সম্মোহন বিদ্যা – রাজেন্দ্রনাথ রুদ্র

সম্মোহন বিদ্যা - প্রফেসর রাজেন্দ্রনাথ রুদ্র। সম্মোহন বিদ্যা ও শাখা বিজ্ঞান সমূহ হাতে-কলমে শিখিবার সরল উপদেশমালা। চতুর্থ সংস্করণ। জুন - ১৯৩৫।

০. বিজ্ঞাপন ও ভূমিকা

বিজ্ঞাপন মঙ্গলময় বিধাতার আশীর্বাদে সম্মোহন বিদ্যার চতুর্থ সংস্করণ মুদ্রিত ও প্রকাশিত হইল। এতদ্বারা জন সাধারণের মধ্যে এই মহদুপকারী বিদ্যা চর্চার আগ্রহ যে দিন দিন বর্ধিত হইতেছে, তাহা বিশেষ ভাবে সূচিত হইতেছে। দ্বিতীয় সংস্করণে ইহার যে সকল ত্রুটি ছিল, তৃতীয় সংস্করণে সেগুলি...

১.০১ সংজ্ঞা ও পরিভাষা

প্রথম খণ্ড – প্রথম পাঠ সংজ্ঞা ও পরিভাষা যে বিদ্যা বলে মানুষকে সম্মোহিত বা বশীভূত করিয়া তাহার দ্বারা অভীপিত কাৰ্য্য সকল সম্পাদন করা যায়, উহাকে “সম্মোহন বিজ্ঞান” বা “সম্মোহন বিদ্যা” (Hypnotism or Mesmerism) বলে। এই বিদ্যা ব্যবহারিক মনোবিজ্ঞানের (Applied...

১.০২ সিদ্ধির মূল কারণ

দ্বিতীয় পাঠ– সিদ্ধির মূল কারণ গভীর রহস্যপূর্ণ এই আত্মিক বিজ্ঞান শিক্ষা করিতে শিক্ষার্থীর আত্মবিশ্বাস, স্থির সংকল্প, অধ্যবসায় ও সহিষ্ণুতা থাকা আবশ্যক। যে কেহ এই কয়টি মানসিক গুণের সাহায্যে এই গুপ্ত বিদ্যা ও শাখা বিজ্ঞানসমূহ হাতে-কলমে শিক্ষা করিতে সমর্থ। উক্ত...

১.০৩ আহার-বিহার

তৃতীয় পাঠ আহার–বিহার সম্মোহন বিদ্যা দুই রকমে শিক্ষা করা যাইতে পারে? প্রথম প্রকার উপযুক্ত সাধনা বলে মনঃশক্তির বিকাশ ও তৎসঙ্গে সম্মোহন করিবার কৌশল শিক্ষা করিয়া, আর দ্বিতীয় প্রকার কেবল উক্ত কৌশল আয়ত্তের দ্বারা। মানুষকে মোহিত করিবার কৌশল সহজেই আয় করা যায়, কিন্তু...

১.০৪ মনের দ্বিত্বভাব

চতুর্থ পাঠ মনের দ্বিত্বভাব (Duality Of Human Mind) মানব-মনের বিভিন্ন প্রকৃতি বিশিষ্ট দুইটি বিশেষ ‘ভাব’ বা ‘অবস্থা’ আছে। কেহ কেহ উহাদিগকে ‘ভাব’ বা ‘অবস্থা না বলিয়া ‘বৃত্তি বলেন; আবার কেহ কেহ বা উহাদিগকে দুইটি স্বতন্ত্র ‘মন’ বলিয়াই উল্লেখ করেন। আমিও সুবিধার নিমিত্ত...

১.০৫ সম্মোহন আদেশ

পঞ্চম পাঠ সম্মোহন আদেশ যখন আমরা কোন বস্তু বা বিষয় সম্বন্ধে কোন কিছু বিশেষভাবে বা দৃঢ়রূপে কাহারও হৃদয়ে অঙ্কিত করিবার ইচ্ছায় বাক্য প্রয়োগ করি, তখন ঐ সম্পূর্ণ বাক্যটিকে “সম্মোহন ইঙ্গিত” বা “সম্মোহন আদেশ” (hypnotic suggestion) বলে। এই আদেশ যে কেবল বাক্য দ্বারা দিতে হয়,...

১.০৬ চক্ষুর মোহিনী শক্তি

ষষ্ঠ পাঠ চক্ষুর মোহিনী শক্তি উপযুক্তরূপে সম্মোহন আদেশ প্রদানের ক্ষমতা লাভের সঙ্গে, শিক্ষার্থী তাহার দৃষ্টি বা চাহনিকে স্থির ও প্রখর করিবে। যদিও মানুষকে কেবল আদেশ দ্বারাও সম্মোহিত করা যায়, তথাপি তাহার সম্মুখীন হইয়া তাহাকে বশীভূত করিতে, প্রথম সম্মোহন আদেশ শক্তির এবং...

১.০৭ পাস করণ বা হাত বুলান

সপ্তম পাঠ পাস করণ বা হাত বুলান ইংরাজীতে যাহাকে “পাস করণ” কহে, বাঙ্গলায় তাহাকে “হাত বুলান” বলা যায়। লোককে সম্মোহিত (hypnotise or mesmerise) করিতে তাহার শরীরে পাস করিতে বা হাত বুলাইয়া দিতে হয়। এই হাত বুলান বা পাস (laying on of hands) বিশেষভাবে কেবল রোগ চিকিৎসার জন্যই...

১.০৮ শরীরে শিথিলতা উৎপাদন

অষ্টম পাঠ শরীরে শিথিলতা উৎপাদন শরীরের বিশেষ কোন অংশে বা সমস্ত শরীরে ইচ্ছামত শিথিলতা উৎপাদন, সম্মোহন বিজ্ঞানের ব্যবহারিক অংশের প্রথম পাঠ। যেমন অঙ্কশাস্ত্রে ব্যুৎপত্তি লাভ করিতে সর্বাগ্রে সংখ্যা লিখন ও পঠন শিখিতে হয়; কিম্বা কোন ভাষায় জ্ঞান লাভের ইচ্ছা করিলে, ব্যাকরণের...

১.০৯ শিক্ষার প্রণালী

নবম পাঠ শিক্ষার প্রণালী শিক্ষার্থী পূর্ববর্তী পাঠ সমূহ হইতে যাবতীয় জ্ঞাতব্য বিষয় অবগত হইয়া শিক্ষায় প্রবৃত্ত হইতে সমর্থ হইলেও, সে সম্বন্ধে বৰ্তমান পাঠে তাহাকে নির্দিষ্টরূপে উপদেশ প্রদান করা হইল। ইতঃপূৰ্বে কয়েকটি শিক্ষার্থী অনুশীলন অভ্যাস করিবার একখানা তালিকা চাহিয়া...

১.১০ জাগ্ৰদবস্থায় মোহিত করণ

দশম পাঠ জাগ্ৰদবস্থায় মোহিত করণ প্রথম পরীক্ষা – পাত্রকে পশ্চাদ্দিকে ফেলিয়া দেওয়া যাহার হাত খুব তাড়াতাড়ি পড়িয়া যায়, শিক্ষার্থী তাহাকে পাত্র নির্বাচন করিবে। তাহাকে বেশ সরল ভাবে, পা দুই খানা জোড়া করিয়া ও হাত দুইখানা দুই পাশে ঝুলাইয়া দিয়া দাঁড় করাইবে। সে ঐরূপে দাঁড়াইয়া,...

১.১১ জাগ্ৰদবস্থায় সম্মোহিত পাত্রকে প্রকৃতিস্থ করণ

একাদশ পাঠ জাগ্ৰদবস্থায় সম্মোহিত পাত্রকে প্রকৃতিস্থ করণ যখন শিক্ষার্থী বুঝিতে পারিয়াছে যে, পাত্রের হাত, চক্ষু ইত্যাদি দৃঢ়রূপে জোড়া লাগিয়া বন্ধ হইয়া গিয়াছে এবং সে সাধ্যমত চেষ্টা করিয়াও উহাদিগকে খুলিতে পারিনা, তখন তাহাকে নিম্নোক্ত নিয়মে প্রকৃতিস্থ করিয়া দিবে। পাত্রের...

১.১২ জাগ্ৰদবস্থায় মোহিত করা সম্বন্ধে বিশেষ উপদেশ

দ্বাদশ পাঠ জাগ্ৰদবস্থায় মোহিত করা সম্বন্ধে বিশেষ উপদেশ পূর্বোক্ত পাঠ সমুহে যে পরীক্ষাগুলি প্রদত্ত হইয়াছে, উহাদিগকে “শারীরিক পরীক্ষা” (Physical Tests) বলে। উহাদিগকে সম্পাদন করিতে কাৰ্য্যকারক নিম্নোক্ত বিষয়গুলির উপর বিশেষ দৃষ্টি রাখিবে। (১) কোন লোককে তাহার ইচ্ছার...

১.১৩ মোহিতাবস্থা কাহাকে বলে?

ত্রয়োদশ পাঠ মোহিতাবস্থা কাহাকে বলে? ইতঃপূর্বে ইহা পরিষ্কাররূপে বিবৃত করা হইয়াছে যে, মোহিতাবস্থা মনের গ্রহণ-শক্যতা বা সংবেদনার একটি বিশেষ স্তর এবং উহা নিদ্রার সাহায্যে বা উহা ব্যতিরেকে এক ব্যক্তি কর্তৃক তাহার নিজের বা অপরের উপর উৎপাদিত হইয়া থাকে। এই অবস্থা সম্মোহনবিৎ ও...

১.১৪ পাত্রের মনের সংবেদনা

চতুর্দশ পাঠ পাত্রের মনের সংবেদনা (Susceptibility of mind of the subject) পাত্রকে মোহিত করিতে চেষ্টা পাইবার পূর্বে, কোন্ শ্রেণীর লোক সহজ বশ্য, অর্থাৎ কিরূপ প্রকৃতির লোক সহজে সম্মোহিত হয়, শিক্ষার্থীর তাহা জানা একান্ত প্রয়োজন। যেহেতু সে উহা জানিতে পারিলে অল্প চেষ্টাতেই...

১.১৫ পাত্রকে সম্মোহিত করিবার প্রাথমিক উপদেশ

পঞ্চদশ পাঠ পাত্রকে সম্মোহিত করিবার প্রাথমিক উপদেশ কাৰ্যকারক যাহাকে কয়েকটি শারীরিক পরীক্ষা দ্বারা অভিভূত করিতে পারিয়াছে, সম্মোহন নিদ্রায় নিদ্রিত (hypnotise) করিতে প্রথম তাহাকেই পাত্র মনোনীত করিবে। এই প্রণালীতে কাৰ্য্য করিলে সে শিক্ষায় সহজে কৃতকাৰ্য্যতা লাভে সমর্থ হইবে।...

১.১৭ পাত্রকে নিদ্রিত করা সম্বন্ধে বিশেষ উপদেশ

সপ্তদশ পাঠ পাত্রকে নিদ্রিত করা সম্বন্ধে বিশেষ উপদেশ সম্মোহন নিদ্ৰাকৰ্ষণ করিতে পূর্ববর্তী পাঠে যে কয়েকটি নিয়ম প্রদত্ত হইয়াছে, উহাদের যে কোন একটির সাহায্যেই সকল লোককে অনায়াসে নিদ্রিত করা যাইবে, শিক্ষার্থী কখনও এরূপ মনে করিবে না। কোন একটি বা দুইটি নির্দিষ্ট নিয়মের...

১.১৮ মোহিতাবস্থা পরীক্ষা করণ

অষ্টাদশ পাঠ মোহিতাবস্থা পরীক্ষা করণ পাত্র নিদ্রিত হইবার পর কাৰ্যকারক তাহাকে কোন কাৰ্য্য করিতে আদেশ দিবার পূর্বে, তাহার বাস্তবিক নিদ্রা হইয়াছে কিনা, তাহা উত্তমরূপে পরীক্ষা করিয়া লইবে। কারণ সময় সময় বাচাল প্রকৃতির পাত্রগণ নিদ্রিত না হইয়াও নিদ্রার ভাণ করিয়া পড়িয়া থাকে এবং...

১.১৯ মোহিত ব্যক্তির মনে মায়া জন্মান

উনবিংশ পাঠ মোহিত ব্যক্তির মনে মায়া জন্মান পূর্ব পাঠের নিয়মানুসারে পরীক্ষা করার পর, পাত্র নিদ্রিত বলিয়া স্থির হইলে, গম্ভীর ও আদেশসূচক স্বরে বলিবে—“এইক্ষণ তোমার খুব ঘুম হইয়াছে—তোমার গভীর নিদ্রা হইয়াছে। যতক্ষণ আমি তোমাকে জাগিতে না বলিব, ততক্ষণ তুমি জাগিতে পারিবে...