রায়বাঘিনী – অভীক সরকার
প্রথম প্রকাশ ফেব্রুয়ারি ২০২৫
RAIBAGHINI
Historical Novel on Maharani Bhavashankari
by Avik Sarkar
.
আমার ভগিনীসমা দুই রায়বাঘিনী
এষা এবং অন্বেষার
করকমলে।
.
মনে পড়ে যায়…
দেখতে দেখতে প্রায় বছর সাতেক হয়ে এল। চৈত্রের শেষ বিকেল। কলেজ স্কোয়ারে নববর্ষ বই উৎসব চলছে। গেটের সামনে চেয়ারে বসে চা পান করছি। গোলদিঘি থেকে ফুরফুরে হাওয়া উঠে এসে শরীর জুড়িয়ে দিচ্ছে। হঠাৎ চোখে পড়ল, লম্বাচওড়া এক তরুণ আমার দিকে এগিয়ে আসছে।
তরুণ আমার সামনে এসে দাঁড়িয়ে পড়ল। বিনয়ী স্বরে বলল, ‘স্যর, আমি অভীক, অভীক সরকার। আমায় সোমাদি বলল, আপনি দেখা করতে বলেছেন।’
মুহূর্তে মনে পড়ে গেল। আমার আত্মীয়া সোমা মারফত অভীক তার প্রথম গল্পের বই পাঠিয়েছিল। মলাটে ওর ছবি ছিল। কয়েকটা গল্প পড়ে আমি স্তম্ভিত! আমিই সোমাকে বলেছিলাম, দেখা করতে।
‘হ্যাঁ, বোসো। তোমার বইয়ের কয়েকটা গল্প পড়েছি। ফ্যাসিনেটিং। তুমি ফুল লেংথ উপন্যাস লিখছ না কেন?’
‘নবকল্লোলে লিখে জমা দিয়েছি স্যর। হরর ফিকশন। এবার পুজোয় বেরোতে পারে।’
‘গুড। তোমায় একটা রিকোয়েস্ট করব?’
‘ছি ছি, কী বলছেন স্যর! আজ্ঞা করুন স্যর।’
‘অভীক, গিল্ড ‘বইমেলা’ নামে একটা কাগজ বের করে। তার উৎসব সংখ্যায় তোমার উপন্যাস ছাপতে চাই। পারবে?’
‘আলবাত পারব স্যর। তবে…’ অভীক মাথা চুলকোচ্ছে।
‘তবে! কী?’
‘স্যর, ইয়ে মানে…ইতিহাস নিয়ে একটা প্লট আমায় খুব হন্ট করছে। লিখতে পারি?’
‘নিশ্চয়ই পার। কিন্তু মুশকিল হচ্ছে, সবার কলমে আবার ঐতিহাসিক লেখা আসে না। যদি—’
‘স্যর!’ অভীক আমায় থামিয়ে দিয়ে বলল, ‘পছন্দ না হলে ছুঁড়ে ফেলে দেবেন। আমি কিচ্ছু মনে করব না স্যর।’
২০১৯ সালের জুলাই মাসে অভীক ‘বইমেলা’র জন্য জমা দিল ‘পটমঞ্জরী’। আবার আমার চমকে ওঠার পালা। অভীকের কলমে এত বৈচিত্র্য! যে ভাষায় সে ‘খোঁড়া ভৈরবীর মাঠ’ এবং অন্যান্য রোমহষর্ক হরর ফিকশন লেখে, তার সঙ্গে এই ঐতিহাসিক উপন্যাসের ভাষার এতটুকু মিল নেই।
উপন্যাসটি শেষ করেই তাকে ফোন করি, ‘এটা কী করলে?’
‘আজ্ঞে হ্যাঁ স্যর। অনেকটা বড় ক্যানভাসে শুরু করেছিলাম, তখন বুঝতে পারিনি। তাই স্যর—’ একটু থেমে বলল, ‘আমি স্যর, ভেবে ফেলেছি। শুরু আর শেষ দু’দিকে জুড়ব। তবে অনেকটা বড় হয়ে যাবে।’
‘সে হোক। লিখতে শুরু করে দাও। আর হ্যাঁ, আমরাই ছাপব কিন্তু।’
‘কী বলছেন স্যর! আমাকে কিন্তু এই জনরার অথর হিসেবে কেউ কাউন্ট করে না।’
‘করে না, করবে। তবে কাটাছেঁড়া করতে হতে পারে। আপত্তি নেই তো?’
‘কী যে বলেন স্যর! আমার সৌভাগ্য।’
প্রায় তিন বছর অভীক সরকার লেগে রইল ‘পটমঞ্জরী’ নিয়ে। অবশেষে পরিবর্ধিত ও পরিমার্জিত হয়ে যে প্রিন্ট আমার টেবিলে এসে পৌঁছল, তার গুণগত মান নিয়ে বলা বাহুল্য।
আমাদের সম্পাদকীয় দপ্তর অভীককে চেপে ধরল, পরের যে ঐতিহাসিক বড় গল্পটি সে অন্য এক পত্রিকায় লিখেছে, তাকে পরিবর্ধিত করে উপন্যাসের চরিত্র দিতে হবে। তারই ফলশ্রুতিতে এল ‘মহাদেবী’। সাড়া ফেলে দিল দ্বিতীয়টিও। ইতিমধ্যে অবশ্য অভীকের হরর-থ্রিলার কয়েকটি বই বেরিয়েছে।
আমি অবশ্য নাছোড়বান্দা, ‘যে বইই বেরোক, বইমেলায় পত্রভারতীকে তোমায় ঐতিহাসিক উপন্যাস দিতেই হবে।’
‘এই শর্ট টাইমে! ম্যানাসক্রিপ্ট থেকে! কী করে হবে স্যর?’
‘জানি না। কিন্তু দিতে হবে।’
অফিস সামলে রাতের পর রাত অভীকের লেখার ফসল অবশেষে পাঠকদের সামনে।
এই উপন্যাসও বিধৃত মধ্যযুগের বাংলার পটভূমিতে। পাঠান ও মোঘল শাসকের মধ্যে বাংলা দখলের লড়াই, তারই মধ্যে বারো ভুঁইয়াদের উত্থান ও পতন, আবার সেই প্রেক্ষাপটেই উঠে এসেছেন এক অসামান্যা নারী। একইসঙ্গে এই কাহিনিতে মিশে আছে বীরত্ব, শৌর্য, ক্রূরতা-শঠতা, প্রেম-কামনা এবং অগ্নিঝরা বিদ্রোহ।
পড়তে পড়তে মনে হয়েছে, এই কাহিনি বাংলার অদম্য মেয়েদের গল্প, যারা জীবনের লড়াইয়ে কখনও হারতে শেখেনি।
ত্রিদিবকুমার চট্টোপাধ্যায়
কলকাতা
১২ জানুয়ারি ২০২৫






None of the links are working. Please see to it.
Why I can’t get access to this book?