বিমাতা রাণী (মণিপুরী রূপকথা)

বিমাতা রাণী

এক দেশে এক রাজা ছিল। তার রাণী একটি পুত্র একটি কন্যা সন্তান রেখে মারা গেল। রাজা দুই সন্তানকে নিয়ে অত্যন্ত উদ্বিগ্ন দিন কাটাত। রাজা যখন রাজসভায় থাকত দুটি শিশু রাজপ্রাসাদের বাইরের বারান্দায় ছুটােছুটি করে খেলত, দাস-দাসীরাও তেমন খেয়াল করত না। প্রাসাদের বাইরে প্রাচীর ঘেঁষে ছিল প্রজাদের একটি ছোট গ্রাম। খেলাধূলা করতে শিশু দুটি পাশ্ববর্তী গ্রামেও চলে যেত। গ্রামের একজন মহিলা প্রতিদিন শিশুদের খাবার দিত। দই, চিড়া, কলা, মুড়ি খাওয়াত। মাঝে মধ্যে ক্ষীর রেঁধে খাওয়াত। শিশুদুটি পেটভরে খেয়ে মহিলাটির কথা শুনত। একদিন মহিলাটি বলল, তোমাদের বাবা যদি আমাকে রাজপ্রাসাদে নিতেন, তাহলে তো তোমাদের আরও আদর যত্ন করতাম। পরিষ্কার করে প্রতিদিন স্নান করাতাম আর ঘুমপাড়ানি মাসিপিসির গল্প শুনাতাম।

শিশু দুটি তাদের বাবার কাছে গিয়ে একথা জানাল। রাজা নিরুত্তর রইল। পরদিন শিশুদুটি দৌড়ে মহিলার কাছে গেল। মহিলা তাদের সুস্বাদু খাবার খাওয়ালো। শিশুরা পরদিন মহিলাটির কথা বলল। রাজা নিরুত্তর রইল। শেষপর্যন্ত শিশুদুটির সেবাযত্নের কথা চিন্তা করে রাজা একদিন মহিলাটিকে জাকজমকপূর্ণভাবে বিবাহ করে রাজপ্রাসাদে আনল। ছেলে মেয়েদের কাছে সে হল বিমাতা রাণী।

রাজা শিশু দুটিকে খুবই ভালবাসতেন। বিমাতা রাণীর ভাবনা হল, ছেলে মেয়ে দুটি থাকা অবস্থায় তার কোলে সন্তান হলে নিজের সন্তানতো রাজা হতে পারবে না। এজন্য সে শিশু দুটিকে তাড়াবার ফন্দি আঁটল। প্রতিদিন সে মেয়েটিকে গালিগালাজ করত। রাজার কাছেও শিশুদুটি সম্বন্ধে নানান মন্দ কথা শুনাত।

একদিন মেয়েটি বিমাতা রাণীর কাছে একগ্লাস পানি চাইল। বিমাতা কিলবিল করা পোকায় ভর্তি এক গ্রাস পানি পান করার জন্য দিল। আর রাজার জন্য একগ্লাস পরিষ্কার পানি দিল। মেয়েটি পানিতে পোকা দেখতে পেল। সে এই পানি পান করতে অস্বীকার করল। বিমাতা রাণী বলল, “একই কলসী থেকে পানি এনেছি, তা তোমার গ্লাসে পোকা থাকবে। আর রাজার গ্রাসে পোকা থাকবে না- একথা তো আমাকে দোষ দেবার জন্যই বলছি।”

রাজা মেয়েকে ধমক দিয়ে বলল, “ভাল চাইলে পানি পান কর। এই পানি পান না করলে তোমার আর এক ফোটা পানি হবে না রাজপ্রাসাদে।”

মেয়েটি ভয়ে তৃষ্ণায় পোকায় কিলবিল করা পানি পান করল। ফলে যা হবার তা হল। পেটে ঢুকে পোকগুলি ডিম পড়ল। পেটটা ফুলে উঠল লাউয়ের মত। ডিমগুলো যখন বাচ্চা হল তখন মেয়েটির পেট গর্ভবতী। মহিলার মত হল। ওদিকে রাজাকে নানা ছলছুতায় ইনিয়ে বিনিয়ে কথা বলে রাজার মন সন্তানদের প্রতি বিরূপ করে তুলল বিমাতা রাণী।

পেটের পোকা বড় হয়ে মাঝে মাঝে মেয়েটির একেবারে গলা পর্যন্ত বেড়িয়ে আসত। তাই মাঝে মাঝে মেয়েটির বমি হত।

বিমাতা রাণী রাজার কানে মন্ত্রণা দিল তাদের মেয়ে গর্ভবতী হয়েছে। অথচ তার কোন স্বামীই নেই। তাই মেয়েটিকে মেরে ফেলতে হবে। তাহলেই রাজার সম্মান রক্ষা হবে। ছেলেটি সবকিছু জেনেও কিছুই প্রকাশ করছে না ভেবে তাদের দুজনকেই ঘর থেকে বের করে দিতে হবে। সন্তান সিদ্ধান্ত হল হত্যাই করা হবে।

নিঝুম রাতে কতোয়াল দুজনকে ডেকে রাজা বলল, “এই দুটি ছেলে মেয়েকে দূর পাহাড়ে নিয়ে মেরে ফেল। এদের রক্ত দিয়ে আমি স্নান করব। এদের সমস্ত রক্ত একটি বাঁশের চোঙে পূর্ণ করে আমার কাছে এনে দিও।”

–জু আজ্ঞা মহাশয়। কতোয়াল দুজন চলে গেল। যাবার পথে একটি কুকুর তাদের পিছু পথ ধরল। সঙ্গে দুটি সন্তানকেও নিল।

এক উঁচু পর্বত পার হয়ে আর এক পর্বতে উঠার মধ্যখানে একটি গুহার কাছে তারা পৌছল। দুটি সন্তান দুজন কতোয়ালের কাঁধে চেপে পথে যেতে যেতে ঘুমিয়ে পড়ল। তাদের কাঁধ থেকে নামিয়ে দু’জন কতোয়াল পরামর্শ করল। সন্তান দুটি এখানে রেখে যাবার সিদ্ধান্ত নিল তারা। বাঘ, ভালুক এ উঁচু পর্বত অতিক্রম করে আসতে পারবে না। বৃষ্টি হলে পাথরের গায়ে আটকাবে! পাথরের গুহার নিকটে অন্য কোন জীবজন্তু এলে নিজেদের রক্ষা করার জন্য একটি বটি (দা) রেখে দিল আর কুকুরটিকে কেটে রক্ত একটি বাঁশের চােঙায় পূর্ণ করল। একজন কতোয়াল বলল, খাবারের প্রয়োজনে তারা পাশের গ্রামে গিয়ে ভিক্ষে করে খেতে পারবে। যার যা ভাগ্য তাকেই তা বরণ করতে হয়।

সন্তান দুটি পাহাড়ের গায়ে ঘুমিয়ে পড়ল। রাত পোহাল, সূর্য উঠল। চারদিক গরম ছড়িয়ে পড়লেও ছেলেমেয়ে দুটি উঠল না। দুপুরে সূর্য উল্বম্ব রেখায় মাথার উপর পরতেই চোখে ঝিলিক লাগিল। অমনি ছেলে মেয়েরা জেগে উঠল। তারা চোখ মেলে দেখল কেবল পাহাড় আর পাহাড়। গভীর জঙ্গলে পাখির আওয়াজও শুনতে পেল না। ভয়ে আতংকে দুজনে একে অন্যকে জড়িয়ে কাঁদতে লাগল।

গভীর জঙ্গলে সমস্ত দিন কেঁদে কেঁদে খিদেয় কাতর হয়ে পড়ল। ছেলেটি খাবারের খোঁজে বেড়োল। পাহাড়ের ঢালু বেয়ে নামতে নামতে সে দেখতে পেল ছোট্ট একটি গ্রাম।— কিছু সংখক মানুষজনও সে দেখতে পেল। সে ভিক্ষা করতে লাগল। প্রথমে যে বাড়িতে সে ভিক্ষা করতে গেল তারা তাকে কিছু চাল দিল। পরবর্তী বাড়িতেও সে কিছু চাল পেল। ছেলেটিকে সবাই মায়া করে ভিক্ষা দিল। ফিরে এসে একটি বাঁশের চোঙ জোগাড় করল, কিছু শুকনো পাতা কুড়াল। বাঁশের চোঙে পানি ও চাল দিয়ে পূর্ণ করল। দুটি শুকনাে বাঁশের টুকরো ঘষাতেই আগুন বের হল। বাঁশের দুটো চোঙ আগুনের উপর বসিয়ে সিদ্ধ করে দুজনে খেয়ে পেটের খিদে মিটাল।

প্রতিদিন সকালে ছেলেটি ভিক্ষা করতে বের হয়। আর মেয়েটি বাঁশের চোঙে ভাত রাঁধত। একদিন মেয়েটি ভাত রেঁধে অর্ধেক খেয়ে ভাইয়ের জন্য অর্ধেক রেখে ঘুমিয়ে পড়ল।

সন্ধ্যায় ছেলেটি এসে দেখল তার জন্য ডেকচিতে ভাত নেই। ছেলেটি বোনকে ঘুম থেকে ডেকে জাগাল। ভাত না রাখার কারণ সে জিজ্ঞাসা করল।

মেয়েটি বলল, “আমি রেঁধে তোমার জন্য অর্ধেক রেখে দিয়েছি। সেগুলো কে খেল বলতে পারি না।”

এভাবে প্রতিদিন ভাত রেঁধে বোনটি ঘুমালে কে যেন ভাত খেয়ে ফেলে। ভাইটি এসে ভাত খেতে পায় না।

ভাই ভাবল, সব ভাতই তার বোন খেয়ে ফেলছে। আর সে এলে নানা অজুহাত দেখায়।

একদিন ছেলেটি ভিক্ষায় বেরোনোর কথা বলে পাশের পাহাড়ের গায়ে পাথরের আড়ালে লুকিয়ে রইল। লুকিয়ে সে দেখতে পেল বোনটি ঠিকই অর্ধেক ভাতে খেয়ে তার জন্য অর্ধেক ভাত রেখে দিচ্ছে। বোনটি ঘুমিয়ে পড়ার কিছু সময় পর দেখতে পেল তার মুখ থেকে দলে দলে পোকা কিলবিল করে বের হয়ে আসছে। ছোট, বড়, বাচ্চা পোকা, মা পোকা মুখ থেকে বের হয়ে বাঁশের চােঙে ঢুকতে লাগল। সমস্ত ভাত খেয়ে শেষ করে আবার সারি সারি পোকা বোনের মুখের মধ্যে ঢুকছে। সেটা দেখে ভাইটি এক এক করে পোক মারতে আরম্ভ করল। মা পোকাটিকেও সে মেরে ফেলল। বোনের পেটিও ছোট হয়ে গেল। সে সহসা জেগে উঠল। শরীরটাও আরাম বোধ করল। তারা দুজনে আবার ভাত রেঁধে খেল। তারা ভাত খেয়ে একত্রে ঘুমিয়ে পড়ল।

ওদিকে ভিন দেশের এক রাজকুমার জঙ্গলের মধ্যে হরিণ শিকারে বেরিয়েছে। সঙ্গে তার শ’খানেক কতোয়াল সতোয়াল। উঁচু পাহাড়ে হরিণ শিকারে বেড়াতে বেড়াতে গভীর অরণ্যে পৌছে গেল আর সঙ্গে নেয়া খাবারও ফুরিয়ে গেল। একদিকে পানির পিপাসা অন্যদিকে ক্ষুধা তাদের অস্থির করে তুলল। খিদের জ্বালায় চোখ দিয়ে যেন আগুন ছিটকে পড়ছে। এক প্রহরী পথ চলতে চলতে পাথরের গুহার কাছে যেন কার পদধ্বনি শুনতে পেল।

“এত গহীন অরণ্যে কে তুমি?” প্রহরী জিজ্ঞেস করল।

উত্তরের অপেক্ষায় চেয়ে থাকতে সে দেখতে পেল অদূরে গুহামধ্যে এক জীবন্ত মানবী পরীর মতো পাখা মেলে পাহাড়ময় আলোকিত করে রেখেছে।

“–তুমি মানবী না বনদেবী?” ভয়ে ভয়ে সে বলল।

“—কে তুমি! কি জন্যই বা এখানে এসেচ?” রাজকন্যা উত্তর দিল।

আমি, আমি এ রাজ্যের রাজকুমারের কতোয়াল। “আমাকে আপনি ক্ষমা করুন” বলে সে দৌড়াতে লাগল। প্রায় এক মাইল পথ দৌড়ে গিয়ে সে রাজকুমারের কাছে পৌছল।

রাজকুমার বলল, “কিহে কতোয়াল, তুমি কাপছ কেন?”

জ্বি আজ্ঞে যুবরাজ! খাদ্যের খোজে কোথাও ফলমুল পাই কি না। দেখতে দেখতে হঠাৎ আমার চোখে এক আলোর ঝিলিক এসে পড়ল। এত গহীন অরণ্যে দেবী না অন্যকিছু জানার কৌতুহল জাগল। তখন হঠাৎ ওপার থেকে মনুষ্যকণ্ঠ ভেসে এল। তার মুখে লাবণ্যের ছটা পাহাড়ময় আলোকিত করে রেখেছে।

কতোয়ালের মুখে এই অরণ্যদেবীর বর্ণনা শুনে রাজকুমার কতোয়ালদের বলল, “তোমরা প্রস্তুত হও। যেই হােক তাকে আমি জয় করব।”

ঘোড়া টগবগিয়ে ছুটে তীব্র বেগে রাজকুমার পৌছে পাহাড়ের মধ্যে পাথুরে গুহাটির কাছে।

রাজকুমার মেয়েটিকে দেখে তো অবাক। যেন সোনা দিয়ে মোড়া এক দেবী। ঘোড়া থামিয়ে কতোয়ালদের পিছনে ফেলে সে দু’কদম এগিয়ে দর্পভরে জিজ্ঞেস করল, “ওহে, তুমি দেবী না মানবী! দেবী হলে তুমি কিসে খুশি হবে বল। আর যদি মানবী হও তাহলে আমি তোমাকে বিয়ে করে রাণী বানাব। কথা দিলাম।”

সে সময় ভাইটি জঙ্গল থেকে ফলমূল সংগ্রহ করে তার বােনের পাশে দাঁড়াল। রাজকন্যা তার জীবনবৃত্তান্ত গাইল।

বৃত্তান্ত শুনে রাজকুমার মনে খুব ব্যাথা পেল। সেখান থেকে রাজকন্যা ও তার ভাইকে ঘোড়ায় চড়িয়ে রাজপ্রাসাদে আনল এবং মহাধুমধামে তাদের বিবাহ সম্পন্ন হল।

কয়েক মাস কেটে গেল। একদিন রাজকুমারী রাজাকে বলল, “তুমি আমাকে রাণী বানালে তা তো কেউ জানল না। তোমার আত্মীয় স্বজন, প্রতিবেশী রাজ্যের রাজা বাদশা, রাজর্ষি, ব্রহ্মর্ষি, সাধু-সন্ত সবাইকে নিমন্ত্রণ দাও। আমি নিজ হাতে রোধে সমস্ত কাজকর্ম করে তাদের খাওয়াব। তোমার মানসম্মান আরও বৃদ্ধি পাবে।”

রাজা বলল, “সেটাতো উত্তম কথা!” রাজা পঞ্জিকা দেখে এক শুভ পূর্ণিমা তিথিতে দিনক্ষণ ঠিক করল আর সবাইকে নিমন্ত্রণ করল। যেদিন রাণীর হাতের রাধা ভোজন হবে সেদিন সকাল থেকে কেউ হাতি-ঘোড়ায় চড়ে, কেউ পালকিতে চড়ে, কেউ পায়ে হেটে সাধু-সন্ত রাজ রাজেশ্বর সকলেই এসে পৌছল।

আমন্ত্রিত অতিথিদের মধ্যে রাজকন্যার বাবাও এসেছে। রাজকন্যা তাকে দেখা মাত্র চিনে ফেলল। কিন্তু কোন কথা বলল না।

সকাল থেকে এতটুকু বিশ্রামের জো নেই। অত্যন্ত যত্ন করে বিভিন্ন রকমের সুস্বাদু। তরকারি রাণী নিজহাতে রাঁধল। সব রকমের তরকারি থেকে মাত্র এক বাটি করে তরকারি আলাদা করে রাখল সে। আলাদা করা বাটিতে মোটেও লবণ দিল না সে। বাকি সমস্ত বাটিতে পরিমাণমত লবণ দিল।

স্নান সমাপন করে রাজ অতিথিবৰ্গ সুশৃঙ্খলভাবে সারিতে ভোজনে বসল। ছোট ভাইটিও সারাদিন একাজে ওকাজে সাহায্য করে পরিশ্রান্ত হয়ে পড়েছে। রাণী স্বয়ং অতিথিদের খাবার পরিবেশন করল। আর যে সব তরকারির বাটিতে লবণ দেওয়া হয়নি সে বাটির তরকারি তার বাবাকে দিল।

সকল অতিথিদের মুখে একই কথা-রান্না অতীব উত্তম হয়েছে। সকলের মুখে রাণীর তারিফ। এত ভাল রান্নার তরকারি তারা কখনো খায়নি।

রাজকন্যার বাবা একথা শুনে এদিক ওদিক তাকাল। একজন অতিথি বলল, নূতন রাণীমা সাক্ষাৎ একজন লক্ষ্মী। আরেকজন বলল, এমন পরিমাণমত লবণ মরিচ দেওয়া তরকারি যে ঝালও বেশি নয়, লবণের কমতি ও নয় সত্যিই মুখরোচক বটে। তৃতীয়জন বলল, আমার জীবনে অনেক নেমন্তান্ন খেয়েছি, কোথাও ধুয়ার গন্ধভরা তরকারী, কোথাও মরিচ বেশি হয়ে চােখে জল এসেছে, আজকের ভোজন ভারি চমৎকার। সুগন্ধে অর্ধেক ভোজন হয়ে যায়।

এদিকে রাজকুমারীর বাবা এক একটি তরকারির বাটিতে স্বাদ নেন, কোথাও লবণের স্বাদ না পেয়ে মনে মনে পানির মত তরকারি রান্না হয়েছে বলেই ভাবল। শেষপর্যন্ত কোন বাটিতে লবণ না পেয়ে ভোজন করতে না পেরে বলে উঠল, “আমাকে দেওয়া কোন বাটিতে লবণ নাই, এটা কেমন রান্না হল?”

রাজকুমারী করজোড়ে বাবার নিকটে এসে বলল, “হ্যাঁ, রাজা মহাশয়! এক কড়াই এ রান্না করা তরকারি একজনের কাছে লবণের পরিমাণ সঠিক হয়। আর একজনের কাছে মোটেও লবণ হয় না, সেটা কেমন করে হয়?”

রাজা রাগান্বিত হয়ে বলল, “কী করে বলব আমি! একই কড়াই-এ রান্না করা তরকারিতে সকলের কাছে লবণের পরিমাণ সঠিক আর আমার বাটির তরকারিতে মোটেও লবণ নাই! এটা কীভাবে সম্ভব?”

রাজকুমারী বলল, “এক কলসীর পানি একজনের কাছে পরিষ্কার হয় আর একজনের কাছে পোকায় কিলবিল হতে পারে বলে। এক কড়াই-এ রান্না করা তরকারি একজনের কাছে লবণ হয়। আর একজনের কাছে মোটেও লবণ নাও হতে পারে। আর সেকথা না বুঝে আপন পুত্ৰ-কন্যাকে জঙ্গলে মারতে পাঠিয়েছিলে, সে কথা কি তোমার মনে নাই?”

রাজা আকাশ থেকে পড়ল। এক লাফে সে জিজ্ঞেস করল, “তুমি তা জানলে কেমন করে? আর তুমিই বা কে আমাকে বল?”

রাজকুমারী বলল, “আমি তোমারই মেয়ে। আজওিআমি বেঁচে আছি, আমি মরিনি।”

এ সময় তার ভাই দৌড়ে এসে রাজার সামনে দাঁড়াল। রাজা আপন পুত্র-কন্যাকে চিনতে পেরে তাদের কপালে চুমো খেলো। আর অঝোর ধারায় কাঁদতে লাগিল।

রাজা পুত্ৰ কন্যাকে নিয়ে বাড়ি ফিরে এল। আর ষড়যন্ত্রকারিণী স্ত্রীকে রাজপ্রাসাদের পশ্চিমদিকে মাটিতে একটি গর্ত খুঁড়ে জীবন্ত পুঁতে মারল। আর পুত্রকে রাজকুমারের যোগ্য মর্যাদা দিয়ে সমস্ত রাজ্যের উত্তরাধিকারী করল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *