মৌর্য – ৩০

৩০

দুরধরা হঠাৎই অসুস্থ হয়ে পড়লেন। রাজবৈদ্যকে তাৎক্ষণিকভাবে ডাকা হয়েছে। সম্রাট বেশ চিন্তিত। পায়চারি করছেন তিনি। রাজবৈদ্য এসে সম্রাজ্ঞীকে পরীক্ষা করলেন। কিছুদিন আগে সন্তান প্রসব করেছিলেন। মাতৃত্বজনিত সমস্যা অবশ্য আগেই কেটে গেছে।

সম্রাটের সঙ্গে এখন রাত্রি যাপন করছেন। হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ার কারণটা অবশ্য আন্দাজ করা যাচ্ছিল। রাজবৈদ্য সে কথাই বললেন, সম্রাজ্ঞী আবার মা হতে চলেছেন। এ সংবাদে সম্রাটের প্রাসাদে আনন্দের বন্যা বয়ে গেল। সম্রাট দাসদাসী, গরীব-দুঃখী সবার মধ্যেই অর্থ বিলালেন। একটা ছোটখাটো উৎসবও হয়ে গেল।

তবে সম্রাজ্ঞী এতটা আনন্দিত নন। তাঁর মধ্যে শঙ্কা, আবার কোনো অলক্ষুনে ঘটনা যদি ঘটে যায়? তিনি সুস্থ হয়ে সম্রাটকে বললেন, মহামান্য সম্রাট, আবার এ সময় যুদ্ধে যাচ্ছেন, একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটবে না তো? যুদ্ধযাত্রাকালে আমি সব সময়ই প্রেরণা দিয়েছি, এখন যুদ্ধের কথা শুনলে বুক যেন কেঁপে ওঠে।

একটি দুর্ঘটনা আমাদের জীবনকে কাতর করে তুলেছিল, সম্রাজ্ঞী, সবকিছুরই পরিবর্তন আছে। আমরা প্রতিবারই ভাগ্যবিড়ম্বিত পিতা-মাতা হতে পারি না! আপনি আপনার মন থেকে সব দুর্ভাবনা দূর করে দিন। সুন্দর কিছু ভাবুন, কল্পনা করুন।

সম্রাজ্ঞী বললেন, আচার্য ভদ্ৰবাহু কী বলেন চলুন না দেখে আসি। তাঁর আশীর্বাদেরও তো প্রয়োজন আছে। যুদ্ধযাত্রা সম্পর্কেও তাঁর মতামত জানা যাবে।

সম্রাট ভাবলেন, এই অজুহাতে যদি ভদ্রবাহু যুদ্ধযাত্রায় নেতিবাচক মনোভাব ব্যক্ত করেন, তাহলে বড় সমস্যা হয়ে যাবে। ভাগ্যে যা-ই থাকুক, তাঁকে এ যুদ্ধে যেতেই হবে এবং জয়লাভও করতে হবে।

সম্রাট, কিছু ভাবছেন?

ভাবছিলাম যুদ্ধের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন। আচার্য ভদ্রবাহু এ ব্যাপারে তাঁর মতামত দিয়ে বলেছেন যুদ্ধযাত্রা শুভ। যুদ্ধের সংবাদটা চারদিকে রটে গেছে। গ্রিকরা আগে আক্রমণ করলে আমরা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হব। যুদ্ধযাত্রা পেছানো সংগত হবে কি না, আচার্য চাণক্যসহ রণমন্ত্রকদের সঙ্গে পরামর্শ করে নিতে হবে। আমাদের সন্তানের আগমনের বিষয়ে আচার্য ভদ্রবাহুর সঙ্গে কথা বলা যায়।

সম্রাজ্ঞী বললেন, যুদ্ধযাত্রা নয়, সন্তানই আমার ভাবনার বিষয়, যুদ্ধ নিয়ে ভাববেন আপনি

আচার্য ভদ্ৰবাহু এখন সম্রাটের প্রাসাদে অবস্থান করছেন। স্থূলভদ্র এসেছেন তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে। বরাহ মিহিরের দুষ্টু আত্মার উপদ্রবের পর ক্ষতিগ্রস্ত জৈনদের সম্রাটের সাহায্য দান চলছে। এসবের মূল দায়িত্ব স্থুলভদ্রের। তাঁকে অগ্রগতি জানাতে হয় ভদ্রবাহুকে। প্লেগে নিহতদের সৎকার এবং তাদের পরিবারকে সাহায্য দানের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। প্লেগের প্রাদুর্ভাব কমেছে।

এ সময় সম্রাটের লোক এসে জানাল যে সম্রাট ও সম্রাজ্ঞী সাক্ষাতের ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। ভদ্রবাহু জানালেন, তিনি নিজেই সম্রাটের কক্ষে আসবেন। ভদ্রবাহু কখনো কাষ্ঠাসনে উপবেশন করেন না, পদ্মাসনে বসেন। তাই আসবাব নেই। এ রকম একটি কক্ষে ভদ্রবাহুর জন্য বসার আয়োজন করা হয়।

সম্রাট, সম্রাজ্ঞী ও ভদ্রবাহু পদ্মাসনে বসেছেন। সম্রাট বললেন, আচার্য, আমরা সবাই অবাক হয়েছি, বরাহ মিহিরের দুষ্টু আত্মাকে আপনি যেভাবে দমন করেছেন, এককথায় অদ্ভুত।

সবই পার্শবনাথের কৃপা

পার্শবনাথ?

২৩তম তীর্থঙ্কর। উপসংঘাম স্তোত্রটি তাঁর। আমি লিখেছি মাত্র।

তিনি কেমন ছিলেন?

তিনি ছিলেন সর্বজ্ঞ, অলৌকিক আধ্যাত্মিক শক্তির অধিকারী। তাই তাঁকে ‘কেবলা’ বলা হতো। কেবলা হচ্ছে অসীম, অশেষ, অপরিমেয়, সর্বোচ্চ, নির্বিরোধ, বাধাহীন ও পরিপূর্ণ এক সত্ত্বা, যিনি চূড়ান্ত মুক্তি অর্জন করতে পেরেছিলেন। তাঁর বাবা অশ্বসেন ছিলেন বেনারসের রাজা, মাতা ছিলেন রানি ভামা। বিশাখায় জন্ম। কম বয়সেই অনেক কর্ম করেছেন। চতুর্মুখী কর্ম। অবসর্পিণী যুগের দুঃসময়-সুসময় পর্বের কোনো এক শ্রাবণ রাতে উপবাস করে করে দেহান্তর করেন। সবচেয়ে বড় কথা, তিনি খুবই জনপ্রিয় ছিলেন।

তাঁর উদ্দেশে সম্রাট, সম্রাজ্ঞী হাত জোড় করে ভক্তি জানান ভদ্রবাহুকে অনুসরণ করে। ভদ্রবাহু আরও বলেন, মানুষই অসীম শক্তির অধিকারী, সব জীবের মধ্যে শ্রেষ্ঠ, ভজনা করবে তো তাঁরই করো। বলে সৌম্য হাসি হাসলেন। এবার বলো চন্দ্র, তোমাদের আগমনের হেতু কী?

সম্রাট দুরধরার চোখের দিকে তাকালেন। দুরধরা লজ্জায় আরক্তিম হয়ে উঠলেন। সম্রাটই বললেন, আচার্য, সম্রাজ্ঞী সন্তানসম্ভবা, আপনার আশীর্বাদ চাইছেন।

খুবই ভালো সংবাদ দিলে, চন্দ্র। আমি আশীর্বাদ করছি, সন্তান যেন সুস্থ ও সবল হয়, শত বছর বাঁচে।

আচার্য মহামুনি, আপনি শুধু আশীর্বাদ করলে হবে না, আমরা ভবিষ্যৎও জানতে চাই, বললেন সম্রাজ্ঞী।

আচার্য ভদ্রবাহু একটু চিন্তিত হয়ে গেলেন। কিন্তু চেহারায় কোনো ভাবান্তর না ঘটিয়ে বললেন, এই সন্তানই মৌর্য সাম্রাজ্যের ভবিষ্যৎ সম্রাট

এবার যুদ্ধযাত্রায় কোনো অমঙ্গল নেই তো? সম্রাজ্ঞীর প্রশ্নের জবাবে ভদ্রবাহু বললেন, যাত্রা শুভ। উঠে আসবেন, এ সময় ভদ্রবাহু বললেন, চন্দ্র, এবারে পুণ্ড্রবর্ধনে গিয়ে জৈনবিহারগুলো পরিদর্শন করেছি। সেখানকার আচার্যগণ কয়েকটি হীরকখণ্ড আমাকে দিয়েছেন। আমি এগুলো দিয়ে কী করব, এগুলো তুমি আর সম্রাজ্ঞীকে দিলাম। এই নাও।

পুণ্ড্রবর্ধনের হীরকখণ্ড পেয়ে সম্রাজ্ঞী বেশি খুশি হলেন। সম্রাট বললেন, কৌটিল্য তাঁর অর্থশাস্ত্রে পুণ্ড্রবর্ধনের মূল্যবান হীরকের কথা বলেছেন। ভুল বলেন নি। আমি পুণ্ড্রবর্ধনভুক্তির কর্মান্তককে বলে দিচ্ছি, জৈনবিহারগুলোকে পুনর্নির্মাণ করে সৌন্দর্যমণ্ডিত করে তুলবে। এ ছাড়া দর্শন ও বিজ্ঞান শিক্ষার জন্য আচার্য ও শ্রমণদের সম্রাটের রাজকোষ থেকে অর্থ দেওয়ারও ব্যবস্থা করবে।

ভদ্রবাহুর চলে আসার পর সম্রাজ্ঞী বললেন, খুবই মূল্যবান হীরক। জবাবে সম্রাট বললেন, এর চেয়ে মূল্যবান হিরে হচ্ছেন আচার্য ভদ্রবাহু। আমার সাম্রাজ্যের অহংকার, এই অলংকারের কোনো তুলনা নেই।

আর মহামন্ত্রী চাণক্য?

ভুল সময়ে তাঁর কথা বললেন সম্রাজ্ঞী। আদর্শবান মানুষের সঙ্গে কূটরাজনীতিকের তুলনা হয় না। চাণক্য অন্যভাবে গুরুত্বপূর্ণ, প্রশাসনিক দিক থেকে আমার শিক্ষক। দিগ্বিজয়ী সম্রাট হওয়ার শিক্ষা আমাকে দিয়েছেন। কিন্তু মানুষ হওয়ার শিক্ষা দিয়েছেন আচার্য ভদ্রবাহু। আমার কাছে তাই তিনি শ্রদ্ধার। আচার্য চাণক্য বড়জোর কৃতজ্ঞতা পেতে পারেন।

কিছুক্ষণের মধ্যেই সুবন্ধুকে নিয়ে চাণক্য উপস্থিত হলেন। প্রথমেই তিনি মলয়কেতুর সেনাপতিকে হত্যা এবং রাক্ষসপত্নীকে বন্দী করার সংবাদ সম্রাটকে জানালেন। তাঁদের গ্রিকদের সঙ্গে যোগাযোগের কথা সম্রাট জানেন। মৌর্যদের সঙ্গে তাঁদের যুদ্ধ হয়েছে, এ জন্য সম্রাট তাঁদের প্রতি যতটা নির্দয়, তার চেয়ে বেশি ক্ষুব্ধ গ্রিকদের সঙ্গে যোগ দেওয়ায়। বিদেশি রাজশক্তিকে নিজের মাটিতে আমন্ত্রণ করে আনার চেয়ে বোধ হয় বড় অপরাধ আর কিছু নেই।

সম্রাট এ সংবাদে খুশি হলেন এবং চাণক্যকে ধন্যবাদ দিলেন। ঘরের শত্রুদের মাথা ভেঙে দেওয়ায় যুদ্ধজয়ের অর্ধেক কাজই হয়ে গেছে, আচার্য, বললেন সম্রাট। রাক্ষসপত্নীর বক্তব্য কী শুনেছেন?

সে কিছুই বলছে না।

তার কথা শুনতে হবে। তাদের দুজনকে শাস্তি দিলেই সমস্যার শেষ হবে না। তাই তাদের মূল উৎপাটনে তথ্য নিতে হবে। আপনি ব্যবস্থা নিন, আচার্য।

আরেকটি কথা, মহামান্য সম্রাট।

বলুন।

থেসপাস, এন্টিগোনাসের দূত এসেছে। আমাদের সঙ্গে আঁতাত করতে চায়।

বিদেশিদের মনোভাব তো বোঝা যায় না। তা কী বলতে চায়?

চাণক্য থেসপাসের সঙ্গে যেসব আলাপ-আলোচনা হয়েছে, সবই বললেন সম্রাটকে।

সে আমাদের সাম্রাজ্যে ব্যবসা করে? বেশ তো খোঁজখবর নিন। তবে তাদের সঙ্গে যুদ্ধ করার কোনো চুক্তি হবে না। কূটনৈতিক যোগাযোগ থাকতে পারে। এতে আমাদের সুবিধে হবে, গ্রিক মেজাজ এবং রাজকীয় সংস্কৃতি সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যাবে, যা আমাদের কাজে লাগতে পারে।

গ্রিকদের যুদ্ধকৌশল সম্পর্কে তাদের কাছ থেকে কিছু তথ্য জানা যেতে পারে, মহামান্য সম্রাট।

বেশ তো, ডাকুন, কী বলে, শুনি।

দূতকে ডেকে পাঠানো হলো। সম্রাট সুবন্ধুকে উদ্দেশ করে বললেন, সুবন্ধু, আগামী দিনের মন্ত্ৰী, কী বলেন, আচার্য?

আমিও তা ভাবছিলাম, মহামান্য সম্রাট। সুবন্ধু এখনো সে দায়িত্ব পালন করতে পারে।

যুদ্ধবিদ্যা কি জানা আছে?

তা আছে, সম্রাট।

এবার পরীক্ষা হয়ে যাবে। কৃতকার্য হলে ছোট মন্ত্রীর একটি পদ পেয়ে যাবে।

আমি ভাবছিলাম সে রাজধানীতে থেকে প্রশাসন সামলাবে।

তার জন্য অমাত্যগণ আছে।

বেশ, সুবন্ধু, তুমি যুদ্ধযাত্রার প্রস্তুতি নাও।

সুবন্ধু এতে খুশি হয়ে সম্রাটের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করলেন।

এরই মধ্যে থেসপাস এসে উপস্থিত হলো। প্রথমে সম্রাট তার ব্যবসা-বাণিজ্যের খোঁজখবর নিলেন। পরে বললেন, আলেকজান্ডারের সময় আমি ছিলাম নিতান্তই বালক। গ্রিকরা বীরের জাতি, যুদ্ধকৌশলে জগৎসেরা। তখন ব্যাপারটা বোঝার বয়স হয় নি। এ ব্যাপারে আপনার কি কিছু জানা আছে?

সে সময় আমি মহাবীর আলেকজান্ডারের সৈন্যবাহিনীতে ছিলাম।

তাহলে তো ভালোই জানা আছে। মহামান্য সম্রাট, আমরা কি এখন সেনাপতিকে ডাকতে পারি। তার এ কথাগুলো জানা দরকার।

ডাকতে চান ডাকুন, কিন্তু তার পরিপ্রেক্ষিতে কোনো ব্যবস্থা নিতে হলে আপনাকে অথবা আমাকে ব্যবস্থা নিতে হবে।

সেনাপতিকে ডেকে পাঠানো হলো। চাণক্য বললেন, আপনি আমাদের গ্রিক সেনাবাহিনী সম্পর্কে সাধারণ একটি ধারণা দিন।

গ্রিসের হেলেনিস্টিক আর্মিরা গ্রেকোমেসিডিনিয়ান কৌশলে যুদ্ধ করে। তাদের ভিত্তি হচ্ছে ফ্যালানক্স রীতি। সম্রাট সেলুকাস সাম্রাজ্য রক্ষার জন্য সেলুসিড আর্মি গঠন করেছেন। আমার মনে হয়, এ আর্মির যুদ্ধকৌশলই আপনারা জানতে চাইছেন।

সম্রাট বললেন, ঠিক তাই। তার আগে বলুন জেনারেল এন্টিগোনাস কি আলাদা কোনো আর্মি গঠন করেছেন?

না, তিনি কোনো আর্মি গঠন করেন নি, তিনি আলেকজান্ডারের অধীন কিছু সেনাসদস্য নিয়ে সম্রাট সেলুকাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছেন।

সম্রাট জানতে চাইলেন, গ্রিক আর্মি গঠনের প্রক্রিয়াটা কী?

বেশ আগে থেকে গ্রিকরা আর্মি গঠনে খুবই স্থিতিশীল একটা পদ্ধতি চালু করেছে। সৈন্যদের বেতন-ভাতার পরিবর্তে ভূমি দিয়ে দেওয়া। এ ভূমিতে এরা বসতি স্থাপনসহ কৃষি উৎপাদনে মনোযোগী হতো। এরা সম্রাটদের কাছ থেকে সামরিক প্রশিক্ষণটা পেত কিন্তু চাকরি করত না, যুদ্ধের সময় ডাক পেত যুদ্ধে নামার জন্য। মিসরের শাসক টলেমিও এ ব্যবস্থার পক্ষপাতী। তাদের বলা হয় ক্লেবোচোই। সেলুকাস আর্মিতে তাদের বলা হয় ‘কাতুইকোই’।

পারস্য সম্রাট দরায়ুসের সেনাবাহিনী ছিল বিশাল। সে তুলনায় ফ্যালানক্স গঠনগত দিক থেকে ছিল ছোট। তাই আলেকজান্ডার ফ্যালানক্সে প্রচলিত রীতির বাইরে দুদিকে সৈন্য যোগ করে লম্বায় বাড়িয়ে দিয়েছিলেন।

এ সময় সেনাপতি এসে উপস্থিত হলো।

চাণক্য বললেন, আপনি হেলেনিস্টিক আর্মি নয়, সেলুসিড আর্মির যুদ্ধকৌশল সম্পর্কে এবার ধারণা দিন।

প্রাথমিকভাবে এরা হেলেনিস্টিক আর্মির যুদ্ধকৌশলই একটু এদিক-সেদিক করে অবলম্বন করে। পাশাপাশি মেধাবী অফিসারদের দায়িত্ব দেয় নতুন যুদ্ধাস্ত্র উদ্ভাবন এবং নতুন নতুন কৌশল আবিষ্কারের জন্য। সেলুকাসের মতোই তাঁর পুত্র এন্টিওকাস অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। অসাধারণ মেধার অধিকারী বলে সেলুসিড আর্মিতে তাঁর খুব সুনাম ছিল। পারিবারিক কেলেঙ্কারীতে জড়িয়ে না পড়লে তিনি বিশ্বে সেরা সেনাপতি হতে পারতেন।

মহাকবি হোমার তাঁর মহাকাব্য ইলিয়াডে বীরদের হাতে যে যুদ্ধাস্ত্রের কথা বলেছেন, এগুলোর মধ্যে দোরি একটি। গ্রিকদের সামরিক শক্তির প্রতীক এই সমরাস্ত্রটি। লম্বায় ছোট ধরনের, বর্শা। ফ্যালানক্স আর্মি এটা ব্যবহার করে। এটা মূলত পদাতিক বাহিনী আর্জিরাসপাইডের অস্ত্র। তবে তাদের অশ্ববাহিনী রয়েছে, নাম ‘এপিলেকটোই’।

তাদের আক্রমণ পরিকল্পনা সম্পর্কে বলুন, বললেন প্রধান সেনাপতি।

অশ্বখুরাকৃতির একটি ব্যূহ রচনা করবে বলে এখনো পর্যন্ত পরিকল্পনা রয়েছে। শত্রুসৈন্যদের এরা ভেতরে প্রবেশ করতে দেবে। এরপর তিন দিক থেকে আক্রমণ করবে।

সম্রাট জানতে চাইলেন, পাইক বা সারিসাটা কী?

নতুন উদ্ভাবিত লম্বা বল্লম বা বর্শা, ১৩ থেকে ২০ ফুট লম্বা।

আর জিফোস?

এক হাতে ব্যবহারযোগ্য বর্শা, খুবই মসৃণ। অন্য হাতে শিল্ড বা ঢাল, একে হোপলাইট শিল্ড বলা হয়। হোমারের ইলিয়াডেও এর ব্যবহার রয়েছে। হেলমেটে নতুনত্ব আনা হয়েছে। বর্মটা গলা অবধি তুলে দেওয়া হয়েছে।

গ্রিকরা এত লম্বা সারিসা চালায় কীভাবে, প্রধান সেনাপতির বিস্ময়কর প্রশ্ন। এ প্রশ্নের জবাব না দিয়ে থেসপাস বললেন, গ্রিক সৈন্যদের দৈহিক যে সাজসজ্জা, তা এখন পৃথিবীতে শ্রেষ্ঠ।

তাদের গজ বাহিনী কতটা শক্তিশালী, সম্রাটের প্রশ্নের জবাবে থেসপাস বলল, গজ বাহিনী? বুঝলাম না, ক্ষমা করবেন।

হস্তীবাহিনী।

নেই। উটবাহিনী আছে, তবে তা অনিয়মিত।

হস্তীবাহিনী নেই কেন?

গ্রিকরা অনেকেই অশ্বারোহী বাহিনীকে প্রাধান্য দেয়। তবে দু-একটা হাতি আপনি যুদ্ধক্ষেত্রে দেখতে পাবেন।

আপনাকে ধন্যবাদ, দূতপ্রবর। জেনারেল এন্টিগোনাসকে আমার শুভেচ্ছা দেবেন।

দূত চলে যাওয়ার পর সম্রাট বললেন, আচার্য, প্রাপ্ত তথ্যগুলো জরুরিভাবে আমাদের গোয়েন্দা দিয়ে যাচাই করে নিন। অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানা গেল।

Post a comment

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *