সমকালীন বিজ্ঞানের বিবর্তনের সঙ্গে মেরি উলস্টনক্রাফট শেলির জীবনের তুলনামূলক কালক্রম
| সাল | ঘটনাপঞ্জী |
| ১৭৪৫ | এভাল্ড ইয়্যুরগেন জর্জ ভন ক্লাইস্ট, লাইডেন জার নামে প্রথম ক্যাপাসিটার বা ধারক আবিষ্কার করেন। |
| ১৭৫২ | পেন্সিলভ্যানিয়া গেজেট পত্রিকায় বেঞ্জামিন ফ্র্যাঙ্কলিন তাঁর পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করেন যা প্রমাণ করে যে বজ্রপাত আসলে বৈদ্যুতিক শক্তিরই প্রকাশ। |
| ১৭৬১ | মিখাইল লোমোনোসভ শুক্রগ্রহের আবহমণ্ডল আবিষ্কার করেন। |
| ১৭৬১ | জোসেফ ব্ল্যাক লীনতাপের ব্যাখ্যা দেন। |
| ১৭৬৩ | টমাস বেইসের উপপাদ্যের প্রথম সংস্করণ প্রকাশিত হয় তাঁর মৃত্যুর দু বছর বাদে। যা থেকে ক্রমে গাণিতিক সম্ভাব্যতার ক্ষেত্রে একটা নতুন দিশার সূচনা হয়। |
| ১৭৭৪ | চার্লস মেসিয়ের মহাজাগতিক নানা বস্তুর তালিকা প্রস্তুত করেন পরবর্তীকালে যে তালিকায় ছায়াপথ, নক্ষত্রপুঞ্জ এবং নীহারিকা অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। |
| ১৭৭৮ | আন্তোয়াঁ ল্যাভয়সিয়র এবং জোসেফ প্রিস্টলি অক্সিজেন আবিষ্কার করেন যার ফলে পুরানো ফ্লজিস্টন মতবাদ বাতিল হয়ে যায়। |
| ১৭৮০ | লুইজিগ্যালভানি পরীক্ষার মাধ্যমে দেখান যে বিশেষ ধাতব বর্তনীর সঙ্গে যোগ করলে মরা ব্যাঙের পা আন্দোলিত হচ্ছে, যাকে পরবর্তীকালে জৈব-বিদ্যুৎ বলা হয়। |
| ১৭৮১ | উইলিয়াম হার্শেল ইউরেনাস গ্রহ আবিষ্কার করেন যার ফলে জানা ইতিহাসে প্রথমবার মহাবিশ্বের সীমানা বিস্তৃত হয়। |
| ১৭৮৫ | উইলিয়াম উইদারিং শোথের বা জলীয় স্ফীতির চিকিৎসার ক্ষেত্রে ফক্সগ্রোভ (ডিজিটালিস) এর প্রয়োগের ফলাফল লিপিবদ্ধ করেন। |
| ১৭৮৭ | জাঁক চার্লস (শার্ল) প্রথম আদর্শ গ্যাসের ধর্ম আবিষ্কার করেন। |
| ১৭৮৯ | আন্তোয়াঁল্যা ভয়সিয়রভরের সংরক্ষণ সূত্র লিপিবদ্ধ করেন যা থেকে আধুনিক রসায়ন শাস্ত্রের সূচনা ধরা হয়। |
| ১৭৯৬ | জর্জেস কুভিয়ার প্রজাতির পুনরাবৃত্ত বিলোপ বা বিপর্যয়বাদ ধারণার প্রতিষ্ঠা করেন। |
| ১৭৯৬ | এডয়ার্ডজেনার গুটি বসন্ত রোগ নিয়ে তাঁর ঐতিহাসিক পর্যবেক্ষণ শুরু করেন। |
| ১৭৯৭ | মেরি উলস্টনক্রাফট গডউইন লন্ডনে জন্মগ্রহণ করেন, তারিখটা ছিল ৩০শে আগষ্ট। |
| ১৭৯৭ | মেরির জন্মের দশদিন পরে তাঁর মা মেরি উলস্টনক্রাফট মাত্র আটত্রিশ বছর বয়সে মারা যান। তিনি ছিলেন এক প্রখ্যাত নারীবাদী দার্শনিক এবং লেখিকা। |
| ১৭৯৯ | আলেসান্দ্রো ভোল্টা তড়িৎ-রাসায়নিক সারির আবিষ্কার করেন, যা ব্যাটারির আদি রূপ। |
| ১৮০০ | উইলিয়াম হার্শেল অব লোহিত বিকিরণ আবিষ্কার করেন। |
| ১৮০৪ | প্রথমবার অস্ত্রপ্রচারের ক্ষেত্রে রোগীকে তার আগে সম্পূর্ণ অজ্ঞান করার পদ্ধতি আবিষ্কার এবং প্রয়োগ করেন শল্যচিকিৎসক হানাও কাশেইসু। |
| ১৮০৫ | জন ডালটন রসায়নশাস্ত্রে পরমাণুবাদের ব্যাখ্যা দেন। |
| ১৮০৯ | প্রাকৃতিক নিয়ম অনুসারেই বিবর্তন ঘটছে এই ধারণার প্রকাশক রেন বিজ্ঞানী জঁ ব্যাপ্তিস্তে ল্যামার্ক তাঁর লেখা বিখ্যাত ‘ফিলোসফি জুলজিক’ বইতে। |
| ১৮১১ | অ্যামেদিও অ্যাভোগাড্রো নির্দিষ্ট আয়তনের গ্যাসের অণুর সংখ্যা সংক্রান্ত বিখ্যাত সূত্রের প্রতিষ্ঠা করেন। |
| ১৮১২ | হামফ্রে ডেভির লেখা ‘এলিমেন্টস অফ কেমিক্যাল ফিলসফি’ প্রকাশিত হয়, এই একই বছরে তিনি নাইটহুড পান। |
| ১৮১৪ | মেরি আর পার্সি বি শেলি ইংল্যান্ড থেকে পালিয়ে ফ্রান্সে চলে যান একসঙ্গে থাকার জন্য, যদিও একমাস পরেই তাদের ফিরে আসতে হয় টাকা-পয়সা ফুরিয়ে যাবার ফলে। |
| ১৮১৫ | মেরি তাঁর কন্যাসন্তানের জন্ম দেন নির্দিষ্ট সময়ের আগে, যদিও সেই সন্তান ছয় সপ্তাহ বয়সকালেই মারা যায়। |
| ১৮১৬ | মেরি আর পার্সি শেলির পুত্র সন্তান উইলিয়ামের জন্ম হয় জানুয়ারী মাসে; মেরির মনে তাঁর উপন্যাস ফ্রাঙ্কেনস্টাইন-এর একটা প্রাথমিক ধারণা তৈরি হয়; মেরির বৈমাত্রেয় বোন আত্মহত্যা করেন; পার্সির প্রথম স্ত্রী হ্যারিয়েট জলে ডুবে আত্মহত্যা করেন; বছরের শেষের দিকে মেরি আর পার্সির বিয়ে হয় সামাজিকভাবে। |
| ১৮১৭ | মেরি ফ্রাঙ্কেনস্টাইন উপন্যাস সম্পূর্ণ করেন আর তাঁর মেয়ে ক্লারার জন্ম হয়। |
| ১৮১৮ | তিন খণ্ডে ফ্রাঙ্কেনস্টাইন অর দ্য মর্ডান প্রমিথিউস উপন্যাস প্রকাশিত হয় লেখকের নাম ছাড়াই, যদিও বইয়ের মলাটে ‘শেলি’ শব্দটা ছিল যার ফলে একে পার্সি শেলির রচনা বলে অনেকে ধরে নেন; মেরির কন্যা সন্তান ক্লারার মৃত্যু হয়। |
| ১৮১৯ | ম্যালেরিয়ার কারণে পুত্র উইলিয়ামের মৃত্যু; মেরি তাঁর লেখা ছোট উপন্যাস ‘মাটিল্ডা’ সম্পূর্ণ করেন; মেরির পরবর্তী পুত্র সন্তান পার্সি ফ্লোরেন্সের জন্ম হয়। |
| ১৮২০ | হান্স ক্রিশ্চিয়ান ওরস্টেড তড়িৎশক্তির সঙ্গে চৌম্বকশক্তির পারস্পরিক সম্পর্ক আবিষ্কার করেন। |
| ১৮২২ | আকস্মিক গর্ভস্রাবের ফলে মেরির প্রায় মৃত্যুর উপক্রম হয়; পার্সি শেলি জলে ডুবে মারা যান তাঁর বয়স তিরিশ হবার একমাস আগেই। |
| ১৮২৩ | ফ্রাঙ্কেনস্টাইন উপন্যাসের দ্বিতীয় সংস্করণ প্রকাশিত হয়। |
| ১৮২৪ | নিকোলাস লেনার্ডস ডি কার্ণো তাঁর আবিষ্কৃত ‘কার্ণোচক্র’-এর ব্যাখ্যা দেন, যা থেকে তাপইঞ্জিনের প্রাথমিক ধারণা তৈরি হয়। |
| ১৮২৭ | জর্জ ওহম তড়িৎ বিদ্যায় রোধ সংক্রান্ত তাঁর সূত্র প্রণয়ন করেন। |
| ১৮২৮ | ফ্রিডরিখ ভোলার প্রথম কৃত্রিম ইউরিয়া তৈরি করেন গবেষণাগারে। এর ফলে শতাব্দী প্রাচীন ‘প্রাণশক্তি মতবাদ’ এর অবসান হয়ে জৈব রসায়ন শাস্ত্রের সূচনা হয়। |
| ১৮৩০ | নিকোলাই লোবাচেভস্কি অ-ইউক্লিডীয় জ্যামিতির সূচনা করেন। |
| ১৮৩১ | মাইকেল ফ্যারাডে তড়িৎ-চৌম্বকীয় আবেশের ব্যাখ্যা দেন; মেরি ফ্রাঙ্কেনস্টাইন উপন্যাসের এক সংশোধিত রূপ প্রকাশ করেন যে সংস্করণে এক নতুন উপক্রমণিকা ছিল যাতে মেরি এই উপন্যাস রচনার প্রেক্ষিতকে তুলে ধরেন। |
| ১৮৫১ | তিপান্ন বছর বয়সে লন্ডনে মেরি শেলির মৃত্যু হয়। |
তথ্যঋণ: আন্তর্জাল
