আজ থেকে দুশো বছর আগে ইউরোপের জেনেভা লেকের ধারে এক বাড়িতে বসে এক উনিশ বছরের মেয়ে লিখে ফেলেছিল পৃথিবীর প্রথম সায়েন্স ফিকশন নভেল। দুশো বছর ধরে পৃথিবীর বিভিন্ন কোনায় মানুষ চর্চা করে এসেছে তাঁর রচনা নিয়ে। কত থিসিস পেপার, কত সিনেমা, কত ফ্যান ফিকশ! আজও সেই গথিক সায়েন্স ফিকশনের কালো দুনিয়া আমাদের পিছু ছাড়েনি। ফ্র্যাঙ্কেনস্টাইনের দানব আজও সমানভাবে বর্তমান আমাদের মনের মধ্যে। বিগত কয়েক বছরের মধ্যেই এই বিশ্বনন্দিত চরিত্রটিকে নিয়ে বেশ কিছু চলচ্চিত্র হয়ে গেছে।
ফ্র্যাঙ্কেনস্টাইন বলতেই আমাদের মনের মধ্যে ভেসে ওঠে এক অতিকায় দানব। মৃত্যু পরপার থেকে ফিরে আসা বিভীষিকা। তার চেহারায় সেলাইয়ের দাগ। সারা পৃথিবীর প্রতি প্রবল আক্রোশে জ্বলন্ত দুই চোখ। সে নিষ্ঠুর, অমানবিক। কিন্তু আসলে সে তো ফ্র্যাঙ্কেনস্টাইন নয়। ফ্র্যাঙ্কেনস্টাইন নাম ছিল সেই ডক্টরের, যিনি বানাতে চেয়েছিলেন এক শ্রেষ্ঠ মানুষ, অথচ ভুল করে বানিয়ে ফেলেন এক দানব। তবু তাঁর নাম নিয়েই দানবটা বেঁচে থাকে আমাদের কল্পনায়।
কী অদ্ভুতভাবে স্রষ্টাকে পিছনে ফেলে এগিয়ে যায় সৃষ্টি! ডঃ ফ্র্যাঙ্কেনস্টাইনের গড়া দানবই ফ্র্যাঙ্কেনস্টাইন নামে পরিচিত হয়ে যায় পৃথিবীতে। ঠিক একই ভবিতব্য হয়তো ছিল এই যুগোত্তীর্ণ উপন্যাসের রচয়িতারও। ফ্র্যাঙ্কেনস্টাইন উপন্যাস নিয়ে পৃথিবীর জুড়ে যত মাতামাতি, যত উল্লাস, তার এক অংশও হয়তো হয়নি লেখিকা মেরি ওলস্টোনক্রাফট শেলির জীবন নিয়ে, তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে, তাঁর দর্শন নিয়ে। বেঁচে থাকতে বহু শিল্পী তাঁদের শিল্পকর্মের দাম পাননি। মৃত্যু পরবর্তী সময়ে তাঁদের শিল্পকর্মের চাহিদা আকাশ ছুঁয়ে গেছে। কিন্তু এ যেন ঠিক উলটো ঘটনা। শিল্পকর্ম ছুঁয়ে গেল আপামর জনতাকে। কিন্তু শিল্পীর জীবন দাম পেল না।
মেরি ওলস্টোনক্রাফট শেলি (বিবাহ পূর্ববর্তী পদবি গডউইন)। জন্ম—৩০ অগাস্ট ১৭৯৭, মৃত্যু—১ ফেব্রুয়ারি ১৮৫১। তাঁর বাবা ছিলেন তৎকালীন বিখ্যাত রাজনৈতিক সাংবাদিক ও দার্শনিক উইলিয়াম গডউইন। দার্শনিক নারীবাদী মহিলা মেরি ওলস্টোনক্রাফট ছিলেন তাঁর মা। জন্মের সময় মেরি শেলির মা মারা যান।
মেরির চার বছর বয়সে তার বাবা দ্বিতীয়বার বিবাহ করেন। গডউইনের প্রথম পক্ষের স্ত্রী’র সন্তানদ্বয়ের প্রতি তাদের সৎ মায়ের ব্যবহার খুব একটা ভালো ছিল না। ছোট্ট মেরি সেই বয়স থেকেই সম্পর্কের জটিলতার অন্ধকার দিকটা দেখতে থাকে। নিজের আবেগ সে লিপিবদ্ধ করে রাখত জার্নালে।
ছোটবেলায় সেই সময়ের অন্যান্য ইউরোপীয় মেয়েদের মতো মেরি পড়াশোনা করেননি কোনও বড় স্কুলে। প্রথাগত শিক্ষা তাঁর প্রায় কিছুই ছিল না। কিন্তু বাবা গডউইন বিভিন্ন পার্থিব বিষয়ের বিস্তৃত পরিসরে নিজের হাতে ধরে তাঁকে ঘোরাতেন। বাইরের স্কুলে গিয়ে শিক্ষা না পেলেও মেরি শেলি তাঁর জ্ঞান আহরণ করতেন বাবা-মায়ের তৈরি বিশাল লাইব্রেরি ঘর থেকেই। বাবার কাছে আসা বিভিন্ন বিখ্যাত ব্যক্তিবর্গের আড্ডা বা আলোচনা শোনার ক্ষেত্রেও গডউইন কখনও বাধা দিতেন না। প্রথাগত না হলেও সেই অসামান্য এবং পরিণত শিক্ষা মেরিকে অবশ্যই তৎকালীন সমাজনীতির প্রতি তাঁর নিজস্ব দর্শন তৈরি করতে সাহায্য করেছিল। পরবর্তী কালে যে মস্তিষ্কের কন্দরে স্ফূরিত হবে ‘ফ্র্যাঙ্কেনস্টাইন’ উপন্যাসের ধূসর চরিত্ররা, তার বীজ বপন হয়ে যাচ্ছিল শৈশবেই।
পনেরো বছরের মেরি সম্পর্কে তাঁর বাবা বলেছিলেন, ‘singularly bold, somewhat imperious, and active of mind. Her desire of knowledge is great, and her perseverance in everything she undertakes almost invincible.’
১৮১৪ সালে পার্সি বি শেলির সঙ্গে আলাপ হয় মেরি গডউইনের। মাত্র সতেরো বছর বয়সে মেরি প্রেমে পড়েন তাঁর। বাইশ বছরের শেলি ছিলেন উইলিয়াম গডউইনের রাজনৈতিক দর্শনের একজন অনুগামী। মেরি গডউইনের সঙ্গে আলাপ কালে শেলি ছিলেন বিবাহিত। তৎসত্ত্বেও তাঁরা একে অপরের প্রতি আকৃষ্ট হন। মেরির মায়ের কবরখানায় তাঁরা লুকিয়ে লুকিয়ে দেখা করতে যেতেন। ১৮১৪ সালেই এক জুন মাসের গ্রীষ্মকালীন সন্ধ্যায় তাঁরা পরস্পরের প্রেমে পড়েন। সতেরো বছরের এক অনভিজ্ঞা কুমারী মেয়ে ভেসে গেল বাইশ বছরের ধীসম্পন্ন যুবকের বন্য অপার্থিব ভালোবাসায়।
মেরি গডউইন ভেবেছিলেন তাঁর বাবা তাঁদের এই সম্পর্ক মেনে নেবেন। কিন্তু উইলিয়াম গডউইন কিছুতেই মেয়ের অন্যপূর্ব প্রেমাস্পদকে মেনে নিলেন না। যদিও পার্সি শেলি প্রকৃতই মেরির বাবা-মায়ের মতোই সংস্কারমুক্ত সমাজদর্শনের মতবাদে বিশ্বাসী ছিলেন, যেখানে উইলিয়াম গডউইন ভাবতেন বিবাহটা একধরনের একচেটিয়া একাধিপত্যের রাস্তা মাত্র। মেরি অত্যন্ত হতবাক এবং বিভ্রান্ত হয়ে পড়েছিলেন বাবার এইরকম ব্যবহারে। ওই বছরেই তাঁরা দুজনে গোপনে পালিয়ে যান ফ্রান্সের উদ্দেশে। একা পড়ে থাকেন পার্সি শেলির প্রথম পক্ষের গর্ভবতী স্ত্রী।
কখনও গাধা, কখনও অশ্বেতর, অথবা ঘোড়ায় টানা গাড়ি, আবার কখনও শুধুই পদব্রজে প্যারিস থেকে সুইৎজারল্যান্ডের দিকে যাত্রাকালীন মেরি দেখতে পান, যুদ্ধবিধ্বস্ত ফ্রান্সের অবস্থা। দগ্ধ বাড়িঘর, মৃত গবাদি পশু, লুন্ঠিত সর্বহারা সাধারণ মানুষের দলিত, ধর্ষিত জীবনের কন্টকময়তা আষ্টেপৃষ্ঠে বেঁধে ফেলে মেরিকে। আধুনিক অস্ত্রের অত্যাচার হয়তো তাঁর মননকে নাড়া দিয়ে যায় তখনই। আশীর্বাদ স্বরূপ যার আসার কথা, তা অভিশাপ হিসেবে নেমে এলে মানুষ কোন অন্ধকারে তলিয়ে যায় তা নিজের চোখে দেখেছিলেন মেরি। এই দোটানাই এক অভূতপূর্ব চিন্তার বীজ পুঁতে দেয় তাঁর মনে।
এই ভ্রমণে তাঁরা যেমন মেরির মা, মেরি ওলস্টোনক্রাফটের বিভিন্ন লেখা পড়েছিলেন, তেমনই নিজস্ব লেখালিখি নিয়েও চর্চা চালিয়েছিলেন। তাঁরা দুজনেই ভ্রমণের উপরে নিজস্ব জার্নাল রাখতেন।
হাতে টাকা না থাকার কারণে পথ-মধ্যবর্তী লুক্রেন থেকে তাঁদের ফিরে আসতে হয়। তাঁরা সেপ্টেম্বরের ইউরোপিয়ান আবহাওয়ার হিমপ্রবাহের মধ্যে রাইন হয়ে কেন্টের দিকে যাত্রা করেন। বাড়ি ছাড়ার বেশ কয়েক মাস পরে যখন তাঁরা ইংল্যান্ডে পৌঁছন, তখন তাঁদের অবস্থা কপর্দকশূন্য। এমতাবস্থায় মেরি বুঝতে পারেন যে তিনি গর্ভবতী হয়ে পড়েছেন। তিনি অর্থসাহায্যের আশায় বাবার কাছে চিঠি লেখেন, কিন্তু তাঁর বাবা তাঁকে সাহায্য করতে রাজি হন না। তাঁরা নেলসন স্কোয়ারের একটা ছোট্ট ঘরেই নিজেদের পড়াশোনা আর লেখালিখির কাজ চালিয়ে যান। আশৈশব উচ্চবিত্ত পরিবারে মানুষ মেরি দারিদ্রকেও আলিঙ্গন করে দেখে নেন তার কঠোরতা।
এই দারিদ্র্রর মধ্যে মেরির শরীর ক্রমশ ভাঙতে থাকে। ১৮১৫ সালের শুরুর দিকে এক প্রিম্যাচিওর মেয়ে সন্তানের জন্ম দেয় মেরি। মাত্র দু’সপ্তাহের মধ্যেই সবার ভয়ানক আশঙ্কা সত্য করে সেই সন্তান মেরিকে ছেড়ে চলে যায়। গভীর মানসিক অবসাদে ডুবে যান মেরি। এই সময়ে তাঁদের অর্থনৈতিক অবস্থার সামান্য উন্নতি হয়। কিন্তু শেলির প্রথমা স্ত্রী আত্মহত্যা করেন।
১৮১৬ সালে যখন তাঁরা সপরিবারে জেনেভায় লর্ড বায়রনের বাড়িতে আমন্ত্রিত হয়ে যান, তখন মেরি নিজেকে মিসেস শেলি বলেই পরিচয় দিয়েছিলেন। এই বায়রনের বাড়িতেই এক সান্ধ্য আড্ডায় ওঠে ভূতের গল্প লেখার কথা। তখনই জীবনের বহু উত্থান-পতন দেখে ফেলা এক উনিশ বছরের মেয়ের মনে ভেসে ওঠে এক অপার্থিব দানব। তৎকালীন বিজ্ঞান নিয়েও শেলি দম্পতি চর্চা করতেন। সেই মধ্যযুগীয় দর্শন, অ্যালকেমি আর বিজ্ঞানের মেলবন্ধনে গড়ে উঠেছিল এক অনবদ্য সৃষ্টি, যা তার আজ দুশো বছর পরেও ভয়স্বরূপ প্রতিবিম্বিত হয় মানুষের অবচেতনে।
প্রথমে এটিকে একটি ছোটগল্প হিসেবেই লিখবেন ভেবেছিলেন মেরি শেলি, কিন্তু পার্সি শেলির অকুন্ঠ উৎসাহে তিনি এক উপন্যাস রচনা করেন। ‘ফ্র্যাঙ্কেনস্টাইন, অর দ্য মর্ডান প্রমিথিউস’। নিজের জীবনের দর্শন, সমাজচেতনা, একাকিত্ব, পালিয়ে বেড়ানোর ভয়, মানুষের যুদ্ধলিপ্সা, সমাজের চোখে খারাপ মেয়ে হিসেবে চর্চিত হওয়ার কষ্ট, সর্বোপরি মৃত্যুর নিষ্ঠুরতায় নেমে আসা এক গভীর মানসিক অবসাদ— এসবই তিনি তুলে ধরেন তাঁর উপন্যাসের দুই প্রধান চরিত্রের মধ্যে। তিনি ছুঁয়ে দেখেছিলেন সেই অন্ধকার সময়টাকে, তাই তিনি লিখতে সাহস পেয়েছিলেন এক ‘শিব গড়তে বাঁদর গড়ে ফেলা’-র ভয়ঙ্কর ভুলের গল্প। কখনও কখনও মানুষ চায় এক আর তার জীবনে ঘটে যায় অন্য কিছু। ভালো আর মন্দ, নিন্দা আর প্রশংসা— একই মুদ্রার এ পিঠ ও পিঠ। পার্সি শেলির উন্মুক্ত প্রেমের জালে জড়িয়ে সেই তরুণী এইভাবেই অনুভব করেছিলেন জীবনকে।
মেরি শেলির জীবন কখনওই উত্থানপতন রহিত ছিল না। তাঁর চব্বিশ বছর বয়সে তাঁর জীবনের একমাত্র ভালোবাসা বিদগ্ধ প্রেমের কবি পার্সি বি শেলি মারা গেলেন নৌকাডুবিতে। বৈধব্য পরবর্তী জীবনে মেরিকে অক্লান্ত পরিশ্রম করতে হত তাঁর এবং তাঁদের দু’জনের একমাত্র জীবিত সন্তানের ভরণপোষণের জন্যে। নিজের সৃষ্টির কথা না ভেবে তিনি নিজেকে ডুবিয়ে দিয়েছিলেন পার্সি শেলির বিভিন্ন কবিতাকে জনসমক্ষে তুলে ধরার কাজে। পার্সি শেলিকে ইংরেজি সাহিত্যের ইতিহাসে এক স্থান দেওয়ার জন্যে মেরি শেলির অবদান অবিস্মরণীয়। পরবর্তীকালে মানুষ মেরি শেলিকে বারংবার বিচার করে এসেছেন পার্সি শেলির পত্নী হিসেবে। অথচ তাঁর নিজস্ব সাহিত্যকীর্তিও কিছু কম ছিল না।
ফ্র্যাঙ্কেনস্টাইনের মতো সাড়া জাগানো উপন্যাস ছাড়াও তিনি লিখে গিয়েছিলেন আরও ছ’টি উপন্যাস, তিনটি শিশুসাহিত্য, অজস্র ছোটগল্প ও কবিতা, তাঁদের ছ’সপ্তাহের যুদ্ধ বিধ্বস্ত ইউরোপ যাত্রা সংক্রান্ত এক ভ্রমণবিষয়ক লেখা, এ ছাড়াও বিভিন্ন আর্টিকেল এবং রিভিউ। তদুপরি প্রায় সাত বছর ধরে, Dionysius Lardner’s Lives of the Most Eminent Literary and Scientific Men – এর জন্যে তিনি বিখ্যাত স্প্যানিশ, পর্তুগিজ, ফরাসি, ইটালিয়ান মানুষদের জীবনী লেখেন। অন্যান্যদের সাহায্য নিয়ে প্রায় বাষট্টি জন বিখ্যাত ব্যক্তিত্বের জীবনকাহিনি তিনি লিখেছিলেন। এর মধ্যে মেকিয়াভেল্লি, ব্রুনো, পাস্কালের মতো ব্যক্তিবর্গের জীবনীও আছে। কিন্তু ফ্র্যাঙ্কেনস্টাইনের পর থেকে তিনি কোনওদিনও কেবলমাত্র সাহিত্যিক হিসেবেই মর্যাদা পাননি, সমাজ এবং সাধারণের চোখে তিনি বারংবার বিবেচিত হয়েছিলেন একজন কৃতি নারী।
মাত্র তিপান্ন বছর বয়সে ইংল্যান্ডের লন্ডন শহরে ব্রেন ক্যান্সারে তাঁর মৃত্যু হয়। তাঁর মৃত্যুর বাৎসরিকের সময় তাঁর পুত্র এবং পুত্রবধূ তাঁর ডেস্ক থেকে আবিষ্কার করে মেরি শেলির মৃত সন্তানদের চুলের গুচ্ছ, পার্সি বি শেলির সঙ্গে ভাগাভাগি করে লেখা একটি নোটবুক, আর যত্ন করে সিল্ক কাপড়ে মুড়ে রাখা পার্সি বি শেলির দেহভস্ম।
মেরি শেলির লেখা সেই অভিশপ্ত দানব চরিত্র যেমন মেরে ফেলেছিল নিজের প্রাণদাতা ডক্টর ফ্র্যাঙ্কেনস্টাইনের পরিবারকে, তেমনই এই চরিত্রের অতি জনপ্রিয়তার ঔজ্জ্বল্যে ঢাকা পড়ে গিয়েছিল স্রষ্টা মেরি শেলির অন্যান্য রচনা।
১৮১৭ সালের বসন্তে মেরি উপন্যাসটা লেখা শেষ করেন। লন্ডনের এক ক্ষুদ্র প্রকাশনা থেকে বইটার প্রথম সংস্করণ ছাপা হয়েছিল মাত্র ৫০০ কপি। মেরি শেলি ‘ফ্র্যাঙ্কেনস্টাইন’ উপন্যাসটি প্রকাশ পেয়েছিল একজন অজ্ঞাত লেখকের কাহিনি হিসেবে। যদিও প্রথম সংস্করণটি উৎসর্গ করা হয়েছিল উইলিয়াম গডউইনকে এবং বইটির ভূমিকা লিখেছিলেন পার্সি বি শেলি।
আর দশটা কালোত্তীর্ণ লেখার মতোই এই উপন্যাসও প্রথমেই সমাদৃত হয়নি জনমানসে। এত ভয়ঙ্কর এবং ক্রূর বিষয়বস্তুর জন্যে তৎকালীন পাঠকসমাজ বইটিকে গ্রহণ করতে প্রস্তুত ছিল না। উপরন্তু যখন জানাজানি হল, এই বর্বর মানসিকতার লেখা এক মহিলার, তখন মানুষ স্তম্ভিত হয়ে গিয়েছিল। মেরি শেলির চিন্তাভাবনা স্পষ্টতই তাঁর বাবা গডউইন এবং মা ওলস্টোনক্রাফটের মতো আশাবাদী ছিল না। মেরির বাবার দর্শন, মানুষ ক্রমশই ভালো থেকে ভালোতর হয়ে উঠবে; এই চিন্তার সম্পূর্ণ বিপরীত বিষয়বস্তুই ছিল মেরি শেলির বিশ্বচর্চিত গ্রন্থ ‘ফ্র্যাঙ্কেনস্টাইন।’
মানুষের রক্ষণশীল মানসিকতার সঙ্গে তাল মিলিয়ে মেরি শেলি ১৮৩১ সালে তাঁর লেখাটির তৃতীয় সংস্করণ প্রকাশ করেন। সেটাই আজ পর্যন্ত সর্বাধিক পঠিত সংস্করণ। বিগত দুশো বছরে এই বইটির সংস্করণ হয়েছে প্রায় তিনশোরও বেশি। বিভিন্ন দেশে অজস্র ভাষায় অনূদিত হয়েছে বইটি। জীবনমৃত্যু, ন্যায়-অন্যায় ইত্যাদির তীব্র দোলাচলে আবদ্ধ ধীসম্পন্ন তরুণীর মননের নির্যাসে নির্মিত এই মহাগ্রন্থ নিজেও বারংবার দোলাচল তৈরি করেছে মানুষের হৃদয়ে।
তথ্যসূত্র:
1. Chambers Biographical Dictionary
2. https://www.theguardian.com/books/2018/jan/13/frankenstein-at-200-why-hasnt-mary-shelley-been-given-the-respect-she-deserves-
3. https://blog.bookstellyouwhy.com/mary-shelley-from-a-scandalous-affair-to-the-creation-of-a-monster
4. https://www.biography.com/people/mary-shelley-9481497
5. https://en.wikipedia.org/wiki/Mary_Shelley
6. https://en.wikipedia.org/wiki/List_of_works_by_Mary_Shelley
