2 of 2

৮২. কী খাচ্ছে, রান্না কেমন হয়েছে

কী খাচ্ছে, রান্না কেমন হয়েছে এসব টের পাচ্ছিল না দীপনাথ! খেতে হবে বলে মুখ নিচু করে খাচ্ছে মাত্র। বহুদিন বাদে মণিদীপার সঙ্গে এই দেখাটা না হলে বুকের মধ্যে পুরোনো ক্ষতের মুখ নতুন করে খুলে যেত না। কষ্ট হত না।

সে বলেছিল, পাত্রী পছন্দ নয়। সেটা মিথ্যে কথা। মণিদীপাকে সে বহুকাল ধরে ভালবাসে। শুধু চৌকাঠ ডিঙোয়নি। ইচ্ছে করলেই ডিঙোনো যেত। আজও ওদের স্বামী-স্ত্রীর যা সম্পর্ক তাতে দীপনাথ এখনও চাইলে অনায়াসে মণিদীপাকে পেতে পারে। কিন্তু কোথায় একটা নৈতিক বাধা, বিবেকবোধ এসে পথ জুড়ে দাঁড়ায়। সজাগ হয়ে ওঠে নানারকম যুক্তিবুদ্ধি, বিধিনিষেধের বোধ। এই জন্যেই কি মাঝে মাঝে তাকে ব্যক্তিত্বহীন বলে গাল দিত মণিদীপা?

ডিনারটা যত আনন্দের হতে পারত ততটা হল না। বোস চুপ। মণিদীপা পরিবেশন করছে।

দীপনাথ কথা খুঁজে পাচ্ছিল না। হঠাৎ একবার জিজ্ঞেস করল, আমেরিকায় স্নিগ্ধদেবেব ঠিকানাটা জানেন?

মণিদীপা একটু শক্ত হয়ে গেল। বলল, কেন?

ভদ্রলোক যখন এ দেশে ছিলেন তখন দেখা হয়নি, এখন বিদেশে একবার দেখা করার চেষ্টা করব।

দেখা করবেন কেন?

দীপনাথ মুখে বিস্ময় ফোটানোর চেষ্টা করে বলে, কেন বলিনি আপনাকে? উনি যে আমারও লিডার ছিলেন।

মণিদীপা মাথা নেড়ে বললে, দেখা করবেন না দয়া করে।

কেন বলুন তো?

কী লিখেছে আমাকে জানেন?

কী?

লিখেছে ভারতবর্ষের প্রোলেতারিয়েতদের চরিত্র আলাদা। তাদের দিয়ে কিছুই হওয়ার নয়। এত অপদার্থ এলিমেন্ট পৃথিবীর কোথাও নেই। প্রতি তিনজন ভারতবাসীর একজন চোর, অন্যজন অলস, তৃতীয়জন কাপুরুষ। আরও লিখেছে, ভারতবর্ষে বিপ্লবী আর অ্যান্টিসোশ্যালের মধ্যে তফাত প্রায় নেই-ই। শুধু পারপাসটুকু আলাদা, নইলে দু’দলই একই কাজ করে। কিছু বুঝলেন?

দীপনাথ হাসিমুখে বলে, এসবই তো কঠোর সত্য। আমিও এরকমই ভেবে রেখেছিলাম। এখন লিডারের মুখে শুনে আরও পেত্যয় হল।

যাদের নিয়ে রসিকতা করা যায় স্নিগ্ধ তাদের দলে পড়ত না। আজ অবশ্য আপনি সবই বলতে পারেন।

আমি রসিকতা করছি না মিসেস বোস।

করলেও দোষ নেই। শুধু প্লিজ, ওর সঙ্গে দেখা করবেন না।

আমি শুধু ভাবছি এই তিনজনের মধ্যে আমি কোন জনা!

কে তিনজন?

ওই যে স্নিগ্ধ লিখেছেন একজন চোর, একজন অলস, একজন কাপুরুষ।

বোস সাহেব নিপাট ভালমানুষি মুখে শুনতে শুনতে এতক্ষণ একটা মাছের মাঝের কাটা চিবোচ্ছিল। হঠাৎ বোস বলে, তৃতীয়জন।

দেন কাওয়ার্ড।–বলে দীপনাথ বোস সাহেবের মুখের দিকে তাকায়।

বোস মাথা নাড়ে, দি টার্ম স্যুটস ইউ, স্যুটস মি, স্যুটস এভরিবডি।

মণিদীপা একটু ফ্যাকাসে হয়। এই কথার খেলার মধ্যে গোপনে একটু হুল দেওয়ার চেষ্টাও কি নেই! দীপনাথকে বুনু কেন কাওয়ার্ড বলবে?

মৃদু স্বরে মণিদীপা বলে, না, দীপনাথবাবু, আপনি কাওয়ার্ড নন।

নই! বলেন কী?

নন। আমি বলছি।

আপনিই তো এতকাল উলটো বলতেন।

মত পালটেছি।

পালটালেন কেন? কোনও বীরত্বের কাজ করেছি নাকি?

তাও করেননি।

তা হলে?

কিছু লোক থাকে, তারা কাওয়ার্ডও নয়, হিরোও নয়। নিস্পৃহ। নিস্পৃহদের কি কাওয়ার্ড বলা যায়?

নিস্পৃহ মানে কি ইন-অ্যাকটিভ?

পুরোপুরি নয়। কোনও কোনও ব্যাপারে ইন-অ্যাকটিভ।

একজ্যাক্টলি।-বলে বোস সাহেব একটু হাসে, আপনি নিজের কর্মক্ষেত্রে অসুরের মতো বলবান। কিন্তু অ্যাজ রিগ্যারডস আদার আর্থলি ম্যাটারস আপনি এক নম্বরের প্রাচীনপন্থী।

প্রাচীনপন্থী মানে কি ইন-অ্যাকটিভ?

তা নয়। কিন্তু এই বাঁধনছেড়া যুগে প্রাচীনপন্থীরা তো কিছুই করতে পারে না। তাই বাধ্য হয়ে তারা জীবনের স্রোত থেকে সরে গোঁজ হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে। দ্যাট ইজ ইন-অ্যাকটিভনেস।

দীপনাথ মণিদীপার দিকে চেয়ে বলে, আমার আর কী কী ড্র-ব্যাক আছে বলবেন?

অনেক। কিন্ত বুনু যা বলল তা আমার কথা নয়। আমি প্রাচীনপন্থীদের পছন্দ করি। আপনি সেই হিসেবে প্রাচীনপন্থীও নন।

তা হলে?

আপনি নিজেই জানেন না কোনটা ভাল! রক্ষণশীলতা, না প্রগ্রেসিভনেস! তাই আপনার গোটা লাইফ-স্টাইলটাই দ্বিধায় জড়িত।

এটা কি আমার ফেয়ারওয়েল ডিনার, না অন্য কিছু?

এটা আপনার ফেয়ারওয়েল ডিনার নয়। ফেয়ারওয়েল আবার কী? ছ’মাসের জন্য যাচ্ছেন তো!

ছ’মাসের জন্য যাচ্ছি বটে, কিন্তু অফার পেলে সারাজীবন থেকে যাব।

কেন?

আমার তো পিছুটান নেই। দায়-দায়িত্ব নেই।

আর কিছু?

এই দেশ আমার ভালও লাগে না। স্নিগ্ধদেব তো মিথ্যে কথা লেখেননি। তবু তো স্নিগ্ধদেব এ দেশের মুক্তির জন্য কিছু করার চেষ্টা করেছিলেন। আমি তাও করিনি। এখন জানি, করলেও কিছু হবে না। দিনের পর দিন মতলববাজদের পলিটিকস, মানুষের তৈরি করা মানুষের দুর্ভোগ, সবরকম অনিয়ম আর বিশৃঙ্খলা সহ্য করে থেকে যেতে হবে। তার চেয়ে সেই দেশ ভাল। সাদা মানুষরা সেখানে একটা মোটামুটি ভাল জায়গা তৈরি করে রেখেছে।

স্নিগ্ধদেব আর কী লিখেছে জানেন?

কী লিখেছে?

উনি আপনার লিডার তো?

একশোবার। স্নিগ্ধদেব লাল সেলাম।

শুনুন। স্নিগ্ধ লিখেছে, আমেরিকা প্রথম এক মাস বিস্ময়কর, দ্বিতীয় মাসে উপভোগ্য, তৃতীয় মাসে চমৎকার, চতুর্থ মাসে মৃদু উদ্বেগজনক, পঞ্চম মাসে আরও উদ্বেগজনক, ছ’মাসে বিরক্তিকর, এক বছর পর আমেরিকার মধ্যে একটা আফ্রিকার জঙ্গলের চেহাবা ধবা পড়ে যায়।

ওঃ, ওসব কে না জানে! আমেরিকা হচ্ছে পৃথিবীর সর্বাধিক আলোচিত দেশ। সবাই আমেরিকার সব খবর রাখে।

তবু কথাটা কিন্তু আপনার লিডারের।

তা বটে। কিন্তু আমি এমন কথা বলিনি যে, উনি এখনও আমার লিডার। আমি বলেছি, উনি আমার লিডার ছিলেন।

মণিদীপা একটু ছটাকে হাসি হেসে বলে, উনি কখনও আপনার লিডার ছিলেন না। কেউ কখনও আপনার লিডার ছিল না। থাকলে আপনার আজ এত দ্বিধা দেখা দিত না জীবনে। কমিটমেন্ট না থাকলে মানুষের যেমন ফ্লোটিং নেচার হয় আপনার ঠিক তেমনি।

দীপনাথ একটু হেসে বলে, আপনি আজ সেই পুরনো ফর্মে আছেন।

কিন্তু আপনি তো সেই বেকার ভালমানুষ দীপনাথটি নেই। পালটে গেছেন, অনেক পালটে গেছেন।

খারাপ হয়ে গেছি নাকি?

ভাল কি ছিলেন?

বোস সাহেবের বিশাল দেহ থেকে একটি উদগার বেরিয়ে এল। রেফারির দায়িত্বটা নেওয়া উচিত মনে করে বোস বলল, রিসেস রিসেস। পরের রাউন্ড দীপার খাওয়ার পর।

মণিদীপার মুখ-চোখ থমথমে। বদ্ধ রাগে-আক্রোশে ফেটে পড়ছে।

দীপনাথ উঠে পড়ল। সঙ্গে বোস সাহেবও।

সামনের বারান্দায় চেয়ার পাতা ছিল। বোস আর দীপনাথ এসে বসল মুখোমুখি।

চুপচাপ অনেকটা সময় কেটে যাওয়ার পর বোস বলল, স্টেটসে আমি গিয়েছিলাম বছর দশেক আগে। এখন অনেক কিছু পালটে গেছে।

তাই হবে।—উদাসীন জবাব দেয় দীপনাথ।

একটা কথা বলব?

কী?

উই আর গ্রেটফুল টু ইউ ফর মেনি থিংস। কিন্তু আমি বা দীপা কেউ অকৃতজ্ঞ নই। থ্যাংকস ফর এভরিথিং ইউ হ্যাভ ডান অর ট্রায়েড টু ড়ু ফর আস।

দীপনাথ মৃদু হেসে বলে, আমার জীবন কিছু চেষ্টারই সমষ্টি মাত্র। কিন্তু কিছুই আমার দ্বারা হয়নি। সব চিড় কি জোড় খায়? চেষ্টা কি আমরাও কম করেছি?

কী হবে বোস সাহেব?

আই অ্যাম প্যাসিভলি ওয়েটিং ফর সামথিং টু হ্যাপেন। কিন্তু সেটা যে কী তাও জানি না। হয়তো কিছু একটা হবে। হয়তো হবে।

হোক বোস সাহেব, হোক। আমি আজ উঠি।

দাঁড়ান, দীপা খেয়ে আসুক।

দীপনাথ মাথা নাড়ে, না। আমার একটু কাজ আছে।

বোস সাহেব বুঝদারের মতো মাথা নেড়ে বলে, জানি, ইটস এ বিট সাফোকেটিং ফর ইউ। গুডনাইট দেন।

গুডনাইট।

লেক গার্ডেন্স-এর ফ্ল্যাটটা বুকড হয়ে গেছে কিন্তু।

ধন্যবাদ।

বেরিয়ে আসার সময় খাওয়ার ঘরে থমকে দাঁড়িয়ে পড়ে দীপনাথ। সে জানত, মণিদীপা এখন খাবে না। হয়তো আজ রাতেই খাবে না। ঠিক তাই। মণিদীপা নেই।

মুখ ঘুরিয়ে মণিদীপার ঘরের দরজাটা দেখল দীপনাথ। আঁট করে বন্ধ।

যা ত্যাগ করতে হবে তার দিকে আকৃষ্ট না হওয়াই ভাল। দীপনাথ নেমে আসে দোতলা থেকে। গাড়িতে ওঠে। তারপর মণিদীপার কাছ থেকে বহু দূরের পার্থক্য রচনা করার জন্য মনে মনে প্রস্তুত হয়।

 

একদিন সকালবেলা হঠাৎ দীপনাথের মনে হল, কেমন আছে সুখেন্দু আর বীথি?

সেইদিনই অফিসের পর তার গাড়ি এসে থামল গড়পাড়ে বীথির বাসার সামনে।

তাকে দেখে যেরকম হইচই পড়ে যাবে বলে ভেবেছিল দীপনাথ, তা হল না। যথারীতি দরজা খুলে বীথি বলল বটে “ওমা! কী ভাগ্যি!” কিন্তু গলায় সেই উত্তাপ এল না। সেই প্যাশন তো নয়ই।

সামনের ঘরেই লুঙ্গি পরে সুখেন বসে। মুখে ভারী অমায়িক হাসি। কিন্তু তা অমায়িকতার বেশি কিছু নয়। দীপনাথের মনে হল, এখন এ বাড়িতে চৌকাঠের গভীরে ঢোকা তার বারণ।

বীথি খাবার নিয়ে এল। মেলাই খাবার। মিষ্টি, কেক, ওমলেট। সেসব ছুঁলই না প্রায় দীপনাথ।

সুখেনকে জিজ্ঞেস করল, কেমন আছেন?

একটু আগেই বোধহয় বড় করে এক ডোজ টেনেছে সুখেন। মুখটা বিকৃত করে বলল, আর দাদা ভাল-মন্দ! সব সমান।

বীথি ঘরে ছিল না। দীপনাথ নিচু গলায় জিজ্ঞেস করল, বিয়ে করে ভাল লাগছে না?

বিয়ে আবার কী! দাদার যে কথা। এসব আবার বিয়ে নাকি? একসঙ্গে থাকা, কনট্রাক্ট। আজ আছি, কালই যে যার পথ দেখব হয়তো।

বীথির স্বামীর খবর কী?

খবর গণ্ডগোলের। ছেলেও বিগড়েছে।

আপনি তা হলে সুখে নেই বলুন?

খুব সুখে আছি দাদা। খুব সুখে।—বলে সোফার পাশে মেঝেয় আড়ালে রাখা একটা বোতল তুলে অল্প একটু গলায় ঢেলে ছিপি আটকে সরিয়ে রাখে সুখেন। তারপর বলে, হারামির বাচ্চা জেল থেকে বেরিয়ে অবধি কেবল টাকা ঝাকছে।

কে বলুন তো?

বীথির হাজব্যান্ড।

টাকা কেন?

বলছে টাকা না পেলে কেস করবে।

ডিভোর্স হয়নি?

না। মামলা সবে কোর্টে উঠেছিল। ভেবেছিলাম, ব্যাটা যখন ঘানি টানছে তখন আর চিন্তা কী? কিন্তু শালা তিন-তিনটে কেসে কী করে যে প্যারোল পেয়ে গেল! এদিকে আমরা আহাম্মকের মতো কাগজে সইসাবুদ করে বসে আছি।

লোকটা কি ভয় দেখাচ্ছে?

খুব দেখাচ্ছে। বীথিকে নয়, আমাকে। বলছে কী ওই ইংরিজি কথাটা—অ্যাডালটরি না কী যেন, তাইতে ঘানিতে ঘোরাবে।

ছেলে কী বলছে?

সে তো আর-এক কেলো। ছেলে আর বাপ হাত মিলিয়ে ফেলেছে।

হঠাৎ সন্দিহান দীপনাথ প্রশ্ন করে, শুধু ছেলে আর বাপ? ছেলের মাও নেই তো?

কে, বীথি? কী যে বলেন।

শুনুন সুখেন। আমি আমেরিকা চলে যাচ্ছি। বহুদিন আপনার সঙ্গে দেখা হবে না। সারাজীবনেও না হতে পারে। তাই বলে যাচ্ছি, আপনি সবাইকে অতটা বিশ্বাস করবেন না।

বীথিকে বিশ্বাস না করে উপায় নেই।

একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলল দীপনাথ। বীথি তাকে দেহ দিয়েছিল। সেটা বড় কথা নয়। সেজন্য বীথির কাছে তার কোনও ঋণ নেই। কিন্তু সুখেনের কাছে আছে। সুখেন তাকে বড় ভালবাসত। এই লোকটা ছিবড়ে হয়ে যাক তা সে চায় না।

হাসির একটা ব্যর্থ চেষ্টা করে দীপনাথ বলল, লোকটা এ পর্যন্ত কত টাকা নিয়েছে?

হাজার পাঁচেক।

আরও কত চায়?

তার কিছু ঠিক নেই। আমার সঙ্গে দেখা হয় না। বীথিকে এসে শাসায়।

শাসাক না! কোর্টে অ্যাডালটরি প্রমাণ করা কি খুব সোজা? আপনি টাকা দেওয়া বন্ধ করুন।

রান্নাঘবে কাপ-ডিশের শব্দটার দিকে কান রেখেছিল দীপনাথ। শব্দটা বন্ধ হতেই মুখে কুলুপ আঁটল। বীথি আসছে।

চা নিয়ে বীথি ঘরে ঢুকতে তার মুখের দিকে খুব ভাল করে চেয়ে দেখে দীপনাথ। তার জীবনের প্রথম নষ্ট মেয়েমানুষ। এরই সঙ্গে তার জীবনের প্রথম আনন্দ। একে সে কখনও বিশ্বাস করেনি। করা যায় না। সুখেন অন্ধ, তাই বিশ্বাস করে।

কিন্তু এই খপ্পর থেকে সুখেনকে বের করে নেওয়ারও কোনও উপায় নেই। বোকাটা ছিবড়ে হবে।

চা খেয়ে উঠে দাঁড়ায় দীপনাথ। বলে, সুখেন, একটু এগিয়ে দেবেন নাকি শেষবারের মতো!

বীথি হাসল, এগিয়ে দেওয়ার মতো অবস্থা আছে কি না দেখুন। বিকেল থেকে টানা দু’ঘণ্টা ড্রিংক করেছে।

ওর ড্রিংক করা আপনি কমাতে পারেন না?-বীথিকে খুব হালকা গলায় জিজ্ঞেস করে দীপনাথ।

কথা শুনলে তো!

ঠিকমতো বারণ করুন, শুনবে।

বীথি কথাটা নিল না। মোড় ফিরে বলল, আমাদের জন্য কী পাঠাবেন ওখান থেকে?

কী পাঠালে খুশি হবেন?

যা আপনার খুশি। মনে রাখতে পারি এমন কিছু।

কেন? এমনিতে মনে থাকবে না?

কী যে বলেন! থাকবে না আবার! সুখেন তো এখনও সারাদিন আপনার কথা বলে।

বলে?

ভীষণ বলে।

সুখেন টপ করে উঠে গিয়ে লুঙ্গি ছেড়ে একটা প্যান্ট আর হাওয়াই শার্ট পরে বেরিয়ে এল, চলুন দাদা। বীথি, আমার ফিরতে রাত হবে।

কোথায় চললে?

দাদা দূর দেশে চলে যাচ্ছেন। কোথাও গিয়ে একটু বসে সুখ-দুঃখের কথা বলে আসি।

সে তো এখানে বসে বললেই হয়।

না গো, সে আমাদের আলাদা জায়গা আছে।

বলে দেরি না করে দীপনাথকে একদম ঠেলতে ঠেলতে বেরিয়ে আসে সুখেন। তারপর অভ্যাসবশে টানা রিকশা ভাড়া করে।

একটু হেসে দীপনাথ বলে, মোড়ে আমার গাড়ি দাঁড়িয়ে আছে। চলুন।

গাড়ি! ওঃ বাব্বাঃ!

অবাক হওয়ার কিছু নেই। অফিসের গাড়ি।

পাশাপাশি হাঁটতে হাঁটতে সুখেন বলে, আমার টানা রিকশার মতো ভাল আর-কিছুকে লাগে না।

গাড়িতে উঠে দীপনাথ জিজ্ঞেস করে, কোথায় যাবেন?

সেই চিনে রেস্তোরাঁয় চলুন।

আমার যে খিদে নেই।

খিদে নেই! তার মানে দাদার এখন টাকা হয়েছে।

তা নয়। খিদের সঙ্গে টাকার সম্পর্ক কী?

আছে। সে পরে হবে’খন। আপনার সঙ্গে আমার কিছু কথা আছে।

তা হলে চলুন। কথাটা কী?

ওঃ সে অনেক কথা। আমি জীবনে আর কোনও আনন্দ পাচ্ছি না। পাওয়ার কথাও নয় যে!

Post a comment

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *