৭০
১৭৫৬ সালের ডিসেম্বর মাসে ক্লাইভ পা রেখেছিলেন ফলতায়। কলকাতা থেকে বিতাড়িত ইংরেজ বণিকেরা ওখানে তখন মৃত্যুর প্রহর গুণে চলেছে। তারপর দেখতে দেখতে আড়াই বছরেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেল। ভাগীরথী নদী বেয়ে গড়িয়ে গেল অনেক জল। ক্লাইভের হাত ধরে সুবে বাংলায় পুনরুত্থান হল ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির। পলাশিতে মুসিবত হল সিরাজদ্দৌলার। নানা ঘটনাস্রোতের মধ্যে দিয়ে নতুন পথ তৈরি করে নিল আধুনিক ভারতের ইতিহাস। সে ইতিহাস এদেশে ইংরেজ ঔপনিবেশিক শক্তির আগ্রাসী ক্ষমতা বিস্তারের। সে ইতিহাস এক অভূতপূর্ব দস্যুবৃত্তির। সে ইতিহাস বিদেশি শক্তির কাছে এদেশের নবাব-বাদশাদের কাপুরুষোচিত আত্মসমর্পণের। সে হল এক তমসাচ্ছন্ন সময়। আর সেই সময়ের কালো নায়ক রবার্ট ক্লাইভ।
ক্লাইভের নামে থরহরিকম্প তামাম হিন্দুস্তান। দিল্লির বাদশা খেতাব দিয়েছেন নওশেরউদ্দৌলা। নবাব দিয়েছেন জায়গির। কলকাতা কাউন্সিল তাঁকে বসিয়েছে গভর্নরের কুরসিতে। ছিলেন ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির সামান্য এক কেরানি। পলাশির যুদ্ধের আড়াই বছর পরে তাঁর স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির খতেন দেখলে লন্ডনের যে কোনও বিত্তবান মানুষ ভিরমি খাবে। তবুও তুষ্ট নন ক্লাইভ। তাঁর মাথায় ঘুরছে বিরাট বড় এক পরিকল্পনা। তা রূপায়ণের জন্য একবার লন্ডনে যাওয়াটা খুবই জরুরি বলে মনে করলেন তিনি। পাটনা থেকে কলকাতায় ফিরেই লন্ডনযাত্রার তোড়জোড় করতে ব্যস্ত হয়ে পড়লেন।
পলাশি পরবর্তী সময়ে ইংরেজ প্রতাপ সম্বন্ধে এদেশীয় লোকেদের মধ্যে প্রচণ্ড ভীতির সৃষ্টি হয়েছে। এদেশের মনসবদার, জমিদার, মহাজনদের অনেকেই ক্রমশ ইংরেজদের দিকে ঝুঁকে পড়ছে। এসব গভীর অভিনিবেশের সঙ্গে লক্ষ করছিলেন ক্লাইভ। শুধু একচেটিয়া ব্যবসা-বিস্তার নয়, সেই সঙ্গে তামাম হিন্দুস্তান জুড়ে ইংরেজ রাজত্ব গড়ে তোলার ফন্দি ঘুরছে ক্লাইভের মাথায়। এই মনসুবা পূর্ণ করতে চাই একদল সুশিক্ষিত সেনা। এই বাহিনীর খরচ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি দেবে না। তারা কারবার ও মুনাফা ছাড়া অন্য কিছু বোঝে না। এদিকে ক্লাইভ দেখছেন, একদল ট্রেইনড সোলজার হাতে থাকলে গোটা হিন্দুস্তান দখল করে নেওয়াটা তেমন কোনও কঠিন কাজ নয়।
ধূর্ত রবার্ট ক্লাইভের চোখদুটো লোভে চকচক করছে। আপাতত তাঁর নজর বাংলার দেওয়ানির উপরে। রায়দুর্লভের কাছ থেকে তিনি আঁতিপাতি করে বুঝে নিয়েছেন বাংলা-বিহার-ওড়িশার রাজস্ব আদায়ের অন্ধিসন্ধি, হিসেব নিকেশ। এই তিন প্রদেশের রাজস্ব আদায় ক্ষমতা হাতে এলে হর সাল পঞ্চাশ লাখ টাকাও যদি মোগল বাদশাকে পেশকাশ দিতে হয়, তবুও কোম্পানির হাতে থাকবে আড়াই কোটি টাকা। প্রজাদের উপরে আর একটু চাপাচাপি করলে এই আড়াই কোটিকে পাঁচ কোটিতে নিয়ে যাওয়া অসম্ভব কিছু নয়। ঘর থেকে খরচ করতে হবে না একটা টাকাও। বাংলার রাজস্বের টাকাতেই সৈন্য পুষে ধীরে ধীরে গোটা হিন্দুস্তান দখল করে নেওয়া যাবে। এই পরিকল্পনা বাস্তবে রূপায়নের জন্য অধীর হয়ে পড়েছেন ক্লাইভ। এ কথাই লন্ডনে গিয়ে মুখোমুখি আলোচনায় বসে প্রধানমন্ত্রী উইলিয়াম পিটকে তিনি বোঝাতে চান। এই প্রস্তাবে ইংল্যান্ডের রাজার শিলমোহর পেলে আর ভাবনার কিছু নেই। পাওয়া যাবে চাহিদা মতো সেনা। তারপর বাংলার দেওয়ানি ইংল্যান্ডের রাজার হাতে তুলে দিয়ে তামাম দুনিয়াকে তাক লাগিয়ে দেবেন ক্লাইভ। এই তাঁর মনসুবা।
পাটনা থেকে ফেরার পর কিছুদিনের মধ্যেই ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কাছ থেকে লন্ডনে ফেরার অনুমতি আদায় করে নিলেন ক্লাইভ। ঠিক হল ১৭৬০ সালের গোড়ায় তিনি লন্ডনের উদ্দেশে রওনা হবেন। খবরটা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ল চারিদিকে—রবার্ট ক্লাইভ দেশে ফিরে যাবেন। অনেকে ভাবল এদেশে লড়াই করতে করতে ক্লান্ত ক্লাইভ আলবিদা জানাতে চাইছেন চাকরিকে। জীবনের বাকি সময়টা দেশে ফিরে আয়েশে আরামে কাটাতে চান। কিন্তু ক্লাইভের লন্ডন যাত্রার পিছনে মূল কারণটা যে কী, তা জানল না কেউই।
ক্লাইভের চলে যাওয়ার কথা শুনে নবাব দোলাচলে। ক্লাইভের প্রস্থান তাঁর পক্ষে ভালো না মন্দ, সেই আন্দাজ পেতে তিনি পরেশান। তাঁর মনোজগতের প্রতিক্রিয়া বিচিত্র। একদিকে শঙ্কা, মনখারাপের অনুভূতি, আবার অন্যদিকে আনন্দও। তিনি ক্লাইভের হাত থেকে মুক্তি চেয়েছিলেন। ক্লাইভ নিজেই চলে যাচ্ছেন বাংলা ছেড়ে। ‘নবাব হলেন কর্নেলের মদ্দা গর্ধভ’– এই অপবাদ ঘুচিয়ে এবারে আজাদ হয়ে নবাবি করার উমিদ মনের মধ্যে। এদিক থেকে তিনি খুশি। অন্যদিকে আবার ভাবনাও আছে। হাত ধরে তাঁকে মসনদে বসিয়েছিলেন ক্লাইভ। তিনি ছিলেন তাঁর দোস্ত। বিপদে আপদে তাঁকে সালামত রেখেছিলেন কর্নেল সাহেব। তাঁর পরিবর্তে যিনি কলকাতার গভর্নর হবেন তিনি কি এমন দোস্ত হয়ে উঠবেন? বিপদের দিনে ক্লাইভের মতো পাশে এসে দাঁড়াবেন?
এই দোলাচল মন নিয়েই রবার্ট ক্লাইভকে বিদায় জানাতে নবাব ছুটে এলেন কলকাতায়। ক্লাইভের পরিবর্তে কে কলকাতার দায়িত্বভার গ্রহণ করবেন এখনও ঠিক হয়নি। কর্নেল সাহেবকে বিদায় জানানোর পাশাপাশি এই ওয়াক্তে কলকাতা কাউন্সিলের বাকি সদস্যদের সঙ্গে সম্পর্কটাকে ঝালিয়ে নিতে চান মিরজাফর খাঁ। এতদিন তিনি বুঝতেন ক্লাইভ মানেই কোম্পানি, আর কোম্পানি মানেই ক্লাইভ। কলকাতা কাউন্সিলের বাকি সদস্যদের নিয়ে তাঁকে কখনও মাথা ঘামাতে হয়নি। অনেকের সঙ্গে তাঁর ভালো করে আলাপ-পরিচয়ও নেই। হলওয়েল, বীচার, মানিংহ্যাম প্রমুখ কাউন্সিলের সদস্যদের সঙ্গে সম্পর্কটা সহজ করে নেওয়া দরকার। ক্লাইভ থাকুন বা না থাকুন সুবে বাংলায় ইংরেজ শক্তিকে উপেক্ষা করার কোনও উপায় নেই। এটুকু বুঝতে না পারার মতো বেওকুফ নন নবাব।
১৭৫৯ সালের অক্টোবর মাস। নবাব তখন কলকাতায়। সময় কাটাচ্ছেন ক্লাইভের সঙ্গে। আগামী দিনে কেমন করে চালাতে হবে নিজামতের শাসন ব্যবস্থা, কেমন করে রুখতে হবে দুশমনদের– সে বিষয়ে নানা উপদেশ দিচ্ছেন ক্লাইভ। বাধ্য ছাত্রের মতো সেসব মন দিয়ে শুনছেন মিরজাফর খাঁ। কখনও দু’জনে শিকার করতে যাচ্ছেন আদিগঙ্গা পেরিয়ে কলকাতা লাগোয়া সুন্দরবনের জঙ্গলে। কখনও বা গঙ্গার বুকে দু’জনে ভেসে বেড়াচ্ছেন বজরায়। কখনও আবার নবাবের অনারে দমদমার বাড়িতে মুজরোর আসর বসাচ্ছেন ক্লাইভ। বেশ কাটছিল দিনগুলো। কিন্তু এই মিঠে আবহ তিক্ত হয়ে উঠল অচানকই।
গঙ্গার বুকে নবাবের সঙ্গে বিহার করতে করতেই খবরটা পেলেন ক্লাইভ। মোহনা থেকে ফেরত এসেছে ইংরেজদের একটা মালবাহী নৌকা। মাঝিমাল্লারা নিয়ে এসেছে খবরটা। বিষয়টা গুরুতর। সাগরদ্বীপের কাছে নোঙর ফেলেছে ডাচদের সাত-সাতটা যুদ্ধজাহাজ। এসেছে সাতশো ওলন্দাজ ও আটশো দেশি সৈন্য।
খবরটা শুনেই ক্লাইভ কৈফিয়ত তলবের সুরে প্রশ্ন করলেন নবাবকে, ‘আপনার মদত না থাকলে ডাচরা বাংলা মুলুকে যুদ্ধজাহাজ নিয়ে আসার হিম্মত দেখায় কী করে?’
হকচকিয়ে গিয়ে নবাব বললেন, ‘এ ব্যাপারে আমি সচমুচ কিছু জানি না সাহেব।’
‘আপনি যে সচ বলছেন তা বুঝব কেমন করে?’
চমকে গেলেন নবাব। এতকালের দোস্তের গলায় অবিশ্বাসের সুর।
ক্লাইভ বললেন, ‘আগেও একবার ফৌজ নিয়ে আসার কোশিশ করেছিল ডাচেরা।’
‘সেবার আমি কড়া চিঠি লিখে তাদের হুশিয়ার করেছিলাম।’
‘লেকিন সুবে বাংলাকে বেচ্যায়েন করার কোশিশ তারা জারি রেখেছে।’
‘আমাকে গলত সমঝবেন না সাহেব। আমি স্রেফ আপনাদেরই দোস্ত।’
‘দ্য ডাচেস ওয়ান্ট টু ডেস্ট্রয় আস।’
মিরজাফর নিশ্চুপ।
ক্লাইভ ফের গজরালেন, ‘নবাবের হুকুমতকে ইনকার করার হিম্মত রাখে ডাচেরা—যাই বলুন হুজুর, আই ফাইন্ড ইট ডিফিকাল্ট টু অ্যাকসেপ্ট দ্যাট।’
মিরজাফর মরিয়া গলায় বললেন, ‘এই বেতমিজি আমি বরদাস্ত করব না।’
‘আগেও আপনি এই কথাই বলেছিলেন। আপনার জবানে ভরসা রাখব কী করে?’
ক্রমশ কঠোর ও রুক্ষ হয়ে পড়ছে ক্লাইভের গলার আওয়াজ। এই আগুনে মেজাজের সামনে পড়ে রীতিমতো বেসামাল মিরজাফর খাঁ। বললেন, ‘আমি তুরন্ত হুগলি ফিরে গিয়ে ডাচদের তলব করব। যদি তাদের যুদ্ধজাহাজগুলো ফওরান মোহনা ছেড়ে না চলে যায় তো খোদ আমি ফৌজ নিয়ে ধাওয়া করব তাদের। জাহাজগুলোকে দরিয়ায় ডুবিয়ে ছাড়ব।’
‘বেশ তাই করুন।’
এ ঘটনার একদিন পরেই কলকাতা ছেড়ে হুগলি পথে যাত্রা করলেন নবাব।
ক্লাইভ নেমে পড়লেন নিজের কাজে। হাতে রয়েছে মাত্র তিনশো গোরা পল্টন, হাজার খানেক স্বল্প প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত দেশি সেপাই ও চারটে ছোট আকারের যুদ্ধজাহাজ, তবুও ক্লাইভ আত্মবিশ্বাসী। ভাগ্যদেবী তাঁকে বরাবর সাহায্য করে এসেছেন। এবারেও নিশ্চয়ই সাহায্য করবেন।
চন্দননগর থেকে ফরাসি শক্তিকে নির্মূল করা গিয়েছে। এখন যদি ডাচদের সঙ্গে একটা চূড়ান্ত বোঝাপড়া সেরে নেওয়া যায় তো তাঁর লন্ডন যাত্রার প্রাক্কালে ষোলোকলা পূর্ণ হয়। আরও শক্ত জমির উপরে দাঁড় করানো যায় ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানিকে। সুবে বাংলায় বিদেশি বণিক হিসেবে বিজয়কেতন ওড়াবে কেবল ইংরেজরা। প্রতিদ্বন্দ্বী কেউ থাকবে না। ফের মনের মতো একটা কাজ জুটিয়ে দিয়েছেন বিধাতা। উত্তেজনায় ফুটতে লাগলেন ক্লাইভ।
আরাকান উপকূলে রয়েছেন অ্যাডমিরাল কর্নিস। তাকে খবর দেওয়ার জন্য চারটি জাহাজের মধ্যে ক্লাইভ পাঠালেন সবচেয়ে ছোট জাহাজটিকে। বাকি তিনটে জাহাজ রইল ফোর্ট উইলিয়ামের সুরক্ষায়। অ্যাডমিরাল কর্নিস এসে পড়লে শক্তি বাড়বে ইংরেজদের।
এরপরে টানা ও চার্নক ব্যাটারিতে কামান বসিয়ে সেনা মোতায়েন করলেন ক্লাইভ। কলকাতায় শোরগোল পড়ে গেল ফের যুদ্ধ বাধতে চলেছে। তবে এবারে আর লোকজনের মধ্যে কলকাতা ছেড়ে পালানোর হিড়িক নেই। ক্লাইভ আছেন, অতএব ভাবনা কীসের? তিনি ঠিক ঘায়েল করে ছাড়বেন ডাচদের। কলকাতার বেশির ভাগ লোকেরই মনোভাব কতকটা এই গোছের।
ক্লাইভ নিজে অবশ্য সামান্য বিচলিত। এবারে যুদ্ধ পরিচালনা করার জন্য দক্ষ সেনাপতির অভাব তাঁর বাহিনীতে। মেজর আয়ারকুট, লায়নেল ফোর্ড দক্ষিণে গিয়েছেন ফরাসিদের সঙ্গে লড়াই করতে। তাদের ফিরে আসার কোনও খবর নেই।
সংকট-সময়ে বরাবরই নসিবের দেবী আশির্বাদ করেছেন ক্লাইভকে। এবারেও তার ব্যতিক্রম ঘটল না। যুদ্ধের তোড়জোড় তখন চলছে, এই সময়ে মুসলিপত্তনম জয় করে যুদ্ধজাহাজ নিয়ে কলকাতায় ফিরে এলেন কর্নেল ফোর্ড ও ক্যাপটেন নকস। ক্লাইভ উল্লসিত হয়ে উঠলেন। টানা ও চার্নক ব্যাটারির দায়িত্ব দিলেন নকসকে। কর্নেল ফোর্ডের উপরে রইল বাকি ফৌজ চালনা করার দায়ভার।
কিছুদিন পরে কলকাতায় কড়া একটা চিঠি পাঠালেন ডাচ গভর্নর বিসডাম।
লিখলেন, ‘…আপনারা যদি ডাচ জাহাজ বা নৌকোয় তল্লাশি বন্ধ না করেন তো এর জন্যে চরম মূল্য চোকাতে হবে আপনাদের…’
ক্লাইভ জবাব দিলেন, ‘…আপনাদের কোনও ক্ষতি তো আমরা করছি না, এদেশ সওদা করার জন্য নবাবের কাছ থেকে যে সব সুবিধা আপনারা পেয়েছেন, তা নিয়েও উই আর নট বদার্ড। আপনাদের নৌকো বা জাহাজ সার্চ করার অধিকার আমাদের দিয়েছেন নবাব। এ ব্যাপারে কিছু বলার থাকলে আপনারা নবাবকে বলতে পারেন। বরং আপনাদের নামে এই ইলজাম আমি আনতে পারি যে, যুদ্ধজাহাজ নিয়ে এসে আপনারা বাংলাকে বেচ্যায়েন করছেন। ফওরান জাহাজগুলোকে ফিরে যেতে বলুন, আদারওয়াইজ উই উইল গিভ ইউ অ্যা বিফিটিং রিপ্লাই।…’
এই চিঠি পেয়ে ক্ষিপ্ত হয়ে উঠল ডাচেরা। ততক্ষণে তাদের জাহাজগুলো ফলতা পর্যন্ত চলে এসেছে। আর চিঠি চালাচালির পথে না গিয়ে প্রত্যক্ষ সংঘাতের পথ নিল তারা। ফলতার কাছে নোঙর করেছিল ইংরেজদের কয়েকটা মালবাহী ভড়। ডাচেরা এগুলো দখল করে নিয়ে সব মালপত্র কেড়ে নিল, মাঝিমাল্লাদের বন্দি করল আর নৌকার উপরে উড্ডীন ব্রিটিশ পতাকাগুলোকে ছিড়ে আগুনে পুড়িয়ে দিল। অ্যাডমিরাল কর্নিসের খোঁজে যে জাহাজটি আরাকানের উদ্দেশে রওনা হয়েছিল সেটিও ডাচেদের হাতে বন্দি হল। এখানেই শেষ নয়, ডাঙায় নেমে ডাচ সৈন্যরা ইংরেজ এজেন্টের ঘরবাড়ি ও মালের গুদামে আগুন ধরিয়ে দিল। এসব খবর ক্লাইভের কানে এসে যখন পৌঁছল, ডাচ জাহাজগুলো তখন ফলতা ছাড়িয়ে সাঁকরাইলের কাছে এসে হাজির হয়েছে।
কী করে লড়াইটা শুরু করবেন, এই লড়াইয়ের অনিবার্য কারণ নিয়ে কোন যুক্তির জাল বুনবেন – এসব নিয়ে ক্লাইভ বেশ দুশ্চিন্তায় ছিলেন। কারণ বিষয়টা গুরুতর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে ইংরেজদের সঙ্গে সুসম্পর্ক রয়েছে ডাচদের। বাংলায় ইংরেজদের হাতে ডাচেরা প্রথমে আক্রান্ত হলে ক্লাইভ ও কলকাতা কাউন্সিলকে কোম্পানির ডিরেক্টরদের কাছে জবাবদিহি করতে হবে। এমনকি গভর্নর ও গোটা কলকাতা কাউন্সিলের উপরে শাস্তির খাঁড়া নেমে আসতে পারে। হুগলি নদীর বুকে ডাচেদের কাণ্ডকারখানা এই সমস্যার সমাধান করে দিল। ক্লাইভ বুঝলেন, লড়াইয়ের কারণ হিসেবে সহজেই এবারে আত্মরক্ষার যুক্তি সাজানো যাবে।
সব দ্বিধাদ্বন্দ্ব ছেড়ে ক্লাইভ এবারে রণংদেহী মেজাজে আসরে নেমে পড়লেন।
নবাবকে চিঠি লিখে জানালেন, ‘…ডাচ নওয়ারা বাংলায় এসে কী কাণ্ড ঘটিয়েছে শুনলে আপনার রক্ত হিম হয়ে যাবে। আমরা শান্তির পক্ষে। বাংলাকে বেচ্যায়েন করতে চাই না কিন্তু ডাচেরা যা কাণ্ড ঘটালো তাতে লড়াই অনিবার্য হয়ে পড়েছে। এই লড়াই ইউরোপের দুই দেশের। এটা দুই পক্ষকে বুঝে নিতে দিন। আই অ্যাম এক্সপেক্টিং নিউট্রালিটি ফ্রম ইওর এন্ড।…’
চিঠিটা পাঠিয়েই কর্নেল ফোর্ডকে ডেকে ক্লাইভ বললেন, ‘কুইকলি প্রসিড টুয়ার্ডস চিনসুরা।’
বেরিয়ে পড়লেন ফোর্ড। সঙ্গে একশো গোরা সৈন্য, চারশো দেশি সেপাই ও চারটে ফিল্ড পিস কামান। বরানগরে ছিল ডাচেদের একটা কুঠি। সেই কুঠি আক্রমণ করলেন ফোর্ড। যে সামান্য সংখ্যক ডাচ-সৈন্য মোতায়েন ছিল কুঠির সুরক্ষায়, ইংরেজবাহিনীর দাপটে তারা কুঠি ছেড়ে ছিপনৌকো নিয়ে পালিয়ে গেল চুঁচুড়ায়। ডাচ কুঠিয়াল আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হলেন। বরানগরের কুঠিও ইংরেজদের দখলে এল। এরপরে হুগলি নদী পেরিয়ে শ্রীরামপুর হয়ে ফৌজ নিয়ে চুঁচুড়ার উদ্দেশে মার্চ করতে লাগলেন ফোর্ড। চন্দননগরে গেরেটির বাগানে ঘাঁটি গাড়লেন।
সাঁকরাইলে বেশ কিছু ডাচ সৈন্য জাহাজ থেকে ডাঙায় নেমে চুঁচুড়ার উদ্দেশে এগোতে লাগল। এই খবর পেয়ে ফোর্ডের উদ্দেশে দ্রুত একটা চিঠি পাঠালেন ক্লাইভ। লিখলেন, ‘…বাটাভিয়া থেকে আসা ডাচ সৈন্যরা চুঁচুড়ার দিকে যাচ্ছে। তারা সেখানে পৌঁছনোর আগেই ডাচ ঘাঁটি দখল করে নিতে হবে, যাতে ডাচ সৈন্যরা ফোর্ট গুস্তাভাসে আশ্রয় না নিতে পারে।…’
ওদিকে ক্যাপটেন নকসের উপরে হুকুম হল, টানা ও চার্নক ব্যাটারি থেকে ফৌজিদের নিয়ে কর্নেল ফোর্ডকে অনুসরণ করো।
ইংরেজদের ক্ষুদ্র নৌবহরের অধিনায়ক কমোডোর উইলসনের উদ্দেশে ক্লাইভ লিখলেন, ‘…সাঁকরাইলে গিয়ে হুগলি নদীর বুকে ডাচ জাহাজগুলোকে জ্বালিয়ে পুড়িয়ে দাও। যাতে ফোর্ডের হাতে আক্রান্ত হলে পিছু হটে ডাচ সৈন্যরা জাহাজে ফের আশ্রয় না নিতে পারে।…’
ক্লাইভের স্ট্র্যাটেজি হল একই সঙ্গে জল ও স্থল, সাঁকরাইল ও চুঁচুড়া দুই জায়গাতেই ডাচ ঘাঁটি একসঙ্গে গুঁড়িয়ে দেওয়া, যাতে অপরিচিত বাংলায় সদ্য পা রাখা বাটাভিয়া থেকে আসা ডাচ সৈন্যরা কোথাও আশ্রয় না পায়।
ইংরেজদের ক্ষুদ্র নৌবহরের কমান্ডার-ইন-চিফ, কমোডর উইলসনের সম্বল তিনটে মাত্র ছোট্ট জাহাজ—ডিউক অফ ডরসেট, ক্যালকাটা ও হার্ডউইক। কলকাতা শহরের সুরক্ষায় নদীর বুকে মোতায়েন ছিল এই জাহাজগুলো। এই তিনটি জাহাজ নিয়ে সাঁকরাইলে গিয়ে পৌঁছলেন উইলসন। দুপক্ষের ঘনঘন তোপ দাগার শব্দে কেঁপে উঠল সাকরাইল। ২৪ নভেম্বর, ১৭৫৯। মাত্র দু’ঘণ্টার কুশলী লড়াইয়ে ডাচ নৌবহরকে বিপর্যস্ত করে দিলেন উইলসন। ডাচ কমোডরের জাহাজ ভ্লিসিনজেন ডুবল গঙ্গায়। আগুনে পুড়ে ধ্বংস হল চারটে জাহাজ। প্রাণ হারাল বেশ কিছু ডাচ সেনা। ক্ষতবিক্ষত তিনটে জাহাজ কোনওরকমে নোঙর তুলে পালাল সাগরদ্বীপের উদ্দেশে। ইংরেজদের জাহাজগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হলেও হতাহতের সংখ্যা খুবই কম। ওদিকে প্রাণ হারাল বহু ডাচ সৈন্য। শুধু ভ্লিসিনজেনেই নিহত হল তিরিশ জন। আহত হল এর দ্বিগুণেরও বেশি ডাচ সেনা।
ইংরেজদের জাহাজ—ডিউক অফ ডরসেট, ক্যালকাটা ও হার্ডউইক মারাত্মক জখম। পালিয়ে যাওয়া ডাচ জাহাজগুলোকে তাড়া করার ক্ষমতা নেই তাদের। তবুও ডাচেদের কপাল মন্দ। এই সময় দক্ষিণ থেকে কলকাতায় ফিরছিল ইংরেজদের জাহাজ—রয়্যাল জর্জ ও অক্সফোর্ড। কুলপির কাছে এই দুটি জাহাজ সাঁকরাইল থেকে পালিয়ে যাওয়া ডাচ জাহাজগুলোর পথ আটকে দিল।
বিকেল শেষের আলোয় ডিউক অফ ডরসেটের ডেকের উপরে এসে দাঁড়ালেন কমোডর উইলসন। হাতে মস্ত এক ব্রিটিশ পতাকা। অদূরে কাত হয়ে গিয়ে জলে ডুবছে ডাচ অধিনায়কের জাহাজ ভ্লিসিনজেন। কিছু দূরে দাউ দাউ করে জ্বলছে আরও তিনটে ডাচ জাহাজ। বিজয় গর্বে আকাশে ইউনিয়ন জ্যাক ওড়াতে লাগলেন উইলসন। সামান্য শক্তি নিয়ে আলিসান ডাচ নৌবহরকে বিধ্বস্ত করে, সাঁকরাইলের জলযুদ্ধে তিনি ইতিহাস রচনা করলেন।
.
জলের লড়াই খতম। এবারে ডাঙার লড়াই।
চালে মস্ত এক ভুল করলেন ডাচ গভর্নর বিসডাম। ইংরেজ বাহিনীর পিছন দিক থেকে মার্চ করে আসছে সাঁকরাইলে নেমে পড়া প্রায় পনেরোশো ডাচ সৈন্য। চুঁচুড়া থেকে তারা তখন মাত্র একদিনের পথ দূরে। এরা এসে পড়া পর্যন্ত অপেক্ষা করলে সামনে ও পিছন থেকে যুগপৎ আক্রমণ করে, ইংরেজদের কড়া প্রতিরোধের মুখে ফেলতে পারতেন বিসডাম। নিজের আহাম্মকিতে এই সুযোগ তিনি হাতছাড়া করলেন।
গেরেটির বাগানে ফৌজ নিয়ে ফোর্ডের পৌঁছনোর কথা শুনেই বিসডাম ভয়ানক বিচলিত হয়ে পড়লেন। তিনি ঠিক করলেন এগিয়ে গিয়ে আক্রমণ করে চন্দননগর থেকে ইংরেজ ফৌজকে বিতাড়িত করবেন। এই পরিকল্পনা মতো ফোর্ট গুস্তাভাস খালি করে দেড়শোজন ডাচ ও তিনশোজন দেশি সেপাই চন্দননগরের দিকে এগিয়ে এল।
সাঁকরাইলে জলের উপরে যখন লড়াই চলছে ঠিক তখনই ডাচদের সঙ্গে ইংরেজদের লড়াই বেঁধে গেল চন্দননগরে। ডাচ সৈন্যরা এদেশে কখনও যুদ্ধ করেনি। লড়াইয়ে তারা অনভিজ্ঞ। দক্ষ সেনাপতি ফোর্ডের সামনে পড়ে তারা দিশেহারা হয়ে গেল। ঘনঘন তোপ দেগে তাদের ব্যতিব্যস্ত করে তুললেন ফোর্ড। ক্লাইভের সঙ্গে দোস্তির কিম্মত চোকাতে একশো ঘোড়সওয়ার পাঠিয়েছিলেন নবাব মিরজাফর খাঁ। তবে ডাচদের উপরে হামলা করার কোনও হুকুম ছিল না তাদের উপরে। মূলত গুপ্তচরবৃত্তির উদ্দেশে তাদের পাঠিয়েছিলেন নবাব। নিজামতের ঘোড়সওয়াররা চন্দননগর থেকে কিছুটা দূরে দাঁড়িয়ে দেখতে লাগল কী হয় এই লড়াইয়ের পরিণতি।
অনভিজ্ঞ ডাচ বাহিনীকে দুরমুশ করে দিলেন কর্নেল ফোর্ড। এখানেও মাত্র কয়েকঘণ্টার মধ্যেই লড়াইয়ের নিস্পত্তি হয়ে গেল। ছত্রভঙ্গ ডাচবাহিনী পিছু হটতে লাগল। অনেক ডাচ সেনা বন্দি হল ফোর্ডের হাতে। তাদের রসদ, অস্ত্রসস্ত্র কেড়ে নিয়ে নিজের শক্তি বাড়িয়ে নিলেন ফোর্ড। বিধ্বস্ত, আহত সামান্য কয়েকজন ডাচ সৈন্য পালিয়ে গিয়ে আশ্রয় নিল ফোর্ট গুস্তাভাসে।
লড়াই শেষ করে সন্ধের মুখে গেরেটির বাগানে নিজের ক্যাম্পে ফিরলেন ফোর্ড। ওদিকে সাঁকরাইলে হুগলি নদীর বুকে ডিউক অফ ডরসেটের ডেকের উপরে দাঁড়িয়ে কমোডর উইলসন তখন বিজয় পতাকা ওড়াচ্ছেন। একই দিনে জলে ও স্থলে দুই জায়গাতেই জবরদস্ত ঝটকা খেল ডাচবাহিনী। তাদের ভরসা তখন কেবল বাটাভিয়া থেকে আসা চুঁচুড়ার দিকে ধাবমান সৈন্যরা।
সেদিনই সন্ধেবেলা কয়েকশো সৈন্য নিয়ে টানা দুর্গ থেকে মার্চ করে গেরেটির বাগানে এসে পৌঁছলেন ক্যাপ্টেন নকস। তাঁর সঙ্গে আসা কনটিনজেন্টদের নিয়ে ফোর্ডের হাতে তখন তিনশো কুড়ি জন গোরা পল্টন, আটশো দেশি সেপাই ও পঞ্চাশজন ঘোড়সওয়ার। সংখ্যার নিরিখে দুই দল প্রায় সমান সমান। ইংরেজ গুপ্তচরেরা খবর নিয়ে এল ডাচ সৈন্যরা চন্দননগরের কাছাকাছি এসে পড়েছে। আগামিকাল ভোরেই পৌঁছে যাবে। চূড়ান্ত লড়াইয়ের স্ট্র্যাটেজি ঠিক করতে নকসের সঙ্গে আলোচনায় বসলেন ফোর্ড। দু’জনে এক বিচিত্র সমস্যার মুখোমুখি হলেন।
ক্লাইভের কথায় ফৌজ নিয়ে গেরেটির বাগানে ঘাঁটি গেড়েছেন ফোর্ড ও নকস। ফোর্ড ডাচদের সঙ্গে একপ্রস্থ লড়াইও সেরে ফেলেছেন। পরিস্থিতি যা তাতে আগামিকাল চূড়ান্ত লড়াই অবশ্যম্ভাবী। কিন্তু এখনও কলকাতা কাউন্সিলের তরফ থেকে লড়াইয়ের জন্য কোনও লিখিত নির্দেশ নেই।
নকস শুধোলেন, ‘উড ইট বি ওয়াইজ টু ফাইট এগেইন্সট দ্য ডাচ ডেসপাইট এনি রিটেন অর্ডার ফ্রম কাউন্সিল?’
তাঁবুর বাইরে খোলা আকাশের নীচে আলোচনায় বসেছেন দুই ইংরেজ সেনাপতি। পাশে জ্বলছে আগুন। অঘ্রাণের শেষেই বেশ ঠান্ডা পড়েছে। আগুনে একটা কাঠ গুঁজে দিয়ে নকসের কথার প্রত্যুত্তরে ফোর্ড বললেন, ‘ঠিকই বলেছ। এ নিয়ে আমিও চিন্তিত।’
‘উই ক্যান্ট ইগনোর দ্য ফরেন পলিসি অফ আওয়ার নেশন।’
‘রাইট। উই হ্যাভ ফ্রেন্ডলি রিলেশন উইথ দ্য ডাচ ইন ইণ্টারন্যাশনাল ফিল্ড।’
‘কাউন্সিলের অর্ডার ছাড়া লড়াই করলে উই মে বি অ্যাকিউসড লেটার।’
‘তুমি বলছ ভার্বাল অর্ডারের কথা ডিনাই করবেন ক্লাইভ?’
‘করতেও তো পারেন। যদি এই লড়াইয়ের জন্য ডিরেক্টরেরা তাঁকে শোকজ করে?’
জ্বলন্ত আগুনের দিকে একদৃষ্টে কিছুক্ষণ চেয়ে রইলেন ফোর্ড। তারপর বললেন, ‘আমি ভেবেছিলাম মি. ক্লাইভ উইল ডেসপ্যাচ দ্য অর্ডার ইন টাইম।’
‘বাট দ্য রিয়েল স্টোরি ইজ উই নট ইয়েট রিসিভড দ্যাট।’
‘ডাচ কনটিনজেন্ট উইল রিচ হেয়ার টুমরো।’
‘সো হোয়াট টু ডু?’
হঠাৎ গা ঝাড়া দিয়ে উঠে ফোর্ড বললেন, ‘লেট আস সেন্ড অ্যা রিমাইন্ডার টু মি. ক্লাইভ।’
ক্লাইভের উদ্দেশে ফোর্ড লিখলেন, ‘… ডাচ কনটিনজেন্ট চন্দননগরের কাছাকাছি এসে পড়েছে। তাদের স্ট্রেনথ সম্বন্ধে যা খবর আমি পেয়েছি তাতে মনে করি লড়াই হলে অনায়াসে ডাচদের হারিয়ে দেওয়া যাবে। কিন্তু লড়াই করার জন্য কলকাতা কাউন্সিলের অর্ডার কোথায়? প্লিজ সেন্ড দ্য রিটেন অর্ডার অ্যাট দ্য আরলিয়েস্ট।…’
ফোর্ডের দুই প্রতিনিধি চিঠিটা নিয়ে সন্ধেবেলা ক্লাইভের দমদমার বাড়িতে যখন পৌছল তখন সেখানে হইহুল্লোড় চলছে। সাঁকরাইলের যুদ্ধে ডাচদের ডিবাকলের খবর পেয়ে সেলিব্রেশনে মেতেছেন ক্লাইভ ও কলকাতা কাউন্সিলের অন্যান্য মেম্বাররা। সকলে তাসের জুয়ায় মত্ত।
জুয়ার আসরে প্রবেশ করে ক্লাইভের হাতে চিঠিটা ধরিয়ে দিলেন মুনশি নবকৃষ্ণ।
তাস বাঁটতে গিয়ে থমকালেন ক্লাইভ। বিরক্তির সঙ্গে শুধোলেন, ‘হোয়াট হ্যাপেন্ড মুনশি?’
‘চিঠি। কর্নেল ফোর্ড পাঠিয়েছেন।’
বা হাতে চিঠিটা নিয়ে চোখের সামনে মেলে ধরলেন ক্লাইভ। চিঠিটা পড়ে মুচকি হাসলেন।
‘এখন রিপ্লাই দেবেন কি হুজুর?’
‘রিপ্লাই? ওয়েল। একটা পেনসিল নিয়ে এসো।’ তাসের বাজি জেতার নেশায় মত্ত ক্লাইভ বেশ বিরক্ত হলেন। বিরক্তিটা প্রকাশ পেল মুখের অভিব্যক্তিতে। যাই হোক, পেনসিল দিয়ে ফোর্ডের চিঠিরই উলটো দিকে ক্লাইভ লিখলেন, ‘ডিয়ার ফোর্ড– ফাইট দেম ইমিডিয়েটলি। আই উইল সেন্ড ইউ দ্য অর্ডার ইন কাউন্সিল টুমরো।’ কাগজটা নবকৃষ্ণর হাতে ধরিয়ে দিয়ে ফের তাস বাঁটতে ব্যস্ত হয়ে পড়লেন ক্লাইভ।
.
