ডাক্তার জিভাগো – বরিস পাস্টেরনাক
[ বরিস পাস্টেরনাক-এর নোবেল পুরস্কারপ্রাপ্ত উপন্যাস ‘ডাঃ জিভাগো’-র অনুবাদ ]
অসম্পূর্ণ বই। ওসিআর ভার্সন। ভালো করে প্রুফরীড করা হয়নি।
অনুবাদ – মীনাক্ষী দত্ত ও মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
কবিতার অনুবাদ ও সম্পাদনা – বুদ্ধদেব বসু
বেঙ্গল পাবলিশার্স (প্রাইভেট ) লিমিটেড
কলকাতা-১২
রূপা অ্যাণ্ড কোম্পানী
কলকাতা-১২
.
সম্পাদকের নিবেদন
“ডাক্তার জিভাগো”-র এই বাংলা অনুবাদ কী ভাবে সম্পন্ন হয়েছে, এবং আমার এতে কতটুকু অংশ ছিলো, সে-বিষয়ে দু-এক কথা বলতে চাই।
দু-জন অনুবাদকের পাণ্ডুলিপি আমি পরিশোধন করেছি; চেষ্টা করেছি ভাষার ভঙ্গি, বানান ও যতিচিহ্নের ব্যবহারে সমতা রক্ষা করতে, যাতে পাঠকের মনে হয় বাংলা পুস্তকটি একই হাতের রচনা। যাকে আক্ষরিকতা বলে অনুবাদে তা অসম্ভব ব’লে জেনে, আমি লক্ষ্য রেখেছি অনুবাদটি যাতে সুখপাঠ্য হয়, অন্ততপক্ষে পাঠযোগ্য; কিন্তু জ্ঞানত একটি শব্দও বর্জন করিনি, বা জটিলকে সরল ও বন্ধুরকে সমতল ক’রে দিয়ে অলীক প্রাঞ্জলতা সৃষ্টি করিনি। আশা করি বাংলা ভাষার পাঠক এই পুস্তক অনায়াসে প’ড়ে উঠতে পারবেন—কিংবা যেটুকু আয়াস তাঁকে করতে হবে তা পাস্টেরনাকের বৈশিষ্ট্যের প্রভাবে, অনুবাদের অপটুতার জন্য নয়।
হয়তো বলা বাহুল্য, এই অনুবাদ “ডাক্তার জিভাগো”-র ইংরেজি সংস্করণ থেকে রচিত হয়েছে; এর সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তিদের রুশীয় সাহিত্য ও ইতিহাস বিষয়ে অল্প-বিস্তর অভিজ্ঞতা থাকলেও রুশ ভাষায় বর্ণপরিচয় নেই। আমাদের এই অক্ষমতা সত্ত্বেও এ-কাজে আমরা অগ্রসর হয়েছি দুটি কথা ভেবে’: প্রথমত, অনুবাদের অনুবাদও অবস্থাবিশেষে প্রভাবশীল হ’তে পারে এবং হয়েছে; দ্বিতীয়ত, রুশ ভাষায় জ্ঞান, সাহিত্য রসবোধ ও বাংলা ভাষায় রচনাশক্তি, এই তিন গুণের সন্নিপাত আমাদের দেশের পক্ষে এমনই বিরল যে তার কোনো সম্ভাবনা অদূর ভবিষ্যতে দেখা যাচ্ছে না। যদি কখনো সেই ‘আদর্শ অনুবাদক’ দেখা দেন, আমরা তাঁকে অভ্যর্থনা জানাতে প্রস্তুত থাকবো, কিন্তু ইতিমধ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ সমকালীন য়োরোপীয় উপন্যাসের সঙ্গে পরিচয় ঘটলে বাংলা ভাষার পাঠক ও বাংলা সাহিত্য লাভবান হবে ব’লে বিশ্বাস করি।
রুশীয় নামগুলির প্রতিলিখনে মোটামুটি জর্মান ভাষার উচ্চারণ-পদ্ধতি অবলম্বন করেছি; যদিও কোনো-কোনো ক্ষেত্রে আমাদের ইংরেজি অভ্যেস প্রশ্রয় পায়নি তাও নয়। এই বিষয়ে সঠিক বা যথাযথ হবার দাবি আমরা করছি না; কোনোরকম ‘পণ্ডিতিয়ানা’ সতর্কভাবে এড়িয়ে গিয়েছি। ইংরেজি সংস্করণের পাদটীকাগুলি সবই রক্ষিত হয়েছে; উপরন্তু, বাঙালি পাঠকের সুবিধের জন্য, অনেক নতুন পাদটীকা যোগ করেছি—সেগুলো ‘অনুবাদকের টীকা’ ব’লে উল্লিখিত হ’লো।
পাঠক লক্ষ করবেন যে এই গ্রন্থে ইংরেজি ‘2’ ব্যঞ্জনের স্থলে ‘জ’ ও ফরাশি ‘j’ বা রুশীয় ‘zh’-এর স্থলে ‘জ’ অক্ষর ব্যবহার করা হয়েছে। ‘জ়’ শব্দের উচ্চারণ ইংরেজি ‘pleasure ‘ বা ‘ measure’ শব্দে ‘s’-এর মতে। বাংলা ভাষায় এই ব্যঞ্জন নেই, কিন্তু আমাদের পক্ষে তা সহজেই উচ্চাৰ্য।
এই সম্পাদন-কর্মে আমাকে প্রভূতভাবে সাহায্য করেছেন শ্রী সুবীর রায়চৌধুরী; তাঁকে আমার কৃতজ্ঞতা জানাই। খৃষ্টীয় ধর্মসংক্রান্ত পরিভাষার অনুবাদে ফাদার পিয়ের ফাল, এস. জে. প্রণীত ‘A Glossary of Bengali Religious Terms’ নামক পুস্তিকার সাহায্য পেয়েছি। যথাসাধ্য মনোনিবেশ সত্ত্বেও হয়তো স্থলে-স্থলে ত্রুটি বা অসংগতি থেকে গেলো; কোনো সহৃদয় পাঠক সে-বিষয়ে আমাকে জানালে পরবর্তী সংস্করণে সংশোধনের চেষ্টা করবো।
বুদ্ধদেব বসু
অগস্ট, ১৯৬০
কলকাতা



Leave a Reply