নৃসিংহ – রজতশুভ্র মজুমদার

নৃসিংহ

‘কতদিন হল?’

‘দেড় বছর।’

‘দেড় বছর!’ ছেলেটা অবাক হয়ে তাকাল, ‘আমায় যে বলল, খুব দেরি হলেও, বছরখানেকের মধ্যেই পেয়ে যাবেন!’

‘কতদিন হল তোমার?’

‘আর দিন দশেক হলে ছ-মাস পূর্ণ হবে!’

‘আর পারা যায় না। ঘুরে ঘুরে জুতোর সুকতলা ক্ষয়ে গেল, ভাই।’ লোকটা এইবার সত্যি সত্যিই অধৈর্য হয়ে পড়েছে। সরকারি অফিসের হাজার একটা নিয়মকানুনের গেরোয় মানুষের জীবন ফাঁদে পড়া ইঁদুরের মতোই অসহায় হয়ে পড়ে এ দেশে। সেই কোন সকালে খালি পেটে বেরিয়েছে গ্রাম থেকে। ট্রেন থেকে নেমে বাস, বাস ছেড়ে অটো। তারপর অনেকক্ষণ ধরে এ টেবিল-ও টেবিল ঘুরে শেষমেশ এই লাইনে দাঁড়িয়েছে এসে তা মিনিট পনেরো হবে। এখানে এসেই পরিচয় লাইনের সামনের ছেলেটার সঙ্গে। সে-ও একই গ্রামের, সে-ও একই রকম বিধ্বস্ত। ছ-মাসেই তার তিনবার ঘোরা হয়ে গিয়েছে। অবশ্য প্রথম প্রথম একটু বেশি ডাক পড়ে, শেষদিকে আর আসতে হয় না ঘন ঘন।

আগের বার যখন এখানে আসে, মেয়েকে নিয়ে এসেছিল লোকটা। মেয়েটার তখন সাড়ে পাঁচ-ছ-বছর হবে। এক অফিসারের সঙ্গে বেশ ভাব জমিয়ে ফেলেছিল সে। অফিসার একমুখ হেসে জিজ্ঞেস করেছিলেন, ‘তুই চকোলেট খাস বুঝি খুব?’

‘বাবা কিনে দেয় না। বাবার পয়সা নেই।’

‘তাহলে দাঁতের অমন অবস্থা কেন?’

‘আগে খেতাম। দাদু রোজ আমায় চকোলেট কিনে দিত।’ বাচ্চা মেয়ের চোখ ছলছল করে ওঠে, ‘আজকাল আমার আর কিচ্ছু ভাল্লাগে না গো!’

‘দাদুকে খুব মিস করিস?’ অফিসার পিঠ চাপড়ে দেন মেয়ের।

‘আমাকে দাদুর কাছে নিয়ে যাবে তুমি?’ দলা-পাকানো কান্নায় গলা বুজে আসে তার।

‘সে আর হয় না রে।’

‘জানো, দাদু আস্তে আস্তে ভালো হয়ে উঠছিল। সকালবেলা ঘুম থেকে উঠে আমায় বলেছিল, আর কয়েকদিন পর তোকে নিয়ে আবার বেরোব, চকোলেট কিনে দেব।’ ভয়ংকর শেষের সে দিনের স্মৃতিচারণ করছিল ছোট্ট মেয়ে, ‘দাদু ডাক্তারের কাছে যেতে চায়নি গো, কিছুতেই যেতে চায়নি। কিন্তু বাবা জোর করল…’

‘বাবা তো ভালোর জন্যই নিয়ে যেতে চেয়েছিল তোর দাদুকে।’ অফিসারের গলার স্বর আন্তরিক।

‘মা-ও নিষেধ করেছিল বাবাকে, সন্ধেবেলা ওই রাস্তা দিয়ে যেয়ো না। দরকার নেই ডাক্তার দেখানোর। কিন্তু বাবা কিছুতেই শুনল না।’ দু-চোখ জলে ভরে উঠল নিমেষে।

‘তুই যেমন ভালোবাসিস তোর বাবাকে, তেমনি তো তোর বাবাও ভালোবাসত তার বাবাকে, তাই তো জোর করেছিল, বুঝেছিস?’

‘ছাই ভালোবাসি বাবাকে আমি।’ ছোট্ট মেয়েটি এইবার বিদ্রোহী, ‘আমি ভালোবাসি না আমার বাবাকে।’

‘কেন রে, বাবা চকোলেট কিনে দেয় না বলে?’

‘বাবা তো দাদুকে খুব বকত, মারতও…খুব খুব…একটুও ভালোবাসত না দাদুকে!’

অফিসার জানেন, বুড়ো মানুষটা রোগভোগে দীর্ঘদিন ধরে পড়ে ছিল বিছানায়। তীব্র অনটনের সংসারে ঠিকঠাক চিকিৎসার ব্যবস্থা করা খুবই কঠিন, প্রায় অসম্ভব। তাই সব সময়ে মেজাজ ঠিক রাখা যায় না, মাথা গরম করে বকাঝকা করে ফেলা খুবই স্বাভাবিক ব্যাপার। তারই মধ্যে যেভাবে হোক চিকিৎসা চলছিল, সেরেও উঠছিল ক্রমশ। কিন্তু শেষরক্ষা হল না।

বাবার চিকিৎসা করতে গিয়ে বেশ কিছু ধারদেনা হয়ে গিয়েছিল লোকটার। সেসব কাগজপত্রও জমা করেছে সে। এখন টাকাটা পেলে বড়ো উপকার হয়। ধারবাকিগুলোও শোধ করা যায়, সঙ্গে মেয়েটার মুখে একটু ভালো-মন্দ তুলে দেওয়া যায়। অপুষ্টিতে ভুগছে মেয়েটা। দু-বেলা পেট ভরে খেতে দেবার মতো সামর্থ্যও নেই তার। বউ কাজ করে লোকের বাড়ি। তারও শরীর পাটকাঠি, কাগজের ঠোঙার মতো বুক, চোখে-মুখে চিরন্তন অ্যানিমিয়ার দাগ। সকাল থেকে সন্ধে তেল-খাওয়া মেশিনের মতো খাটে। এইরকম একটা সংসারে পাঁচ লাখ টাকা মানে সে তো আর ছোটোখাটো প্রাপ্তি নয়, এক বিরাট অলৌকিক প্রাপ্তি! আশায় বুক বেঁধে তাই দেড় বছর ধরে বাড়ি আর অফিস করে চলেছে সে।

‘আপনার আইডি নম্বরটা বলুন।’ কাউন্টারের কর্মীর ডাকে লোকটা সংবিৎ ফিরে পেয়েই বুঝল, লাইনের এক্কেবারে প্রথমে চলে এসেছে সে এখন। স্টেপল করা কাগজগুলো গ্রিলের ফাঁক দিয়ে গলিয়ে দিয়েই, সে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করতে লাগল। ভিতর থেকে সেই কর্মী বেশ অনেকক্ষণ মাউস ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে স্ক্রিনে চোখ রেখে বলে দিল, ‘আপনার আর একটা স্টেপ বাকি আছে মাত্র। শুধু একটা ফর্মাল পুলিশ ভেরিফিকেশন। তারপরেই হয়ে যাবে।’

‘আবার কবে আসতে হবে?’

‘আর আসতে হবে না। দরকার হলে আমরা ডেকে নেব। মনে হয়, আর দরকার হবে না। আপনি তো অ্যাকাউন্টও খুলে ফেলেছেন।’

‘আজ্ঞে হ্যাঁ।’

‘ওখানেই পাঁচবারে সবটা ঢুকে যাবে।’ কর্মীটির মুখে হালকা হাসির রেখা।

লোকটা ফেরার পথে পা বাড়াল। ফিরতে ফিরতে ভাবছে, টাকাটা পেয়ে গেলে তিন পুরুষের ভিটেমাটি থেকে পাততাড়ি গুটিয়ে পালিয়ে গেলে কেমন হয়? ওখানে জীবন একদম ভালো লাগে না আর। সব সময়ে সন্ত্রস্ত হয়ে থাকা—এই বুঝি জীবন তুলে নিয়ে গেল ছোঁ মেরে! কী বিচিত্র এই দেশ! দেড় হাজার বর্গকিলোমিটারের বেশি এলাকা জুড়ে ছড়িয়ে-থাকা গভীর ঘন জঙ্গল-ঘেঁষা ওই গ্রামের মানুষের নিরাপত্তার জন্য সরকারের কোনো পরিকল্পনাই নেই! জঙ্গলের তিনশোর বেশি সিংহের রোজকার খাবার ওই মানুষগুলো। খাওয়া প্রমাণ হলে পাঁচ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ! ব্যাস। ওইটুকুই। খেতে যাতে না পারে, তার জন্য কোনো ব্যবস্থা নেই? এমন হতে পারে একটা সভ্য দেশে? এখানে মানুষের চেয়ে পশুর দাম বেশি!

ওই অরণ্যে দুই সিংহীর পর পর মৃত্যু চিন্তা বাড়িয়ে দেয় প্রশাসনের। সিংহ-সিংহীদের আস্তানার নিরাপত্তা নিয়ে সচেতনতা বাড়াতে মন্দির তৈরি হয় আশপাশের গ্রামে। বিধানসভায় রিপোর্ট পেশ হয়, গত দু-বছরে ওই অরণ্যে ১৮৪টি সিংহের মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে এক-তৃতীয়াংশ মৃত্যুই অস্বাভাবিক। ওই মৃত্যুর কারণানুসন্ধান করতে গিয়ে দেখা যায়, জঙ্গলের মধ্যে দিয়ে পাতা রেললাইন বরাবর হাঁটতে গিয়ে পিষ্ট হচ্ছে তারা। অথবা, বৈদ্যুতিন বেড়ার কাছাকাছি পৌঁছে, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যাচ্ছে কেউ কেউ। তবু সিংহের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে।

জঙ্গলের মধ্যে ছোট্ট জলাশয়ে দেখা যায়, সিংহশিশুরা ঝগড়া করছে দল বেঁধে। কেউ কেউ আবার জল নিয়ে খেলছে। একটু দূরে রোদ মাখতে মাখতে সেদিকে তীক্ষ্ন নজর রাখছে সিংহের মা। সিংহের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়া নাকি খুব ভালো লক্ষণ! মন্ত্রী বলছেন, ‘দেশ যে বন্যপ্রাণ সুরক্ষায় কঠিন পদক্ষেপ করছে, এ তারই প্রমাণ।’ সিংহের সংখ্যা যত বৃদ্ধি পাচ্ছে, বিভিন্ন করিডোর দিয়ে নতুন নতুন এলাকায় সরে যাচ্ছে তারা। ঢুকে পড়ছে গ্রামে, তুলে আনছে মানুষ। মানুষ যত যায় যাক-না, তাতে সরকারের কিছু যায় আসে না!

লোকটা ট্রেনের জানালা দিয়ে আকাশের দিকে তাকায়। অন্ধকার আকাশে কালপুরুষের মতো ভেসে ওঠে সিংহের ছবি। প্রকাণ্ড শরীর তার, দু-চোখে হিংস্র দৃষ্টি। ভয়াবহ দাঁত-নখ বের করে সে যেন লাফিয়ে পড়তে চাইছে ট্রেনের জানালায়। মুহূর্তে সে দেখতে পায়, সিংহের মুন্ডুটার সঙ্গে তার নিজের শরীরটা জুড়ে গিয়ে নৃসিংহের মতো ভয়ংকর একটা মূর্তি তৈরি হয়ে গেল আকাশে। মুখময় রক্ত তার। ওই মূর্তি আকাশের এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্ত যেন আর্তনাদ করতে করতে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। লোকটা আর নিজেকে ঠিক রাখতে পারে না। মাথা ঘুরে যায় তার, চোখে অন্ধকার দেখে। ট্রেনের জানালা বন্ধ করে দেয় সে। জিভ শুকিয়ে যায়। কয়েক মুহূর্তের জন্য চিন্তাভাবনার শক্তি লোপ পায়, জড়পদার্থে পরিণত হয় যেন। একটু পর ব্যাগ থেকে জল বের করে গলা ভেজায় সে, চোখে-মুখে জলের ঝাপটা দেয়। তারপর ভাবে, সারাদিনের ধকল আর অনেকক্ষণ ধরে না খেয়ে থাকার ফল এই।

লোকটা আস্তে আস্তে স্বাভাবিক হওয়ার চেষ্টা করে। মেয়ের মুখ মনে পড়ে তার। মেয়ের জন্যই তো সবকিছু—এত পরিশ্রম, এই বেঁচে থাকা। সেই মেয়েকে ভালো করে খাইয়ে-পরিয়ে রাখতে না পারলে এ জীবনের মানে কী? কিন্তু মেয়ে তো আজকাল একদমই পাত্তা দেয় না বাবাকে। এজন্য ভিতরে ভিতরে গুমরে মরে সে। যখন সে দু-আড়াই বছরের, কত ভালোবাসত বাবাকে! এক মুহূর্ত কাছছাড়া হতে চাইত না। বুকের উপর শুয়েই ঘুমিয়ে পড়ত, ঘুমোলে মা নামিয়ে নিত বুক থেকে। সেই মেয়ে আজ বাবার প্রতি কোনোরকম টানই অনুভব করে না!

এই পরিবর্তনটা হয়েছে দাদুর মৃত্যুর পর পরই। দাদুর চলে যাওয়াটা সে কিছুতেই মেনে নিতে পারেনি। কিন্তু এখানে বাবার ভূমিকা নিয়ে তার এত অভিযোগ কেন? বাবা তো দাদুকে ডাক্তার দেখাতে নিয়ে যেতে চেয়েছিল দাদুর ভালোর জন্যই। এ কথা সত্যি, দাদু একদমই রাজি ছিল না ভরসন্ধেবেলা অভিশপ্ত জঙ্গলের পাশ দিয়ে ডাক্তারের কাছে যেতে, কিন্তু ডাক্তারের কাছে না গেলে দাদু সুস্থই বা হত কী করে? বাবা জোরজবরদস্তি করায়, সেদিন সিংহের ভয়ে দাদু লুকিয়ে পড়েছিল আশপাশে কোথাও। এরপর বাবা বেরিয়ে গিয়ে অনেক খোঁজাখুঁজি করেও আর পায়নি তাকে, নিরাশ হয়ে ফিরে এসেছিল। পরদিন জঙ্গলের মধ্যেই দাদুর আধখাওয়া ক্ষতবিক্ষত দেহ মিলেছিল। এই সমস্তটাই জানে মেয়ে, তবু সে বাবাকে ক্ষমা করতে পারে না?

পৌঁছোতে পৌঁছোতে রাত হয়ে গেল। পেটে খিদে, সারা শরীরে ব্যথা, মনে অদ্ভুতরকমের একটা নাম-না-জানা ভয়! এই ভয়টা শুরু হয়েছে সেই ট্রেন থেকে। এতক্ষণে মনের মধ্যে বেশ জাঁকিয়েও বসেছে সে। মেয়ে তখনও ঘুমোয়নি, ‘চকোলেট এনেছিস আমার জন্যে?’ এ কী, মেয়ে এভাবে তেড়ে আসছে কেন তার দিকে? চোখ দুটো যেন আগুনের মতো জ্বলজ্বল করছে তার। চুলগুলো কেশরের মতো দুলছে। সে এসে ঝাঁপিয়ে পড়ল বাবার উপর। ক্রমাগত কিল-চড়-ঘুষি! এইবার শুরু হল লাথি। লাথির পর লাথি আছড়ে পড়ছে যন্ত্রণায় কুঁকড়ে-যাওয়া শরীরটার উপর। বুকের উপর উঠে দাঁড়িয়ে লাথি মারছে সে এখন। লোকটা ঝাপসা চোখে দেখছে, মেয়ের শরীরে এক ক্ষুধার্ত সিংহীর মুখ। সে দাঁত-নখ দিয়ে চিরে দিতে চাইছে তার বুক, উপড়ে নিতে চাইছে চোখ, ফালা ফালা করে দিতে চাইছে গোটা শরীর! একটা সাড়ে ছ-বছরের মেয়ে বীভৎস নৃসিংহের রূপ ধরে ধ্বংস করে দিতে চাইছে লোকটার অস্তিত্ব, তার বেঁচে থাকা—’আমি তোকে ঘেন্না করি, তুই মরে যা, মরে যা…’

বন্ধ সদর দরজায় ক্রমাগত টোকা পড়ছে তখন। এত রাতে কে ডাকে? নিজেকে ছাড়িয়ে কোনোরকমে দরজা খুলল লোকটা। এ কী, পুলিশ কেন? এতক্ষণ অঘোরে ঘুমোচ্ছিল লোকটার বউ। সে এইবার ধড়ফড়িয়ে উঠে দেখল, পুলিশ লোকটাকে ধরে ধরে গাড়িতে তুলছে। লোকটার বউ কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়ল, নিজেকে কোনোরকমে সামলে খুব নিচুস্বরে প্রশ্ন করল ‘কী হয়েছে?’

‘তদন্তের একদম শেষদিকে জঙ্গলের একটা সিসিটিভি ফুটেজ হঠাৎই আমাদের হাতে এসেছে। সেখানে দেখা গিয়েছে, গভীর জঙ্গলে সিংহের মুখে বাবাকে জোর করে ছেড়ে দিচ্ছে লোকটা।’

‘ও মা!’ প্রায় আর্তনাদ করে উঠল লোকটার বউ।

‘বুড়ো মানুষটা জাপটে ধরছে ছেলেকে, তার পায়ে ধরে মিনতি করছে, তবু…’

‘কিন্তু বাবা তো ওর সঙ্গে ডাক্তারের কাছে যায়নি, সিংহের ভয়ে পাড়াতেই কোথাও লুকিয়ে ছিল…’ খানিক চুপ করে থেকে কাঁপা-কাঁপা গলায় লোকটার বউ আবার বলতে লাগল, ‘অবিশ্যি কিছুক্ষণের মধ্যেই বাবাকে খুঁজতে বেরিয়েছিল ও। তখন কি তবে…’

‘আমাদের হাতে ফুটেজটা না এলে আসল সত্যিটা চিরদিন অজানাই থেকে যেত।’ পুলিশ অফিসার ধীরে ধীরে গাড়িতে উঠলেন। মধ্যরাতের সিংহনাদী ভয়াবহতা চিরে পুলিশের গাড়ি গহন জঙ্গলের পাশ দিয়ে বেরিয়ে যাচ্ছে গ্রাম থেকে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *