সাতগাঁর হাওয়াতাঁতিরা – ১.৩

১.৩

A.C. Ghoshal, T.C.-র চোখে সেদিন ওই বিচিত্র ঝিলিকের রসায়ন বুঝে উঠতে বাপ্পার অনেক বছর লেগে যাবে। এ হলো কাতর বিরহ আর নিষ্ঠুরতার এক দুর্লভ ককটেল, যা কেবলমাত্র ব্যর্থ ভগ্ন প্রেমিক হৃদয়ে উৎপন্ন হয়। বাপ্পা এও জানবে, এন্টামিবা হিস্টোলিটিকা নামে এক ক্রান্তীয় প্রোটোজোয়ান পরজীবী শিশুকাল থেকে মানব দেহের অন্ত্রাশয়ে বাসা বেঁধে থাকলে চেহারাটা অমন হাড়গিলে পাখির মতো হয়ে যায়।

অভয়চরণ ঘোষালের বাবা ছিলেন ওলন্দাজডাঙার বড়ো কাছারিতে নোটারি ক্লার্কের সহকারী। যক্ষ্মা রোগে তাঁর অকালমৃত্যু হলে চার বোন ও মাকে নিয়ে সংসারের দায়দায়িত্ব এসে পড়ে সদ্যযুবক অভয়চরণের ঘাড়ে। কলেজের পড়া মাঝপথে চুকিয়ে কাছারিতে গিয়ে বাবার টুলে বসতে শুরু করে সে। কলমচির সামান্য আয়ে চারটি বিবাহযোগ্যা বোন নিয়ে সংসার; দুশ্চিন্তায় অভয়চরণের আন্ত্রিক পোষ্যেরা বংশবৃদ্ধি করে, চুলগুলো পেকে যায়, দেহে অকাল বার্ধক্যের ছাপ পড়ে। বিধবা মায়ের হাতের থানকুনি, জামপাতা, আদাশুট, ডালিমগাছের ছাল থেকে শুরু করে সব ধরনের টোটকা ব্যর্থ হয়। অভয়চরণ সাতগাঁর প্রসিদ্ধ বৈদ্যরাজ রামপ্রাণ চক্রবর্তী, ওরফে পরাণ ডাক্তারের শরণাপন্ন হয়।

হোমিওপ্যাথি ও আয়ুর্বেদের মেলবন্ধন ঘটিয়ে এক অভিনব পদ্ধতিতে চিকিৎসা করতেন পরাণ ডাক্তার। তাঁর খ্যাতি সর্বাপেক্ষা নাছোড় অদম্য রোগ সারানোয় সেইসব রোগ, যা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে বয়ে চলে এবং নশ্বর দেহ পুড়ে ছাই হয়ে গেলেও উত্তরাধিকারীর দেহে পুনর্জন্ম লাভ করে। ডাক্তারের ফি ও ওষুধ মিলিয়ে চিকিৎসার ব্যয় নামমাত্র, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদী। তার কারণ, পরাণ ডাক্তার বলেন–‘আমি রোগ সারাই না, রোগীর দেহ সারাই করি!’

দীর্ঘসূত্রিতা নিয়ে অবশ্য তাঁর রোগীদের কোনো সমস্যা নেই। এলাকার যেসব গরীবগুর্বো মানুষ তাঁর চেম্বারে ভিড় জমায় তাদের একটি জিনিসই অঢেল আছে– সময়।

এক শনিবার কাছারি ছুটির দিন সকালে অভয়চরণ হাজির হলো ব্রাহ্মণপাড়ায়, আদিরামবাটি মন্দির সংলগ্ন ফার্মেসিতে। বাগানের ধারে নীচু একটেরে বাড়ি, বারান্দায় বেঞ্চি পাতা। বেঞ্চিতে মেঝেয় হত্যে-দেওয়া রোগীদের ভিড়। ঘন্টা দুই অপেক্ষার পর চেম্বারে ঢুকে ডাক্তারবাবুর রুপোলি চশমায় ফ্রেমবন্দি উজ্জ্বল গোল চোখ, নাকের নীচে কানের ফাঁকে কাশফুলের মতো সুপক্ক কেশরাজি ও পরনে সাদা ফতুয়ার ওপর নস্যির ছোপ দেখে ভক্তির উদ্রেক হলো অভয়চরণের। সেটা গাঢ় হলো যখন তিনি একে একে নাড়ি, চোখ, জিভ, ফুসফুস পরীক্ষা করলেন, নিবিষ্ট হয়ে রোগের উপসর্গ ও ইতিহাস শুনলেন, এবং একটি ছোটো কালো রেক্সিন-বাঁধানো খাতায় জরুরি তথ্যগুলি টুকে নিলেন। চেম্বারের দেয়ালে ফ্রেমে বাঁধানো তিনটি ছবি ক্যালেন্ডারের প্রিন্টে আদিরামচন্দ্র, ডাক্তারবাবুর কুলদেবতা, দ্বিতীয়টি তাঁর ইষ্টদেবতা হোমিওপ্যাথির স্রষ্টা স্যামুয়েল হ্যানিম্যান, তৃতীয় ছবিটি তাঁর খুল্লপিতামহ সেকালের প্রখ্যাত বৈদ্যরাজ গঙ্গারাম চক্রবর্তীর, যাঁর কাছ থেকে এই ফার্মেসি ও বেশ কিছু রোগী রামপ্রাণ উত্তরাধিকার সূত্রে পান। গঙ্গারামের নাম এ তল্লাটে কে না জানে। অগ্নিযুগের বিপ্লবীদের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ ছিল, যে কারণে ব্রিটিশ সরকারের পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তারও করে।

ডানদিকে দেয়ালজোড়া কাঠের শেফে প্রত্যেক রোগীর জন্য একেকটি কালো খাতা, বর্ণানুক্রমে সাজানো। নামের কল্যাণে অভয়চরণের ঠাঁই হলো ওপরের তাকে। এক টুকরো কাগজে সাংকেতিক ভাষায় লেখা ওষুধ আর পথ্যাবলীর নির্দেশ হাতে নিয়ে চেম্বারের লাগোয়া লম্বাটে ফার্মেসিঘরে ঢুকে চোখ ধাঁধিয়ে গেল তার। মেঝে থেকে ছাত পর্যন্ত কাঠের শেলফে বিচিত্র আকারের বয়াম বোতল বিকার, তাতে নানান রঙের ভেষজ আরক ও তেল, গুচ্ছ গুচ্ছ শেকড় বীজ বাকল, বিবিধ পাথর প্রবাল খনিজ আকরিকখন্ড, অচেনা পশুপাখির হাড় নখ চঞ্চু ইত্যাদি। যেন আস্ত মিউজিয়াম, যার কিছু কিছু গঙ্গা কবিরাজেরও আগের আমলের। সাতগাঁ যখন বিখ্যাত বন্দর ছিল সেই কালের, দূরদূরান্তের দেশ থেকে এসেছে। ফার্মেসির পেছন দিকে সেকালের মেটে উনুন ও তামার পাতনপাত্র রয়ে গিয়েছে এখনও।

সামনে তিনটি কাচের আলমারির ভেতর সারিবদ্ধ কর্ক-আঁটা গালা রঙের শিশিতে হোমিওপ্যাথির মাদার টিংচার। ধুতির ওপর কলারতোলা পাঞ্জাবি, চোখে পুরু চশমা এক প্রবীণ কম্পাউন্ডার, যাঁর ঠোঁটে শ্বেতীর দাগ, আলমারি হাতড়ে চলেছেন। এক ফার্মাসিস্ট কাউন্টারের পেছনে উঁচু টুলে বসে তাকে নির্দেশ দিচ্ছেন, রোগীদের হাত থেকে প্রেস্ক্রিপশন নিচ্ছেন, সাদা কাগজের টুকরোয় চিনির গ্লোবিউলের ওপর শিশির মুখে কর্ক ধরে বিশেষ দক্ষতায় নির্দিষ্ট সংখ্যক ফোঁটা ফেলছেন, পুরিয়া বানিয়ে খামে ভরছেন, মাদার টিংচারে নির্দিষ্ট পরিমাণ জল মিশিয়ে হাতের তালুতে আঘাত করে করে পরমানু বিভাজন ঘটাচ্ছেন, কোন পুরিয়া কখন কীভাবে খেতে হবে বলে দিচ্ছেন, খামের গায়ে দাগ কেটে দিচ্ছেন, কী কী খাদ্যদ্রব্য খাওয়া চলবে না, গায়ে কী কী গন্ধদ্রব্য মাখা চলবে না সেসবের নির্দেশিকা দিচ্ছেন, মাঝে মাঝে অধৈর্য হয়ে ধমকও দিচ্ছেন রোগীদের।

ফার্মাসিস্টটি এক নারী, প্রায় বালিকাই বলা যায়। তাঁর পরনে নীল পাড় সাদা শাড়ি, ঊর্ধ্বাঙ্গে গলা ঢাকা ফুলহাতা শাদা ব্লাউজ, এক মাথা কোঁকড়ানো চুল একটিমাত্র নীল ব্যান্ডে বাঁধা, নাকে রুপোর ছোট্ট নাকছাবিটি ছাড়া সম্পূর্ণ নিরাভরণ (যদিও দুই কানে ফুটো আছে)। তাঁর ডিম্বাকৃতি মুখে উজ্জ্বল গোল চোখদুটো দেখলে কার মেয়ে বলে দিতে হয় না।

সেদিনের পর থেকে প্রত্যেক শনিবার নিয়ম করে রোদ-ঝড়-জল উপেক্ষা করে ডাক্তারখানায় গিয়ে ফার্মেসিতে রোগীদের লাইনে দাঁড়িয়ে অভয়চরণ ফার্মাসিস্টটি সম্পর্কে আরও কয়েকটি তথ্য সংগ্রহ করল।

১ – পরনের নীলপাড় সাদা শাড়ি আর ফুলহাতা ব্লাউজ সাতগাঁ আদর্শ বালিকা বিদ্যালয়ের ইউনিফর্ম, যেখান থেকে তিনি সদ্য ম্যাট্রিক পাশ দিয়েছেন।

২ – তিনি ডাক্তারের তিন সন্তানের মধ্যে সর্বকনিষ্ঠ ও একমাত্র কন্যা।

৩ – তাঁর তিনটি পোষা বেড়াল আছে, যার মধ্যে একটির নাম গঙ্গা, যে সম্পূর্ণ নিরামিশাষী, এবং পাকা কুমড়ো খেতে ভালোবাসে।

এসবই অভয়চরণ জানল প্রবীণ আত্মীয়প্রতিম রোগীদের সঙ্গে ফার্মাসিস্টের টুকরো আলাপচারিতায় কান পেতে, যারা তার জন্মেরও ঢের আগে থেকে, এমনকি কেউ কেউ গঙ্গারাম চক্রবর্তীর আমল থেকে আসছে। এমনিতে অবশ্য তিনি প্রয়োজনীয় নির্দেশাবলী ছাড়া রোগীদের সঙ্গে একটিও বাড়তি বাক্য বিনিময় করেন না। এবং এতটাই গম্ভীর মনোযোগে ওষুধ মেশান, পুরিয়া বানান, খামের গায়ে পেন্সিলে দাগ কেটে দেন যে মনে হবে যেন খেলনাবাটি খেলছেন। কেউ লাইন ভাঙার চেষ্টা করলে, বা গোলমাল করলে বিরক্ত হয়ে যেকোনো বয়সের রোগীকে, এমনকি কম্পাউন্ডারবাবুকেও যাকে তিনি লাহিড়িজ্যাঠা বলে ডাকেন, পরাণ ডাক্তার ডাকেন ‘শ্রীশবাবু’ বলে, আর রুগিরা ডাকে ‘শিরিষ-বাবু’ বলে (তাঁর খরখরে মেজাজের জন্য) ধমক দিতে ছাড়েন না। তখন তার নাকের চারপাশে রুপোর নাক ছাবিটির সহোদরার মতো ঘামের বিন্দু চিকচিক করে, যা তিনি ব্লাউজের হাতায় মুখ নামিয়ে মুছে নেন, এবং বিরক্তির মাত্রা খুব বেশি হলে ঠোঁট কামড়ে অস্ফুটে বলে ওঠেন–‘কচুপোড়া!’

ফার্মেসিতে স্পিরিট ও বিবিধ কটু মিঠে ভেষজ প্রাণীজ গন্ধের ভেতরে প্রেসক্রিপশন হাতে দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে করতে, কখনো পেছনের রোগীকে সামনে এগিয়ে দিয়ে, পরের পর শনিবার অভয়চরণ ফার্মাসিস্টটিকে অবলোকন করতে লাগল মোহগ্রস্তের মতো। সপ্তাহের বাকি দিনগুলোয় তাঁর প্রতিটি নির্দেশ পালন করতে লাগল অক্ষরে অক্ষরে কড়া গন্ধযুক্ত সাবান (লাইফবয়) মাখা ছেড়ে দিল, অবরে সবরে মাথায় সুগন্ধী তেল (জবাকুসুম) মাখা ছেড়ে দিল, এমনকি পেঁয়াজ ভক্ষণও ছেড়ে দিল। শেষেরটি খুবই কঠিন ত্যাগ, কারণ রোজ কাছারি যাবার সময় অভয়চরণের মা টিফিনবাক্সে চারটে রুটির সঙ্গে একটি কাঁচা পেঁয়াজ আর দুটি কাঁচা লঙ্কা দিতেন, দিতে পারতেন। তবে পেঁয়াজবিহীন রুটি সামান্য নুন দিয়েই খেতে বড়ো ভালো লাগতে লাগল অভয়চরণের, এবং কয়েকঘন্টা অন্তর জিভে ওষুধের নির্দিষ্ট সংখ্যক দানা ফেলে চোষার সময়ে প্রতিবার কানে বাজতে লাগল ফার্মাসিস্টের রিনরিনে কন্ঠস্বর। এভাবে তিনটি মাস পরাণ ডাক্তারের চিকিৎসাধীন থাকার পর এন্টামিবা হিস্টোলিটিকার প্রকোপ নিয়ন্ত্রণে এল, তবে অভয়চরণ টের পেতে লাগল এক ভিন্ন ধরনের অনুভূতি–মলত্যাগের পরেও তলপেটে মৃদু অথচ নাছোড় সেই চিরচেনা চাপটার পাশাপাশি বুকে এক অচেনা ভার।

এক ভাদ্রের শনিবার সেই ভার চারটি লাইনটানা ফুলস্কেপ কাগজে উগরে দিল অভয়চরণ। ভাঁজ করে ছোট্ট পুরিয়া বানিয়ে সেটি ডাক্তারবাবুর প্রেসক্রিপশনের সঙ্গে সকলের অলক্ষ্যে ধরিয়ে দিল ফার্মাসিস্টের হাতে। তিনি হাতে নিয়ে নির্ধারিত ওষুধের শিশি খুঁজতে চলে গেলেন হোমিওপ্যাথি শেলফের আড়ালে, ফিরে এলেন কয়েকটি অনন্ত সেকেন্ড পরে – ভাবলেশহীন মুখ, শুধু নাকের চারপাশে ঘামের বিন্দু ফুটে উঠেছে। স্থির নিবিষ্ট ভঙ্গিতে অভয়চরণের জন্য এক সপ্তাহের বরাদ্দ ওষুধ প্রস্তুত করলেন, পুরিয়া ভাঁজ করলেন, নির্দিষ্ট খামে ভরে পেনসিলের দাগ দিলেন, এবং প্রেসক্রিপশনে যা লেখা আছে সেই মতো ওষুধ বুঝিয়ে দিলেন। এছাড়াও দিলেন কালমেঘের সিরাপ এক শিশি, যা প্রেসক্রিপশনে লেখা নেই। স্থির শীতল কন্ঠে বললেন–

‘পুরিয়ার গুলি ছটা করে খাবার আগে, আগের মতোই চারঘন্টা অন্তর। আর এই সিরাপটা সকালে খালি পেটে দুচামচ। পেটের মধ্যে ক্রিমি থেকে গ্যাস হয়ে মাথায় উঠে উলটোপালটা স্বপ্ন দেখা সেরে যাবে।’

এই বলে ভাঁজকরা চিঠিটি তর্জনী ও মধ্যমায় সন্নার মতো ধরে বাড়িয়ে দিলেন। আচমকা গোদের মতো ভারি পা টেনে দরজার দিকে যেতে যেতে অভয়চরণ শুনল সেই অনুচ্চ রিনরিনে কন্ঠস্বর ‘কচুপোড়া!’

আর কোনোদিন ডাক্তারখানার পথ মাড়ায়নি সে। পরের ফাল্গুনে এক কলকাতা নিবাসী পূর্ববঙ্গীয় সরকারি অফিসারের সঙ্গে ডাক্তার রামপ্রাণ চক্রবর্তীর কন্যার বিবাহের অব্যবহিত পরেই অভয়চরণ মার্টিন্‌স লাইট রেলওয়ে কোম্পানির চাকরি নিয়ে সাতগাঁ ছাড়ল। বিহার শরীফ-বখতিয়ারপুর লাইনে কোম্পানির ট্রেন চলত, সেখানেই পোস্টিং নিল সে।

.

বিবাহের পর প্রথম কয়েক মাস নিবিড় অন্তরঙ্গতার পর্বে, যখন দুটি মানুষ একে অপরের বর্তমান এতটাই জেনে যায় যে নব পরিচয়ের মাদকতা প্রলম্বিত করার বাসনায় তারা পরস্পরের অতীত বিনিময় করতে থাকে, এক নিশীথে ডাক্তারকন্যা স্বামীর বুকে থুতনি রেখে অভয়চরণের গল্প বলেছিল।

‘ইশ্! প্রস্তাবটা গ্রহণ করলে না?’ অন্ধকারে স্বামী জিভে চুকচুক শব্দ করেছিল। ‘তাহলে এখন রেলের ফ্রি পাস নিয়ে যত ইচ্ছে দুনিয়া দেখে বেড়াতে পারতে।’

‘কচুপোড়া!’ স্বামীর বুকের রোম খামচে ধরে মুখ ডুবিয়ে খিল খিল করে হেসে উঠেছিল সে। ‘ফ্রি পাস কেবল ওই ছোটো রেলকোম্পানির লাইনের জন্য। ওই বাঁশবন আর মাঠঘাটের দুনিয়া আমার ঢের দেখা হয়েছে।’

পাঁচ-পাঁচটি বছর বিশ্বের নির্জনতম রেলস্টেশনগুলিতে কাটিয়ে অভয়চরণেরও ঢের বাঁশবন আর মাঠঘাটের দুনিয়া দেখা হলো, ঢের জোনাকি-মিটমিটে অন্ধকারে ঝিঁঝিপোকার কনসার্ট শোনা হলো। অবশেষে ঘরে ফেরার টান অনুভব করল সে, সাতগাঁয় বদলি চেয়ে দরখাস্ত দিল। ততদিনে তার মা মারা গিয়েছেন, একে একে চার বোনেরই বিবাহ দিয়েছে সে, কিন্তু নিজে অকৃতদার। তার প্রেমিক হৃদয় চেকারের হাতের টিকিট-পাঞ্চের মতো হয়ে গিয়েছে ধাতব, কঠিন, সদা কামড় দিতে উদগ্রীব। অন্ত্রাশয়ে প্রোটোজোয়ারা বংশবিস্তার ঘটিয়ে চেহারায় ফুটিয়েছে হাড়গিলের ছাপ বিষণ্ণ লুপ্তপ্রায় পাখি, যে আর উড়তে পারে না।