ক্ষীণদৃষ্টি অন্তশ্চক্ষুষ্মান

ক্ষীণদৃষ্টি অন্তশ্চক্ষুষ্মান

এমনই বিবর্তন ঘটেছিল সুনীতিকুমারের ধর্মবিশ্বাসে। পঞ্চাশের দশকের প্রথমেও তিনি সচেতন হিন্দু কুলীন চাটুজ্জ্যে; যাঁর পারিবারিক ঐতিহ্যের ধারার সম্মানরক্ষার্থে সন্ধ্যা-আহ্নিক এবং কিছু পুজোর প্রয়োজন। শুদ্ধবাসে রোজ সকালে ঠাকুরঘরে যেতেন, হিন্দুধর্মগ্রন্থ পাঠ করতেন। ষাটের দশকে বলতে শুনি, ‘ও ঘরে গেলে উনি (স্ত্রী) খুশি হন, যাই, কিন্তু পড়ি গীতা উপনিষদের সঙ্গেই বাইবেল, কোরান, হোমার, গ্রিক নাটক থেকে বিশেষ বিশেষ অংশ, রামায়ণ-মহাভারত-রবীন্দ্রনাথ; যে কোনও সৎ সাহিত্য যা মনকে টেনে তোলে দৈনন্দিনতার ঊর্ধ্বে, সর্বমানবের সঙ্গে একাসনে বসায় তা-ই আমার ধর্মগ্রন্থ।’ এই সময় থেকে তিনি প্রকাশ্যে বলতে থাকেন, অন্তরের মধ্যে কোনো ভগবানকে পাই নি, কোনো ঈশ্বরের পরিচয় পাই নি— তাই আমি অজ্ঞেয়বাদী, আমি কিছুই জানি নে, ঐকান্তিকভাবে কিছুই বিশ্বাস করতে পারি নে।’ এই সময় থেকে শুরু হল রবীন্দ্রনাথের শেষ দিকের অনাস্থাবাদী কবিতার প্রতি তাঁর আকর্ষণ। নিজের মনে আবৃত্তি করতেন, কেউ গেলে তাকে পড়াতেন। বিশেষ প্রিয় ছিল, ‘আমি ব্রাত্য, আমি মন্ত্রহীন…’। ‘কেন?’ যা ‘আমারই চেতনার রঙে…’। বিজ্ঞান সম্বন্ধে নতুন এক ধরনের উৎসাহ জাগে তাঁর এই সময়ে। মহাবিশ্ব বিজ্ঞানীদের কাছে কী রূপে ধরা দিয়েছে তা জানবার আগ্রহ দেখা দিল। জীবনের এই নিঃসঙ্গ শেষপাদে তাঁর দিশারী ছিলেন রবীন্দ্রনাথ। মানুষের পৃথিবীতে বারংবার সুদীর্ঘ পরিক্রমা, চক্ষুষ্মানের দৃষ্টিতে মানুষকে তার বিচিত্র পরিবেশে, তার ধারণা বিশ্বাস ও সাধনার ক্ষেত্রে তাকে দেখে তিনি ক্রমেই নিশ্চিত হচ্ছিলেন যে ধ্রুব বলে কিছু নেই। মানবিক দুর্বলতায় বলতেন, থাকলে ভাল হত হয়তো। কিন্তু তিনি আপন আন্তর প্রত্যয়ে স্বর্গ, নরক, পরলোক, আত্মা ও ঈশ্বর কোনও কিছুকেই গ্রহণ করতে পারেননি। একটা শক্তি মহাবিশ্বে অন্তর্নিহিত মনে করতেন, এই অর্থে তিনি নাস্তিক বলতেন না নিজেকে। কিন্তু যেমন বৈদ্যুতিক শক্তি বা চৌম্বক শক্তির অস্তিত্ব স্বীকার করলেও তাদের দেবতা বলে মানা যায় না, তেমনি এই বিশ্বব্যাপী শক্তিকেও তিনি স্বীকার করতেন কিন্তু তার কাছে নতিস্বীকার করার কোনও প্রশ্নই উঠত না। অজ্ঞেয়বাদে আশ্রয় নেই, এই আত্মিক নিরাশ্রয়তার যন্ত্রণাও তিনি স্বীকার করে নিয়েছিলেন, কিন্তু অযৌক্তিক কোনও বিশ্বাসকে গ্রহণ করতে পারেননি।

আকৈশোর যুক্তিবাদী সুনীতিকুমার। সূত্রপাত হয় বিবেকানন্দ দিয়ে, তার পর বাড়তে থাকে নিজের জ্ঞান ও বোধ। ক্রমেই দেখতে পান সব ধর্মেরই ভিত্তি সংস্কারে। তবু প্রত্যেক ধর্মেই মানুষ নিজেকে জানতে চেয়ে বুঝতে চেয়ে সামাজিক সংহতি কামনা করে কিছু কিছু তত্ত্বে পৌঁছেছে, যার কতকাংশ যুক্তি দিয়ে স্বীকার করা যায়। প্রত্যেক ধর্মেই নীতির বাক্য আছে, কিছু মহৎ উপলব্ধি আছে, যেমন আছে মহৎ সাহিত্যে— এগুলি তিনি সানন্দ নম্রতায় মনের অঞ্জলি পেতে গ্রহণ করেছেন। যা কিছু যুক্তিবহির্ভূত, তাকে তিনি অসংকোচে পরিহার করেছেন এবং অভ্যস্ত সংস্কারের বিরোধী হলেও যা যুক্তিগ্রাহ্য তাকে অকুণ্ঠ ভাবে স্বীকার করেছেন। মানুষের শ্রেষ্ঠ চিন্তা জ্ঞান ও উপলব্ধি সঞ্চিত আছে যে সাহিত্যে, মহাকাব্যে ও সভ্যতার আদিপর্বের সকল রচনায়, মধ্যযুগে ও আধুনিককালে রচিত শ্রেষ্ঠ সাহিত্যে— সেই উৎসমুখে তিনি বারবার গেছেন আপন আন্তর-তৃষ্ণা নিবারণের জন্যে। ক্রমেই প্রসার এসেছে তাঁর দৃষ্টিভঙ্গিতে। যত বেশি দেশে গিয়ে যত বেশি মানুষকে দেখেছেন তার বিচিত্র পরিবেশে ও ভাবনা-সাধনায়, ততই উদারতর হয়েছে তাঁর দৃষ্টি। সে সব দেশেও তিনি নিয়ে গেছেন তাঁর এই প্রস্রিয়মাণ উপলব্ধির বাণী, যা উদ্ভূত হয়েছে গভীর এবং বিস্তৃত জ্ঞান থেকে। তাই খুব সার্থক অর্থেই তিনি পৃথিবীর কাছে প্রেরিত ভারতের সংস্কৃতির রাষ্ট্রদূত। হয়তো অবচেতনে এ বোধ অনুপ্রবিষ্ট ছিল বলেই ক্রমে তিনি আশপাশের অধিকাংশ মানুষের থেকে স্বতন্ত্র হয়ে উঠছিলেন। বিশ্বাসে হিন্দু ছিলেন না আর। স্বর্গ নরক ভগবান আত্মা জন্মান্তর কর্মবাদ জাতিভেদ— যে ক’টি হিন্দুধর্মের নিরিখ তার কোনও কিছুই মানতেন না। তবু কিছু কিছু আচার অনুষ্ঠানে যোগ দিতেন সংস্কৃতির একটা ধারা অব্যাহত রাখবেন বলে। যেমন পিতৃপক্ষে তর্পণ। স্পষ্টই বলতেন, ‘আমি দুটি দুটি তিল চাল জল দেব আর আমার পূর্বপুরুষরা এসে তা গ্রহণ করবেন এটা কোনও মতেই বিশ্বাস করা যায় না। তবু ওই দিনটা গঙ্গায় দাঁড়িয়ে ঊর্ধ্বতন পূর্বপুরুষদের স্মরণ করি যাঁদের সূত্র ধরে আমি পৃথিবীতে এসেছি।’ এ হল ইতিহাস-বোধ, পরম্পরাবোধ, এর সঙ্গে ধর্মবিশ্বাস নেই, অনুষ্ঠানের যোগসূত্রটিও নেহাৎই ক্ষীণ।

সাম্যবাদ সম্বন্ধে তাঁর প্রচুর দ্বিধা থাকা সত্ত্বেও তাঁর খুব কাছের মানুষদের অনেকেই ছিলেন সাম্যবাদী। অন্তরঙ্গ আলোচনায় বলতেন, ‘মানুষ হিসেবে এরা অনেক খাঁটি, অনেক উঁচু।’ প্রকাশ্যেও বলেছিলেন। শ্রীমতী গোদাবরী পারুলেকরকে সাহিত্য অকাদেমির পুরস্কার দেওয়া উপলক্ষে কথাপ্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমি জানি এই পুরস্কার যিনি পাচ্ছেন তিনি মার্কসপন্থী, তাতে কিছু আসে যায় না; বইখানি উঁচুদরের, তাই এ পুরস্কার। তা ছাড়া, আমার কংগ্রেসপন্থী বন্ধুদের চেয়ে আমার মার্কসবাদী বন্ধুরা মানুষ হিসেবে অনেক উঁচুদরের, এ আমি বহুবার দেখেছি।’ কলকাতার পথে যাওয়ার সময়ে চারপাশে দারিদ্র্য, দুর্দশা দেখে সাহিত্যসচিব অনিল কাঞ্জিলালকে বলেন, ‘এক সময়ে ভাবতুম evolution-এর অন্যথা ঘটবে না। এখন মনে হয়, কখনও কখনও revolution এড়ানো যায় না।’ লক্ষণীয়, তাঁর মৃত্যুর তিন বছর মাত্র আগেকার ঘটনা, যখন উদ্বাস্তু আগমনে পশ্চিমবাংলার জনসংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে, অথচ আহার বাসস্থান জোগাবার মতো সম্পদ এ রাজ্যে নেই। সুনীতিকুমার তখন নতুন এক ধরনের সমাজের নিচের তলার অভুক্ত নিরাশ্রয় মানুষ সম্পর্কে সচেতন, অথচ উপায় খুঁজে পাচ্ছেন না, তাঁর অভ্যস্ত রাজনৈতিক প্রত্যয়ে এর কোনও সুরাহার আশ্বাস নেই।

পারিবারিক জীবনে দীর্ঘকাল অর্থ সমস্যা ছিল, সুদীর্ঘকাল পরীক্ষার খাতা দেখতে হত, ঘাটতি পূরণের জন্যে। চিঠিপত্রে দেখি, বাড়ি তৈরির জন্যেও বাড়তি আয়ের প্রয়োজন। এর মধ্যে ছয় ছেলেমেয়েকে মানুষ করার আর্থিক দায়িত্ব। নানা রকমের আগন্তুক ঝঞ্ঝাট ছিল— যেমন সব পরিবারেই থাকে। এরই মধ্যে সারস্বত চর্চা অব্যাহত। কত তার বিভিন্ন দিক, প্রথম গবেষণার বিষয় ভাষাতত্ত্ব থেকে কখনওই সরে যাননি, শেষ পর্যন্ত প্রাতিষ্ঠানিক ভাবে দেশে বিদেশে সভায় যোগদান ও বক্তৃতা বাদ দিলেও এ বিষয়ে কিছু-না-কিছু রচনা চলেছিল নিরন্তর। তা ছাড়া, ইতিহাস, বহু বিভিন্ন সংস্কৃতির কত বিভিন্ন দিক নিয়ে পড়া ও লেখা, শিল্পকলার চর্চা ও জহুরির অভ্রান্ত দৃষ্টিতে সারা পৃথিবী থেকে শিল্পবস্তুর অসামান্য সংগ্রহ। সংগীতে অনুরাগ— ধ্রুপদ ছাড়াও রবীন্দ্রসংগীত, বাখ, বেঠোফেন, মৎসার্ট, অন্যান্য দেশের সংগীতে সকৌতূহল আগ্রহ, তা নিয়ে জিজ্ঞাসা, পড়াশোনা। শেষ পঞ্চাশ বছর প্রায় নিরবচ্ছিন্ন ভাবে বিদেশ ভ্রমণ এবং সেখান থেকে মানসিক উপাদান সংগ্রহ, অবচেতনে তার লক্ষ্য রসায়ন, পরে গ্রন্থাকারে বা প্রবন্ধাকারে তা লিখে ফেলা। বহু মানুষ নিত্য তাদের বিচিত্র দাবি নিয়ে আসত; সকলেই জিজ্ঞাসু নয়, বহুজনই প্রার্থী, তাদের দাবি মেটানো, সভা-সমিতিতে বক্তৃতা করা, সংগঠনী কাজ করা, বিদেশের অগণ্য মনীষীর সঙ্গে পত্রালাপ, বহু পাঠার্থীকে সাহায্য করা, সামান্যতম শক্তি বা ঔৎসুক্য দেখলে আলোচনায় তাকে প্রদীপিত করে তোলা— এর মধ্যেই চলছিল জীবনের আত্যন্তিক মূল্য সম্বন্ধে কঠিন চিন্তা। ঈশ্বরে চিত্ত সমর্পণ করতে পারেননি, পরলোকে আত্মায় বিশ্বাস ছিল না, জন্মান্তর কর্মবাদে অনাস্থা, কাজেই মনের দিকে এক ধরনের নিঃসঙ্গতা। পঞ্চাশ বছরের জীবনসঙ্গিনীর তিরোধান, ধীরে ধীরে বহু প্রিয়জনের মৃত্যু— যা দীর্ঘপরমায়ুর অনিবার্য দণ্ড— তবু তার মধ্যে তিনি মানুষের প্রতি বিশ্বাসে বা আনুগত্যে শিথিল হননি। তাঁর দীক্ষাগুরু রবীন্দ্রনাথের উক্তি তাঁকে টেনে তুলত বিষাদের গহ্বর থেকে: ‘মানুষের উপরে বিশ্বাস হারানো পাপ’। হারাননি সে বিশ্বাস, যদিও শেষ দিকে রাজনীতিক ও সামাজিক অবক্ষয়ে যন্ত্রণা পেতেন। তাঁকে সজীব রেখেছিল আমরণ-অমলিন সেই ক্ষুরধার মেধা, স্মৃতিশক্তি, মানব-জিজ্ঞাসা, চিত্রে কাব্যে সংগীতে রুচি, সর্বত্র সুন্দরের প্রতি দুর্নিবার আকর্ষণ, অজস্র ভক্ত ছাত্রশিষ্যের ও দেশে বিদেশে বহু কল্যাণ মিত্রের শুভকামনা, এবং নির্মোহ আত্মজিজ্ঞাসা। এমন মানুষের বিষয়েই কবি বলে গেছেন, ‘সত্যরে সে পায় আপন অন্তরে ধৌত’। সুনীতিকুমারের অপরাজিত দৃঢ়তার ভিত্তি এইখানে। সেফোক্লেসের আন্তিগোনে নাটকের কোরাসের তাঁর সেই প্রিয় উক্তিটিই মনে পড়ে তাঁর সম্বন্ধে:

পৃথিবীতে বিস্ময়ের বস্তু বহু, কিন্তু সবচেয়ে বিস্ময়কর হল মানুষ।

এবং মানুষের মধ্যেও সুনীতিকুমার এক বিস্ময়ের বস্তু হয়ে রইলেন, শুধু তাঁর দেশবাসীর কাছে নয়, বিদেশেরও বহু মনীষীর কাছে। কী সৌভাগ্যে আমরা তাঁকে পেয়েছিলাম তার ইয়ত্তা করা যায় না। মহাভারত বলে:

দিব্য স্পৃশতি ভূমিঞ্চ শব্দঃ পুণ্যস্য কর্মণঃ।
যাবৎ স শব্দো ভবতি তাবৎ পুরুষ উচ্যতে।।
পুণ্য কাজের ধ্বনি আকাশ ও পৃথিবীকে স্পর্শ করে
যতদিন সে ধ্বনি থাকে ততদিন পুরুষ অমর।

বৃহৎ কীর্তির সম্ভার রেখে গেলেন সুনীতিকুমার, তাঁর অমরতা শুধু রবীন্দ্ররচনায় তাঁর নামের উল্লেখমাত্র নয় সমস্ত বিদ্বৎসমাজ সমাদর করবে সুদীর্ঘকাল: তাঁর প্রতিভা যে সত্যিই স্পর্শ করেছে আকাশ ও পৃথিবীকে।

.

১. ১৮৯০ সালের ২৬ নভেম্বর। পিতামহ কার্তিকচন্দ্র, পিতামহী যাদুমণি দেবী, মাতা কাত্যায়নী দেবী, পিতা হরিদাস চট্টোপাধ্যায়। অগ্রজ অনাদিনাথ, পরে আরও দুই বোন ও দুই ভাই। পিতা হরিদাস চট্টোপাধ্যায় টার্নার মরিসন অ্যান্ড কোম্পানিতে একদিক্রমে চল্লিশ বছর কেরানির কাজ করে অবসর নেন।

২. রেভারেন্ড কালীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের অগাধ পাণ্ডিত্য ও অসামান্য চরিত্রবল সুনীতিকুমারকে মুগ্ধ করে। রেভারেন্ড আর্থার লাফের এবং কেশবচন্দ্র গুপ্তের প্রভাবও পড়েছিল সুনীতিকুমারের উপরে। এঁদের উদারতা ও সত্যনিষ্ঠার কথা মাঝে মাঝেই বলতেন।

৩. সমস্ত অধ্যয়নকালটাই ছোটবেলার পোলিও-র রেখে যাওয়া দৃষ্টিক্ষীণতা নিয়ে কাটে। যখন এম এ পাশ করেন তখন দু’চোখের দৃষ্টির ন্যূনতা ছিল যথাক্রমে (—) ১২ ও (—) ৯। এ সত্ত্বেও অধ্যয়ন ও অধ্যাপনার গতিবেগ কখনও শিথিল হয়নি। উঠতেন খুব ভোরে, পড়া শুরু করতেন তখনই। কখনও বা পড়া মধ্যরাত এবং কদাচিৎ ভোর রাত পর্যন্তও চলত।

৪. স্বস্তি স্বীয়ে পরিণয় বিধাবুসকং সংবিধাতুং সম্পূর্ণাঙ্গং সকলসুহৃদাং স্বাগতৈঃ প্রেমধাস্নাম্। প্রীতিস্নিগ্ধাং প্রমুদিতমনা যদ্দূতীয়ং লিপিং তে জায়াং নামানুকৃতকমলামাপুকামঃ সুনীতিঃ।।

৫. পাঁচ কন্যা: রুচি, রমা, নীলা, সতী ও শুচি, এক পুত্র: সুমন।

৬. দ্রষ্টব্য জীবন কথা সংযোজিত প্রবন্ধ ‘প্যারিসে ছাত্রজীবন’ ১৫৮ পৃষ্ঠা।

৭. বহুদিন শুধু রুটি ও পথিপার্শ্বের গাছের ফল ছাড়া অন্য কিছু জোটেনি এই স্বল্পবিত্ত পরিব্রাজকটির। পরে অসংকোচে গল্প করেছেন এ নিয়ে।

৮. জীবনের শেষ পত্রটি লেখেন তাঁর অশেষ স্নেহভাজন এক গ্রিক মহিলা ড. এলিকি লাস্কারিডেস জান্নাসকে। ইনি গ্রিক ভারত সংস্কৃতি নিষ্ণাত, তখন এ দেশে গ্রিক সরকারের প্রেরিত রাষ্ট্রদূতের দফতরে সাংস্কৃতিক দপ্তরের অধিকর্ত্রী ছিলেন।

৯. এরই পরিমার্জিত ও পরিবর্ধিত রূপ ১৯৭৪ সালে। দু’বারই কলকাতার এশিয়াটিক সোসাইটি গ্রন্থটি প্রকাশ করে।

১০. পরবর্তী কয়েক বছরে আন্নামালাইনগর, মহীশূর, কোইম্বাটোর, সগর ও মাদুরাইতে অনুরূপ প্রাতিষ্ঠানিক বক্তৃতা করেন।

১১. হংকং, ক্যান্টন, পিকিং, শেন ইয়াং (মুকদেন) আনশান, যু-শান, নানকিং, সাংহাই ও হ্যাংচাওতে ভ্ৰমণ করেন ওই বারে।

১২. মস্কো, লেনিনগ্রাদ, কিয়েভ, তবিলিশি যান। তাশকেত্তে এশীয় ও আফ্রিকান লেখক সঙ্ঘের সভায় সভাপতিত্ব করেন।

১৩. এ বারে পিকিং, সি-আন, লো-ইয়াং, নানকিং, সাংহাই, সু-চৌ, ক্যান্টন ও উ-হান-এ যান।

১৪. এ বারে থাউজন্ড আইল্যান্ড পার্কে, ফিলাডেলফিয়া, সল্টলেক সিটি, ইউটা, সানফ্রান্সিস্কো ও ক্যালিফর্নিয়ার বার্কলে ভ্রমণ করেন ও আপন সারস্বত সাধনার ক্ষেত্রে বিশিষ্ট কিছু পণ্ডিতের সান্নিধ্যে আসেন। জাপানে ওসাকা, কিওতো, টোকিও বিশ্ববিদ্যালয়ে বক্তৃতা করেন; শিন্টো ও বৌদ্ধ মন্দির দেখেন কিওতো, নারা ও ইসেতে। ম্যানিলায় পাঁচদিন কাটান ফিলিপিন বিশ্ববিদ্যালয়ের অতিথিরূপে; বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাষাতত্ত্ব বিভাগে বক্তৃতা দেন।

১৫. পরে ছোট একটি গ্রন্থে বক্তৃতাগুলি প্রকাশিত হয়।

১৬. পরে একটি গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয় ১৯৭২-এ নাম ইরানিয়ানিজম: ইরানিয়ান কালচার অ্যান্ড ইটস ইম্প্যাক্ট অন দা ওয়র্লড ফ্রম আখামীনিয়ন টাইমস।

১৭. উল্লেখ্য তাঁর বাড়ি ‘সুধর্মার’ অনেক কক্ষেই শ্বেতপাথরে খোদাই করা বহু উক্তিই রবীন্দ্রকাব্য থেকে উৎকলিত।

১৮. গ্রিয়ারসনকে রামশর্মা তর্কবাগীশের হাতে লেখা ‘প্রকৃত কল্পতরু’ পুথির দুর্বোধ্য পাঠ সুনীতিকুমার বুঝিয়ে দিতে পারেন; চমৎকৃত গ্রিয়ারসনের উদ্যোগে ও আনুকূল্যে এই বিশেষ সুযোগ তাঁকে দেওয়া হয়।

১৯. খুঁটি পুঁতবার সময়ে নিজেই বারবার নাড়া দিয়ে দেখে যখন খুঁটি আর নড়ে না তখনই পোঁতাকে সার্থক জ্ঞান করা হয়।

২০. প্রায়ই বলতেন Homi sum humani nil a me alienum puto. টেরেন্সের এই বাক্যটি ইংরেজিতেও বলতেন— I am a man nothing human is alien to me।

২১. বেঙ্গল পাবলিশার্স কর্তৃক দু’ সংস্করণে প্রকাশিত ১৯৪৮ ও ১৯৫৪-তে।

২২. প্রথমে বেঙ্গল পাবলিশার্স কর্তৃক ১৯৬৯ থেকে ১৯৭৩ পর্যন্ত প্রতি বৎসর পুনর্মুদ্রিত, পরে ‘বাসাহিত্য’ থেকে ১৯৭৪ থেকে প্রায় প্রতি বৎসরই পুনর্মুদ্রিত হচ্ছে।

২৩. টি এন দাভের; এ স্টাডি অব দ্য গুজরাতি ল্যাঙ্গওয়েজ ইন দা সিক্সটিন্থ সেঞ্চুরি; ভি এস বাবুরাম সাক্সেনার দি এভল্যুশন অব আবধি; বাণীকান্ত কাকতির অ্যাসামীজ, ইটস ফর্মেশন অ্যান্ড ডেভলপমেন্ট; সুমিত্র মঙ্গেশ কত্রের দি ফর্মেশন অব কোঙ্কনি; সুভদ্র ঝার দি এভল্যুশন অব দা মৈথিলি ল্যাঙ্গওয়েজ; উদয়নারায়ণ ত্রিবেদীর দি অরিজিন অ্যান্ড ডেভলপমেন্ট অব দি ভোজপুরী ল্যাঙ্গওয়েজ; পরেশচন্দ্র মজুমদারের আ হিস্টরিক্যাল ফোনোলজি অব ওড়িয়া; হরিপ্রিয়া মিশ্রের হিস্টরিক্যাল ওড়িয়া মফলজি।

২৪. ১৯৭০ সাল পর্যন্ত সুনীতিকুমারের প্রকাশিত বই প্রবন্ধাদির সংখ্যা হল— ইংরেজি বই: ২১, সংস্করণ তিন; প্রবন্ধ ২০১; বিবিধ প্রবন্ধ ১২৬। বাংলা বই: ১৬; সম্পাদনা সাত; প্রবন্ধ ২৭৮। হিন্দি বই. সাত; প্রবন্ধ ৪২; ভূমিকা ১১। সংস্কৃত: প্রবন্ধ ন’টি, দুই শতাধিক শ্লোক।

২৫. সুনীতিকুমারের নির্দেশ ছিল তাঁর শ্রাদ্ধে কীর্তনের পরিবর্তে গ্রন্থসাহেব থেকে সুরলয় সমন্বিত সংগীতাশ্রিত পাঠ। হয়েওছিল তা।

২৬. ইনিও বলতেন ঈশ্বর পরলোক আত্মা এগুলিকে তিনি নিজের বোধের মধ্যে খুঁজে পাননি। ড. রাধাকান্ত বসাকও অত্যন্ত রক্ষণশীল পরিবেশে আমরণ বাস করেও একই কথা বলতেন।

Post a comment

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *