সাতগাঁর হাওয়াতাঁতিরা – পরিমল ভট্টাচার্য
সাতগাঁর হাওয়াতাঁতিরা – পরিমল ভট্টাচার্য
[অসম্পূর্ণ। কাজ চলছে।]
Satgaar Haoatantira by Parimal Bhattacharyay
প্রথম প্রকাশ : জানুয়ারি ২০২৫
প্রচ্ছদ : রাজীব চক্রবর্তী
.
‘ষষ্ঠীঠাকরুণ বানরের চোখে হাত বোলালেন, বানরের দিব্যচক্ষু হল।’
– অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর, ক্ষীরের পুতুল
And the crack in the teacup opens
A lane in the land of the dead
As I walked out one evening, W.H. Auden
.
এটি একটি কল্পকাহিনি। এখানে বর্ণিত সকল নদী, মধ্যবর্তী জনস্থান, জাহাজঘাটা, ঘড়িঘর, গির্জা, ট্যাভার্ন, আদালত, মানুষ, পাখি, বিগ্রহ, শিয়ালের ডাক, জোনাকির মিটমিটে আলো, মার্টিন্স রেলের চাকায় কেরেস্তান-গোরস্তান ধ্বনির অস্তিত্ব কেবলমাত্র এই বইয়ের দুই মলাটের মাঝেই রয়েছে।* কুশীলবেরা কাল্পনিক, অক্ষরপুঞ্জ দিয়ে গড়া। যদি বা কখনো তাদের কারোর ছায়া পৃথিবীতে পড়েও থাকে, দিনের শেষে তারাও এই টেক্সটের গন্ডিতেই বাঁধা। কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী কিংবা ঘটনাকে হেয় অথবা মহিমান্বিত করার কোনোরূপ উদ্দেশ্য নেই। তৃতীয় ব্যক্তির বয়ানে রচিত আখ্যান, প্রচলিত সামাজিক রীতি অনুসারে সাধারণত চরিত্রদের ‘সে’ ও ‘তিনি’ সর্বনামে চিহ্নিত করা হয়েছে।
*পর্ব নয়-এ উদ্ধৃত শার্ল বোদলেয়ারের একটি কবিতা রয়েছে ক্লেদজ কুসুম-এ বুদ্ধদেব বসুর অনুবাদ
.
— কিন্তু আপনি আমায় একটা পোস্টকার্ডে নির্বাসন দিতে পারেন না, হুজুর! পোস্টকার্ড কোনো দেশ নয়!
— আপনি কী বলতে চাইছেন? স্পষ্ট করে বলুন।
— এই পোস্টকার্ড যে দেশ থেকে এসেছিল সেই দেশটাই যে আর নেই, ইয়োর অনার।
— এটা দেখে মনে হচ্ছে বংশলতিকা! তাই না?
— আজ্ঞে হ্যাঁ! বংশলতিকা বলুন, বংশবৃক্ষ বলুন… শিকড়গুলো ওপরের দিকে, নীচে নেমেছে শাখাপ্রশাখা। আমার বাবার দিকে পাঁচ প্রজন্মের পূর্বজের তালিকা।
— আপনারা অন্ততপক্ষে পাঁচ প্রজন্ম ধরে সিলেটে থেকেছেন, এই পোস্টকার্ড তার প্রমাণ!
— কিন্তু হুজুর, ওই পোস্টকার্ডটা সিলেট থেকে পাঠানো হয়েছিল আমার জন্মের আগে, আমার বাবা-মায়ের বিয়ের সময়। বাবার সাত পুরুষের নামের তালিকা বিয়ের আভ্যুদয়িক অনুষ্ঠানে দরকার ছিল। পোস্টকার্ডে কলকাতার ঠিকানা লেখা আছে, দেখুন— ২৩/৩ কলুটোলা লেন। আমার বাবা ঈশ্বর রথীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায় তখন কলকাতায় ওই ঠিকানায় থিতু। আমার মা প্রয়াতা শিউলিরানি চক্রবর্তী ছিলেন সাতগাঁয়ের মেয়ে, যা ইন্ডিয়ার মধ্যেই
— এভিডেন্স কই? সিলেটে যে আপনি জন্মাননি এখানে কোনো ডকুমেন্টে সে কথা লেখা নেই?
— কিন্তু আমি জীবনে কোনোদিন সিলেটে যাইনি, ইওর অনার! আমার জন্ম সাতগাঁয়ে, মামারবাড়িতে। বাড়িতেই প্রসব হয়, পারিবারিক দাই এসে নাড়ি কাটে। জন্মের কোনো পঞ্জীকরণ হয়নি।
— এভিডেন্স কই?
— মানে যা ঘটেনি তার এভিডেন্স?
— আপনার কেসটা ডিফেন্ড করছে কে?
— আমি, মি’লেডি। আমিই ডিফেন্ডেন্ট, আমিই ডিপোনেন্ট।
— আপনি কী করেন?
— আ-আমি? কলেজে পড়াই।
— কী সাবজেক্ট?
— সাহিত্য।
— দেখুন মিস্টার… এখানে সাহিত্য ফলানোর কোনো সুযোগ নেই। উত্তরাধিকারের সুস্পষ্ট এভিডেন্স চাই, ক্লিয়ার-কাট এভিডেন্স অফ সাকসেশান। আপনার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ তার খন্ডন, পয়েন্ট বাই পয়েন্ট। সম্ভব হলে টেবিলের আকারে। তাতে ইতিহাস থাকবে, ভূগোলও থাকতে পারে। কিন্তু প্লিজ, সাহিত্য নয়। নো পোয়েট্রি!
— কিন্তু যা ঘটেনি তার এভিডেন্স? মামারবাড়ির আঁতুড়ঘরে আমার জন্ম, বুড়ি দাই এসে…
— আপনি বলেছেন। এত বার ‘আমি-আমি’ করবেন না। আর শুধু মুখে বললে হবে না, দেখান! শো, ডোন্ট টেল!






তারকোভস্কির ঘরবাড়ি,অপুর দেশ: একটি আত্মকাহিনী,নাহুমের গ্রাম ও অন্যান্য মিউজিয়াম এই বইগুলোও দেওয়ার অনুরোধ রইল।
Eita পুরোটা কবে আসবে? অসংখ্য ধন্যবাদ এইটা আপলোড করার জন্যে। শোভন চক্রবর্তীর তুষার খঞ্জর টা পারলে আপলোড দিয়েন
Pls পুরোটা আপলোড করুন ❤️
অসংখ্য ধন্যবাদ, এইটা দেওয়া জন্য।
সম্পূর্ণ কবে আসবে?