মসলার যুদ্ধ – সত্যেন সেন
প্রকাশক – চিত্তরঞ্জন সাহা
মুক্তধারা
প্রথম প্রকাশ: ১৯৬৯
মুখবন্ধ
স্বাধীনতা-উত্তর কালের বেশির ভাগ সময় শ্রীযুক্ত সত্যেন সেন কাটিয়েছেন পূর্ব বাংলার কারাগারগুলোতে রাজনৈতিক বন্দীরূপে। সেই বন্দীদশায় তাঁর বেশির ভাগ বই লেখা হয়। প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে সে সব বই পূর্ব বাংলায় পাঠক-চিত্তকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছিল।
‘মসলার যুদ্ধ’ এই বইগুলোর একটি। এই ছোট বইটিতে ইতিহাসের একটি পুরোনো অধ্যায়কে তিনি তুলে ধরেছেন অত্যন্ত মনোজ্ঞরূপে। মসলার বাণিজ্য করে কালিকট রাজ্যে এককালে সমৃদ্ধিলাভ করেছিল। সেই সমৃদ্ধি দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিল পোর্তুগালের-কালিকটে অধিকার বিস্তার উদ্দেশ্যে অভিযান শুরু হয় পঞ্চদশ শতকে। কিন্তু শুধু কালিকট নয়। মসলার উৎপাদন বিস্তৃত হয়েছিল পূর্ব ভারতীয় দ্বীপপুঞ্জে। পোর্তুগালের দেখানো পথ ধরে সেখানে এল ওলন্দাজরা, তারপর ইংরেজরা-সপ্তদশ শতাব্দীতে।
মসলার লোভে ইউরোপীয় শক্তিসমূহের অভিযান এবং ভারত ও পূর্বভারতীয় দ্বীপপুঞ্জে তাদের উপনিবেশ-স্থাপনের বিচিত্র কাহিনী এ গ্রন্থে বিবৃত হয়েছে অত্যন্ত চিত্তাকর্ষকরূপে। শুধু ইতিহাসের তথ্য নয়, এর অন্তরালবর্তী সত্যই লেখককে আকর্ষণ করেছে বেশি। তাই যে-সব শক্তি ইতিহাসের ধারাকে গতি দেয়, সেগুলো উদঘাটন করেছেন লেখক। সে যুগের মানুষের জীবনযাত্রার নানা দিক তুলে ধরেছেন তাঁর নিজস্ব ভঙ্গিতে।
একদিকে উপনিবেশ-স্থাপন ও সাম্রাজ্য-বিস্তার, কুৎসিত লোভ ও বর্বর অন্যায়, মানুষের জীবনযাত্রা-নিয়ন্ত্রণের ঔপনিবেশিক প্রচেষ্টা; অন্যদিকে আত্মনিয়ন্ত্রণ ও স্বাধীনতারক্ষার সংগ্রাম, দেশীয় শক্তি ও সম্পদ বাঁচিয়ে রাখার প্রচেষ্টা, বেঁচে থাকবার প্রাণান্ত প্রয়াস। ‘মসলার যুদ্ধ’ তারই ইতিবৃত্ত।
সরল ভাষায়, মনোজ্ঞ ভঙ্গিতে, মর্মস্পর্শী করে এ বিবরণ শ্রীযুক্ত সত্যেন সেন লিপিবদ্ধ করেছেন। আশা করি, পাঠকদের তা ভাল লাগবে।
আনিসুজ্জামান
বাংলা বিভাগ
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়
১৭-৭-১৯৭১


What to say! wish,I could read the book!!