শব্দরূপ – বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়

শব্দরূপ

“লতা—লতে–লতাঃ, লতা-লতে-লতা—”

রাস্তার ওধারে ঐ ওদের বাড়ির ছেলেটি জোরগলায় শব্দরূপ মুখস্থ করিতেছে। সেকেন্ড কিংবা ম্যাট্রিকুলেশন ক্লাসে পড়ে এইরকম শুনিয়াছি।

রাত এগারোটা; আহারাদি সারিয়া পান চিবানোর সঙ্গে ধূম্রসেবন চলিতেছে, পাশে শুভ্র পরিচ্ছন্ন বিছানাটি, ইচ্ছা হইলেই গিয়া শুইব, সে ইচ্ছার মধ্যে বাহিরের অন্য কাহারও অধিকার উপদ্রব নাই, সেটা মাত্র আমার স্বরাট্ মনের খেয়ালখুশি।

—এ-ই তো জীবন!-মুক্ত, আত্মসম্পূর্ণ—

ছেলেটির উপর মনটা করুণায় ভরিয়া গেল, সঙ্গে সঙ্গে সেই যুগের চিত্র সব যেন চোখের সামনে ভাসিয়া উঠিল।—

সকালবেলায় ওঠা।–অবশ্য এখনও উঠি, কিন্তু তাহা চাই বলিয়াই উঠি, সকালটা মিষ্টি লাগে বলিয়াই উঠি।

তখন মিষ্ট লাগিত বিছানা আর তাহার বিচ্ছেদটি সকাল হইতে রাত্রি দশটা পর্যন্ত সমস্ত সময়টিকে

তিক্ত করিয়া রাখিত। কিন্তু সে কথা কে বোঝে? জীবনেরও অংশটার বর্তমান নাই, শুধু ভবিষ্যৎ আছে; আর সেই ভবিষ্যৎ সৃষ্টির জন্য মায়ের চোখ পর্যন্ত সতর্ক, নিষ্করুণ; অন্যে পরে কা কথা!

মায়ের প্রথম সম্ভাষণ, “না, এ ছেলের যদি কিছু হয়! মাস্টার এসে গেল, এখনও তোর ঘুমের ঘোর কাটল না?—চোখ কচ্‌লাচ্ছিস? নাঃ—”

নেপথ্যে কাকার তাগাদা, “উঠল বৌদি, তোমার আদুরে গোপাল? খুব আশকারা দাও, ভবিষ্যৎটি চিবিয়ে খাও ছেলের

একটু পরে দাদা তাগাদায় আসিয়া উঠানে অবাক হইয়া দাঁড়াইয়া গেলেন। কোন রকমে বাক্‌স্ফুর্তি হইলে আঙুল গুনিয়া বলিলেন, “প্রথম নম্বর তো শয্যাত্যাগই বাবুর একটা পর্ব, তারপর তোড়জোড় করে মুখে ধোওয়ার ঘটা যতটা সময় যায়; তারপর হ্যান, ত্যান, সাত সতেরো—”

গণনাটা অনির্দিষ্ট ‘হ্যান ত্যান’-র জোরে আটের কোঠা পর্যন্ত ঠেলিয়া তুলিয়া বলিলেন, “এখন আবার ঐ এক কাঁড়ি কোলের কাছে নিয়ে বসেছ তো? খাও, কিন্তু ও ঘুঘনি খাওয়া হচ্ছে না শৈলেন, নিজের ভবিষ্যৎ খাওয়া হচ্ছে, শর্মা এই বলে রাখলে।”

ঘুঘনি গলা দিয়া আর গেল না, তাড়াতাড়ি হাতমুখ মুছিতে মুছিতে বাহিরে আসিয়া গিয়াছি। জীবন মাস্টারমহাশয় এই দিকেই চাহিয়া বসিয়া আছেন, দেখিয়াই একপ্রকার ভেংচানো আপ্যায়নের সঙ্গে হাত-দুইটা একটু বাড়াইয়া সঙ্গে সঙ্গে কোলের কাছে টানিয়া লইয়া বলিলেন, “আ-সুন, আসুন, আস্ত্যাজ্ঞে হোক! দেড়টি ঘণ্টা বসে আছি বাপু –পড়াশোনা তোমার কর্ম নয়, কেন এলে? যাও মা, ভাই, কাকা, জেঠার আদর খাওগে। কালকের অঙ্কটা হয়েছিল?”

সৌভাগ্যক্রমে কঠিন অধ্যবসায়ের জোরে অঙ্কটা হইয়াছিল। জীবন মাস্টারমহাশয়কে খুশি করিতে পারিব বলিয়া উৎফুল্ল হইয়া বলিলাম, “হ্যাঁ, করে তবে ছেড়েছিলাম মাস্টারমশাই, রাত সাড়ে এগারোটা পর্যন্ত—”

“রাত সাড়ে এগারোটা পর্যন্ত। অসাধ্যসাধন করেছ যে! নেপোলিয়ান না হয়ে ছাড়ছ না দেখছি!” (অতঃপর বিকৃত মুখে)—– “বলি, সারা বছরটা সাতটা না হতেই বিছানায় ঢুকে যাও একটা দিন যদি একটু রাত করেই শুয়ে থাক তো বড় গলা করে আবার সেটা জানাচ্ছ কি? লজ্জা করে না?”

অধ্যবসায়েরও পুরস্কার এই, একেবারে মাটির সঙ্গে মিশিয়া যাইতে ইচ্ছা হইতেছিল—জীবন মাস্টারের পড়ানোর এই নমুনা, তামাক খাইতেন, সে যুগের ঢাউস ‘বসুমতী’ পড়িতেন, বাকি সময়টা ভালমন্দ নির্বিশেষে বাক্যযন্ত্রণা দিতেন। শ্লেষবাক্যে অমন সাধা রসনা এ পর্যন্ত আর কাহারও দেখি নাই।

বাড়ির গণ্ডি পার হইলে স্কুলে ছিলেন সেকেন্ড মাস্টার। যে বৈশিষ্ট্যের জন্য তাঁহার খ্যাতি তাহা এই যে তিনি ফার্স্ট ক্লাস পর্যন্ত অকুণ্ঠভাবে ঠেঙাইতেন। প্রোপ্রাইটার, হেডমাস্টার উভয়েই তাঁহার ছাত্র, এই পদ্ধতিতে গড়া; তাঁহারা মৃদু আপত্তি করিলে বলিতেন, “কেন, এরাই বা কি দোষ করেছে?”

না, জীবনটা যে নিতান্ত এইরকম একঘেয়েই ছিল—এটা বলাও ভুল হইবে।—বৈদ্যবাটি স্কুলের টীম ম্যাচ খেলিতে আসিল। ভলান্টিয়ারের ব্যাজ বুকে লটকাইয়া সে কী স্ফূর্তি সমস্তটা দিন! স্টেশন থেকে তাহাদের অভ্যর্থনা করিয়া আনা; আতিথ্যের তদারক, ঘোরাফেরা, মোড়লি করা; বাড়ির সঙ্গে সম্পর্ক নাই, স্কুলের সম্পর্কও একেবারে অন্যবিধ। হেঠমাস্টার বলিতেছেন, “দেখো শৈলেন, সারাটা স্কুলের মানমর্যাদা আজ তোমার ওপর নির্ভর করবে—সেবায়, সম্বর্ধনায় ডিসিপ্লিন রক্ষায় কোন রকমে যেন অপযশ না হয়, দেখো!”

হউক একদিনের জন্য, কিন্তু সেই একদিন জীবনের কি প্রসার! কি বেপরোয়া ভাব!—সেই দিনই সিগারেটে হাতেখড়ি!

পরের দিন ফার্স্ট পিরিয়ডেই সেকেন্ড মাস্টার ক্লাসে ঢুকিয়া বোর্ডে দাগড়া দাগড়া অক্ষরে লিখিলেন, “রাইট্ অ্যান এসে অন ফুটবল ম্যাচ। দশখানি পাতা ভরে লিখবে সব, কাল নিশ্চয় মন দিয়ে খুঁটিনাটি লক্ষ্য করেছ সবাই—টীমের গাড়ি থেকে নামা থেকে শেষ পর্যন্ত।—শুনছ তো শৈলেন? হুঁ, তুমি আবার বেশি মুণ্ডুলি করছিলে দেখলাম, একটি পাতা কম হলে মুণ্ডুলি ঘুচুব তোমার।”

যাঁহারা শখ করিয়া মধুর বাল্যে, মধুর কৈশোরে ফিরিয়া যাইতে চান, তাঁহাদের মানা করি না, তবে আমি তাঁহাদের দলে নাই।

শব্দরূপের গগনভেদী শব্দ ভাসিয়া আসিতেছে, “তৃতীয়া-লওয়া, লতাভ্যাম্, লতাভিঃ।”

আমাকে মুখস্থ করিতে হইতেছে না, তবু, কি জানি কেন, শুধু শোনার জন্যই যেন পরিশ্রান্ত হইয়া আসিতেছি। কানে য-ফলা আর অনুস্বার যেন হাতুড়ি পিটিতেছে। যে মুখস্থ করিতেছে সে বেশ উৎসাহের সহিতই মুখস্থ করিতেছে—কাল পণ্ডিতমহাশয়ের প্রসন্ন মুখ দেখিবে নিশ্চয় এই উচ্চাশায়। আমার কিন্তু এদিকে অমন মধুর অম্বুরের ধোঁয়া তিক্ত হইয়া আসিতেছে, সামনের জ্যোৎস্নাদীপ্ত আকাশের নীলাভা মলিন হইয়া আসিতেছে। কেমন করিয়া মনে পড়িয়া যাইতেছে সেই ছেলেবেলার এক দিনের কথা—রাত সাড়ে এগারোটা পর্যন্ত অঙ্ক কষার ইতিহাস—তার পরিণাম—তার পুরস্কার।

অথচ বুঝি, এটা আমার উচিত নয়, এমন কি অধর্ম, কেননা আমি একজন প্রফেসার। পাড়ার ঘরে ঘরেই যদি কিশোর কণ্ঠে শব্দ সাধনার রোল উঠে তো আমার প্রফেসারি কর্ণে সেই সংগীত ঝংকার হওয়া উচিত ছিল! কিন্তু-

আমার ছোট ভগ্নী আসিয়া উপস্থিত হইল। না, এগারোটা উহার শয্যা আশ্রয়ের সময় নয়। অনেক কাজ ওর; সবচেয়ে বড় কাজ বাড়ির গেজেটগিরি। ভোর ছয়টা হইতে রাত বারোটা পর্যন্ত তাহার গতিবিধির গণ্ডির মধ্যে যাহা ঘটে অক্লান্ত উৎসাহে সে সমস্তর সংবাদ চারিদিকে চারাইয়া দেওয়া সুধী-র নিত্যকর্ম। আমি উহাকে নিরুৎসাহ করি না, কেননা কোন ঘটনা কিংবা কোন আলোচনা ও এমন নিখুঁতভাবে বর্ণনা করিবার ক্ষমতা অর্জন করিতেছে যে সংকল্প করিয়া আছি উহাকে একটি সাহিত্যিক করিয়া গড়িয়া তুলিব। শুধু অনুরূপ বর্ণনা বা আবৃত্তিই নয়, ওর স্বকীয় মন্তব্য বলিয়াও একটা জিনিস আছে, আর সেটা যেমন মর্মস্পর্শী তেমনই নিৰ্ভীক।

বসিয়া আমার আরাম-কেদারার হাতলে চিবুক রাখিয়া সুধী বলিল, “মেজদা, তোমার লজ্জায় আর মুখ দেখানো উচিত নয়।”

হাসিয়া জিজ্ঞাসা করিলাম, “কেন রে?”

সুধী বিরক্তির ভান করিয়া বলিল, “কেন রে কি? পড়াশোনার ক্ষতি হবে বলে বিয়ে করলে না, কিন্তু কি জজ ম্যাজিস্ট্রেটটাই বা হলে? হলে তো শেষ পর্যন্ত সেই মাস্টার—গোবর্ধন মাস্টারও যা তুমিও তাই, তুমি না হয় টাই এঁটে টুপি পরে গরু তাড়াতে যাও।”

বুঝিলাম সুধী-র নিজের কথা নয়, আবৃত্তি; নিচে মা প্রভৃতির মধ্যে আমার সম্বন্ধে আলোচনা হইয়াছে, সুধী সেইটেই রাতদুপুরে আমার শ্রুতিগোচর করিতে আসিয়াছে। বলিলাম, “বিয়ে করলে যে একটুও হত না, হদ্দ তোর না হয় আর একটা বৌদি–”

সুধী মাথা ঝাঁকাইয়া রাগতভাবে বলিল, “না, হত না! কারুর হয় না! বিয়ে করে সব্বাই বইখাতার সঙ্গে সম্বন্ধ ঘুচিয়ে পৈতে পুড়িয়ে ভগবানচন্দ্র হয়ে বসে থাকে। তুমি এই রাতদুপুরে আর বকিয়ো না মেজদা। তোমার বরং ওদের বাড়ির ঐ ছেলেটির দেখে শেখা উচিত,—ওর চন্নামৃত খাওয়া উচিত।”

অবশ্য ‘চন্নামৃত’ কথাটার অর্থ সুধী জানে না বলিয়াই বলিল, তবে কথাটা কাহারও মুখে উঠিয়াছে নিশ্চয়। যাহার চরণোদকের এতটা প্রভাব সেই দেব-বালকটি কে জানিবার জন্য সুধীকে প্রশ্ন করিলাম, “কোন্ ছেলের কথা বলছিস তুই?”

“কেন, ঐ যে পড়ছে, শুনতে পাচ্ছ না? মাসখানেক আগে পর্যন্ত ও-ছেলে যা ছিল, বাবা, বাবাঃ! ছোটলোকদের ছেলেদের সঙ্গে কেবল এপাড়া, ওপাড়া, সেপাড়া করে ডানপিটেগিরি করে বেড়াত -বই-সেলেটের সঙ্গে দেখা নেই। বাপ-মায়ে স্কুলে টাকা গুনে যাচ্ছে, ছেলে সেই একভাব—সেই যে সেকেনকেলাসে এসে আটকেছেন, আর নড়নচড়ন নেই—তা বয়েস মানবে কেন গা? দিন দিন মাথায় লম্বা হচ্ছে আর কাটগোঁয়ারের মত চেহারা হচ্ছে। একবার তো পালিয়ে গিয়ে পশুপতিনাথই হয়ে এল…আবার এদিকে ভক্তিটুকুন আছে কিনা! এমন সময় একদিন গিন্নীর বোন এলেন।”

জিজ্ঞাসা করিলাম, “ছেলেটির মাসী?”

“ছেলের মাসী!” অবাক হয়ে বললেন, “দেখছিস কি সরী, শীগগির ছেলের বিয়ে দে, ছেলে যে দামড়া মেরে যাচ্ছে, এর পরে আর কি সামলাবে? দে দিকিন বিয়ে, যদি ছেলের মতিগতি না ফেরে তো আমার নাম লক্ষ্মী বামনী নয়।’ গিন্নী বললেন, ‘দাও একটু কিছু করে দিদি, আমি তো পাড়ার নালিশে নালিশে উদ্ব্যস্ত হয়ে গেছি। বললেই বলে ‘আমি রোঘো ডাকাত হব; বড়দের লুটব, ছোটদের পুষব!’ গিন্নীর বোন উঠে পড়ে লাগলেন, বিয়ে হয়ে গেল। দেশেই বৌভাত সেরে আজ এসেছে সব। আর ছেলেই নেই।…কর বিয়ে মেজদা, এখনও কাল বয়ে যায় নি।”

ওদিকে ঐ কঠোর সাধনা চলিতেছে, “ষষ্ঠীতে লতায়াঃ-লতয়োঃ-লতানাম্, ষষ্ঠীতে লতায়াঃ—”

একেবারে অভাবনীয় পরিবর্তন! এত পরিশ্রম দেখিয়া গায়ে কাঁটা আসিলেও বিবাহের উপর একটা শ্রদ্ধা আসে বইকি।

সুধী বলিয়া চলিয়াছে, “আমরা আজ গিয়েছিলাম কিনা, এই তো আসছি সেখান থেকে।… কি ফুটফুটে বৌটি, মেজদা! বেশ ডাগোর-ডোগোর, আর কথাবার্তায় কি সেয়ানা! আমার সঙ্গে তো খুব ভাব হয়ে গেল।…আহা, যদি ঐ রকম একটি

আমি ধমক দিতে চুপ করিয়া গেল। তখনই আবার পূর্ব উৎসাহে আরম্ভ করিয়া দিল, “খুব ভাব হয়ে গেল আমার সঙ্গে। নামটিও বড় চমৎকার—”

একটু অন্যমনস্ক হইয়া কি একটা যেন ভাবিতেছিলাম, বোধ হয় দেশের ভাবী রঘু ডাকাতের কথা,—তারা সব এই রকম বিবাহ করিয়া ভাল ছেলে হইয়া যদি এই ভাবে ব্যাকরণ সাধনায় মাতিয়া উঠে তো—

সুধী-র কথায় অলস প্রশ্নচ্ছলে জিজ্ঞাসা করিলাম, “কি নামটি?”

“বনলতা।”

আমি অন্যমনস্ক ছিলাম বুলিয়া কথাটা আবছাগোছের কানে গেল। সতর্ক হইয়া চিন্তিতভাবে প্রশ্ন করিলাম, “কি নাম বললি?”

“বনলতা গো।…ছেলেটা যাই হোক বড় ম্যাদামারা কিন্তু বাপু; সেই থেকে এক কথা নিয়ে বকেই চলেছে।….তা হবেই বা না কেন বল? এদিকে তো পড়াশোনার পাটই তুলে দিয়েছিল কিনা! গিন্নী বলেন, ‘কি ঝোঁকই পড়ার হয়েছে, দিদি;–বৌমা যাবেন, তখন গিয়ে বাধ্য হয়ে বই বন্ধ করবে; বৌমার আবার কড়া আলো চোখে সয় না কিনা!’”

এই কঠোর সাধনার গোড়ার রহস্য জানিতে পারিয়া আমার এতক্ষণের দুঃখ-দুশ্চিন্তা আলোড়ন করিয়া বোধ হয় একটা সকৌতুক হাসি ঠেলিয়া উঠিয়া থাকিবে। সেটা বিবাহের গুণগানের এবং সদৃদৃষ্টান্তের প্রত্যক্ষ সুফল জানিয়া সুধী আগ্রহভরে প্রশ্ন করিল, “বলব তাহলে মাকে মেজদা, যে তুমি রাজী হয়েছ?”

আমি আকাশের দিকে চাহিয়া মৃদু হাস্যের সহিত জিজ্ঞাসা করিলাম, “বৌটির এত দেরি হচ্ছে কেন বল্ তো আগে?”

সুধী বলিল, “আমরা যখন এলাম তখন তো মোটে খেতে বসল সব। সবে এসেছে আজ…

সবই আগোছ ছিল কিনা…. বলব গিয়ে মাকে?—হ্যাঁ মেজদা?”

ওদিকে তখন ক্লান্ত স্বরের মূর্ছিত ধ্বনি ভাসিয়া আসিতেছে, “সম্বোধনে…হে লতে; সম্বোধনে—হে লতে—হে লতে-হে লতে—”

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *