৭. গিগোলো

৭. গিগোলো

এতক্ষণ যে পুরুষ যৌনকর্মীদের কথা বলা হল তাদের খদ্দের পুরুষ, নারী নয়। এবার এক ভিন্ন যৌনকর্মীদের কথায় আসবো, যারা সমকামী বা রূপান্তরকামী নয়। এরা বিষমকামী। এবং এদের খদ্দের সবসময়েই নারী। এরাই ‘গিগোলো’ নামে পরিচিত। মধ্যযুগীয় ফরাসি শব্দ giguer’ (আনন্দ করা) থেকে এসেছে ‘gigolette’ (নারী যৌনকর্মী)। এই শব্দ থেকেই বর্তমান ‘gigolo’ শব্দের উদ্ভব। সুতরাং ‘gigolo’ একটি ফরাসি শব্দ। Webster’s Encyclopedic unabridged Dictionary-তে ‘গিগোলো’ সম্পর্কে বলা হয়েছে—‘a man living off the earnings or gifts of a woman especially a young man supported by an older woman in return for his sexual attentions and companionship,’

যৌনব্যবসার জগতে ‘গিগোলো’ এখন বেশ পরিচিত শব্দ। পশ্চিমের উন্নত দেশগুলিতে গিগোলোদের দেখা পাওয়া গেলেও, আমাদের দেশে এদের ব্যবসা চলে খুব গোপনে। সাধারণের এই ব্যাপারে কোন ধারণা নেই। আমাদের দেশে ম্যাসেজ পার্লারের আড়ালে দিল্লিতেই এই ব্যবসার প্রথম সূচনা। দক্ষিণ দিল্লিতে কাছে খদ্দের হিসাবে। পুরুষ-সঙ্গে সে পরিতৃপ্ত হয়। এইভাবে পার্লারগুলি এক ধরনের বিশেষ গণিকালয় হিসাবে পরিচিত হয়ে উঠছে। এছাড়া দালাল মারফত কোন নারী ‘গিগোলো’কে নিয়ে আসে তার বাড়িতে। সম্প্রতি যৌন পর্যটনের হাত ধরে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াতে গিগোলো ব্যবসা জমে উঠেছে।

গিগোলোরা যৌনকর্মী হলেও সমকামী পুরুষ যৌনকর্মী ও নারী যৌনকর্মীদের সঙ্গে এদের অনেক পার্থক্য। শারীরবৃত্তীয় কারণে একজন গিগোলার পক্ষে পর পর একাধিক নারীর সঙ্গে মিলিত হওয়া সম্ভব নয়। কিন্তু একজন নারী যৌনকর্মী বা সমকামী পুরুষ যৌনকর্মীর পক্ষে সারাদিন অসংখ্য পুরুষ খদ্দেরের সঙ্গে সঙ্গমে লিপ্ত হওয়া সম্ভব। আসলে যৌনমিলনের সময় একজন নারী সম্পূর্ণ নিষ্ক্রিয় থেকেও পুরুষকে আনন্দ দিতে পারে। সঙ্গমের সময় সে অতি কামুকতার অভিনয় করতে পারে। নিজের ইচ্ছার বিরুদ্ধে পুরুষের হাতে সে তার দেহকে তুলে দিতে পারে। এতে সক্ষম ব্যাহত হয় না। কিন্তু পুরুষের পক্ষে শুধুমাত্র অভিনয় করে বেরিয়ে খাওয়াটা সম্ভব নয়। প্রবল মানসিক ইচ্ছা না থাকলে পুরুষের লিঙ্গ উত্থিত হয় না। আর একবার বীর্যস্খলন হলেই ঠিক তারপর পর সেই পুরুষের পক্ষে যৌনসঙ্গমে লিপ্ত হওয়া সম্ভব নয়। কারণ লিঙ্গ শিথিল হয়ে আসে এবং তা যোনি অভ্যন্তরে প্রবেশ করে না। পুনরায় লিঙ্গোত্থানে সময় লাগে। লিঙ্গোত্থান একটি বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়া। গোনাডোট্রপিক হরমোন (Gonadotropic Hormone/GTH)-এর প্রভাবে মস্তিষ্কের কামকেন্দ্র থেকে যৌন উদ্দীপনা সুষুম্না কাণ্ড (Spinal cord) বেয়ে নীচে নেমে আসে। এবং সেখান থেকে নির্দিষ্ট নার্ভটি উদ্দীপিত হয়ে শিশ্নে পৌঁছায়। এরপর শিশ্ন দৃঢ় ও উত্থিত হয়। এই সমগ্র প্রক্রিয়াটি হয় অত্যন্ত দ্রুত। তাই দেখা যাচ্ছে, লিঙ্গোত্থান একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দিক, যা না হলে সঙ্গমক্রিয়া সার্থক হয় না।

দ্রুত বীর্যস্খলনে পুরুষের চরম যৌন পরিতৃপ্তি (orgasm) হয়। ফলে যৌনক্রীড়ায় তার ব্যস্ততা অনেক বেশি। অন্যদিকে নারীর যৌন আবেগ, অনুভূতি ও উত্তেজনা পুরুষের মতো দ্রুত আসেও না, আবার দ্রুত চলেও যায় না। এই কারণে গিগোলো-ব্যবসায় প্রাক-সঙ্গম পর্যায়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গিগোলোর কাছে খদ্দের হিসেবে আসা কোন নারী দীর্ঘক্ষণ তার সঙ্গে কাটাতে চায়। এখানে খদ্দেরের ব্যস্ততা নেই, যা দেখা যায় সাধারণ গণিকালয়ে। খদ্দেরের নির্দেশ অনুযায়ী গিগোলোকে চলতে হয়। গিগোলোর সাহচর্যে খদ্দেরের মধ্যে কামোত্তেজনা জাগে। এবং ধীরে ধীরে একসময় সে যৌনসুখের চরম পর্যায়ে পৌঁছায়।

সমাজবিজ্ঞানীদের বিভিন্ন সমীক্ষা থেকে জানা যায়, বিধবা স্বামী পরিত্যক্তা নারীরাই গিগোলোদের কাছে আসে। আবার দেখা যায়, বহু নারীই দীর্ঘবিবাহিত জীবনেও চরম যৌনসুখ (orgasm) উপভোগ করতে পারে না। পুরুষের যৌন লালসা মেটানোর যন্ত্রে পরিণত হয়। দীর্ঘ অতৃপ্তিই এদের মধ্যে গিগোলোদের কাছে যাওয়ার মানসিকতা গড়ে তোলে।

বিভিন্ন উপজাতির নারীদের মধ্যে পরপুরুষের সঙ্গে কামজ সম্পর্ক গড়ে তোলার কিছু দৃষ্টান্তের সন্ধান পাওয়া যায়। যদিও সেখানে ব্যবসার সম্বন্ধ নেই। ধর্মীয় অনুশাসনের অনুষঙ্গ হিসাবেই এর প্রচলন। আফ্রিকার ঘানার ‘আসান্তি’ জনগোষ্ঠীর মধ্যে বিধবাদের পরিশুদ্ধ ও স্বামীর প্রেতাত্মার হাত থেকে মুক্ত করার জন্যে পরিচিত পুরুষের সঙ্গে সহবাসে বাধ্য করানো হত। ‘কিকুউ’ সম্প্রদায়ের বালকদের অল্পবয়সে সুন্নৎ করা হত। এবং বিশেষ-বিশেষ সময়ে এদের বিবাহিতা নারীর সঙ্গে সঙ্গমে লিপ্ত হতে হত। ভারতে ‘লেপচা’ উপজাতির কোন মহিলার সন্তান জন্মের ৩ থেকে ২১ দিনের মধ্যে অপরিচিত পুরুষের সঙ্গে যৌনসম্পর্ক স্থাপন করতে হত। তাই দেখা যাচ্ছে নগরায়ণের মধ্যে দিয়ে এই ব্যবসার প্রসার ঘটলেও বহু যুগ আগেই ভিন্ন রূপে ও ভিন্ন ভাবে এর প্রকাশ ঘটেছিল। এর আরও একটি দৃষ্টান্তের কথা উল্লেখ করা যেতে পারে। প্রাচীন মিশরের অভিজাত পরিবারের নারীরা একসময় দরিদ্র-অনাথ পুরুষ শিশুদের সংগ্রহ করতো। এবং এদের দিয়ে নানাভাবে তারা তাদের যৌনক্ষুধা মেটাতো। নিজের অজান্তেই এইসব পথশিশুরাই এক সময় গিগোলোতে রূপান্তরিত হয়। সামগ্রিক আর্থ-সামাজিক অবস্থার পরিবর্তনের সঙ্গে গিগোলোদের চরিত্র বদলাতে থাকে। কিশোর ও যুবকরাও এই কাজের সঙ্গে যুক্ত হয়। রোজগার ও ফুর্তির এ হল এক নতুন উপায়।

সপ্তদশ ও অষ্টাদশ শতাব্দীতে ইয়োরোপের বিভিন্ন দেশের গণিকালয়ের নারী যৌনকর্মীদের পাশাপাশি গিগোলোদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। অভিজাত সম্ভ্রান্ত মহিলারাই ছিল এদের খদ্দের। গিগোলোদের নিয়ে ব্যবসা চালানো ছিল খুবই কঠিন গিগোলোদের কাছে সম্ভ্রান্ত মহিলারা আসতে পারে সে ব্যাপারে গণিকালয়ের মালকিন বা মাসির (Madam) সজাগ দৃষ্টি থাকতো। গিগোলো পুষতে মালকিনের খরচ হত একটু বেশি। তাই তাদের ‘রেট’ ছিল অনেক। ১৭০০ সালে লন্ডন শহরে প্রথম এই জাতীয় গণিকালয় গড়ে ওঠে। এর মালিক ছিলেন শ্রীমতী হেজ (Mrs Hayes)। এরপর কার্জন স্ট্রিটে শ্রীমতী ব্যাঙ্কস (Mrs Banks) ও বোল্টন স্ট্রিটে শ্রীমতী রেডসন (Mrs.Redson) এই ধরণের গণিকালয় গড়ে তুলেছিলেন। (Roberts : 1993)`

স্বাস্থ্যবান সুপুরুষ অথচ দরিদ্র এমন কিশোর যুবকরাই সাধারণত গিগোলোর ব্যাবসায় নামে। এরা ‘Free Lance Romeo’ হিসাবেও পরিচিত হয়ে ওঠে। গিগোলোরা সব সময়ে তাদের খদ্দেরের তুলনায় বয়সে ছোট হয়। এদের ওপর পুলিশী ঝামেলা কম। প্রথমে দিল্লিতে শুরু হলেও বর্তমানে ভারতের প্রায় সমস্ত বড় শহরে এদের ব্যবসা চলে। তবে সাধারণ গণিকালয়ে এদের দেখা মিলবে না। বিভিন্ন ধরণের হোটেল, বার, হেলথ ক্লাব, ম্যাসেজ পার্লার ও বিমান বন্দর সংলগ্ন এলাকায় এদের বেশি আনাগোনা। নারী যৌনকর্মীদের তুলনায় এদের সংখ্যা কম। তাই এদের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া অনেক। বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী গিগোলোদের কয়েকটি ভাগে ভাগ করা যায়। (ক) কিছু-কিছু গিগোলো আছে যারা খদ্দেরের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য অনুগত ভৃত্যের মতো ব্যবহার করে। এর কারণ পুরুষসঙ্গী খুঁজতে আসা বহু নারী এই ধরণের ছেলে পছন্দ করে। (খ) অনেক গিগোলো সপ্রতিভ, স্মার্ট। আচার-আচরণ ও কথাবার্তায় কোন জড়তা নেই। খদ্দেরের সঙ্গে খুব সাবলীলভাবে প্রেমিকের মতো কথা বলে। (গ) কিছু গিগোলো আছে যারা খুব অ্যাগ্রেসিভ। উচ্ছৃঙ্খল ধরণের। খদ্দেরকে আকৃষ্ট করার জন্যে এরা নানা যৌন উত্তেজক ও ইঙ্গিতপূর্ণ কথা ব্যবহার করে।

গিগোলোরা এই ব্যবসাকে অর্থোপার্জনের সহজ উপায় হিসাবে বেছে নিয়েছে। এছাড়া এখানে আছে অবাধ যৌনতা। যথেচ্ছ যৌনসম্ভোগ। নিত্য নতুন নারী-সঙ্গে রোমাঞ্চিত হয়ে ওঠার সম্ভাবনা। তাই এই ব্যবসার মালকিনদের ছেলে জোগাড় করা কষ্টকর হয় না। আর খদ্দেরের জন্যেও বসে থাকতে হয় না। নানা চেহারার নানা বয়সের বিভিন্ন মেয়ে আসে নির্দিষ্ট জায়গায়। দিল্লি ও মুম্বই- এ সুলুক সন্ধানীর চোখ নিয়ে সাংবাদিক শৈলভ রাওয়াত চার ধরণের খদ্দেরের সন্ধান পেয়েছেন। প্রথম, এরা বিবাহিত। স্বামীরা উচ্চপদস্থ চাকুরীজীবী বা ধনী ব্যবসায়ী। বিবাহিত জীবনের বাইরে অন্য নারীর প্রতি এরা আসক্ত। স্ত্রীর জন্যে এরা কোন সময় ব্যয় করে না। ফলে অর্থনৈতিক স্বাচ্ছন্দ্য থাকলেও স্ত্রীরা নিঃসঙ্গ। স্বামীর এই আচরণ একসময় জানাজানি হয়। তখনই স্ত্রীরা খোঁজ করে নতুন কোন পুরুষসঙ্গীর। বয়সে ছোট হলে তাকে নিয়ন্ত্রণ করা যাবে এবং সে বাধ্য হবে। তাকে দিয়ে শরীরের চাহিদা মেটানো সম্ভব। এরা তাই ম্যাসেজ পার্লারে আসে, সঙ্গীর খোঁজে। নিত্যযাতায়াতের মধ্যে দিয়ে এখানকার নিত্য খদ্দেরে পরিণত হয়। দ্বিতীয়, এই শ্রেণির খদ্দেররা তাদের স্বামীদের তুলনায় বয়সে অনেক ছোট। নানা শারীরিক কারণে স্বামীর পক্ষে স্ত্রীকে সবসময় সঙ্গ দেওয়া সম্ভব হয় না। ফলে স্ত্রীর যৌন আকাঙ্ক্ষা অতৃপ্ত থাকে। অবদমিত এই যৌনক্ষুধাকে মেটানোর জন্যে সে সমবয়সি বা ছোট কোন পুরুষের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক গড়ে তুলতে চায়। নানা সোর্সে পুরুষসঙ্গীর সন্ধান নিতে গিয়ে সে একসময় গিগোলোদের দেখা পায়। এবং তারপর পয়সা দিয়ে ভালবাসা কিনতে গিয়ে খদ্দের হয়ে যায়। তৃতীয় সম্পন্ন ধনী পরিবারের বহু মহিলাই আছে যাদের শারীরিক নানা ক্রুটির কারণে বিয়ে করা সম্ভব হয় না। অনেকের পক্ষে সম্ভব হলেও স্বামীর দ্বারা প্রত্যাখ্যাত হয়। এদের মধ্যে কেউ-কেউ গিগোলোদের বিশেষ খদ্দের। চতুর্থ, নানা কারণে এই শ্রেণির খদ্দেরের যৌন চাহিদা সাধারণ মহিলাদের তুলনায় বেশি। আর তাই এই চাহিদা নিবৃত্তির জন্যে এরা গিগোলোদের কাছে আসে।

গিগোলো ব্যবসার গায়ে আন্তর্জাতিকতার হাওয়া লেগেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিম ইউরোপের বিভিন্ন দেশের ধনকুবের মহিলারা এশিয়ার বিভিন্ন যৌন পর্যটন কেন্দ্রে ছুটে আসছে। ব্যবসার জগতে এইসব মহিলারা ‘গড মাদার্স’ (God mothers) নামে পরিচিত। এই প্রসঙ্গে শ্রীলঙ্কার কথা উল্লেখ করা খুব প্রয়োজন। কারণ গিগোলো-ব্যবসা সেখানে এক ভিন্ন রূপ ধারণ করেছে। সৃষ্টি করেছে নতুন সমস্যা। তাই শ্রীলঙ্কা সরকার এই ব্যাপারে খুব উদ্বিগ্ন।

১৯৯৬-এর আগষ্ট মাসে সুইডেনের স্টকহোমে অনুষ্ঠিত ‘World Congress Against Commercial sexual Exploitation of Children’. এ এই বিষয় নিয়ে বিশদভাবে আলোচনা করা হয়। এবং শ্রীলঙ্কার বিভিন্ন সমুদ্র সৈকতে জাঁকিয়ে বসা এই ব্যবসাকে রোধ করার জন্য কিছু প্রস্তাবও গ্রহণ করা হয়। শ্রীলঙ্কার ক্যাবিনেট মন্ত্রী Laksuman Jayakody বলেন, মহিলা যৌনকর্মীদের চিহ্নিতকরণ সহজ এবং এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করাও সহজ। কিন্তু ধনী ও অভিজাত বিদেশিনীর সঙ্গে থাকা গিগোলোর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। শ্রীলঙ্কায় প্রচলিত শিশুদত্তক নেওয়া সম্পর্কিত আইনই বাদ সেধেছে। এখানকার সন্তানহীন দম্পতিরা কোন শিশুকে দত্তক হিসাবে গ্রহণ করতে পারে, ১৯৪৪ সালে প্রণীত আইনে একথা সুস্পষ্টভাবে বলা হয়েছে। এরপর ১৯৬৪, ১৯৭৭. ১৯৭৯ সালে এই আইনকে বিশেষভাবে সংশোধন করা হয়। সংশোধনের ফলে দত্তক নেওয়া সহজ হয়। কোন দম্পতি যৌথভাবে দত্তক নেবার জন্যে আবেদন করলে তা গৃহীত হয়। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, যে কোন বিদেশি শ্রীলঙ্কার যে কোন শিশুকে (পুরুষ বা নারী) দত্তক নিতে পারে। এই আইন প্রচলিত থাকায় কোন বয়স্কা মহিলার সঙ্গে কোন গিগোলো থাকলে ওই মহিলার বিরুদ্ধে কোন আইনুনুগ ব্যবস্থা নেওয়া যাচ্ছে না। ‘Samurdhi womens organisation’ এর কর্ণধার Indra Nilaweera জানান, ইউরোপের বয়স্কা মহিলারা প্রধানত শ্রীলঙ্কার দক্ষিণে হিক্কাদুয়া (Hikkasduwa) এবং ডিকওয়েলা (Dickwella) সমুদ্র সৈকতে গিগোলোদের খোঁজে আসে। এখানে গিগোলোদের ব্যাবসা বেশ রমরমা।

পশ্চিমে যখন হাড় কাঁপানো ঠাণ্ডা শ্রীলঙ্কার তখন মনোরম আবহাওয়া। এই সময়েই মহিলাদের ভিড় জমে এই সমুদ্র সৈকতে। আমাদের দেশের যে কোন সমুদ্র সৈকতের দৃশ্যই শ্রীলঙ্কায় দেখা যায়। অল্পবয়েসি কিছু যুবা নানা জিনিস ফেরি করে চলেছে, সমুদ্র সৈকতে বেড়াতে আসা মানুষের কাছে। নানা ধরণের শঙ্খ, ঝিনুকের মালা ও আরও কত কি। বালকামী বিদেশি মহিলারা মূলত এদের সঙ্গেই ভাব জমায়। এমনকি এদের অনেকেই সমুদ্র সৈকতের বিলাস বহুল হোটেল ছেড়ে দিয়ে কাছেপিঠে এইসব বালকদের বাসস্থানেই ডেরা বাঁধে। পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সঙ্গেও মধুর সম্পর্ক গড়ে তোলে। অর্থনৈতিক দিক দিয়ে পিছিয়ে পড়া এইসব পরিবারের সদস্যরা মেমসাহেব দেখে বিমুগ্ধ হয়। বাড়তি সুযোগ পায় বিদেশিনী। সম্পন্ন বিদেশিনীর কাছ থেকে যা পাওয়া যায় তাই অনেক। মেম সাহেবের সঙ্গে সম্পর্ক ভাল রাখলে আর্থিক সুবিধা হবে এটাই তাদের ধারণা। পারিবারিক বিশ্বাস যোগ্যতা অর্জন করে বিদেশিনী কিশোরের সঙ্গে বিশেষ সম্পর্ক গড়ে তোলে। গ্রাম ও পরিবারের সকলেই বালকটিকে মেমসাহেবের অনুগত ভৃত্য হিসাবেই মনে করে। বয়েসের বিস্তর ব্যবধান থাকায় মেমসাহেবের পক্ষে ওই বালকটিকে নিয়ে যত্রতত্র ঘুরে বেড়ানো সম্ভব। অনেকে আবার দুজনের এই সম্পর্কের ওপর ঠাকুমা-নাতির সম্পর্ক আরোপ করে। ফলে মেমসাহেবের আবদারে বালকটিকে রাত্রিবাসও করতে হয় তার সঙ্গে। বিনিময়ে বালকটি পায় মূল্যবান নানা উপহার— বিদেশি ঘড়ি, শার্ট, প্যান্ট, রেডিও, টেলিভিশন ইত্যাদি। এভাবে বিদেশিনীরা গোটা শীতকালই কাটিয়ে দেয়। বালককে দিয়ে যৌনক্ষুধা মেটানোর পর মেমসাহেব তার নিজের দেশে ফিরে যায়। অনেকে আবার দেশে ফিরে তার ওই গিগোলোকে সময় সময় টাকা পাঠিয়ে থাকে। এমনকি বিদেশে এসে মেমসাহেবের সঙ্গে সারাজীবন কাটানোর জন্যে অনুরোধও আসে অনেক গিগোলোর কাছে। গ্রামের মানুষ ও পরিবারের কাছে গিগোলোদের এই ব্যবসা আজ আর অজানা নয়। এখন গিগোলোরা অনেক সংগঠিত। এরা ইংরেজি, ফ্রেঞ্চ, জার্মান ভাষা বেশ রপ্ত করে ফেলেছে। বাপঠাকুরদার দেশীয় পোশাক ছেড়ে তারা এখন পুরোদস্তুর সাহেব বোনে গেছে। আরও একটা তথ্য এখানে জানানো প্রয়োজন, অনেক বালকামী মহিলাই তাদের গিগোলোদের নামে সমুদ্র সৈকতে জমি কিনে বাড়ি করেছে। এবং ওই বাড়িটি পরবর্তীকালে বালকামী মহিলাদের যৌনতার কেন্দ্র হয়ে ওঠে। খুবই আশ্চর্যের বিষয় এই মহিলারা কেউই কিন্তু এই বালকদের বিয়ে করে না। শ্রীমতী Nilaweera-এ বিষয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে জানান— ‘‘These rich women have no intention of getting married. They are sexually exploiting very poor children”

১৯৯৬ সালে শ্রীলঙ্কার স্বাস্থ্য দপ্তর ১৮ জন গিগোলোর ওপর সমীক্ষা চালায়। সমীক্ষা থেকে জানা যায়, বছরের একটি নির্দিষ্ট সময়ে গিগোলোদের ব্যাবসা বেশ জমে ওঠে। ‘অফ সিজন’-এ তারা দূর সমুদ্রে মাছ ধরার কাজও করে। বিশেষ পর্যটন মরশুমে এদের মাসিক আয় ৮০ থেকে ২১০ ডলার।

গিগোলোকে গরিব হতে হবে এমন কোন ধরাবাধা নিয়ম নেই। তবে কিশোর বয়সে একবার যৌনতার স্বাদ পেলে সে বারবারই ওই স্বাদ পেতে চায়। ওয়াশিংটন শহরে ৩৫ বছর এক শিক্ষিকা হলেন Mary Kay Letourheau। যৌনক্ষুধা নিবৃত্তির জন্যে তিনি গিগোলোদের কাছে যেতেন কিনা জানা যায় না। তবে তার আচরণের মধ্যে বালকামিতার সন্ধান মেলে। নিজের ১৩ বছরের ছাত্রের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন এবং একটি কন্যা সন্তানের জন্ম দেন। ছাত্রের অভিভাবক তার বিরুদ্ধে নারী কর্তৃক পুরুষ ধর্ষণের অভিযোগ আনেন। বিচারে তাঁর তিন বছরের কারাদণ্ড হয় ও তিন বছর যৌন মানসিকতাকে পরিবর্তনের সুযোগ দেওয়া হয়। এবং ওই বালকটির সঙ্গে সব রকম সম্পর্ক ছিন্ন করতে বলা হয়। খুবই আশ্চর্যের বিষয় ১৯৯৮ সালের মার্চ মাসে প্রথম ঘটনার কয়েকমাস পরে ওই একই ছাত্রের সঙ্গে সহবাসের ফলে তিনি আবার সন্তানসম্ভবা হন। [The statesman 16.1197/17.3.98]

নারীর অতি কামুকতাই (Nymphomania) যে গিগোলো নামে এই বিশেষ পুরুষ যৌনকর্মীয় জন্ম দিচ্ছে সে বিষয়ে কোন সন্দেহ নেই। নিমফোমেনিয়াক মহিলারা প্রখ্যাত ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ ডাঃ জে. বি. মুখার্জী জানান, ‘‘The subjects, because of uncontrollable sex urge may get involved in several amorous adulterous associations and may thus pose both a social and moral problem a part from a legal one.”

Mary Kay Letourhean-র মতো আরও একজন ইংল্যান্ডেরর মহিলা ১৯৩৪ সালে জোর করে একটি ১২ বছরের ছেলের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। এই যৌন সম্পর্কের ফলে ওই কিশোর যৌনব্যাধিতে আক্রান্ত হয়। ১৯৬৬ সালে ইংল্যান্ডের গ্লাসগো শহরে এক বয়স্কা মহিলা সাত বছরের একটি শিশুপুত্রের সঙ্গে যৌন কেলেঙ্কারীর অভিযোগে অভিযুক্ত হন। শিশুটি পরবর্তীকালে গনোরিয়া রোগে আক্রান্ত হয়।

ব্যক্তিগত আলাপচারিতায় মুম্বই-এর সার্জেন ডাঃ ফ্রাঙ্কলিন (Dr. Franklin) ডাঃ জে. বি. মুখার্জীকে জানান সেখানকার এক বয়স্কা সম্পন্না মহিলা এক কিশোরের সঙ্গে প্রতিদিনই যৌন সম্পর্কে লিপ্ত হতেন। এবং এক সময়ে কিশোরটি ওই মহিলাকে হত্যা করে। (Mukherjee J.B.)

গিগোলো সম্পর্কে আলোচনা করাই আমাদের মুখ্য উদ্দেশ্য নয়। তবে এদের ব্যক্তিগত জীবন অভিজ্ঞতার আবর্তে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে অজস্র ঘটনার কথা। যা তাদের গিগোলো হয়ে উঠতে সাহায্য করেছে।

''পুলিশ ও সাংবাদিকের সামনে মুখ দেখাতে নারাজ তাইওয়ানের কিছু গিগলো''

”পুলিশ ও সাংবাদিকের সামনে মুখ দেখাতে নারাজ তাইওয়ানের কিছু গিগলো”

(সৌজন্যে : The Asian Age) 05.03.89

১. Rawat, S, Oct. 1998

Recently, it has come to light that more that a dozen of health-cum-massage clinics are supplying make massagers to lady customers at their homes. In fact we should call such massagers as gigolos. And their has totally deteriorated our culture as selected ladies from affluent class are very much enjoying the services of young, smart and manly male massagers, under the veil.

১. Cleugh. J 1970:

Wealthy Ladies were in the habit of picking up little boys in the streets and taking them home on the pretext of charitably preserving them from a worse fate at the hands of vicious older tramps….. They were fed, clothed and housed with such luxury as they had never even dreamed of. They could then easily be persuaded to offer their little rumps to friction by the clitoris of their hostess, to allow their immature organs to brush the exterior lips of her vulva…

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *