॥ নয় ॥
শহরের রাস্তাগুলো এখনো জেগে ওঠেনি, ঘুম কাতুরে বেকার যুবকের মতো কাত হয়ে পড়ে আছে। এই রাস্তা ধরে গ্রাম, মফস্বল থেকে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ এখানে আসে শহরের ধাতব স্তন থেকে কিছুটা সমৃদ্ধি দোহন করার জন্য। জহির উল্টো পথ ধরে, নগরের ইট আর পাথরের মধ্যে হাঁসফাঁস লাগছে তার, সে নরম কিছু ছুঁতে চায়, তরল কিছু দেখতে চায় ৷ কাকটাকে জিজ্ঞাসা করে, কতদূর গেলে নদী পাওয়া যাবে ভ্রমর?
এইটা বাংলাদেশ স্যার, এইখানে দুই পা ফেললেই কোনো না কোনো নদী পাওয়া যায়।
নদী পাওয়া গেল সহজেই, কিন্তু নদীর পাড়ে নরম মাটি নেই। সিমেন্টের শক্ত প্রলেপ লেপ্টে দুই পাড় ঢেকে ফেলা হয়েছে, সর্বত্র পলিথিন আর আবর্জনার কর্তৃত্ব। সবুজ ঘাসের খোঁজে জহির হাঁটতে থাকে পাড় ধরে। সারাদিন হাঁটার পর যখন নগরের সব কয়টা চিহ্ন চোখের আড়াল হয়ে গেল, জহির তখন পায়ের নিচে নরম কচি ঘাসের স্পর্শ পায়। সূর্য তখন পশ্চিম আকাশে, কোমল রোদ তাকে জড়িয়ে ধরেছে বাবার উষ্ণ চাদরের মতো। জহির শুয়ে পড়ে, সারা গায়ে নরম ঘাস আর রোদের আদর মাখে। আহা! আগে যদি জানতো, কয়েক ঘণ্টা হাটলেই শৈশব পাওয়া যায়।
কাকটার আরেকটা পালকে সবুজ রঙ ধরেছে, রোদের আলোয় চকচক করছে পালকটা।
ভ্রমর, তুমি সবুজ হয়ে যাচ্ছো কেনো?
জানি না স্যার, দেখতে খারাপ লাগছে?
না, ভালো লাগছে। তুমি কথাও বলছো সুন্দর করে।
সব আপনার জন্যই স্যার।
আমার এইখানে ঘুমাতে ইচ্ছা করছে।
কিন্তু ঘুম তো আপনার হবে না স্যার, ওরা এসে হাজির হবে।
জহির শুয়ে তার মাথাটা কাটার দিকে কাত করে বললো, তোমার গিয়াস উদ্দিনের কথা মনে আছে?
আছে স্যার, তার ছেলেটা অসুস্থ ছিলো।
ছেলেটা এখন কেমন আছে?
জানি না, স্যার।
আমার খুব জানতে ইচ্ছা করছে।
চলেন স্যার, গিয়াস উদ্দিনের ঠিকানা আমরা জানি।
কচি ঘাসের বিছানায় শুয়ে জহির চোখ বন্ধ করলো। ভুলে যাওয়া শৈশবে আর একটু শুয়ে থাকতে চায় সে।
গিয়াস উদ্দিন একজন সাধারণ চাকরিজীবী, ইন করে শার্ট পরলে অন্য অনেক চাকুরেদের সাথে তার কোনো পার্থক্য করা যায় না। পৃথিবীর এই বিশাল মৌচাকে সে একজন কর্মী মৌমাছি, তার কাজ শুধু মধু সংগ্রহ করা। সারা বছর তার পকেটে থাকে টানাটানি আর মাথায় ঘুরে হিসাব। একটা টিনশেড ঘর আর আট বছরের একটা ছেলে ছাড়া আর কোনো সম্পদ নেই তার। বন্ধুদের সাথে আড্ডা দেয়ার সময় তার হয় না, নেশা করার সামর্থ্যও নেই, তাই সে আপাদমস্তক সংসারী মানুষ। রাতের বেলা বউয়ের চেয়ে বিছানাটাই তাকে আকর্ষণ করে বেশি, বউয়ের অভিযোগ পুরোটা শোনার আগেই ক্লান্ত দেহে তার ঘুম নেমে আসে। কলহ অথবা ভালোবাসা সব ছুটির দিনের জন্য তুলে রাখে তারা।
তবুও গিয়াস উদ্দিনের মনে সুখ ছিল। মাসের প্রথম দিকে বাজারে গিয়ে বোয়াল মাছের চোখে চোখ রাখার সাহস সে করতে পারে। বউয়ের অভিমানের ঠোঁট মাঝে মাঝে লিপস্টিক মেখে লাজুক হয়। অফিসের কাগজপত্রের মাঝে বসে ছেলের রিপোর্ট কার্ডে চোখ বুলিয়ে গর্ব হয় তার। স্বপ্নও দেখে, একটা প্রমোশন পেলেই, বিয়োগ অঙ্ক বাদ দিয়ে যোগ অঙ্ক শুরু করবে। ঘরের চালে ঝুলে থাকা সবজির মতো সঞ্চয় তার পুরুষ্ট হবে একদিন
মধ্যবিত্ত নিরীহ ভদ্রমানুষ স্বপ্ন দেখার দুঃসাহস করবে আর ভাগ্য চুপচাপ দেখবে, তা তো আর হতে পারে না। গিয়াস উদ্দিনের ওপর দুর্ভাগ্য আঘাতটাও করলো প্রচণ্ড, তার সবচেয়ে বড়ো সম্পদটাকে কেড়ে নেয়ার ষড়যন্ত্র হলো। তার চটপটে ছেলে শাসন ছাড়াই হঠাৎ শান্ত হয়ে গেল। বিছানায় শুয়ে সে টেনে টেনে শ্বাস নেয়। সব মধ্যবিত্তের মতো চিকিৎসার জন্য প্রথমেই সে গেল মোড়ের ওষুধের দোকানে। বিবিধ ওষুধ গেলানোর পরও ছেলে তার সুস্থ হলো না। পাশের বাড়ির চাচি রোগের কারণ নির্ণয় করে দিলেন, খারাপ বাতাস। মাসের শেষদিক এবং জ্বীন তাড়ানোর খরচ কম হওয়ায় গিয়াস উদ্দিন ফকির, কবিরাজের দরবারে ঘুরতে লাগলো। পানিপড়া, চালপড়া, তাবিজ, মাদুলির মতো সাশ্রয়ী চিকিৎসা ছেলেকে তার দুই পায়ে দাঁড় করাতে পারলো না। গিয়াস উদ্দিনের মনের শঙ্কা, তার বউয়ের চোখের জল আর কিছু ঋণ তাকে নিয়ে গেল বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের চেম্বারে। ডাক্তারের চেম্বার থেকে ভাঙা বুক নিয়ে বের হয়ে আসলো স্বামী স্ত্রী। ছেলে নিশ্চিন্তে গিয়াস উদ্দিনের ঘাড়ে মাথা ফেলে রেখেছে। সে রাতে ছেলেকে ঘুম পাড়িয়ে তারা দুজনে এই প্রথম একসাথে কাঁদলো, দুজন অসহায় মানুষ ভেবে পায় না, কী এমন পাপ তারা করেছে যার শাস্তি এত প্রকাণ্ড। পৃথিবীতে এত মানুষ থাকতে কেন তাদের ছেলেরই দুটি কিডনি বিকল হয়ে গেল? রক্তের মিল না পাওয়ায় স্বামী স্ত্রী দুজনের চারটি কিডনির একটিও কাজে আসছে না। চারটি সক্ষম কিডনি বহন করে তারা অপরাধবোধে ভুগতে থাকে ৷
এই নিষ্ঠুর জগতে টিকে থাকার জন্য গিয়াস উদ্দিনের মতো ভালোমানুষেরা প্রতিদিন সংগ্রাম করে। লড়াই সে ছাড়বে না, ছেলের জন্য সবচেয়ে কঠিন যুদ্ধটাই সে করবে। নিজের অসহায়ত্ব, দুর্বলতা সারাজীবন তারা আত্মসম্মান দিয়ে ঢেকে রেখেছিলো, আজ সেই আত্মসম্মানের পর্দাটা সরিয়ে ফেললো।
চোখের জল আর গোপন করলো না, কুণ্ঠিত হাতে কোনো গর্ব রইলো না। মানুষের সাহায্য চেয়ে চেয়ে নিলো, সেই অর্থ যথেষ্ট না হওয়াতে বাবার সারাজীবনের পরিশ্রম, বাড়িটাও বিক্রি করে দিলো। কিন্তু হায়! অর্থ জোগাড় হলেও একটা কিডনি পাওয়া গেল না। সারা দুনিয়ায় তার ছেলেকে নিজের একটা অতিরিক্ত অঙ্গ দান করার মানুষ নেই? দানটা নাহয় কিনেই নিবে গিয়াস উদ্দিন। টাকা যেভাবে হাত পেতে চাওয়া যায়, মানুষের একটা অঙ্গ কি সেভাবে চাওয়া যায়?
হাসপাতালের সামনে জহির অসুস্থ বাচ্চা সহ দুজন মানুষের বিষণ্ণ চেহারা দেখে খুশি হয়েছিলো সেদিন। বিশেষায়িত এই হাসপাতালে প্রায় সবাই অক্ষম কিডনি নিয়েই আসে। সন্তানের জন্য যারা প্রাণ দিতে পারে, একটা কিডনি তারা তাকে দিতে পারছে না, এই অসহায়ত্ব কোনোমতেই লুকিয়ে রাখতে পারছে না তারা। জহির গেইটের বাহিরে ওঁত পেতে তাদের গতিবিধি লক্ষ করছে, দুর্বল মানুষের চেয়ে উত্তম শিকার আর হয় না।
চেহারায় মমতার প্রলেপ মেখে জহির তাদের দিকে এগিয়ে গেল।
ভাই সাহেব কিছু মনে করবেন না, একটু কথা বলতাম।
দুজনে থমকে দাঁড়ায়। জহির বলে, রোগী কে, এই বাচ্চাটা? আহারে! কী সুন্দর ছেলে আপনাদের। ডাক্তার কী বলেছে?
স্বামী স্ত্রী কথা বলতে পারে না, তাদের ভেজা চোখ সব জবাব দিয়ে দেয়। জহির গিয়াস উদ্দিনের বউয়ের হাত থেকে রোগীর ফাইলপত্র চেয়ে নেয়। তারপর খুব মনোযোগ দিয়ে প্রেসক্রিপশন আর রিপোর্ট উল্টাতে থাকে, মাঝে মাঝে বিজ্ঞের মতো মাথাটা তার দুলে ওঠে। তাকে দেখে মনে হচ্ছে, এইসব দুঃসংবাদে ভরা রিপোর্টে সে কী যেন একটা সুখবর বের করে ফেলছে। অসুস্থ সন্তানের মরিয়া পিতামাতা জহিরের চেহারায় আশার আলোর সন্ধান করতে থাকে। রিপোর্টের ফাইল বন্ধ করে সে দেখে দুজন মানুষের চার জোড়া চোখ উৎকণ্ঠা নিয়ে তার দিকে তাকিয়ে আছে। মনে মনে খুশি হয় জহির, এরা টোপ গেলার জন্য হাঁ করে আছে।
আরে বাহ, আপনাদের ভাগ্য ভালো, সব ম্যাচ করেছে।
দুজনের চোখেমুখে বিহ্বলতা, তারা কিছু বুঝতে পারছে না। জহির এগিয়ে তাদের কাছে গেল যেন কোনো গোপন কথা বলবে।
চিন্তা করবেন না, আমার কাছে একজন ডোনার আছে।
ডোনার আছে? মুহূর্তেই স্বামী স্ত্রীর মুখ উজ্জ্বল হয়ে গেল। গিয়াস উদ্দিন ছেলেকে বুকে চেপে ধরলো আরো শক্ত করে। তার চোখের জলে ছেলের পিঠ ভিজে যাচ্ছে, কান্নাকে আর দমন করছে না সে। আজ কাঁদতে কোনো বাধা নেই।
গিয়াস উদ্দিনের বসার ঘরে চায়ে চুমুক দিয়ে জহির জানালো, ডোনার সে নিজেই। গিয়াসের বউ জহিরের খোঁড়া পায়ের দিকে ইঙ্গিত করে স্বামীকে চোখ দিয়ে কিছু একটা বললো। গিয়াস উদ্দিনও চোখ দিয়ে বউকে আশ্বস্ত করলো, পা পঙ্গু হলে কিডনিও যে পঙ্গু হবে এমন কোনো কথা নেই ৷ সন্দেহের বাতাসে আশার একমাত্র প্রদীপটাকে সে কোনোমতেই নিভতে দিবে না ৷
জহির জানালো, তারা বাবা ঋণগ্রস্ত, একমাত্র ভিটেটা পর্যন্ত বাঁধা পড়ে আছে। তার পুরো পরিবার গৃহহীন হওয়ার আশঙ্কায় দিন পার করছে। একটা অতিরিক্ত কিডনির বিনিময়ে মাথার ওপর ছাদটা টিকিয়ে রাখতে চায় সে। তার চুক্তি হয়েছিলো কোনো এক ধনাঢ্য বৃদ্ধের সাথে, কিন্তু গত সপ্তাহে সেই বৃদ্ধ স্ট্রোক করে মারা গেছে। স্বামী স্ত্রী শিউরে ওঠে, ভাগ্যিস বুড়ো লোকটা মরেছিলো, নয়তো কোথায় পেতো একজন ডোনার তারা? চোখ বন্ধ করে ভাগ্যবিধাতাকে কৃতজ্ঞতা জানায়।
জহিরের আনাগোনা বাড়তে থাকে গিয়াস উদ্দিনের বাড়িতে। আত্মীয় ছাড়া অঙ্গ দান করা বেআইনি, তাই নিয়মিত নিমন্ত্রণে পরিবারের অংশ হতে শুরু করে সে। কিছু অন্তরঙ্গ পারিবারিক ছবি উৎপাদনের জন্য ছেলের মিথ্যা জন্মদিন আয়োজন করে গিয়াস। অল্প একটু অভিনয়ে সবাই ক্লান্ত হয়ে পড়ে, হাসতে যে এত কষ্ট হয় আগে কে জানতো!
জহির ঘুরে ঘুরে গিয়াসের বাড়ি দেখে। বাড়ির সামনে একটা ধবধবে উঠান, যেন গ্রাম থেকে তুলে আনা হয়েছে। বাড়ির চারপাশে নারকেল আর সুপারির গাছ লম্বা হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। বাড়ির চারপাশে ইটের প্রাচীর নেই. সুপারি গাছের খোল, নারকেল গাছের পাতা মিলেমিশে বাড়ির আক্র রক্ষা করছে। উঠানের এক কোনে শিমের মাচা আছে, শিম ধরার আগেই হয়তো তাদের এই বাড়ি ছেড়ে দিতে হবে। বাড়ি বিক্রি করতে একটুও দ্বিধা করেনি গিয়াস। কিন্তু এখনো মাঝে মাঝে গভীর রাতে উঠানে এসে দাঁড়ায় সে, উঁচু গাছগুলোকে ছুঁয়ে দেখে, উঠানের ধুলো হাতে মাখে, ঠিক যেমন শৈশবে মাখতো। বাড়ির পেছনে কামিনীর ঝাড়, তার নিচে দুটো উঁচু ঢিবি। বাপ মায়ের কবর, তার বাবা বলেছিলো, অনেক ত্যাগ আর ঘামের বিনিময়ে এই বাড়ি তিনি বানিয়েছেন, এই বাড়ি থেকে দূরে তিনি থাকতে পারবেন না। এইটুকু জায়গা সে বিক্রি করতে পারেনি। মায়ার জন্য না, কবর কেউ কিনতে চায়নি তাই।
কাগজপত্র গোছানোর আগে জহিরের বাড়ি যাওয়ার প্রয়োজন হয়ে যায়। ভিটা বাড়ি রক্ষার জন্য কিছু টাকা তার এখনি লাগবে। বাড়ি বিক্রি করার পর গিয়াসের মনে হয়েছে, সে তার বাপ-মাকে বিক্রি করে দিয়েছে। ভিটার প্রতি আরেকজনের মমতাকে সে তাই অগ্রাহ্য করতে পারে না, বেশ কিছু টাকা এনে জহিরের সামনে রাখে। এত টাকা পকেটে ধরে না জহিরের। গিয়াস উদ্দিন যে কাগজের ঠোঙ্গায় ছেলের জন্য ওষুধ আনে, সেই ঠোঙ্গাতে ভরে টাকা নিয়ে বেরিয়ে যায় সে।
দুজন অসহায় মানুষকে ঠকিয়ে সেদিন কি তার গর্ব হয়েছিলো? শুয়ে শুয়ে মনে করার চেষ্টা করে জহির। একবারও কি গিয়াস উদ্দিনের ছেলের ক্লিষ্ট মুখটা তার মনে পড়েনি? জহির উঠে বসে, চোখ দুটোতে ভীষণ জ্বালা করছে তার। চোখের কোনে যে অশ্রু এতক্ষণ জমা হয়েছিলো, অভিকর্ষের টানে তা গাল বেয়ে নেমে পড়ে।
আমি খুবই খারাপ মানুষ, ভ্রমর।
খারাপ মানুষরা কখনো এই কথা বলতে পারে না স্যার।
পুরো একদিনের হাঁটা তাদের নিয়ে আসলো গিয়াস উদ্দিনের বাড়ির সামনে। বাড়ির সব আক্র খুলে ফেলা হয়েছে, সুপারি আর নারকেল গাছের কয়েকটা খণ্ডিত লাশ মাটিতে পড়ে আছে। গিয়াস উদ্দিনের বাবার ঘামে তৈরি করা ঘরটির কোনো অস্তিত্ব নেই। খাবলা খাবলা মাটির স্তূপের মাঝে নতুন ইটের শৃঙ্খলাবদ্ধ লাল সারি দেখা যাচ্ছে। শক্ত কালো দেহ নিয়ে জড়াজড়ি করে মাটিতে শুয়ে আছে অনেকগুলো লোহার রড। ফলবতী হওয়ার আগেই পানি আর যত্নের অভাবে শিমের মাচাটার গর্ভপাত হয়ে গেছে। মরা শিম গাছের শুকনো দেহটা এখনো জড়িয়ে ধরে শোক করছে মাচাটা। এইসব ধ্বংসযজ্ঞ পেরিয়ে বাড়ির পেছনের কামিনী গাছটা নজরে আসলো জহিরের, ধুলো মেখে মলিন হয়েছে গাছটা। গাছের নিচে একটা নতুন ঢিবি, দৈর্ঘ্যে কিছুটা ছোটো।
গিয়াস উদ্দিনের চোখের সামনে দাঁড়ানোর সাহস জহিরের ছিল না, তবুও সে এসেছে দায় মেটাতে। তার দেহের একটা অঙ্গের ওপর এই ছোটো ছেলেটার অধিকার ছিল, প্রাপ্য বুঝিয়ে দিতে চেয়েছিলো সে। কিন্তু দায়মুক্তির কোনো উপায় আর রইলো না, এখন এই ঋণ তাকে বয়ে বেড়াতে হবে আমৃত্যু, দেহের ভার বইতে না পেরে মাটিতে বসে পড়লো জহির।
আমার এমন লাগছে কেনো ভ্রমর? মনে হচ্ছে নিঃশ্বাসটা কোথায় যেন আটকে আছে, হৃদপিণ্ডটা খামচে ধরেছে কেউ, শরীরটা যেন পাথরের চেয়ে ভারী হয়ে গেছে, আমার কী হচ্ছে?
আপনার অনুশোচনা হচ্ছে স্যার।
আমার বেঁচে থাকতে ইচ্ছা করছে না, নিঃশ্বাস নিতে খুব কষ্ট হচ্ছে।
না স্যার, এখনি মরা চলবে না। অনুশোচনা আরো বাকি আছে আমাদের।
ডানা ঝাপটে কাকটা ছোটো কবরটার উপর গিয়ে বসলো, আরো কয়েকটা পালক সবুজ হয়ে গেছে তার। রোদে চকচক করছে পালকগুলো।
