উন্মাদ আশ্রম – ৭

॥ সাত ॥

কোনো দেয়াল তাকে আটকে রাখেনি, কোনো তালা তার পথ রুদ্ধ করেনি, প্রতিজ্ঞার কোনো দায় তাকে চেপে ধরেনি, রাঙা চোখের শাসনও নেই তবুও জহির এই বাড়ি থেকে বের হতে পারছে না। একটা রহস্য তাকে বাহিরে ঠেলে দিচ্ছে কিন্তু আরেকটা রহস্য তাকে টেনে ধরছে।

সত্য আবিষ্কারের জন্য এই বাড়ি থেকে জহিরের বের হওয়া প্রয়োজন। চোখ খোলা রাখলে এই বাড়ির মৃত চরিত্রেরা ঘুরে বেড়ায় চারপাশে, চোখ বন্ধ করলে হাজির হয় জীবিতেরা। চোখ খুলে সে যতটুকু দেখে চোখ বন্ধ করে দেখে তারচেয়ে বেশি। এখানে ঘুম হয় না তার। ভ্রমরকে সে মেনে নিয়েছে, বাকিদের মেনে নিতে পারছে না। জেলখানার কয়েদি হতে রাজি আছে জহির কিন্তু কোনোভাবেই পাগল সে হতে চায় না।

দরজা জানালাহীন এই বাড়িটা তাকে মায়ের গর্ভের মতো নিরাপত্তা দিয়েছে। এই বাড়ির একটামাত্র বন্ধ দরজা তাকে নাড়ি দিয়ে বেঁধে রেখেছে, খুবই অদ্ভুত এবং অজানা এই আকর্ষণ। আবার বাহিরে তার জন্য অপেক্ষা করছে পুলিশের নির্দয় লাঠি, আইনের দুর্বোধ্য ধাঁধা আর জেলখানার নিষ্ঠুর লোহা। জেল, পুলিশের সাথে জহিরের পরিচয় আছে, কোনোভাবেই এই পরিচয়কে সে গাঢ় করতে চায় না।

ভ্রমর তাকে আশ্বাস দেয়, কেউ তার আসল নাম জানে না, চেহারায় তার মনে রাখার মতো বিশেষ কিছু নেই, অদৃশ্য তরঙ্গ অনুসরণ করেও তাকে ধরতে পারবে না, যেহেতু যন্ত্রের সঙ্গ সে ত্যাগ করেছে। সাথে কাগজ বলতে কিছু নেই, না টাকা না পরিচয় পত্র। নিশ্চিন্তে পথ চলতে কোনো বাধা নেই। তাছাড়া অপরাধের এত ভালো ফলন হয় এই দেশে, ছোটোখাটো খুন ধর্ষণ আগাছার মতো ঢাকা পড়ে যায়।

নিজের শুকনো পায়ে হাত বুলিয়ে জহির ভাবে, সবচেয়ে বড়ো পরিচয়পত্র সে সাথে নিয়ে ঘুরছে। মাঝে মাঝে নিজের খোঁড়া পায়ের ওপর ভীষণ রাগ হয় তার।

গগণ বাবুর বাড়িতে সে সারাজীবন থাকতে পারবে না। বাহিরে নিজের জন্য একটা নতুন জীবন তাকে গড়তে হবে। বিপদ আর সংগ্রামে ভরা পৃথিবীতে নিজের জন্য একটু জায়গা বের করতে হবে। কাদেরের খুনের রহস্যটার সমাধান করাও প্রয়োজন, তবেই সে দায়মুক্তি নিয়ে নিশ্চিন্তে বাঁচতে পারবে।

, অবশেষে একদিন সন্ধ্যায় নিজের সাথে অসংখ্য বাদানুবাদের পর জহির গগণ লোধীর বাড়ির সীমানার বাহিরে তার পা রাখে। এক রাতে যেমন বিনা আড়ম্বরে এসেছিলো, তেমনি আবার কাউকে না জানিয়ে, বিদায়ের কোনো আনুষ্ঠানিকতা ছাড়াই বেরিয়ে গেল সে। পেছন ফিরে দেখলো, শুকনো ঘাস আর ভাঙ্গা ইট ছাড়া আর কিছু দেখা যাচ্ছে না। এই বাড়ি থেকে যত দূরে যাচ্ছে ততই বুকে তার ব্যথার মতো একটা অনুভূতি হচ্ছে, এটাই কি তাহলে মায়া? মনের মধ্যে ভয় নিয়ে সে একদিন এই বাড়িতে প্রবেশ করেছিলো, এখন বেদনা নিয়ে বের হয়ে আসলো ৷

নগরের রাস্তায় এখনো ব্যস্ত চাকা ঘোরে, উঁচু উঁচু দালান আকাশ ঢেকে রাখে, টাকা আর সময় বাঁচানোর জন্য নিজের প্রাণক্ষয় করে মানুষ। নগরের আনাচে কানাচে আলোর প্রাচুর্য, মানুষের বুক ছাড়া অন্ধকারের বসবাসের আর কোনো জায়গা নেই। নগরকে জহির যেমন দেখে গিয়েছিলো, নগর এখনও তেমনি রয়ে গেছে, তবুও জহিরের কাছে সবকিছু নতুন লাগছে। সেই আগের মানুষগুলোই তো আছে, আগের মতোই চিৎকার চেঁচামেচি করছে, একজন আরেকজনের সাথে অভিশাপ বিনিময় করছে, তুচ্ছ কারণে খুন করার হুমকি দিচ্ছে। ইচ্ছামতো কফ থুতু, কাগজ পলিথিন ফেলে রাস্তা নোংরা করে সেই রাস্তায় আবার নিজেরাই নাক কুঁচকে চলছে। দরিদ্রের চোখ ধাঁধানোর জন্য ধনীরা ঐশ্বর্যের প্রদর্শনী অব্যাহত রেখেছে, হিংসুটে গরিবেরা চায়ের কাপে অলস চুমুকু দিয়ে বড়োলোকের ঘরে পঙ্গু সন্তান কামনা করছে।

ধোঁয়া, গালি আর দীর্ঘশ্বাসে ভরা নগরের বাতাস। তবুও জহিরের ভালো লাগে, এত ধরনের মানুষ কাউকেই দূরের মনে হচ্ছে না। শুধু মানুষ হিসেবে দেখতে পারলে সব মানুষকেই আপন লাগে।

ভ্রমর মাঝে মাঝে উড়ে দালানের আড়ালে চলে যাচ্ছে, কিন্তু একেবারে হারিয়ে যাচ্ছে না। গগণ লোধীর বাড়ি থেকে বুকে মায়া ছাড়াও এই একটা সঙ্গী নিয়ে ফিরেছে সে। জহিরের কোনো গন্তব্য নেই, সে শুধু ভ্রমরকে অনুসরণ করে চলেছে। হাঁটতে হাঁটতে রাত বাড়তে থাকে। তারা শোরগোল পেরিয়ে শহরের এক প্রান্তে চলে আসে। একটা ছোটো টঙ দোকানের সামনে টুলে বসে মানুষজন তরল, ধোঁয়া আর ফোনে ডিজিটাল স্ক্রিনের ফাজলামো সেবন করছে। দূরে বসে একটা কুকুর নিজের ঘা চাটছে। শহুরে পরিচ্ছন্ন এবং স্বাস্থ্যবান কুকুরের ভাগ্যে মানুষের করুণা হয়তো জোটে, কিন্তু গায়ে ঘা হলে তাদের দিকে কেউ তাকাতেও চায় না।

এক কাপ চা খাবেন নাকি স্যার?

ভ্রমর প্ররোচনা দেয়। এতদিন এইসব নাগরিক অভ্যাসের চর্চা করার সুযোগ পায়নি জহির। টুলে বসে মানুষজনকে চা খেতে দেখেও তার তৃষ্ণা জাগে না, ভেসে আসা সিগারেটের ধোঁয়া রক্তে কোনো নাচন ওঠায় না। এতদিনের নেশা তার সাথে এভাবে বিশ্বাসঘাতকতা করবে, ভাবতে পারেনি জহির। কুকুরটার পাশে দাঁড়িয়ে ফুড়ুৎ ফুড়ুৎ শব্দে মানুষের চা খাওয়া দেখতেই তার ভালো লাগছে। কুকুরটাও চোখ উঠিয়ে মানুষের চা বিস্কুট খাওয়া দেখছে, কুঁই কুঁই শব্দে সে তার ব্যথা আর ক্ষুধার কথা জানায়। বিরক্ত হয়ে কেউ কেউ খালি প্লাস্টিকের বোতল ছুড়ে মারে, কুকুরটা তার আহত পা নিয়ে একটু সরে যায় কিন্তু এত প্রাচুর্য আর সম্ভাবনা থেকে বেশি দূরে যেতে পারে না। গ্রাহকরা বিরক্ত হলে দোকানদারও হাত নাড়িয়ে, গালি দিয়ে, পানি ছুড়ে কুকুরকে তাড়ায়। একটু পরেই দোকানে নতুন চরিত্র প্রবেশ করে, পরনে একটা ময়লা পাঞ্জাবি, মাথায় ততোধিক ময়লা টুপি, পিঠে একটু কুঁজ আছে, মুখের দাড়িতে ধুলোর রঙ। হাত পেতে এই লোকটিও তার ক্ষুধার কথা জানায়। ধৈর্য ধরে বেশ কিছুক্ষণ প্রতিজনের সামনে ডান হাতটি সে মেলে ধরে থাকে। এবারও বিরক্ত হয় কেউ কেউ, ‘কিন্তু বোতল ছুড়ে মারে না। প্রথমে না দেখার ভান করে, পরে অন্য কারো কাছে চাইতে পরামর্শ দেয়। পরামর্শের প্রয়োজন হতো না, বৃদ্ধ ভিক্ষুক সবার কাছেই ভিক্ষা চায়। কেউ কেউ পকেটের ভার কমানোর জন্য ধাতব পয়সা তুলে দেয় বৃদ্ধের হাতে। একজনের অরুচির সুবাদে আধখাওয়া এক প্যাকেট বিস্কুটও পায় লোকটা। সবার সামনে হাত পাতলেও জহিরকে এড়িয়ে গেলো বৃদ্ধ ভিক্ষুক। পঙ্গু মানুষের কাছে কি তারা ভিক্ষা চায় না?

বৃদ্ধ খোলা বিস্কুটের প্যাকেটটা নিয়ে আহত কুকুরটার পাশে গিয়ে বসলো। কুকুরটা স্বাভাবিক সতর্কতায় এক পা সরে সন্দেহ নিয়ে লোকটার দিকে তাকিয়ে রইলো। বৃদ্ধ এক কামড়ে একটা বিস্কুটের অর্ধেক খেয়ে বাকিটা কুকুরটার সামনে ছুড়ে ফেললো।

আমার পেটেও ভুখ, তোর পেটেও ভুখ। খা, তোর অর্ধেক, আমার অর্ধেক।

কুকুরটা পড়ে থাকা বিস্কুটটা মুখে নিতেই লেজটা তার নড়ে উঠলো। আরেকবার কুঁই কুঁই শব্দে তার ব্যথা আর কৃতজ্ঞতা জানালো। বৃদ্ধের যে হাত মানুষের কাছে ভিক্ষা চায়, সেই হাত কুকুরটার মাথায় আদর দান করতে লাগলো, কুকুরের লেজ নড়ে উঠলো তীব্র উচ্ছ্বাসে। অল্প কয়েকটা বিস্কুট দুটো প্রাণীর ক্ষুধা মেটাবার আগেই শেষ হয়ে গেল। জহির তখন অবাক হয়ে দেখলো, যে দোকানদার একটু আগে কুকুর তাড়াচ্ছিলো, সে এক কাপ চা আর একটা বিস্কুটের প্যাকেট নিয়ে এসে বৃদ্ধের হাতে দিলো।

নগরের রাস্তায় নেমে আসে জহির। মানুষকে সারাজীবন সে লোভী, ইতর আর বোকা বলেই জেনে এসেছে। আজ ভীষণ আফসোস হয় তার, মানুষের মধ্যে এত ভালোবাসা, সে আগে কেন দেখেনি?

ভ্রমর এখন আর উড়ছে না, জহিরের কাঁধে বসে আছে। জহির অবাক হয়ে লক্ষ করলো ভ্রমরের পাখার একটা কালো পালক সবুজ হয়ে জ্বলজ্বল করছে। এত সুন্দর লাগছে পালকটা! জহির হাত বুলিয়ে দেয় সবুজ পালকটাতে।

মানুষ দেখতে আমার ভালো লাগছে ভ্রমর ৷

উন্মাদ আশ্রম

মানুষ তো স্যার দেখার মতোই জিনিস, মানুষের চেয়ে ইন্টারেস্টিং আর কিছু নাই ৷

আমরা এখন কই যাই?

জুয়াড়িদের আড্ডায় ৷

কাদেরের সঙ্গী আর সম্ভাব্য শত্রু শনাক্ত করার জন্য তারা নগরের অন্য প্রান্তে চলে আসলো। রাত বেড়ে যাওয়ায় বড়ো রাস্তায় পুলিশের নীল গাড়িগুলো চোখ পাকিয়ে টহল দিচ্ছে। জহিরের মধ্যে জেগে ওঠা নতুন আবেগগুলোও তার মন থেকে পুলিশের পুরনো ভয় মুছে দিতে পারেনি, এতই প্রকট এবং স্থায়ী সেই ভয়। ভ্রমরকে অনুসরণ করে জহির রাস্তা থেকে গলিতে ঢুকে পড়লো। এই অঞ্চলের বাড়িগুলো রঙচঙ মেখে শহুরে হওয়ার আপ্রাণ চেষ্টা করছে। কিন্তু খসে পড়া পলেস্তরা, মরচে পড়া গেইট আর জানালার ভাঙ্গা কাঁচের ক্ষত সারাবার জন্য নিউজ পেপারের প্রলেপ বাড়িগুলোর সব ছলনা ব্যর্থ করে দিচ্ছে। শহরের এই অপভ্রংশে আকাশ পুরোটা ঢাকা পড়েনি এখনো। এখানে কান পাতলে এখনো বাচ্চার কান্না, বউয়ের হাসি, রোগীর অভিযোগ, দাম্পত্য কলহ, টেলিভিশনের উচ্চকণ্ঠ ইত্যাদি শোনা যায়। সংসার এখানে প্রায়ই বাড়ির দেয়াল উপচে গলিতে এসে পড়ে। এখানে মানুষেরা রাতকে এখনো অসম্মান করতে শিখেনি। অধিকাংশ বাড়ি বাতি নিভিয়ে নিঝুম হয়ে গেছে। শুধু যুবকেরা রাস্তায়, বারান্দায় কানে ফোন লাগিয়ে যুবতীদের মন গলানোর চেষ্টা করছে, শহরের কোনো অংশই এদের ঘুম পাড়াতে পারে না।

সরু গলি ধরে চলছে জহির, সরু গলি থেকে বের হয়েছে উপগলি। মনে হচ্ছে একটা শিশু জন্ম দিয়েছে আরেকটা শিশুকে। গলির বংশ পরিচয় উদঘাটন করতে করতে জহির এসে পৌঁছায় বড়ো বাজারের পেছনে মৎস্যজীবী সমিতির দুর্দশাগ্রস্ত দালানটার সামনে। নিচতলায় যথারীতি কীট পতঙ্গ, ধুলো আর অন্ধকারের বাস। রাত যেহেতু হয়েছে, দোতলায় এখন স্বপ্নের বেচাকিনি শুরু হওয়ার কথা। কিন্তু দোতলাতেও কোনো আলো কিংবা কোলাহল নেই, পুরো বাড়িটা গোরস্থানের মতো নীরব। তালায় আবদ্ধ কলাপ্সিবল গেইটের সামনে একটু ফাঁকা জায়গা আছে, সেখানেই বসে পড়লো জহির। ভ্রমর এসে বসেছে তার পাশে।

স্যার ব্যাপার তো বুঝতেছি না, সব তো বন্ধ।

জহির কিছু ভাবতে পারছে না, চুপচাপ বসে রইলো, এখানেই অপেক্ষা করবে সে। হয়তো জুয়াড়িদের আসর বসার মতো যথেষ্ট রাত এখনো হয়নি। দেয়ালে হেলান দিয়ে চোখ বন্ধ করলো সে। ক্লান্ত দেহে ঝিমুনি আসতে বেশি দেরি হলো না। ঝিমুনিটা গাঢ় হতেই তাকে ঘিরে ধরলো অনেকগুলো মুখ, তারা চুপচাপ তাকিয়ে আছে জহিরের দিকে, কোনো অভিব্যাক্তি নেই সেসব চেহারায়, কিন্তু চোখে তাদের বিস্তর অভিযোগ আর অভিশাপ। জহির বেশিক্ষণ সইতে পারে না এই দৃষ্টির অত্যাচার, ঘুম ভেঙ্গে জেগে ওঠে বারবার। পৃথিবীতে কত মানুষই তো কত মানুষকে ঠকায়, তারা কি ঘুমায় না? চোখ খুলেই ভ্রমরকে দেখতে পায় জহির।

স্যার রাত শেষ হতে বেশি বাকি নাই, কেউ তো আসলো না, আজকে মনে হয় জুয়াড়িদের অফ ডে

আকাশ ফর্সা হতে শুরু করেছে, একটাও তারা নেই সারা আকাশে। কয়েকটা কুকুর সারারাত পাহারা দিয়ে এখন রাস্তার দখল ছেড়ে গেইটের পাশে এসে ঘুমাচ্ছে। জহির উঠে দাঁড়ালো, গেইটের তালাটা উল্টেপাল্টে দেখলো কিছুক্ষণ।

এই তালা বহুদিন খোলা হয় নাই, ধুলা জমে আছে। ওদের আড্ডা বোধ হয় এখন অন্য কোথাও বসে।

মোফাজ্জল মিয়ারে পাইলে কিছু জানা যাইতো।

জহির মাথা নাড়ে। মোফাজ্জল মিয়ার প্রয়োজন ওদের শেষ, তাদের দয়ার পরিমাণ যদি কোটি টাকার ক্ষতির চেয়ে বেশি না হয়, তাহলে মোফাজ্জল মিয়ার বেঁচে থাকার সম্ভাবনা কম।

কাকের কোলাহলে বাজারে ভোর হয়, এখানে অন্য পাখিদের ডাক খুব একটা শোনা যায় না। কাকেদের সাথে দুই একজন দোকানিও আসতে শুরু

করেছে। জহির আর ভ্রমর মৎস্যজীবী সমিতির পরিত্যক্ত ভবনের সামনের জায়গাটা কুকুরদের জন্য ছেড়ে দিয়ে আবার রাস্তায় নেমে আসে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *