মদিনে খেলনা ছাড়া আর কী-ই বা দেব, বিশেষ করে তুমি যখন সোনার জিনিস দিচ্ছই।’
‘তুমি তো কথা শুনবে না।’
‘আরে, এই যাব আর আসব।’
ঘণ্টাখানেকের মধ্যেই বাঘটা নিয়ে ফিরে এসেছিলাম। ঠিক এই বাঘটার মতোই। টকটকে হলুদ রং যেন ঠিকরে বেরোচ্ছে গা থেকে। তার উপর মিশমিশে কালো ডোরাকাটা দাগ। আর ওই চোখ! যেন খাঁটি আগুন দিয়ে তৈরি! কোন কামারের কোন কামারশালায় বানানো? ব্লেকের সেই সুবিখ্যাত লাইন মনে পড়ে গিয়েছিল, ‘ডিড হি হু মেড দ্য ল্যাম্ব, মেক দি?’
কিন্তু রাতের বেলায় অমন স্বপ্ন কেন দেখলাম? খেলনা বাঘটা সত্যিকারের বাঘ হয়ে গেল কী করে? বাঘটার বীভৎস রুদ্ররূপ দেখে আমি ঘুমের মধ্যেই ছটফট করছিলাম। দেখলাম, একটা ফাঁকা জায়গায় বাঘটা প্রচণ্ড গতিতে দৌড়োচ্ছে। সঙ্গে সুতীব্র গর্জন। তার চোখ থেকে আগুন চলকে পড়ছে। কোনোভাবেই সে শান্ত হচ্ছে না। তার কোনো ক্লান্তি নেই। সে শুধু রক্ত চায়—মানুষের রক্ত। একটুখানি মাংসের জন্য সে উন্মাদ হয়ে ছুটছে। দুর্দমনীয় ক্ষিপ্রতায় সে ছিন্নভিন্ন করে দিতে চাইছে কোনো মানব-শরীর। এবং কী আশ্চর্য, হলও তা-ই! মানুষের গন্ধ পেয়েই সে ছুটতে লাগল তার পিছনে। মানুষও ঊর্ধ্বশ্বাসে ছুটছে। সে এক রোমহর্ষক দৌড়। শেষ পর্যন্ত বাঘ ঝাঁপিয়ে পড়ল মানুষের উপর। তারপর পৈশাচিক উল্লাসে সে ছিঁড়ে ফেলল তার নাড়িভুঁড়ি। আমি স্পষ্ট দেখতে পেলাম, তার অবর্ণনীয় শক্তির কাছে সম্পূর্ণ নিরস্ত্র প্রতিরোধহীন মানুষ মুহূর্তে ভেসে গেল রক্তস্রোতে। আক্রান্তের বুক-পেট খুবলে, ভিতরের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ ছিঁড়ে বের করে আনল রাস্তায়। তারপর নাক ডুবিয়ে আস্বাদন নিতে শুরু করল পরমানন্দে। তার ঠোঁটে, গোঁফে, মুখের চার পাশে লেগে থাকল গরম তাজা রক্ত, নাড়ির টুকরো। বুকু আমাকে জাগিয়ে দিয়েছিলেন, ‘জল খাও।’ ভয়ে আমি নিস্তেজ হয়ে গিয়েছিলাম ক্ষণিকের জন্য। আমার জিভ শুকিয়ে গিয়েছিল। মুখ দিয়ে কথা বেরোচ্ছিল না। অনেকক্ষণ চুপ করে বসে তারপর ওয়াশরুমে গিয়েছিলাম ধীরপায়ে। সেখানে চোখ-মুখ-ঘাড়-গলা ভালো করে ধুয়ে, আবার এসে শুয়েছিলাম বিছানায়। ঘড়ির কাঁটায় তখন ঠিক তিনটে পাঁচ। আর দু-চোখের পাতা এক করতে পারিনি একবারও।
ভোরের আলো ফোটার আগেই বাঘটাকে দুমড়ে-মুচড়ে নোংরা ফেলার বাস্কেটে রেখে এসেছিলাম, যাতে সকালে মিউনিসিপ্যালিটির গাড়ি এসে সৎকারের জন্য নিয়ে যেতে পারে বুকুর জেগে ওঠার আগেই। তারপর ব্রেকফাস্ট সেরে যথাসময়ে যখন বেরোচ্ছি আমরা, বুকু ভুরু কুঁচকে প্রশ্ন করলেন, ‘বাঘটা নিলে না?’
‘না মানে… ওটা থাক… আমার ঠিক পছন্দ হয়নি…’ আমি আমতা আমতা করতে লাগলাম।
‘উফ, তুমি না!’ সহ্যের সীমা ছাড়ালে বুকু অদ্ভুত একটা হাসি হেসে ব্যঙ্গোক্তি করেন, ‘ওটা নিয়ে তুমি খেলবে?’ এই হাসিটা স্বাভাবিক হাসি নয়, এর মধ্যে লঙ্কার ঝাঁজ লুকোনো থাকে। আমি কথা না বাড়িয়ে স্টিয়ারিং ধরলাম।
সোফা থেকে উঠে বসলাম আমি। এখন সম্পূর্ণ সুস্থ বোধ করছি। মিমি ও ঘর থেকে প্রেশার-মাপা যন্ত্রটা নিয়ে এসেছে অনেকক্ষণ, ‘তখন থেকে বলছি প্রেশারটা দেখো। কথা কি কানে যাচ্ছে না, পিসাই?’
‘আমার প্রেশার ঠিক আছে বাবা।’ মিমির পাকামি দেখে একচোট হেসে নিলাম।
‘তুমি প্রেশারের বড়ি খাও নাকি জিজু?’ মিমির মা জানতে চাইলেন।
‘না না।’ বাড়িসুদ্ধ লোকের চিন্তায় খানিক লজ্জাই পেলাম, ‘আসলে কী হয়েছে বলো তো, কাল রাতে একদম ঘুম হয়নি। তার উপর এতটা ড্রাইভ করেছি তো, তাই মাথাটা হঠাৎ ঘুরে গিয়েছিল। এখন আর কোনো সমস্যা নেই।’ কয়েক সেকেন্ড চুপ করে থেকে বললাম, ‘কালকের সব আয়োজন কমপ্লিট তো?’
‘প্রায়।’ মিমির মা মোটা দাঁড়ার চিরুনি দিয়ে বাদামি চুলের জট ছাড়াতে ছাড়াতে বললেন, ‘তাও বিকেলে একবার বেরোব সবাই মিলে। যাবে তো?’
‘নিশ্চয়ই।’ আমি দেখলাম এই মওকা, মিমিটাকে ভালো একটা কিছু কিনে দিতেই হবে।
‘আমি যাব না।’ মিমি স্পষ্টভাবে তার নিজস্ব মত প্রকাশ করল।
‘কেন যাবি না? আমরা সবাই যাব, আর তুই বাড়িতে একা একা বসে থাকবি নাকি?’ পিসিমণির বকা খেয়ে মিমি তখনকার মতো চুপ করে গেল।
এসে থেকে শালাবাবুকে দেখিনি। তিনি কখন ফিরবেন? মিমির মা-কে প্রশ্ন করতেই বিরক্তিপূর্ণ জবাব এল, ‘তেনার আজ মিটিং আছে গুরুত্বপূর্ণ। ফিরতে ফিরতে রাত হয়ে যাবে।’
‘হুম, জরুরি পদে থাকলে যা হয়!’
‘আমি জিজ্ঞেস করেছিলাম, কাল মানে জন্মদিনেও কি তোমায় অফিস করতে হবে?’ মিমির মা কয়েক সেকেন্ড পজ দিয়ে রাগতস্বরে বললেন, ‘আমার খুব সৌভাগ্য যে, জন্মদিনে উনি একটা ছুটি নিয়ে আমাদের সকলকে কৃতার্থ করবেন বলে এখনও পর্যন্ত সিদ্ধান্তে অবিচল আছেন।’ এই ”এখনও পর্যন্ত” কথাটা বেশ স্ট্রেস দিয়ে বললেন মিমির মা। আমি তাঁকে বোঝাতে চেষ্টা করলাম, ‘দেখো, পুলিশের বড়োকর্তারা এত সহজে যখন-তখন ছুটি নিতে পারেন না। তাঁদের অনেক দায়বদ্ধতা থাকে।’
‘তাদের সংসার করতে কে বলে? দেশ শাসন করলেই হয়!’ রাগ আর পড়ে না মিমির মায়ের, ‘এই যে কালকের এত আয়োজন, তুমি ভাবতে পারো, তার বিন্দুবিসর্গও ও জানে না! সমস্তটাই একা হাতে সামলাতে হচ্ছে আমাকে!’
‘বুঝতে পারছি।’
‘কী বুঝতে পারছ, কিছুই বুঝতে পারছ না।’ মিমির মা চিরুনিটা টেবিলের উপর রেখে চুলটা খোঁপা করতে করতে অসহিষু� হয়ে পড়লেন, ‘সমস্তটাই যদি নেগেটিভ হয়, তাহলে অমন চাকরির দরকার কী?’
‘সমস্তটাই নেগেটিভ মানে?’ বুকু অনেকক্ষণ পর মুখ খুললেন।
‘আরে দিদি, তুমি ভাবতে পারবে না দিনরাত শুধু উড়ো চিঠি, হুমকি ফোন—মেরে ফেলব তোমাকে, পুঁতে ফেলব মেয়েকে… পারা যায় বলো, এইভাবে পারা যায়?’
‘ইস, সত্যি মাইরি, মানুষ পারেও।’ বুকু উদবেগের সঙ্গে বললেন, ‘আসলে তুমি তো জানোই, ভাই খুব অনেস্টলি কাজটা করে, আপোশ করে না অন্যায়ের সঙ্গে, যার জন্য তোমাদের…’
‘যদি কোনো বিপদ হয়ে যায়, কী করব বলো তো?’
‘আরে না না, চিন্তা কোরো না,’ আমি আশ্বস্ত করতে চেষ্টা করলাম।
আগামীকালের বার্থডে পার্টির লাস্ট মিনিট প্রিপারেশনের জন্য সকাল সকাল লাঞ্চ সেরে আমরা সবাই মিলে বেরোতে উদ্যত হলাম। কিন্তু মিমি কিছুতেই রাজি হয় না যেতে, ওর সর্বক্ষণের সঙ্গী চামেলিমাসির সঙ্গে ও থেকে যেতে চায় ঘরে। ওর মা কিংবা পিসিমণি, এমনকী চামেলিমাসিও, অনিচ্ছাসত্ত্বেও ওর জেদের কাছে আত্মসমর্পণ করে ফেলল শেষ মুহূর্তে; কিন্তু আমার যে কী হল, হয়তো আমার নিজের কাছেও এর কোনো ব্যাখ্যা নেই, ওকে না নিয়ে কিছুতেই বেরোব না বলে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ হলাম। জীবনে প্রথম আমি কোনো শিশুর গায়ে হাত তুললাম। ওর মা এবং পিসিমণি বিস্ফারিত চোখে তাকিয়ে রইলেন আমার দিকে। ওদের ভাষাহীন দৃষ্টিতে নিজেকে কেমন বিশ্বাসঘাতকের মতো মনে হল। আমি নিজের হাতকেও বিশ্বাস করতে পারিনি, এই হাত দিয়ে আমি আঘাত করলাম ওইটুকু মেয়েকে? তাও তার জন্মদিনের মতো এত বড়ো একটা উৎসবের প্রাক মুহূর্তে? গাড়িতে উঠেও অনেকক্ষণ ধরে ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদল মিমি, কিন্তু কোনো কথা বলল না।
বলা বাহুল্য, আমার কাছে কোনো গিফট নিল না মিমি। পরিবেশটাও ভারী হয়ে রইল সারাক্ষণ। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আর্জেন্ট কিছু কেনাকাটা সেরে আমরা যখন বাড়ির কাছাকাছি পৌঁছোলাম, দেখি কী, পুরো এলাকাটা ঘিরে একটা বিরাট জটলা। বাগানের পাশে গাড়িটা ঘুরিয়ে গ্যারেজে ঢোকাব, এমন সময়ে একদল লোক দেখি, আমাদের দিকেই ছুটে আসছেন। চোখে-মুখে অপার বিস্ময় তাঁদের। ‘কী হয়েছে গো নীপাবউদি?’ চামেলিমাসির গলায় চাপা সন্ত্রাস।
‘সর্বনাশ হয়ে গিয়েছে গো।’ মৃদু গুঞ্জন উঠল।
‘সাহেব ফিরেছে নাকি?’ অদূরে পুলিশের গাড়িটা দেখে আতঙ্কিত গলায় প্রশ্নটা ছুড়ে দিলেন মিমির মা। ততক্ষণে ভিতর থেকে শালাবাবু বেরিয়ে এলেন। আমার হাত ধরে বললেন, ‘মিনিট পনেরো হল ফিরেছি। ভাগ্য ভালো যে তোমরা কেউ ছিলে না।’
‘কী হয়েছে?’ আমার গলাও খাদে।
‘আমি ঢোকার মোটামুটি মিনিট দশেক আগে প্রচণ্ড বিস্ফোরণে কেঁপে উঠেছে বাড়ি। ওই দেখো, কেমন ভেঙে পড়েছে দরজা, দেয়ালের অংশ, জানালার কাচ।’ সাহেবের গলা তখনও কাঁপছে, ‘এসো, ভিতরে দেখে যাও, কী হয়েছে।’
দেখলাম, ভিতর থেকে প্রচুর লোক বেরিয়ে আসছেন পিলপিল করে, প্রত্যেকের চোখে-মুখে ভয়, উৎকণ্ঠা, বিস্ময়। ভিতরে ঢুকে দেখি, হরপ্পার মতো পড়ে আছে ধ্বংসাবশেষ! কোথাও কিছুই আর আস্ত নেই। উত্তেজিত শালাবাবু মিমির মায়ের হাত দুটো ধরে চিৎকার করে বলছেন, ‘কোথা থেকে এসেছে ওই বাঘ? জানো, ওই বাঘের মধ্যেই ছিল বোমা? কেন না দেখে অ্যাকসেপ্ট করেছ পার্সেল?’ ততক্ষণে মিমি আমাকে জড়িয়ে ধরে অঝোরে কাঁদছে। ওর সব অভিমান জল হয়ে ভিজিয়ে দিচ্ছে আমার শার্টের হাতা, হাতঘড়ি, দম-বন্ধ-করা অনুতাপ।
জনৈকা রিখিয়া ঘোষের ছদ্মবেশে কে এবং কেন ওই মৃত্যুবাণ বাঘের পেটে পুরে পাঠিয়েছিল এ বাড়িতে, সে তদন্ত প্রশাসন করবে, সে বিচার আদালত করবে; কিন্তু আজন্ম নাস্তিক আমি, এই সামান্য কলমচি, কিছুতেই মেলাতে পারি না কে এবং কেন আমাকে স্বপ্নে এসে অনিবার্য নিয়তির কথা ওইভাবে বলে গিয়েছিল এবং কীভাবেই বা আমি ছোট্ট মেয়েটাকে অপ্রতিরোধ্য মৃত্যু থেকে সরিয়ে দিতে সক্ষম হয়েছিলাম সেদিন। হয়তো এগুলোও নিয়তি-নির্ধারিত। জীবনে সত্যিই কিছু কিছু হিসেব মেলে না বোধহয়।
