১৬৫তম অধ্যায়
পাপনাশন সুরনরাদির নাম
যুধিষ্ঠির কহিলেন, “পিতামহ! মনুষ্যের শ্রেয়ঃ কি, কিরূপ কাৰ্য্যের অনুষ্ঠান করিলে সুখলাভ হয় এবং কি প্রকার কাৰ্য্যদ্বারাই বা লোকের পাপ অপনীত হইয়া থাকে?”
ভীষ্ম কহিলেন, “ধৰ্ম্মরাজ! আমি তোমার নিকট দেব, ঋষি, নদী ও পর্ব্বতসমুদয়ের নাম কীর্ত্তন করিতেছি, শ্রবণ কর। ঐ নাম সমুদয় ত্রিসন্ধ্যায় পাঠ করিলে সমস্ত পাপ বিনষ্ট হইয়া যায়। মনুষ্য অবুদ্ধিপূৰ্ব্বক বা বুদ্ধিপূৰ্ব্বকই হউক, ইন্দ্রিয়দ্বারা দিবা রাত্রি ও সন্ধিক্ষণে যে পাপানুষ্ঠান করে, শুচি হইয়া এই নাম সমুদয় কীর্ত্তন করিলে তৎসমুদয় হইতে মুক্তিলাভ করিতে পারে, সন্দেহ নাই। যে ব্যক্তি ভক্তিভাবে এই নাম সমুদয় পাঠ করে, তাহাকে কদাচ অন্ধ বধির হইতে হয় না। তাহার সতত মঙ্গল লাভ হয়; সে কদাচ তির্য্যগযোনি, সঙ্করযোনি ও নরক প্রাপ্ত হয় না; তাহার দুঃখ ও ভয় এককালে তিরোহিত হইয়া যায় এবং তাহাকে মৃত্যুকালেও বিমোহিত হইতে হয় না। এক্ষণে আমি ঐ নামসমুদয় কহিতেছি, শ্রবণ কর।
“সৰ্ব্বভূতনমস্কৃত দেবাসুর গুরু ভগবান্ ব্রহ্মা, ব্রহ্মপত্নী সাবিত্রী, বেদসমুদয়ের উৎপাদক লোককৰ্ত্তা-ভগবান্ বিষ্ণু, বিরূপাক্ষ উমাপতি মহাদেব, সেনাপতি কার্ত্তিকেয়, বিশাখ, অগ্নি, বায়ু, চন্দ্র, সূর্য্য, শচীপতি ইন্দ্র, যম ও তাহার পত্নী ধূমোর্ণা, বরুণ ও তাহার পত্নী গৌরী, কুবের ও তাঁহার পত্নী ঋদ্ধি, সুশীলা সুরভী, মহর্ষি বিশ্রবা, সঙ্কল্প, সাগর, গঙ্গা, মরুদগণ, অপঃসিদ্ধ বালখিল্যগণ, মহাত্মা বেদব্যাস, নারদ, পৰ্ব্বত, বিশ্বাবসু, হাহা, হুহু, তুম্বরু, চিত্রসেন, দেবদূত, ঊর্ব্বশী, মেনকা, রম্ভা, মিশ্রকেশী, অলম্বুষা, বিশ্বাচী, ঘৃতাচী, পঞ্চচূড়া, তিলোত্তমা, দ্বাদশ আদিত্য, অষ্টবসু, একাদশ রুদ্র, পিতৃগণ, অশ্বিনীকুমারদ্বয়, ধৰ্ম্ম, বেদাধ্যয়ন, তপস্যা, দীক্ষা, ব্যবসায়, পিতামহ, দিবারাত্রি, মরীচিতনয় কশ্যপ, শুক্র, বৃহস্পতি, মঙ্গল, বুধ, রাহু, শনৈশ্চর, নক্ষত্র, মাস, পক্ষ, সংবৎসর, গরুড়, সমুদ্র, কদ্রুপুত্র পন্নগগণ, শতদ্রু, বিপাশা, চন্দ্রভাগা, সরস্বতী, সিন্ধু, দেবিকা, প্রভাস, পুষ্কর, গঙ্গা, বেণা, কাবেরী, নর্ম্মদা, কুলম্পুনা, বিশল্যা, করতোয়া, অম্বুবাহিনী, সরযু, গণ্ডকী, মহানদ, লৌহিত্য, তাম্রা, অরুণা, বেত্রবতী, কাবেরী, বঙ্কু, মন্দাকিনী, প্রয়াগ, প্রভাস, নৈমিষারণ্য, বিশ্বেশ্বরস্থান, বিমলসরোবর, পুণ্যতীর্থসঙ্কুল কুরুক্ষেত্র, ক্ষীরোদসমুদ্র, তপস্যা, দান, জম্বুমার্গ, হিরন্বতী, বিতস্তা, প্লক্ষবতী, বেদস্মৃতি, বেদবতী, মালব্য, অশ্ববতী, ভূমিভাগ, গঙ্গাদ্বার, ঋষিকুল্যা, চিত্রবহা, চর্ম্মন্বতী, কৌশিকী, যমুনা, ভীমরথী, বাহুদা, মাহেন্দ্ৰবাণী, ত্রিদিবা, নীলিকা, সরস্বতী, নন্দা, অপরনন্দা, মহাহৃদ, গয়া, ফল্গু, দেবগণসম্বলিত ধর্ম্মারণ্য, মন্দাকিনী, ত্রিলোকবিশ্রুত সৰ্ব্বপাপবিনাশন মানসসরোবর, দিব্যৌষধিসমন্বিত হিমালয়, বিচিত্র ধাতুসম্পন্ন ঔষধান্বিত বিন্ধ্য, সুমেরু, মহেন্দ্র, মলয়, রজতপূর্ণ শ্বেতশৃঙ্গবান, সুন্দর, নীল, নিষধ, দর্দ্দুর, চিত্রকূট, অঞ্জনাভ, গন্ধমাদন, সোমগিরি, দিক্বিদিক্, পৃথিবী, বৃক্ষগণ, বিশ্বদেব, আকাশ, নক্ষত্র ও গ্রহগণের নাম উচ্চারণ করা মনুষ্যের অবশ্য কর্ত্তব্য।
“আমি এক্ষণে সমুদয় দেবতার নাম কীর্ত্তন করিলাম এবং মোহ বা অজ্ঞানবশতঃ যাঁহাদিগের নাম কীর্ত্তন করিতে পারিলাম না, প্রার্থনা করি, তাহারা সকলেই আমাকে রক্ষা করুন। যে ব্যক্তি এই সমুদয় দেবতার নাম কীর্ত্তন করেন, তিনি সমুদয় পাপ ও ভয় হইতে নিষ্কৃতিলাভে সমর্থ হয়েন, সন্দেহ নাই।
মহর্ষি ও রাজর্ষিগণের নামকীর্ত্তন
“অতঃপর সর্ব্বপাপবিনাশক তপঃসিদ্ধ মহর্ষিগণের নাম কীর্ত্তন করিতেছি, শ্রবণ কর। মহর্ষি যবক্রীত, রৈভ্য, কাক্ষীবান, ঔষিজ, ভৃগু, অঙ্গিরা, কম্ব, মেধাতিথি ও বর্হী ইঁহারা পূৰ্ব্বদিক্ মহর্ষি উন্মুচু, প্রমুচু, সুমুচু, স্বস্ত্যাত্রয়, মিত্রাবরুণপুত্র অগস্ত্য, দৃঢ়ায়ু ও ঊৰ্দ্ধবাহু ইহারা দক্ষিণদিক্, উষদ ও তাঁহার সহোদরগণ, পরিব্যাধ, দীর্ঘতমা, গৌতক, কশ্যপ, একত, দ্বিত, ত্রিত, দুৰ্ব্বাস ও সারস্বত ইঁহারা পশ্চিমদিক্ এবং অত্রি, বশিষ্ঠ, শত্তি, বেদব্যাস, বিশ্বামিত্র, ভরদ্বাজ, ঋচীকপুত্র জমদগ্নি, পরশুরাম, উদ্দালকপুত্র শেতকেতু, কোহল, বিপুল, দেবল, দেবশর্ম্মা, ধৌম্য, হস্তিকশ্যপ, লোমশ, নচিকেতা, লোমহর্ষণ, উগ্রশ্রবা ও ভৃগুপুত্ৰ চ্যবন, ইঁহারা উত্তরদিক্ আশ্রয় করিয়া অবস্থান করিতেছেন। এই আমি তোমার নিকট বেদবেত্তা, সৰ্ব্বপাপবিনাশন মহর্ষিগণের নাম কীর্ত্তন করিলাম।
“অতঃপর রাজর্ষিদিগের নাম কীর্ত্তন করিতেছি, শ্রবণ কর। মহারাজ নৃগ, যযাতি, নহুষ, যদু, পুরু, সগর, ধুন্ধুমার, দিলীপ, কৃশাশ্ব, যৌবনাশ্ব, চিত্রা, সত্যবান, দুষ্মন্ত, ভরত, চ্যবন, জনক, ধৃষ্টরথ, রঘু, দশরথ, ভগীরথ, হরিশ্চন্দ্র, মরুত্ত, দৃঢ়রথ, মহোদয়, অলর্ক, ঐল, দক্ষ, অম্বরীষ, কুকুর, রেবত, কুরু, সংবর, মান্ধাতা, মুচুকুন্দ, জন্তু, বেণপুত্র, পুথু, মিত্রভানু, প্রিয়ঙ্কর, ত্রসদস্য, শ্বেত, মহাভিষ, নিমি, অষ্টক, আয়ু, ক্ষুপ, কক্ষেয়ু, প্রতর্দ্দন, দিবোদাস, সুদাস, ঐল, নল, মনু, হরিদ্র, পৃষধ্র, প্রতীপ, শান্তনু, অজ, প্রাচীনবর্হি, ইক্ষ্বাকু, অনরণ্য, জানু, জঙ্ঘ ও কক্ষসেন।
“যিনি প্রতিদিন প্রাতঃকালে ও সায়ংকালে শুচি হইয়া এই সমুদয় ও অন্যান্য রাজর্ষিদিগের নাম কীর্ত্তন করেন, তিনি নিশ্চয়ই ধৰ্ম্মফল লাভ করিতে সমর্থ হয়েন। বিজ্ঞ ব্যক্তি এই সমুদয় দেবতা, মহর্ষি ও রাজর্ষির স্তব করিয়া এই প্রার্থনা করিবেন যে, আমি যে যে মহাত্মার স্তব করিলাম, তাঁহারা আমাতে পুষ্টি, আয়ু, যশ ও স্বর্গ প্রদান করুন। আমাকে যেন কখন শক্তহস্তে নিপতিত হইতে না হয় এবং আমি যেন ইহলোকে জয় ও পরলোকে উৎকৃষ্ট গতি লাভ করিতে পারি।”
