4 of 4

১৫৩. কার্ত্তবীর্য্যের প্রতি পবনবর্ণিত ব্রাহ্মণপ্রভাব

১৫৩তম অধ্যায়

কার্ত্তবীর্য্যের প্রতি পবনবর্ণিত ব্রাহ্মণপ্রভাব

“তখন পবন কহিলেন, ‘মূঢ়! আমি মহাত্মা ব্রাহ্মণগণের যৎকিঞ্চিৎ গুণকীর্ত্তন করিতেছি, শ্রবণ কর। তুমি অগ্নি, সূৰ্য্য ও আকাশ প্রভৃতি যাঁহার যাঁহার নাম উল্লেখ করিলে, ব্রাহ্মণ তাঁহাদিগের সর্ব্বাপেক্ষা শ্রেষ্ঠ। পূর্ব্বে পৃথিবীর অধিষ্ঠাত্রী দেবতা অঙ্গরাজের স্পর্ধা সহ্য করিতে না পারিয়া পৃথিবীকে পরিত্যাগপূৰ্ব্বক গমন করিলে মহর্ষি কশ্যপ উহাকে স্তম্ভিত করিয়া রাখিয়াছিলেন। পুৰ্ব্বে মহর্ষি অঙ্গিরা অনায়াসে পৃথিবীস্থ সমুদয় সলিল পান করিয়া পরিশেষে সমুদয় পৃথিবী সলিলপূর্ণা করিয়াছিলেন। ঐ মহাত্মা কোন সময়ে আমার প্রতি ক্রুদ্ধ হইলে আমি তাঁহার ভয়ে পৃথিবী পরিত্যাগ করিয়া অগ্নিহোত্রমধ্যে অবস্থান করিয়াছিলাম। দেবরাজ ইন্দ্র অহল্যার পাতিব্ৰত্য বিনষ্ট করিলে তাঁহার পতি মহর্ষি গৌতম ক্রূদ্ধ হইয়া ইন্দ্রকে শাপ প্রদান করিয়াছিলেন, কেবল ধৰ্ম্মরক্ষার্থ তাঁহাকে প্রাণে বিনষ্ট করেন নাই। সমুদ্র অগাধসলিলপূর্ণ হইয়াও ব্রাহ্মণগণের অভিশাপে লবণোদক হইয়াছে। নির্ধূম হুতাশনসদৃশ তেজস্বী রূপবান্ শুক্রাচার্য্য মহর্ষি অঙ্গিরার অভিশাপে তেজোবিহীন হইয়াছেন। মহাত্মা কপিলদেব ক্রূদ্ধ হইয়া সাগরমধ্যে সগরসন্তানদিগকে ভস্মসাৎ করিয়াছেন। অতএব তুমি আপনাকে ব্রাহ্মণের তুল্য জ্ঞান না করিয়া আপনার শ্রেয়োলাভের উপায় চিন্তা কর। অশেষক্ষমতাশালী মহাত্মারা গর্ভস্থ ব্রাহ্মণদিগকেও নিরন্তর নমস্কার করিয়া থাকে। মহর্ষি শুক্রাচাৰ্য্য সুবিস্তীর্ণ দণ্ডকরাজ্য এবং মহাত্মা ঔৰ্ব্ব ক্ষত্ৰকুলোদ্ভব তালজঙ্ঘকে বিনষ্ট করিয়াছেন। তুমি কেবল মহাত্মা দত্তাত্রেয়ের প্রসাদেই দুর্ল্লভ রাজ্য, বল, ধৰ্ম্ম ও শাস্ত্রজ্ঞান লাভ করিয়াছ। তুমি সৰ্ব্বদেবের হব্যবাহী ভগবান হুতাশনের উপাসনা করিয়া থাক। তিনিও ব্রাহ্মণ বলিয়া অভিহিত হয়েন। অতএব ব্রাহ্মণকে সৰ্ব্বভূতানুপালক ও জীবলোকের কর্ত্তা বলিয়া পরিজ্ঞাত হইয়াও এরূপ মুগ্ধ হওয়া তোমার কর্ত্তব্য নহে।

‘হে মহারাজ! পূৰ্ব্বে সৰ্ব্বলোকপিতামহ সনাতন ভগবান্ ব্রহ্মা এই স্থাবরজঙ্গমসম্বলিত সমুদয় জগতের সৃষ্টি করিয়াছেন। তাহা হইতে শৈল, দিক, সলিল, পৃথিবী ও আকাশ সমুদ্ভূত হয়। অজ্ঞান ব্যক্তিরা অণ্ডজ শব্দের প্রকৃত অর্থ পরিজ্ঞাত হইতে না পারিয়া ব্রহ্মকে ব্রহ্মাণ্ডজ বলিয়া নির্দ্দেশ করিয়া থাকে; কিন্তু বস্তুতঃ তিনি ব্রহ্মাণ্ডজ নহেন। তিনি যখন অজনাম ধারণ করিয়াছেন, তখন তাঁহার ব্রহ্মাণ্ডে জন্ম কোনরূপেই সম্ভাবিত হয় না। তিনি অণ্ড অর্থাৎ পরব্রহ্ম হইতে সমুৎপন্ন হইয়াছেন বলিয়া অজনামে অভিহিত হইয়া থাকেন। ঐ মহাত্মা সৰ্ব্বপ্রথমে সমুদ্ভূত হইয়া, অহঙ্কারাত্মক দেহ আশ্রয় করিয়া সৰ্ব্বভূতের সৃষ্টি করিয়াছেন। তিনিই সকলের আদিভূত ব্রাহ্মণ। অতএব তাঁহার তুল্য হইতে বাসনা করা তোমার কখনই কর্ত্তব্য নহে।

“ভগবান সমীরণ এই কথা কহিলে মহারাজ কার্ত্তবীৰ্য্য তাঁহার বাক্য শ্রবণপূৰ্ব্বক মৌনাবলম্বন করিয়া রহিলেন।”

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *